#পর্বঃ- ০৭+০৮+ শেষ পর্ব
হাসপাতালে সবার সামনে শাকিলা কেঁদে কেঁদে বললো " আমি সাজ্জাদকে খুব ভালোবাসি, তাকে কেন মারতে চাইবো বলেন? "
" ওসি সাহেব বললেন, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে কিংবা সাক্ষী হিসেবে যেন বেঁচে না থাকে সেজন্য। "
শাকিলার কান্না বাড়তে লাগলো, কান্নার জন্য সে কথা বলতে পারছে না। চারিদিকে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে গেছে, সাজু ভাই রামিশা ওসি সাহেব সুমনা ফেরদৌস আরও অনেকে৷ কিছু অপরিচিত মুখ আছে এরা হয়তো আশেপাশের কোন রোগীর স্বজন হতে পারে।
অসহায়ের মতো কান্না করতে করতে সাজুর দিকে চোখ পড়তেই দু'পা এগিয়ে গিয়ে হাঁটু গেঁড়ে বসে সাজুর ডান হাতটা ধরে কেঁদে কেঁদে,
" সাজু ভাই আপনি অন্তত বিশ্বাস করুন আমার স্বামী সাজ্জাদকে আমি অনেক ভালোবাসি। ওর কোনো ক্ষতি হোক সেটা স্বপ্নেও ভাবিনি, মা-বাবা চাইতো না বিধায় মনের বিরুদ্ধে গিয়ে আমি ওকে কষ্ট দিয়েছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন সাজু ভাই, ওকে যতটা কষ্ট দিয়েছি তারচেয়ে বেশী কষ্ট আমি ভোগ করেছি, হ্যাঁ আমি। "
" সাজু বললো, কিন্তু আপনার খাবার খেয়ে তো সাজ্জাদ অসুস্থ হয়ে গেছে। ভাগ্যিস এক চুমুক জুস খাবার সঙ্গে সঙ্গে নার্স নিষেধ করেছে। কারণ সাজ্জাদের এসব খাওয়া ঠিক না, নাহলে তো পুরোটা খাইয়ে দিতেন। "
শাকিলা পূর্বের ন্যায় আরও অসহায় বোধ করতে লাগলো নিজেকে। সে সাজুর হাতটা চেপে ধরে শুধু বললো,
" আমি সত্যিই জানি না জুসের মধ্যে এসব কোই থেকে এসেছে? যদি জানতাম তাহলে নিজে খেয়ে মরে যেতাম তবুও ওকে দিতাম না। "
" ওসি সাহেব বললো, আপনার স্বামীর বন্ধুর মতো আপনাকেও হাসপাতাল থেকে বের করে দিচ্ছি। "
" আমি আমার সাজ্জাদকে রেখে কোথাও যাবো না, মেরে ফেললেও না। আপনারা আমার কথা একটু বিশ্বাস করুন স্যার, আমি কিছু করিনি। "
এবার সাজু কিছুক্ষণ ভাবলো, তারপর হাত দিয়ে শাকিলাকে দাঁড় করিয়ে বললো,
" থানায় তোমাকে আনতে কে কে গেছিল? "
" মা সুমনা আর ফেরদৌস। মামলা তুলে নিয়ে মা সেখান থেকে বাসায় চলে গেছে, আর আমরা তিনজনে চলে এসেছি হাসপাতালে। "
" খাবার গুলো কখন কিনেছেন? "
" সিএনজি করে আসার সময় আমি হঠাৎ করে ফেরদৌস বললো কিছু কিনে নিয়ে যাই। তারপর রাস্তার পাশে সিএনজি থামিয়ে আমি আর সুমনা বসে ছিলাম আর ফেরদৌস কিনে এনেছে। "
" ওহ্ আচ্ছা বুঝতে পেরেছি, তারমানে কেনার সময় ফেরদৌস সাহেব ওই বিষাক্ত ওষুধটা মিশিয়ে দিয়েছে। "
" কিন্তু বোতল নতুন ছিল, আমি নিজের হাতে সেটা খুলেছি। "
" যদি পূর্ব পরিকল্পিত হয়ে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই ইঞ্জেকশন করার সিরিঞ্জের মধ্যে আগেই বিষাক্ত ওষুধ ছিল। সেটাই বোতলে পুশ করছে। "
এবার উৎসুক জনতা ফেরদৌসের দিকে তাকিয়ে রইল, ফেরদৌস যেন আকাশ থেকে পরে একদম স্থির হয়ে গেল। নিজের চোখ আর কানকে বিশ্বাস করাতে পারছে না যে ' সাজু ভাই তাকে সন্দেহ করে বিষাক্ত ওষুধ মেশানোর কাহিনি গড়গড় করে বলে দিচ্ছে। '
