#আড়ালে_ভালোবাসি

#নুসরাত_জাহান_অংকুর

#পার্ট_৬


নিশাত ওর চাচার পাশে বসে বলে


"কি বলবে কাকা বলো 


নিশাতের কাকা : শুন মা তোর আব্বু মারা যাবার পর আমাদের উপর তোদের দায়িত্ব আসে কিন্ত তুই নিজের দায়িত্ব আর বোনের দায়িত্ব একা নিচ্ছিস কোনো খরচ করতে হয় না আমাদের ।তাই বলে আমার কোনো কর্তব্য নেই 


নিশাত : কাকা প্লীজ আমি ওভাবে বলো না আব্বু যখন ছিল তখন ও আমি বেশি খরচ করতাম না আর আমার কোনো খরচ লাগবে ঈসুর ও তো লাগে না 


নিশাতের কাকা : তাও মামনি তোকে আর বাড়ির কাজ করতে হবে না কাজের লোক সব করবে 


নিশাত : কাকা আমার বাসার কাজ করতে ভালো তুমি


নিশাতের কাকা : কোনো কথা শুনতে চাই না আর এই ধর অফিস থেকে আশার সময় এই শাড়ি টা তোর জন্য এনেছি 


নিশাত : কিন্ত কাকা 


নিশাতের কাকা : চুপ কোনো কথা শুনতে চাই না কাকা বলে এমন করছিস 


নিশাত : না কাকা বাবার পর তো তুমি আমার আরেক বাবা 


কাকা : দেখ তো মা পছন্দ হইছে কি না 


নিশাত : খুব ভালো হইছে । কাকা একটা কথা ছিল 


কাকা : হা বল 


নিশাত : আসলে ভার্সিটিতে অনুষ্ঠান আছে স্যার এর বিদায় তাই 


কাকা : টাকা লাগবে ? কতো টাকা 


নিশাত : না টাকা না আসলে রাতে অনুষ্ঠান তো 


কাকা : তাই কি যা আমি তোকে আনতে যাবানে 


নিশাত : কিন্ত কাকী 


কাকা : তোর কাকীর আব্বুর শরীর ভালো না আসতে দেরি আছে আর ফোন করলে বলবি বাসায় । বাকিটা আমি দেখে নেবো 


নিশাত : আচ্ছা কাকা 


কাকা : অনেক রাত হইছে ঘুমিয়ে পড় 


নিশাত ওর কাকার রুম থেকে এসে শাড়িটা আলমারিতে রেখে ঘুমন্ত ঈশার পাশে শুয়ে পড়ে ।


ভার্সিটিতে নেহা সিনিয়দের থেকে সকল কাজ বুঝে নিচ্ছে ।


নেহা : আজকে ও এই পেত্নী দেরি করছে আজ আসুক একে আমি কাচা চিবিয়ে খাবো 


নেহা বকতে বকতে যাচ্ছে হটাৎ জয়ের সাথে ধাক্কা খায় 


নেহা : আম্মু গো 


জয় : উফফ চোখ কোন জায়গায় রাখছো দেখে চলতে পারো না (বিরক্তি চোখে )


নেহা : আসলে আমি খেয়াল করি নি কিন্ত আপনি তো খেয়াল করতে পারতেন 


জয় : হুম আমি ফোন টিপছিলাম আর তোমার ফ্রেন্ড আসে নি কেনো ?


নেহা : জানিনা আমি ওকে ফোন দিচ্ছি 


জয় : হুম 


নেহা দূরে গিয়ে ফোন দিচ্ছে কিন্ত ধরছে না হটাৎ পিছন থেকে ডেকে উঠে 


নিশাত : আমি এখানে 


নেহা : এতক্ষণ লাগে আসতে কই ছিলি ? একটা দিন সময় মতো আসা যায় না 


নিশাত হাফাচ্ছে কপাল দিয়ে ঘাম পড়ছে 


নেহা : কিহলো বল ?


নিশাত : আরে ভাই একটু নিশ্বাস নিতে দে 


নেহা : তুই এখানে বস আমি পানি আনছি 


নিশাত কিছু বলে না নেহা চলে যায় । 


নিশাত কিছুক্ষণ বসে উড়না দিয়ে মুখ মুছে পাশে তাকাতেই দেখে ঠান্ডা পানির বোতল আর রুমাল ।নিশাত অবাক হয়ে যায় 


নিশাত : এখানে এটা কে রাখলো যাই হোক আগে খেয়ে নিই 


নিশাত ঢকঢক করে পানি খেয়ে রুমাল দিয়ে মুখ ভালো করে মুছে নেয় । রুমালের পাশে খেয়াল করে দেখে একটা চিরকুট ।


নিশাত 


ক্লান্ত মন,ক্লান্ত শহর ,বেলা বাড়ছে কাটছে পোহর

তবুও আমি দাড়িয়ে দেখছি শুধু তোমাকে 


বলবো না কাছে এসো শুধু বলবো 

______আড়ালে_____ভালোবাসবো 


ইতি 

#আড়ালে_ভালোবাসা


নিশাত চিরকুট দেখে থ মেরে বসে হইলো 


নিশাত : কে দিয়েছে এটা আর এইসব কি? তাহলে কি কাল যে এসেছিল সে 


নিশাত এর ভাবনার মাঝে নেহা চলে আসে। নিশাত তাড়াতাড়ি রেখে দেয় 


নেহা : কে দিলো এটা ?


