#কান্তার_পরিহাস

#মেঘলা_আহমেদ


| পর্ব-০৬ |


চারদিকে তুমুল ঝড় বইছে। তেমনি ঝড় বইছে সাদ আর রিঝের‌ মনেও। তারা কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না। কমিশনার এখন নিজের বাসায় আছে‌। রিঝ লোকটির কথায় উত্তর দিয়ে বলে-


-" আমরা রাজি না। আপনি যা করার করতে পারেন।


সাদ আঁতকে ওঠে। রিঝকে হতবাক করে দিয়ে বলে-


-" রিঝ আমি আজ আর‌ তোর কথা শুনতে পারলাম না। আমার রাইসার কিছু হয়ে গেলে আমি কি নিয়ে থাকব? তুই থাক আমি গেলাম। 


সাদ দ্রুত পি/স্তল নিয়ে বেড়িয়ে যায়। উদ্দেশ্যে কমিশনার স্যারের বাসা। রিঝ জোড়ে বলে-


-" না‌ চাচ্চু এটা তুমি করতে পারো না। আমরা নিজের স্বার্থের জন্য এই অন্যায় করতে পারিনা। আমরা আইনের লোক। আর আমরা নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য প্রিতম কে মে/রে ছি এখানে আমাদের দোষ নেই।


সাদ ছুটছে বৃষ্টির মধ্যে। তার পিছনে পাগলের মত ছুটছে রিঝ। আর কথাগুলো বলছে। সাদ ধরা গলায় বলল-


-" সবসময় চাকরিকে প্রায়োরিটি দিয়েছি। কিন্তু আমি এবার আমার‌ ভালোবাসার মানুষ কে হারাতে পারবো না। আর তোর কি সামিরার জন্য চিন্তা হচ্ছে না? তুই চাস ও আমাদের পাপের শাস্তি পাক?


রিঝ তবুও বলল-


-" আমরা ওদের বাঁ/চাব। কিন্তু কমিশনার কে খু/ন করে নয়। 


সাদ কমিশনারের বাড়ির সামনে এসে থেমে যায়। চারদিকে বা/জ পড়ার গুরুম গুরুম আওয়াজ। পরিবেশ টাকে বাতাস আরো অশান্ত করে তুলছে। এভাইবেই ঝড় বইছে দুইজনেম মনে। রিঝ থেমে যায়। করুন চোখে সাদের দিকে তাকিয়ে বলে-


-" প্লিজ চাচ্চু তুমি এমন করতে পারোনা। কমিশনার স্যার তোমাকে নিজের সন্তানের‌ মত ভালোবাসে। প্লিজ এমন করো না।


সাদ চিৎকার করে বলে-


-" আমি নিরুপায় আমায় এটা করতেই হবে। রিঝের ফোন ভাইব্রেট করে ওঠে। সে ফোন বের করে দেখে। হোয়াটসঅ্যাপ এ মেসেজ এসেছে-


-" তোমাদের নিজেদের মধ্যে ঝ/গড়া করতে হবেনা। কমিশনাররের বাড়ি একটু পড়েই উ/ড়ে যাবে।


রিঝ ম্যাসেজটা পড়ে হতভম্ব হয়ে যায়। সাদকে ধরে সরিয়ে আনতে চায়। কিন্তু সাদ বাড়ির মধ্যে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে গেছে। সে ধমকের সুরে বলল-


-" রিঝ ছাড় আমায়।


তখনি বিকট শব্দ হয় সামনের বাড়িটায়। বৃষ্টির মধ্যে এ যেনো কোন অশরীরির কান্না। সাদ আর রিঝ ছিটকে একে অপরের থেকে সরে যায়। সাদ থেমে যায়। নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে সামনের বাড়িটার দিকে। চোখটা ঝাপসা হয়ে আসছে। বৃষ্টির পানির সাথে চোখের পানি মিলেমিশে একাকার। জীবনের কোন পর্যায়ে আছে তারা? কোন পাপের এতবড় সা/জা পাচ্ছে। তখনি ফোনে আবারো নোটিফিকেশন আসে। রিঝের আর ইচ্ছে হচ্ছে না ফোনটা চেক করতে। একের পর এক তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্য সে স্তব্ধ হয়ে আছে। সাদ হঠাৎ পাগলের মত হেসে উঠল। তারপর আবারো ঝরঝর করে কেঁদে দিল‌। রিঝকে ধরে বলল-


-" আমাকে স্যু/ট কর। আমার মাথার খু/লি/টা উ ড়িয়ে দে। আমি আর পারছিনা। আর না।


রিঝ কাপা হাতে ফোন থেকে করে। সেখানে কল এসেছে। তাও পরিচিত নাম্বার থেকে। হ্যা এটা শাফিনের নাম্বার। রিঝ দ্রুত কল রিসিভ করে। কিন্তু ওপাশ থেকে শাফিনের তীব্র হাসির ঝংকার ভেসে আসে‌। রিঝ নিজেকে শক্ত করে ধমকে বলে-


-" কি হচ্ছে শাফিন? তুমি এভাবে পাগলের মত হাসছো কেনো?


