গল্পঃ #আড়ালে_লুকিয়ে_কে
লেখিকাঃ #মিশু
পর্বঃ (২+৩)
হাবিবার ভাইয়ের কথা শুনে পুরো বাড়িতে হুলুস্থুল বেঁধে যায়। মামা, নানা, বাবা আরো অনেকে ছুটে যায় বাগানের দিকে। মামি টেনশন নিতে না পারায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বাড়ির সব মহিলারা সেখানে ভীড় করে। এইদিকে এত লোকের মাঝে আমার চোখ দুটো নাবিলকেই খুজে যাচ্ছে। কিন্তুু কোথাও ওর দেখা নেই।
হঠাৎ মনে হলো বাগানে গিয়ে দেখা উচিত ওখানে কি ঘটেছে? যেই ভাবা সেই কাজ, দ্রুত পায়ে হেঁটে গেলাম বাগানের দিকে। বাগানের চারিদিকে অনেক মানুষ । আমি ভীড় ঠেলে গাছটার দিকে এগিয়ে গেলাম। গাছের সামনে দাড়াতেই চোখে পড়লো হাবিবার ঝুলন্ত লা/স। একটু আগেই মেয়েটাকে সাজানো হয়েছিল। এখনো সব সাজ আছে। পরনে লাল টুকটুকে বেনারসি। গা ভর্তি সোনার গয়না। তবে ফর্সা মুখটা কেমন কালচে হয়ে গেছে। ঠোটের টুকটুকে লাল লিপস্টিক টা কেমন নিলচে রং ধারণ করেছে। অমন সুন্দর মুখটা কেমন কুৎসিত হয়ে গেছে। কিছুদিন ওর উপর বিরক্ত হলেও এইভাবে ওর চলে যাওয়াটা মেনে নিতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে। বারবার ওর হাসি মাখা মুখটা মনে পড়ছে। গাছের নিচে তাকাতেই দেখি মামা কেমন ছন্নছাড়া হয়ে বসে আছে।হাতে একটা সাদা কাগজ। আশেপাশের কানাঘুষা থেকে শুনলাম ওইটা নাকি হাবিবার সুইসা/ইড নোট। মামাকে দেখে বড্ড কষ্ট লাগছে। মামা মেয়ে বলতে পাগল। মা ছাড়া কখনো কথা বলেনি। সবকিছু না চাইতেই ওর সামনে হাজির করতো। সেই মেয়ের এমন একটা কাজে এরকম হওয়াটাই স্বাভাবিক। পুলিশকে ইতিমধ্যেই ফোন করে জানানো হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবে। বর সহ বর পক্ষের সব লোক ও বাগানে চলে এসেছে। বরের নাম তিহান। পেশায় ইন্জিনিয়ার। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। দেখতে শুনতেও মাস আল্লাহ। মামির থেকে শুনেছিলাম হাবিবা প্রথমে বিয়েতে রাজি ছিলো না তবে নাকি তিহানকে দেখে নিজে থেকে মত দিয়েছে। কথাটা শুনে আমি বেশ খুশি হয়েছিলাম। ছোট মানুষ আবেগের বসে হয়তো ভুল করতে যাচ্ছিলো তবে নিজের ভুলটা বুঝতে পেরে যে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাইছে এটাই কম কি? কিন্তুু কি হলো হঠাৎ যে হাবিবা এইভাবে বিয়ের সাজে এই কাজটা করলো?
আমার ভাবনার মাঝে পুলিশ এলো। গাছ থেকে হাবিবাকে নামালো। গাছটা হাবিবার সব থেকে পছন্দের আমগাছ। অনেক পুরোনো গাছ। ছোট থেকেই কোনো কারণে ওর রাগ হলে দৌড়ে গাছের উপরে উঠে বসে থাকতো। গাছটায় ডালপালা এমন ভাবে মেলানো যে খুব সহজেই ওঠা যায়। আমের সিজনে অনেক আম ধরে। আমি আর হাবিবা কত আম মেখে খেয়েছি এই গাছ তলায় বসে।
এমনকি আমার আর নাবিলের প্রথম দেখা এই আম গাছের কাছে। নাবিলের কথা মনে হতেই আমার মন উতলা হয়ে পড়লো কোথায় গেছে নাবিল? এইখানে এতকিছু ঘটে গেছে নাবিল কোথাও নেই কেন?