নিশাত : ওই সামনে থেকে আনলাম । আচ্ছা চল ভিতরে অনেক কাজ 


নেহা : সেটা পরে আগে বল এত দেরি হলো কেন ?


নিশাত : আরে বাসায় নতুন কাজের লোক আসছে তাকে সব বুঝিয়ে বের হইছি রাস্তায় কোনো রিকশা পায়নি 


নেহা : তার মানে এত দুর তুই হেঁটে আসছিস 


নিশাত : মাঝ রাস্তায় একটা রিকশা পাইছিলাম সেটাই আসছি 


নেহা : আজ যদি তোর আব্বু বেচে থাকতো হয়তো তোকে কষ্ট করে আসা লাগতো না (মনে মনে ) আচ্ছা কাল থেকে আমি তোকে আনতে যাবো 


নিশাত : ওকে দেখা যাবে 


নিশাত যেতে আড়াল থেকে আরহান বেরিয়ে আসে। 


আরহান : কাছের মানুষের জন্য মাঝে মাঝে কিছু অনুভূতি প্রকাশ করার থেকে আড়ালে রাখা ভালো 


কথাটা বলে আরহান চলে যায় । হলরুমে সবাই কাজ করছে ফিহা দাড়িয়ে দাড়িয়ে সেলফি তুলছে জয় আর নিশাত একে ওপরের হেল্প করছে ।


আরহান এসে নিশাতের দিকে একবার তাকিয়ে ফিহার কাছে যায় 


ফিহা : বেবস আমার কিছু কিউট পিক তুলে দাও 


আরহান : sure 


আরহান ফোন বের করে পিক তুলছে তবে ফিহার পিক না নিশাতের । নিশাত বেলুন ফুলাচ্ছে আর কপালের থেকে চুল সরাচ্ছে। হাজার হাজার বেলুনের মধ্যে নিশাত কে অন্য রকম লাগছে ।


আরহান ফিহা কে নিশাতের বরাবর দার করিয়ে পিক তুলছে যাতে কোনো সমস্যা না হয় ।


ফিহা : দেখি তো কেমন হইছে ? (হাত বাড়িয়ে )


আরহান কি বলবে ভাবছে 


আরহান : আমার চোখের দিকে তাকাও তোমার সৌন্দর্য এই চোখেই আবদ্ধ (নিশাতের দিকে তাকিয়ে )


ফিহা খুশিতে আরহান কে একটা কিস করে বেরিয়ে যায় । আরহান দাড়িয়ে আছে 


অনেকক্ষণ ধরে নিশাত আরহান কে দেখছে। সেটা  

আরহান খেয়াল করেও কিছু বলে না হটাৎ দেখে নিশাত ওর দিকে এগিয়ে আসছে 


আরহান চলে যেতেই নিশাত পিছন ডাকে 


নিশাত : শুনছেন একটু দাড়ান 


আরহান দাড়িয়ে যায় কিন্ত নিশাতের দিকে ফিরে না দেখে নিশাত নিজেই আরহান এর সামনে যায় 


নিশাত : আপনি কাল কোথায় ছিলেন ?


আরহান : মানে?(অবাক হয়ে )


নিশাত : আপনাকে কাল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না কোথায় ছিলেন ? এভাবে কেউ না বলে যায় কোনো দায়িত্ব জ্ঞান নেই 


আরহান নিশাতের আরেকটু কাছে এসে দাঁড়ায় । নিশাত স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছে 


আরহান : যে মায়া ধরে রাখতে পারবে না আমায় সে মায়ায় জড়িয় না আমায় (নিশাতের কানে কানে )


নিশাত পিছনে পড়ে যেতে নিলে আরহান নিশাতের পিঠে ধরে কাছে আনে ।


আবার ফিসফিস করে বলে


আরহান : এত মায়া ভালো না 


নিশাত কি বলবে বুঝতে পারছে না ওর সব কথা বন্ধ হয়ে গেছে তাও নিজেকে ঠিক করে বলে


নিশাত : আমি মানে


আরহান : তুমি মানে কি নিশা পাখি 


নিশাত নিচে তাকিয়ে আছে ওর সব শক্তি যেনো শেষ । আরহান এর শার্ট খামচে ধরে রাখছে ছেড়ে দিলে যেনো পড়ে যাবে ।আরহান আরো শক্ত করে নিশাত কে ধরে 


