#সুখ_অমৃত
#পর্বঃ২+৩
#লেখিকাঃদিশা_মনি
মানতাশার রুমে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দেয় মঞ্জুয়ারা বেগম। মানতাশা বিছানায় বসে ছিল। মায়ের এমন কাণ্ড দেখে সটান বিছানা থেকে উঠে বসে। খানিক রাগী সুরে বলে ওঠে,
“তুমি এখানে কি করছ মা? যদি ভাবো আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে এই বিয়েতে রাজি করাবে তো ভুল ভাবছ। আমি মরে যাবো, তবু ঐ লোকটাকে বিয়ে করব না।”
মঞ্জুয়ারা বেগম মানতাশার কাছে এসে তার চু'লের মুঠি টেনে ধরে। মানতাশা ব্যাথায় আর্তনাদ করে বলে,
“মা, লাগছে। ছাড়ো আমায়।”
কিন্তু মঞ্জুয়ারা বেগম ক্ষেপে গিয়ে আরো জোরে চেপে ধরেন। হুমকির সুরে বলেন,
“শোন, তোর বাপ বেঁচে থাকতে অনেক রংঢং করেছিস, এখন তা চলবে না। বিয়ে করবি না মানে? তুই করবি না, তোর ঘাড় করবে। ভেবেছিলাম ভালো কথায় তোকে রাজি করাবো কিন্তু তুই তো ভালো কথা শোনার মেয়ে না। তাই প্রয়োজনে আমি যেভাবে পারি সেভাবে তোকে রাজি করাব।”
মানতাশার মাথায় জেদ চেপে বসে। সে বলে,
“যদি তুমি আমাকে মে'রেও ফেলো,তাও আমি ঐ আবু সুফিয়ানকে বিয়ে করবো না।”
মঞ্জুয়ারা বেগম এর মাথায় রাগের পারদ বৃদ্ধি পায়। রাগে অন্ধ হয়ে যান তিনি। দিকবিদিকশুন্য শুনে মানতাশাকে শায়েস্তা করার উপায় খুঁজতে থাকেন। একটু দূরে ইস্ত্রি মেশিন দেখে ছুটে যান সেদিকে। মানতাশা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার হাতে চেপে ধরেন সেই ইস্ত্রি মেশিনটা। মানতাশা ব্যাথায় চিৎকার করে ওঠে। তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে নোনাজল। কান্নাভেজা গলায় বলে,
“আম্মু, ছেড়ে দাও প্লিজ।”
মানতাশার হাত অনেকটা পুড়ে যাও। তাও যেন দয়ার সঞ্চার হয়না মঞ্জুয়ারা বেগম এর নিঠুর মনে।
মঞ্জুয়ারা বেগমের ক্রোধ যেন কিছুতেই কমার নয়। তিনি আরো জোরে ইস্ত্রি মেশিনটা চেপে ধরে বলেন,
“বিয়েতে কোন বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে তোর আমি এমন হাল করব যার থেকে মৃত্যুও কম হয়ে যাবে।”
বলেই তিনি ছেড়ে দেন মানতাশাকে। মানতাশা ছাড়া পেতেই ছুটে যায় বাথরুমে। পানি ঢালতে থাকে পোড়া যায়গায়। ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে তার। মানতাশা কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“আল্লাহ, এখন তুমি ছাড়া আমার কেউ নেই৷ তুমিই আমাকে বাঁচার কোন উপায় বলে দাও।”
মঞ্জুয়ারা বেগম ইস্ত্রি মেশিনটা সঠিক স্থানে রেখে বলেন,
“সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল কিভাবে বাকাতে হয়, সেটা এই মঞ্জুয়ারা খুব ভালো করেই জানে। এবার দেখ, মানতাশা। আমি কিভাবে তোকে এই বিয়েতে রাজি করাই। কতটা জঘন্য উপায় অবলম্বন করি।
.
মানতাশা পোড়া হাত নিয়ে দুপুর থেকে নিজের কক্ষে বসে আছে। মঞ্জুয়ারা বেগম অনেকবার তাকে খেতে ডেকেছে তবুও সে খেতে যায়নি। সারাটা দিন না খেয়ে আছে মেয়েটা। আর এখন তো সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। এর মাঝে মঞ্জুয়ারা বেগম আবারো এলেন মানতাশার কক্ষে। মানতাশা রাগ করে বললো,
“আবার কেন এসেছ? আমি বললাম না,আমি খাবো না। চলে যাও এখান থেকে।”
মঞ্জুয়ারা বেগম বলেন,
"শোন, আমি তোর বাপের মতো নই, যে তোর মান ভাঙাতে আসব। খেতে হলি খাবি নাহলে না খেয়ে মরবি। আমি তোকে অন্য কথা বলতে এসেছি। শোন, আমি বাইরে যাচ্ছি৷ আজ ফিরতে দেরি হবে। আমার একজন অতিথি আসবে আজ, তার খাতির যত্নে যেন কোন ত্রুটি না থাকে।"
মানতাশাঃকে আসবে?!
