#মেঘলা_আহমেদ
|পর্ব-০৪+০৫
-"যদি জানতে চাও আসল খু/নি কে! তাহলে যাকে আজ ধরেছো, তাকে ছেড়ে দাও। আর কান্তার ফরেস্ট এ চলে এসো। এখনি। সাথে সাদমান তায়েব কেও নিয়ে আসবে। সা/বধা/ন! সঙ্গে করে পুলিশ ফো/র্স আনবে না।
মেসেজটা পড়ে ক্ষনকাল স্তব্ধ হয়ে রইল রিঝ। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে চেয়েই রইলো। হঠাৎ করে কুকুরের ডাকে সম্বিত ফিরে পেলো। এরপর পেছনে তাকাতেই সাদকে দেখতে পেলো। রিঝের মাঝে থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। সে সাদকে জিজ্ঞেস করল-
-" এত তাড়াতাড়ি চলে এলে যে?
সাদ ঘাড় ম্যাসাজ করে বলল-
-" ওর সাথে আরেকটু দেখা করব তাই এসেছি। শাফিন ঐ লোকটাকে জিজ্ঞেস করবে সব।
রিঝ থমথমে গলায় বলল-
-" কারো সাথে দেখা করার দরকার নেই। কান্তার ফরেস্ট চলো।
সাদ অবাক হয়ে জানতে চাইল-
-" কেনো? এই রাতে কান্তার ফরেস্ট কেনো যাবো?
রিঝ বিনা বাক্যব্যয়ে সাদের সামনে হোয়াটসঅ্যাপ এর ম্যাসেজটি তুলে ধরলো। সাদ ম্যাসেজটি পরে নিজেও অবাক হলো। ভ্রু কুঁচকে বলল-
-" কি ব্যাপার? খু/নি কি নিজেই ধরা দিতে চাইছে নাকি?
রিঝ মাথা চুলকে বলল-
-" হয়তো কোন ক্লু দিতে চাইছে! এও হতে পারে।
সাদ ফোন বের করে কাকে যেনো কল লাগালো। তারপর রিঝের ফোনে ম্যাসেজ আসা সেই হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার টা নিয়ে বলল-
-" আমাদের দ্রুত এই নাম্বার টার লোকেশন জানান।
কিছুক্ষন পর সেই লোকটি ফোন করে বলে-
-" স্যার এই নাম্বার টি বন্ধ আছে। তবে লাষ্ট লোকেশন কান্তার ফরেস্ট।
সাদ আর রিঝ একে অপরের দিকে তাকায়। সাদ এবার শাফিন কে কল করে। শাফিন ফোন ধরে বলে-
-" হ্যালো স্যার!
-" শাফিন আমি কান্তার ফরেস্ট যাচ্ছি রিঝ কে নিয়ে। তুমি রেডি থেকো কিন্তু যেকোন নির্দেশনার জন্য।
-" আচ্ছা স্যার।
সাদ রিঝ কে বলে-
-" বাইকে উঠ।
রিঝ বিনা বাক্যব্যয়ে বাইকে ওঠে। পেছনে সাদ উঠতেই রিঝ বাইক স্টার্ট দেয়। এরপর রিঝ সাদকে বলে-
-" আমি বুঝতে পারছিনা খু/নি আসলে চাইছে টা কি? তার নিজের ধরা দেয়ার ইচ্ছা থাকলে সরাসরি থানায় আসতে পারে। তা না আমাদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরিয়ে মা/রছে।
সাদ হেসে ফেলে রিঝের কথায়। নিজের চুল ঠিক করতে করতে রিঝকে বলে-
-" আরে তোর এত সোজা লাগছে? আমাদের ওখানে যেতে বলেছে সে নিজে ধরা দেয়ার জন্য? নিশ্চয়ই কোন ব্যাপার আছে।
রিঝ ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে-
-" কি জানি?
এরপর আবারো নিস্তব্ধতা জেঁকে ধরে। রিঝ নীরবতা ভেঙে বলে-
-" চাচ্চু তোর সাথে আমিও বিয়েটা করে ফেলব।
সাদ অবাক হয়ে বলে-
-" মানে?