নিশাত হটাৎ আরহান কে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। আরহান এতক্ষণ ঘোরের মধ্যে ছিল কি হচ্ছিল কিছু 

আরহান এর জ্ঞানে না 


আরহান : ওহ গড আমি এইসব কি করছি আমাকে নিজের উপর কন্ট্রোল রাখতে হবে । নিশার থেকে দূরে থাকতে হবে নাহলে আমি যা চাই না সেটা নিজের ভুলে হয়ে যাবে (মনে মনে )


জয় উপরে দাড়িয়ে হাত বাড়িয়ে বেলুন চাইছে কিন্ত কেউ দিচ্ছে না 


জয় : নিশাত বেলুন দাও ।কি হলো 


কনক সাড়া না পেয়ে দেখে নিশাত নেই দূরে তাকিয়ে দেখে নিশাত বেরিয়ে যাচ্ছে 


জয় : হটাৎ নিশাতের কি হলো ?


জয় ও পিছন পিছন যায় । নিশাত বাইরে এসে জোরে জোড়ে নিশ্বাস নিচ্ছে 


নিশাত : উফ আল্লাহ আর একটু হলে মরে যাচ্ছিলাম এই লোকটা কাছে আসলে আমার এমন কেনো হয় ? (বিড়বিড় করে )


জয় : নিশাত 


নিশাত পিছনে তাকিয়ে হাসি মুখে বলে


নিশাত : হুম বলুন 


জয় : তুমি এভাবে চলে আসলে কেনো ? আর এভাবে ঘামছ কেনো ?


জয়ের কথায় নিশাত কপালে হাত দিয়ে দেখে ঘাম । জয় পকেট থেকে রুমাল বের করে দিতে গেলে নিশাত বলে


নিশাত : লাগবে না আমার কাছে রুমাল আছে চলুন 


জয় : আচ্ছা চলো


নিশাত আর জয় বারান্দা দিয়ে যাচ্ছে । নিশাত ঘাম মুছতে মুছতে যাচ্ছে হটাৎ ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে নিলে কেউ ধরে ফেলে । নিশাত মনে করে জয় 


নিশাত : ধন্যবাদ জয় আমাকে 


বাকিটা বলার আগেই চোখ খুলে দেখে আরহান ধরে আছে । আরহান নিশাত কে সোজা করে দাড় করিয়ে বলে


আরহান : দেখে চলতে পারো না 


জয় : তুমি ঠিক আছো ? 


নিশাত : আমি তো ঠিক চলছিলাম আপনি তো সামনে আসলেন 


আরহান এর রাগ আরো বেড়ে যায় কিছু না বলে চলে যায় । নিশাত এর হটাৎ মনে পড়ে রুমাল যেই গন্ধ পাচ্ছে আরহান এর শরীর দিয়ে একি গন্ধ আসছে


নিশাত : তাহলে কি এইসব আরহান করছে ? কিন্ত কেনো ? (মনে মনে ) 


জয় : কিহলো চলো ?


নিশাত : হা 


নিশাত জয়ের সাথে গিয়ে বেলুন লাগাতে থাকে । প্রায় অনেকটা শেষ বাকিগুলো কাল করবে ভাবছে 


নিশাত : একবার উনার সাথে দেখা করে আসি আমার জানার দরকার আছে 


নিশাত নেহা কে বলে বাইরে যায় । খুঁজতে থাকে কোথায় আরহান আছে । অনেক খোঁজাখুঁজির পর শেষে ছাদে দেখা পায় ।


আরহান পিছন দিকে ফিরে আছে । নিশাত আরহান এর পিছনে দাঁড়িয়ে ডাক দেয় 


নিশাত : আরহান 


আরহান না তাকিয়ে বলে 


আরহান : তুমি এখানে কি করছো ?


নিশাত : এই চিঠি আপনার লিখা তাই না 


নিশাত এর কথায় আরহান নিশাতের দিকে তাকায় 


নিশাত : কিহলো বলেন 


আরহান ....


নিশাত : ওভাবে কি দেখছেন ? বলে এটা আপনার কি না 


আরহান কিছুক্ষণ চুপ থেকে নিশাত কে বলে


আরহান : তুমি নিজেকে কি মনে করো ? খুব সুন্দরী নাকি মিস ওয়ার্ল্ড 


আরহান এর কথায় নিশাত বোবা হয়ে যায় সে কি এমন বললো যাতে আরহান এই কথা বলছে।


নিশাত কাপাকাপা কণ্ঠে বলে 


নিশাত : মানে?


