#বিষাক্তফুলের_আসক্তি 

লেখনীতেঃ তাহমিনা তমা 

পর্ব-০২+০৩


তিতির মনে মনে আওড়াতে লাগলো, আমাকে বাঁচতে হবে ? 


নিজের সর্বশক্তি দিয়ে তাজকে ধাক্কা দিলো। তাজ খানিকটা পিছিয়ে গেলো তিতিরের থেকে। কিছুটা ড্রাংক থাকায় তাজকে সরাতে সক্ষম হয়েছে তিতির। তাজ সরে যেতেই তিতির কাশতে কাশতে নিচে বসে পড়লো। চোখ থেকে অঝোরে পানি গড়িয়ে পড়ছে তার। নিয়তি বরাবরই তার জন্য নিষ্ঠুর। গত দুই বছর তো ভালোই ছিলো সে। তাজ অসম্ভব ভালো একজন মানুষ। হাসিখুশি আর বন্ধুসুলভ সবার জন্য। এতো বড় একজন মানুষ হয়েও বিন্দুমাত্র অহংকার নেই তার মধ্যে। তিতিরকে কতোটা সাহায্য করেছে সেটা একমাত্র তিতির বলতে পারবে। আজ অসহায় হয়ে সেই মানুষটার সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে তিতির। বলতে গেলে যার নুন খেয়েছে তার সাথেই নিমকহারামি করেছে। কিন্তু তিতিরের যে হাত-পা বাঁধা। দু'হাতে মুখ লুকিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো তিতির। 


ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ায় দিগুণ রেগে গেলো তাজ। এগিয়ে এসে তিতিরের চুলের মুঠি ধরে দাড় করালো। ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠলো তিতির কিন্তু মুখে একটা শব্দও করছে না। 


তাজ দাঁত খিঁচিয়ে বললো, এতবড় সাহস তোর ? এই তাজওয়ার খান তাজকে ধাক্কা দিস। যার বিছানা সঙ্গী হওয়ার জন্য এতো বড় নাটক করলি তাকেই ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিস কেনো ? তুই এতবড় অভিনেত্রী আগে জানলে আমার মুভির হিরোইন বানাতাম। 


তিতির চোখ বন্ধ করে আছে। এখন পর্যন্ত একবারও চোখ তুলে তাকায়নি তাজের দিকে। এবার পিটপিট করে তাকালো তাজের দিকে। তিতিরের মুখ থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে তাজের মুখখানা। রাগে পুরো মুখ লাল হয়ে আছে, যে চোখ দেখে তিতির একসময় তার প্রেমে পড়েছিলো সেই চোখদুটো আজ ভয়ংকর লাগছে তিতিরের কাছে। তাজের গায়ের এলকোহলের গন্ধে তিতির নাড়িভুড়ি দলা পাকিয়ে বের হয়ে আসতে চাইছে যেনো। 


তিতির অনেক কষ্টে বললো, স্যার আমার লাগছে, প্লিজ ছাড়ুন। 


তিতিরের কথায় তাজ আরো রেগে গেলো যেনো। হাতের মুঠোয় আরো শক্ত করে ধরলো তিতিরের চুল। 


তাজ বুকের বা পাশে আঙ্গুল রেখে বললো, আমারও লাগছে ঠিক এখানে। তোর জন্য আজ আমি কী কী হারিয়েছি তোর কোনো ধারণা আছে ? তোকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম মনে হয়েছিলো ফুটফুটে পবিত্র একটা ফুল। কিন্তু তুই তো বিষাক্তফুলের রুপ নিলি আমার জীবনে। 


তিতির আবারও কেঁদে উঠলো। নোনাজল গাল বেয়ে নিচে নামতে লাগলো। তাজ বা'হাতে তিতিরের চুল ধরে আছে। ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুলের ডগায় তিতিরের এক ফোটা চোখের পানি তুলে নিলো। 


গম্ভীর গলায় বললো, এটা তো কেবল শুরু মিসেস তিতির। আজ থেকে তোমার জীবনের প্রতিটা মুহুর্তে এই নোনাজলের স্বাদ পাবে তুমি। যতটা কষ্ট আমাকে দিয়েছো তার থেকেও হাজার গুণ কষ্ট তোমাকে ফিরিয়ে দিবো। স্বপ্ন ভাঙার কষ্ট ঠিক কতটা হাড়ে হাড়ে টের পারে। আপন মানুষগুলোর ঘৃণার দৃষ্টি কতটা ক্ষত বিক্ষত করে তুমি বুঝতে পারবে। 


