#শ্বাশুড়ির_গোপন_কথা

পর্ব ০২


সেদিন সন্ধ্যার পর থেকে আমার মনটা অদ্ভুত অস্থির হয়ে ছিল।

শ্বাশুড়ির কথা বারবার মাথার মধ্যে ঘুরছিল।

“এই দাগটা হয়েছে যখন আমাকে মে*রে ফেলতে চেষ্টা করা হয়েছিল… আর সেই মানুষটা এখনো এই বাড়িতেই আছে।”

কথাটা ভাবলেই শরীর কেমন ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল।

রাতে সবাই একসাথে খাবার খেলাম। সোহেল খুব স্বাভাবিক আচরণ করছিল। সে অফিস থেকে ফিরে প্রতিদিনের মতোই গল্প করছিল, তৃষা হাসছিল, আর শ্বাশুড়ি চুপচাপ বসে ছিলেন।

আমি মাঝে মাঝে লুকিয়ে তার দিকে তাকাচ্ছিলাম।

কিন্তু তিনি যেন আমার চোখ এড়িয়ে যাচ্ছিলেন।

মনে হচ্ছিল, তিনি চাইছেন না কেউ বুঝতে পারুক যে আমাদের মধ্যে কোনো গোপন কথা হয়েছে।

খাওয়া শেষ করে আমি রান্নাঘর গুছাচ্ছিলাম। তৃষা তার ঘরে পড়তে চলে গেল।

সোহেল বারান্দায় বসে মোবাইল দেখছিল।

ঠিক তখনই শ্বাশুড়ির ঘর থেকে খুব আস্তে একটা ডাক এলো।

— “অনন্যা মা…”

আমি চমকে তাকালাম।

তার ঘরের দরজা আধখোলা।

আমি ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকলাম।

ঘরের ভেতরটা অল্প আলোয় ঢাকা। টেবিল ল্যাম্পটা জ্বলছিল।

শ্বাশুড়ি বিছানায় বসে ছিলেন।

আমাকে দেখেই তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলেন।

— “দরজাটা বন্ধ কর।”

আমি অবাক হলাম।

— “কেন মা?”

তিনি নিচু গলায় বললেন

— “দরজাটা বন্ধ কর, তারপর বলছি।”

আমার বুকটা আবার ধক করে উঠলো।

আমি দরজা বন্ধ করে তার পাশে গিয়ে বসে পড়লাম।

— “কি হয়েছে মা?”

তিনি কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

তারপর বললেন—

— “আজ তোকে কিছু দেখাবো।”

আমি আরও অবাক হলাম।

— “কি দেখাবেন?”

তিনি ধীরে ধীরে বিছানার নিচে হাত ঢুকালেন।

সেখান থেকে একটা পুরোনো লোহার ট্রাঙ্ক টেনে বের করলেন।

আমি এই ট্রাঙ্কটা আগে কখনো দেখিনি।

ট্রাঙ্কটা বেশ পুরোনো। উপরে ধুলো জমে আছে।

তিনি আমাকে বললেন—

— “ওটা খুলে দে।”

আমি ট্রাঙ্কের তালাটা খুললাম।

ঢাকনা তুলতেই একটা পুরোনো কাপড়ের গন্ধ বের হলো।

ভেতরে কয়েকটা পুরোনো শাড়ি, কিছু কাগজ আর একটা ছোট কাপড়ের প্যাকেট ছিল।

তিনি বললেন—

— “ওই কাপড়টা খুলে দেখ।”

আমার হাত একটু কাঁপছিল।

আমি কাপড়টা খুললাম।

ভেতরে একটা পুরোনো ছবি।

ছবিটা দেখে আমি থমকে গেলাম।

ছবিতে একজন তরুণী মহিলা দাঁড়িয়ে আছে।

তার পাশে একজন যুবক।

দুজনেই খুব হাসিখুশি।

কিন্তু আমার চোখ আটকে গেল অন্য জায়গায়।

মহিলাটা দেখতে একদম…

আমার শ্বাশুড়ির মতো।

আর যুবকটা…

আমি অবাক হয়ে বললাম—

— “মা… এটা তো আপনি!”

