খাঁচা
পর্ব: ০২
“পালাও, মা! কারণ ওই দোকানটা কোনোদিনই তোমার আব্বার ছিল না যে সে অন্য কাউকে দান করবে!”
অ্যাডভোকেট আশরাফ আলীর শেষ কথাটা আমার কানের ভেতর যেন তপ্ত সীসার মতো লাগল। আব্বার পায়ের আওয়াজ সিঁড়িতে আরও স্পষ্ট হচ্ছে। পায়ের নিচে তখন পুরান ঢাকার লোহালক্কড় আর ধুলোবালির গন্ধ মেশানো চাতাল। পাঁজর ভাঙার তীব্র যন্ত্রণার চেয়েও বড় একটা ধাক্কা আমার মগজে এসে লাগল। দোকানটা আব্বার নয়? তাহলে কার? পনের বছর বয়স থেকে আমি যার হিসাব মেলাচ্ছি, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে ‘বানু স্টেশনার্স’কে টিকিয়ে রেখেছি, তার আসল মালিক তবে কে?
“রাবেয়া! নিচে দাঁড়িয়ে কার সাথে কথা বলছিস?” ওপর থেকে আব্বার গলা ভেসে এল। সেই চেনা কর্কশ, হুকুমদারি গলা। কিন্তু আজ সেই গলায় রাগের চেয়েও বেশি ছিল একটা চাপা ভয়।
আমি আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ালাম না। ফোনটা পকেটে পুরে, এক হাত পাঁজরে চেপে ধরে অন্ধকারের মধ্যেই গলির মুখে দৌড় লাগালাম। দৌড়ানো ভুল ছিল। প্রতিটা পদক্ষেপে মনে হচ্ছিল ভাঙা হাড়টা আমার ফুসফুসকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিচ্ছে। চোখ ফেটে জল বেরিয়ে আসছিল, কিন্তু আমি থামিনি। প্রধান সড়কে এসে একটা ফাঁকা সিএনজি পেয়ে ওটাতে প্রায় হুমড়ি খেয়ে পড়লাম।
“মামা, আজিমপুর। একটু তাড়াতাড়ি,” চালকের দিকে তাকিয়ে শুধু এটুকু বলতে পারলাম।
সিএনজির ঝাঁকুনিতে আমার লিভার, ফুসফুস সব যেন একসঙ্গে ছিঁড়ে আসছিল। রাত তখন সাড়ে তিনটা। পুরো ঢাকা শহর ঝিমোচ্ছে, অথচ আমার চেনা পৃথিবীটা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটা জ্বলন্ত কয়লার খনি হয়ে গেছে। সিএনজির সিটে মাথা হেলিয়ে আমি চোখ বন্ধ করলাম। চোখের সামনে ভেসে উঠল সামিয়ার সেই উদ্ধত চেহারা, আম্মার সেই পাথরের মতো চোখ, আর আব্বার ডাল মোছার দৃশ্য।
এতগুলো বছর আমি কীসের পেছনে ছুটেছিলাম? কার জন্য নিজের যৌবন, নিজের ইচ্ছাগুলো কোরবানি দিয়েছিলাম?