কিছুটা সময় চুপ করে তিতিরের দিকে তাকিয়ে রইলো তাজ। কতটা নিষ্পাপ মেয়েটার মুখ। কেউ কী বিশ্বাস করবে এই মেয়েটা এমন জঘন্য একটা কাজ করেছে। এই মায়াভরা মুখটা দেখে যে কেউ ধোঁকা খেয়ে যাবে। ফর্সা মুখটা লাল বর্ণ ধারণ করেছে কাঁদতে কাঁদতে। নাকের ডগা টকটকে লাল হয়ে গেছে, লাল রঙা ঠোঁট দুটো মৃদু কাঁপছে। 


তাজ হঠাৎ কঠিন গলায় বলে উঠলো, আচ্ছা বল তো কার পাপের ফসল আমার উপর চাপিয়ে দিলি ? আমি কখনো কল্পনাও করিনি মানুষ চিনতে আমার এতটা ভুল হবে। তোকে দেখে বরাবরই নিষ্পাপ আর পবিত্র মনে হয়েছে। কিন্তু তুই তো একটা চরিত্রহীন মেয়ে। তোর পেটের পাঁপটা কার বল তো। 


তিতির অসহায় চোখে তাকালো তাজের দিকে। যে মেয়ের হাত কোনো ছেলে এখন পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারেনি তাকে আজ চরিত্রহীন অপবাদ শুনতে হচ্ছে। কিন্তু সে কিছুই বলতে পারছে না। চিৎকার করে বলতে পারছে না আমি চরিত্রহীন নই, নেই কারো পাপের ফসল আমার পেটে, নই আমি চরিত্রহীন। আমি তো কেবল কারো নোংরা খেলার একটা গুটি মাত্র। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল আপনার চাকরিটা করা। তা নাহলে আজ এতবড় একটা মিথ্যা অপবাদ নিজের কাঁধে নিতে হতো না। আপনি সব হারিয়ে থাকলে আমিও সব হারিয়েছি। কারণ আমার মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের কাছে তার সম্মানই সবকিছু। যেটা আমি সারাদেশের মানুষের সামনে নিজ হাতে জলাঞ্জলি দিয়েছি। 


তাজ তিতিরের থেকে দূরে সরে দাঁড়িয়ে বললো, যার পাপ পেটে নিয়ে ঘুরছিস তার কাছে না গিয়ে আমাকে কেনো ফাঁসালি ? তাজওয়ার খান তাজের স্ত্রী হওয়ার লোভে ? পাওয়ার, প্রোপার্টি এসবের লোভে ? 


এলকোহলের নেশা অনেকটাই কেটে গেছে তাজের। এসবে অভ্যস্ত না থাকায় খেতে পারেনি খুব একটা। এলকোহলের নেশা কেটে গিয়ে তাজের মাথায় প্রতিশোধের নেশা চেপে বসেছে। 


তিতিরের দিকে ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো, খুব শখ সুপারস্টার তাজওয়ার খান তাজের স্ত্রী হওয়ার। আজ সেই শখ পূরণ করবো আমি তোর। নরক যন্ত্রণা ভোগ করবি আজ তুই। 


তিতির মাথা নিচু করে কাঁদছিলো। তাজের কথা শুনে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালো তার দিকে। তিতির কিছু বুঝে উঠার আগেই তাজ হাত বাড়িয়ে তিতিরের চুল মুঠি ধরে কাছে টেনে আনলো। ব্যাথায় চোখ বন্ধ করে করে ফেললো তিতির। ঠোঁটে আরেক জোড়া ঠোঁটের অস্তিত্ব অনুভব হতেই বড়বড় চোখে তাকালো। জীবনের প্রথম কোনো পুরুষের স্পর্শ পেয়ে শিহরিত হওয়ার আগেই তীব্র ব্যাথায় কুঁকড়ে গেলো। তীক্ষ্ণ ধারালো দাঁতের আঘাতে মুহূর্তে ঠোঁট কেটে নোনতা স্বাদের তরল বেড়িয়ে এলো। এতে হেলদোল হলো না অপর পাশের ব্যক্তির। সে নিজের রাগ মেটাতে ব্যস্ত। অনেকটা সময় পর তাজ ছেড়ে দিলো তিতিরকে। ব্যাথায় চোখ বন্ধ করে আছে তিতির। 


তাজ তিতিরের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে তিতিরের ঠোঁটের রক্ত মুছে নিয়ে রক্তমাখা আঙ্গুলের দিকে তাকিয়ে বললো, তাজ এই প্রথম কোনো মেয়েকে স্পর্শ করলো। কেমন লাগলো মিসেস তিতির ? আমার যদিও এটা প্রথম কিন্তু আপনার তো প্রথম নয়। আগে হয়তো স্বর্গ সুখ উপভোগ করেছিলেন এবার নরক যন্ত্রণা ভোগ করবেন। নিজেকে তো আমি নির্দোষ প্রমাণ করবোই তার আগে তোর জীবন নরক করে দিবো। 


