#মায়ার_সংসার
#পর্বঃ৫+৬+৭+৮
#রেজওয়ানা_আসিফা
সুমন বাড়ি ফিরে দেখলো, রাতের রান্নার জন্য মায়া সব কিছুর ব্যবস্থা করছে। আর আয়শা তাকে সাহায্য করছে। মৌ ঘুম থেকে উঠে গেছে। সারা ঘরের জিনিস পত্র ধরে ধরে দেখছে। কয়েকবার তার মায়ের কানে কানে গিয়ে বলেছে, মা এখানেই থাকি আমরা। ওখানে আর যাবোনা। এই বাড়িকী সুন্দর। আর আংকেল আন্টি কী ভালো। আমাকে দুপুরে কতো কিছু কিনে দিয়েছে।
সুমন রান্না ঘরে যেতেই আয়শা বেড়িয়ে গেলো।
মায়া ব্যাস্ত সূরে বললো,
-ওই দিকে গেয়েছিলে? দোকানে বসোনি?
-না ভালো লাগে না । বসেই কী হবে। একটা কাস্টমার আসবে কীনা সন্দেহ। আর ওইদিক দিয়ে বাবা যাওয়া আসা করে দেখলে আবার কটু কথা শোনাবে। তাই বসিনি।
- ভালো করেছো। রিফাত ভাই অনেক বাজার করে এনেছে প্রচুর রান্না রাতে। বাড়ি থেকে রাগ করে আসার পর নাকি বেচারা আর একটু ঘরের রান্না খেতে পারেনি। তাই আজকে সে কবজি ডুবিয়ে খাবে।
-যানো মায়া ওইদিকে কী হয়েছে?
মায়া কাজ থামিয়ে মনযোগ সুমনের পরের বাক্যটার দিকে দিয়ে বললো,
-কী হয়েছে? কোনো খবর পেয়েছো?
-হ্যা, আবুল চাচার ছোট ছেলে ইসমাইল আছেনা? ওর সাথে দেখা হয়েছিলো।
মায়া উত্তেজিত হয়ে বললো,
-কী বললো? ও। ওই বাড়ির কী অবস্থা এখন?
-বাড়ির কাজ নিয়ে নাকি বিরাট ঝামেলা বেধেছে। কেউ নাকি কোনো কাজ করবেনা। বড়ো ভাই টাকা বেশি দেয় এইজন্য বড়ো ভাবি কাজ করবেনা। মেঝো ভাবি কেমন সেজেগুজে থাকে সে তো জানোই। তার সাজ নষ্ট হয়ে যাবে তাই সে কাজ করবেনা। আর সেঝো ভাবির কথা তো জানোই। জীবনে কোনো কাজ করে খায়নি। আর মায়ের তো কমড়ে বেথা কোনো কাজ করতে পারেনা। সে নিয়ে বাড়িতে নাকি প্রচণ্ড ঝগড়া। সবাই নাকি বাইরে থেকে খাবার এনে খায়। পুরো বাড়ি এলোমেলো হয়ে আছে।
-ইসহ! রে কি অবস্থা হলো বলো! না আসলেই ভালো হতো। মায়ের এখন কী হবে। কমড় ব্যাথা নিয়ে তো সব কাজ তার করতে হবে। ওরা কেউ তো করবেনা। বাধ্য হয়ে সে গিয়ে কথা শুরু করবেহ
-যে পাপ করেছে তার শাস্তি পাক তারপর দেখা যাবে কী হয়। রিফাত কোথায়?
-বাজারে গেছে।
-এইনা বললে, বাজার করে এসেছে!
-হ্যা। তোমার মেয়ের একটু দই খেতে ইচ্ছে করেছে। আবার সন্ধ্যায় নাস্তা খায় আয়শা এইজন্য দই আর নাস্তা আনতে গেছে।
-ওহ্,,,,,,,
মায়া ব্যাস্ত সূরে বললো,
-তুমি চাকরিতে জয়েন কবে থেকে করবে? ভাবছি আমিও কিছু করবো।
-আরে নাহ্, তুমি কিছু করলে মেয়েকে কে দেখবে। আর এখানে আয়শা একা থাকে মূলত এইজন্যই রিফাত আমাদের এনেছে। সেই ওকে একা রেখে যদি তুমি বাইরে যাও তাহলে বিষয় টা খারাপ দেখায়না? আর যেখানে ৫/৭ হাজার টাকা দিয়ে চলেছি। আর এখন ৩০ হাজার টাকা। এতে অনেক হয়ে যাবে। মানুষ ক দিন বাচে বলো? এতো টাকা পয়সা দিয়ে কি হবে। যে ক দিন বাচবো ভালো মন্দ খেয়ে সুখে বাচবো।
-যানোতো মায়ের জন্য খারাপ লাগছে। ওরা যদি সব কাজ মাকে দিয়ে করায়।
-তুমি যেটা ভাবছো ওটা যদি মা একবটা বার ভাবতো আজকে কী বাড়ি ঘর ছেড়ে এখানে এসে থাকতে হতো?
- আমাদের সাথে কেউ খারাপ করলে কী আমরাও তার সাথে তাই করবো?