ভোর চারটায় আমি অ্যাডভোকেট আশরাফ আলীর ড্রয়িংরুমে বসে আছি। তার স্ত্রী, যাকে আমি ছোটবেলা থেকে চাচি বলে ডাকি, তিনি আমার অবস্থা দেখে কেঁদে ফেললেন। তড়িঘড়ি করে পাড়ার এক চেনা ডাক্তারকে ডেকে আনা হলো। ডাক্তার চাচা এসে পরীক্ষা করে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিলেন, একটা পেইনকিলারের ইনজেকশন দিলেন।
“তিনটে পাঁজর ক্র্যাক করেছে, রাবেয়া। ভাগ্য ভালো ফুসফুস ইনজুরি হয়নি। কমপ্লিট বেড রেস্ট লাগবে,” ডাক্তার চাচা গম্ভীর মুখে বললেন।
পেইনকিলারের তীব্র ঘুমে আমার চোখ জড়িয়ে আসছিল, কিন্তু আমার মন ঘুমাতে পারছিল না। ডাক্তার চলে যাওয়ার পর আশরাফ চাচা আমার সামনে এসে বসলেন। তার হাতে একটা পুরনো, হলদেটে চামড়ার ফাইল।
“চাচা, এবার বলুন। কী লুকাচ্ছে ওরা?” আমি ভাঙা গলায় জিজ্ঞেস করলাম।
আশরাফ চাচা চশমাটা ঠিক করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। “তোর দাদিমা, আমেনা বানু, সাধারণ কোনো নারী ছিলেন না রে মা। দেশভাগের সময় যখন এ দেশে আসেন, তখন তার সাথে কোনো পুরুষ ছিল না। নিজের গয়না বেঁচে চকবাজারের ওই জমি আর দোকান কেনেন তিনি। তোর আব্বা, মানে শওকত আলী, তার নিজের সন্তান ছিলেন না।”
আমার চারপাশের বাতাস যেন এক মুহূর্তের জন্য জমে গেল। “কী বলছেন চাচা?”
“শওকতকে তোর দাদিমা ফুটপাত থেকে কুড়িয়ে এনেছিলেন। নিজের সন্তানের মতো বড় করেছেন, কিন্তু শওকতের স্বভাব কোনোদিনই ভালো ছিল না। জুয়া, ধারদেনা—এসবের কারণে তোর দাদিমা বুঝতে পেরেছিলেন যে দোকান শওকতের হাতে গেলে তা নিমেষেই শেষ হয়ে যাবে। তাই মৃত্যুর আগে তিনি একটা উইল করে যান। উইলে পরিষ্কার লেখা আছে: ‘বানু স্টেশনার্স’-এর একমাত্র উত্তরাধিকারী হবে শওকতের বড় মেয়ে, রাবেয়া বানু। তবে শর্ত একটাই, রাবেয়ার বয়স পঁচিশ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এবং তার বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত দোকানের সব আইনি নথিপত্র এই আশরাফ আলীর জিম্মায় থাকবে। আর শওকত শুধু সেখান থেকে প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট ভাতা পাবে।”
আমি স্তব্ধ হয়ে শুনছিলাম। চাচা বলতে থাকলেন, “তোর বয়স এখন সাতাশ। দুই বছর আগেই দোকান আইনিভাবে তোর নামে হয়ে গেছে। তোর আব্বা এত বছর উইলের আসল কপিটা খুঁজছিল। হয়তো সম্প্রতি সে কোনোভাবে জানতে পেরেছে যে আসল কাগজগুলো আমার কাছে। আর সামিয়ার হবু শ্বশুরবাড়ি আসলে একটা চোরচক্র। তারা চকবাজারের ওই দোকানের কোটি টাকার জমির লোভেই সামিয়াকে ঘরের বউ করে নিচ্ছে। তোর আব্বা ভাবছে, সামিয়ার নামে দোকান লিখে দিলে উইলের শর্ত ভেঙে যাবে।”
আমার বুকের ভেতর একটা অচেনা আগুন জ্বলে উঠল। এত বড় সত্য! এই সত্যটা ঢাকতেই তাহলে আম্মা আমার ফোন কেড়ে নিয়েছিলেন? এই সত্যটা ঢাকতেই আব্বা মেঝে থেকে ডাল মুছে আমার রক্তকে আড়াল করতে চেয়েছিলেন?