তিনি মাথা নেড়ে বললেন—

— “হ্যাঁ।”

আমি ছবিটার দিকে আবার তাকালাম।

— “কিন্তু এই লোকটা কে?”

তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।

তারপর খুব ধীরে বললেন—

— “ও ছিল আমার প্রথম স্বামী।”

আমি যেন ব*জ্রাঘাতে দাঁড়িয়ে গেলাম।

— “কি!”

আমার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগলো।

কারণ আমরা সবাই জানি আমার শ্বাশুড়ির স্বামী মানে সোহেলের বাবা অনেক বছর আগে মা*রা গেছেন।

আমি তোতলাতে লাগলাম—

— “মানে… তাহলে…?”

তিনি চোখ নামিয়ে বললেন—

— “সোহেলের বাবা আমার দ্বিতীয় স্বামী।”

আমার বুক ধড়ফড় করতে লাগলো।

— “কিন্তু… এটা তো কেউ জানে না!”

তিনি তিক্ত হেসে বললেন—

— “জানলে এই বাড়িতে আজ এত শান্তি থাকতো না।”

আমি ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম।

মনে হচ্ছিল মাথার ভেতর সবকিছু গুলিয়ে যাচ্ছে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম—

— “তাহলে আপনার প্রথম স্বামীর কি হয়েছিল?”

এই প্রশ্নটা শুনে তার মুখটা হঠাৎ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

তিনি ফিসফিস করে বললেন—

— “ও মা*রা যায়নি…”

আমার গা শিউরে উঠলো।

— “মানে?”

তিনি আমার দিকে তাকালেন।

তার চোখে ভয়।

— “ওকে মে**রে ফেলা হয়েছিল।”

আমি কাঁপা গলায় বললাম—

— “কে মে*রেছিল?”

তিনি ঠোঁট কামড়ে ধরলেন।

তারপর খুব আস্তে বললেন—

— “এই বাড়িরই একজন।”

আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

— “কিন্তু… কেন?”

তিনি বললেন—

— “কারণ… আমি ওকে ছেড়ে অন্য একজনকে বিয়ে করেছিলাম।”

আমার মাথা ঘুরে যাচ্ছিল।

— “তাহলে যে আপনাকে মে**রে ফেলতে চেয়েছিল…?”

তিনি মাথা নেড়ে বললেন—

— “হ্যাঁ… সেই একই মানুষ।”

আমি অবাক হয়ে বললাম—

— “সে এখনো এই বাড়িতে আছে?”

তিনি আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

তার চোখে অদ্ভুত এক ভয়।

তারপর তিনি এমন একটা নাম বললেন…

যেটা শুনে আমার বুকের ভেতরটা যেন থেমে গেল।

কারণ সেই মানুষটা…

আমি কখনো কল্পনাও করিনি।

ঠিক তখনই বাইরে হঠাৎ একটা শব্দ হলো।

কেউ যেন করিডোরে দাঁড়িয়ে আছে।

আমরা দুজনেই দরজার দিকে তাকালাম।

শ্বাশুড়ি ফিসফিস করে বললেন—

— “অনন্যা… মনে হচ্ছে কেউ আমাদের কথা শুনছে…”

আমার বুক ধড়ফড় করতে লাগলো।

আমি ধীরে ধীরে দরজার কাছে গেলাম।

দরজা খুলতেই দেখলাম…

অন্ধকার করিডোরে একজন দাঁড়িয়ে আছে।

আর তাকে দেখে আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

কারণ সে ছিল…

তৃষা।

সে আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল।

আর তার মুখে এমন এক অদ্ভুত হাসি ছিল…

যেটা দেখে মনে হচ্ছিল…

সে অনেক আগেই এই রহস্যটা জানে।


চলবে..?


পরবর্তী খুব শীঘ্রই পাবেন। সবাই একটু কমেন্ট করবেন তাহলে পরবর্তী পর্ব আরো তারাতাড়ি পাবেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url