" ফেরদৌস বললো, এসব কি বলছেন আপনি? আমি কেন করতে যাবো? আমি তো চাই তাদের সবার ভালো হোক, নিজের দৈনিক ব্যস্ততা রেখে আমি আপুর সঙ্গে আছি। নিজের বোনের মতো সম্মান করি বলে এতকিছু করলাম আর সেখানে আমাকেই ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে? "
" ওসি সাহেব বললেন, তোমাকে ফাঁসানো হচ্ছে না বরং তুমি নিজে ফেঁসে যাবার কাজ করছো। তাই যা যা করেছো সত্যি সত্যি বলো, থানায় গিয়ে যদি রিমান্ডের দরকার হয় তাহলে তো...! "
ফেরদৌস শাকিলার দিকে তাকিয়ে করুণ কণ্ঠে বললো " আপু আমাকে কেন দোষারোপ করছেন বলেন, আমি কি এমন করেছি? "
" সাজু বললো, একটা অপরিচিত মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হবার সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতি অতিরিক্ত এই আপ্যায়ন আমাদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে ফেরদৌস ভাই। "
" সাজু ভাই আপনাকে কিন্তু আমি নিজেই এনেছি এই মামলার রহস্য সমাধান করতে। যদি আমার কোন অপরাধ থাকতো তাহলে আমি আপনাকে কেন আনবো? আমি তো জানি আপনি এলে খুনি বের হবেই হবে, আপনি বুদ্ধিমান। "
" ওই যে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি, তুমি বেশি ভালো হতে গিয়ে সমস্যা পাকিয়ে গেছে। লেবু কচলালে তেতো হয়ে যায়, সবকিছুই পরিমাণ মতো করতে হয় নাহলে বিপদ। "
" আমি এখন বুঝতে পারছি সেটা, যদি জানতাম এভাবে ফেঁসে যাবো তাহলে কিছুতেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতাম না। আর আপনাকে ডাকার কোন প্রশ্নই আসতো না সাজু ভাই। "
এমন সময় ডাক্তার এসে বললো " সাজ্জাদ এখন মোটামুটি বিপদ মুক্ত, সে নাকি তার স্ত্রী শাকিলার সঙ্গে কথা বলতে চায়। সবাই শাকিলাকে সন্দেহ করেছে শুনে সে মন খারাপ করেছে। "
সুতরাং আপাতত আলোচনা এখানেই স্থগিত করা হয়েছে, সবাই দাঁড়িয়ে আছে। সাজু ভাই রামিশা ওসি সাহেব ও শাকিলা সবাই সাজ্জাদের কেবিনে প্রবেশ করলো।
শাকিলা কেবিনে প্রবেশ করেই আবার কান্না শুরু করে দিল, তারপর বেডের কাছে গিয়ে সাজ্জাদের মাথা বরাবর ফ্লোরে বসে সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে বললো,
" তুমি বিশ্বাস করো তোমাকে আমি মারতে চাই নাই, এরা সবাই আমাকে ভুল বুঝছে। "
" সাজ্জাদ আস্তে আস্তে বললো, আমি জানি তুমি এমনটা করতে পারো না। ওসি সাহেব আপনি ওকে কিছু বলবেন না, আপনারা আসল খুনি বের করতে চেষ্টা করুন। "
সাজু বললো " আমি যদি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই তাহলে উত্তর দিতে পারবেন? "
" জ্বি চেষ্টা করবো। "
সাজু তখন নিজের মোবাইলের স্ক্রিন সাজ্জাদের দিকে তাক করে ধরলো।
বললো " দেখুন তো এই প্রকৃতির পিকচারটা কেমন লাগে? "
সাজ্জাদ তাকিয়ে দেখে মোবাইলের স্ক্রিনে কোন প্রকৃতির পিকচার নেই। সেখানে মাত্র কয়েকটি লাইন লেখা আছে " ডায়েরি " সফটওয়্যারে।
সাজ্জাদ বিড়বিড় করে পড়ছে সেখানে লেখা,