কথাটা শেষ করে তিতিরের চুলের মুঠি ধরে টেনে রুমে নিয়ে বিছানায় ছুঁড়ে ফেললো। তিতির তাজের দিকে তাকিয়ে ভয়ে কুঁকড়ে গেলো। তাজ নিজের শেরওয়ানীটা খোলে ফেলে দিলো ছুঁড়ে। রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে তাজ। মৌ ছাড়া কোনো মেয়ের সাথে তাজ কখনো ফ্রী ভাবে কথাও বলেনি। হিরোইনদের সাথেও কাজের বাইরে খুব একটা কথা হয় না তার। সেই ছেলেটাকে সবাই চরিত্রহীন উপাধি প্রদান করেছে এই মেয়ের জন্য ৷ কীভাবে মেনে নিবে তাজ ? তাজের সব শেষ করে দিয়েছে মেয়েটা। এবার তাকে শেষ করে তাজ। হিংস্র বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো তিতিরের উপর। তাজ ব্যস্ত নিজের রাগ মেটাতে আর তিতির নরক যন্ত্রণায় ছটফট করছে। 


৩.

তাজের মা মিসেস ইরিনা রহমান নিচু গলায় বললো, এভাবে তাড়াহুড়ো করে বিয়েটা দিয়ে কী ঠিক করলেন আপনি ? নিজের ছেলেটার কথা একবার বিশ্বাস করতে পারলেন না। একবার সত্যি মিথ্যা যাচাই করা উচিত ছিলো না কী ? 


ইকবাল খান ইজি চেয়ারে বসে আছে চোখ বন্ধ করে। স্ত্রীর কথা শুনে তার দিকে তাকিয়ে বললো, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছিলো। কোনটা ঠিক কোনটা ভুল ভাবার সময় ছিলো না। তবে এখন কেনো জানি মনে হচ্ছে অনেক বড় ভুল হয়ে গেলো। আমাদের শিক্ষা তো এমন নয়। আমাদের ছেলে এমনটা করতে পারে না। 


ইরিনা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বললো, আপনি চাইলেই সত্যিটা যাচাই করতে পারতেন খুব সহজে। 


এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়লে কারো মাথায় ঠিকভাবে কাজ করবে না। এখন তো অনেক কিছুই মনে হচ্ছে। কথায় আছে না, "চোর গেলে বুদ্ধির উদয় হয় "। এখন নিজের অবস্থা তেমনই মনে হচ্ছে। 


ইরিনা বললো, তিতির মেয়েটাকেও আমি ভালো করেই চিনি। খুবই ভদ্র আর শান্তশিষ্ট একটা মেয়ে। ঐ মেয়েটাই বা মিথ্যা বলবে কেনো বুঝতে পারছি না। 


আমাকে ভাবতে দাও ইরি। এখানে অনেক বড় ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে মনে হচ্ছে। 


এদিকে বিয়ের বেনারসিটা এখনো গায়ে জড়িয়ে আছে মৌ। চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে তার। এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না তাজ এমনটা করেছে। একই সাথে বড় হয়েছে তারা। তাজ মৌয়ের দেড় বছরের বড়, তবু তাদের বন্ধুত্ব ছোটবেলা থেকে। তাজ বরাবরই মেয়েদের থেকে একটু দূরত্ব বজায় রাখতো। এজন্যই মুভিতে কাজ করতে গিয়ে প্রথম দিকে হিরোইনদের সাথে কাজ করতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে তাকে। পরে ধীরে ধীরে সহজ হয়েছে। তবে কী এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তাজের এতোটা অধঃপতনের কারণ। তাজের ফিল্মে যাওয়া নিয়ে ইকবাল খানকে মৌ রাজি করিয়েছিলো অনেক কষ্টে। সেটাই জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল মনে হচ্ছে মৌয়ের কাছে। 


হঠাৎ মৌয়ের মনে হলো, আচ্ছা আমি কোনো ভুল করলাম না তো ? তাজ তো বলছিলো মেয়েটা সব মিথ্যে বলেছে। কিন্তু একটা মেয়ে কীভাবে নিজের নামে এতবড় একটা মিথ্যা বলবে ? আর রিপোর্টটা তো ফেইক ছিলো না, সেটা বুঝতে আমার ভুল হতে পারে না। আর সেই ছবিগুলো, সেগুলো দেখেই তো আমার দুনিয়া উলটপালট হয়ে গেছে। সত্যি মিথ্যা যাচাই করার শক্তিটুকুও ছিলো না। 


