#কান্তার_পরিহাস
#মেঘলা_আহমেদ
| ২য়+৩য় পর্ব |
ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে বিকট শব্দে সাদের ফোন বেজে ওঠে। উপসস্থিত সবাই রিঝের দিক তাকিয়ে ছিল। রিঝ সাদের ভাইপো হয়। সাদ ফোন নিয়ে উঠে সাইডে গিয়ে কল রিসিভ করে। তখনি তার বন্ধু তৌফিক ভয়ার্ত গলায় বলে-
-" সাদ তুই কোথায়? এখানে জঙ্গলে একটা লা/শ ঝু/লে আছে।
সাদ অবাক হয়ে যায়! একেতো বিখ্যাত গায়ক ইসহাক খান নিখোঁজ। যে কেসের সুরাহা তারা করতে পারেনি। এ নিয়ে মিডিয়া প্রতিদিন রম/রমা নিউজ বানাচ্ছে। এখন আবার জঙ্গলে লা/শ! সাদ সতর্ক কন্ঠে বলে-
-" কোন জঙ্গল? লোকেশন দে। আমি পুলিশ ফোর্স নিয়ে আসছি।
তৌফিক কাঁপা গলায় বলল-
-" কান্তার ফরেস্ট!
ব্যাস, এবার সাদ পুরোপুরি হতবাক হয়ে যায়। কান্তার জঙ্গলে কারো লা/শ ঝু/লে আছে! ব্যাপারটা সহজ কথা নয়। কারন ঐ জঙ্গলে মানুষের আনাগোনা নেই বললেই চলে! সাদ ফোন রেখে থানায় কল করে। এসআই কে পুলিশ ফোর্স আর ফ/রেনসিক ডিপার্টমেন্ট কে নিয়ে কান্তার জঙ্গলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। সাদ কে চিন্তিত দেখে রিঝ জিজ্ঞেস করে-
-" কি হয়েছে? চাচ্চু, কে ফোন করেছে?
সাদ একবার উপস্থিত সবার দিকে তাকায়। এরপর রিঝ কে বলে-
-" রিঝ, কান্তার ফরেস্ট এ একটা লা/শ ঝুল/ন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। আমার সেখানে যেতে হবে।
সাদ এগিয়ে আসে। এরপর সবার উদ্দেশ্যে বলে-
-" দেখুন এখন আপনাদের যা কথা বলার মা আর আপুর সাথেই বলুন। আমার জ/রুরিভিত্তিতে সেখানে যেতে হবে। মা আসছি। আসি আল্লাহ হাফেজ।
সাদ রিঝের থেকে বাইকের চাবি নিয়ে দ্রুত বেড়িয়ে যায় সেখান থেকে। রিঝ বাইক নিয়ে এসেছিল। সাদ রিঝের বাইকে করে বাড়ির দিকে ছোটে। সেখান থেকে ইউনিফর্ম পড়ে সোজা গন্তব্যস্থলে যাবে।
________
এসআই শাফিন পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘি/রে ফেলে কান্তার জঙ্গল। তার একটু পরেই সাদ এসে পৌঁছায় সেখানে। সে বাইক থেকে নামতেই মিডিয়ার লোক তাদের কে ঘিরে ধরে। সাদ কোনরকমে মিডিয়ার লোকদের সামাল দিয়ে শাফিনের কাছে যায়। শাফিন সাদ কে চারজন ছেলেমেয়েদের দেখিয়ে বলে -
-" এরাই লা/শটিকে ঝু/লন্ত অবস্থায় দেখেছে।
সাদ তৌফিক কে জিজ্ঞেস করে-
-" কি হয়েছিল পুরো ঘটনাটা বল তো।
আহিল এগিয়ে আসে। তৌফিক কে থামিয়ে বলে-
-" আমি বলছি।
একটুআগে...