এদিকে পুলিশ হাবিবাকে নামিয়ে নিচে একটা পাটিতে সুইয়ে দিয়েছে। তাদের মধ্যো একজন পুলিশ খুব তিক্ষ্ণ দৃষ্টিতে হাবিবাকে পর্যবেক্ষন করছে। উনার ব্যাচে নাম লেখা তাকরিম। দেখতে বেশ সুদর্শন। চোখে কালো সানগ্লাস। মুখে রহস্য জানার তীব্র ইচ্ছা। বেশ কিছুক্ষণ হাবিবাকে পর্যবেক্ষন করে উঠে দাড়ালেন লোকটা।তারপর আমার নানাকে ডাকলেন আর বললেন, আমি ইন্সপেক্টর তাকরিম। নাম কি আপনার আর আপনি কে হন ভিক্টিমের?
নানা বললেন, আমি শাফায়াত উদ্দিন। হাবিবার দাদু।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, আচ্ছা তা ভিক্টিমকে কি জোড় করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিলো?
নানা বললো, না না স্যার। মেয়ে তো প্রথম থেকেই রাজি ছিল। আমার ছেলে ওকে খুব ভালোবাসে ওকে কখনোই কোনো কাজে জোড় করে না। ও নিজে বলেছে তিহান কে ওর পছন্দ হয়েছে তারপরই বিয়েটা ঠিক হয়েছে?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলে, যদি বিয়েটা নিজের ইচ্ছেতেই করে তবে আপনার নাতনি এই কাজটা কেন করলো মিস্টার সাফায়াত?
নানা বলে, সেটাই তো বুঝতে পারছি না স্যার। মেয়েটা একটু আগেও তো হাসতে হাসতে সাজলো। দেখুন না কি সুন্দর করে বিয়ের জন্য সেজেছিল?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলেন, তা বিয়ে বাড়িতে এত লোকজন কেউ খেয়াল করে নি যে কনে ঘর থেকে বেড়িয়ে বাগানে গাছের সাথে ঝু/লে পড়লো? কোথায় ছিলেন সবাই?
নানা বলে, আসলে বরকে সেই সময় কবুল পড়ানো হচ্ছিল আর সবাই সেইখানেই ছিল। তারপর বরকে কবুল পড়ানো শেষে হাবিবার ঘরে কাজী সহ সবাই গেলো কিন্তুু তখন হাবিবা ঘরে ছিল না। তখন থেকে সবাই খোঁজা শুরু করে। আর তারপরেই তো...... এই বলেই নানা কাদঁতে শুরু করে।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলেন, শান্ত হোন। দেখুন সবাই যদি অধৈর্য হয়ে পড়েন তাহলে কিভাবে হবে? তা কে প্রথম ভিক্টিমকে দেখেছিল?
নানা ইশারা করে হাবিবার ভাই হাবিব কে দেখিয়ে দেয়। ভীড়ের বাইরে এক কোনায় দাড়িয়ে হাবিব কাদঁছে। হাবিব আর হাবিবা দুইজন জমজ ভাই বোন। বয়স আঠারো পেড়িয়ে ১৯ চলে। অন্যান্য সমবয়সী ভাই বোনদের মতো মোটেও ঝগড়াঝাটির সম্পর্ক ওদের ছিল না। তুইজনের মধ্যে খুবই আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিল।
ইন্সপেক্টর তাকরিম হাবিবের দিকে কিছুক্ষণ তাকায় তারপর বললেন, আচ্ছা। গাছের নিছে বসে আছেন উনি কি ভিক্টমের বাবা? আর উনার হাতের কাগজটা কি ভিক্টিমের সুইসা/ইড নোট?