আরহান : মানে বুঝতে পারছো না নাকি বুঝেও না বুঝার ভান করছো ? তোমাদের মত মেয়েদের আমার চিনা আছে ছেলে পটাতে উস্তাদ তুমি ভাবলে কি করে তোমাকে আমি চিঠি লিখবো আমার কি কোনো ক্লাস নেই নাকি ? আমার টেস্ট এত খারাপ না যে তোমাকে ছি 


নিশাত এর চোখ জ্বলজ্বল করছে ।আরহান কি বলছে সব ওর মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে । নিশাত তো ওমন কিছু ভাবেনি 


নিশাত : আমি তো 


আরহান : কি তুমি তো পটাতে চাইছিলে । নিজে একটা ফালতু চিঠি লিখে সেটা আমার নামে চালিয়ে টাকা হাতাতে চাইছিলে হা কত টাকা লাগবে বলো আমি দিয়ে দিচ্ছি । তোমাদের মত মেয়েরা টাকার জন্য সব করতে পারে ভাবলে কি করে আরহান আবরার তোমার ফাঁদে পা দিবে । আমার ভাইকে ও নিজের বসে করে ফেলছ এখন কি আমাকে ও । তোমার সাথে কথা বলে নিজের ইমেজ নষ্ট করতে চাইছি না 


কথাটা বলে আরহান চলে গেলো ।নিশাতের চোখ দিয়ে টুপটাপ পানি পড়ছে । এত অপমান কখনো কেউ করেনি । বাবা মারা যাবার পর আজ অনেক বছর পর নিশাত কান্না করছে । এই প্রথম নিশাতের নিজের উপর ঘৃনা হচ্ছে । নিশাত ভাবতেও পারেনি এভাবে আরহান ওকে অপমান করবে 


আরহান বারান্দার গ্রীলে জোড়ে বারি মারে নিশাত কে এত অপমান করতে চাইনি কিন্ত জয়ের সাথে নিশাতকে দেখে রাগ উঠে যায় আর সেই রাগের জন্য এমন করে ফেলেছে 


আরহান : আজ আমার জন্য নিশার চোখে পানি সব কিছুর জন্য আমি দায়ী । এখন নিশা পাখি আর আমার মুখ দেখতে চাইবে না । কেনো আমি একটু ভালোবাসা পাই না কেনো আল্লাহ কি সব দুঃখ আমাকে দিয়েছে সব থেকে ও আজ আমি অনাথ (মনে মনে)


"পৃথিবীতে সেই সব থেকে বেশি হতভাগা যার সব থেকেও কিছু নেই ।


না পাওয়ার যন্তনার থেকে পেয়ে ও না পাবার যন্তনা

বেশি ।


নেহা অনেকক্ষণ ধরে নিশাত কে খুঁজছে শেষে না পেরে ফোন দেয় কিন্ত নিশাত ধরে না ।


নিশাত চোখ মুখ মুছে নিচে যায় । নেহার সাথে দেখা হতেই নিশাত চোখ নামিয়ে নেয় কারণ নিশাতকে দেখলেই নেহা সব বুঝতে পারবে নেহা কিছু বলার আগে নিশাত বলে


নিশাত : আমার শরীর খুব খারাপ লাগছে বাসায় যাব চল


নেহা আর কিছু বলতে পারলো না নিশাত যাচ্ছে । গেট থেকে বের হবার সময় দেখে আরহান আর ফিহা দাড়িয়ে আছে । নিশাত কে দেখে আরহান ফিহা কে জড়িয়ে ধরে ।


নিশাত আর নেহা কে জয় বাসায় পৌছে দেয় । বাসায় পৌছে নিশাত দরজা আটকিয়ে ওর আব্বু আম্মুর ছবির সামনে দাঁড়ায় 


নিশাত : কেনো ছেড়ে চলে গেলে কেনো ? আজ তোমরা থাকলে আমাকে এত অপমানিত হতে হতো না কখনোই না কেনো আমাদের একা করে গেলে কেনো (কান্না করতে করতে )


নিশাত কান্না করছে হটাৎ চোখ মুছে ফেলে 


নিশাত : না আমি কেনো কান্না করবো কিসের জন্য ? ওই লোকটার মন মানসিকতা নিচু তার জন্য আমি কেনো কষ্ট পাবো তার ফলের শাস্তি সে পাবেই । অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সয় দুইজনে সমান অপরাধী । মিস্টার আরহান আবরার তোমাকে তোমার পাপের শাস্তি পেতেই হবে এই নিশাত তোমাকে বুঝাবে কাউকে কষ্ট দিলে কেমন লাগে 


কথাটা বলে নিশাত চোখ মুছে ওয়াশরুমে যায় ।


চলবে


(যাদের কাছে অতীত ভালো লাগছে না তারা কিছু দিন পড়া ওফ রাখুন অতীত শেষ হলে আবার পড়বেন খুব তাড়াতাড়ি অতীত শেষে হবে । গল্পটা শুরু করলাম কবে 😕 । ভুল হলে ক্ষমা করবেন ১০টা ঝাল খেয়ে আমার অবস্থা খারাপ হ্যাপি রিডিং)#আড়ালে_ভালোবাসি