মৌ আর ভাবতে পারছে না। একবার মনে হচ্ছে তাজ সত্যি বলছে আবার মনে হচ্ছে মেয়েটার প্রমাণগুলো তো মিথ্যা ছিলো না। ক্লান্ত শরীর নিয়ে ওয়াশরুমে ঢোকে গেলো মৌ। বাথটবে গিয়ে শুয়ে পড়লো। চোখ বন্ধ করতেই চোখের কোণ বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পড়লো। চোখে ভাসতে লাগলো তাজের সাথে কাটানো হাজারো মধুর স্মৃতি। মুহুর্তে কেঁদে উঠলো মৌ। 


তিনটা হাসোজ্জল মুখের ছবির দিকে তাকিয়ে আছে এক জোড়া চোখ। ঠোঁটের কোণে তার পৈশাচিক হাসি। একটা লাইটার দিয়ে ছবির এক কোণে আগুন জ্বালিয়ে দিলো লোকটা। 


তারপর উচ্চ স্বরে হাসতে হাসতে বললো, দুই বছরের সাজানো খেলা এতো সহজে নষ্ট করতে পারবি না মিস্টার তাজওয়ার খান তাজ। দুই বছর ধরে খেলাটা সাজিয়েছি আমি। তারপর জাস্ট একটা চাল এতেই তোর সবকিছু চোখের পলকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলাম। তোর মানসম্মান, ক্যারিয়ার, আপনজন, ভালোবাসা সব এক চালেই শেষ। অনেক কষ্টে সাজিয়েছি খেলাটা। বেচারি তিতির বোনটা আমার। ও তো আমার খেলার একটা গুটি মাত্র। যে গুটিটা চেলেছি আরো দুই বছর আগে। যত ইচ্ছে যাচাই করে নে কিন্তু কিছুতেই সত্যিটা সামনে আনতে পারবি না। রিপোর্ট তো সেটাই আসবে যেটা আমি চাইবো। আমি যে কাঁচা খেলোয়াড় নই। বাচ্চাটা তোর নয় সেটা প্রমাণ করা তো দূর তুই এটাই প্রমাণ করতে পারবি না তিতির প্রেগনেন্ট নয়। একটা সময় ছিলো তুই আমার থেকে এগিয়ে ছিলি কিন্তু এখন আমার ক্ষমতার কাছে তুই কিছুই না। এবার আমি যেমন চাইবো তেমনই হবে তোর জীবনে। শুধু তোকে হারাবো বলে অন্ধকার জগতে পা রাখার আগে একবারও ভাবিনি আমি। 


চলবে,,,,,


[বিঃদ্রঃ বাপরে বাপ প্রথম পর্বে একেক জনের কমেন্ট দেখে আমি রীতিমতো ভয় পেয়ে গেছি। ইন্ডিয়ান সিরিয়াল আমি দেখি না ভাই, তাই জানিও না সেগুলো কেমন হয়। ছোটবেলায় একটা সিরিয়ালই দেখছিলাম বোঝেনা সে বোঝেনা। তারপর আর দেখার ইচ্ছে হয় নাই কোনোটা। তাই ইন্ডিয়ান সিরিয়াল হয়েছে কিনা আমি জানি না। গল্পটা এখনো ভালো করে শুরুই হয়নি এখনই কত কথা। গল্পে অনেক কিছু সামনে আসা বাকি আছে এখনো। যদি জানার ইচ্ছে থাকে তাহলে পড়তে থাকুন নাহলে আমি জোর করছি না পড়ার জন্য। আপনাদের কমেন্টের ভয়ে গল্প লিখতে ভয় করে এখন। বইয়ের কভার দেখেই সব বিচার করে ফেলেন আপনারা। আবারও বলছি যাদের পড়তে ভালো না লাগে এড়িয়ে যান। পুরো গল্প পড়ার পর আপনারা যা ইচ্ছে বলেন আমি কিছু মনে করবো না কিন্তু শুরুতেই এমন করলে আপনাদের কিছু বলার নাই। তবে এটুকু বলতে পারি সবাইকে আশাহত করবো না ইনশাআল্লাহ। বরাবরই আমি একটু ভিন্নতা পছন্দ করি। গল্পটার নাম খেয়াল করলেই তিতির চরিত্রটা কেনো এমন সেটা বুঝতে পারবেন আর রইলো নায়িকা তিতির কিনা ? সেটা দেখা তো সময়ের অপেক্ষা, নায়িকা কে। ]


#বিষাক্তফুলের_আসক্তি 

লেখনীতেঃ তাহমিনা তমা

পর্ব-০৩ 


ভোর হতে খুব একটা সময় বাকি নেই। ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ আসছে ঘন্টাখানেক ধরে৷ রাগের বশে কী করে ফেলেছে বুঝতেই নিজের মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে তাজের। সে কীভাবে এই মেয়েকে কাছে টেনে নিতে পারলো ? বেডে আধশোয়া হয়ে বসে আছে তাজ। এখন মনে হচ্ছে একটা সিগারেটের খুব দরকার। স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ায় সকল প্রকার নেশাদ্রব্য থেকে বরাবরই দূরে থাকে তাজ। তাই একটা সিগারেটও নেই তার কাছে। গায়ের ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে টাওয়েল জড়িয়ে নিলো কোমরে। বেডে চোখ পড়তেই বিস্ময়ে চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। 


How is this possible? 


