গল্পঃ #আড়ালে_লুকিয়ে_কে
লেখিকাঃ #মিশু
পর্বঃ (৪+৫)
রাত ১২:০০ টা।
চুপচাপ ঘরে সুয়ে আছে তিহান। হঠাৎ হালকা নূপুরের আওয়াজ। নূপুরের আওয়াজ শুনতেই হাসিঁ ফুটে তিহানের মুখে। তখনি তিহানের বাহুু স্পর্শ করে কেউ। পরিচিত সুগন্ধি চিনতে পেরেই একটানে মেয়েটাকে নিজের কাছে টেনে নেয় তিহান। তারপর আলতো করে জড়িয়ে ধরে ভালো করে দেখে নেয় তার খুব কাছে থাকা রূপবতী নারীটিকে।
ঠোটে হালকা গোলাপি রঙের লিপস্টিক। চোখে গাঢ় করে কাজল, চুলগুলো খোলা, পড়নে কালো রঙের শাড়ি আর মুখে লজ্জা মাখা হাসিঁ কি যে সুন্দর লাগছে?
তিহান কে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে রূপবতী নারীটি খিলখিল করে হেসেঁ উঠে। তারপর বলে, কি দেখছো অমন করে?
তিহান মুচকি হাসিঁ হেসে বলে, এই যে আমার পাশে থাকা রূপবতীকে।
মেয়েটি হেসেঁ বলে, তাই বুঝি? কি দেখছো বলতো? আজ কি নতুন দেখছো আমাকে? দেখতে দেখতে তো আমি এখন পুরোনো হয়ে গে.......
মেয়েটি কথা সম্পূর্ণ করার আগেই তিহান মেয়েটির ঠোট নিজের দখলে করে নেয়। কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দিয়ে বলে, কে বলেছে তোমাকে মিরা? তুমি সবসময় আমার কাছে ইউনিক। প্রত্যেকদিন আমার তোমাকে নতুন লাগে। এই যে তোমার কাজল দেওয়া টানা টানা চোখে যখন আমার দিকে তাকাও আমি তোমার থেকে দূরে যেতে পারি না। তোমার গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোট চুম্বকের মতো টানে তোমার দিকে। তোমার খোলা রেশমি চুলের যে সুগন্ধ ইস পাগল করে দেয় আমাকে?
আচ্ছা মিরা কি জাদু আছে বলতো তোমার মধ্যে যে আমি তোমার দিকে যতবার তাকাই বারবার হারিয়ে যাই?
মিরা হাসতে হাসতেই এইবার থেমে যায়। মুখটা গম্ভীর করে বলে, হ্যা হারিয়েই তো যাচ্ছিলে? তুমি তো দিব্যি নতুন বউয়ের সাথে বাসর করতে কিন্তুু আমি কিভাবে থাকতাম বলতো?
তিহান মিরাকে আরো কাছে টেনে গালে একটা চুমু দিয়ে বলে, বিয়েটা তো হয় নি মিরা? দেখো না আমি তো এখনো তোমারই আছি। এই যে দেখো তোমার কত কাছে?
মিরা আবারো বলে, হ্যা তিহান আজ নাহয় বিয়েটা হয় নি কিন্তুু কাল? তোমার বাবা তো উঠে পরে লেগেছে তোমার বিয়ে দেওয়ার জন্য। তোমার বিয়ে হয়ে গেলে আমার কি হবে তিহান? আমি তোমাকে হারাতে চাই না।
তিহান আদরমাখানো গলায় বলে, আরে কালকের টা কালকে ভাববো। এখনের টা এখন ভাবতে দাও। এইসব বিয়ের ঝামেলায় কতদিন তোমাকে কাছে পাই নি বলোতো? এখন একটু মন ভরে আদর করতে দাও। আর তোমার এতো কিসের চিন্তা বলতো? বউ বউয়ের মতো থাকবে তুমি তোমার মতো। বউ আসলেই কি আমি তোমাকে আদর করবো না? এখন ও তোমাকে যেভাবে আদর করি তখন ও সেইভাবেই করবো।
মিরা কিছু বলতে চাইলো কিন্তুু তিহান আর কিছু বলার সুযোগ দিলো না। মুহুর্তেই মিরাকে নিজের দখলে করে নিলো। মিরাও মুখ ফিরিয়ে থাকতে পাড়লো না সমান তালে তিহানকে রেসপন্স করতে লাগলো। একসময় দুইজন হারিয়ে গেলো এক নিষিদ্ধ ভালোবাসায়।
সকাল ৬:০০ টা।
ধরপড়িয়ে ঘুম থেকে উঠলো মিরা। ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখে ৬ টা বাজে। মনেমনে বললো, ইস সকাল হয়ে গেছে। কিভাবে যে ম*রার ঘুম ঘুমিয়েছিলাম? এই বলেই তাড়াহুড়ো করে বিছানা থেকে নামতে যায় তখনই তিহান হেঁচকা টানে মিরাকে আমারো নিজের কাছে টেনে নেয়৷
মিরা ফিসফিসিয়ে বলে, কি হচ্ছে টা কি তিহান? ছাড়ো বলছি? দেখো অলরেডি ৬:০০ টা বেজে গেছে।তোমার মা-বাবা ঘর থেকে বের হবে এক্ষুনি? যেতে দাও আমায়। জানো তো সকাল বেলা তোমার বাবার আমার হাতের চা না হলে চলেই না।
তিহান নেশা জড়ানো গলায় বলে, আমারো যে তোমাকে ছাড়া চলে না মিরা?
