ভুল ভাঙার রাত
পর্ব: ০২
#Choto_Dairy_01
আমার মুখের কথা শেষ হতেই ড্রইংরুমের সেই শ্মশান নীরবতা ভেঙে প্রথম গর্জে উঠলেন বড় আপা রুমানা।
“শান্ত! তোর মুখে এত বড় কথা? তুই আমাদের বলতে চাস আমরা সুমিকে কাজের মেয়ে বানিয়ে রেখেছি? একটা বাইরের মেয়ের জন্য আজ তুই নিজের বোনেদের এভাবে অপমান করলি?” বড় আপার গলা কাঁপছিল রাগে।
মেজ আপা পারভীনও সাথে সাথে সুর মেলালেন, “আরে ও তো এখন বউয়ের কথায় নাচবে! আমরা তো পর হয়ে গেছি। আচ্ছা শান্ত, সুমি কি এই বাড়ির বউ না? এই সামান্য বাসন ধোয়াটাকে তুই কাজের মেয়ের খাটুনি বলছিস? আমাদের সময়ে আমরা এর চেয়ে কত বেশি কাজ করেছি!”
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। আজ আমি রাগ করব না, আজ আমি অনড় থাকব। খুব শান্ত গলায় বললাম, “আপা, তোমরা তোমাদের সময়ে কী করেছ সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু সুমি এখন আট মাসের গর্ভবতী। ওর পেটে আমার সন্তান। তোমরা সবাই সপরিবারে এসে খেয়ে শান্তিতে ড্রইংরুমে গল্প করছ, আর ও একা ওই ভারী শরীর নিয়ে এক পাহাড় বাসন মাজছে। এটা কি কোনো স্বাভাবিক পরিবারের দৃশ্য?”
ছোট আপা সুলতানা এতক্ষণ চুপচাপ ছিল, সে এবার একটু নরম সুরে বলল, “ভাইয়া, ও তো নিজেই বলল ও একাই করতে পারবে। আমরা তো জোর করিনি।”
“ও তো বলবেই আপা,” আমি সুলতানার দিকে তাকিয়ে বললাম। “ও এই বাড়ির ছোট বউ, ও মুখ ফুটে কীভাবে বলবে যে আমি পারছি না? কিন্তু তোমাদের কি চোখ ছিল না? তোমরাও তো মা হয়েছ, তোমরা জানো না এই অবস্থায় একটা মেয়ের কতটা কষ্ট হয়?”
আমার বোনেরা যখন একে অপরকে দোষারোপ করার জন্য নতুন অজুহাত খুঁজছিল, ঠিক তখনই সোফা থেকে ধীর পায়ে উঠে দাঁড়ালেন মা।
মায়ের মুখটা থমথমে। আমি ভেবেছিলাম মা হয়তো বোনেদের পক্ষ নিয়ে আমাকে দু-কথা শোনাবেন। কারণ চিরকাল এই সংসারে মায়ের কথাই শেষ কথা ছিল। মা আমার দিকে এগিয়ে এলেন। উনার চোখের দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত গম্ভীরতা।
“শান্ত,” মা ডাকলেন।
আমি মাথা নিচু করে বললাম, “বলো মা।”
মা আমার দিকে না তাকিয়ে সোজা তাকিয়ে রইলেন আমার তিন মেয়ের দিকে। তারপর এমন এক ভাঙা কিন্তু শক্ত গলায় বললেন, যা আমাদের সবার ধারণার বাইরে ছিল।
মা বললেন, “শান্ত একদম ঠিক বলেছে। তোরা তিন বোন আজ লজ্জায় মাথা নিচু কর।”
বড় আপা আকাশ থেকে পড়লেন, “মা! তুমিও শান্তর পক্ষ নিচ্ছ?”
মা রুমানার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমি শান্তর পক্ষ নিচ্ছি না, আমি সত্যের পক্ষ নিচ্ছি। আজ শান্ত যখন কথাগুলো বলছিল, আমার নিজের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। তোর বাবা যখন মারা যান, তোদের দাদী আর चाचाরা আমাকে এভাবেই খাটিয়ে মারত। আমি এক কোণে মুখ বুজে কাঁদতাম, আর তোদের বাবা চুপ করে দেখত, কিচ্ছু বলত না। আজ আমার ছেলে আমার সেই স্বামীর মতো কাপুরুষ হয়নি, এটাই আমার সবচেয়ে বড় শান্তি। কিন্তু…”
মা একটু থামলেন। তারপর আমার দিকে ঘুরে তাকালেন। মায়ের চোখে এবার এক কঠিন চাউনি।
“কিন্তু শান্ত, তুই আজ তোর বোনেদের কাঠগড়ায় দাঁড় করালি। খুব ভালো করলি। কিন্তু তুই নিজে এতদিন কোথায় ছিলি? এই সুমিকে যখন ওরা খাটিয়ে মারত, তুই তখন কোন ঘরে ঘুমাতিল? আজ তুই মহান সাজার চেষ্টা করছিস, কিন্তু আসল অপরাধী তো তুই নিজে!”