- না তবে তার প্রাপ্য শাস্তি টুকু তাকে পেতে দিতে হবে। মা যদি তার ভূল বুঝে কখনো আমাদের কাছে চলে আসতে চায় তাহলে আমার কোনো আপত্তি নেই।
সুমন একটু ভেবে আবার বললো,
-বাদ দাও তো তাদের শাশুড়ি বউদের মধ্যে অনেক মিল দেখেছি ঝগড়া কেনো হবে। এসব নিয়ে আমরা এতো চিন্তা করছি কেনো?
-তুমি যানো না। মা একটু বেশি চিল্লায় দেখে ওরা আড়ালে মায়ের নামে অনেক কটু কথা বলতো।
- বলুক। আমার এসবের জন্য কষ্ট হয় না। স্ত্রী আর মা দুই জনেই সমান। তাই তার প্রতি যেই কর্তব্য ছিলো আমি পালন করেছি। কিন্তু আমি তোমার কাছে ঋণি। তোমার কর্তব্য গুলোও তো পালন করতে হবে।
আয়শা পেছন থেকে আসতে আসতে বললো,
-সুমন ভাই আপনি কী এতো সুন্দর সুন্দর কথা বলেই ভাবিরে পটাই ছিলেন নাকি? আপনার বন্ধুরে কী একটু শিখাতে পারেন না? তার প্রেমে যে আমি কীভাবে পরলাম। ভেবেই পাইনা।
সুমন একটু ভাব নিয়ে বললো,
-আরে নাহ্। সুমন কোনো মেয়েরে পটাইতোনা বুজছো। এইযে এই সুন্দর চেহারা দেখে তোমার ভাবি বড়ো লোকের মেয়ে হয়েও আমাকে দেখে ফিদা হয়ে গেছে।
-এহ্, আসছে। আমাকে দেখে সারাদিন এই অজুহাতে ওই অজুহাতে আমাদের বাড়ি আসতো আমাকে দেখার জন্য। মাঝে মাঝে নেকা হাচি দিয়ে বললো,
-মিস একটু পানি দিবেন।
আমি তো ঠিকি বুঝতাম বাড়িতে এতো কাজের লোক থাকতেও পানি কেনো আমার দিতে হবে। ওই হাচি তো ইচ্ছে করে দেওয়া হাচি তাই আমার সামনে আসলেই ওই হাচি আসতো। ওই পানি দিতে গিয়েই তো ফেসে গেছি।
-আচ্ছা আয়শা তুমিই বলো এতো বড়ো লোক বাড়ির মেয়ের দিকে তাকানোর কী আমার সাহস ছিলো? আর আমি কী পানি চাইতে ওতো বড়ো লোক বাড়ির বেডরুমে যেতাম? কেউ যদি সামনে বসে থাকে তাহলে তার কাছে পানি চাওয়া দোষের কী?
-বেড রুমে না যেতে। বাড়ি এসেই তো চো*রের মতো এদিক ওদিক উকি দিতে। যাও তো! আমার সাথে তুমি কথায় পারবে না শুধুই।
আয়শা কমড়ে হাত দিয়ে বললো,
-আমি যে এখানে আছি আমাকে দেখছেই না। আমার সাথে কথা না বলে তারা রোমান্টিক ঝগড়া করছে।
-কই আমি তো দেখছি। এই সুমন তুমি যাও তো। ছেলে মানুষ রান্না ঘরে কী?
-হ্যা যাচ্ছি। আয়শারে ভালো ভাবে রান্না শেখাও। আমার বন্ধুটা এক কোটি বছর হয়ে গেছে একটু ঘরের ভালো রান্না খায়না।
কথা শেষ করেই সুমন জোরে জোরে হাসতে হাসতে চলে গেলো।
আয়শা মুখ বেকা করে মায়ার দিকে তাকিয়ে বললো,
-দেখেছেন ভাবী কীভাবে অপমান করলো।
-তুমি ওর কথা বাদ দাও তো। আমি তোমাকে সব রান্না শিখিয়ে দিবো।
-আপনি কীভাবে এতো রান্না পারেন? সুমন ভাই তো বললো। অনেক বড়ো ঘরের মেয়ে ছিলেন। আমার জানা মতে বড়ো ঘরের মেয়েরা তো তেমন রান্না বান্না যানেনা।
-কে বলেছে তোমাকে? শোনো যারা ভাব নিয়ে অহংকার করে চলে তারাই পারেনা। ছোট থেকেই রান্নার প্রতি ঝোক ছিলো। সারাদিন মায়ের সাথে থাকতাম রান্না ঘরে। সেখানেই আস্তে আস্তে মায়ের থেকে সব শিখে নিয়েছি। ভাগ্য আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে কেউ যানেনা। দেখো ওই সময় যদি রান্না বান্না না শিখতাম তাহলে শশুর বাড়ি এসে কতো কথাই না শুনতে হতো। তাই মেয়েদের সব কাজ শিখে রাখতে হয়।
রাতের সব রান্না বান্না শেষ। সবাই খাচ্ছে। আয়শা সুমন আর রিফাত কে সব পরিবেশন করে দিচ্ছে। মায়া মৌকে খায়িয়ে দিচ্ছে। রিফাত খেতে খেতে বলে উঠলো,
-আহ্হহহহ কতো বছর পর খেলাম এই মজাদার খাবার। বাইরের খাবার আর আয়শার আলুভর্তা আর ডিম ভাজি খেতে খেতে আমার মুখ বাচ্চাদের মতো হয়ে গিয়েছিলো।
- ইসসসস রে আমি না থাকলে তো ওই আলুভর্তা আর ডিম ভাজিও কপালে ঢুকতোনা।
- ঠিকি বলেছো। তুমি না থাকলে তো মায়ের হাতের মজার মজার রান্না খেতাম।
রিফাত এ কথা বলেই হাসতে লাগলো।
বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি। মৌ খেতে খেতে বললো,
-মা আমি আর ও বাড়ি যাবোনা। ওই বাড়ি দেখেছো ঘরে কতো পানি পরতো। এই বাড়িতে কোথাও পানি পরেনা।
মৌর কথা শুনে,
রিফাত মৌকে কোলে নিয়ে বললো,
-তোমাকে আর কোথাও যেতে হবে না। তুমি এখানেই থাকবে।
রিফাতের কথা শুনে মৌ বেশ খুশি হলো।
চলবে...................