সাদ ভরকে গেছে ওর কথায়। রিঝ ঠোঁট টিপে হেসে বলে-
-" সামিরা মেয়েটা আজ কি করেছে জানিস?
-" কি করেছে?
-" আমার খাওয়া আইসক্রিম ও নিজেই খেয়েছে।
সাদ অবাক হয়। তারপর হু হা করে হেসে বলে-
-" ওহ গড। তার মানে আমি তোর ফুফাতো শ্বশুর লাগি। সালাম দে এখনি!
-" আসসালামুয়ালাইকুম শ্বশুরাব্বা। আপনি মানেন আর না মানেন আপনার মেয়ে আমার লাগবেই।
রিঝের নাটকীয় কথায় হেসে ফেলে সাদ। সে রিঝের পিঠ চাপড়ে বলে -
-" মেয়েটা কিন্তু অনেক চালাক। দেখেশুনে যা করার করিস।
-" তা একদম সত্যি।
কান্তার ফরেস্ট এর সামনে এসে বাইক থামায় রিঝ। চারদিকে ঘন জঙ্গল। নানা ধরনের আওয়াজ আসছে জঙ্গল থেকে। মনে হচ্ছে অশরীরি প্রেতাত্মা রা ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে। রিঝ ঢোক গিলে বলে-
-" খু/নি কি আর কোন জায়গা পেলো না? শেষমেষ এই ভুতের কারখানায় আনলো।
সাদ ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে বলে-
-" নিশ্চয়ই কোন ব্যাপার আছে তাইনা?
-" হুম চলো ভেতরে যাই।
সাদ আর রিঝ সাবধানে হাঁটছে। একটু অসাবধান হলেই ডালপালার সাথে লেগে চোখ মুখ ছিলে যেতে পারে। সাদ চারদিকে ফ্ল্যাশ ঘুরিয়ে বলে-
-" আচ্ছা আমরা এত বড় জঙ্গলের কোথায় থাকে খুঁজব?
রিঝ কিছুক্ষন ভেবে বলে-
-" আগে সেইখানে চলো যেখানে আমরা ইসহাক খানের লা/শ পেয়েছিলাম। আমার মনে হয় সেখানে খু/নি থাকতে পারে।
-" গ্রেট! এই না হলে আমার ভাতিজা!
দুজনে আবারো সেদিকে এগিয়ে যায়। সেই জায়গাটায় গিয়ে দুজন থামে। চারদিকে ফ্ল্যাশ ঘুরিয়ে দেখতে থাকে। তখনি অত/র্কিত ভাবে তাদের উপর কেউ ঝাঁ/পিয়ে পড়ে। দুজনের হাত থেকে ফোন ছিটকে যায়। লোকটা ছু্ঁ/ড়ি দিয়ে মা/রার চেষ্টা করছে। রিঝের উপর উঠে বসে লোকটা। সাদ দিশেহারা হয়ে যায়। রিঝের সাথে ধ/স্তাধ/স্তি হচ্ছে লোকটার। লোকটার হাত থেকে ছুঁ/ড়ি ফেলে দেয় রিঝ। সে ক্ষিপ্ত হয়ে রিঝের গলা টি/পে ধরে। সাদ রিঝের গোঙানির আওয়াজ পাচ্ছে। তার কলিজা ছিঁ/ড়ে যাচ্ছে। সে ছুঁ/ড়িটা উঠিয়ে আ/ঘাত করে লোকটাকে। এতে সে আরো ক্ষেপে তেড়ে আসে। সাদ ছুঁ/ড়ি ফেলে দেয়। তখনি লোকটা সাদের উপর ঝা/পিয়ে পড়ে। সাদের সাথে ধ/স্তাধ/স্তি হতে থাকে। লোকটা সাদকে গাছের সাথে চে/পে ধরে। রিঝ কাশতে কাশতে উঠে। এরপর ছুঁ/ড়ি নিয়ে লোকটার গলায় টা/ন দেয়। অসার হয়ে লোকটা মাটিতে পড়ে। ছটফট করতে থাকে। রিঝ একবার নিজের হাতের দিকে আরেকবার ছুঁ/ড়ির দিকে তাকায়! সাদ রিঝের হাত থেকে ছুঁ/ড়ি নিয়ে লোকটির বুকে ব/সিয়ে দেয়। ঘটনা এত দ্রুতই ঘটলো যে দুজনেই পাগলপ্রায় হয়ে গেছে। রিঝ সাদকে জড়িয়ে ধরে বলে-
-" এ আমি কি করলাম? নিজের হাতে কাউকে খু/ন করলাম?