নানা কাদঁতে কাদঁতে মাথা নাড়ে। ইন্সপেক্টর তাকরিম মামার দিকে তাকায়। মামা এখনো গাছের নিচে ধুম ধরে বসে আছে। সেই হাবিবাকে দেখে চিৎকার করে উঠেছে আর কোনো কথা বলেনি।
ইন্সপেক্টর তাকরিম মামার কাছে এগিয়ে যায় তারপর হাত থেকে কাগজটা নেয় কিন্তুু মামা টু শব্দ করে না। এখনো ধুম ধরেই বসে থাকে। ইন্সপেক্টর তাকরিম কাগজ টা খুলে তারপর সেটা পড়ে একটা পলিথিনে ভরে পকেটে পুরে। ইন্সপেক্টর তাকরিম এবার এগিয়ে যায় তিহানের দিকে। ছেলটার মুখ কেমন ছোট হয়ে গেছে। বিয়ে করতে এসে এরকম একটা পরিস্থিতিতে আসলে কি রিয়েক্ট করা উচিত হয়তো বুঝতে পারছে না। তিহানের পাশেই দাড়িয়ে আছে ওর বাবা ব্যারিস্টার কামাল। তিনি প্রায় ছয় ফুটের বেশি লম্বায় হবেন। বয়স ষাটোর্ধ হলেও দেখে মনে হয় বয়স এখনো পঞ্চাশের কোঠায়।সৎ ও বিচক্ষণ মানুষ হিসেবে সবাই খুবই সম্মান করেন। তবে এমুহূর্তে উনার মুখটা বেশ গম্ভীর । খুবই তিক্ষ্ণ নজরে চারপাশটা দেখছেন।
ইন্সপেক্টর তাকরিম ব্যারিস্টার কালাম কে সালাম দিয়ে তিহানকে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে সরে আসে তারপর দুইজন কনস্টেবলকে বলে হাবিবার লা/সটা গাড়িতে তুলতে। কনস্টেবলদের মধ্যে একজন বলে, স্যার কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলেন, যেহেতু ভিক্টিম সুইসা/ইড নোটে লিখে গেছে তার মৃ/ত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় তাহলে আপাদত কাউকে কোনোরকম জিজ্ঞাসাবাদ না করাই বেটার। বাকিটা পোস্ট/ম/র্টেম রিপোর্ট আসলেই বোঝা যাবে। আর আমার মনের দৃঢ় বিশ্বাস এটা আত্নহ/ত্যা নয়। এবার বাকিটা তো পোস্ট/ম/র্টেম রিপোর্টই বলবে।
কথা শেষে ইন্সপেক্টর তাকরিম আবারো চারিদিকটা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন।
এইদিকে হাবিবার লা/স গাড়িতে তুলতেই মামা চিৎকার করে কেদেঁ উঠে দৌড়ে চলে যায় হাবিবার লা/সের কাছে কিছুতেই হাবিবাকে নিয়ে যেতে দেবে না। প্রচন্ড পাগলামী শুরু করে। এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সবাই ধরাধরি করে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়। পুলিশ হাবিবর লা/স নিয়ে চলে যায়। আমি শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি গাড়িটার দিকে। পুলিশের গাড়ি যেতেই দেখি বাইক নিয়ে নাবিল আসছে। আমাকে দেখে বাইক থামিয়ে বলে, কি হয়েছে ঋতু? পুলিশ কেন এসেছিল? আর তুমি কাদঁছো কেন?
আমি নাবিলকে জড়িয়ে ধরে কেদেঁ বলি, সর্বনাশ হয়ে গেছে নাবিল? তুমি কোথায় ছিলে এতক্ষণ?
নাবিল বলে, কেন কি হয়েছে ঋতু বলো আমাকে? আমি তো মিষ্টি আনতে গেছিলাম। মামা বললো বরের বাড়িতে দশকেজি মিষ্টি দিবে যাওয়ার সময় সেটা আনতে ভুলে গেছে তাই আমাকে পাঠালো ভালো দেখে মিষ্টি আনতে।
আমি বললাম, হাবিবা সুইসা/ইড করেছে।
নাবিল চমকে উঠলো তারপর বললো, কি বলছো কি ঋতু? কেন?
আমি কাদঁতে কাঁদতে বললাম, জানি না ও কেন এমনটা করলো? আমরা সবাই বরের ওখানে ছিলাম আর সেই সুযোগে ও...........
নাবিল আমাকে ছাড়িয়ে দিয়ে কেমন উসখুস করে বললো, না এটা হতে পারে না? হাবিবা সুইসা/ইড করতে পারে না। এটা আমি বিশ্বাস করি না।
আমি বললাম, তোমার বিশ্বাস করায় কি যায় আসে নাবিল? হাবিবা সুইসা/ইড করেছে আর এটাই সত্য।
নাবিল আর কিছু বললো না আমাকে সড়িয়ে দিয়ে হেটেঁ চলে গেলো সামনে পুকুর পাড়ের দিকে। আমি চেয়ে রইলাম নাবিলের দিকে কি হলো হঠাৎ ওর?