#মায়ার_সংসার
#পর্বঃ৬
#রেজওয়ানা_আসিফা
বৃষ্টির তিব্রতা খুব বেড়ে গেছে। আয়শা আর মায়া গল্প করছে। মৌ অনেক আগেই ঘুমিয়ে গেছে। সুমন বারান্দায় দারিয়ে আছে। রাফাত চার কাপ চা বানিয়ে মায়া আর আয়শাকে দুই কাপ দিয়ে আর দুই কাপ নিয়ে বারান্দায় গেলো। সুমন কে এতো বৃষ্টির মধ্যে বাইরে তাকিয়ে থাকতে দেখে রিফাত পেছন থেকে ডাক দিলো। সুমন কিছুটা ঘাবরে গেলো।
-কিরে এভাবে বাইরে তাকিয়ে আছিস কেনো?
সুমন সামনে তাকাতেই রিফাত খেয়াল করলো সুমনের চোখে পানি। রিফাত উত্তেজিত হয়ে বললো,
-কীরে ! কী হইছে তোর? কাদছিস কেনো? এই সুমন।
সুমন রিফাত কে থামিয়ে দিয়ে বললো,
-আস্তে কথা বল। মায়া আয়শা শুনবে তো।
-কিসের আস্তে আগে বল কাদছিস কেনো?
সুমন রিফাতের কাধে হাত রেখে বললো,
-কী বলবো বল, মার কথা খুব মনে পরছে। আচ্ছা বল, আমি তো তার সন্তান ছিলাম। আদরের ছোট সন্তান তাহলে কেনো করলো এমন? তুই জানিস, যেইদিন মায়ার প্রেগনেন্সির কথা তারা জানতে পারে আমি বাড়ি আসার পর আমাকে ঘরে নিয়ে মা কতো কথা শোনায়। যা মুখে বলা সম্ভব না। বাড়িতে নতুন একজন মানুষ আসার খুশিতে সবাই আনন্দ করে। আর আমার বাচ্চার কথা শুনে তাদের কতো সমস্যা। আমার মেয়েটাকে এক টুকরা মাংস দিতো না। সে আমাকে ঠকাতে পারলো আমি তো তাকে ভুলতে পারিনা। ছোট বেলায় তার আদর ভালোবাসা ওই গুলো এখনো আমার মনে গাথা।
-মন খারাপ করিস না ভাই। আমার তো একি অবস্থা। আর কী বলবো বল। যা গিয়ে সুয়ে পর। কালতো একবার অফিস যাবি নাকি?
-হ্যা। ওদের গল্প করা হয়েছে?
-না হলেও গিয়ে এখন ঘুমা। যাহ্
মায়া সুমন কে আসতে দেখে গিয়ে বিছানা করে নিলো। ওদের আলাদা একটা রুম দিয়েছে রিফাত।
সকালে নাস্তা করে সুমন অফিসের জন্য বের হলো। সাথে রিফাতও গেলো। তার আর দুই মাস পরেই চলে যেতে হবে। তাই আজকে সুমনের সাথে একটু ঘুরবে। দুই জন রিকশা নিয়ে সুমনের অফিসের দিকে যাচ্ছে। হঠাৎ ফেছন থেকে কারো ডাক শুনে সুমন রিকশা থামাতে বললো।
পিছনে তাকাতেই দেখলো ইসমাইল।
ইসমাইল হাপাতে হাপাতে বললো,
-আপনারে না বলছিলাম নাম্বার টা দিতে সুমন ভাই।
সুমন জিভ কেটে বললো,
-এইরে ভাই একদম মনে নেই আমার।
-যানেন আপনাদের বাড়িতে কী হইছে?
-কেনো কী হইছে?
-বাড়ির কাজ নিয়ে সবাই এর উপর ওর উপর দিচ্ছে বলছিলাম তো?
-হ্যা। এখন কি হয়েছে,
- সবার উপর রাগ করে খালা সব কাজ করতে গিয়ে মাথা ঘুরে পরে গেছে। এখন হাসপাতালে আছে।
-হায় হায়, কোথায়? কোন হাসপাতালে?