সাদ রিঝকে স্বান্তনা দিয়ে বলে-
-" চুপ কিছু হবেনা। আমরা এখান থেকে চলে যাবো। এসব কেউ জানতেও পারবেনা।
রিঝ শান্ত হয়না। আফসোস এর সুরে বলে-
-" চাচ্চু আমি কাউকে খু/ন করেছি। আমি খু/নি। এখন আমার শা/স্তি হবে। তুমি চলে যাও এখান থেকে। তোমার কথা কেউ জানবে না।
সাদ রিঝকে ধরে বলে-
-" রিঝ আমার কথা শোন। কিছু হবেনা। আমাদের কথা কেউ জানতে পারবেনা। আর লোকটা আমাদের মা/রতে চাইছিলো। আমরা নিজেদের বাঁ/চাতে তাকে খু/ন করেছি।
রিঝ লোকটার লা/শের দিকে তাকিয়ে বলে-
-" চাচ্চু আমি এখানে আছি। তুমি যাও। সকালে এসে আমাকে অ্যা/রেস্ট করবে। আমি তোমার কথা কাউকে বলব না প্রমিজ। নিজের ক্যারিয়ার টা আমার জন্য নষ্ট করোনা।
সাদ স্থির চোখে লাশের দিকে তাকায়। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে-
-" ওপাশে একটা খাদ আছে। ওঠ তুই লা/শটা কে সেখানে ফে/লে আসবো আমরা।
রিঝ অনুশোচনার চোখে তাকায় সাদের দিকে। এরপর ধীরে বলে-
-" চাচ্চু আমি অ/পরাধ করেছি। শাস্তি আমি পাবোই। তুই চলে যা।
সাদ বলে-
-" দেখ শাফিন জানে আমি তোকে নিয়ে এখানে এসেছি। তাই তুই ধ/রা পড়লে আমার জীবনটাও শেষ। রিঝ আমার জন্য এটুকু কর না হয়।
রিঝ দ্বিধায় পড়ে গেলো। সাদ ফোনের ফ্ল্যাশ নিয়ে আসে। লোকটার পুরো মুখ র/ক্তে রাঙানো। দেখে চেনা দায়। সাদ নিজেই লোকটাকে টানতে শুরু করে। রিঝ উঠে পড়ে। এখানে সে ধ/রা দিলে সাদের ক্যারিয়ার ও শেষ হয়ে যাবে। অন্তত সাদের জন্য হলেও তার কাজটা করতে হবে। সাদ সমস্ত প্রমান মুছে দিলো। ফিঙ্গারপ্রিন্ট মুছে দিলো লোকটির গা থেকে। এরপর খাদে ফে/লে দিলো লোকটিকে। রিঝ অপ্রভিত চোখে সেদিকে তাকিয়ে রইল। তার মনটা অনুশোচনায় দ/গ্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারা ঘটনার জায়গার গিয়ে র/ক্তমাখা সব পাতা গুলো এক জায়গায় করলো। এরপর মাটিচাপা দিয়ে দিলো। সেই জায়গায় নতুন করে পাতা বিছিয়ে দিলো। যাতে কেউ বুঝতে না পারে। রিঝকে কিছু একটা তাড়া করে বেরাচ্ছে। সে বাইক চালাতে চালাতে সাদকে বলল-
-" চাচ্চু আমার ভীষণ অপরাধবোধ হচ্ছে। আমরা আর কত অপরাধ করব এই আইনের লোক হয়ে।
সাদ চমকে গেলো রিঝের কথায়। মুহূর্তেই পুরোনো কিছু একটা মনে পড়ে গেলো!