বেডের সাদা চাদরে ছোপ ছোপ রক্তের দাগগুলো যেনো বলে দিচ্ছে মেয়েটা ভার্জিন ছিলো। কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব ? মেয়েটা তো প্রেগনেন্ট তাহলে ? মস্তিষ্কে একটু চাপ দিতেই গতরাতের প্রতিটা মুহুর্ত স্পষ্ট হয়ে উঠলো তাজের সামনে। রাগের বশে তখন বুঝতে না পরলেও এখন ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে গেলো, মেয়েটা ভার্জিন ছিলো। তিতিরকে দু'বছর ধরে চেনে তাজ। তার কোনো কালেই বয়ফ্রেন্ড ছিল না, এটাও জানে। 


তাজ মাথা চেপে ধরে বেডে বসে পড়লো, আমি তো ভেবেছিলাম সব মিথ্যে হলেও তিতির প্রেগনেন্ট এটা সত্যি। কিন্তু এখন দেখছি সেটাই সবচেয়ে বড় মিথ্যে। তাহলে রিপোর্টটা কার ? আর তিতির কেনো নিজের নামে এতবড় মিথ্যা বললো। নাহ্ আর ভাবতে পারছি না। 


ওয়াশরুমের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে আছে তিতির। শরীরের খুব কম জায়গায় অক্ষত আছে। পানি স্পর্শে প্রচন্ড জ্বালাপোড়া করছে। 


তিতির নিজের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো, দেখ বোনু তোকে ভালোবাসার পুরষ্কার পেয়েছি আমি। বাবা-মায়ের দেওয়া দ্বায়িত্ব পালনের কত সুন্দর পুরষ্কার মিলেছে আজ। তোকে ভালোবাসার অপরাধে সবার চোখে আজ আমি চরিত্রহীন ঘৃণ্য একজন মানুষ। না স্যারের উপর আমার কোনো অভিযোগ নেই। তার থেকে আমি যা কেড়ে নিয়েছি সে তুলনায় এসব তো কিছুই না। আমি জানি আরো কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে আমার জন্য। কিন্তু তুই চিন্তা করিস না বোনু তোর জন্য আমাকে যতটা স্বার্থপর হতে হয় হবো, যতটা নিচে নামতে হয় নামবো। পৃথিবীর সব মানুষ আমাকে ঘৃণা করুক শুধু তুই ভালোবেসে আপুনি বলে গলা জড়িয়ে ধরলেই হবে, সব ভুলে যাবো আমি। কিন্তু তোর গায়ে ফুলের টোকাও পড়তে দিবো না আমি। তোকে যেদিন ফিরে পাবো সবকিছু থেকে অনেক অনেক দূরে চলে যাবো আমরা। যেখানে আপন মানুষের মুখোশধারী নরপিশাচরা থাকবে না। 


তাজ উঠে ওয়াশরুমের দরজায় আঘাত করে বললো, এই মেয়ে বের হ বলছি। এই মুহুর্তে বের না হলে দরজা ভেঙে ফেলবো। 


তাজের আওয়াজে চমকে উঠলো তিতির। কিন্তু বের হবে কী করে ? তার কাছে তো পড়ার মতো কোনো কাপড় নেই। তাজ সমানে দরজা ধাক্কা দিয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেকোনো সময় দরজা ভেঙে যাবে। তিতির কোনোরকমে টাওয়েল জড়িয়ে দরজা খোলে দিলো। তাজ কোনো দিকে খেয়াল না করে হাত ধরে টেনে বেডের সামনে দাঁড় করিয়ে দিলো। 


রাগী গলায় বললো, তুমি যদি প্রেগনেন্ট হও। তাহলে এসবের মানে কী ? 


ছোপ ছোপ রক্তের দাগগুলো দেখে আবার চোখ ভড়ে এলো তিতিরের, আনমনে বলে উঠলো, পঁচিশ বছরের আগলে রাখা সতীত্বের প্রমাণ। 


কথাটা বারবার কানে বাজতে লাগলো তাজের। এই মেয়ে নিজের মুখে স্বীকার করছে সে প্রেগনেন্ট নয়। 


তাজ রেগে ধমক দিয়ে বললো, What ? 