ঠিকানা নিয়ে ইসমাইলকে বিদায় দিয়ে রিকশা নিয়ে সুমন আর রিফাত সোজা হাসপাতালে গেলো।
সিটে সুয়ে আছে সুমনের মা। পাশেই বড়ো ভাবি বসে আছে। সুমন কে দেখে অন্য পাশে তাকিয়ে রইলো বড়ো ভাবি। সুমন তার মায়ের কাছে যেতেই তার মা বললো,
-কেনো আসছিস এখানে? আমারে মারার জন্যই তো তোর বউ নিয়ে তুই চলে গেছিস। তোর বউ এমন কি কাজ করতো। ঘরের কাজ কী বাড়ির বউরা করে না? বাদ দেই এইসব কথা। এখানে কেনো আসছিস? তোর এতো দরদ দেখান লাগবো না। এখান থেকে যা।তোরে দেখতে ইচ্ছে করছে না আমার। বড়ো বউ ওরে যাইতে বলো।
-আমারে তো একটা কথাও বলতে দিলা না। আসার পর থেকে নিজেই বলে যাচ্ছো। সব কাজ একা করে হাসপাতালে পরে আছো। তারপরও তোমার অহংকার কমছে না। ঠিক আছে থাকো। আসবো না তোমার কাছে আর।
কথা শেষ করেই সুমন বেরিয়ে গেলো।
রিকশায় বসে সুমন অন্য দিকে তাকিয়ে আছে। রিফাত সুমনের পিঠে হাত দিয়ে বললো,
-বাদ দে ভাই। মন খারাপ করিস না। অভিমান করে বলে ফেলেছে এতো কথা।
-অভিমান? তার চোখে তুই অভিমান দেখছিলি? আমি তার চোখ ভরা অহংকার দেখছিলাম। মানুষ তো শত্রুর সাথেও এভাবে লাগে না যেভাবে আমার পরিবার আমার সাথে লাগছে। কী করে পারে এতো অহংকার নিজের মধ্যে পুষে রাখে।
-থাক বাদ দে। ভাবিরে গিয়ে কিছু বলার দরকার নেই।
দুই জন টুকটাক কথা বলতে বলতে যাচ্ছিলো। হঠাৎ সুমন কথা থামিয়ে চলন্ত রিকশায় দারিয়ে গেলো।
রিফাত পরতে পরতে রিকশা ধরে ফেললো। সুমনের মাথায় একটা টোকা মেরে বললো,
-পাগল হয়ে গেছিস নাকি? একটু হলেই পরে যেতাম।
সুমন উত্তেজিত হয়ে বললো,
-আরে, আরে আমার সেঝো ভাবি। একটা লোকের সাথে রিকশায় হাসতে হাসতে কোথায় যেনো জাচ্ছে।
-কই? আমি তো কাউকে দেখলাম না,
-আরে বেটা তুই দেখবি কীভাবে। তুই তাকে চিনিস নাকি।
-হ্যা তাই তো। কিন্তু তুই শিউর তুই তোর ভাবিরেই দেখছিস?
-আরে হ্যা ভুল দেখবো কেনো। তারেই দেখছি।
-তোর ভাই হয়তো ছিলো সাথে।
সুমন রেগে বললো,
-আমার চোখে ছানি পরে নাই যে ভাইরে চিনবোনা।
রিফাত মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো,
-ঠিকি তো। আচ্ছা ওদের নিয়ে তোর এতো চিন্তা করা লাগবে না।
-ধুর বেটা। তোর সাথে কথা বলাটাই আমার বোকামি হচ্ছে ।
আমার ভাইর বউ অন্য কাউকে নিয়ে ঘুরছে আর আমার চিন্তা করা লাগবে না? মা অসুস্থ আর সে কার সাথে যেন ঘুরছে। কি অবস্থা হয়ে গেছে বাড়িতে।
প্রথম দিন অফিসের কিছু কাজ বুঝে বসের সাথে গল্প আড্ডা দিয়ে রিফাতকে নিয়ে ঘুরে বাড়ি ফিরতেই মায়া আর আয়শার থেকে যা শুনলো তা শোনার জন্য সুমন মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা।
আয়শা মায়া দুই জনেই কাদছে। অন্য ফ্ল্যাটের সবাই দরজায় দারিয়ে আছে। ভিড় ঠেলে ঘরে ঢুকতেই,
মায়া কাদতে কাদতে বললো,
মৌকে পাওয়া যাচ্ছে না। দরজা খুলে মায়া ছাদে গেছিলো আয়শা রান্না ঘরে ছিলো। মৌ সামনের রুমেই খেলছিলো। ছাদ থেকে আসতে একটু দেরী হয়। এসে মৌকে না দেখতে পেয়ে মায়া আয়শাকে জিগ্যেস করতেই আয়শা বলে সে রান্না ঘরে ছিলো। পরে খোজা সুরো করে। কিন্তু কোথাও পাচ্ছে না।
চলবে...................