বিকেলের মিষ্টি আলোতে ঝলমলে ছিল চারপাশ। আহিল ও তার কিছু বন্ধুবান্ধব মিলে কান্তার (ছদ্মনাম) জঙ্গলে ঘুরতে এসেছে। তারা সবাই এডভেঞ্চার প্রেমি। এ জঙ্গল নিয়ে নানারকম কু/ৎসা রয়েছে। বিভিন্ন ভুতুড়ে আজগুবি কাহিনীও বানিয়েছে মানুষ। তবে এসব আহিলদের আটকাতে পারেনি। তারা পণ করেছে এই জঙ্গল তারা ক্যাম্পিং করবেই। জঙ্গল টা বেশ বড়। ভেতরে আরো গভীর। তারা বেশি ভেতরে যাবে না আজকে আর। তাই সম্মুখেই তাবু টানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুকনো ডালপালা জোগাড় করতে গেল আহিল। অন্যরা তাবু টানানোর কাজ করছে। হাঁটার পথে একটা মানিব্যাগ দেখে থেমে গেল সে। এই জঙ্গলে কে মানিব্যাগ ফেলে যাবে? তবে মানিব্যাগ টা খুলতেই একজন পুরুষের ছবি ভেসে উঠলো, তাতে আরেক দফা অবাক হলো আহিল। আহিল কে দাঁড়িয়ে পড়তে দেখে তার বান্ধবী ইশা দৌড়ে আসে। পেছনে দাঁড়িয়ে বলে-
-" কি রে, দাঁড়িয়ে পড়লি কেনো?
আহিলের হুস ফিরে ইশার কথায়। সে মানিব্যাগের ছবিটা ইশাকে দেখিয়ে বলে-
-" এই লোকটাকে চিনিস?
ইশা ছবিটার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। এরপর আহিলের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে বলে-
-" আরে হ্যা! এটা তো আমার শ্বশুর হয়। চিনব না কেনো? শা/লা গর্দ/ভ! এই লোককে আমি চিনব কি করে? আর তোর মানিব্যাগে ওনার ছবিই কেনো?
আহিল উত্তেজিত হয়ে বলল-
-" গা/ধি এটা আমার মানিব্যাগ না। এটা এখানে পড়ে পেয়েছি!
ইশার চোখ তাৎক্ষণিকভাবে বড় বড় হয়ে গেলো। সে তাদের সাথের সবাইকে ডাকলো। এরপর তাড়াহুড়ো করে বলল-
-" এই সবাই শোন! এখানে আমরা এই মানিব্যাগ টা পড়ে পেয়েছি। আমার মনে হচ্ছে এই মানিব্যাগ এর মালিক আশেপাশেই আছে। চল আমরা একটু খোঁ/জাখুঁজি করে দেখি।
টিমের সবাই সায় দিলো ইশার কথায়। তারা দুজন দুজন করে দুটি ভাগে ভাগ হয়ে গেল চারজন। এরপর খুঁজতে শুরু করলো। আহিল আর তৌফিক একসাথে খুঁজছে। তখনি তাদের টিমমেট মাহিয়া আর ইশা চিৎকার করে উঠল। দুইজন তাদের কাছে ছুটলো তখন। মাহিয়া নিজের হাত সবার সামনে দেখিয়ে বলে-
-" র-র-র/ক্ত! আমার মাথায় র/ক্ত কোথা থেকে পড়লো?