___________________
সকালবেলা সাদের ঘুম ভাঙে রিঝের কথায়। রিঝ অনবরত সাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। সাদ অলস ভঙ্গিতে দরজা খুলে বলে-
-" কি হয়েছে? এত চেঁচাচ্ছিস কেনো?
রিজ সাদের হাতে ফোন ধরিয়ে দেয়। সাদ সেখানে তাকাতেই দেখে সাংবাদিক রা লাইভ সম্প্রচার করছে। খাদের মধ্যে ম/রদেহ পাওয়া গিয়েছে! সাদ অবাক হয়ে রিঝের দিকে তাকায়। তখনি থানা থেকে কল আসে। সাদ নিজের ফোন এনে কল রিসিভ করে বলে-
-" স্যার আপনারা দ্রুত থানায় আসুন। নয়ত কান্তার ফরেস্টের পেছনে খাদের কাছে আসুন। আমরা এক্ষুনি সেখানে যাবো!
#চলবে?#কান্তার_পরিহাস
#মেঘলা_আহমেদ
| পর্ব-০৫ |
চারদিকে মিডিয়ার মানুষের হৈ চৈ। পুলিশ মানুষ কে আটকে রাখতে। এক খু/নের সুরাহা না করার আগেই আরেক খু/ন! কে আছে এর পিছনে? কারা করছে এসব? নিশ্চয়ই তারা অনেকজন মিলে করছে এসব। এর পিছনে মূল রহস্য কি? এ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। পুলিশ ফোর্স এখনো কি করছে? যে এসব কেসের সুরাহা মিলছে না? মানুষজন সরিয়ে লা/শের কাছে যায় রিঝ আর সাদ। লা/শের মুখটা দেখতেই আঁতকে ওঠে রিঝ। সে সাদকে দ্রুত সরিয়ে এনে বলে-
-" চাচ্চু এটা তো প্রিতম!
সাদ অবাক হয়ে বলে -
-" কোন প্রিতম?
রিঝ চাপাস্বরে বলে-
-" তুর্য হ/ত্যায় যে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন!
সাদ আঁতকে ওঠে। মুহূর্তেই অতীত মনে পড়ে____
তুর্য নামের একটা ছেলে খু/ন হয়েছিল কিছু বছর আগে। পুরো পুলিশ টিম মিলেও এই কে/সের খুনিকে ধরতে পারেনি। যেখানে কোন প্রমান নেই সেখানে কাকে ধরবে তারা? তখনি আবার সুমি নামের একটা মেয়ের রে/প কেস হয়। একইদিনে রে/পকেস আর খু/নের কেস। সুমির হবু স্বামী প্রতিদিন আসত বিচার চাইতে। এদিকে উপরমহল থেকেও চাপ পড়ছিল। কোন উপায় না পেয়ে পুলিশ কমিশনার বলে-
-" যে মেয়েটা রে/প হয়েছে না? তার হবু স্বামি সিদ্দিক তো প্রতিদিন আসে। তোমরা একটা কাজ করো। কেস ফাইল টা এমনভাবে সাজাও যাতে মনে হয় যে তুর্যই সুমির রে/প করেছিল। আর প্রতি/শো/ধের জন্য সিদ্দিক তুর্যকে খু/না করেছে। এখন নিজের গা বাঁচানোর জন্য উল্টো কেস করেছে। আর দুজন সাক্ষীও সাজিয়ে ফেলো।
তখন রিঝ প্রতিবাদ করে বলেছিল-
-" স্যার আমরা এটা কি করে করতে পারি? আইন মানুষের সুরক্ষার জন্য। এখানে আমরা কেনো অন্য কাউকে ফাঁ/সাবো?
কমিশনার স্যার কড়া গলায় বলে-
-" দেখো রিঝমান, আমরা সবাই কি অবস্থাতে আছি তা তুমি জানো। এই কেস দুটোর সমাধান না করছে পারলে আমাদের সবারই চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে। তুমি কি চাও এই একটা ছেলের জন্য সবার পে*টে লা,থি দিতে? আর আমি যা বলেছি ভেবে চিন্তে বলেছি।
রিঝ তখন দ্বিধা নিয়ে বলেছিল-
-" কিন্তু স্যার! মেয়েটাকে তো দুজন মিলে রে/প করেছে। রিপোর্ট এ তো তাই বলছে!