শাফিন হাসতে হাসতে বলে-


-" ফেসবুক চেক করেছেন স্যার? আপনাদের নিয়ে এ কি দেখছি? আইনের লোক হয়ে নিজের হাতে খু/ ন করেছেন? 


রিঝ চমকে উঠল। দ্রুত ফেসবুক থেকে করে দেখলো। তাদের খু ন করার ভিডিও পুরো ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে। লোকজনের তিক্ততাপূর্ণ কমেন্ট তার আর সহ্য হলোনা। সে শাফিন কে বলল-


-" হ্যালো শাফিন!


শাফিন হেসে উত্তর দিল-


-" বলুন স্যার।


-" এসব তুমি করেছো?


রিঝ মনে প্রাণে চাইছে শাফিন না বলুক। এসবের সাথে শাফিন জড়িত না থাকুক। শাফিন কে সে ছোট ভাইয়ের মত ভালোবাসে। ছেলেটার বুদ্ধিমত্তা প্রখড়! রিঝের কথায় শাফিন যেন মজা পেলো। বেশ আফসোস করে বলল-


-" সেটা এতদিনে বুঝলেন স্যার? আহারে আমার আফসোস হচ্ছে! আপনি একজন গোয়েন্দা হয়েও বুঝতে পারলেন না এসব!


রিঝ চোখ বন্ধ করে ফেলল। ফোন লাউড স্পিকার এ থাকায় সাদ ও সব শুনতে পেয়েছে। সাদ রিঝের থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে বলল-


-" শাফিন তুই এটা কি করে করলি! আর এসব তুই কেন করলি? 


শাফিন এবার চোয়াল শক্ত করে বলল-


-" তোরা কান্তার ফরেস্ট এ আয় জানতে হলে। তোদের জন্য অপেক্ষা করছি। তোদের দুই প্রেমিকার কি যে অবস্থা হয়েছে।


সাদ রেগে বলল-


-" কু**রবাচ্চা...


তার আগেই ফোন কেটে দিলো ওপাশ থেকে। রিঝ উঠে দাঁড়িয়ে বলল-


-" চলো কান্তার ফরেস্ট এ। জেনে আসি আমাদের জীবনের এমন বিপর্যয়ের কারন। আর শাফিন কেন এমন করল তা।


সাদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। না জানি আর কপালে কি আছে!


_________


ঝড় কিছুটা কমে এসেছে। তবে এখনো চলছে তুমুল বেগে বৃষ্টি। সাদ আর‌ রিঝ জঙ্গলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁরা একপা দুপা করে এগোচ্ছে আর নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। একটু পর‌ তারা থেমে যায়। যেখানে সিঙ্গার ইসহাকের লা/শ পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে বসে আছে একজন ছেলে। চিনতে সমস্যা হলো না। শাফিন ঘুরে বলল-


-" আরে স্যার চলে এসেছেন দেখছি! তা কেমন ফিল হচ্ছে?


সাদ চিৎকার করে বলে-


-" তুই! তোকে আমি খু ন করে ফেলবো!‌ তুই আমাদের সাথে এই গেম কেনো খেলেছিস? একটাবার লজ্জা করলো না কাপুরুষের মতো পেছন থেকে ছুঁ/ড়ি মা/রতে? 


শাফিন হেসে ওঠে উচ্চস্বরে। তার পড়ে ইউনিফর্ম। শাফিনের হাতে পি/স্তল। সে পি/স্তল দিয়ে কপাল ঘষে বলে-


-" কাপুরুষ আমি না‌ তোরা পুলিশেরা?


রিঝ সাদ কে ধরে রেখেছে। সাদ ফোস ফোস করছে। রিঝ রেগে জিজ্ঞেস করে-


-" কি বলছো এসব?