তাঁরা সবাই উপরে তাকাতেই আঁতকে ওঠে! সেখানে সর্টপ্যান্ট পড়া এক ব্যক্তির দে/হ ঝুলছে। একটি গাছের সাথে। তার সারা শরীর র/ক্তে র/ঞ্জিত! মুহূর্তেই হতবাক হয়ে যায় সবাই। লোকটার মুখ কালো কাপড়ে বাঁ/ধা। ওদের দলের তৌফিক দ্রুত পুলিশকে কল করে।
________
আহিলের কথা শুনে সাদের মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিলো। সে মানিব্যাগের ছবিটা দেখলো। এই লোককে আগে দেখেছে বলে মনে হয়না তার। শাফিন তাকে দেখে বলল-
-" স্যার আমরা চারটা নাগাদ খবর পেয়েছি। লাশ এখনো নামানো হয়নি। লাশ আইডেন্টিফাই করতে হবে।
তখন ফরেনসিক বিভাগের একজন এসে বলে-
-" স্যার। আমরা আশেপাশে খুঁজে একটা লেডিস ওয়াচ, একটা ইনহেলার, একটা চশমা আর চারজনের ফিগ্রারপ্রিন্ট পেয়েছি এগুলো তে। বাকি ডিটেইলস ল্যাবে গিয়ে টেস্ট করলে জানা জানে।
তখন মিডিয়ার লোক আবার ঘিরে ধরে সাদ কে। একটা মেয়ে সাদকে জিজ্ঞেস করে-
-" স্যার আপনার কি মনে হচ্ছে? এই গভীর জঙ্গলে এরকম একজন কি করে খু/ন হতে পারে?
সাদ তাকে বলে-
-" দেখুন লোকটির পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তবে আমরা ধারনা করছি খু/নটা শ/ত্রুতার জন্য ও করা হতে পারে। নয়ত অন্য কোন কারন আছে। আপাতত এর বেশি বলতে পারছিনা।
এরপর গাছ থেকে ঝু/লন্ত দেহটি নামানো হয়। মুখ থেকে কালো কাপড় সরাতেই সবাই অবাক হয়ে যায়। আহিলদের টিমমেট রা চিৎকার করে বলে-
-" স্যার এটা তো সিঙ্গার ইসহাকের ব/ডি!
ব্যাস এবার পরিবেশ আরো উত্তপ্ত হয়ে গেলো। সবার মাঝেই ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। দুইদিন ধরে মিসিং হওয়া মানুষটির লা/শ এই নির্জন জঙ্গলে পাওয়া গিয়েছে। শাফিন সাদ কে বলে-
-" স্যার আমার মনে হচ্ছে এই লোকটাই খু/ন করেছে। সিঙ্গার ইসহাকের।
সাদ কিছুক্ষন নিজমনে চিন্তা করলো। এই লোকের নিশ্চয়ই কোন কানেকশন আছে খু/নে সাথে। তবে এখন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের উপর যে ভীষণ চাপ পড়বে এটাও বোঝা হয়ে গেছে সাদের। সাদ মিডিয়ার লোকদের বলে-
-" লা/শটি সিঙ্গার ইসহাক খানের। ফরেনসিক রিপোর্ট এলে বাকি তথ্য জানা যাবে।
বডিটি হসপিটালে পাঠানো হয়। সাদ ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরে যায়। এরপর ফরেনসিক রিপোর্ট এলে আবার হসপিটালে যেতে হবে।
_____
রাতে সাদ নিজের রুমে বসে বসে চিন্তা করছে। তখন রিঝ দরজায় উঁকি দিয়ে বলে-
-" আসব কি?
সাদ চোখ তুলে রিঝকে দেখে বলে-
-" আয়।
রিঝ আর সাদ দুই বছরের বড় ছোট। সাদ বড় রিঝ ছোট। তাদের সম্পর্কটা চাচা ভাতিজা কম বন্ধু বেশি। রিঝের দাদার ছোট ভাইয়ের ছেলে সাদ। সাদের বাবা মা খুব ছোটবেলায় মা/রা গিয়েছে। তখন থেকেই চাচার কাছে বড় হয়েছে সাদ। সাদের চাচাও নিজের ছেলের মতই বড় করেছে তাকে। সবাই জানে রিঝের আপন চাচা সাদ। এ নিয়ে অনেকে তামাশাও করে চাচা ভাতিজা এক বয়সী। তবে তারা তা গায়ে মাখেনা। রিঝ গিয়ে সাদের পাশে বসে। তার চিন্তিত মুখ দেখে বলে-
-" চাচ্চু এখন তো অনেক সমস্যা হয়ে যাবে তোর। একদিকে আমার হবু চাচি রাগ করে আছে। কোথায় তার রাগ ভাঙাবি তা না করে এই সিঙ্গারের কেস নিয়ে দৌড়াতে হবে।
সাদ নিজেও হতাশ হয়ে বলে-
-" সবই আমার কপাল রে। তবে তোর দিনকাল কেমন চলছে?