#নুসরাত_জাহান_অংকুর

#পার্ট_৭


ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসতেই ঈশার ডাক 


_"এই আপু খুল কতক্ষন লাগে তাড়াতাড়ি খুল না 


নিশাত মাথা ঠান্ডা করে দরজা খুলতেই ঈশা নিশাতের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কান্না করে দেয় 


_"এই আপু তোর কি হইছে আমাকে বল তুই তো কখনো দরজা আটকিয়ে থাকিস না । আজ এসে একবার ও আমার দিকে তাকালি না । আমি কি কিছু করেছি বল না আপু প্লীজ 


নিশাত এর রাগ জেদ ফুস হয়ে যায় । ইশা কে জড়িয়ে ধরে বলে


_"ওই পাগলী মেয়ে তুই কান্না করছিস কেন?জানিস না অতিরিক্ত চাপে থাকলে আমি একটু একা থাকতে চাই । এই টুকু ব্যাপারে কেউ কান্না করে চোখ মুছ


_"না আপু তোর কিছু একটা হইছে আশার সময় দেখলাম চোখ ফোলা । আমাকে বল কি হইছে কেউ কিছু বলছে কি না 


নিশাত ঈশার মাথার চুল টেনে আদরে কণ্ঠে বলে


_"খুব বড়ো হয়ে গেছিস তাই না হুম ? আমার কিছু হয়নি আর তুই না খেয়ে এখানে কি করছিস ? দুপুরে খাস নি কেনো ? কোন বিএফ এর সাথে ঝগড়া করছিস (ভ্রু কুচকে )


ঈশা অবাক হয়ে মাথায় হাত দিয়ে বলে


_"আপু তুই এইসব কি বলছিস আমার আবার বিএফ আসবে কথা থেকে ?আমি তো তোর জন্য খাইনি ভাবলাম তুই আসলে এক সাথে খাবো কিন্ত তুই তো ঘরে বসে আছিস আর bf তো তোর আছে 


_"টেনে দেবো এক চর । খুব পাকা হইছিস তাই না 


_"হ্ন শুধু আমার দোষ তোর বিএফ না থাকলে এই ফুল আর চকোলেট কে দিলো বল


নিশাত এর সামনে ফুলের বুকে আর চকোলেট বক্স ধরে । নিশাত অবাক হয়ে দেখছে 


_"আমার তো কোনো বিএফ নেই তাহলে এই গুলো কে দিলো? 


নিশাত নেরে ছেড়ে দেখে ফুলের ভিতর একটা ছোট চিরকুট। তাতে লেখা 


' ভালো যে বাসে সে কখনো অপমান করে না 

শাসন করে ।শুধু বুঝে নিতে হয় 


তোমার চোখে বৃষ্টি না মুখে হাসি দেখে শেষ 

নিশ্বাস ত্যাগ করতে চাই ।


মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার এই চোখ তোমার মুখে হাসি দেখতে চায় ।


ইতি আড়ালে ভালোবাসা 


নিশাত চিরকুট পড়ে ভাবতে থাকে কে লিখেছে পাশ থেকে ঈশার কথা । নিশাত এর ভাবনার ছেদ ঘটে 


_"কিরে আপু প্রেম করছিস আমাকে বললি না যাই হোক জিজুর নাম কি রে ?


_"এক থাপ্পর দেবো কিসের প্রেম ? ছোট ছোট হয়ে থাক আর এই গুলো 


নিশাত ফুল আর চকোলেট নিয়ে বাইরে ফেলে দেয় । ঈশা বিরক্তি নিয়ে বলে


_"আপু তোর মধ্যে কি কোনো রস কস নেই ? কেউ একজন ভালোবেসে দিয়েছে আর তুই ফেলে দিলি এতে কিন্তু তুই তার ভালোবাসা কে অপমান করলি । আর অন্যের ভালোবাসা কে অপমান করার অধিকার তোর নেই 


_"এই তুই চুপ কর যা পড়তে বস । এইসব মাথায় আনবি না শুধু জেনে রাখ তোর জন্য আমি আর আমার জন্য তুই এনাফ আর কাউকে লাগবে না


কথাটা বলে নিশাত নিচে যায় আর ঈশা ভাবতে থাকে 


_"কে আমার এই বদমেজাজি বোনের প্রেমে পড়লো তাকে তো দেখতে হয় ইসস কি সুন্দর ফুল গুলো ফেলে দিল 


নিশাত নিচ থেকে চিল্লিয়ে ডাকছে ঈশা তাড়াতাড়ি নিচে যায় । ঈশা যেতেই নিশাত রাগী গলায় বলে