শাফিন তখন বলে-


-" কি করোনি? কয়েকবছর আগের কথা, তোমাদের মনে আছে সুমির কথা? সুমি প্রাণবন্ত হাসিখুশি একটা মেয়ে ছিলো। তার ভালোবাসার মানুষটির সাথে তার বিয়ে ছিল কদিন বাদেই। কিন্তু তার উপর নজর পড়ল ইসহাক খানের! ভেঙ্গে গেলো মেয়েটার স্বপ্ন কাঁচের মতো করে। সুমিকে প্রথম টাকা অফার করে ইসহাক খান। এতে সুমি রেগে বলেছিল- "আমাকে কি তোর পতি/তা মনে হয়?" ব্যাস! এটাই কি ছিল তার দোষ? ঐ ইসহাক খান প/শুটা তু/লে নিয়ে গেলো সুমিকে। কোথায় জানো? আমি যেখানটায় দাঁড়িয়ে আছি ঠিক সেখানটায়। অমা/নুষের মত নি/র্যা/তন করলো মেয়েটাকে। মেয়েটা তার পা ধরে ক্ষমা চেয়েছিল‌। কেঁদে কেঁদে নিজের সম্মান ভিক্ষা চাইছিল। কিন্তু সেদিন এ ইসহাক খানের মনে এতটুকুও দয়া জাগেনি! সে নিজের চা/হিদা মিটিয়ে এই ঘন জঙ্গলে ফেলে গিয়েছিল মেয়েটিকে। তারপর কি হলো জানো? মেয়েটা কোনমতে উঠে দাঁড়িয়ে রাস্তায় যায়। সাহায্য চায় তুর্য নামের আরেক জা/নোয়া/রের কাছে। সেই জা/নো/য়ার টাও একি কাজ করল! মেয়েটাকে আবারো অত্যাচারিত হতে হলো! কিন্তু তখন আমি আর সুমির হবু স্বামী সিদ্দিক সুমিকে খুঁজতে খুঁজতে এদিকে চলে এসেছিলাম। এসে দেখলাম সে পড়ে আছে। র/ক্তা/ক্ত শরীর নিয়ে। আর ঐ তুর্য জা/নোয়া/রের বাচ্চা গাড়ি নিয়ে চলে যাচ্ছিল। আমি তখন ওর গাড়ির পিছু করতে থাকি সাইকেল নিয়ে। ওর বাসায় গিয়ে ওকে রাতে আমি নিজেই খু/ন করেছি! আর সিদ্দিক ভাইয়ার জন্য সুমি মনে শক্তি পেয়েছিল। তারপর যখন কেস করা হলো। তখন তুর্যর খু/নের ও কেস হয়। কিন্তু আপনারা পুলিশ টিম কি করলেন? না করলেন সুষ্ঠু তদন্ত, না বের করলেন আসল রে/পিস্ট কে। কমিশনারের কথায় ফাঁ/সিয়ে ছিলেন সিদ্দিক কে! যে মেয়েটাকে আশা ভরসা দিয়েছিল সিদ্দিক তার কেসেই যখন তার ভালোবাসার মানুষটি জে/লে গেলো। তার সামনে যখন সবাই সিদ্দিক কে খু/নি খুনি বলল তখন কোথায় ছিলেন আপনারা? আপনাদের কাজ কি দেশের মানুষ কে রক্ষা করা। অ/পরাধী খুঁজে না পেলে নিরিহ মানুষের গায়ে দোষ চাপিয়ে দেয়া নয়! আপনারা এমন ঘৃণিত কাজ কি করে করলেন? সুমি সব হারিয়ে তখন কি করেছিল জানেন? এই গাছটার সাথে গলায় ফাঁ/স দিয়েছিল! ঐদিন আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আমি ইসহাক খানকে এই গাছে ঝুলিয়ে মা/রব। আর কমিশনার স্যার আর তার সাথে উপ/যুক্ত সকলকে শাস্তি দেবো। আপনাদের চাকরি তখন নতুন ছিল তাই আপনারা কমিশনারের কথায় কাজ করেছেন। কিন্তু একবারো মনে হয়নি কাজটা কি ঠিক? কেন করলেন এমন? দুটো নিরপরাধ মানুষ আপনাদের জন্য আজ পৃথিবীতে নেই। আপনাদের আইনের এই কালো দিক সম্পর্কে কেন মানুষ জানেনা কেনো? মা মরা মেয়েটার বাঁ/চার অবলম্বন কেড়ে নিয়েছিলেন আপনারা! আপনাদের জন্য আজ সুমিকে হারিয়েছি।


শাফিন কান্নায় ভেঙে পড়ে। সাদ আর রিঝের চোখের কোনে ও পানি। বৃষ্টির পানির সাথে তা মিলেমিশে একাকার। আকাশে আবারো তুমুল বেগে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শাফিনের সাথে আজ প্রকৃতির ও শোকের দিন। রিঝ আর সাদ শাফিন কে সুধাল-


-" তুমি সুমির কি হও? তোমার সাথে এসবের কি যোগাযোগ? কেনই বা তুর্যকে খু/ন করলে? আ/ইন কেন নিজের হাতে নিলে? আর এতবছর কেন ইসহাক কে বা/চিয়ে রেখেছিলে?