" সাজ্জাদ ভাই আপনাকে কিছু প্রশ্ন করবো তারপর আপনি হুট করে বলবেন আপনার বাসায় ড্রইং রুমে একটা লুকানো ছোট্ট ক্যামেরা আছে। সেদিন রাতে কি কি হয়েছে সেটা সেই ক্যামেরা পেলেই জানা যাবে। আমি জানি ক্যামেরা নেই কিন্তু তবুও আপনাকে এটা বলতে হবে কারণ সেই কথা পুলিশসহ সবাই জানতে পারবে। আর খুনির কানে পৌঁছে যেতে পারে। "
সাজ্জাদ অবাক হয়ে গেল, সাজুর দিকে তাকিয়ে বললো " বাহহ অনেক সুন্দর লাগছে। "
" আপনার মানসিকতা সুন্দর করার জন্য ছবিটি দেখালাম এবার বলেন, সেদিন রাতে আপনার বাসায় ড্রইং রুমে কি হয়েছিল? "
" আমি রাত আড়াইটার দিকে বাসায় গেলাম, দরজা খোলা দেখে অবাক হলাম। কারণ আমি জানতাম শাকিলা নোয়াখালী চলে গেছে আমার সন্ধান করতে। "
" তারপর? "
" আমি ভিতরে প্রবেশ করতেই কেউ একজন আমার মাথায় সজোরে আঘাত করে। কে ছিল সেটা বোঝার ক্ষমতা ছিল না, মুহূর্তের মধ্যে আমি ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ি। "
" আপনি কি দেখেছিলেন যে আপনার শশুরের লাশ পরে আছে? "
" না দেখতে পাইনি কারণ বাতি বন্ধ ছিল, আর আমি মোবাইল বের করতে করতে আঘাত এসে লেগেছিল। "
" শাকিলা তার মায়ের কাছে কল দিয়ে বাবাকে খুন করার হুমকি দেয়, জানেন আপনি? "
" জ্বি না। "
" আপনার বাসায় আপনার শশুর খুন হয়েছে, এ বিষয়ে আপনার কি ধরনের ধারণা হচ্ছে? কারা বা কি কারণে এটা করতে পারে? যদি আপনার শশুর তাদের টার্গেট হতো তাহলে কিন্তু যেকোনো স্থানে অনায়সে মারতে পারতো। কিন্তু তা না করে তাকে আপনার বাসায় ড্রইং রুমে মারা হয়েছে। "
" আমার বাসার ড্রইং রুমে একটা লুকানো ছোট্ট ক্যামেরা আছে, আমি সেটা শাকিলার জন্য সেট করেছিলাম। "
" যেমন? "
" আমি সেদিন অভিমান করে চলে আসার পর আমার বিশ্বাস ছিল শাকিলা আসবে। কিন্তু সে আসার পরে তার কতটা খারাপ লাগে সেটা নিজ চোখে দেখতে চেয়েছিলাম। "
" তারমানে আমরা যদি সেই ক্যামেরা উদ্ধার করতে পারি তাহলে তো জানতে পারবো আসলে কি ঘটেছিল সেই রাতে। "
" হ্যাঁ, যদি খুনিরা সেই ক্যামেরা নষ্ট না করে তবে অবশ্যই পাবেন। "
সাজু মনে মনে বললো, বাহ কত সুন্দর করে সাজিয়ে কথা বলে দিল। যদিও এটা মিথ্যা তবুও যদি সামান্য মিথ্যা দিয়ে কিছু বের করা যায়।
এই সময়ে ওসি সাহেব একটা প্যাঁচ লাগিয়ে প্রশ্ন করে বসলো, " আপনি যদি জানতেন বাসায় কি হচ্ছে তাহলে তো আগেই দেখার কথা। কারণ মনে হয় আপনি আপনার মোবাইলে কানেক্ট করে রেখেছেন তাই না? "
ওসি সাহেবের এরূপ প্রশ্নের জবাবে সাজ্জাদ বললো,
" জ্বি, কিন্তু শাকিলা নোয়াখালী রওনা দেবার পরে আমি আর বাসার ক্যামেরা চেক করিনি। "
ওসি সাহেব হয়তো আরও কিছু জিজ্ঞেস করতে চায়, সাজ্জাদ ভ্যাবাচেকা হয়ে সাজুর দিকে তাকিয়ে রইল। সাজু তখন ওসি সাহেবকে নিয়ে বের হবার তাড়া দিল, ওসি সাহেব বিমর্ষ মনে বের হয়ে গেল।
বাহিরে বেরিয়ে ওসি সাহেব ফেরদৌসকে সেখানে থাকতে বললেন। সাজুে উদ্দেশ্য ছিল ওসি সাহেব নিজে সবটা বলুক তারা কোথায় যাচ্ছে?