_"খাওয়া কি লাগবে না ? দিন দিন শুটকি মাছ হচ্ছিস আমার জন্য না খেয়ে থাকার কি দরকার ?কাল থেকে যদি এমন হয় তাহলে খাবার এর থেকে বেশী মার খাবি 


ঈশা জড়িয়ে ধরে আদরে গলায় বলে


_"তুই আমাকে কখনো মারতে পারবি না সেটা আমি জানি 


_"খুব জানছ এখন খেয়ে নাও হা কর 


নিশাত ঈশা কে খাইয়ে দিচ্ছে আর ঈশা নিশাতকে । দুই বোনের এই মধুর সম্পর্ক দেখলে চোখ জড়িয়ে যায় । কয়জনের ভাগ্যে নিশাতের মত একটা বড় বোন জুটে ।


এদিকে 

রাস্তায় ফুল আর চকোলেট গুলোর দিকে তাকিয়ে আরহান একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে 


_"আজ সত্যি আমি নিশা পাখি কে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি । সেই কষ্টের কাছে এটা সামান্য। কষ্ট যখন দিয়েছি মুখে হাসি ফুটানোর দায়িত্ব আমার সামনে না হক আড়ালে 


 

কথাটা বলে আরহান কাউকে ফোন করে 


_"আমার এক্ষুনি লাগবে আর্জেন্ট 


.....


_" ওকে পাঠিয়ে দাও 


ফোন রেখে আরহান বাকা হেসে নিশাতের বারান্দার দিকে তাকিয়ে বলে


_" কিভাবে রাগ করে থাকো আমিও দেখবো নিশা পাখি 


রাতে নিশাত শুয়ে আছে তখনই নিশাতের ফোনে একটা মেসেজ আসে unknown number থেকে 


মেসেজে লিখা 


' এই তো আমি আছি তোমার 

কাছাকাছি ,ছাদে আসলে পাবে খুঁজে


অজানা ভালোবাসাকে 


নিশাত মেসেজ দেখে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে আর ভাবছে 


_"কে এই লোক যে আমার ব্যাপারে সব জানে আমার নাম্বার পেলো কোথায় ? যাওয়া কি ঠিক হবে ? না না নিশাত তুই পাগল হলি কে না কে তোকে যেতে বলবে আর তুই সুরসুর করে চলে যাবি থাক যাবার দরকার নেই 


একটু পর আবার মেসেজ আসে 


"কি হলো ভয় পাচ্ছো ? মানুষের সাথে না মিশলে বুঝবে কি করে কেউ ভালো কে খারাপ 


নিশাত এবার ফোন ওফ করে ঘুমিয়ে পড়ে । 


ঈশা কাদঁছে নিশাত ঈসাকে খুঁজে পাচ্ছে না ঈশা চিৎকার করে বলছে আপু আমাকে বাঁচা আমাকে এখান থেকে নিজে যা ।


নিশাত পাগলের মত খুঁজে বেড়াচ্ছে কিন্তু ঈশা কে পাচ্ছে না । অনেক খুজাখুজি করার পর ঈশা কে পেলো নিশাত ঈশার কাছে যাবার আগে কেউ একজন ঈশা কে অন্ধকার এর মধ্যে নিয়ে যায় 


_"নাআআআআআআআআআস 


নিশাত চিৎকার করে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠে । কপাল বেয়ে ঘাম পড়ছে পুরো শরীর ঘেমে গেছে । চোখে পানি । নিশাত বিছানা থেকে নেমে উঠে চারিদিক ঈশা কে খুঁজতে থাকে । ঈসাকে ঘরে না পেয়ে নিচে চলে যায় 


নিশাত এর কাকু হাসাদ খান চা খাচ্ছে নিশাত কে এই আবে দৌড়ে আসতে দেখে তিনি চিন্তিত হয়ে বলে।


কাকা : কিরে মা এভাবে দৌড়াচ্ছিস কেনো ? আর একি অবস্থা তোর 


নিশাত কোনো কথায় কান না দিয়ে ওর কাকা কে বলে


_"ইসু কই কাকা ? ওকে দেখছি না কেনো ? বল আমাকে কোথায় ও


_"মা তুই একটু শান্ত হও ঈশা আছে এখানেই আছে 


_"না আগে আমাকে বলো 


_"ঈশা তো ছাদে গেছে 


নিশাত এক দৌড়ে ছাদে চলে যায়। গিয়ে দেখে ঈশা বসে আছে ।নিশাত গিয়ে জড়িয়ে ধরে 


_"আপু তুই কি হইছে ?