তাজের ধমকে হুঁশ ফিরলো তিতিরের। আনমনে কী বলে ফেলেছে ভাবতেই চমকে উঠলো। তার তো কিছু বলার অনুমতি নেই। তাকে তো শুধু কাঠের পুতুলের ন্যায় অন্যের ইশারায় নাচতে বলা হয়েছে। তোতাপাখির মতো শেখানো বুলি আওড়াতে বলা হয়েছে। সে কোনো ভুল করলে তার মাশুল যে দিতে হবে অবুঝ প্রাণটাকে। 


রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে তাজের। সবকিছু এলোমেলো লাগছে। কিছু হিসাব মিলে গিয়েও আবার গড়মিল হয়ে যাচ্ছে। ড্রয়ার থেকে প্রেগনেন্সি রিপোর্ট বের করে তিতিরের দিকে ছুঁড়ে দিলো তাজ। 


এসব যদি তোমার সতীত্বের প্রমাণ হয় তাহলে এটা কী ? 


তিতির কিছু না বলে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। কোনো উত্তর না পেয়ে রাগ বেড়ে গেলো তাজের। 


একটু দম নিয়ে বললো, তারমানে এতসব নাটকের মুল উদ্দেশ্য আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেওয়া, আমাকে ধ্বংস করে দেওয়া। এই জন্যই বেছে বেছে বিয়ের দিনটা টার্গেট করেছিস। যাতে মিডিয়ার সাহায্যে সারাদেশের মানুষের সামনে আমাকে খারাপ আর চরিত্রহীন প্রমাণিত করতে পারিস। 


তিতিরের প্রতি তাজের ঘৃণা বেড়ে গেলো কয়েক গুণ। এগিয়ে এসে তিতিরের গাল চেপে ধরলো, কত টাকার বিনিময়ে এসব করেছিস ? এই নাটকের মুল চরিত্র কে বল ? তোর একার পক্ষে এসব করা সম্ভব নয় আর আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে তো তোর কোনো লাভও নেই। বল কে আছে এসবের পিছনে ? আমার ভাবতেই ঘৃণা লাগছে একটা মেয়ে হয়ে টাকার বিনিময়ে নিজের চরিত্র বিক্রি করে দিয়েছিস তুই। 


তিতির তাজের দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে থেকে বললো, টাকা ? 


কিছুটা সময় দম নিয়ে আবার বললো, স্যার আমি তো এই খেলার কেবল একটা গুটি মাত্র। পারলে আসল কালপ্রিটটাকে খোঁজে বার করুন আর আমাকেও মুক্তি দিন। 


তাজ ছেড়ে দিলো তিতিরকে। হনহনিয়ে ওয়াশরুমে ঢোকে ঠাস করে দরজাটা লাগিয়ে দিলো। তার বুঝা হয়ে গেছে মেয়েটা কারো হাতের পুতুল। এর থেকে কিছুই জানা যাবে না। যা করার তাকেই করতে হবে। তাজ চলে যেতেই তিতির বেডে বসে পড়লো ধপ করে। একটা ফোন করা খুব প্রয়োজন কিন্তু তাজ থাকতে সেটা সম্ভব নয়। নিজের দিকে তাকিয়ে খেয়াল হলো এখনো টাওয়েল পড়ে আছে। চেঞ্জ করা প্রয়োজন কিন্তু পড়বেটা কী ? অনেক ভেবে তাজের কাবার্ডের দিকে এগিয়ে গেলো। একপাশে তাজের পোশাক রাখা আর অন্য পাশে কিছু শাড়ি আর ড্রেস। মনে হয় মৌয়ের জন্য ছিলো এগুলো। মৌয়ের কথা ভাবতেই দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে এলো বুক চিঁড়ে। 


বিড়বিড় করে বললো, এতো মানুষের অভিশাপে তুই শেষ হয় যাবি তিতির। আপুটার কী দোষ ছিলো তিতির ? 


মৌয়ের একটা ড্রেস বের করে ওয়াশরুমের দিকে একবার তাকিয়ে রুমেই চেঞ্জ করে নিলো। বড্ড ক্লান্ত লাগছে একটু ঘুমানো প্রয়োজন। কাবার্ড থেকে নতুন চাদর নিয়ে বিছানায় বিছিয়ে নিলো আর আগেরটা ঝুঁড়িতে রেখে দিলো। কিছু না ভেবেই শুয়ে পড়লো বেডে। চোখ বন্ধ করতেই মরিচের মতো জ্বলছে চোখ, অসহ্য ব্যাথা হচ্ছে সারা শরীরে। তবু একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলো। এখনো অনেক কিছু হওয়া বাকি আছে, অনেক কিছুর সম্মুখীন হতে হবে তাকে। অনেকটা সময় শাওয়ার নেওয়ার পর বের হলো তাজ। বের হয়ে তিতিরকে বেডে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে ধপ করে মাথায় আগুন জ্বলে উঠলো। তার জীবন নরক করে শান্তির ঘুম দেওয়া হয়েছে। তাজ চেঞ্জ করে বেডের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে তিতির, যেটা একদমই সহ্য হচ্ছে না তাজের। হাত ধরে টান দিয়ে বসিয়ে ফেললো এক ঝটকায়। কেবল ঘুম লেগেছিলো চোখে, হঠাৎ এমন করায় ধড়ফড়িয়ে উঠে তিতির। 