এরমধ্যে মা এসে আমাকে বাড়ির ভেতরে ডেকে নিয়ে গেলো। মামির অবস্থা খারাপ। স্যালাইন দিতে হবে। আমাকে মামির কাছে মা বসিয়ে দিলো।
একটুপর মামিকে স্যালাইন করা হলো। আমি পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম। মামি বারবার হাবিবাকে ডাকছে।
দেখতে দেখতে বিকেল শেষে রাত নেমে এলো। প্রায় সব আত্মীয় স্বজনরা চলে গেছে। বরপক্ষ ও চলে গেছে। মামা- মামিকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়ানো হয়েছে। ড্রয়িং রুমে নানা সোফায় চুপ করে বসে আছে। আমি মায়ের কোলের মধ্যে সুয়ে আছি। নাবিল আর হাবিব চেয়ারে বসে আছে। আর কিছু আত্মীয় স্বজন যারা আছে তারা ঘরের ভেতরে। আমি সুয়ে ভাবছি দুনিয়াটা কত অদ্ভুত এই পুরো বাড়ি আনন্দ উৎসবের মুখর ছিল মুহুর্তের তা কেমন শোকে পরিণত হলো। আমি আরেকবার নাবিলের মুখের দিকে চাইলাম ওকে একটু বেশি অন্যরকম লাগছে। মাথার চুল এলোমেলো। মুখ চোখ শুকনো মনেহচ্ছে খুব কেদেঁছে। মনের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠতে লাগলো কিন্তুু মনকে কড়া শাসন করে চুপ করে রইলাম। রাতটা সবার অঘুমেই কেটে গেলো। ভোরে মামা জেগেই আবারো পাগলামি শুরু করলো। মামাকে সবাই মিলে কোনরকম শান্ত করা হলো। এর মধ্যোই বাবা হাবিবার লা/স নিয়ে চলে আসলো। আবারো ধীরে ধীরে মানুষ দিয়ে বাড়ি ভর্তি হয়ে গেলো। আমি একবার তাকিয়ে হাবিবাকে দেখে চিৎকার করে কেদেঁ উঠলাম। আল্লাহ কি অবস্থা হয়েছে মেয়েটার। মুখ এত কালো কেন? আবার কাটাকাটি করায় আরো বিভৎস লাগছে। হাবিবাকে বেশিক্ষণ রাখা হলো না। সব কাজ শেষে সকাল দশটায় জনা/যার করে মা/টি দিয়ে দেওয়া হলো। ধীরে ধীরে আবারো বাড়ি ফাকা হয়ে গেলো। বাড়িতে আমরা অল্প কিছু লোকজন। তিহান আর ওর বাবাও বসে আছেন। একটুপর এলো ইন্সপেক্টর তাকরিম।
ইন্সপেক্টরকে দেখে নানা বললেন, আপনি এখন?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, শাফায়াত সাহেব আমার আসার কথা তো আরো আগেই ছিল। শুধু মিস্টার হাসানের ( আমার বাবা) অনুরোধে এখন আসলাম। আর এখনই এত অবাক হবেন না। অবাক হওয়া তো সবে শুরু।
নানা বলেন, মানে?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, হাবিবা সুইসা/ইড করেনি মিস্টার শাফায়াত? হাবিবাকে খু/ন করা হয়েছে? ওর রক্তে বি/ষ পাওয়া গেছে। মৃ/ত্যুটা বি/ষেই হয়েছে। আর মৃ/ত্যু যদি বি/ষক্রিয়ায় হয় তাহলে ভিক্টিম গলায় দ/ড়ি দিলো কিভাবে? আশ্চর্যজনক ব্যাপার আরেকটা হলো বি/ষটা হাবিবাকে খাওয়ানো হয় নি আবার শরিরে কোনোরকম ইনজেকশন পুশও করা হয় নি? তাহলে বি/ষটা এলো কোথায় থেকে?
ইন্সপেক্টর তাকরিমের কথা শুনে আমার পুরো শরির শিরশির করে উঠলো। আমি নাবিলের দিকে তাকালাম ওর মুখ কেমন যেন চিকচিক করছে..........
চলবে.............
গল্পঃ #আড়ালে_লুকিয়ে_কে
লেখিকাঃ #মিশু
পর্বঃ (৩)
ব্যারিস্টার কামাল উঠে দাড়ালেন তারপর ইন্সপেক্টর তাকরিম কে বললেন, কি বলছেন কি ইন্সপেক্টর তাকরিম? তাহলে বি/ষ টা কিভাবে দেওয়া হয়েছে?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, হ্যা আমি ঠিক বলছি স্যার। বি/ষটা খাওয়ানো হয়নি বা কোনো ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়নি? বি/ষটা রক্তের সাথে মিশে বিষক্রিয়া করেছে কারণ বিষটা সাপের। বি/ষটার বিষয়ে এখনো পরিক্ষা চলছে ল্যাবে। খুব রেয়ার পয়জন। কিছু জানতে পারলেই আমাকে জানাবে। আশা করছি হাবিবার শরিরে কিভাবে বি/ষ ঢুকেছে সেটা জানতে পারলেই কেসটা অনেকটা সমাধান হয়ে যাবে। তবে আশ্চর্যজনক আরো একটা কথা? হাবিবার হাতে যে চিঠিটা ছিল সেটা হাবিবারই লেখা কিন্তুু......