শাকিলা কেবিন থেকে বের হয়ে এসে বললো,
আমিও আপনাদের সঙ্গে যাবো৷
" কিন্তু কেন? "
" আমিও সবটা দেখতে চাই সাজু ভাই, প্লিজ আমাকে নিয়ে চলুন। "
ওসি সাহেব ও সাজু দুজনেই দুজনের মুখের দিকে তাকিয়ে আবার সোজা হলেন। তারপর চারজন মিলে রওনা দিল বাসায়।
বাসায় ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে সাজু তার বন্ধু রামিশাকে বললো,
" তোমাকে একটা কাজ করতে হবে। "
" রামিশা বললো, কি কাজ? "
" আমরা যখন ড্রইং রুমে ক্যামেরা খুঁজে বের করার ভান করবো তখন তুমি পাশের রুমে গিয়ে কিছু একটা ফেলে দেবে। তারপর আমরা দৌড়ে সেখানে যাবো, এবং সেই ১ মিনিটের মধ্যে আমি একটা ক্যামেরা সেট করে দেবো। "
" তারমানে কি কোন ক্যামেরা নেই? "
" না নেই, ওটা সাজ্জাদ মিথ্যা বলেছে, কারণ আমি তাকে বলতে বলেছি৷ "
সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় সাজুে মোবাইল বেজে উঠল, সাজু মোবাইল বের করে দেখে শাকিলার বোন সুমনা কল করেছে। সাজু রিসিভ করে বলে,
" হ্যাঁ সুমনা বলো। "
" সাজু ভাই আপনারা কোথায়? "
" আমরা তোমার আপুর বাসায়, সাজ্জাদ নাকি ড্রইং রুমে একটা ক্যামেরা লুকিয়ে রেখেছিল অন্য কারনে। আজ হয়তো সেটা খুনি ধরার কাজে অনেক সাহায্য করবে। "
" মানে? "
" চমকে গেলে কেন সুমনা? "
" কোই না তো, কেন চমকাবো? "
" চমকানোর কারণ তো অবশ্যই আছে, বড়আপুর চাবির গোছা থেকে চাবি সরিয়ে রাখা। তারপর সেই চাবি অন্য কারো কাছে দেওয়া, এতগুলো টাকার সই করা চেকবই। "
" কি বলছেন এসব? "
" সাজ্জাদের জুসের বোতলে বিষাক্ত ওষুধ মেশানোর কাজটা খুনি খুব ভালো করে করেছে। মানতে হবে তার অনেক বুদ্ধি আছে, কারণ এমন নিখুঁত কাজ সহজে করা যায় না। "
" সাজু ভাই...! আমি কিছু করিনি। "
.
.
.
চলবে...
আগামী পর্বে সমাপ্ত হবে ইনশাআল্লাহ, আপনারা আপনাদের মতামত জানিয়ে যাবেন। ভুল ত্রুটি আলোচনা সমালোচনা করবেন, তাহলে নিজেকে শুধরে ফেলতে পারবো।
লেখাঃ-
মোঃ সাইফুল ইসলাম সজীব।
#গল্পঃকুয়াশার_মতো।
#পর্বঃ- ০৮ (শেষ)
" শাকিলা আপুর কাছ থেকে চাবি নিয়েছি ঠিকই কিন্তু আমি বাবাকে খুন করিনি। "
" সাজু বললো, আমি তো তোমাকে বলিনি, তুমি কেন শুধু শুধু এসব বলছো? "
" তাহলে ওভাবে কথা বললেন কেন? আপনার নিশ্চয়ই আমাকে সন্দেহ হচ্ছে নাহলে কেন অমন করে প্রশ্ন করলেন? "
" আমি তো সবাইকে সন্দেহ করি সুমনা, তোমার আপু দুলাভাই, সজীব সাহেব, ফেরদৌস এরা সবাই আমার সন্দেহের তালিকায় আছে। "
" আমি আপনার সঙ্গে এখনই দেখা করতে চাই সাজু ভাই, সত্যি বলছি আমি কিছু করিনি। "
" তাহলে তোমার বোনের বাসায় চলে আসো, আমরা সবাই সেখানেই আছি৷ "
সাজুে মোবাইলের কথা শুনে শাকিলা ও ওসি সাহেব দুজনেই তাকিয়ে রইল। সাজু কিছু না বলে চুপচাপ উপরে উঠতে লাগলো, তার সঙ্গে সঙ্গে উঠে যাচ্ছে বাকিরা।
দরজা খুলে বাসায় প্রবেশ করলো সবাই। সাজু তখন চারিদিকে তাকিয়ে খুঁজতে লাগলো, রামিশা ঠিকই পাশের রুমে গিয়ে একটা গ্লাস ফেলে দিল। ওসি সাহেব ও শাকিলা সেদিকে গিয়েছে ঠিকই কিন্তু সাজু কোনো ক্যামেরা স্থাপন করে নাই।
ড্রইং রুম থেকে বেডরুমে গিয়ে চারিদিকে তাকিয়ে অস্বাভাবিক কিছু খোঁজার চেষ্টা। তেমন কিছু এলোমেলো চোখে পড়ে নাই, ওসি সাহেব মনে হয় বেশি আশাহত হয়ে গেছে। কারণ সমস্ত ফ্ল্যাট তন্নতন্ন করে কোথাও ক্যামেরা পাওয়া যায় নাই।
রামিশা নিজেও অবাক হলো কারণ তাকে যেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে সেটা পালন করেছে। তাহলে সাজু ভাই কেন তার কাজটা করে নাই? নাকি নতুন কোনো পরিকল্পনা।
ওসি সাহেব একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন তখন সুমনার সঙ্গে কি নিয়ে কথা হয়েছে? সাজু বললো যে সুমনা আসলেই সবকিছু বলবে, আপনি একটা কাজ করেন ওসি সাহেব।
- কি কাজ?
