গল্পঃ #আড়ালে_লুকিয়ে_কে

লেখিকাঃ #মিশু

পর্বঃ (৬ও শেষ) 

সকাল ৯:০০ টার মধ্যে ইন্সপেক্টর তাকরিম সবাইকে থানায় আসতে বলেছে। তাই সকাল বেলা নাস্তা শেষে আমি আর নাবিল বেড়িয়ে পড়লাম থানার উদ্দেশ্যে। থানায় গিয়ে দেখি মামা -মামি, বাবা-মা, নানা, হাবিব আর সামিয়া সবাই চলে এসেছে।

 আমরা গিয়ে ওদের সাথে কথা বলতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পরই কামাল সাহেব, তিহান আর মিরা আসলো। তিহান আর মিরাকে দেখেই আমার ঘৃণা লাগলো। ওদের দিকে আর তাকালাম না। একটুপর ইন্সপেক্টর তাকরিম আসলো। 

ইন্সপেক্টর তাকরিম আসতেই কামাল সাহেব বললেন, কি ব্যাপার ইন্সপেক্টর? আমাদের কেন এখন থানায় ডেকেছেন? তাও এতক্ষন ধরে বসিয়ে রেখেছেন? আমি বুঝছি না আমাদের সময়ের কি দাম নেই?  

ইন্সপেক্টর তাকরিম মুচকি হেসে বললেন, দেখুন স্যার আপনি শান্ত হোন। আপনি একজন আইনের লোক আপনার তো বোঝা উচিত বিনা কারনে কখনো কাউকে থানায় ডাকা হয় না? এসেছেন একটু ওয়েট করেন সব জানতে পারবেন৷ 

কথা শেষ করে ইন্সপেক্টর তাকরিম আলমারি থেকে কয়েকটা ফাইল বের করলেন তারপর বললেন, জানেন পাঁচ বছর ধরে পুলিশের চাকরি করছি। খু/ন খারাবির অনেক কেস দেখেছি কিন্তুু এইরকম কেস প্রথম। আমি শুধু ভাবছি খু/নি এত ব্রেন যদি ভালো কাজে লাগাতো আই থিংক লাইফে অনেক দূর যেতো। 

তাকরিম কথা শেষ না করতেই কামাল সাহেব বললেন, ইন্সপেক্টর প্লিজ এত ঘোরপ্যাচ ভালো লাগছে না প্লিজ বলুন খু/নি কে? 

ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, বলবো তো স্যার৷ আগে জেনে নিন কিভাবে হাবিবাকে খু/ন করা হয়েছে?আপনাদের আগেই বলেছিলাম হাবিবাকে বি/ষ দিয়ে মা/রা হয়েছে কিন্তুু বি/ষটা ওকে খাওয়ানো হয় নি আবার ইনজেক্ট ও করা হয় নি তাহলে প্রশ্ন হলো বি/ষটা হাবিবার শরিরে গেলো কিভাবে? 

খু/নি খুব বুদ্ধমতি তাই খুবই ইউনিক উপায়ে কাজ করেছে। এখন তো শীতকাল, আচ্ছা মিস্টার হালিম আর মিসেস সালমা ( হাবিবার বাবা মায়ের নাম) আপনার মেয়ের পায়ের গোড়ালি তো ফেটে যেতো শীতে তাই না? 

মামি বললো, হ্যা। 

ইন্সপেক্টর তাকরিম বলেন, হ্যা। ফাটাও বেশি বাড়াবাড়ি ছিল মানে রীতিমতো রক্ত বের হতো। 

মামি বলে, হ্যা৷ এটার জন্য ডাক্তার ও দেখিয়েছিলাম কিন্তুু ভালো হতো না। পায়ের গোড়ালি ফেটে রক্ত বের হতো ব্যাথা যন্ত্রণায় মেয়েটা আমার পাগল হয়ে যেতো। 

ইন্সপেক্টর তাকরিম বললো, এইবার আসল কথা বলি। হাবিবার মৃ/ত্যুর হাতিয়ার হিসেবে এই পায়ের গোড়ালি ফাটাকেই ব্যাবহার করা হয়েছে। 

নাবিল বলে, মানে কিভাবে ইন্সপেক্টর? 