শাফিন দুর্বল হেসে বলে-


-' সুমি আমার বোন। সে আমাকে ছোটবেলা থেকে মায়ের আদর দিয়ে বড় করেছে। আমার মা তো আমিকে জন্ম দিয়েই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। আর আপনাদের জন্য আমার মায়ের মত বোনটাও হাজারো কষ্ট বুকে নিয়ে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। আমার বোনকে যে কষ্ট দিয়েছে তাকে কি করে পৃথিবীতে রাখি? আর ইসহাক কে এতবছর বাঁ/চিয়ে রেখেছি কেন জানেন? আমার বোনের সামনে যেমন তার ভালোবাসার মানুষ কে সবাই খু/নি বলেছে। যে কষ্ট সে পেয়েছে। সেই কষ্ট আমি আপনাদের ও দিতে চাই। যখন সন্ধান পেয়েছি আপনাদের ভালোবাসার মানুষের তখনি ইসহাক খান কে খু/ন করিয়েছি। আর এখন আপনাদের ভালোবাসার মানুষের সামনে আপনাদের ও খু/নি বলবে সবাই। তখন তাদের চোখের কান্না দেখব আমি। দেখবেন ভালোবাসার মানুষের সামনে কেমন লাগে তখন। যখন বিনা অপরাধে অপরাধী হতে হয়। আপনাদের খু/নের ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। আর এতক্ষন যা বলেছি তাও লাইভে সবাই দেখছে। এতক্ষনে পুলিশ চলে আসার কথা। আমার কাজ শেষ। এখন আমিও সুমি আপু আর সিদ্দিক ভাইয়ার কাছে চলে যাবো।


সাদ গ/র্জে উঠে বলে-


-" তুমি কোথায় রেখেছো রাইসা আর সামিরা কে? বলো ওরা কোথায়?


শাফিন হাসে। বড়ই কষ্ট সে হাসিতে। তারপর ধীর গলায় বলে-


-" তারা এখন হয়ত নিজেদের ধর্ষ/ণের অভিযোগ লেখাতে থানায় গিয়েছে। আর থানার পুলিশরা আপনাদের ধরার জন্য এখানে আসছে। তার পিছনে বোধহয় তারাও আসছে।


সাদ আর রিঝ গর্জে ওঠে। এতক্ষন যা শুনেছে সহ্য করা গেলেও এখন আর সহ্য করা সম্ভব নয়। তারা কত বড় ভুল করেছে। যার মাশুল তাদের এখন দিতে হচ্ছে। সাথে নিষ্পাপ মেয়ে দুটোর সম্মান ও দিতে হয়েছে। দুজনেই শাফিনের দিকে এগিয়ে যায়। তখনি পেছন থেকে গু/লির আওয়াজ আসে। 


-" ডোন্ট মুভ!


সাদ আর রিঝ থেমে যায়। পেছনে তাকায় তারা। পুলো পুলিশ ফোর্স চলে এসেছে। সাথে রাইসা আর সামিরা কেও দেখা যাচ্ছে। তাদের জামাকাপড় জায়গায় জায়গায় ছেঁ/ড়া। চুলগুলো এলোমেলো। শরীরের দৃশ্যমান জায়গাগুলো তে শত শত দাগ। এ দৃশ্য সহ্য করা যাচ্ছেনা। তখন একজন কনস্টেবল বলে ওঠে-


-" তোমরা খু/ন করেছো। এখন আত্মস/মর্পণ করো। আইন নিজের হাতে নিও না আর। শাফিন তুমিও আত্মস/মর্পণ করো।


রাইসা আর সামিরা দুজনেই কাঁদছে। রিঝ সেদিকে তাকায়। হ্যা তাদের ও খু/নি বলা হচ্ছে তাদের ভালোবাসার সামনে। ম/রে যেতে ইচ্ছা করছে এখন। সিদ্দিকের কেমন লেগেছিল?‌ এখন তারা আর ভালোবাসার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেনা। তবে কি সামিরা আর রাইসা ও আত্ম/হ/ত্যা করবে?‌ সাদ রাইসার দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। এগুলো দেখে শাফিন হেসে বলে-


-" আমার সব কাজ শেষ। সুমি আপু আমি সবাইকে শা/স্তি দিয়েছি। আমি তাদের বুঝিয়েছি তোমার জায়গাটা। সিদ্দিক ভাইয়া তুমি আর কষ্ট পেও না। আমি আসছি। আমি আসছি।


শাফিন দৌড়াতে শুরু করে বনের মধ্যে। সবাই আচমকা অবাক হয়ে যায়। তার পিছে সাদ রিঝ আর অন্য সবাই দৌড়াতে থাকে। শাফিন খাদের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। নিচের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে-


-" এখান থেকে কি আমি সুমি আপুর কাছে পৌঁছাতে পারব?