মিরা তিহানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বলে, এখন এত ভালোবাসা দেখাতে হবে না। কাজ আছে আমার। তোমার ভাইকেও পরিষ্কার করতে হবে। ভালোবাসা আবার রাতে দেখাবে।
কথা বলেই মিরা আর দেড়ি করে না ঘরের দরজা খুলে চারিদিকে একবার চোখ বুলিয়ে দেখলো না কেউ উঠেনি তারপর জোড়ে জোড়ে হেঁটে চলে যায় নিজের ঘরে।
ঘরে ঢুকতেই দূর্গন্ধ নাকে আসে মিরার। রাগে ঘৃণায় মুখ কুচকে নেয়। তারপর তাকায় বিছানায় সুয়ে থাকা তার স্বামী আসরাফের দিকে। তারপর বিরক্তি নিয়ে আসরাফকে পরিষ্কার করে ওয়াসরুমে গোসল করতে ঢুকে। এদিকে সবকিছু দেখে আসরাফের চোখ থেকে এক ফোটা জল গড়িয়ে পরে।
ব্যারিস্টার কামালের দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে আসরাফ মেজো তিহান আর মেয়ে ছোট নাহিদা। নাহিদা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তাই সেইখানেই থাকে। পরীক্ষা থাকার জন্য তিহানের বিয়েতেও আসতে পারেনি। তিহান পড়াশুনা শেষ করে ইঞ্জিনিয়ার। বাড়ি থেকেই অফিসে যাতায়াত করে। আর আসরাফ ছিলো আর্মির মেজর। একটা এক্সি/ডেন্টে বর্তমানে কোমায় আছে। আর আসরাফের বউ হলো মিরা। বিখ্যাত ব্যাবসায়ি আরাফাক চৌধুরীর মেয়ে। কামাল সাহেব নিজে পছন্দ করে সুন্দর নম্র ভদ্র শিক্ষিত মেয়ে নিজের ছেলের জন্য এনেছিলেন। বিয়ের পর থেকে মিরা অবশ্য আদর্শ বউমা হয়েই এই বাড়িতে রয়েছে। প্রথম বছর আসরাফের সাথেও খুব ভালো সম্পর্ক ছিল কিন্তুু আসরাফ তখন মিরাকে বাড়িতে রেখে চাকরিতে চলে যেতো। অনেকদিন পর পর ছুটিতে আসতো এটা মিরা মানতে পারেনি। একসময় দুইজনের মধ্যে দুরুত্বের সৃষ্টি হয়। আর তখনি ধীরে ধীরে তিহানের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর আসরাফ মিরাকে নিজের কাছে নিতে চাইলেও মিরা যায় নি কারণ মিরার মনে তখন তিহানের বাস। এইভাবে কেটে যায় তিনবছর। এরমধ্যে একটা গাড়ি এক্স/ডেন্টে আসরাফ কোমায় চলে যায়।
আসরাফ কোমায় যাওয়ার পর অবশ্য মিরার বাবা - মা এসেছিল নিয়ে যেতে কিন্তুু মিরা যায় নি। বলেছে বিয়ে একবারই হয় সেটা ওর হয়ে গেছে। অসুস্থ স্বামীকে ছেড়ে কোথাও যাবে না। তখন থেকেই মিরা সবার চোখে একটু বেশি আদরের। যদিও তিহানের সাথে একটু বেশিই গভীর সম্পর্ক ততদিনে হয়ে গেছে। যা দিনের বেলায় একরকম থাকে আর রাতের বেলায় আরেকরকম।
দিনের পর দিন দুইজন নোংরা নিষিদ্ধ সম্পর্কে জড়িয়ে রয়েছে। এর কোনো ভবিষ্যৎ নেই দুইজনেই জানে, তবে আবেগ আর জাগতিক মোহ এদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তার আচ হয়তো দুইজনেই পাচ্ছে না।
একটুপর মিরা গোসল করে বের হয়ে রান্নাঘরে যায়। গিয়ে দেখে মহিমা খালা তরকারি কাটাকুটি শেষ করে রুটু বানাচ্ছে। মিরা গিয়ে ফটাফট চুলায় চা বসিয়ে দেয়। কামাল সাহেব প্রত্যেকদিন সকালে মিরার চা দিয়েই দিন শুরু করে। চা কাপে ঢালা শেষ হতে হতেই কামাল সাহেব এসে ড্রয়িং রুমে সোফায় বসে বললো, মা মিরা চা হয়েছে?