নানা বলেন, কিন্তুু কি?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, চিঠিটা প্রায় সাতদিন আগের লেখা। পোস্টম/র্টেম রিপোর্ট থেকে এটা স্পষ্ট যে হাবিবার মৃ/ত্যুর পর তাকে গাছের সাথে ঝুলানো হয়েছে। তাহলে হাবিবার ডে/ড ব/ডি নিশ্চই ঝুলতে পারবে না? তারমানে অন্যকেউ কাজটা করেছে কিন্তুু প্রশ্ন হলো হাবিবা কেন সাতদিন আগে সুইসা/ইড নোট লিখেছিল?
আচ্ছা মিস্টার তিহান আপনার সাথে হাবিবার সম্পর্ক টা কেমন ছিল?
তিহান চেয়ার থেকে উঠে দাড়ালো তারপর বললো, দেখুন ইন্সপেক্টর আমাদের বিয়েটা এরেঞ্জ ম্যারেজ ছিল। বাবা হাবিবাকে দেখে পছন্দ করে তারপর আমি একদিন দেখি আমারো ওকে পছন্দ হয়। তারপর আমি বিয়েতে হ্যা বলি। এরমধ্যে হাবিবার সাথে আমার দুইবার ফোনে কথা হয়েছে। প্রথমবার ওকে স্পষ্ট করে আমি জিজ্ঞেস করেছি আমাকে পছন্দ কি না? বা কারো সাথে কোনো সম্পর্ক আছে কি না? ও বলে, ওর আমাকে পছন্দ। আর কারো সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। নিজ ইচ্ছায় এই বিয়েতে রাজি।
এরপরই আমাদের বিয়েটা ফাইনাল হয়। এরপর আরো একবার কথা হয় তখন নরমাল কথাবার্তা হয়েছে। আমি ওর থেকে জেনে নিয়েছিলাম বিয়েতে কি পড়তে চায় শাড়ি না লেহেঙ্গা?
ও বলেছিল আমার যা ইচ্ছা তাই যেন কিনি। আমার পছন্দের জিনিসগুলো পরে ও আমার মনের মতো বউ সাজতে চায়।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলে, তাহলে আপনি বলতে চাইছেন হাবিবা সম্পূর্ন রাজি ছিলো?
তিহান বলে, আমার জানামতে তো তাই এখন ওর মনের ভেতরে যদি অন্য কিছু চলে সেটা তো আমার পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, বুঝতে পারলাম। আচ্ছা হাবিবার বাবা-মায়ের অবস্থা কেমন? কথা বলা যাবে ওনাদের সাথে?
নানা বললেন, না ইন্সপেক্টর। দুইজন এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি। আরেকটু সময় দিন ওদের।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলেন, আচ্ছা তা হাবিবার ভাই কোনটা যেন?
হাবিব সামনে আসে তারপর বলে, আমি।
ইন্সপেক্টর তাকরিম ভালো করে হাবিবকে দেখে বলে, তোমার নাম হাবিব তাই তো?
হাবিব বলে, হ্যা।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলেন, তুমি আর হাবিবা জমজ।
হাবিব বলে, হ্যা।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, আচ্ছা তুমি তো প্রথম হাবিবাকে গাছের সাথে ঝুলতে দেখেছিলে? তা কি দেখেছিলে যদি একটু ডিটেইলসে বলতে?
হাবিব বলে, আমরা সবাই হাবিবাকে খুজছিলাম। পুরো বাড়িতে খুজে যখন পেলাম না তখন আমার মনে পড়লো হাবিবার পুরোনো অভ্যেস যে কোনো কারণে মন খারাপ হলে ওই গাছটায় বসে থাকতো। তাই ওকে খুজতে যেই বাগানে গেছি দেখি ও ঝুলছে। তখনই দৌড়ে বাড়ির ভেতরে এসে সবাইকে ডেকে নিয়ে গেছি।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, আচ্ছা। তো তুমি কাউকে সেখানে দেখেছিলে?
হাবিব বলে, না স্যার। কেউ ছিল না ওখানে।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলেন,আচ্ছা আরেকটা কথা বলো তাহলে, তুমি নিশ্চয়ই তোমার বোনের ব্যাপারে সবকিছু জানো? আচ্ছা ও কি কোনো সম্পর্ক ছিল? আর এই বিয়েতে কি মন থেকে রাজি ছিল?