#মায়ার_সংসার
#পর্বঃ৭
#রেজওয়ানা_আসিফা
আয়শার কথা শুনে রিফাত রেগে বললো,
- কী করো সারাদিন? একটা বাচ্চা দেখে রাতে পারো নাই? তোমাকে দ্বারা কিছু হবেনা।
আয়শাও খুব কাদছে। কাদতে কাদতে কথা বলতে পারছেনা। সুমন কাদছে আর এদিক ওদিক খুজছে। দুই ঘন্টা খোজার পর মায়ার কাদতে কাদতে হঠাৎ বুকে ব্যাথা উঠে যায়। রিফাত মায়াকে নিয়ে ডক্টরের কাছে গেলো। সুমন থানার দিকে রওনা দিবে এমন সময় একটা ২১ থেকে ২২ বছরের ছেলের হাত ধরে মৌ বাড়ি ফিরেছে। মৌকে দেখে সুমন পাগলের মতো মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কাদছে।
অনেক ক্ষন পর ছেলেটা হঠাৎ বলে উঠলো,
-ও হয়তো বাসার দরজা খোলা পেয়ে বেড়িয়ে গেছে। আমি এই বাড়ির পাচ তলায় থাকি। রাস্তায় দেখলাম একটা লোক ওর হাত ধরে কোথায় যেনো নিয়ে যাচ্ছে। আমি রিফাত ভাইকে চিনি আর আপনাকেও দেখেছিলাম একবার ওর সাথে ও বাবা বাবা করে ডাকছিলো। তাই মনে হলো আপনারা কেউ ওর সাথে না। গিয়ে জিগ্যেস করলাম ওকে। যে কোথায় যাচ্ছে। পাশ থেকে লোকটি বলে উঠলো,
-আমার মেয়ে আমি নিয়ে কোথায় যাবো আপনাকে কেনো বলবো।
এর পরেই সন্দেহ হলো। কিছু লোকজন ডাক দিয়েই তারা আমাকে ভুল বুঝলো। আর বললো,
-এই লোক এই বাচ্চার বাবা না আপনাকে কে বলেছে। রাস্তার মধ্যে ঝামেলা করছেন কেনো।
তারপর আপনার পিচ্চি কে কাছে এনে বললাম
-ওইটা তার বাবা নাকি,
সে সুন্দর করে উত্তর দিলো,
-নাহ্। এটা বাবা না। এটা তো চকলেট আংকেল। এতেই সবাই বুঝতে পারলো লোকটা মিথ্যাবাদী।
ওনারা আমার কাছে ওকে দিতে চাচ্ছিলো না। অনেক কষ্টে বুঝিয়ে এনেছি। পুলিশ এখনো নিচে আছে। লোকজনকে জিগ্যাসাবাদ করছে। আপনাকে একবার নিচে যেতে হবে। মৌকে নিয়ে সুমন নিচে গেলো। পুলিশের সাথে কথা বলে সেখান থেকেই তারাতাড়ি ডক্টরের কাছে গেলো। মায়াকে ডক্টর একটা স্লাইন দিয়েছে। মৌকে দেখে মায়া তারাহুড় করে উঠে জরিয়ে ধরলো।
মায়া আর মৌকে নিয়ে বাড়ি ফিরলো সবাই। মায়া এসে মৌকে অনেক ক্ষন বকেছে তার এই কাজের জন্য।
রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে সুমন মায়াকে বারান্দায় ডেকে তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলতেই মায়া অস্থির হয়ে বলে,
-তোমার মধ্যে কোনো বুদ্ধি নেই? তুমি এ কথা আগে বলনি কেনো? আর সে তোমাকে চলে আসতে বললো আর চলে আসলে? এক বাচ্চার বাপ হয়েও এখনো তোমার মাথা খুললোনা । মায়েরা অভিমান করে বলতেই পারে তাই তুমি ওই কথা শুনে রেগে চলে আসবে?