মঞ্জুয়ারা বেগম বিরক্তিতে মুখ দিয়ে চ জাতীয় শব্দ করে বলেন,
“তোকে তো এত কিছু জানতে হবে না। যা বলছি তাই করবি। নাহলে তোর খবর আছে।”
বলেই তিনি মুখ ঘুরিয়ে চলে যান। মানতাশা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে নিচে নেমে এসে দরজাটা ভিড়িয়ে আবার রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ে। একটু পর পেটে ক্ষিধের টান পড়ায় আর না খেয়ে থাকতে পারল না। ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে গরম করে নিয়ে একটু মুখে দিলো। খাওয়া শেষ করে উঠতে যাবে এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠলো। মানতাশা আনমনে বলে উঠল,
“এখন আবার কে এলো?”
মায়ের বলা কথা গুলো মনে আসতেই বলল,
“তাহলে কি মায়ের সেই গেস্ট এসেছে? যাই গিয়ে দেখে আসি।”
মানতাশা গেট খুলতেই দেখতে পায় একজন যুবক দাঁড়িয়ে তার দরজার সামনে। যাকে মোটেই সুবিধার লাগছিল না। মানতাশা ভ্রু কুঁচকে ফেলে তাকে দেখে। হালকা ঢোক গিলে বলে,
“কে আপনি? কাকে চাই?”
“এটা কি মঞ্জুয়ারা বেগমের বাড়ি? ওনার সাথে কিছু জরুরি প্রয়োজন ছিল।”
মানতাশা যুবকটির চাহনি দেখেই বুঝল, সে সুবিধার না। তাই বলে উঠল,
“জ্বি, কিন্তু উনি এখন বাসায় নেই। আপনি পরে আসিয়েন।”
বলেই দরজা লাগাতে যাবে এমন সময় যুবকটি হাত দিয়ে দরজা আটকে দেয়। গায়ের জোরে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। মানতাশা বলে ওঠে,
“আপনার তো সাহস কম নয়, জোর করে ঢুকে পড়ছেন কেন? আমি কিন্তু সিকিউরিটিকে ডাকব।”
যুবকটি অট্টহেসে বলে,
“ডাকবি, ডাক।”
ভয়ে মানতাশার গলা শুকিয়ে যায়। তবুও সে ডেকে ওঠে,
“সিকিউরিটি...সিকিউরিটি..”
কিন্তু কেউ সাড়া দেয় না। মানতাশা বুঝতে পারে বড় কোন ঘাপলা আসে। ফোনটাও ঘরে ফেলে রেখেছে। তাই সে জলদি টেলিফোনের কাছে যেতে চায় এমন সময় যুবকটি তার হাত টেনে ধরে। মানতাশা অনুনয়ের সুরে বলে,
“দয়া করুন, আমার সাথে এমন করবেন না।”
যুবকটি যেন মানতাশার এমন আকুতিতে মজা পাচ্ছিল। তাই তো অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। মানতাশার কান্নার বেগ দ্রুত হয় যুবকটি তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত বোলাতে থাকে। মানতাশার ভীষণ ঘৃণা হচ্ছিল তখন। যুবকটি নিজের শার্ট খুলতে থাকে। মানতাশা ছটফট করতে থাকে। যুবকটি মানতাশার মুখের সামনে একটু রুমাল ধরে। ধীরে ধীরে মানতাশার চোখ বুজে আসে।
.
জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করে মানতাশা। তার শরীরে পোশাকের কোন ছিটেফোঁটা নেই। নিজের দিকে তাকিয়ে শিউরে ওঠে মানতাশা। সে বুঝতে পারে যা হবার হয়ে গেছে। বিছানার চাঁদর দিয়ে নিজেকে আবৃত করে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে মেয়েটা। কিছুক্ষণ আগেও তার সাথে কি ঘটে গেছে সেটা কিছুতেই মনে পড়ছে না। জ্ঞান হারানোর পর আর কোন কথা তার মনে নেই।
এরইমধ্যে তার কক্ষে ছুটে আসে কয়েকজন পাড়া-প্রতিবেশী। মানতাশা হতবাক হয়ে তাদের দিকে তাকায়। সবাই তার দিকে কেমন জানি নজরে তাকিয়ে ছিল। মানতাশা বুঝতে পারছিল না সবার এহেন দৃষ্টির কারণ।
হঠাৎ করেই পাশের বাসার মনিউর ইসলাম বলে উঠলেন,
“তোমাকে তো আমরা ভালো মেয়ে বলেই জানতাম, এখন এ কি রূপ দেখছি?!”