ঠিক তখনই আমার ফোনটা কেঁপে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল ‘আব্বা’ লেখাটা।
আমি কাঁপতে কাঁপতে ফোনটা কানে নিলাম। ওপাশ থেকে আব্বার গলা এল, তবে এবার আর কোনো রাগ নেই। এক অদ্ভুত, অনুনয়ভরা গলা।
“রাবেয়া? মা রে, তুই কোথায়? রাগ করিস না মা, তোর আম্মা আর সামিয়া ভুল করেছে। তুই বাড়ি ফিরে আয়। আমরা সবাই মিলে জন্মদিনের কেক কাটব। তুই যা চাবি, তাই হবে।”
আমি একটা লম্বা শ্বাস নিলাম। পাঁজরের ব্যথাটা পেইনকিলারের জোরে এখন কিছুটা কম, কিন্তু মনের ভেতর যে পাথরটা জমেছিল, তা গলে পানি হয়ে গেছে।
“আব্বা,” আমি খুব শান্ত গলায় বললাম, “আমি আর কোনোদিন ওই বাড়িতে ফিরে আসব না। আর ‘বানু স্টেশনার্স’? ওটার একটা ধূলিকণাও সামিয়া পাবে না। কারণ ওটা আপনার নয়, ওটা আমার দাদিমার। আর দাদিমা ওটা আমাকে দিয়ে গেছেন।”
ওপাশ থেকে এক সেকেন্ডের জন্য নীরবতা। তারপরই আব্বার আসল রূপটা বেরিয়ে এল। ওপাশ থেকে পশুর মতো চিৎকার শোনা গেল, “তুই যদি ওই কাগজের এক চুল এদিক-ওদিক করিস রাবেয়া, আমি তোকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলব! তুই জানিস না আমি কী করতে পারি!”
“আমি জানি আপনি কী করতে পারেন, আব্বা,” আমি বললাম, “আপনারা একটা মানুষের পাঁজর ভেঙে দিতে পারেন। কিন্তু তার মেরুদণ্ড ভাঙতে পারেন না। কাল সকালে কোর্টে দেখা হবে।”
ফোনটা কেটে দিয়ে আমি আশরাফ চাচার দিকে তাকালাম। আমার চোখে তখন আর কোনো পানি ছিল না। খাঁচাটা ভেঙে গেছে। পাখিটা হয়তো আহত, কিন্তু তার ডানা দুটো এখনো ওড়ার জন্য তৈরি।
রাবেয়ার জীবনের এই কঠিন লড়াই এবং সত্যের মুখোমুখি হওয়ার গল্পটি আপনাকে এতটাই ছুঁয়ে গেছে দেখে খুব ভালো লাগছে। দাদিমার উইলের রহস্য আর আব্বার হুমকি রাবেয়াকে এক নতুন যুদ্ধের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
ফোনটা কেটে দেওয়ার পর ঘরের ভেতর নেমে আসা নিস্তব্ধতা যেন ঢাকার কনকনে শীতের চেয়েও বেশি ঠান্ডা ছিল। আমার হাত দুটো কাঁপছিল, কিন্তু বুকের ভেতরের কাঁপনটা ততক্ষণে পুরোপুরি থেমে গেছে। এতগুলো বছর যে মানুষটাকে ‘আব্বা’ বলে ডেকেছি, যার একটা মৃদু হাসির জন্য নিজের পুরোটা সঁপে দিয়েছিলাম, তার ভেতরের এই হিংস্র রূপটা দেখার পর আমার আর কোনো পিছুটান রইল না।
“মা রাবেয়া, তুই একটু ঘুমিয়ে নে। কাল সকাল থেকে আমাদের অনেক বড় লড়াই লড়তে হবে,” আশরাফ চাচা আমার মাথায় হাত রেখে বললেন।
চাচির দেওয়া একটা পুরনো সুতির শাড়ি পরে আমি যখন বিছানায় শুলাম, তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। জানালার বাইরে একটা কাক ডাকছিল। পেইনকিলারের ঘোরে চোখ দুটো বুজে আসছিল, কিন্তু মগজে সারাক্ষণ একটা দৃশ্যই ঘুরপাক খাচ্ছিল—দাদিমা ‘বানু স্টেশনার্স’-এর সামনে দাঁড়িয়ে হাসছেন। দাদিমা হয়তো জানতেন, এই স্বার্থপর পৃথিবীতে একদিন আমি একা হয়ে যাব। তাই তিনি আমার জন্য শুধু একটা দোকান রেখে যাননি, রেখে গেছেন একটা ঢাল।