-সে অভিমান করে বলেনি মায়া। তার মধ্যে এখনো অনেক অহংকার। আমি তার ভাষায় এবং তার চোখে অহংকার দেখতে পেরেছি।
সুমন একটু থেমে আবার বললো,
-যানো কী হয়েছে! মাকে দেখে অফিসে যাওয়ার সময় দেখি সেঝো ভাবি একটা লোকের সাথে এক রিকশায় হাসতে হাসতে কোথাও যাচ্ছে। মা হাসপাতালে আর সে ঘুরছে।
মায়া ভাবতে ভাবতে বললো,
-সে কী? কার সাথে যাবে? তুমি ঠিক করে দেখেছো? সেঝো ভাই ছিলো হয় তো।
-তুমিও শুরু করেছো রিফাতের মতো। সেঝো ভাইরে কি আমি চিনবো না নাকি। সেঝো ভাই থাকলে ত আর অন্য লোক অন্য লোক করতাম না।
মায়া আফসোসের শুরে বললো,
-ইসরে......সংসার টা কেমন ধ্বং*স হয়ে জাচ্ছে।এভাবে চলতে থাকলে পরিবার টা কিছু দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। আমাদের বাড়ি যাওয়া উচিৎ।
মায়ার এ কথা শুনে সুমন রেগে কিছু টা দূরে গিয়ে বললো,
-তোমার কি ভালো থাকতে ভালো খেতে ইচ্ছে করেনা? নাকি এই সুখ সহ্য হচ্ছে না? বার বার বাড়ি যাবো বাড়ি যাবো করছো কেনো? কী আছে ওই বাড়িতে? সারাদিন কাজের লোকের মতো কাজ করতে তোমার খুব ভালো লাগে? সত্যি মায়া তোমার প্রতি এবার আমার খুব রাগ হচ্ছে। যেই কষ্ট থেকে আমি তোমাকে দূরে এনেছি তুমি সেই কষ্টের সাগরে ডুবে মরতে চাইছো।
-তুমি বুঝবে না। সংসারের মায়া। কেউ তো কোনো কাজ করতোনা। সব আমি করতাম। কোথায় কী আছে কীভাবে থাকবে নিজের ইচ্ছে মতো সাজিয়েছি পাচ বছরে। ছোট মায়া ওই সংসারে এসে সংসারী হয়েছে। ওটা তো আমারি সংসার বলো! ওটা #মায়ার_সংসার
মায়ার কথা শেষ হওয়ার আগেই সুমন বললো,
-হ্যা মায়া বেগম এখন ওই সংসার ভুলে যান। আর বেশি মনে পরলে ওই বাড়ি গিয়ে কাজের লোকের মতো প্রতিদিন কাজ করে দিয়ে আসেন। আমার মেয়েকে আর পরবর্তী সন্তানকে কষ্ট দিতে আমি ওখানে যেতে পারবোনা।
সুমন ঘুমিয়ে গেছে মায়া এখনো বারান্দায় দারিয়ে আছে। হঠাৎ বাবা মায়ের কথা খুব মনে পরছে। সেই কবে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসেছে মধ্যে একবার গিয়েছিলো কিন্তু বাড়ি ঢোকার সুযোগ হয় নি।
সকালে নাস্তা শেষে সুমন অফিসের জন্য তৈরি হলো। সুমন অফিসের জন্য একটা রিকশা নিয়ে বেড়িয়ে পরলো। অফিসে এসে সারাদিন সব কাজ বুঝে নিলো। দুপুরে বসের সাথে লান্স করলো। রাতে তাদের বস কম্পানির ৩০ বছর উপলক্ষ্যে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজনের বিষয়ে কথা বলার জন্য ডিনারের ব্যবস্থা করেছে। তাই সুমন সুযোগে মায়াকে ফোন করে বলে দিলো তার আসতে দেরী হবে। রাতের মিটিং এ অফিসের সবাই ছিলো কীভাবে কীভাবে কী আয়োজন করবে সবাই সব কাজ বুঝে নিচ্ছিলো। হঠাৎ তার সব সুমন কে ডেকে বললো,
-তুমি এই দিকটা দেখো আমার একজন গেস্ট এসেছে আমি তাকে নিয়ে
-ওকে ওকে। আপনি যান আংকেল।
সুমন খেয়াল করলো যার বসের পাশের লোকটাকে তার চেনা লাগছে খুব। ভালো ভাবে আলোতে আসতেই দেখতে পেলো,
তার বড়ো ভাই এটা।
রাতে সবাই মিটিং শেষ করে বাসায় চলে গেছে সুমন বের হবে এমন সময় তার বসের স্ত্রী যার জন্য আজকে সে এখানে পারভিন হোসাইন এসেছে তার বড়ো মেয়েকে নিয়ে। সুমন সুনেছে তার বড়ো এই অফিসেই কাজ করে সে সকল কাজ ম্যানেজার কে বুঝিয়ে দেয়। তার বস মারুফ হোসাইন এখানে বেশি থাকতে পারেনা। সুমন কে দেখেই পারভিন হোসাইন তাকে কাছে ডেকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,
-কেমন আছো বাবা? সেই এলাম তোমার আংকেল আর আমাকে একটু তোমার সাথে দেখা করালো না। এখন আর আমার দাতে ব্যাথা নেই। অনেক ডক্টর দেখিয়েছিলাম, তোমার জন্য ঠিক হলো। ধন্যবাদ বাবা। তোমার আংকেল আমাকে তোমার কথা বলেছিলো তোমার কথা। তারপর আমিই তোমাকে এখানে আনার কথা বলি। মন দিয়ে ঠিক মতো কাজ করবে। আর একদিন তোমার স্ত্রী আর বাচ্চা কে পরিচয় করিয়ে দিয়ো।
- অবশ্যই পরিচয় করিয়ে দিবো।
-ঠিক আছে তাহলে আসো। তুমি। সবাই বেড়িয়ে গেছে আমি তোমাকে দেরী করিয়ে দিলাম।
-কোনো সমস্যা নেই। আন্টি। আসি এখন। আবার দেখা হবে।
সুমন রাত ১১ টায় রিকশা নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছে। তার একটা কথা মাথায় আসছে না তার বড়ো ভাই তেমন বড়ো কেউ না। মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতন পায় আর এমনে আরো কিছু ইনকাম আছে। তার বসের গেস্ট হিসেবে আসার মতো এতো বড়ো কেউ না। তাহলে এতো ভি আই পি গেস্ট হয়ে কীভাবে এলো। তার মাথায় আসছে না।
চলবে.............