মানতাশা হতবিহ্বল দৃষ্টিতে তাকায়। কিছুক্ষণ পরেই সাবিহা খাতুন নামক আরেকজন বলেন,
“বাপ তো দেউলিয়া হয়ে মরেছে, তাই এখন খরচ চালানোর জন্য নিজেকে বেঁচে দিয়েছে এই মেয়ে।”
সবগুলো কথা মানতাশার বুকে তীরের মতো বিঁধছিল। মানতাশা আর সইতে না পেরে বলে ওঠে,
“এসব কি জঘন্য কথা বলছেন আপনারা? আল্লাহর দোহাই লাগে, চুপ করেন।”
“তুমি করলে দোষ নেই, আর আমরা বললেই দোষ?”
“কি করেছি আমি?”
“নিজের দিকে তাকাও, তাহলেই বুঝতে পারবে।”
মানতাশা ভীষণভাবে গুটিয়ে পড়লো। ব্যাপারটা বুঝতে আর বাকি রইল না। তাহলে সবাই সন্দেহ করছে যে সে নিজের ইচ্ছায়...এসব কথা মনে আসতেই চোখ বন্ধ করে নিলো মানতাশা। এই দিন আসার আগে তার মৃত্যু হলো না কেন। এরইমধ্যে মঞ্জুয়ারা বেগম কোথা থেকে ছুটে এসে যেন জড়িয়ে ধরলেন নিজের মেয়েকে। সকলের উদ্দ্যেশ্যে বললেন,
“আপনারা যা ভাবছেন সেটা একদম ভুল। আমার মেয়ে কোন খারাপ কাজ করে নি।”
“একবার ভালো করে নিজের মেয়ের দিকে তাকান তারপর কথা বলতে আসিয়েন।”
মঞ্জুয়ারা বেগমও মানতাশার দিকে তাকিয়ে আতকে ওঠেন।
চলবে ইনশাআল্লাহ ✨#সুখ_অমৃত
#পর্বঃ৩
#লেখিকাঃদিশা_মনি
মানতাশা অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে মঞ্জুয়ারা বেগমের দিকে। মঞ্জুয়ারা বেগম মানতাশাকে ভরসা দিয়ে বলেন,
“তুই একদম চিন্তা করবি না, তোর আম্মু আছে তোর পাশে। আমি জানি, তুই এমন কিছু করতে পারিস না।”
এদিকে এলাকার লোক মানতাশার দিকে কাঁদা ছুড়তে ব্যস্ত। একজন বলে ওঠে,
“আমার মনে হয়,মা-মেয়ে দুজনেই এই ব্যবসার সাথে জড়িত। এদের এখানে আর রাখা যাবে না।”
আরেকজন সমর্থন জানিয়ে বলে,
“ঠিক বলেছেন, এটা ভদ্রলোকের এলাকা। এখানে এসব নোংরামী চলবে না।”
সবাই যে যার মতো তর্ক বিতর্ক করতে ব্যস্ত। এরইমধ্যে কয়েকটা যুবক এগিয়ে আসল মানতাশার দিকে। উদ্দ্যেশ্যে মানতাশাকে টেনে ছেছড়ে বের করবে। মঞ্জুয়ারা বেগম তাদের আটকে বলে,
“আমার মেয়ের পরনে কিছু নেই..ও কোনরকমে একটা চাঁদর জড়িয়ে আছে। ওর কাছে এসো না তোমরা।”
একটা যুবক বিটঘুটে হাসি দিয়ে বলে,
“মা**র আবার সম্মান আছে নাকি? থাকলে দেহ বেঁচে খেত না।”
মানতাশা নিজের নামে এসব জঘন্য কথা আর সইতে পারছিল না। কান চেপে কাঁদতে লাগলো। যুবকরা আরো এগোতে যাবে তার আগেই সেখানে চলে আসল আবু সুফিয়ান। সে এসেই হুংকার দিয়ে বলল,
“কেউ আর এক পা সামনে আগালে তার পা আমি কে*টে ফেলবো।”
যুবকদের পা থেমে গেলো। মানতাশা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকালো। আবু সুফিয়ান এগিয়ে এসে মানতাশার দিকে একবার তাকিয়েই চোখ ফিরিয়ে নিলো। অতঃপর সকলের উদ্দ্যেশ্যে বলল,
“আপনারা যা ভাবছেন, তা সঠিক নয়। মানতাশা কোন খারাপ কাজের সাথে যুক্ত নয়।”
একজন মহিলা বলে উঠলেন,
“আপনি কে? আর এই মেয়ের হয়ে ওকালতি করছেন কেন? এই মেয়ের আসল রূপ তো সবার সামনে বেরিয়ে এসেছে।”
“সবসময় চোখের দেখা সত্য নাও হতে পারে।”
“আপনি এই বে**র হয়ে এত তরফদারি করতে আসছেন কেন? আপনি কি ওর খদ্দের।”
সুফিয়ান হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিলো। রাগে তার পুরো শরীর কাপছে।
“খবরদার, না জেনে ওর নামে আর একটা বাজে কথাও বলবেন না। ও কোন অন্যায় করে নি।”
“মেয়েটাকে দেখুন,যদি কোন অন্যায় না করে তাহলে এমন বিবস্ত্র কেন ও?”