মিরা মাথায় কাপড় দিয়ে চা নিয়ে এসে বললো, হ্যা বাবা।
কামাল সাহেব বললেন, বাহ খুব ভালো হয়েছে মা চা।
মিরা হেসেঁ বললো, বাবা একটা কথা বলার ছিল?
কামাল সাহেব বললেন, বলো মা?
মিরা বললো, বাবা আপনার ছেলেকে একবার ডাক্তার দেখাতে হবে। দুইমাস পর নিয়ে যেতে বলেছিল দুইমাস হযে গেছে?
কামাল সাহেব বললেন, ঠিক আছে মা। তিহানকে সাথে নিয়ে যেও।
মিরা বললো, আচ্ছা বাবা।
একটু পর সকালের নাস্তা করে কামাল সাহেব চলে যায়। তারপর মিরা আর মিরার শাশুড়ী আর মহিমা খালা নাস্তা করে। বলা দশটার দিকে তিহান এসে খাবার খায়। মিরা তিহানকে বলে।একটুপর তিহানের সাথে আসরাফকে নিয়ে মিরা ডাক্তারের উদ্দেশ্য বের হয়।
-------------------------
এদিকে সারারাত গেছে নাবিল আমার সাথে কথা বলে নি। আমিও রাগ করে কথা বলিনি। সকালবেলা নাস্তা বানিয়ে খেয়ে শাশুড়ীকে চেকাপ করানোর জন্য ডাক্তারেে কাছে নিয়ে গেলাম।
দুইদিন হলো শাশুড়ীর শ্বাসকষ্ট বেড়েছে। তাই সকাল সকাল ডাক্তারে কাছে চলে আসলাম। কিন্তুু ডাক্তার আসলো সেই দশটায়। একটুপর আমাদের ডাকলো। ডাক্তার দেখানো শেষে হাসপাতাল থেকে বের হতেই দেখলাম তিহান আর ওর ভাবী ওর ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে আসছে। মনটা ভালো নেই কাল থেকে তাই সেদিকে খেয়া না করে শাশুড়ী মাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে এলাম। তখনি শাশুড়ী মা বললেন, এই যা বৌমা আমার চশমাটা তো হাসপাতালের বাতরুমে রেখে এসেছি?
আমি শাশুড়ীকে সামনের দোকানের চেয়ারে বসিয়ে রেখে হাসপাতালের ভেতরে গেলাম। ভেতরে গিয়ে বাতরুমের দরজা খুলতেই দেখি তিহান আর তিহানের ভাবী ঘনিষ্ট অবস্থায় দাড়িয়ে রয়েছে। আমাকে দেখেই একে অপরের থেকে ছিটকে যায়। এইদিকে আমার চোখ খুলে যাওয়ার উপক্রম। এ কি দেখছি আমি চোখে? তিহানের সাথে ওর ভাইয়ের বইয়ের এইরকম নোংরা সম্পর্ক রয়েছে?