মায়ের এই আচমকা আঘাতে আমার পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল। ড্রইংরুমের বাতিগুলো যেন আমার চোখের সামনে দুলতে লাগল।
মা আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন, “ওরা তো এ বাড়িতে মাসে দু-একদিন বেড়াতে আসে। কিন্তু তুই? তুই তো এই মেয়ের সাথে প্রতিদিন এক ছাদের নিচে থাকিস। ওর ক্লান্ত চেহারাটা কি তোর চোখে কোনোদিন পড়েনি? নাকি তুইও পুরুষমানুষের মতো ভেবে নিয়েছিস—সংসারের কাজ তো মেয়েরাই করে, এতে দেখার কী আছে? আজ বোনেদের ওপর দোষ চাপিয়ে তুই নিজের পাপ ধুয়ে ফেলতে পারিস না, শান্ত।”
মায়ের একেকটা কথা চাবুকের মতো আমার পিঠে গিয়ে পড়ছিল। বড় আপা আর মেজ আপা এতক্ষণ যে লজ্জায় মাথা নিচু করেছিলেন, মায়ের কথা শুনে তাদের মুখে আবার অহংকারের হাসি ফুটে উঠল।
বড় আপা ফোড়ন কাটলেন, “ঠিক বলেছিস মা। নিজের বেলায় আঁটিসুটি, পরের বেলায় দাঁত কপাটি! নিজে সারাদিন বউয়ের খোঁজ নেবে না, আর আজ আমাদের ওপর হিরোগিরি দেখাতে এসেছে।”
আমি কোনো উত্তর দিতে পারলাম না। আমার নিজের ওপর তীব্র ঘৃণা হতে লাগল। মা একদম ঠিক বলেছেন। আমি বোনেদের দোষ দিচ্ছি, কিন্তু আমি নিজে? আমি তো সবচেয়ে বড় অপরাধী। আমিই তো সুমিকে এই নরকে একা ফেলে রেখেছিলাম।
ঠিক তখনই রান্নাঘরের দরজার দিকে আমাদের সবার চোখ গেল।
সেখানে দাঁড়িয়ে আছে সুমি। ওর পরনের শাড়িটা পানির ছিটে ফোঁটায় ভিজে গেছে। এক হাত দিয়ে ও দরজার চৌকাঠটা ধরে আছে, আর অন্য হাতটা নিজের পেটের ওপর রাখা। ওর চোখ দুটো জলে টলমল করছে। ড্রইংরুমের ঝগড়া আর চিৎকার ওর কান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
ও অত্যন্ত দুর্বল পায়ে ড্রইংরুমের ভেতরে হেঁটে এলো। মায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
“মা…” সুমির গলা কাঁপছিল। “আপনারা শান্তকে বকবেন না। ও কোনো অন্যায় করেনি। আর আপারাও তো কোনো ভুল করেননি। আমি তো নিজের ইচ্ছায়…”
“চুপ করো সুমি!” আমি আর নিতে না পেরে চিৎকার করে উঠলাম।
সুমি ভয় পেয়ে কেঁপে উঠল। আমি ওর দিকে এগিয়ে গেলাম, ওর দুটো হাত শক্ত করে ধরলাম। আমার চোখ দিয়ে তখন টপটপ করে পানি পড়ছে।
“আর কত মিথ্যা বলবে সুমি? কার মন রাখতে তুমি নিজের শরীরটাকে এভাবে শেষ করছ? এই মানুষগুলোর? যারা তোমাকে কোনোদিন এই বাড়ির অংশ বলেই ভাবেনি?” আমার গলা বুজে এলো।
সুমি আমার দিকে তাকাল। ওর সেই শান্ত, ধৈর্যশীল চোখে আজ আমি প্রথমবার এক অদ্ভুত অভিমান দেখতে পেলাম। ও আলতো করে আমার হাত থেকে নিজের হাত দুটো ছাড়িয়ে নিল।
তারপর খুব নিচু স্বরে বলল, “আজ আটটা মাস পর তোমার এই খেয়াল হলো শান্ত? যখন আমার আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি? এতদিন যখন আমি মাঝরাতে কোমর ব্যথায় ঘুমাতে পারতাম না, তুমি তো তখন পাশ ফিরে শুয়ে থাকতে। আজ আপাদের সামনে আমাকে নিয়ে রাজনীতি না করলেই কি চলত না?”