তাজ দাঁত খিঁচিয়ে বললো, তোর সাহস হলো কী করে আমার বেডে ঘুমানোর ? 


তিতির কিছুটা সময় চুপ করে থেকে বললো, কোথায় ঘুমাবো তাহলে ? 


যেখানে ইচ্ছে ঘুমা আমার বেডে তোর জায়গা হবে না, নাম বলছি। 


তিতির কিছু না বলে উঠে দাঁড়ালো বেড থেকে। আশেপাশে তাকিয়ে সোফা দেখে সেখানে গিয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়লো। তাজ বেডে শুয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো। 


এখন শুধু সকালের অপেক্ষা তার। সকাল হলেই হসপিটালে গিয়ে সব টেস্ট করে সত্যিটা সবার সামনে আনার পালা। বিয়ের আসরে এমন বিশ্রি একটা পরিস্থিতিতে পড়ে চিন্তা শক্তি লোপ পেয়েছিল তার। তখন এটা মাথায় আসলেই এই ঘৃণ্য মেয়েটাকে এতোটা সময় সহ্য করতে হতো না তাকে। কিছুটা সময় এসব চিন্তা করতে লাগলো তাজ। অপর দিকে তিতির ভাবছে শেষ কোথায় এই নাটকের। সে তো অভিনেত্রী নয়, হাঁপিয়ে গেছে এতটুকু সময়েই। 


বোনু কোথায় তুই, কীভাবে খোঁজে পাবো তোকে আমি ? এতগুলো বছর সবার থেকে লুকিয়ে রেখেও শেষ রক্ষা করতে পারলাম না। ঠিক তোর খোঁজ পেয়ে গেলো রাক্ষসগুলো। ছিনিয়ে নিয়ে গেলো আমার থেকে আর আমাকে নামিয়ে দিলো জঘন্য এই খেলায়। খুব কষ্ট হচ্ছে রে বোনু। 


৪.

আপুনি। 


আশেপাশে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টে কান্না করে দিলো ষোল বছরের মেয়েটা। একটা টেডিবিয়ার জড়িয়ে ঘুমিয়ে ছিলো, নিজের আপুনিকে স্বপ্নে দেখেই ঘুম ভেঙে গেছে। কোথায় তার আপুনি ? আপুনি তো তাকে একা ফেলে কোথাও যায় না। মানহা মাহমুদ পাখি, বয়স ষোল হলেও বুদ্ধি আট বছরের বাচ্চার সমান। কারণ মেয়েটা মৃদু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। পরণে তার বেবি পিংক কালার টিশার্ট আর প্লাজু। পুতুলের মতো মেয়েটাকে দেখতেও নিতান্তই বাচ্চা মনে হচ্ছে। পাখি বেড থেকে নেমে এদিক ওদিক তাকিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো। জোরে জোরে দরজা ধাক্কা দিতে লাগলো। 


আপুনি দরজা খোলো না, আমার ভয় লাগে তো। 


কেউ দরজা খুলছে না দেখে কান্না করে দিলো পাখি। তবে দরজা ধাক্কানো বন্ধ করলো না। একসময় বিরক্ত হয়ে দরজা খোলে ঘুম ঘুম চোখে সামনে দাঁড়ালো বছর পঁচিশের একটা ছেলে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে প্রচন্ড বিরক্ত সে। 


এই পাগল ছাগল ঘুমাতে না ঘুমাতেই চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেছিস কেনো ? কেবল একটু ঘুম লেগেছিলো, দিলি নষ্ট করে। 


ভয়ে গুটিয়ে গেলো পাখি। কান্নাও বন্ধ করে দিয়েছে কারণ সামনে দাঁড়ানো মানুষটাকে ভয় পায় সে। 


ছেলেটা রেগে ধমক দিয়ে বললো, কী হলো এখন চুপ করে আছিস কেনো ? বল কেনো চিৎকার করছিলি ? 