আবু সুফিয়ান চোখ বন্ধ করে নিলো। রাগে তার শিরা উপশিরা ফুলে যাচ্ছে। অনেক কষ্টে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে বললো,
“মানতাশা আমার স্ত্রী। আর আমরা কিছুক্ষণ আগে..বুঝতেই পারছেন স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার। এরমধ্যে আমি বাইরে গেছিলাম আর ফিরে এসে দেখি এই অবস্থা।”
মানতাশা থমকে যায়। এ কিসব বলছে এই লোকটা? এর কোন কথাই তো সত্য নয়। মানতাশার মনে হচ্ছিল কিছু ভুল হচ্ছে। এটা হতে দেওয়া ঠিক না। কিন্তু নিজের সম্মানের ব্যাপারে ভেবে সে কিছু বলতেও পারল না।
একজন লোক বলে উঠল,
“তোমরা যে বিবাহিত সেটা তো আগে শুনিনি। আমরা তো মানতাশাকে অবিবাহিত বলেই জানেন।”
“এসব আষাঢ়ে গল্প। ধরা পড়া গিয়ে এখন মিথ্যা নাটক করছে।”
সুফিয়ান তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,
“কোন নাটক নয়। আমি যা বলছি তা সম্পূর্ণ সত্য। আমাদের গোপনে আকদ হয়েছে, তাই হয়তো কেউ জানেন না। আগামীকালই বড় অনুষ্ঠান করে আমাদের বিয়ে হবে। তখন নিজের চোখেই সমস্তটা দেখতে পারবেন।”
লোকের কানাঘুষা শুরু হলো। সুফিয়ান হঠাৎ সবার উদ্দ্যেশ্যে বলল,
“কিন্তু আপনারা সবাই কিভাবে হঠাৎ ঘরে ঢুকে গেলেন? আপনাদের তো এখানে আসার কথা না।”
একজন প্রবীণ ব্যক্তি বলল,
“আমাকে কে যেন ফোন করে বলল, এই বাড়িতে অনৈতিক কাজ চলছে।”
সবাইক একে একে এই কথাটাই বললো। সব শুনে মানতাশা চুপসে গেলো। তাহলে তাকে প্ল্যান করেই এভাবে ফাসানো হয়েছে। ঐ লোকটাকেও তাহলে প্ল্যান করেই পাঠানো হয়েছিল। তবে এসবের পেছনে কে রয়েছে? মানতাশার দৃষ্টি গেলো আবু সুফিয়ানের দিকে। তাহলে কি সব এই লোকেরই সাজানো নাটক!