সুমির এই একটা কথায় আমার ভেতরের অহংকার, আমার তথাকথিত ‘পুরুষালি প্রটেক্টিভনেস’ এক মুহূর্তে ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেল।
পুরো ড্রইংরুমে তখন পিনপতন নীরবতা। মা চুপ করে সুমির দিকে তাকিয়ে আছেন। আর তিন বোন যেন এক অদ্ভুত তামাশা দেখার অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে আছে।
হঠাৎ সুমি এক হাত দিয়ে নিজের পেটটা চেপে ধরে সোফার হাতলটা খপ করে ধরে ফেলল। ওর মুখটা যন্ত্রণায় নীল হয়ে গেল।
“সুমি!” আমি চিৎকার করে উঠলাম।
“সুমি!” আমার চিৎকারে পুরো ড্রইংরুমের বাতাস যেন ভারী হয়ে উঠল।
সুমি সোফার হাতলটা প্রচণ্ড শক্তিতে খামচে ধরে আস্তে আস্তে মেঝেতে বসে পড়ল। ওর কপাল বেয়ে এক কুচি ঘাম নেমে এলো, চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল জল। আট মাসের ভারী শরীরটা নিয়ে ও যখন যন্ত্রণায় ছটফট করছিল, তখন আমার মনে হলো আমার নিজের কলিজাটা কেউ টেনে ছিঁড়ে ফেলছে।
আমি এক দৌড়ে ওর পাশে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লাম। ওর কাঁধ দুটো জড়িয়ে ধরে বললাম, “সুমি, সুমি কী হয়েছে তোমার? কোথায় কষ্ট হচ্ছে বলো?”
সুমি কোনো কথা বলতে পারল না, শুধু দুই ঠোঁট কামড়ে ধরে যন্ত্রণার একটা চাপা আর্তনাদ করল।
এতক্ষণ যে বোনেরা অহংকার আর রাগে ফেটে পড়ছিলেন, সুমির এই অবস্থা দেখে তাদের মুখের রঙ এক মুহূর্তে বদলে গেল। বড় আপা রুমানা সোফা থেকে প্রায় লাফিয়ে উঠলেন, “ওরে খোদা! এ তো মনে হচ্ছে প্রসব বেদনা! শান্ত, ও তো আট মাসের গর্ভবতী, এখনই এমন হচ্ছে কেন?”
মা আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করলেন না। তিনি ধীরস্থির কিন্তু অত্যন্ত চটপটে পায়ে সুমির সামনে এসে বসলেন। সুমির কপালে হাত রেখে বললেন, “শান্ত, একদম ঘাবড়াবি না। রুমানা, ভেতরে গিয়ে সুমির আলমারি থেকে একটা চাদর আর সুমির প্রসবের ফাইলপত্র যা আছে নিয়ে আয়। পারভীন, ফ্রিজ থেকে ঠাণ্ডা পানি এনে সুমির মুখে ছিটকা। সুলতানা, তুই এখনই ড্রাইভারকে গাড়ি বের করতে বল।”
মায়ের একেকটা নির্দেশ যেন ড্রইংরুমের সেই শ্মশান নীরবতা আর আতঙ্ককে এক ঝটকায় দূর করে দিল। এতক্ষণ যে পরিবারটা সুমিকে পর ভাবছিল, এই বিপদের মুহূর্তে মায়ের একটা ধমকে সবাই যেন এক হয়ে গেল। বোনেরা নিজেদের সব রাগ-অভিমান ভুলে যে যার মতো দৌড়াদৌড়ি শুরু করল।
আমি সুমিকে পাঁজাকোলা করে তোলার চেষ্টা করলাম, কিন্তু আমার হাত কাঁপছিল। আমি পারছিলাম না।
মা আমার হাতটা চেপে ধরলেন। “শান্ত, শক্ত হ। এখন ভেঙে পড়লে চলবে না। তুই ওর স্বামী, তোকে এখন পাহাড়ের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে। ও এমনিতেই খুব দুর্বল, তার ওপর এই ধকল নিতে পারছে না। গাড়ি রেডি, ওকে সাবধানে তোল।”
আমি নিজের ভেতরের সবটুকু শক্তি এক করে সুমিকে কোলে তুলে নিলাম। ও আমার বুকের ওপর মাথাটা রেখে শুধু ক্ষীণ স্বরে বলল, “শান্ত… আমাদের বাবুটা ঠিক থাকবে তো?”