পেছন থেকে সাদা আর পুলিশ বলে ওঠে-


-" শাফিন নিজেকে পুলিশের হাতে তুলে দাও। 


শাফিন সবার দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। হেসে বলে-


-" আমার কাজ শেষ।


পকেট থেকে পিস্ত/ল বের করে বলে-


-" কেউ এগোবে না।


তারপর নিজের মাথায় শ্যু/ট করে দেয়। খা/দে পড়ে যায় সেখান থেকে। সবাই ছুটে যায় সেখানে। শাফিনের দেহ খাদে প/ড়ে গেছে। সাদ আর রিঝ তাকিয়ে থাকে। তাদের একটা ভুলের জন্য তিন তিনটা জীবন নষ্ট হয়ে গেছে। অকালেই ঝরে গেছে। অনু/শোচ/নায় দগ্ধ হয়ে যাচ্ছে তারা। তখন পুশিল সাদ আর রিঝ কে ধরে বলে-


-" তোমরা আইনের লোক হয়ে এমন করবে সত্যি অভাবনীয়। কমিশনার স্যার যদি ঐদিন ইসহাক কে না বাঁ/চাতে যেত তাহলে এত কিছু হতো না। আজ সুমি বেঁচে থাকত। তার সুখের সংসার হতো। শাফিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যত হতো। নিজেরাও ভালো থাকতে। দেখো তোমাদের জন্য এই মেয়ে দুটোর কি অবস্থা। তারা কি পাপ করেছিল? তোমাদের ভালোবাসা কি তাদের পাপ ছিলো? তোমাদের জন্য কতগুলো জীবন নষ্ট হয়ে গেছে তা ধারনার বাইরে। খু/নি তোমরা খু/নি। একজনের নও কয়েকজনের।‌ আজ থেকে মেয়েদুটোও জীবন্ত লাশ হয়ে থাকবে তোমাদের জন্য। সমাজ তাদের ধ/র্ষিতা বলে গা/লি দেবে। 


সাদ আর রিঝ নির্বাক হয়ে আছে। কি বলবে? আদৌও কিছু বলার আছে? এই বৃষ্টিতে কি তাদের অতীত টা মুছে যেতে পারেনা? পারেনা তাদের প্রেয়শীদের জীবনের দাগ মুছে যেতে? না এই বৃষ্টি কিছুই পারেনা। শুধুমাত্র একটা ভুল পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অনেক কিছু পাল্টে দিতে পারে। ল/ন্ডভ/ন্ড করে দিতে পারে পুরো জীবন। সাদ আর রিঝ কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নির্বাক সামিরা আর‌ রাইসা তাকিয়ে রইল দুই খু/নির দিকে। তাদের কেও এরা খু/ন করেছে। আদৌও তাদের বেঁ/চে থাকার মানে আছে?‌ সমাজের কাছেও তারা ধ/র্ষিতা। আহারে ভালোবাসা। মানুষ কে ভালোবেসে কত কষ্ট পেতে হয়। সাদ আর রিঝ বলল-


-" জীবনের প্রতিটা কদম ভেবেচিন্তে ফেলবে। প্রতিটা কাজ বুঝেশুনে করবে। কারন অতীতের একটা ঢিল ছুড়ে মা/রাও, ভবিষ্যতে ঘুর্ণি/ঝড়ের কারন হয়ে দাঁড়াবে।


#সমাপ্ত


(আসসালামুয়ালাইকুম গল্পটা শেষ করে দিলাম। ঠিকমত সাজাতে পেরেছি কি না জানিনা। গল্পটা কাল্পনিক ছিল। তবে আমি এটুকুই বোঝাতে চেয়েছি যে ছোট কোন ভুলের জন্যেও বড় বড় মাশুল দিতে হয়। একজন পাপী কে বাঁচাতে গেলে হাজারো ভালো মানুষ কে শাস্তি পেতে হয়। আপনাদের কেমন লেগেছে জানাবেন। ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন। )

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url