রিঝ হেসে বলে-
-" সিঙ্গেল আছি। আই মিন শান্তিতেই দিনকাল কাটছে।
সাদ শব্দ করে হেসে দেয় রিঝের কথায়। রিঝ সবসময় তার সাথে মজা করে। সাদ দুষ্টু হেসে বলে-
-" তাহলে রাইসার ভাতিজি আছে কিন্তু। ভাবছি তার সাথে তোর বিয়ে দিয়ে দেবো।
রিঝ হেসে বলে-
-" তুমি তো আজকে যা করছো। প্রেমিকার ভাতিজি কে দেখতে গিয়ে ফেঁসে গেছো। মান ইজ্জত কিছুই রাখলেনা।
সাদ তাল মিলিয়ে হাসে। রিঝ কিছু একটা ভেবে বলে-
-" আচ্ছা চাচ্চু তোর মনে হচ্ছে না এখানে কোন রহস্য আছে। এমন তো নাও হতে পারে, যে যার মানিব্যাগ পেয়েছিস, সে এই খুনের কিছুই জানেনা।
সাদ অবাক হয়ে জানতে চায় -
-" তোর এমনটা কেনো মনে হলো?
তখনি রিঝ সাদকে হাতের ইশারায় চুপ করতে বলে। রিঝ দ্রুত জানালার কাছে যেতেই সেখান থেকে কেউ লা/ফিয়ে পড়ে।
#চলবে
(আসসালামুয়ালাইকুম পেজের রিচ একদমই ডাউন হয়ে আছে। খুবই হতাশ আমি রিচ দেখে। আশা করছি আপনারা বেশি বেশি রেসপন্স করুন প্লিজ। )#কান্তার_পরিহাস
#মেঘলা_আহমেদ
| পর্ব-০৩ |
অনেকক্ষন ধরে রাইসার জন্য অপেক্ষা করছে সাদ। রিঝ কে সে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে। এ নিয়ে নিজের সাথে তার একদফা বাক/বি/তন্ডা গেছে। হবু বউয়ের সাথে সে দেখা করতে আসবে। তাতে রিঝ কে আনার কি দরকার। সাদ তখন আলাভোলা চেহারা বানিয়ে বলেছিল " আমার ভয় করে! রিঝ ওর ন্যাকামি মার্কা কথা শুনে বিরক্ত। তাই অনিচ্ছাকৃত এসেছে এখানে। অপেক্ষার প্রহরের অবসান ঘটিয়ে রাইসার আগমন ঘটে। কিন্তু সেও সাথে করে সামিরা কে নিয়ে এসেছে। রাইসা ঝগড়া করবে সাদের সাথে। তাই সামিরা কেও এনেছে। ঝগড়ায় তার সাথ দিতে। দুজন এসে সামনের চেয়ারে বসল। তখন রিঝ সাদের কানে কানে জিজ্ঞেস করে-
-" এটাই কি চাচির ভাতিজি? সামিরা?
সাদ মাথা নেড়ে হ্যা বুঝায়। সে নিজেকে ঝড় তুফানের জন্য প্রস্তুত করছে। রিঝ চট করেই বলে-
-" মিস সামিরা। আজ ভীষণ গরম তাইনা?