কমিশনার স্যার দৃষ্টি সরিয়ে বলেছিল-
-" দেখো রিঝ আমি জানি ঐ দুজনের একজন কে। তা জানলে হয়ত এখন মিডিয়ায় আরো বেশি ঝ/ড় উঠবে। ছেলেটার ক্যারিয়ায় গড়ার আগেই ভেঙে যাবে। আর মেডিকেল রিপোর্ট ছিঁড়ে ফেলো। নকল রিপোর্ট বানিয়ে আনো। আর এই কথা যেন বাহিরে না যায় ভুলেও! সবকিছু ঠিকঠাক মত করবে।
সাদ এতক্ষন চুপ থাকলেও এবার আর চুপ রইল না। শান্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল-
-" স্যার আপনি তার নাম বলুন! দুজনের মধ্যে কাকে আপনি চেনেন?
কমিশনার স্যার শীতল দৃষ্টি দিয়ে বলেছিল-
-" বর্তমানে নতুন গায়ক। খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে কদিনেই। মনে হচ্ছে আর কিছু বলার দরকার নেই!
কমিশনার স্যার বেড়িয়ে গিয়েছিল। সাদ অবাক হয়ে বলেছিল-
-" সিঙ্গার ইসহাক খান!
রিঝ তখন কিছুই বলতে পারেনি আর। সাদ নির্বাক ছিল। কারন তাদের কিছুই করার নেই। নতুন জয়েন করেছিল চাকরিতে তখন। তাদের এখন সবার কথা শুনে চলতে হবে। আর ইসহাক খান সমস্ত প্রমাণ ও মুছে দিয়েছিল। কমিশনার স্যারের একমাত্র ভাইয়ের ছেলে সে। তারপর প্রিতম আর ইসহাক নিজেই সাক্ষী দিয়েছিল! যে তুর্য সুমির রে/প করেছে, তাই সিদ্দিক তুর্য কে খু/ন করেছে। এরপর কেস ও ক্লোজ হয়ে গিয়েছিল। তখন চারদিকে পুলিশের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল। যে কতটা বুদ্ধিমান তারা, দুই কেসের সুরাহা করেছে একসাথে!
______________
-" স্যার!
হঠাৎ শাফিনের অতীত থেকে বেরিয়ে আসে সাদ। সাদ চমকে শাফিন কে বলে-
- হ্যা শাফিন বলো।
শাফিন জানতে চায়-
-" স্যার কি ভাবছিলেন? চমকে উঠলেন কেনো?
সাদ নিজেকে ধাতস্থ করে বলে -
-" এই তো ইসহাক খান এর কেস নিয়ে ভাবছিলাম! একটা কেসের উপর আরেকটা।
শাফিন হতাশ হয়ে বলে-
-" বুঝতে পারছিনা কিছুই এসব কেনো হচ্ছে।
সাদ বিড়বিড় করে বলে-
-" হয়ত এবার বুঝে গেছি।
শাফিন সাদের কথা শুনতে না পেয়ে বলে-
-" স্যার কিছু বললেন?
সাদ হকচকিয়ে বলে-
-" কই না তো।
রিঝ তাদের পাশে এসে বলে -
-" লা/শ ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই খু/নিকে বের করে ফেলতে পারব!
শাফিন আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলে-
-" হ্যা অবশ্যই!
_________________
থানায় গিয়ে রিঝ আর সাদ ঐ লোকটাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে যায়। যে লোকটার মানিব্যাগ পেয়েছিল ইসহাক খানের লা/শের পাশে। লোকটার নাম হাসান। রিঝ হাসান কে জিজ্ঞেস করে-
-" আপনি কিছু না কিছু তো জানেন! নয়ত খু/নি কেন আপনার মানিব্যাগ ওখানে ফেলবে? সত্যি করে বলুন।
লোকটি হেসে বলে-
-" আমি খু/ন করিনি। তবে তোমরা একটা কাজ করলে আমি যা জানি তা তোমাদের বলে দেবো।
রিঝ সাদের দিকে তাকায়। সাদ চোখ দিয়ে আশ্বাস দেয়। রিঝ গলা খাঁকারি দিয়ে প্রশ্ন করে-
-" কি কাজ?