ইন্সপেক্টর তাকরিম বলে, আমি আগেই বলেছিলাম হাবিবার রক্তে সাপের বি/ষ পাওয়া গেছে আর বি/ষটা আলতার সাথে মিশিয়ে এই ফাটা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু হাবিবার গোড়ালি ফেটে রক্ত বের হয় একসময় সেটা রক্তের সাথে মিশে পুরো শরিরে পৌছে যায়। 

আচ্ছা সেইদিন হাবিবাকে সাজানোর দ্বায়িত্বে ছিলেন তো মিসেস মিরা তাইনা? 

আমি বললাম, হ্যা। মিরাই নিজের হাতে হাবিবাকে সাজিয়েছিল। 

মিরা বলে, হ্যা আমি সাজিয়েছি। কিন্তুু আমি তো কোনো আলতা পড়াই নি?এমনকি আমরা সাজানোর জিনিসপত্রে কোনো আলতাই দিই নি? 

ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, হ্যা। আপনি ঠিক মিরা? সাধারনত আমাদের মুসলিম বিয়েতে বউকে আলতা পড়ানো হয় না তাই দেওয়া ও হয় না কিন্তুু হাবিবার পা ভর্তি আলতা ছিল। মনেহচ্ছিল আগের দিন থেকে একটু পর পরই আলতা দেওয়া হচ্ছিল। আচ্ছা মিসেস সালমা আপনার কি মনে আছে হাবিবাকে কে আলতা দিয়েছিল? 

মামি বলে, স্যার বিয়ে বাড়িতে কাজে এত ব্যাস্ত ছিলাম যে আমি ঠিক খেয়াল করি নি?তবে পায়ের ফাটা নিয়ে হাবিবা অনেক টেনশন করছিল যে নতুন বউয়ের পা ফাটা দেখলে লোকে কি বলবে? কিভাবে এই ফাটা লুকাবে?

একটুপর পা ভর্তি আলতা পরে আমাকে দেখিয়ে বলেছিল, এই দেখ মা কেমন হয়েছে বলতো? এখন আর কেউ বুঝতে পারবে না। 

কিন্তুু আমি জানি না কোথায় পেলো এই আলতা? 

মামি কথা শেষ করতেই বললাম, মামি তুমি জানো না কিন্তুু আমি জানি? 

ইন্সপেক্টর তাকরিম বললো, বলুন তাহলে মিসেস ঋতু? 

আমি বললাম, সামিয়া। হ্যা আমি একদম ঠিক বলছি। হাবিবা খুবই টেনশন করছিল এটা নিয়ে আর তখন সামিয়াই হাবিবাকে বলে পা ভর্তি করে আলতা দিতে তাহলে কেউ আর গোড়ালি ফাটা দেখতে পাবে না। এমনকি ও ওর বাড়ি থেকে আলতা নিয়ে এসে লাগিয়ে দিয়েছিল। আর হাবিবাকে বলেছিল একটু পর পর আলতা লাগাতে যেন ফাটা বোঝা না যায়৷ আমি বেশ কয়েকবার দেখেছি হাবিবাকে আলতা দিতে কিন্তুু তখন তো বুঝি নি বিষয়টা? 

মামি ও তখন বলে, হ্যা হ্যা আমারো মনে পড়েছে সামিয়াই আলতা এনে দিয়েছিল। 

এইদিকে এইসব শুনে ধীরে ধীরে পালিয়ে যেতে চায় সামিয়া তখনি মহিলা কনস্টেবল সামিয়াকে ধরে নেয় আর গালে কয়েকটা জোড়ে জোড়ে থা/প্পড় মা/রে। 

সামিয়া কাদতে কাদতে বলে, আমার ভুল হয়ে গেছে স্যার৷ আমাকে ক্ষমা করে দিন? আমি জানতাম না ওই আলতায় বি/ষ আছে। জানলে কখনোই হাবিবাকে দিতাম না । 

ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, জানতে না মানে? কে দিয়েছিল তোমাকে ওই আলতাটা? 