সামিরা আচমকা প্রশ্নে থতমত খেয়ে যায়। তারপর মাথা নেড়ে বলে-
-" জ্বী।
রিঝ উঠে দাঁড়ায় তারপর বলে-
-" চলুন আমরা আইসক্রিম খেয়ে আসি।
সামিরা বুঝতে পারলো, রিঝ ওদের স্পেস দিতে চাইছে। এদিকে সাদ অসহায় চোখে তাকায় রিঝের দিকে। রিঝ হাঁটা দিলে সামিরাও তার পিছে পিছে যায়। বেচারা সাদ ছলছল নয়নে হাঁসি মাখা বদনে রাইসার দিকে তাকায়। রাইসা এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেনো এক্ষুনি জান ক/বজ করে ফেলবে। রিঝ হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞেস করে-
-" আচ্ছা ঐদিন যখন ছোট আম্মু মানে আপনার ফুফিকে দেখতে গেলাম। তখন আপনাকে দেখলাম না কেনো? ভয়ে লুকিয়ে রেখেছিল নাকি?
সামিরা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে-
-" আপনারা রাইসা আন্টি কে দেখতে গিয়েছিলেন? নাকি আমাকে? অন্য কেউ হয়ে তাকেই দেখে আসতেন। ভাগ্যিস আমি ছিলাম। আপনার চাচ্চু একটা বা/ট/পার!
রিঝ বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে বলে-
-" যাই হোক ওটা যা হওয়ার হয়ে গেছে। সবারই ভুল ছিল। তবে আপনার প্ল্যানটা জোস ছিল।
সামিরা একটু ভাব নিয়ে বলে-
-" হ্যা আমার প্ল্যান জোস। তবে ঐদিন হুদাই চ/ড় খেয়েছি আন্টির হাতে। আপনাদের পরিবারের সবার সামনে। মান সম্মানের ফালুদা হয়ে গেলো।
রিঝ হেসে বলে -
- আচ্ছা। চলুন কি আইসক্রিম খাবেন বলুন। চকলেট নাকি ভ্যানিলা?
সামিরা কে দ্বিধান্বিত দেখা গেলো। সেটা আরচোখে দেখে রিঝ নিজেই দোকানে হাঁটা দিলো। সামিরা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। রিঝ চকলেট ফ্লেভারের দুটো আর ভ্যানিলা ফ্লেভারের একটা আইসক্রিম আনলো। তিনটি আইস্ক্রীম দেখে সামিরা জিজ্ঞেস করল-
-" আর কার জন্য এনেছেন?
রিঝ নিজে চকলেট ফ্লেভারের একটা রাখল। বাকি দুটো সামিরার হাতে দিয়ে দিলো। সামিরা অবাক হয়ে বলল-
-" আমার জন্য দুটো কেনো?
রিঝ নিজের আইসক্রিম খেতে খেতে বলল-
-" আপনি মনে হয় আইসক্রিম কখনোই খাননি। তাই তো কোন ফ্লেভারের টা খাবেন বলতেই পারলেন না।
কথাটা রিঝ মজা করে বলল। সামিরা ভীষণ রেগে বলল-
-" এই কি বলছেন এসব? আমি আইসক্রিম খাইনি মানে। আমি যখনই খাই ভ্যানিলা চকলেট একসাথে দুটো করেই খাই। তাই ফ্লেভার কোনটা খাব ঠিক করতে পারছিলাম না।
রাগের বসে সামিরার পেট থেকে আসল কথা বেরিয়ে গেলো। রিঝ শব্দ করে হেসে বলল-
-" এই জন্যই তো আমি দুটো এনেছি। আমারো মনে হয়েছিল আপনার দুটোই খেতে ইচ্ছে করছে। হাউ বাচ্চা বাচ্চা মাইয়া।
সামিরা লজ্জা পেলো রিঝের কথায়। কিছু না বলে সে একটু একটু করে দুটো আইস্ক্রীম খেতে শুরু করল। রিঝ তখনি সামনে তাকালো। নিজের আইস্ক্রীম টেবিলে রেখেই দৌড় দিলো। সামিরা অবাক হয়ে বলল -
-" আরে আরে কই যান?