----------------------------------------------
দরজায় কলিং বেল শুনে দরজা খুলে নাবিল। দরজা খুলে দেখে ইন্সপেক্টর তাকরিম। নাবিলকে দেখে তাকরিম হেসেঁ উঠে বলে, কেমন আছেন মিস্টার নাবিল? কি হলো হা হয়ে দাড়িয়ে আছেন কেন? ভেতরে আসতে বলবেন না?
নাবিল মুচকি হেঁসে বলে, আরে না স্যার কি বলেন? ভেতরে আসুন।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, হুম। তা আপনার ওয়াইফ ঋতু বাসায় নেই?
নাবিল বলে, না। ঋতু মাকে নিয়ে হাসপাতালে গেছে।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলে, আচ্ছা।
নাবিল তাকরিম কে বসতে দিয়ে টুপ করে রান্নাঘরে গিয়ে ফ্লাস্কে থেকে দুইকাপ চা ঢেলে নিয়ে আসে।
তাকরিম দেখে বলে, এসবের দরকার ছিল না মিস্টার নাবিল। তারপরও নিয়ে আসলেন যখন থ্যাংক ইউ। বাহ চা টা তো বেশ ভালো তা আপনি বানিয়েছেন?
নাবিল বলে, না ঋতু বানিয়েছে। চা বানিয়ে ফ্লাস্কে রেখে গেছে।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলে, ওহ তা ওনার রান্নার হাত নিশ্চয়ই খুব ভালো?
নাবিল বলে, হ্যা। সব দিক দিয়ে পার্ফেক্ট। সবকিছু একসাথে সমালায়।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলেন, লাভ ম্যারেজ আপনাদের?
নাবিল বলে, না লাভ ম্যারেজ নয় তবে আমি ঋতুকে দেখে পছন্দ করেছিলাম তারপর ওর বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাই তারপর পারিবারিক ভাবেই বিয়েটা হয়।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলেন, ওহ। আচ্ছা আপনার আর হাবিবার মধ্যে কেমন সম্পর্ক ছিল?
নাবিল বলে, কেমন সম্পর্ক মানে? কি বলতে চাইছেন আপনি?
ইন্সপেক্টর তাকরিম হেসে উঠে বলে, আরে বাবা শান্ত হোন মিস্টার নাবিল। এমনি জিজ্ঞেস করলাম হাবিবা তো আপনার শালি ছিল আর শালি তো আধি ঘরওয়ালি হয় তাই জিজ্ঞেস করছিলাম?
নাবিল বলে, দেখুন হাবিবাকে আমি সবসময় ছাত্রীর চোখে দেখেছি। ঋতুর সাথে বিয়ের আগে থেকেই হাবিবা আমার স্টুডেন্ট ছিল তাই ওকে অন্যরকম ভাবার কোনো মানেই নেই?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলে, আপনার দিকটা বুঝলাম কিন্তুু হাবিবা আপনাকে কি মনে করতো?
নাবিল বেশ খানিকটা রেগে গিয়ে বলে, দেখুন কি বলতে চাইছেন আপনি? ও ছোট মানুষ ছিল। কি ভাববে আমাকে?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলে, আমি কি বলতে চাইছি আপনি বেশ ভালোই বুঝতে পারছেন। যদি না ও বুঝেন তো আমি সোজাভাবে বলছি। হাবিবা আপনাকে স্যার ও মনে করতো না দুলাভাই ও মনে করতো না ও আপনাকে ভারোবাসতো। আর এটা যথেষ্ট পরিমানে বাড়াবাড়ি ছিল?
নাবিল উঠে দাড়ায় তারপর বলে, কি বলছেন টা কি?
ইন্সপেক্টর তাকরিম ও জোড় গলায় বলে, হ্যা। এমনকি ও আপনার জন্য কিছুদিন আগে সুইস/ইড এটেম করতে ও গিয়েছিল? আর সেইদিন ওর কাছে যেই চিঠিটা পেয়েছি সেটা আগের লেখা চিঠিটাই? কি ঠিক বলছি তো মিস্টার নাবিল?
নাবিল টেবিল থেকে জল নিয়ে ঢকঢক করে খায় আর মনেমনে বলে, সরি হাবিবা আমি তোমাকে কথা দিয়েছিলাম এই বিষয়ে কেউ জানবে না কিন্তুু এইবার সব সত্যিটা আমাকে জানাতেই হবে।
চলবে...................