হাবিব বলে, দেখুন স্যার। আমার জানা মতে হাবিবার কোনো সম্পর্ক ছিল না। আর এই বিয়েতে ও নিজ ইচ্ছায় রাজি হয়েছিল কারণ মা-বাবা ওকে অনেকবার জিজ্ঞেস করেছে ও মন থেকে রাজি কি না? ও সবসময় বলেছে ও রাজি। তিহান ভাইয়াকে ওর খুব পছন্দ হয়েছে।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, আচ্ছা তাহলে বলো হাবিবার কারো সাথে কোনোরকম শত্রুতা? বা তোমাদের সাথে কারো কোনোরকম শত্রুতা ছিল? বা কারো সাথে হাবিবা বা তোমাদের কোনোরকম ঝগড়াঝাটি হয়েছে?
হাবিব কিছুক্ষণ ভেবে বলে, না স্যার আমাদের সাথে কারো তেমন কোনো ঝামেলা নেই আর হাবিবার ও নেই। তবে পাঁচদিন আগে আমি দেখেছিলাম ঋতু আপুর সাথে হাবিবার কোনো কিছু নিয়ে কথা কাটাকাটি হচ্ছে?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলললে, ঋতু? সে কে?
আমি যে ভয়টা পাচ্ছিলাম সেটাই হলো। তবুও নিজেকে শক্ত করে বললাম, হাবিব তুই এটা কি বলছিস? হ্যা হাবিবার সাথে আমার একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল তার মানে কি? আমি ওকে সবসময় নিজের বোনের মতো ভালোবেসেছি ওকে একটু শাসন করতে পারবো না?
ইন্সপেক্টর তাকরিম আমার দিকে এগিয়ে আসলেন তারপর বললেন, একমিনিট মিস ঋতু। শাসন করেছেন না কি করেছেন তা জানা যাবে তার আগে শান্ত হোন। মাথা ঠান্ডা করুন। ধীরে ধীরে বলুন। আপনি কে হন হাবিবার?
আমি বললাম, হাবিবার ফুফাতো বোন।
আমার বাবা তখন বলেন, আমার মেয়ে স্যার ঋতু। খুব শান্ত শিষ্ট ভালো মেয়ে স্যার। এইসবের মধ্যে ও কোনো হাত নেই?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন,মিস্টার হাসান শান্ত হোন। যতক্ষণ আসল অপরাধীকে ধরা না হচ্ছে কেউ সন্দেহের বাইরে নয়। আচ্ছা মিস ঋতু তা বলুন কেন আপনি হাবিবাকে শাসন করছিলেন?
আমি বললাম, তেমন কিছুই না স্যার। সেইদিন সন্ধাবেলা ও ওর বান্ধবী সামিয়ার বাড়িতে যেতে চাইছিল তাও একা। মামি বারণ করছিল তাও শুনছিল না। আমি শুধু বলেছিলাম, হাবিবা কেমন ব্যাবহার বড়দের সাথে? মা বারণ করছে কালকে সকালে যেও।
আমার কথা শুনতেই কেমন যেন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো। আমাকে বললো ওর বিষয়ে নাক না গলাতে?
আমিও বলেছিলাম, তোর বড় বোন আমি তোর থেকে ভালো বুঝি। তাই একটা কথা বললে শুনতে হবে। ব্যাস রাগ করে ঘরের দরজা আটকে দিলো। বিশ্বাস করুন স্যার এইটুকুই কথা হয়েছিল। মামি একটু সুস্থ হোক উনিও ছিলেন সেখানে।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, বুঝলাম। তা হাবিবার ক্লোজ বান্ধবি কি এই সামিয়া?
আমি বললাম, হ্যা স্যার৷ হাবিবার বেস্ট ফেন্ড সামিয়া।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, ওর বাড়ি কোথায়?
আমি বললাম, স্যার সামনেই দশ মিনিটের রাস্তা।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, আচ্ছা। তা আপনার বিয়ে হয়েছে কোথায়? এইখানেই?
আমি বললাম, জ্বি। পাশের বাসাটাই আমাদের।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, আপনার স্বামী কোথায়?
আমি নাবিলকে ডাক দিলাম। নাবিল পেছন থেকে সামনে এসে দাড়ালো। আমি বললাম, এই যে আমার স্বামী নাবিল।
ইন্সপেক্টর সুক্ষ্ম নজরে নাবিলকে দেখে বললেন, আচ্ছা কোনো কিছু জানার দরকার হলে আপনাদের ডাকবো কিন্তুু। আশা করি আপনারা সাহায্য করবেন।
নাবিল বললো, হ্যা অবশ্যই স্যার।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, আচ্ছা হাবিবার ফোনটা পেতে পারি?