সামিয়া বলে, স্যার রাজ দিয়েছিল। ও আমার কাছে এসে বলেছিল ও হাবিবাকে খুব ভালোবাসে। হাবিবা তো ওর ভালোবাসার মূল্য দিলো না কিন্তুু ও চায় এই আলতা পায়ে নতুন বউয়ের সাজে হাবিবাকে দেখতে। প্রথমে আমি রাজি হইনি পরে ও অনেক অনুরোধ করার পর আমি রাজি হই। ভাবি আলতাই তো পড়লে যদি ও শান্তি পায় তাতে ক্ষতি কি? 

বিশ্বাস করুন স্যার আমি জানতাম না এটাতে বি/ষ আছে? যদি জানতাম কখনোই হাবিবাকে পরতে দিতাম না। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিন। 

ইন্সপেক্টর তাকরিম বলে, ক্ষমা করার আমি কেউ নই সামিয়া? আদালতে কেসটা উঠবে এরপর যা বিচার করার আদালত করবে। আর রাজ ও বাচঁতে পারবে না। সেইদিন আমি ওর সাথে কথা বলার পরপরই এলাকা থেকে পালিয়েছে। তখন থেকেই ওকে খুজে চলেছি ও ধরাও পড়েছে কিছুক্ষণের মধ্যেই থানায় আনা হবে। 

ইন্সপেক্টর কথাটা শেষ করতেই নাবিল বললো, স্যার এটা বুঝলাম যে হাবিবার শরিরে বি/ষটা কিভাবে গেলো কিন্তুু ওকে গাছে ঝুলি/য়েছে কে? 

ইন্সপেক্টর তাকরিম বললো, বলছি মিস্টার নাবিল। এই বলেই ইন্সপেক্টর তাকরিম মনিটরে একটা ভিডিও ছাড়ে। তারপর বলে, দেখুন যখন তিহানকে কবুল বলানো হচ্ছিল তখনকার ভিডিও। এইখানে সবাইকে দেখা গেলেও দুইজন মিসিং। 

আমি ভালো করে খেয়াল করে দেখলাম তারপর বললাম, হ্যা। মিরা আর হাবিব ওরা তো নেই? 

কিন্তুু আমার স্পষ্ট মনে আছে হাবিবার কাছ থেকে যাওয়ার সময় আমাদের সাথে মিরা আর হাবিব দুইজনেই ছিল। কিন্তুু পরে এতো ভিরের মধ্যে আর খেয়াল করি নি? 

ইন্সপেক্টর তাকরিম বলে, হ্যা মিসেস ঋতু ঠিক বলেছেন। হাবিব আর মিরা নেই তাহলে ওরা কোথায়? তার উত্তর টা হাবিব আর মিরাই দিক?

হাবিব আগে বলো কোথায় ছিলে তুমি? 

হাবিব বলে, কোথায় যাবো? বাড়িতে এত কাজ ছিল নিশ্চয়ই কিছু করছিলাম? 

ইন্সপেক্টর তাকরিম হাবিবের দিকে এগিয়ে যায় আর বলে, তাই নাকি? কি কাজ করছিলে শুনি যে মনে পড়ছে না? দেখি আমার কাছে এসো দেখি তোমাকে মনে করাতে পারি নাকি? 

ইন্সপেক্টর তাকরিমকে এগোনো দেখেই হাবিব ভয় পেয়ে কেঁদে উঠে বলে, স্যার বিশ্বাস করুন আমি কিছু করি নি? আমি তো শুধু ওকে সাহায্য করেছিলাম। 

ইন্সপেক্টর তাকরিম বলে, সাহায্য করেছিলে মানে? পুরোটা ক্লিয়ার করে বলো? 