গল্পঃ #আড়ালে_লুকিয়ে_কে
লেখিকাঃ #মিশু
পর্বঃ (৫)
বোরকা পড়া সাথে হিজাব দিয়ে মুখ ঢেকে থাকার জন্য তিহান বা তিহানের ভাবি মিরা আমাকে চিনতে পারে নি। আমাকে অপ্রস্তুত অবস্থায় দাড়িয়ে থাকতে দেখে তিহান ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে গেলো। মিরা নিজের শাড়ি ঠিক করে নিয়ে বললো, এই যে মিস এখনো এইভাবে ফ্রিজ হয়ে আছেন কেন? দেখে তো মনে হচ্ছে ম্যারিড, তা স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা বোঝেনই তো?আসলে আমার স্বামী না আমার জন্য একটু বেশিই পাগল তাই সুযোগ পেলেই আদর করতে চলে আসে। এই দেখুন না যেই দেখেছে আমি ওয়াসরুমে এসেছি আশেপাশে কেউ নেই অমনি আদর করতে চলে এসেছে। প্লিজ আপনি কিছু মনে করবেন না।
আমি মাথা নাড়িয়ে বোঝালাম না আমি কিছু মনে করিনি? তবে আর কিছু না বলে বেসিনের উপরে রাখা আমার শাশুড়ীর চশমাটা নিয়ে বাইরে চলে আসলাম৷ বাইরে আসতেই তিহানের চোখে চোখ পড়লো। তিহান চোখ নামিয়ে নিলো আমিও চুপ করে হেটে ওখান থেকে চলে আসলাম। খেয়াল করলাম তিহান আবারো ওয়াসরুমের দিকে যাচ্ছে।
মাথার মধ্যে মিরার কথাগুলো বারবার ঘুরছিল, কি বলছিলো ওই মহিলা? ও আর তিহান স্বামী -স্ত্রী মানে? আমি তো জানতাম মিরা তিহানের ভাইয়ের বউ?আর আসার সময় তো তিহানের ভাইকেও দেখলাম?কি মনে হলো আমি আবারো ওয়াসরুমের দিকে যেতে লাগলাম। হ্যা ঠিক ধরেছিলাম তিহান বাইরে নেই। ওয়াসরুমে গিয়ে দেখি কেউ নেই?
কি করবো কিছু ভেবে না পেয়ে চলে আসতে যাবো তখন দেখি ওরা দুইজন উপর তলায় যাচ্ছে। আমি কিছু না ভেবেই ওদের পিছু নিলাম। বারবার মনে হচ্ছে হাবিবার মৃ/ত্যুর পেছনে এদের কোনো হাত আছে। ছি ভাবতেই ঘৃ/ণা লাগছে তিহান এত নোংরা ছেলে? শেষ পর্যন্ত বড় ভাইয়ের বউয়ের সাথে পরকিয়ার সম্পর্ক। নানান কথা ভাবতে ভাবতে ওদের পিছে পিছে যেতে লাগলাম। উপরতলায় গিয়ে চেয়ারে বসলো দুইজন। এইদিকটায় তেমন মানুষ নেই। মিরা তিহানকে বললো, তোমাকে কতবার বারন করি আমি তিহান যে প্লিজ যেখানে সেখানে তুমি আমার কাছে এসো না? দেখলে তো ওই মহিলা যদি চেনা কেউ হতো? তখন কি হতো? বাবা-মা আমাদের বিশ্বাস করে? হ্যা আমি তোমাকে ভালোবাসি তুমি আমাকে ভালোবাসো কিন্তুু এই সমাজ তো এটা মেনে নেবে না।
তিহান ফট করে উঠে দাড়ায় তারপর একটানে মিরাকে তুলে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে। আমি এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। ফোন বের করে কয়েকটা ছবি তুলে নিই। তারপর ভিডিও করতে থাকি।
এইভাবে খোলা পরিবেশে তিহান মিরাকে ধরায় মিরা বলে, কি করছো কি তিহান? ছাড়ো? কেউ দেখে ফেলবে। যে কেউ যখন তখন চলে আসবে?
মিরার কথা শুনে তিহান মিরাকে আরো শক্ত করে ধরে তারপর বলে, এক কথা কয়বার বলবে মিরা? তোমাকে তো আগেই বলেছিলাম চলো আমরা বিয়ে করি নিই কিন্তুু তুমিই তো রাজি হও না। বিয়ে করে নিলে তো আর ভয় থাকে না লোকে কি বলবে?
