সিলেটের সেই জমিদার বাড়িতে এক সপ্তাহ কাটানোর পর আশার ভোল পাল্টে গেল। এতদিন যে মেয়েটা মাথা নিচু করে অন্যায্য গালিগালাজ শুনত, আজ তার চোখে আত্মবিশ্বাসের ঝিলিক। তার নানা চৌধুরী সাহেব শুধু একজন জমিদার নন, শহরের নামজাদা অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথেও তার যোগসূত্র আছে।
গল্পের পরবর্তী মোড় নিয়ে ২য় পর্বটি নিচে দেওয়া হলো:
৩য় পর্ব: মুখোশ উন্মোচন
শহরের বাড়িতে তখন কবিতার দিনগুলো নরক হয়ে উঠেছে। উকিল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আশাকে খুঁজে বের না করলে কবিতাকে এই বাড়ি ছাড়তে হবে। কবিতা আর অনন্যা শহরের অলিগলি খুঁজেও আশার হদিস পায়নি। ঠিক যখন তারা ভাবছিল সব শেষ, তখনই একদিন বাড়ির সামনে একটি কালো লাক্সারি গাড়ি এসে থামল।
গাড়ি থেকে নামল একজন সুঠামদেহী যুবক এবং তার পেছন পেছন শাড়ি পরা এক তরুণী। কবিতা চোখ কচলে দেখল—সেটা আশা! কিন্তু আশার চেহারায় সেই বিষণ্ণতা নেই, বরং তার ব্যক্তিত্ব আজ আকাশচুম্বী। তার সাথে থাকা যুবকটি হলো আরিয়ান, আশার মামাতো ভাই এবং পেশায় একজন ব্যারিস্টার।
আশাকে দেখেই কবিতা নাটক শুরু করল, “ওরে আমার সোনা মেয়ে! তুই কোথায় ছিলি? আমরা তোকে খুঁজে খুঁজে পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম!”
আশা শীতল চোখে কবিতার দিকে তাকাল। কোনো কথা না বলে সে সোজা ভেতরে ঢুকে মীরার সেই পুরনো ছবির সামনে দাঁড়াল। কবিতা যখন তার গায়ে হাত দিতে গেল, আশা ঝট করে হাতটা সরিয়ে দিল।
“খবরদার কবিতা দেবী! আমাকে আর ‘মা’ ডাকার সুযোগ আমি আপনাকে দেব না।” আশার কণ্ঠস্বরে বরফ শীতল দৃঢ়তা।
আরিয়ান এগিয়ে এসে কবিতার হাতে একটি লিগ্যাল নোটিশ ধরিয়ে দিল। “মিসেস কবিতা, আপনি শুধু আশাকে বাড়ি থেকেই বের করেননি, বরং সঞ্জয় মেহতার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তার কিছু সই জাল করে ব্যাংকের টাকা হাতানোর চেষ্টাও করেছেন। আমাদের কাছে তার প্রমাণ আছে।”
কবিতার মুখ চুন হয়ে গেল। “এসব মিথ্যা! আমি কেন এমন করব?”
“কারণ আপনি কোনোদিন আশাকে নিজের মেয়ে মানেননি,” আরিয়ান বলল। “আপনি শুধু এই সম্পত্তির লোভে সঞ্জয় সাহেবের জীবনে ন্যানি সেজে ঢুকেছিলেন। আমাদের কাছে সেই ডে-কেয়ার সেন্টারের রেকর্ডও আছে যেখান থেকে আপনাকে চুরির দায়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল। সঞ্জয় সাহেব সেটা জানতেন না, কিন্তু আমার দাদু (আশার নানা) সব খোঁজ বের করেছেন।”
অনন্যা পাশ থেকে চিৎকার করে উঠল, “তোমরা মিথ্যে বলছ! দিদি, তুমি কেন এমন করছ?”
আশা অনন্যার দিকে তাকিয়ে ম্লান হাসল। “অনন্যা, তুই ছোট বলে তোকে আমি দোষ দিই না। কিন্তু তোর মা তোকে যে শিক্ষা দিয়েছে, তাতে তুইও একদিন নিজের অস্তিত্ব হারাবি। তোকে মা নয়, বরং তোর দিদি হিসেবে একটা শেষ সুযোগ দিতে চাই। সত্যটা দেখ।”
আশা একটি রেকর্ডার অন করল। সেখানে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল কবিতা ফোনে কাউকে বলছে— “সঞ্জয় মারা যাওয়ার পর এবার ওই মেয়েটাকে তাড়াতে পারলেই সব আমার। মীরার সম্পত্তির কথা ও কোনোদিন জানবে না।”
কবিতা এবার বুঝতে পারল সে চারদিক থেকে ঘেরাও হয়ে গেছে। সে আরিয়ানের পায়ে ধরতে গেল, কিন্তু আশা তাকে থামিয়ে দিল।
“আমি প্রতিশোধ নিতে আসিনি কবিতা দেবী। আমি এসেছি আমার বাবার অপমানের শোধ দিতে। আপনি যে ঘর থেকে আমাকে একটা সুটকেস নিয়ে বের করে দিয়েছিলেন, আজ সেই ঘর থেকেই আপনি বিদায় নেবেন। তবে তফাত শুধু এটাই—আমি আপনাকে রাস্তায় ফেলে দেব না। পুলিশ আপনার জন্য বাইরে অপেক্ষা করছে।”
ঠিক তখনই পুলিশের সাইরেন শোনা গেল। জালিয়াতি এবং প্রতারণার মামলায় কবিতাকে গ্রেফতার করা হলো। অনন্যা কান্নায় ভেঙে পড়ল, কিন্তু আশা তাকে জড়িয়ে ধরল। শত্রুতা মায়ের সাথে হতে পারে, বোনের সাথে নয়।
কিন্তু গল্পের ক্লাইম্যাক্স তখনও বাকি। পুলিশ যখন কবিতাকে নিয়ে যাচ্ছে, কবিতা চিৎকার করে বলল, “তুই ভাবছিস তুই জিতে গেছিস? তোর বাবার মৃত্যুর কারণটা এখনও তুই জানিস না আশা!”
আশার পা থমকে গেল। বাবার মৃত্যু কি স্বাভাবিক ছিল না?
৪র্থ ও শেষ পর্বে থাকছে: সঞ্জয় মেহতার মৃত্যুর আসল রহস্য এবং আশার চূড়ান্ত বিজয়।
#সৎ_মায়ের_ষড়যন্ত্র
পর্ব: ০৩
#Choto_Dairy_01
শেষ পর্বটি দেখতে চাইলে জানাবেন!
