#লুৎফুন্নাহার_আজমীন
#পার্ট৪+শেষ পর্ব
-বাহ নিলয় বাহ!নিজের বোন তোর কাছে কলিজার টুকরা!আর অন্যের বোন!সে তো তোকে হাসানোর,তোর মন ভালো করার পুতুল তাই না?পৃথার সাথে যা করেছিস তা কি আদোও ঠিক করেছিস?কি অপরাধ ছিলো মেয়েটার? ভালোবেসেছিলো তোকে মেয়েটা।অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছে।আর এটাই ওর অপরাধ?ভুলে যাস না নিলয়!রুহের হায় বলতেও একটা কথা আছে।
এক দৃষ্টিতে আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে ছিলো নিলয়।নিজের প্রতিচ্ছবির কল্পনায় বলা কথাগুলো বার বার নিলয়ের কানে বাজছিলো।আসলেই কি সে পৃথার সাথে অন্যায় করছে?করলে করুক!তাতে কি?অনেকেই তো করে।একটু মজা না নিলে কিছুই হয় না।
★
কেটে গেছে প্রায় দেড় বছর।এতদিনে সমাজ ভুলে গেছে পৃথাকে।তারা এখন মেতে আছে অন্য কিছু নিয়ে।পৃথাও সমাজের সাথে যুদ্ধ করে এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।নিলয়কে ভুলে নুহাশকে আগলে ধরে বেঁচে আছে পৃথা।পৃথার অতীত জানার পরও নুহাশ পৃথাকে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছে।সেদিন নুহাশ আর পৃথা এক সাথে শপিং করে ফিরছিলো।পথে নিলয়ের সাথে দেখা।সেই ফুটানি দেখানো নিলয়কে আজ পৃথা দেখে অবাক হয়।উস্ক খুস্ক চুল।চোখে এক রাশ বিষন্নতা যেন নিলয়কে ঘরে ধরেছে।নিলয় পৃথার দিকে এগিয়ে আসে।
-কেমন আছো?
-হুম ভালো।আপনি?
-দেখতেই তো পারছো।আমায় ক্ষমা করে দাও পৃথা।তোমার সাথে করা অন্যায়ের ফল আমার বোনকে পেতে হয়েছে।
-বুঝলাম না।
ফ্ল্যাশব্যাক....
দরজা ভেঙে দেখে নিলয় নুপুরের মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে।গিয়ে বোনকে কোলে তোলে নিলয়।দেখে নুপুরের সমস্ত শরীর বরফের মতো হিমশীতল হয়ে গিয়েছে।নুপুরের পাশে একটা চিরকুট দেখতে পায় নিলয়।চিরকুটটা নিয়ে পড়া শুরু করে,,,
আমি পারলাম না আর সহ্য করতে।সমাজের আমায় বলা কথাগুলো প্রত্যেকটা আমায় তীরের মতো আঘাত করেছে।ভাইয়া তুই ঠিকই বলেছিলি আমি নিজে তো বিপদে পড়বোই সাথে তোদেরও নিয়ে পড়বো।কাল রাতে আবির আমার বাজে ছবি ভাইরাল করেছে।তবে এডিট নয়।আমি আবেগের বশে ওকে অন্ধবিশ্বাস করে যে সব ছবি দিয়েছিলাম আবির সেগুলোই নেটে ভাইরাল করেছে।কোনো এক কারণে আমাদের ঝগড়া হয় তখন আবির এই বাজে কাজ করে।সারারাত ঘুম হয়নি।সকাকে বাবা মা তোর বকা,আর মানুষের বাড়ি বয়ে এসে কথা শুনানো।আর সহ্য করতে পাই নি ভাইয়া।তাই এই সিদ্ধান্ত নিলাম।আর পারলে আমায় ক্ষমা করে দিস।
নিলয়ের কথা শুনে পৃথার অজান্তেই গাল বেয়ে অশ্রু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।স্তব্ধ হয়ে যায় পৃথা।পাশ থেকে নুহাশ বলে,,
-কতদিন আগের ঘটনা?
-মাস দুয়েক।
-বুঝলেন ভাই ইট ছুড়লে পাটকেলটা ঠিকই পেতে হয়।পৃথাও সেদিন আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে যাচ্ছিলো।কিন্তু আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবানিতে পৃথা সে সব কাটিয়ে উঠিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।দোয়া করিয়েন যেন আমি পৃথাকে নিয়ে ভালো থাকতে পারি।
কথাটা বলে নুহাশ পৃথাকে নিয়ে গাড়িতে উঠে।নিলয়ও নিজের গন্তব্যের দিকে হাঁটা লাগায়।গাড়িতে উঠে পৃথা হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে।নুপুরকে নিজের ছোট বোনের মতো দেখেছে পৃথা।সে কখনোই চাইনি নুপুরে সাথে এমনটা হোক।মুর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে বসে আছে পৃথা।চোখের কার্নিশ বেয়ে দুফোটা জল গড়িয়ে বলে।
-জানো নুহাশ আমি না চাইনি নুপুরের সাথে এমন হোক।
-তুমি কি ভাবছো ঐ ঘটনার জন্য তুমি দ্বায়ী।পৃথা রিভেঞ্জ অফ ন্যাচার বলেও একটা কথা আছে।নিলয় তোমার সাথে যেমনটা করেছে।আল্লাহ ওর বোনের সাথে এমনটা করে নিলয়কে তোমার, তোমার পরিবারের সেদিনের পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিয়েছেন।
সমাপ্ত