#মায়ার_সংসার
#পর্বঃ৮
#রেজওয়ানা_আসিফা
সকালের রৌদ্রের আলো সুমনের চোখে পরতেই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো সাত টা বেজে গেছে। পাশে ঘুরে দেখলো মায়া পাশে নেই। মৌ ঘুমাচ্ছে। মৌর ঘুমন্ত চেহারার দিকে কিচ্ছুক্ষন তাকিয়ে কপালে একটা চুমু দিয়ে গোসলে গেলো সুমন।
মায়া সকালের নাস্তা তৈরি করে টিভি দেখছে। সুমন খাওয়া দাওয়া করে রেডী হয়ে অফিসের জন্য বেড়িয়ে যাওয়ার সময় রিফাত কে খালি মুখেই নিয়ে বের হয়েছে। রিফাত রাতে দেরী করে ঘুমায় তাই সকালে দেরী করে উঠে। আজকে সুমনের জন্য তারাতাড়ি উঠতে হয়েছে। বেডরুমে গিয়ে সুমন নিজে তাকে টেনে তুলেছে। সুমনের সাথে সাথে আয়শাও তাল দিয়েছে।
রিফাত বিরক্ত হয়ে নিচে এসে বললো,
-সকাল সকাল তুই কাজে যাবি আমার শান্তির ঘুমের ১২ টা বাজিয়ে নিচে আনলি কেন?
-মায়ারে একটা সারপ্রাইজ দিতে চাচ্ছি।
রিফাত চোখ ডলতে ডলতে বললো,
-তো দে। নতুন চাকরি পাইছিস ট্রিট দিবি সারপ্রাইজ দিবি ভালো কথা। আমারে টেনে নিচে আনলি কেন?
-তোরে লাগবো এইজন্য আনছি। শোন একটা গাড়ি ভাড়া কর দুই দিন পরের জন্য। পরশু অফিসে পার্টি আছে।
রিফাত ভ্রু কুচকে বললো,
-কিসের পার্টি? বলবো নাকি ভাবিরে?
সুমন বিরক্ত হয়ে বললো,
-ধুররর! আমার কথা শোন, পরশু কম্পানির ৩০ বছর উপলক্ষ্যে বিশাল আয়োজন করা হবে। এর পরের দিন অফিস বন্ধ। আর সেদিন মৌ এর তিন বছর পূর্ণ হয়ে চার বছরে পর্বে। ওর জন্মদিনে আমরা সবাই মায়ার বাবার বাড়ি যাবো।
আমি দেখেছি মায়ার মনটা খুব খারাপ। এই সময় এভাবে মন মরা হয়ে পরে থাকলে ওর শারীরিক ক্ষতি হবে। তাই আমি চাইনা ওর কিছু হোক। আর এতোদিন পর নিশ্চয়ই ওকে দেখে ওর বাবা মা আর রাগ করতে পারবেনা।
আর আয়শাকেও কিছু বলবিনা। কারণ ছোট মানুষ ও বলে দিতে পারে। বলে দিলে সারপ্রাইজটা ন*ষ্ট হয়ে যাবে।
-ঠিক আছে বলবোনা। এই কথা তো তুই পরেও পলতে পারতি। এইটুকু কথার জন্য সুন্দর পাকা ঘুম টা না ভাংলেও পারতি।
-এতো ঘুমিয়ে করবি কী আর। যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নে। আমিও যাই।
-সাবধানে যা।
সুমন অফিসে ঢুকতেই দেখলো বসের মেয়ে নায়নার কেবিন থেকে তার বড়ো ভাই বেড়িয়ে গেলো।
সুমন নায়নার রুমে যেতেই দেখলো সে ফাইলে সাইন করছে।
-ম্যাম আসবো?
নায়না সামনে তাকাতেই দেখলো সুমন।
-সুমন ভাই যে, আসেন আসেন ভিতরে আসেন।
সুমন ভিতরে গিয়ে বসে কাচুমাচু করছে।
নায়না সুমনের দিকে তাকিয়ে বললো,
-কিছু বলবেন? কিছু বললে বলেন।
-একটু আগে যেই লোকটা আসলো সে কে?
নায়না মুচকি হেসে বললো,
-কেনো চেনেন নাকি?
-না দেখেছিলাম একবার।
-ওহ্। এই লোককে নিয়ে একটা সারপ্রাইজ আছে। সেটা পরে বলবো এখন না।
-না না ম্যাম এখন বলেন।
-না সারপ্রাইজ আছে। অনেক বড়ো। এখন কোনো মতেই বলা যাবে না।
কথা টা বলেই নায়না মুচকি হাসলো।
সুমন নায়নার কেবিন থেকে বের হয়ে ব্যপারটা বোঝার চেষ্টা করছে। কী সম্পর্ক তার বড়ো ভাইর এই বসের সঙ্গে। কেনো তার এতো সমাদর। সামান্য একজন কর্মচারীর এতো সমাআদর? আর কর্মচারি তো তার কম্পানির না। অন্য কম্পানির তাহলে সে কেনো এই পরিবারের এতো প্রিয়।
মায়াকে বোরকা পরতে দেখে আয়শা জিগ্যেস করলো,
-কোথায় যাচ্ছেন ভাবি?