- হাসপাতালে কল দিয়ে ফেরদৌসকে সঙ্গে নিয়ে একজন পুলিশকে আসতে বলেন। যেহেতু এখানে সবকিছু ঘটেছে সেহেতু এখানেই সকল সমাধান করে দেই।
|
|
সুমনা এসেছে, তার সমস্ত চোখেমুখে লেপ্টে আছে চিন্তার ছাপ। সোফায় বসে সাজু সুমনার দিকে তাকিয়ে বললো,
- এতো তাড়াতাড়ি চলে এলে?
- বাবার খুনী কে, জানা গেছে?
- না এখনো জানা যায় নাই তবে আজকেই জানা যাবে চিন্তা করো না।
- ক্যামেরা পাওয়া গেছে?
- না, আমি সানোয়ার হোসেন মানে শাকিলার বন্ধু কে এখানে আসতে বলেছি। তিনি এলেই আসল খুনি বের হয়ে যাবে৷
- শাকিলা যেন চমকে গেল, বললো " সানোয়ার? সে এখানে কীভাবে আসবে? "
- সাজু বললো, অবাক হবার কিছু নেই আপনার বাবার কিছু অবৈধ কাজের সঙ্গীদের লিস্ট তৈরি করে ফেলেছে সানোয়ার। তার সেই লিস্টের মধ্যে আসল খুনি আছে, সে আসুক ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
সবাই যেন থমথমে, একটু পরে দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো ফেরদৌস ও একজন পুলিশ। ফেরদৌস যেন আরও বেশি চিন্তিত হয়ে গেছে, একটু পরে সানোয়ার হোসেন প্রবেশ করলো।
সাজু ভাই সুমনার দিকে তাকিয়ে বললো,
- তুমি তোমার আপুর চাবির গোছা থেকে কখন চাবি চুরি করছ?
- আমি চুরি করিনি, চাবি নিয়েছিল বাবা। বাবা যখন দারোয়ানের কাছে চাবি দিতে গেল তখন সে একটা চাবি লুকিয়ে রাখে। তারপর বাকি দুটো দারোয়ানের কাছে দিয়ে আসে কিন্তু আমার চোখে ধরা পড়ে। আমি বাবার কাছে জিজ্ঞেস করলাম তখন বাবা আমাকে ধমক দিলেন। আর বললেন "এ কথা কেউ যেন না জানে, তিনি সাজ্জাদ ভাই কে উচিৎ শিক্ষা দিবেন। "
- শাকিলা বললো, তাহলে তুই পরদিন সকালে আমাকে বলিসনি কেন?
- সুমনা কেঁদে কেঁদে বললো, আপু আমাকে মাফ করে দিও, তুমি এমনিতেই বাবার প্রতি অনেক রেগে আছো তখন। তাই নতুন কিছু বলে তোমার রাগ বাড়াতে চাইনি, ভেবেছিলাম তুমি তো ভাইয়ার কাছে যাচ্ছো তাহলে বাবা চাবি দিয়ে কি করবে?
- তবুও তোমার বলা উচিৎ ছিল, সাজু ভাই বললেন।
- হ্যাঁ আমি বলতে চেয়েছিলাম, আর সেজন্য আপুর সঙ্গে বলেছিলাম যে বাবার বিষয় কিছু কথা আমি বলবো তবে সেটা সরাসরি। কিন্তু তার আগেই তো সবকিছু এমন এলোমেলো হয়ে গেল।
- সাজু বললো, তোমার বাবা যখন এই বাসায় এসেছে তখন তুমি কি জানতে?
- হ্যাঁ জানতাম, বাবা কাকে যেন কল দিয়ে বলে যে " তুমি তৈরী থাকো আমি আসতেছি, আজকে একটা ব্যবস্থা করতেই হবে। " আমি ভাবলাম আপু দুলাভাই দুজনেই তো নোয়াখালী তাই ফাঁকা বাসায় গিয়ে কি করবে তারা? কিন্তু তবুও মনটা খারাপ লাগে তাই আপুর কাছে কল দিলাম কিন্তু আপু রিসিভ করে নাই রাতে।
- ওসি সাহেব বললো " তারপর তুমি যখন দেখলে তোমার বাবা বাসায় ফিরছে না তখন একাই বের হয়ে গেলে তাই না? "
- না আমি বাইরে আসিনি, আমাদের বাসার দারোয়ান কাকাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন।
কিন্তু আমি যদি জানতে পারতাম বাবা এই রাতেই খুন হবে তাহলে ঠিকই বের হতাম।
সাজু ভাই তখন ফেরদৌসের দিকে তাকিয়ে রইল, ফেরদৌস কাচুমাচু হয়ে গেল। সাজু বললো,
- তোমার দুলাভাই খুব নেশা করতো তাই না?