আবু সুফিয়ান এবার সবার উদ্দ্যেশ্যে বলল,
“এমন কেউ হয়তো আছে যে, আমাদের ভালো চায় না। তারাই মানতাশাকে সবার সামনে খাটো করার জন্য এমন করেছে। তবে আমি যেমনটা বললাম সেটাই সত্যি। ও আমার স্ত্রী এবং ওর চরিত্রেও কোন দাগ নেই। তাই আপনারা ওকে নিয়ে অযথা সমালোচনা বন্ধ করুন আর যান এখান থেকে। নাহলে আমি পুলিশ ডাকতেই বাধ্য হবো। তারা এসে সিনক্রিয়েট করার অপরাধে আপনাদের সবাইকে কোমড়ে দড়ি পড়িয়ে জেলে নিয়ে যাবে। সেটা কি আপনাদের ভালো লাগবে? নিশ্চয়ই, না।”
এখানে উপস্থিত অনেকের মাঝে বিভিন্ন প্রবণতা দেখা গেলো। কেউ ভাবলো, আবু সুফিয়ানের কথাই সত্য। আবার কেউ ভাবলো ধরা খাওয়ার পর এখন নাটক করছে। কিন্তু পুলিশের টোটকাটা কাজে দিলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই স্থানত্যাগ করলো।
সবাই চলে যাবার পর আবু সুফিয়ান মঞ্জুয়ারা বেগমের উদ্দ্যেশ্যে বলেন,
“মানতাশাকে কোন পোশাক পড়িয়ে দিন। আমি বাইরে যাচ্ছি।”
✨
মানতাশা অনবরত কেঁদে চলেছে। ইতিমধ্যেই মঞ্জুয়ারা বেগম তাকে একটি নীল রঙের প্লাজু ও একটা টিশার্ট পড়িয়ে দিয়েছে। মানতাশা মঞ্জুয়ারা বেগমকে সব ঘটনাও খুলে বলেছে। সাথে এও বলেছে সে মনে করে সবটা আবু সুফিয়ানের সাজানো চক্রান্ত। কিন্তু মঞ্জুয়ারা বেগম সেটা মানতে নারাজ। এরমধ্যে আবু সুফিয়ান সেখানে চলে আসলো। মানতাশা সুফিয়ানকে দেখেই বলে উঠলো,
“দেখুন না, মানতাশা কেমন করছে।”
সুফিয়ান মানতাশার কাছে এসে বললো,
“আমি বিশ্বাস করি তোমায়। জানি তোমাকে ফাঁসানো হয়েছে তুমি কোন অন্যায় করো নি।”
মানতাশা সুফিয়ানের শার্টের কলার চেপে ধরে রাগী কন্ঠে বলল,
“আপনার এসব নাটকে মা ভুলতে পারে কিন্তু আমি না। আমি জানি এসব কিছু আপনারই মস্তিষ্কপ্রসূত। আপনিই প্ল্যান করে আমায় ফাসিয়েছেন। কি ভেবেছেন,এমনটা হলে আমি বাধ্য হয়ে আপনাকে বিয়ে করবো? জীবনেও না। আমি আপনাকে ঘৃণা করি মিস্টার আবু সুফিয়ান। আমি মরে যাবো, তবুও আপনাকে বিয়ে করবো না।”
সুফিয়ান মানতাশাকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে বলে,
“তোমার যা ভাবার তুমি ভাবতে পারো। আমি কিছু করিনি এটাই সত্য। আর কালকেই আমাদের বিয়ে হবে। আমি তোমাকে জোর করতে চাইনি কিন্তু এখন ব্যাপারটা তোমার সম্মানের। তাই তোমার সম্মান বাঁচাতে আমাকে এই বিয়েটা করতেই হবে। তা যদি জোরপূর্বক হয় তবুও অসুবিধা নেই।”
মঞ্জুয়ারা বেগম মানতাশার উদ্দ্যেশ্যে বলে,
“তুই নিজের ভালো টা বুঝতে পারছিস না কেন? আজ যা হলো এরপর যদি তুই বিয়েটা না করিস তাহলে সবাই ভাববে তুই সত্যিই..খারাপ কাজে জড়িত। একটা মেয়ের সম্মান কত গুরুত্বপূর্ণ তুই তো জানিস।”
মঞ্জুয়ারা বেগমের কন্ঠে অসহায়ত্বের ছাপ স্পষ্ট।
“এরপর কে বিয়ে করবে তোকে? আজীবন দূর্নাম বয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে!”
মানতাশা নাছোড়বান্দা। সেও মাথা উঁচু করে বলে,
“আমি জানি, আমি কোন অন্যায় করিনি। আমার রবও জানেন। ব্যস, আমার আর কিছুর প্রয়োজন নেই। সমাজের মানুষের কাছে ভালো সাজার জন্য আমি নিজেকে বিসর্জন দিব না। আমি কাউকে পরোয়া করি না।”
সুফিয়ান মানতাশার হাত শক্ত করে ধরে বলল,
“তোমার কোন কথাই আর গ্রাহ্য করা হবে না। কাল আমাদের বিয়ে হচ্ছে আর এটাই ফাইনাল।”
মানতাশাও বলল,
“আমি এই বিয়ে কিছুতেই করব না। আর এটাই আমার চ্যালেঞ্জ। আমি চ্যালেঞ্জে হারতে শিখিনি। সবাইকে চ্যালেঞ্জে হারিয়ে দিতেই শিখেছি, এবারও আপনাকে হারিয়ে দিব।”
“বেশ, তবে দেখা যাক, এবার কার জয় হয়।”
চলবে ইনশাআল্লাহ ✨