পরদিন সকালে যখন ঘুম ভাঙল, তখন ঘড়িতে সকাল ১০টা।
ব্যান্ডেজের টানে পিঠ সোজা করে বসতে পারছিলাম না, কিন্তু বিছানা থেকে নামার সময় কাল রাতের সেই অসহায়ত্ব আর ছিল না। ডাইনিং টেবিলে আসতেই চাচি আমার সামনে গরম পরোটা আর ডিম ভাজি এগিয়ে দিলেন।
“খেয়ে নে মা। শরীরটা শক্ত না রাখলে লড়বি কী করে?” চাচির চোখের কোণায় মায়ের মতো একটা ওম ছিল। যে ওমটা আমি কাল রাতে আমার নিজের জন্মদাত্রী মায়ের চোখে দেখিনি।
খাওয়া শেষ হতেই ড্রয়িংরুমে আশরাফ চাচা ডাকলেন। তার টেবিলজুড়ে এখন আইনি ফাইলের স্তূপ। চাচা চশমাটা নাক থেকে নামিয়ে বললেন, “রাবেয়া, তোর আব্বা আজ সকালেই চকবাজারের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমি আমার লোক মারফত খবর পেয়েছি। সামিয়ার হবু শশুরবাড়ির লোক, বিশেষ করে ওই ছেলে রাজীব আর তার বাবা, নিজেরা দাঁড়িয়ে থেকে আজই দোকানটা সামিয়ার নামে হেবা (দানপত্র) দলিল করিয়ে নিতে চায়।”
“কিন্তু উইল যেখানে আছে, সেখানে ওরা কীভাবে দলিল করবে, চাচা?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।
“আইনের ফাঁকফোকর অনেক আছে, মা। তোর আব্বা এতদিন নিজেকেই আসল মালিক দাবি করে এসেছে। ট্রেড লাইসেন্স থেকে শুরু করে ভ্যাট-ট্যাক্সের ফাইলে সে নিজের নাম ব্যবহার করেছে, কারণ তুই তখন নাবালিকা ছিলি। ও এখন ভুয়া ওয়ারিশন সার্টিফিকেট বানিয়ে সামিয়াকে দান করতে চাইছে। আমাদের এখনই কোর্টে গিয়ে এই দলিলের ওপর একটা ‘ইনজাংকশন’ বা নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।”
আমি শক্ত হয়ে বসলাম। “তাহলে চলুন চাচা। আমি তৈরি।”
দুপুর ১টা। ঢাকার জজ কোর্টের বারান্দায় তিল ধারণের জায়গা নেই। মানুষের চিৎকার, টাইপরাইটারের খটখট শব্দ আর ফাইলের ধুলোয় চারপাশটা দমবন্ধ লাগছিল। আমার প্রতিটা শ্বাসের সাথে পাঁজরের ভাঙা হাড়টা মনে করিয়ে দিচ্ছিল সামিয়ার সেই ধাক্কার কথা।
আমরা যখন আদালতের করিডোর দিয়ে যাচ্ছিলাম, ঠিক তখনই উল্টো দিক থেকে চারটে মানুষ আসছিল।
আব্বা, আম্মা, সামিয়া আর তার হবু বর রাজীব।
সামিয়ার পরনে একটা দামি জর্জেটের শাড়ি, মুখে চড়া মেকআপ। কিন্তু তার চোখের নিচের কালি আর মুখের ফ্যাকাশে ভাবটা মেকআপেও ঢাকছিল না। আম্মা আমাকে দেখেই মুখটা ঘুরিয়ে নিলেন। আর আব্বা? আব্বার চোখে তখন খুনের নেশা।
“রাবেয়া!” আব্বা আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালেন। তার গলার স্বর নিচু কিন্তু হিসহিসিয়ে উঠল, “অনেক দূর বেড়ে গেছিস তুই, তাই না? এই চোর উঁইপোকা উকিলটাকে নিয়ে তুই আমার সম্পত্তি কেড়ে নিতে চাস?”