রিঝ রাস্তায় গিয়েই একজন লোককে ধরলো। তারপর ফোন বের করে সাদকে কল দিলো। সাদকে দ্রুত আইসক্রিম গ্যালারির সামনে আসতে বলল। সামিরা ততক্ষনে নিজের চকলেট আইসক্রিম শেষ করে ফেলেছে। সে এক হাতে রিঝের আইস্ক্রীম অন্যহাতে নিজের ভ্যানিলা আইসক্রিম নিয়ে রিঝের কাছে আসলো। চোখ ছোট ছোট করে বলল-
-' ওনাকে ধরেছেন কেনো? উনি কে?
-" ধারনা করা হচ্ছে উনি একজন খু/নি।
রিঝের অকপট স্বীকারোক্তি। সামিরা লোকটির দিকে একবার তাকিয়ে বলল-
-" তো উনি খু/নি হলেও আপনি কিভাবে জানলেন? আর আপনার ওনাকে ধরে কাজ কি? ওনাকে ধরতে বাংলাদেশ পুলিশ আছে।
রিঝ হেসে বলল-
-" আমি কে জানেন?
সামিরা অবাক হয়ে বলে-
-" আপনি আবার কে? একজন মানুষ।
রিঝ আবারো হেসে বলে-
-" আমার পেশা কি জানেন?
সামিরা মাথা দু দিকে নাড়িয়ে বলে-
-" না তা জানিনা! কি করেন আপনি?
রিঝ লোকটাকে আরেকটু শক্ত করে ধরে বলে-
-" আমি ডিটেকটিভ রিঝমান ইশরাক।
সামিরার চোখ মূহূর্তেই বড় বড় হয়ে যায়। বুকের ভেতর কিছু একটা ধ/রাস ধ/রাস করছে। তার সামনে ডিটেকটিভ রিঝমান ইশরাক! এ যেনো তার কল্পনা। সামিরা চোখ বন্ধ করে ফেলে। চোখ খুললেই যেনো সব কল্পনা হয়ে যাবে। রিঝ হাসছে ওর কাহিনী দেখে। সামিরা চোখ খুলে দেখে রিঝকে আবারো। যে মানুষটি কে দেখার জন্য কত কি করেছে। সেই মানুষটা কি না তার সামনে! সামিরা ঘোর আবেশে রিঝের বাহু ছুঁয়ে দেয়। নিজের সম্বিৎ ফিরতেই হাত সরিয়ে নেয়। রিঝ অবাক হয়ে বলে-
-" ছুঁলে কেনো?
সামিরা নিজেকে যথা সম্ভব আড়াল করার চেষ্টা করে বলে-
-" ছুঁলে কি হবে? পঁচে যাবে? হুহ।
সামিরা আইসক্রিম রিঝের দিকে দিয়ে বলে-
-" খেয়ে নিন আপনার টা।
রিঝ মুখ কুঁচকে বলে-
-" আর খাবো না। অনেক ঠান্ডা।
-" তাহলে এটা কি করবো?
-" ফেলে দাও, নয়তো খেয়ে ফেলো।
রিঝ আবারো দুষ্টুমি করছে। সামিরা রিঝকে অবাক করে দিয়ে। নিজেই খাওয়া শুরু করল। রিঝ কপাল কুঁচকে বলে-
-" একি খেতে বলছি তাই খেয়ে ফেলবে? ওটা তো আমি এঁটো করেছিলাম!