- জ্বি।
- শাকিলার বাবা মাদক ব্যবসা করতেন টুকটাক, তার অফিসের চাকরি ছিল লোক দেখানো। আর তোমার দুলাভাই ছিল তার একজন রেগুলার কাস্টমার। অনেক টাকা বাকি পড়ার কারণে সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় শাকিলার বাবা তোমার আপুর বাসায় গেছিল। ঠিক?
- জ্বি।
- বলো তো আমি কীভাবে জানলাম?
- জানি না সাজু ভাই, তবে হ্যাঁ এটা সত্যি যে আমি আপুর বাবাকে আগে একবার দেখেছি। কিন্তু তিনি যে আপুর বাবা সেটা জানতাম না, আমি ঢাকায় এসে জানতে পেরেছি।
- আমি স্পেশাল ভাবে দুটো মানুষকে তোমাদের দুজনের পিছনে রেখেছিলাম ফেরদৌস।
- মানে? দুজনের পিছনে মানে কি? আমি আর সুমনা?
- হাহাহা, মুখ ফস্কে সুমনার নাম বের হয়ে গেল?
- কিন্তু এছাড়া তো কারো সঙ্গে কথা বা পরিচয় নেই আমার।
- তোমার সঙ্গে কার পরিচয় আছে তা দিয়ে তো আমি লোক নিয়োগ করিনি।
- তাহলে?
- তোমার পিছনে যাকে নিয়োগ করা হয়েছে সেই বের করেছে তোমার আপুর বাসায় শাকিলার বাবার প্রবেশ করা ইত্যাদি ইত্যাদি।
- দেখুন সেটা আমার দুলাভাইয়ের অপরাধ ছিল তাই সে বিষয় কিছু বলার ছিল না। আর সেদিনের পর থেকে আমি আমার আপু দুলাভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতাম না।
সাজু এবার সানোয়ারের দিকে তাকিয়ে বললো,
- সানোয়ার ভাই এবার আপনার লিস্টটা আমার কাছে দেন তো।
সানোয়ার তার লিস্ট বের করে দিল, ৭ টা নাম সেখানে লেখা আছে। সাজু সেগুলো চোখ বিলিয়ে তারপর বললো,
- সাতটা মহাদেশ থেকে সাতটা নাম লিখে নিয়ে এসেছেন, কিন্তু আপনার নাম কোই?
- সানোয়ার বললো, মানে? আমার নাম কেন থাকবে এখানে?
- আশ্চর্য, আঙ্কেলের সঙ্গে তার ডানহাত হিসেবে কাজ করবেন, রাতারাতি টাকা ইনকাম করবেন আর নিজের নাম ব্যবহার করবেন না?
- আমি কখনো তার সঙ্গে এসব বিষয় যোগাযোগ করতাম না, শাকিলা আমার বন্ধু তাই তার বাবার পরিচয়ে তাকে চিনি।
- তাহলে প্রতিদিন এতো কথা কিসের জন্য হতো জানতে পারি ? এমনকী খুন হবার রাতে বাসায় বসে তিনি যাকে কল করেছে সেই ব্যক্তি আপনি। মানে সুমনা সেদিন রাতে আপনার সঙ্গেই কথা বলতে শুনেছে।
- আঙ্কেল আমাকে কল করতেন শাকিলাকে বোঝানোর জন্য। সাজ্জাদকে ডিভোর্স দিয়ে সে যেন তার বাবার কথা শোনে সেটাই বোঝানোর জন্য তিনি বলতেন।
- আজকে সকালে আপনি হাসপাতালে এসেছেন তাই না?
- হ্যাঁ এসেছিলাম, হাসপাতালের নিচে শাকিলা দাঁড়িয়ে আছে দেখে অবাক হলাম। কারণ তাকে জেল থেকে বের করা হয়েছে জানতাম না, আমি শুধু দেখা করতে চেয়েছিলাম।
- সাজু বললো, শাকিলা আপনি কিন্তু আমাকে বলেন নাই সকাল বেলা সানোয়ার এসেছিল।
- আপনি তো জিজ্ঞেস করেননি সাজু ভাই।
- তাহলে এখন বলো সানোয়ার হোসেনের সঙ্গে তোমার কি কথা হয়েছে?