আশরাফ চাচা শান্ত গলায় বললেন, “মুখ সামলে কথা বলুন, শওকত সাহেব। কোনটা কার সম্পত্তি, তা আজ আদালত ঠিক করবে।”
“চুপ করো আশরাফ! দাদীর অন্ধ ভালোবাসার সুযোগ নিয়ে তোমরা জালিয়াতি করেছ,” সামিয়া এবার চিৎকার করে উঠল। “ঐ দোকান আমার! আমার শ্বশুরবাড়ির লোক সেখানে সুপারশপ করবে। তোর মতো একটা অপয়া, কালো মেয়ের দোকানে পচে মরার শখ থাকতে পারে, আমার নেই!”
আমি সামিয়ার দিকে তাকালাম। এই মেয়েটার জন্য আমি নিজের পড়ার খরচ বাঁচিয়ে ওর ইউনিভার্সিটির সেমিস্টার ফি দিয়েছিলাম।
“সামিয়া,” আমি খুব শান্তভাবে বললাম, “দোকানটা আমার কাছে শুধু একটা রুটি-রুজির জায়গা নয়। ওটা দাদিমার স্মৃতি, আমার পনের বছরের রক্ত জল করা খাটুনি। তুই যদি ভালোবেসে আমার কাছে ওটা চাইতিস, আমি হয়তো তোকে দিয়ে দিতাম। কিন্তু কাল রাতে তোরা আমার শরীর আর মন যেভাবে ভেঙেছিস… তারপর তোদের আমি এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।”
রাজীব নামের ছেলেটা এবার এগিয়ে এল। ভাবখানা এমন যেন সে মস্ত বড় ডন। “শোনো রাবেয়া, বেশি বাড়াবাড়ি কোরো না। চকবাজারে আমাদের অনেক চেনা লোক আছে। কাল থেকে দোকানে কীভাবে পা রাখো, আমরাও দেখে নেব।”
“হুমকি দেবেন না রাজীব সাহেব,” আমি আমার ওড়নার নিচ থেকে ফোনটা বের করলাম। “কাল রাতে আমার ফোন কেড়ে নেওয়ার আগে আমি একটা ভয়েস রেকর্ডার অন করে রেখেছিলাম। সামিয়ার ধাক্কা দেওয়া, আম্মার ৯৯৯-এ কল করতে না দেওয়া, আর আপনাদের এই জালিয়াতির পরিকল্পনা—সব রেকর্ড করা আছে। আমি যদি এখন ওটা পুলিশের কাছে দিই, তবে সামনের মাসে সামিয়ার বিয়েটা জেলের কয়েদিদের সামনে করতে হবে।”
আমার এই একটা কথায় পুরো চারজন মানুষের মুখ এক নিমেষে চুন হয়ে গেল। আম্মা এবার কাঁপতে কাঁপতে আমার হাত ধরতে এলেন, “রাবেয়া… তুই নিজের বোনের জীবনটা এভাবে ধ্বংস করিস না মা…”
আমি আম্মার হাতটা আলতো করে সরিয়ে দিলাম। “কাল রাতে যখন আমি মেঝেতে শুয়ে শ্বাস নেওয়ার জন্য ছটফট করছিলাম, তখন আপনিও ঠিক এইভাবেই আমার হাতটা সরিয়ে দিয়েছিলেন, আম্মা।”
ঠিক তখনই আদালতের পেশকার ভেতর থেকে ডেকে উঠলেন, “মামলা নম্বর ৪২, রাবেয়া বানু বনাম শওকত আলী…”
আশরাফ চাচা আমার কাঁধে হাত রাখলেন, “চল মা। ভেতর থেকে খাঁচার দরজাটা পুরোপুরি বন্ধ করার সময় হয়ে গেছে।”
আমি পা বাড়ালাম। কোর্টরুমের অন্ধকার দরজার ওপারে আমার জন্য এক নতুন সকাল অপেক্ষা করছিল।
(চলবে...)