সামিরা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে-
-" আপনি একবার কি দুবার খেয়েছেন! আমার জিনিস নষ্ট করতে মায়া লাগে। আর আপনার মুখে বি/ষ ছিলোনা। যে খেলে ম/রে যাবো! অপচয় আমার পছন্দ না।
রিঝ হেসে বলে-
-" হিসেবি মানুষ। যার সংসারে যাবে তার তো কপাল চার আঙুলের। এত হিসেবি বউ পাবে।
রাইসা হালকা হাসে রিঝের কথায়। লোকটা তখন বিরক্ত হয়ে বলে-
- কখন থেকে আমায় ধরে খেজুরে আলাপ করছেন দুজন। আমি কি করেছি?
তখন সাদ এসে উপস্থিত হয় সেখানে। সে লোকটি কে ধরে বলে-
-" বাহ খোঁজার আগেই পেয়ে গেছি। এখন থানায় চলো তারপর সব জানা যাবে। বড্ড কাঁচা কাজ করেছো। খু/না করে মানিব্যাগ ফেলে এসেছো।
লোকটি কিছুই বুঝতে না পেরে বলল+
-" কিসের খু/ন? আমি কেন খু/ন করব? আমি কোন খু/ন করিনি!
রিঝ হেসে বলে-
-" সব অপরাধী বলে, আমি অপরাধ করিনি। আচ্ছা চাচ্চু ছোট আম্মু (রাইসা) কোথায়?
সাদ গম্ভীর হয়ে বলে-
-" সে বাসায় চলে গিয়েছে।
সামিরা অবাক হয়ে বলে-
-" মানে? আমাকে না নিয়ে চলে গেলো?
সাদ কিছু একটা ভেবে বলে-
-" রিঝ তুই ওকে পৌঁছে দিয়ে আয় বাইকে করে। শাফিন এখনি এসে পড়বে জিপ নিয়ে। আমি একে নিয়ে থানায় যাচ্ছি!
রিঝ হেসে বলে-
-" কি কপাল রাতেও আমাদের অপরাধি ধরতে হচ্ছে। আচ্ছা আমি তাহলে ওকে নিয়ে যাই। সামিরা আপনার কি আমার সাথে যেতে আপত্তি আছে? সামিরা মাথা নেড়ে না বোঝায়। তার আপত্তি নেই। এরপর দুজনে বাইকে ওঠে। রিঝ সামিরা কে বলে-
-" আপনার যদি ভয় করে তাহলে আমাকে ধরতে পারেন।
সামিরা হেলমেট পড়তে পড়তে বলে-
-" ভয় কিসের আমি নিজেও স্কুটার চালাই! এসবে আমার ভয় নেই।
রিঝ কথা না বাড়িয়ে গাড়ি স্টার্ট দেয়। রাইসার বুকের ভেতর ঢিপঢিপ শব্দ হচ্ছে। অজানা ভালোলাগা ঘিরে ধরছে। সে বলে-
-" আমি সত্যিই কখনো ভাবিনি ডিটেকটিভ রিঝমান ইশরাক এর সাথে এভাবে দেখা হবে!
রিঝ হেসে বলে-
-" আমিও একজন সাধারণ মানুষ। আপনারা শুধু শুধু আমাকে এভাবে বলেন। আর আপনি তো আমার বেয়াইন লাগেন এখন!
সামিরাও হেসে ফেলে। বাসার সামনে এসে বাইক থেকে নামে দুজনে। তখন রাইসাও রিকশা থেকে নামে। রিঝ অবাক হয়ে বলে-
-" আরে ছোট আম্মু, আপনি নাকি চলে এসেছেন?
রাইসা বলে-
-" আপনার বাইকের সাথে তো আর রিকশা পেরে উঠবে না। যাইহোক ধন্যবাদ ওকে নিয়ে আসার জন্য।
রাইসা সামিরার হাত ধরে গটগট পায়ে ভেতরে হেঁটে যায়। রিঝ অবাক হয়ে সেদিকে তাকায়। হঠাৎ কি হলো? তখনি ফোনে নোটিফিকেশন আসে। হোয়াটসঅ্যাপ চেক করতেই রিঝের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়!
#চলবে?