হাবিব বলে, হ্যা স্যার আমি এনে দিচ্ছি।
হাবিব হাবিবার ফোন এনে দিলে ইন্সপেক্টর তাকরিম বলে, তাহলে আসি আজকে? আর এই যে আমার কার্ড এইখানে টেবিলে রাখলাম যদি কারো মনে হয় আমাকে কিছু জানানো দরকার অবশ্যই ফোন করবেন। আসি তাহলে? আবার দেখা হবে।
ইন্সপেক্টর তাকরিম চলে যেতেই নানাকে বলে কামাল সাহেব তিহান কে নিয়ে বেড়িয়ে গেলেন। তারপর সবাই এক এক করে ড্রয়িং রুম ছেড়ে চলে গেলো। নাবিল ও বেড়িযে গেলো। যাওয়ার সময় বললো, আমি একটা কাজে যাচ্ছি ফিরবো একটু পরে৷
নাবিল চলে গেলে আমি হাবিব কে ডাক দিয়ে বললাম, কিরে তুই আমার নাম কেন বললি? কি নিয়ে কথা হয়েছে আমাদের মাঝে সেটা তো তুই জানিস তাহলে?
হাবিব বললো, তো সেটাই তো আমি বলেছি? যা দেখেছি তাই বলেছি। আমাকে জিজ্ঞেস করেছে কারো সাথে ঝামেলা হয়েছিল কি না? তোর সাথে হয়েছিল তাই বলেছি। তাছাড়া তুই কিছুদিন হলো হাবিবাকে দেখতে পারিস না মা-বাবাকে বারবার বলিস হাবিবা বড় হয়েছে ওকে যেন বিয়ে দেয়? কেন বলিস?
আমি বললাম, কেন রে বোন বড় হলে তার বিয়ের কথা বলা কি অন্যায়? কি বুঝাতে চাস তুই এইসব বলে?
হাবিব বলে, কিছুই না।
এই বলেই চলে যায়৷ আমার প্রচন্ড রাগ হয়। বেয়াদব ছেলে? আমি মাকে ডাক দিয়ে বললাম, মা আমার ভালো লাগছে না বাড়িতে গেলাম।
মা বললো, আচ্ছা।
আমি বাড়িতে গেলাম তারপর লম্বা একটা শাওয়ার নিলাম। মনের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। মনেমনে ঠিক করলাম আজকে নাবিলকে কয়েকটা প্রশ্ন করবো? গোসল শেষে বাইরে এসে দেখি নাবিল বিছানায় বসে আছে। আমাকে বাইরে আসতে দেখে টাওয়াল নিয়ে ওয়াসরুমের দিকে যায়। আমি বেশ রোমান্টিক হয়ে নাবিলের সামনে দাঁড়াই। ওর কাছে এসে সার্টের বোতাম খুলে বুকে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম। ধীরে ধীরে ওর অনেক কাছে এগিয়ে গেলাম। পা উচু করে ওর ঠোট বরাবর আমার ঠোঁট রাখলাম। ওর নিশ্বাস আমার মুখে পড়ছে আমার নিশ্বাস ওর মুখে। নাবিলকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম তারপর চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে ওর ঠোঁট নিজের দখলে নিলাম।
হঠাৎ নাবিলের ধাক্কায় সরে গেলাম। প্রচন্ড রাগ হলো। আবারো নাবিলকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললাম, কি হয়েছে তোমার নাবিল? তুমি আমাকে সড়িয়ে দিচ্ছো? কেন? কি হয়েছে তোমার?
নাবিল নিজেকে আমার থেকে ছাড়িয়ে বললো, কি হয়েছে জানো না তুমি ঋতু? কিভাবে পারছো এতটা শান্ত থাকতে? হাবিবার খু/ন হয়েছে? বুঝতে পারছো বিষয়ে টা?
আমি বললাম, সে তো বুঝতে পারছি নাবিল কিন্তুু এতে তোমার এতো ভাবার কি আছে? আমরা কিছু করি নি সো আমাদের কিসের টেনশন?
নাবিল বলে, ধুর তোমার সাথে কথা বলাটাই বেকার।
আমি বললাম, কেন নাবিল তুমি কি কিছু করেছো? আমি কিন্তুু কয়েকদিন আগে দেখেছিলাম তুমি হাবিবাকে বকছো? আবার এই বাড়িতে আসতে বারণ করছো? কেন? কি করেছিল হাবিবা?