হাবিব চোখ মুছে বলে, আসলে সেইদিন বিয়েতে বরযাত্রী আসার পর তিহান ভাইয়া ওয়াসরুমে যেতে চাইলো আমি ওনাকে ওয়াসরুমে রেখে একটা কাজে চলে আসি। কিছুক্ষণ পর ওয়াসরুমের কাছে গিয়ে শুনতে পাই তিহান ভাই আর তিহান ভাইয়ের ভাবী মিরা কথা বলছে। 

মিরা তিহানকে বলছে, শুনো তিহান বিয়েটা করছো করো কিন্তুু মনে রেখো আমি সুযোগ পেলে তোমার বউকে ছাড়বো না। একেবারে মে/রে দিবো। 

আর তিহান বলে, তুমি এত চিন্তা করছো কেন মিরা? ওকে তো আমি জমিটার জন্যই বিয়ে করছি। জমি নেওয়া হোক তারপরেই যেভাবে হোক কোনো একটা অপবাদ দিয়ে তাড়িয়ে দিবো। 

ওদের কথপোকথন শুনে আমি ঘাবড়ে যাই। কি করবো ভেবে পাই না। এইদিকে কিছুক্ষণ পরেই বিয়ে তাই কোনো উপায় না পেয়ে হাবিবাকে সবটা জানাই। 

তারপর দুইজনে সিদ্ধান্ত নিই আপাদত বিয়েটা ভাঙ্গতে হবে। বিয়ে ভেঙে যাবার পর পরে সবটা দুইজনে যেভাবে হোক সামলে নেওয়া যাবে। তাই তখনি হাবিবাকে নিয়ে পেছনের বাগানে পৌছে দিই আর আমার এক বন্ধুর বাড়িতে যেতে বলি। 

ওকে বাগান পর্যন্ত রেখে আমি আবার বাড়ি ফিরে আসি। একটুপর যখন জানাজানি হয়ে যায় হাবিবা ঘরে নেই তখন সবার সাথে আমিও খুজতে থাকি। 

খুজতে খুজতে বাগানে এসে দেখি ও গাছের সাথে ঝুল/ছে। আমি কিছু বুঝে উঠতে পারি ন। দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে সবাইকে জানিয়ে দিই। এই সত্যি টা অনেকবার সবাইকে জানাতে চেয়েছি কিন্তুু ভয় পেয়ে গেছিলাম যে আমার দোষ হবে তাই জানাই নি?

হাবিবের কথা শুনে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে গেছে। আসলে একটা মেয়েকে ঘিরে এত সাসপেন্স কেউ আশা করে নি? তবে সবার থেকে বেশি মিরা ঘাবড়ে গেছে। কিন্তুু তিহান হাবিবের উপর চিৎকার করে উঠে বলে, এউ শয়/তান ছেলে কি বলছো টা কি তুমি? তুমি আমাদের নামে দূর্নাম রটাচ্ছো। তুমিই করেছো সবকিছু? আর এখন আমাদের ফাসাচ্ছো।

তিহান হাবিবের দিকে তেড়ে আসলে ইন্সপেক্টর তাকরিম তিহানকে বলে, শান্ত হোন মিস্টার তিহান। কে কাকে ফাসাচ্ছে এক্ষুনি জানা যাবে। 

এটা বলেই মনিটরে আরো একটা ভিডিও চালু করে। সেখানে দেখা যায় মিরা আর তিহান একে অপরের খুব কাছাকাছি দাড়িয়ে আছে। আর নিজের মুখে বলছে ওদের সম্পর্কের কথা। 

ভিডিওটা দেখে চেয়ারে ধপ করে বসে পরে কামাল সাহেব। মিরা দৌড়ে শশুরের কাছে গিয়ে বলে, বাবা আমার কথা একটাবার শুনুন? 