মিরা এক ঝাটকায় তিহানকে ছাড়িয়ে দিয়ে বলে, সাট আপ তিহান। বলছি বারবার ছাড়ো। কেউ দেখে ফেলবে? শুনো না কেন আমার কথা? আচ্ছা বলো বিয়ে করতে হবে কেন আমাদের? বিয়ের পর যেটা পেতে বিয়ের আগেই তো সেটা তোমাকে দিচ্ছি? তাহলে কি সমস্যা? বুঝো না কেন? এখন যদি আমাদের সম্পর্কটা সবার সামনে আসে তোমার বাবা-মা মেনে নেবে তো?কোনোদিনই নেবে না বরং আমাদের দুইজনকেই ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবে। তাই প্লিজ অপেক্ষা করো।
এই বলেই মিরা চলে গেলো। আমিও আর দাড়ালাম না। যা দরকার ছিল পেয়ে গেছি তবে দেখার বিষয় এদের সম্পর্কটাই কোনোভাবে হাবিবার মৃ/ত্যুর কারণ নয় তো?ইন্সপেক্টর তাকরিমের সাথে দেখা করতে হবে।
হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে শাশুড়ী মায়ের কাছে যেতেই উনি বললেন, কি হলো বৌমা এত সময় লাগলো?
আমি বললাম, খুজে পাচ্ছিলাম না মা। চলুন এখন বাড়ি গিয়ে আবার দুপুরের রান্না বসাতে হবে।
কথা শেষে রিকশা করে বেড়িয়ে পড়লাম বাড়ির উদ্দেশ্য।
---------------------------
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, কি হলো মিস্টার নাবিল চুপ করে আছেন কেন? বলুন? আপনি কিন্তুু অস্বীকার করতে পারবেন না কারণ আমার কাছে দু দুটো সাক্ষী আছে?
নাবিল বলে, সাক্ষী? কিসের সাক্ষী?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলেন, হাবিবা নিজের মুখে যাদেরকে বলে গেছে যে সে আপনাকে ভালোবাসে? এমনকি সে আপনাকে প্রোপজ ও করেছে। কি ঠিক বলছি তো? এখন যদি আপনি সব সত্যি না বলেন তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আপনাকে এরেস্ট করতে বাধ্য হবো। আপনি কি সেটাই চান?
নাবিল বলে, আমি কোনো অন্যায় করিনি ইন্সপেক্টর। তাই আমার কোনো ভয় নেই। আর হ্যা আপনি ঠিক বলছেন হাবিবা আমাকে পছন্দ করতো কিন্তুু এতে কি প্রমান হয়?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললো, কি প্রমান হবে সেটা তো আমি দেখবো মিস্টার নাবিল? আপাদত আপনি পুরোটা বলেন?
নাবিল বলে, ঠিক আছে। দেখুন ছোট থেকেই হাবিবাকে আমি চিনি ওকে জন্মাতে দেখেছি? সেই হিসেবে ওর সাথে আমার বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।
কিন্তুু আমি যখন ঋতুর জন্য বিয়ের প্রস্তাব পাঠাই তখনই ও আমাকে বলে ও আমাকে ভালোবাসে। ওর কথা শুনে আমি হেসেছিলাম বিশ্বাস করুন। ভেবেছিলাম ছোট মানুষ আবেগের বসে এইসব বলছে। সেইদিন কোনোরকম বুঝিয়ে ওকে আমি বাড়ি পাঠিয়ে দিই। এরপর আমার আর ঋতুর বিয়ে হয়। কিছুদিন সব ঠিক থাকলেও আমি খেয়াল করি হাবিবার অস্বাভাবিক ব্যাবহার। নানাভাবে ওর দিকে আমাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা। আমি বুঝতে পেরে ওকে পুরোপুরি ইগনোর করি। এটা ও কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না। বারবার ফোন করে বিরক্ত করতো।
এরমাঝে একদিন তো বাড়াবাড়িই করে ফেললো। আসলে মেয়েটা ছোট ছিল আবার মা/রা গেছে এইজন্য আমি কাউকে জানাতে চাচ্ছিলাম না।
আসলে সেইদিন সন্ধায় ঋতু রান্না ঘরে রান্না করছিল। আমি ঘরে সুয়ে ছিলাম। হঠাৎ করে হাবিবা ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। আমি বিছানা থেকে উঠে বলি, কি হচ্ছেটা কি হাবিবা? দরজা বন্ধ করছো কেন?