- আমরা একসঙ্গে সিড়ি দিয়ে উঠছিলাম, হঠাৎ করে সানোয়ারের কল আসে। আর সানোয়ার সেখান থেকেই বিদায় নিয়ে চলে যায়।
- আপনার সেই জুস আর খাবারের প্যাকেট কার কাছে ছিল? আপনার কাছে নাকি সুমনা আর ফেরদৌস এদের দুজনের কাছে।
- আমার কাছেই ছিল, কিন্তু সিড়ি দিয়ে ওঠার সময় সানোয়ার বললো আমার কষ্ট হবে তাই সে ওটা নেবে।
- বাহহ, আর তখন দৃষ্টির অগোচরে জুসের মধ্যে বিষাক্ত ওষুধ মেশানোর কাজটা করা হয়েছে। তারপর সে মোবাইলে কল আসার অভিনয় করে তোমার সঙ্গে বিদায় নিয়ে চলে যায়। কারণ সে জানতো যে বিষাক্ত ওষুধ খাওয়ানোর দায়িত্ব তুমি পালন করবে।
সবাই হা হয়ে গেল, সানোয়ার সেই মুহূর্তে একটা অপ্রত্যাশিত কাজ করে ফেললো। পকেট থেকে একটা পিস্তল বের করে তার কাছেই থাকা সুমনার গলায় ধরলো।
সাজু শান্ত গলায় বললো, এমনিতেই একটা খুনের দায় আপনার ঘাড়ে আছে। আরেকটা ভুল করে সেটা ভারি করবেন না, সাজ্জাদকে খুনের পরিকল্পনা করা উচিৎ ছিল না সানোয়ার হোসেন সাহেব। তাহলে আরো কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে চলতে পারতেন আপনি। আমি দ্বিতীয় অনুসন্ধান করতে লোক দিছিলাম আপনার পিছনে। একজন সবসময় ফেরদৌসের তথ্য বের করতো আর অন্য জনে আপনার তথ্য বের করতো। আপনি যখন হাসপাতালে গেছেন বা শাকিলার সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছেন সেই মেসেজ আমার কাছে এসেছে কিন্তু দেখতে দেরি হয়ে গেছে। আমি মেসেজ চেক করেছি ওসি সাহেব কল করার পরে, ততক্ষণে শাকিলা জুস খাইয়ে দিয়েছে। কিন্তু মেসেজ পেলে ও বুঝতে পারতাম না কারণ সে শুধু লিখেছেন যে আপনি হাসপাতালে গিয়ে শাকিলার সঙ্গে দেখা করে চলে এসেছেন। কিন্তু আমি যখন হাসপাতাল এ গিয়ে জানতে পারলাম তখন মেসেজ এর কথা মিলিয়ে নিলাম। তখন ওসি সাহেব ও শাকিলাকে সামনে রেখে সাজ্জাদকে দিয়ে নাটক করলাম। বাসায় একটা ক্যামেরা আছে বলে তাদের নিয়ে এলাম, কিন্তু সে কথা আপনার কাছে পৌঁছাল না। তাই বাধ্য হয়ে নিজে কিন্তু কল দিয়ে আপনাকে এখানে নামের লিস্ট নিয়ে আসতে বলেছি।
যাইহোক, এবার বলেন সেই রাতে কি কি করেছেন আর কীভাবে করেছেন?
- সানোয়ার হোসেন কিছু বলতে যাবেন তখনই তার অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা ফেরদৌসের সঙ্গে আসা পুলিশ তার হাতের বন্দুক দিয়ে আঘাত করলো। সানোয়ার হোসেন মাটিতে পড়ে গেল, পিস্তলের শব্দ হলো, ফেরদৌস লাফ দিয়ে তাকে চেপে ধরলো। ওসি সাহেব দ্রুত পিস্তল কেড়ে নিল।
|
|
অসহায় হয়ে বসে আছে সানোয়ার, বাড়ির মালিক ইতিমধ্যে এসে গেছে। সাজু ভাই কাচের গ্লাসে দুধ খাচ্ছে, দুধ বানিয়ে এনেছে শাকিলা। চা তৈরি করার জন্য যে প্যাকেটের দুধ ছিল আপাতত সেটা দিয়ে চলছে।
- সাজু বললো, সানোয়ার সাহেব আমরা কিন্তু আপাতত আপনার কাছে শুনতে চাই। আদালতে তো অবশ্যই বলবেন কিন্তু তার আগে আমরা একটু জানতে চাই।
- সানোয়ার বলতে শুরু করলো, আঙ্কেলের সঙ্গে আমি এই কাজে জড়িত প্রায় দেড় বছর ধরে। সবসময় আমিই আমাদের বয়সী নেশা করতো এমন মানুষ যোগাড় করতাম। সবকিছু খুবই গোপনভাবে চলছিল, কিন্তু সেদিন রাতে হঠাৎ করে কল দিয়ে বললো শাকিলার বাসায় যেতে হবে। আমি বা আঙ্কেল কেউ জানতাম না শাকিলা বাসায় নেই, আঙ্কেলের টার্গেট ছিল বাসার মধ্যে কিছু মাদক লুকিয়ে রাখবেন। তারপর পুলিশের মাধ্যমে তাকে ফাঁসানো হবে।