মিরা এটা বলতেই ঠাস করে চ/ড় মারে মিরাকে। তারপর তিহানের কলার চেপে ধরে বলে, ছি তিহান ছি? তোমাদের আমি বিশ্বাস করেছিলাম। আর আমার বিশ্বাসের এই মর্যাদা দিলে? আমার অসুস্থ ছেলেটাকে দিনের পর দিন ঠকালে? কখনো ক্ষমা করবো না তোমাদের? কখনো না।

ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, এখনো অনেক কিছু বাকি আছে স্যার। আপনার ছেলে বৌমার আরো কির্তি বাকি আছে। কি মিসেস মিরা আপনি বলবেন না আমাদের ব্যাবস্থা নিতে হবে? কন্সস্টেবল মঞ্জু মিরা ম্যাডামের মুখ খোলালোর ব্যাবস্থা করুন। 

ইন্সপেক্টর তাকরিম কথাটা বলতেই কন্সস্টেবল মঞ্জু এসে মিরাকে পাশের ঘরে নিয়ে যায়। তারপর উত্তম মধ্যম দিতে দিতে এইঘরে নিয়ে আসে। ইন্সপেক্টর তাকরিম হেসে বলে, মঞ্জু বলতে রাজি হয়েছে না? 

মঞ্জু বলে, হবে না মানে স্যার? এই বল সব? 

ইন্সপেক্টর তাকরিম বলে, কি হলো ম্যাডাম মিরা বলুন? 

মিরা কাদতে কাদতে বলে, বলছি। সেইদিন বিয়ে পড়ানোর সময় খেয়াল করি হাবিব হাবিবাকে নিয়ে পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। আমিও ওদের পেছন পেছন যাই। তারপর হাবিব হাবিবাকে রেখে চলে আসলে আমি হাবিবাকে ধরে বলি , কোথায় যাচ্ছো? 

হাবিবা বলে, সেটা তোমার না জানলেও চলবে। ছাড়ো আমাকে? তোমার মতো নষ্টা মেয়ের সাথে আমি কথা বলতে চাই না। থাকো তুমি তোমার নষ্ট দেবরের সাথে। কিন্তুু আমি আমার জীবনটা নষ্ট করবো না। 

হাবিবার এইসব কথায় আমি ভয় পেয়ে যাই। ওর সাথে এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। আমি ওকে একটা চ/ড় দিই। আর ও মাটিতে পরে যায়। ওকে ধরতে গিয়ে দেখি নিঃশ্বাস নিচ্ছে না। পার্লস ও চলছে না। আমি ভয় পেয়ে যাই। কি করবো বুঝতে পারি না। তখনি গাছের সাথে একটা দড়ি বাঁধা দেখি। আমি হাবিবাকে উঠিয়ে দড়ির সাথে ঝু/লিয়ে দিই। আর আমি এসেই ওর ঘর থেকে সুইসা/ইড নোট টা ওর ব্যাগে পেয়েছিলাম ওটা নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলাম ওটা নিচে রেখে দিই। তারপর আবার বিয়েতে চলে আসি। 

মিরার কথাগুলো শুনে মামা - মামি অস্থির হয়ে পরে। আসলেই মেয়েকে এইভাবে মা/রার বর্ণনা শুনে কে সহ্য করতে পারে।তাই মা -বাবা, নানা, মামা - মামিকে নিয়ে চলে যায়। এইদিকে কামাল সাহেব সবকিছু শুনে মাথায় হাত দিয়ে বসে পরে। একটুপর উঠে বলে, ইন্সপেক্টর আপনার যা ইচ্ছা তাই করুন ওদের। আমি কেউ হই না এদের? আর তিহান আজকের পর থেকে তোমাকে আমি তেজ্যপুত্র করলাম৷ আইনি ভাবে ও করবো। আমার বাড়িতে তোমার কোনো জায়গা নেই? 

কথা শেষ করেই কামাল সাহেব চলে যায়। 

ইন্সপেক্টর তাকরিম বলেন,মিস মিরা তো তিহান এই বিষয়ে কিছু জানে না তাই তো? 