হাবিবা কোনো কথা না শুনে আমার কাছে আসে আর আমাকে ফোর্স করতে থাকে ওর সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য। একপর্যায়ে না পেরে ওকে চর মা/রি আমি। তারপর দরজা খুলে রেগে গিয়ে বলি বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে আর কোনোদিন যেন আমার বাড়িতে না আসে। সেইদিন ও কাদঁতে কাঁদতে চলে যায়। দুইদিন সব স্বাভাবিক গেলেও দুইদিন পর থেকে আমাকে আমাকে ফোন করতে থাকে ফোন না ধরায় ম্যাসেজ করে যে আমি যদি ওর সাথে দেখা না করি তাহলে ও সুইসা/ইড করবে আর সুইসা/ইড নোটে আমার নাম লিখে যাবে। এরই মধ্যে স্কুলে একদিন ও আমার হাতে ওই সুইসা/ইড নোটটা ধরায় দেয়। আমি তখন কি করবো বুঝতে পারছিলাম না আবেগের বয়স যখন তখন যা কিছু করতে পারে ভেবে দেখা করি। ঠান্ডা মাথায় অনেকক্ষন ধরে ওকে বুঝাই। সেইদিন ও ওর ভুল বুঝতে পারে আর আমার কাছ থেকে ক্ষমা চায় আর বাড়ি গিয়েও বিয়ের জন্য রাজি হয়। আর সেইদিনই ওকে আমি কথা দিয়েছিলাম এই কথাটা আমাদের দুইজনের মধ্যে থাকবে আর কেউ জানবে না। বিশ্বাস করুন স্যার এর বেশি কোনো সম্পর্ক আমাদের ছিল না। হাবিবা ছোট ছিল আর ও ভুল করছিল আমি একজন শিক্ষক হিসেবে ওকে বুঝিয়ে সঠিক রাস্তা দেখিয়েছিলাম। ও বুঝেছিল কিন্তুু হঠাৎ করে কিসের মধ্যে কি হলো আমি নিজেও বুঝতে পারছি না তবে আমি শিউর ছিলাম হাবিবা সুইসা/ইড করে নি।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললো, আচ্ছা বুঝলাম তা এই বিষয়ে আপনার স্ত্রী কিছু জানতো?
নাবিল বললো, না স্যার।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললো, আচ্ছা ওই সুইসা/ইড নোটটা আপনি কি করেছিলেন?
নাবিল বলে, ওটা তো হাবিবাকে ফেরত দিয়েছিলাম।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললো, আচ্ছা বুঝলাম তারপর যখন হাবিবার লা/স পাওয়া গেছিল তখন আপনি কোথায় ছিলেন?
নাবিল বলে, আসলে স্যার হাবিবার বিয়ে তিহানের সাথে এমনি এমনি হচ্ছিল না?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলে, মানে?
নাবিল বলে, স্যার এটা আমরা কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানে না মানে জানানো বারন ছিলো৷ হাবিবার বাবার এক বিঘা জমি আছে ব্যারিষ্টার কামালের জমির সাথে তো ব্যারিষ্টার কামাল সেখানে কোনো প্রজেক্ট করবে সেইজন্য জমিটা কিনে নিতে চেয়েছিল কিন্তুু মামা বলে সেটা বিক্রি করবে না। এই নিয়ে অনেক ঝামেলা হয় এক পর্যায়ে মামা বলে তার মেয়ের সাথে যদি কামাল সাহেব ছেলে বিয়ে দেয় তাহলে জমিটা কামাল সাহেবকে দিবে৷ কামাল সাহেব ও ছেলের বিয়ের জন্য পাত্রি খুজছিলো তাই আর আপত্তি করেনি রাজি হয়ে যায়। আর বিয়ের দিনই জমিটা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল তাই অনেক সকালেই মামা আমাকে কাজপত্র আনতে পাঠায়। বিশ্বাস না হলে আপনি জমি রেজিস্ট্রার অফিসের সিসি ক্যামের দেখতে পারেন। কারণ সকাল থেকে আমি ওখানেই ছিলাম তারপর সব কাজ শেষে বাড়ি আসতেই জানতে পারলাম হাবিবা নাকি সুইসা/ইড করেছে। কিন্তুু কথাটা আমি কোনোভাবেই মানতে পারি নি। এর থেকে বেশি কিছু আমি জানিনা স্যার? বিশ্বাস করুন আমাকে?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললো, বিশ্বাস করলাম মিস্টার নাবিল। তবে......