কিন্তু আমরা বাসায় গিয়ে দেখি বাসা তালাবদ্ধ, আঙ্কেল তখন পকেট থেকে চাবি বের করে বললো " কপাল ভালো যে চাবি নিয়ে এসেছি, কিন্তু এতো রাতে দরজা তালা ঝুলছে কেন? " আমরা ভিতরে প্রবেশ করলাম, বেডরুমে গিয়ে আলমারির চাবি খুঁজতে লাগলেন আঙ্কেল। হঠাৎ করে বালিশের তলায় চেকবই পেল, আমাকে দেখালেন সেই চেকবই। আমি যখন দেখলাম সবগুলোই সই করা আছে তখন উন্মাদ হয়ে গেলাম। বললাম যে ৫০-৫০ ভাগ হবে। কিন্তু আঙ্কেল এক টাকাও দেবে না বলেই আমার মাকে তুলে গালি দিল। তখনই আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে তাই রান্না ঘরে গিয়ে খুঁজে খুঁজে ছুরি বের করলাম। ড্রইং রুমে এসে আঙ্কেলকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ছুরি চালিয়ে দিলাম। একটা চিৎকার তিনি করেছিলেন তখন কিন্তু বাহিরে শব্দ যায় নাই।
আমি আঙ্কেলের লাশ রেখে বাতি বন্ধ করে বের হলাম আর তখনই সিড়ি বেয়ে কারো উপরে ওঠার শব্দ পেলাম। উঁকি দিয়ে দেখি সাজ্জাদ আসছে, আর তখনই ভয় পেলাম। আমি আবার রুমের মধ্যে প্রবেশ করলাম, একটা লোহার রড আগেই দেখেছিলাম সেটা হাতে নিলাম। সাজ্জাদ প্রবেশ করতেই তাকে আঘাত করি, সাজ্জাদ মাটিতে লুটিয়ে পরে। তারপর সেই ছুরি ও রডের মধ্যে আমার হাতের ছাপ মুছে নিলাম আর সাজ্জাদের হাত দিয়ে ছাপ দিলাম।
- সাজু বললো, আপনি তো শিক্ষিত মানুষ তাহলে আপনার তো জানা দরকার ছিল যে এতগুলো টাকার ব্যাপারে ব্যাঙ্ক থেকে একাউন্টের মালিকের কাছে কল দিবে।
- ওসি সাহেব বললেন, ওর কিছু জানতে হবে না, যা জানানোর সবকিছু থানায় গিয়ে জানাবো।
- ঠিক আছে তাই করুন, আর শাকিলা মেডাম আপনি হাসপাতালে চলে যান। সাজ্জাদ ভাইকে বলবেন সবকিছু, সে সুস্থ হয়ে বাসায় এলে আমি একদিন এসে দেখা করে যাবো৷
★★
কেবিনে বিছানায় শুয়ে আছে সাজ্জাদ, তার বুকে হাত দিয়ে একটা আরেকটা হাত মাথায় রেখে বসে আছে শাকিলা। সুমনা ফেরদৌস ও সুমনার মা দাঁড়িয়ে আছে কাছেই, সাজ্জাদের মুখে সামান্য হাসি। শাকিলার চোখে পানি, সে কাঁদছে, তার একচোখে বাবা হারানোর যন্ত্রণা আরেক চোখে স্বামী সুস্থ হবার আনন্দ।
|
|
চট্টগ্রামগামী " ইউনিক " পরিবহনে বসে আছে রামিশা, সে চট্টগ্রামে চলে যাচ্ছে। তাকে বাসে তুলে বিদায় দিতে এসেছে সাজু ভাই, রামিশা বারবার সাজুর দিকে তাকাচ্ছে।
- সাজু ভাই... মেলা মেলা ধন্যবাদ।
- কেন?
- আমাকে আপনার এমন একটা চমৎকার রহস্য সমাধানের সঙ্গী করার জন্য। আমি কখনো ভাবিনি যে আপনার সঙ্গে এভাবে একসঙ্গে কোন খুনের রহস্যে জড়াবো।
- তাই?
- হ্যাঁ তাই, মনে হচ্ছে একটা স্বপ্ন দেখে এলাম। কেমন অদ্ভুত সবকিছু।
- যদি এমন আবারও কোন মামলার সন্ধান পাই তাহলে তোমাকে বলবো। একটা মেয়ে সঙ্গে নিয়ে রহস্য খোঁজার মজাই আলাদা।
- আমার খুব আফসোস লাগে সাজু ভাই, আমি যদি আপনার সেই " সরি আব্বাজান " রহস্যের সমাধান করার সঙ্গী হতে পারতাম। কারণ সেই ঘটনা আজও আমার মনে পরে, খুব মনে পরে।
- আমি চট্টগ্রামে গেলে তোমাকে জানাবো, তুমি ভালো থেকো সবসময়।
- আপনিও ভালো থাকবেন, আর সবচেয়ে ভালো হতো একটা বিয়ে করে জীবন সাজালে।
- হাহাহা, আচ্ছা সেটাও জানাবো।
#সমাপ্ত
লেখাঃ-
মোঃ সাইফুল ইসলাল সজীব।