নাবিল বললো, আস্তে বলো প্লিজ। আর তুমি আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে ফলো করো ঋতু? সন্দেহ করো আমাকে? দেখো যেই কথাটা ও বেচেঁ থাকতে তোমাকে বলিনি সেই কথাটা এখনো বলতে চাই না তার জন্য তুমি যা ভাবার ভাবো। সন্দেহ হলে পুলিশ কে আমার নাম বলো।
আর তুমি এত রিলাক্স কেন? তুমি আবার সন্দেহ করে কিছু করো নি তো? আর হাবিবার সাথে তোমার ঝামেলাই হচ্ছিল কেন?
আমি বললাম, ছি নাবিল। তুমি আমাকে সন্দেহ করছো? এইটুকু বিশ্বাস নেই যে তোমার ঋতু কখনো অন্যায় করতে পারে না।
নাবিল বললো, প্লিজ তুমি এই ইমোশনাল ড্রামাটা করো না প্লিজ। তোমাকে আমি কিছুই বলিনি। সরো গোসল করবো আমি।
কথাটা বলেই নাবিল আমাকে ঠেলে ওয়াসরুমে চলে গেলো। আমার ভীষণ কান্না পেলো। বিয়ের পর প্রথম নাবিল আমার সাথে এরকম রুড ব্যাবহার করলো? চুপচাপ বিছানায় সুয়ে রইলাম। যাহ কথাই বলবো না আর।
--------------------------------------
এদিকে ইন্সপেক্টর তাকরিম সামিয়াকে সামনে বসিয়ে ওর দিকে তীক্ষ্ণ নজরে পর্যবেক্ষন করছে। বেশ কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর মৌনতা ভেঙে বললেন, সামিয়া হাবিবা তোমার বেস্ট ফেন্ড তাই না?
সামিয়া বললেন, হ্যা স্যার।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, আসলে জানোতো আজ কালের ছেলে মেয়েরা মা-বাবার থেকে বেস্ট ফেন্ডদের সাথে বেশি ফ্রি। মানে মা -বাবা এমন অনেক কথাই জানে না যা বেস্টফেন্ডরা জানে। আশা করি তুমি তোমার জানা সবকথা আমাকে ক্লিয়ালি জানাবে?
সামিয়া মাথা নাড়ে৷ ইন্সপেক্টর তাকরিম বলেন, তাহলে বলোতো হাবিবার কারো সাথে কোনোরকম সম্পর্ক ছিল? বা ও কাউকে পছন্দ করতো বা ওকে কেউ পছন্দ করতো?
সামিয়া বলে, আসলে স্যার হাবিবার সাথে কারো কোনো সম্পর্ক ছিল না। তবে ওকে একজন খুব পছন্দ করতো এমনকি রাস্তা-ঘাটে উতক্ত ও করতো। তারপর অবশ্য হাবিবা স্কুলে এই নিয়ে হেডস্যারকে বিচার ও দিয়েছিল। তারপর থেকে আর অবশ্য ছেলেটা বিরক্ত করেনি।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, কে সেই ছেলে?
সামিয়া বললো, রাজ। আমাদের এক ব্যাচ সিনিয়র। পাশের পাড়ায় বাড়ি। ওর বাবার নাম আরশেদ।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললো, আচ্ছা। তা আর কিছু জানো? হাবিবা কাউকে পছন্দ করতো এমন কাউকে চেনো?
হাবিবা আমতা আমতা করে বলে, আসলে স্যার আমি ঠিক সিওর না তবে ওর কথা বার্তায় মনে হতো ও নাবিল স্যারকে পছন্দ করতো? মানে ওর ফুফাতো বোনের স্বামীকে? নাবিল স্যার ক্লাস নিতে আসলে কেমন অন্যমনষ্ক থাকতো, মুচকি মুচকি হাসতোঁ। আর বলতো বিয়ে করলে নাবিল স্যারের মতোই কাউকে করবে। আমি কিন্তুু সিওর নই স্যার। আমার মনে হওয়াটা বললাম।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললো, ইটস ওকে সামিয়া। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। আরো কিছু জানার থাকলে তোমাকে ডাকবো কিন্তুু।
সামিয়া বলে, ঠিক আছে স্যার।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললো, তাহলে আসি। আবার দেখা হবে।
------------------------------
রাত ১২:০০ টা।
চুপচাপ ঘরে সুয়ে আছে তিহান। হঠাৎ হালকা নূপুরের আওয়াজ। নূপুরের আওয়াজ শুনতেই হাসিঁ ফুটে তিহানের মুখে। তখনি তিহানের বাহু স্পর্শ করে কেউ। পরিচিত সুগন্ধি চিনতে পেরেই একটানে নিজের কাছে টেনে নেয় তিহান...........
চলবে...............
৪র্থ পর্বঃ https://www.facebook.com/share/p/129kn8ZRvPZ/?mibextid=oFDknk