ওর এই একটা কথায় আমার বুকটা ভেঙে গেল। যে মেয়েটা নিজে যন্ত্রণায় মরছে, সে এখনও আমাদের সন্তানের কথা ভাবছে। আমি ওর কপালে একটা চুমু খেয়ে বললাম, “কিচ্ছু হবে না সুমি। আমি আছি তো। তোমার শান্ত এবার আর পাশ ফিরে শুয়ে থাকবে না। তোমার কিচ্ছু হতে দেব না।”
গাড়িতে মা আর ছোট আপা সুলতানা সুমির দুপাশে বসলেন। সুমির মাথাটা মায়ের কোলের ওপর। মা ওর চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন আর অনবরত আয়াতুল কুরসি পড়ছেন। ছোট আপা সুমির হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছে।
আমি ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে বারবার পেছনের আয়নায় সুমির দিকে তাকাচ্ছিলাম। আমার কেবলই মনে হচ্ছিল, আজ রান্নাঘরে যদি আমি ওই দৃশ্যটা না দেখতাম, আজ যদি আমি বোনেদের সাথে ওভাবে চিৎকার না করতাম, তবে হয়তো সুমির এই মানসিক আর শারীরিক চাপটা পড়ত না। মা ঠিকই বলেছিলেন—অপরাধী অন্য কেউ নয়, অপরাধী আমি নিজেই।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তাররা সুমিকে দ্রুত ইমার্জেন্সিতে নিয়ে গেলেন।
লেবার রুমের বাইরে আমি দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। করিডোরের সাদা বাতিগুলো যেন আমার অপরাধের খতিয়ান তুলে ধরছিল।
খানিক বাদে বড় আপা আর মেজ আপাও দুলাভাইদের সাথে হাসপাতালে এসে পৌঁছালেন। বড় আপা আমার কাছে এসে দাঁড়ালেন। উনার চোখে রাগ নেই, আছে এক বুক অপরাধবোধ।
“শান্ত…” বড় আপা ডাকলেন।
আমি কোনো উত্তর দিলাম না, শুধু অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম।
বড় আপা আমার কাঁধে হাত রাখলেন। “আমাদের ওপর রাগ করিস না ভাই। মা আজ বাড়িতে যে কথাগুলো বলেছে, সেগুলো আমাদের বুকেও তীরের মতো লেগেছে। আমরা সত্যিই নিজেদের অহংকারে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা ভুলে গিয়েছিলাম যে সুমি এই বাড়ির বউ হওয়ার আগে কারো ঘরের আদরের মেয়ে, আর এখন ও একজন মা হতে চলেছে। আমাদের মাফ করে দে শান্ত।”
আমি বড় আপার দিকে তাকালাম। দেখলাম মেজ আপাও ওপাশে দাঁড়িয়ে আঁচল দিয়ে চোখ মুছছেন। আমার ভেতরের রাগটা যেন আস্তে আস্তে এক বিশাল শূন্যতায় রূপ নিল। আমি বললাম, “আপা, আমি তোমাদের ওপর রাগ করে কী করব? সুমি তো ঠিকই বলেছে, আসল দোষটা তো আমার। আমি যদি স্বামী হিসেবে ওকে আগলে রাখতাম, তবে কারো সাহস হতো না ওর দিকে বাঁকা চোখে তাকানোর।”
ঠিক তখনই লেবার রুমের দরজা খুলে ডাক্তার বের হয়ে এলেন। উনার মুখে চরম উদ্বেগ।
ডাক্তার আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “পেশেন্টের হাজব্যান্ড কে?”
আমি এগিয়ে গেলাম, “জি ডাক্তারবাবু, আমি। সুমি কেমন আছে? আমার বাচ্চা কেমন আছে?”
ডাক্তার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “দেখুন, পেশেন্ট মানসিকভাবে প্রচণ্ড ট্রমার মধ্যে আছেন। তার ওপর ওনার অ্যানিমিয়া (রক্তস্বল্পতা) আছে, শরীর ভীষণ দুর্বল। প্রেশার হাই হয়ে গেছে। এই অবস্থায় নরমাল ডেলিভারি করানো অসম্ভব। আমাদের এখনই ওটি (অপারেশন থিয়েটার) রেডি করতে হবে। সিজারিয়ান ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু…”
ডাক্তার একটু থামলেন। আমার বুকের ভেতর যেন হাতুড়ির বাড়ি পড়ল। “কিন্তু কী ডাক্তারবাবু?”
“পেশেন্টের শরীরের যা অবস্থা, তাতে মা এবং বাচ্চা—দুজনের একজনকেই শুধু বাঁচানো সম্ভব হতে পারে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আপনি এই বন্ড সই করে দিন।”
ডাক্তারের হাত থেকে কলমটা নেওয়ার সময় আমার পুরো পৃথিবীটা যেন থমকে গেল। যে হাত দিয়ে আমি সুমির সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়েছিলাম, আজ সেই হাত দিয়েই ওর জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার কাগজে সই করতে হচ্ছে?
আমি বন্ডের কাগজের দিকে তাকিয়ে রইলাম, আমার চোখের জলে কাগজের লেখাগুলো ঝাপসা হয়ে গেল।
চলবে,,,,,