মিরা বলে, হ্যা। তিহান জানে না কিছু স্যার সবটা আমি একা করেছি। 

এইদিকে কথা শেষ না হতেই কনস্টেবল রিফাত রাজকে নিয়ে চলে আসে। 

রাজকে দেখেই হাবিব রাজের কলার চেপে ধরে বলে, তোকে ছাড়বো না আমি। শয়তা/ন। 

রিফাত হাবিবকে ছাড়িয়ে রাজকে ধরে ইন্সপেক্টর তাকরিমের কাছে নিয়ে যায়। তাকরিম বলে, কিরে নেশায় তো বুদ হয়ে আছিস তা বল কেন হাবিবাকে মা/রলি? 

রাজ হাহাহা....করে হেসে বলে, তাহলে জেনেই গেছেন সবটা? তাহলে এটা আমার থেকে জানতে হবে কেন? 

ইন্সপেক্টর তাকরিম রাজকে একটা চ/ড় দিয়ে বলে, বলবি না আরো মা/র খাবি? 

রাজ বলে, কি বলবো স্যার? আমি হাবিবাকে খুব ভালোবাসতাম। ওর ছোট ছোট সব কিছু জানতাম। কিন্তুু ও বুঝলো না। সবার সামনে আমাকে অপমান করলো। আমার বাবাকে হেড স্যার দিয়ে অপমান করলো? তাই মে/রে দিয়েছি। ওই বোকা সামিয়া বুঝতেও পারেনি ওর মাধ্যমে কিভাবে আমি আমার প্রতিশোধ নিলাম। 

রাজ কথা শেষ করতেই সামিয়া বলে, স্যার দেখুন আমি সত্যি কিছু জানতাম না। প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন। 

ইন্সপেক্টর তাকরিম বললেন, দেখো সামিয়া আমি সব বুঝেছি কিন্তুু এই মুহুর্তে আমার হাতে কিছু নেই যা সিদ্ধান্ত নেবার আদালত নিবে। মঞ্জু, সামিয়া আর মিরাকে নিয়ে যাও আর লকাবে রাখো। রিফাত রাজকেও নিয়ে যাও। কালকেই কোর্টে তোলা হবে ওদের। আর মিস্টার তিহান এইবার আপনি বেচেঁ গেলেন তবে আপনার উপর আমার নজর থাকবে। আসতে পারুন এখন। 

তিহান চলে যেতেই ইন্সপেক্টর তাকরিম আমাকে আর নাবিলকে বললেন, আপনাদের অনেক ধন্যবাদ মিস্টার নাবিল আর মিসেস ঋতু। আপনাদের সাহায্য ছাড়া এই কেসটা সমাধান করা এতটা সহজ হতো না। ভালো থাকবেন। একে অপরকে বিশ্বাস করবেন দেখবেন সম্পর্ক মজবুত হবে। 

আমি বললাম, আপনাকে ও অনেক ধন্যবাদ ইন্সপেক্টর তাকরিম। আসি তাহলে? 

ইন্সপেক্টর তাকরিম হাবিবকে আসস্থ করে বলে , আসুন। 

আমরা থানা থেকে বের হতে যাবো তখনই ইন্সপেক্টর তাকরিম কে কনস্টেবল রিফাত ডাক দেয় আর বলে, স্যার সর্বনাশ হয়ে গেছে থানার সামনে তিহানের এক্সি/ডেন্ট হয়েছে। 

এইদিকে লকাপ থেকে কনস্টেবল মঞ্জু বলে, স্যার মিরা কেমন যেন করছে?

ইন্সপেক্টর তাকরিম গিয়ে মিরার পার্লস দেখে বলে, ওহ নো সি ইজ নো মোর। 

তারপর মাথায় হাত দিয়ে বলে ওহ নো। আবার নতুন করে কি শুরু হলো? এইবার #আড়ালে_লুকিয়ে_কে? 

 ~ সমাপ্ত ~

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url