লোকটা হেসে বলে -
-" কমিশনার কে খু/ন করতে হবে তোমাদের।
সাদ রেগে গিয়ে বলে-
-" আপনাকে তো এক্ষুনি গু/লি করে উপরে পাঠিয়ে দেবো। আমরা কেনো স্যার কে খু/ন করব?
লোকটি ঘর কাঁপিয়ে হেসে ওঠে। তারপর বলে+
-" যদি কমিশনার কে খু/ন না করো। তাহলে কালকে যে দুই চাচা ভাতিজা মিলে প্রিতম কে খু/ন করেছো সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেবো। তারপর সবাই দেখবে তোমাদের সততা!
মুহূর্তেই বা/জ পড়ল সাদ আর রিঝের মাথায়! সাদ গলায় মিছে জোড় আনার চেষ্টা করে বলল-
-" কে বলেছে এসব ফালতু কথা। আমরা কেনো খু/ন করব?
হাসান নামের লোকটা তখন হেসে বলে-
-" নিজেদের ফোন চেক করো আমার কথা বিশ্বাস না হলে!
রিঝ তখন নিজের ফোন চেক করতেই চেহারার রং পাল্টে যায়! সেই নাম্বার থেকে কালকে তাদের করা খু/নের ভিডিও ক্লিপ পাঠানো হয়েছে! সাদ রিঝের হাত থেকে ফোন নিয়ে দেখে। সাদ হাসানের মাথায় পি/স্তল ঠেকিয়ে বলে-
-" এর পিছনে আসলে কে আছে বল। নয়ত এখনি উপরে পাঠিয়ে দেব!
লোকটি শক্ত গলায় বলে-
-" আমাকে উপরে এমনিও যেতে হবে তোমাদের পাঠানোর প্রয়োজন নেই। এখন বলো তোমরা কাজ করবে কি না?
রিঝ ভাবলেশহীন ভাবে বলল-
-" না আমরা কমিশনার কে কিছু করতে পারব না। আর কোন পাপ করতে রাজি নই আমরা! অনেক পাপ করেছি এই পোশাক পড়ে। আর না!
লোকটি তখন হেসে বলে-
-" বেশ বেশ। তাহলে তোমাদের আদরের প্রেমিকাদের আর বাঁ/চাতে পারলে না বোধহয়!
সাদ পি/স্তল সরিয়ে বলে-
-" মানে? কি বলতে চাইছেন?
তখনি রিঝের ফোনে নোটিফিকেশন টিউন বেজে ওঠে। রিঝের হাত পা কাঁপছে প্রচন্ডভাবে। সে মেসেজ টিউন ওপেন করতেই যা দেখলো তাতে তার মাথা ঘুরে গেলো।সামিরা আর রাইসা কে কেউ বেঁধে রেখেছে। দুজনের অবস্থাই শোচনীয়। দুজনেই কাতরাচ্ছে আর বলছে-
-" আমাদের ছেড়ে দাও। আমাদের ছেড়ে দাও।
সাদ ভিডিও ক্লিপটি দেখে। তার মুখ থেকে কথা বেরোচ্ছে না। সে কি করবে এখন। রিঝ আর সাদ দুজনেই দ্বিধায় পড়ে যায়। একদিকে কাজ অন্যদিকে পরিবার! আগের করা পা/পের শাস্তি এটা। হাসান আফসোস করে বলে-
-" তোমাদের করা পাপের শাস্তি বেচারা মেয়েদুটো পাবে! তাদের জন্য বড্ড মায়া লাগছে আমার!
সাদ রিঝকে বলে-
-" কি করবি এখন?
রিঝ মূর্তির মত তাকিয়েই রইল। হাসান তখন আবারো তাড়া দিয়ে বলে-
-" কি হলো ছেলেরা বলো তোমরা এখন কি করবে?
#চলবে?