আর কিছু বলার আগেই আমি দরজায় দাড়িয়ে বললাম, কিসের বিশ্বাসের কথা হচ্ছে? ইন্সপেক্টর কি বিশ্বাস করলেন?
ইন্সপেক্টর তাকরিম হেসে বললেন, ওহ ঋতু ম্যাডাম যে কেমন আছেন?
আমি বললাম, ভালোই আছি কিন্তুু আমরা সাধারণ মানুষ ঘরের ভেতরে পুলিশ দেখলে তো কেমন লাগে?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বলে, পুলিশ বলে কি আমরা মানুষ নই মিসেস ঋতু?
আমি শাশুড়িমাকে ভেতরে নিয়ে এসে বললাম, মা আপনি ভেতরে যান।
শাশুড়িমা যেতেই বললাম, ইন্সপেক্টর হাবিবার কেসটা কতদূর?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললো, খুব বেশিদূর নয় ম্যাডাম। তবে আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি কেসটা সল্ভ হয়ে যাবে?
আমি বললাম, আমার আপনাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার আছে মানে বলতে পারেন দেখানোর আছে?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, কি?
আমি ফোন থেকে ভিডিও আর ছবি গুলো দেখালাম। ইন্সপেক্টর তাকরিম ও অবাক হলেন।
ছবিগুলো দেকে ইন্সপেক্টর তাকরিম কিছু বলতে যাবে তার আগেই ওনার ফোন বেজে উঠলো। ফোন দেখেই বললো, ল্যাব থেকে ফোন করেছে মনে হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জানতে পেরেছে?
ইন্সপেক্টর তাকরিম ফোন রিসিভ করলো। ওপাশ থেকে কি বললো শুনতে পেলাম না তবে ওনার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। তারপর বললো, আচ্ছা আচ্ছা বুঝতে পারছি এখন পুরো বিষয়টা। হ্যা সবার হাতের ছাপ নেওয়া আছে আমি সবার হাতের ছাপ নিয়েই ল্যাবে যাবো আপনি সব রেডি করে রাখুন। এইবার বেড়িয়ে পরবে #আড়ালে_লুকিয়ে_কে?
হাসিমুখে ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, ভিডিও আর ছবিগুলো আমাকে দিয়ে দিন। আর আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। পুরো কে/সটার মোড় ঘুড়িয়ে দিলেন আপনি। শুধু আরো একটা প্রশ্নের উত্তর দিন?
আমি বললাম, জ্বি বলুন?
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললো, হাবিবাকে সেইদিন কে সাজিয়েছিল?
আমি বললাম, তিহানের ভাবি মিরা৷ নিজ হাতে হাবিবাকে সাজিয়েছিল।
ইন্সপেক্টর তাকরিম বললো, আচ্ছা। ধন্যবাদ আপনাকে ম্যাডাম। ইমপর্টেন্ট কাজ আছে আজকে আসি আর আপনার নাম্বার তো আমার কাছে থাকলোই কিছু জানার থাকলে ফোন করে জানাবো।
আমি বললাম, অবশ্যই।
ইন্সপেক্টর তাকরিম চলে গেলো। উনি চলে যেতেই আমি নাবিলকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম তারপর বললাম, আমাকে ক্ষমা করে দাও নাবিল? আমি কিছুদিন ধরে তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম৷
নাবিল বলে,তারমানে তুমি সবটা শুনেছো?
আমি বললাম, হ্যা নাবিল। শুনেছি আর নিজের ভুলটাও বুঝতে পেরেছি। আমি সত্যি ভাগ্যবতী যে তোমার মতো স্বামী পেয়েছি।
নাবিল ও আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু দিয়ে বললো, আমিও ভাগ্যবান যে তোমার মতো বউ পেয়েছি।আই লাভ ইউ ঋতু। আই লাভ ইউ সো মাচ........
আমিও হেসেঁ উঠে বললাম,আই লাভ ইউ ঠু........
চলবে..........
৬ষ্ঠ পর্বঃ https://www.facebook.com/share/p/1DjzE6vLsQ/?mibextid=oFDknk