পাখি ঠোঁট উল্টে বললো, আপুনি। 


ছেলেটা বিরক্ত গলায় বললো, এই পাগল তো দিনরাত আপুনি আপুনি করে আমার মাথা খেয়ে ফেলছে। ভাইয়া কেনো যে এই পাগল আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে গেছে বুঝতে পারছি না। এই ন্যান্সি, ন্যান্সি। 


ঘুম ঘুম চোখে হন্তদন্ত হয়ে মধ্য বয়সী এক মহিলা এসে হাজির হলো। 


আমেরিকান ইংরেজিতে বললো, কী হয়েছে স্যার ? 


উত্তরে ছেলেটা বললো, এই মেয়েকে সামলান। আমি এখন ঘুমাবো আবার যদি আমাকে বিরক্ত করেছে এর খবর আছে। 


কথাগুলো শেষ করে ছেলেটা পাশের রুমে ঢোকে ঠাস করে দরজা আটকে দিলো। সেই শব্দে কেঁপে উঠলো পাখি। লন্ডনের একটা বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে আছে পাখি। তার আপুনির থেকে হাজার মাইল দূরে। ন্যান্সি নানা কথায় ভুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলো পাখিকে, নিজেও রুমে না গিয়ে পাখির সাথে ঘুমিয়ে পড়লো। 


ছেলেটার আবার ঘুম ভেঙে গেলো ফোনের শব্দে। বিরক্তিতে বাজে গালি দিলো একটা তবে স্কিনে নিজের বড় ভাইয়ের নাম্বার দেখে তাড়াতাড়ি রিসিভ করলো। 


কী করছিস আহান ? 


হ্যাঁ ছেলেটার নাম আহান চৌধুরী। লন্ডনের নামকরা ইউনিভার্সিটিতে ডাক্তারি পড়ছে সে। এখানে সে একাই থাকে। পাখিকে দিয়ে যাওয়ার সময় তার দেখাশোনার জন্য ন্যান্সিকেও রেখে গেছে তার বড় ভাই। 


আহান মনে মনে বললো, আমার ঘুমের বারোটা বাজিয়ে জিজ্ঞেস করছে কী করছি ? 


মুখে বললো, এই তো ঘুমাতে যাচ্ছিলাম। 


অপর পাশ থেকে বললো, পাখির কী অবস্থা ? 


আহান অসহায় গলায় বললো, ভাইয়া এই পাগলকে কোথায় পেয়েছো তুমি ? প্লিজ এটাকে নিয়ে যাও নাহলে আমিও পাগল হয়ে যাবো। সারা দিনরাত আপুনি আপুনি করে আমার মাথায় খায়। 


দেখ আহান তোকে আগেই বলেছি মেয়েটা আমাদের আপন কেউ যদিও ওর পরিচয় এখনই তোকে দিতে পারছি না আমি। আপুনি ওর বড় বোন, যে মারা গেছে কিছুদিন আগে। সেটা পাখি জানে না তাই ওকে সামলে রাখ। সময় হলে আমি ওকে ফিরিয়ে আনবো। তবে মনে রাখিস ওর গায়ে যেনো ফুলের টোকাও না পড়ে। তাহলে আমি ভুলে যাবো তুই আমার ভাই। 


ওকে ভাইয়া, আমার উপর তুমি বিশ্বাস রাখতে পারো। 


নিজের আর পাখির খেয়াল রাখিস। 


ফোন রেখে আহান ঘুমিয়ে পড়লো আর অপর পাশের ব্যাক্তি চেয়ারে মাথা এলিয়ে দিয়ে বিড়বিড় করে বললো, পাখি হচ্ছে এই খেলার প্রাণভোমরা। যতক্ষণ পাখি আমার হাতের মুঠোয়, তিতির ততক্ষণ আমার হাতের পুতুল। তাই প্রাণভোমরা তো আগলে রাখতেই হবে। 


আবার ফোন বেজে উঠলে স্কিনে তিতির নামটা দেখে পৈশাচিক হাসি ফোটে উঠলো লোকটার ঠোঁটের কোণে।


চলবে,,,,


[আপনারা চাইলে গল্পটা বন্ধ করে দিবো সমস্যা নাই। কিন্তু ইনবক্সে এসে আমাকে পাগল, মাথানষ্ট এসব বলার মানে কী ? আপনাকে আমি বাড়ি গিয়ে বলে এসেছি গল্প পড়তে ? ভালো না লাগবে পড়বেন না। নাহলে আপনারাই গল্প বলে দিন আমি লিখি। কিছু বলার ভাষা নাই আমার। একেক জনের রিয়াকশন দেখে মনে হচ্ছে আমাকে টাকা দিয়ে তারপর গল্প পড়ছে। আপনারা এত ভালো জানেন নিজে লিখে নিজেই পড়ে নিন ]

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url