মায়া নিকাব লাগাতে লাগাতে বললো,
- একবার ওই বাড়ির ওইদিকে যাবো। দেখে আসি কী অবস্থা।
-সে কী! ওই দিকে গেলে ভাইয়া যানতে পারলে খুব বকবে।
-সুমন এই সময় বাসায় আসে না। তাই যানবে না। আমি এক ঘন্টার মধ্যে চলে আসবো। তুমি মৌ কে একটু দেখে রেখো। সুমন রিফাত ভাইরে ফোন দিলে তারে বইলো যে আমি ছাদে এখন কথা বলতে পারবোনা
-ঠিক আছে।
মায়ার মৌর কপালে একটা চুমু দিয়ে বেড়িয়ে পরলো।
মায়ার শশুর বাড়ির ঠিক দুই বাড়ি আগে একটা বাড়ি আছে প্রতিবেশী। ওই বাড়ির সবাই মায়াকে খুব পছন্দ করে তাই মায়ার শশুর বাড়ির লোকেরা তাদেরকে তেমন দেখতে পারেনা। মায়া ওই বাড়ি গিয়ে বসলো। মায়াকে দেখে তারা অনেক খুশি হলো। মায়া গিয়েই তাদের বারন করলো কোনো ভাবেই যেনো তার শশুর বাড়ির লোকেরা যানতে না পারে। তারা মায়ার কথা বুঝতে পেরে আশে পাশের কাউকে কিচ্ছু বললোনা।
মায়া শান্ত স্বরে ওই বাড়ির বড়ো বউকে জিগ্যেস করলো বাড়ির কি অবস্থা।
-আপনার শাশুড়ি তো অসুস্থ। আর সেঝো বউ বাপের বাড়ি চলে গেছে। বড়ো বউ টুকটাক সাহায্য করে মেঝোটা সারাদিন কোথায় কোথায় যেনো থাকে।
-আর বাড়ির ছেলেরা?
-বাড়ির ছেলেরাই তো সব করে।
-কীহ্? ভাইরা সব কাজ করে?
-হ্যা। আপনার বড়ো ভাশুর বাদে। সে তো তেমন বাসাই আসে না। তা নিয়ে তার বউ পুরো এলাকায় প্রশংসা করে। তার স্বামী বড়ো লোক তাই বড়ো লোকরা তো কাজের চাপে বাড়ি আসতে পারে না এইজন্য তার স্বামীও বাড়ি আসতে পারেনা। তার মধ্যে একদিন কী হইছে যানেন।
মায়া মনযোগ সহকারে শুনতে লাগলো।
-আপনার বড়ো ভাশুর কী যেনো খেয়ে বাড়ি আসছিলো। আর আপনার শাশুড়ি সেটা নিয়ে অনেক বকে। কিন্তু আপনার বড়ো যা বলে এতো বকার কী আছে। বড়ো লোকরা এই সব একটু আধটু খায়। আমার স্বামী খাইছে আমার তো কোনো সমস্যা নেই আপনার সমস্যা কেন। এ নিয়ে অনেক চিল্লাপাল্লা হয়।
আমার শাশুড়ি বা আমরা কেউ তো ওই বাড়ি যাইনা যানেন। আর গেলেও বাড়ি সবার মতো আমাদের কাছে তারা মন খুলে সব কথা বলে না। আশেপাশের মানুষের মুখ থেকেই এসব শুনি।
মায়া আর কিছু বললো না। তার বিদায় জানিয়ে বাড়ি চলে আসলো।মায়া বাড়ি ফেরার আগেই সুমন বাড়ি ফেরেছে। মায়াকে দেখেই জিগ্যেস করলো কোথায় গিয়েছিলে।
এই অসময় সুমন কে দেখে মায়া কিছু টা ঘাবরে গিয়ে বললো,
-তুমি এই সব বাসায় কেনো অফিস শেষ?
-হ্যা তুমি কোথায় গিয়েছিলে?
মায়া আসার সময় চিনি কিনে এনেছিলো। সেটা দেখিয়ে বললো।
-চিনি কিনতে গিয়েছিলাম।
-চিনি কিনতে তোমার আধ ঘন্টা সময় লাগলো?
মায়া কথা বলছে না। কি বলবে সে? মিথ্যা বলার অভ্যাস নেই তার।
-ওই বাড়ির প্রতি এতো ভালোবাসা কেনো দেখাও? তুমি যানো ওই বাড়িতে এখন কী সব হচ্ছে?
সুমন এই টুকু বলেই থেমে গেলো।
মায়া আয়শার দিকে তাকিয়ে দেখলো বেচারি দারিয়ে দারিয়ে সব দেখছে। মায়া দীর্ঘশ্বাস নিয়ে সোফায় বসলো। আয়শা মায়ার কাছে গিয়ে বললো,
-সুমন ভাই তো ঠিকি বলে। এতো অত্যা*চার করেছে কেনো গেলেন তাদের খোজ নিতে।
মাথা কাতর কন্ঠে বললো,
-একটু একটু করে গড়ে তোলা সুন্দর সংসারের মায়া তুমি বুঝবে না গো।
চলবে................