_"তুই আমাকে না বলে এখানে আসলি কেনো ? আর আমাকে ডাকলি না কেনো ?জানিস কত ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম আর কখনো আমাকে না বলে কোথাও যাবি না 


_"আপু তুই ঠান্ডা হো তুই ঘুমাচ্ছিলি দেখে আমি আর ডাকি নি । প্রতিদিন তো ভোরে উঠিস আজ না হয় একটু ঘুমালি তাই 


_"হুম বুঝছি তুই অনেক বড় হয়ে গিয়েছি 


_"আমি এমনি তেই বড়ো শুধু তোর চোখে পড়ে না 


_"পাকনা বুড়ি 


_"আপু জানিস কি হইছে ?


_"না বললে কি করে জানবো ?


_"সেটাই তো দেখ আপু কাল ছাদে কেউ কি সুন্দর করে ফুল গাছ লাগিয়ে গেছে 


নিশাত ঈশার কথায় ছাদের চারিপাশ তাকিয়ে দেখে অনেক রকম ফুল গাছ লাগানো । 


_"তাহলে কি কালকে কে মেসেজ দিয়েছিল সে করেছে এই সব কিন্ত কেনো ? কি চায় ? 


ঈশা নিশাতের হাত ধরে অন্য পাশে নিয়ে বলে


_"দেখ আপু দোলনা কি সুন্দর ফুল দিয়ে সাজিয়েছে কত সুন্দর লাগছে । আমি বসছি তুই আমার কিছু পিক তুলে দে 


নিশাত হা করে দেখছে সব তার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে 


_" আমার জন্য এত কিছু কে করবে ? কিসের জন্য ? 


_"কিরে আপু ছবি তুলে দে হা করে কি শুধু দেখবি 


নিশাত ঈশার কিছু ছবি তুলে দেয় । ঈশা সেইগুলো দেখছে আর নিশাত ছাদ এর চারপাশে চোখ বুলাচ্ছে 


_"আপু চল খুদা লাগছে । রিনা অ্যান্টি (কাজের লোক ) রান্না করেছে চল


ঈশা নিশাত কে টেনে নিচে নিয়ে যায় । নিশাত ফ্রেশ হয়ে নেয় তবুও ওর মাথা থেকে এই চিন্তা যাচ্ছে না কে করলো এইসব ।


ঈসাকে টাটা দিয়ে ভার্সিটির জন্য বের হতে যাবে তখনই নেহা এসে হাজির । নেহা নিশাতকে কিছু বলতে না দিয়ে বলে


_"গাড়িতে উঠলে আমি খুব খুশি হতাম 


নিশাত বুঝলো মামলা গম্ভীর তাই কোনো কথা ছাড়া গাড়িতে উঠে বসে । নেহা মুখ গম্ভীর করে বসে আছে আর নিশাত তো ভাবনা মগ্ন। নেহা ভাবছে নিশাত হয়তো রাগ ভাঙ্গানোর চেষ্টা করবে কিন্ত সে তো নিজের চিন্তায় ব্যাস্ত দেখে নেহা বলে


_"আমি যে কারোর উপর রাগ করেছি সেটা কি কেউ বুঝছে নাকি বুঝেও না বুঝার ভান করছে 


.....


নিশাত এর কোনো রেসপন্স না পেয়ে নেহা নিশাত কে ধাক্কা দিয়ে বলে


_"এখানে আমি আছি আপনি কোন রাজকুমারের চিন্তায় মগ্ন (গম্ভীর কণ্ঠে )


নিশাত এবার নেহা কে ভালো করে দেখে বলে


_"কিছু বললি?


_"বাহ এখন আমার কথা কারোর কানে যাচ্ছে না আমি যে গাধার মত বকছি সেটা কেউ শুনছে না । তোর মন কই থাকে আর ফোন সেটা বন্ধ কেনো? কাল রাতে কত বার ফোন দিয়েছি সকালে ফোন দিয়েছি কিন্ত ম্যাডাম এর ফোন খুলা থাকলে তো 


নেহার কথায় নিশাতের কালকে ফোন বন্ধ করার কথা মনে পড়ে তাড়াতাড়ি ব্যাগ থেকে ফোন বের করে অন করে । কিছুক্ষণের মধ্যে মেসেজ আসতে থাকে ৫৬টা মেসেজ আসছে সেই নাম্বার থেকে 


_"এই যে ম্যাডাম আমি কিছু বলছি উত্তর কি দেওয়া যাবে (রেগে )


_"সরি জানু ফোনের চার্জ ছিল না এই দেখ এখন অন করলাম আর তুই তো জানিস আমার ফোন চালাতে বেশি ভালো লাগে না 


_"টা লাগবে কেনো? তোর তো একটা বোন আছে ইসস আমার যদি একটা বোন থাকতো কত মজা হতো 


ওদের কথার মাঝে ভার্সিটিতে চলে আসে । নেহা আর নিশাত কথা বলতে বলতে যাচ্ছে তখনই জয় সামনে এসে দাড়ায়। মুখে মিষ্টি হাসি টেনে বলে


_"তো ম্যাডাম এর মুড কি ঠিক হয়েছে ?


নিশাত মুচকি হাসি দেয় । জয় ও হেসে বলে 


_"আমার ফ্রেন্ডের এই হাসিতে হাজারো ছেলে আহত । তো কাল তোমাকে কতবার ফোন দিয়েছিলাম বন্ধ কেনো ?


নিশাত মাথায় হাত দিয়ে বলে


_"হায়রে একদিন ফোন বন্ধ আর সেইদিন সবাই ফোন দিচ্ছে আর অন্যদিন ফোন অন থাকলে কারোর খোজ পাওয়া যায় না 


(এটা সত্যি কথা )


নিশাত এর কথায় নেহা আর জয় হেসে দেয় । সাথে নিশাত ও 


জয় নিশাত নেহা কথা বলতে বলতে যাচ্ছে দুইতলা থেকে কেউ একজনের ওদের দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । 


হলরুমে যাওয়ার আগে নিশাত আরহান কে দেখতে পেলো । আড় চোখে একবার তাকিয়ে আবার অন্য দিকে ফিরে তাকায় । আরহান এর চোখ লাল হয়ে আছে কপালে দুই একটা দাগ মশা কামড়ানোর । নিশাত সেই সব পাত্তা না দিয়ে নিজের মত চলে যায় 


আরহান রাগী দৃষ্টিতে নিশাতের দিকে তাকায় 


_" আমার ঘুম হারাম নিজে কত শান্তিতে ঘুমিয়েছে সারারাত মশার কামড় খেয়ে দাগ বসে গেছে আর মহারানী এসেই জয়ের সাথে যোগের মত লেপ্টে গেছে । এত কিসের খাতির ওকে আমাকে মশার কামড় খাওয়ানোর শাস্তি তুমি পাবেই (মনে মনে )


এদিকে নিশা হলরুমে বসে কাজ করছে আর ভাবছে 


_"কাল আমাকে অপমান করা আজ মজা বুঝবে just wait and see (মনে মনে )


নিশাত ঝালমুড়ির দোকান থেকে অনেকগুলো ঝাল নিয়ে নিজের উড়না আড়ালে লুকিয়ে ফেলে । চুপি চুপি আরহান এর গাড়ির কাছে যায় । গাড়িটা ভালো করে দেখে চাকার কাছে বসে পড়ে 


বসে গাড়ির হাওয়া ফুস করে দেয় 


_"একটা করলে হবে নাকি আরো করবো ? আরে আমি কি পাগল একটা করা যা হাজার টা করা তাই । এখন আসল কাজ 


নিশাত গাড়ির দরজা টান দিতেই খুলে যায় ।নিশাত তো মহা খুশি । আরহান এর গাড়ির কাছে কেউ আসার সাহস পায় তাই লক খুলে রাখা ।নিশাত গাড়ির ভিতর ঢুকে যায় 


একটু পর বেরিয়ে ডেভিল স্মাইল দেয় ।


_"তুমি আমাকে অপমান করেছো আমি তোমার ঐ ঠোঁট জ্বালিয়ে দেবো হ্ন (বিড়বিড় করে )


নিশাত মাথায় উড়না পেচিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । 


এদিকে আরহান হলরুমে আশে পাশে তাকিয়ে দেখছে নিশাত আছে কি না । আস্তে আস্তে নিশাতের ব্যাগ এর কাছে যায় । চারিদিক ভালো করে তাকিয়ে দেখে নিশাতের ব্যাগে প্লাস্টিক এর সাপ ঢুকিয়ে দেয় 


_"নিশা পাখি আমি জানি তুমি সাপ খুব ভয় পাও এটা কালকে আমাকে মশার কামড় খাওয়ানোর জন্য (মনে মনে )


চলবে 

সব পর্বের লিংক এক সাথে, যারা লিংকে ডুকতে পারেন না ইনবক্স করেন👇

https://www.facebook.com/groups/562897133567337/permalink/655056364351413/?app=fbl


(দুইজন নিজেদের প্ল্যান মত করছে কি হবে এদের । ভাবছি এদের আলাদা করে দেবো দুইজন এক রকম বিয়ে দিলে মারামারি করে শেষ তখন আমাকে কেস সামলাতে যেতে হবে । কেমন হইছে জানাবেন আপনাদের কমেন্ট এর উপর আগামী পর্ব নির্ভর ।বুঝছি না এত কষ্ট করে এত বড় বড় পার্ট দিচ্ছি অথচ কেউ কোনো ভালো রিভিউ দেয় না আর না কমেন্ট করে গল্পটা কি এতই খারাপ তাহলে বাদ দেবো । promsie কাল থেকে আর লিখবো না ভালো থাকেন)

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url