#শ্বাশুড়ির_গোপন_কথা

পর্ব ০৩


দরজা খুলতেই করিডোরে তৃষাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমার বুক ধক করে উঠলো।

ঘরের আলো বাইরে একটু পড়ছিল, তাই তার মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।

সে আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। আর তার ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত একটা হাসি।

আমি একটু নার্ভাস হয়ে বললাম,

— “তৃষা? তুমি এখানে?”

তৃষা ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে ঢুকলো।

তার চোখ একবার আমার দিকে, একবার শ্বাশুড়ির দিকে গেল।

তারপর সে খুব শান্ত গলায় বললো,

— “আমি পানি খেতে উঠেছিলাম… তখন দেখলাম ভাবি আপনার ঘরে।”

আমার মনে হচ্ছিল সে পুরো কথা বিশ্বাস করছে না।

আমি দ্রুত বললাম,

— “হ্যাঁ, মা একটু অসুস্থ লাগছিল তাই দেখতে এসেছিলাম।”

তৃষা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলো।

তারপর হঠাৎ বিছানার দিকে তাকালো।

ওখানে ট্রাঙ্কটা খোলা।

আর তার ভেতরে সেই পুরোনো ছবিটা।

আমি দ্রুত ছবিটা তুলে কাপড়ের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেললাম।

কিন্তু ততক্ষণে তৃষা দেখে ফেলেছে।

সে হালকা ভ্রু কুঁচকে বললো,

— “ওটা কি?”

শ্বাশুড়ি হঠাৎ কেমন নার্ভাস হয়ে গেলেন।

তিনি তাড়াতাড়ি বললেন,

— “পুরোনো কিছু জিনিস… কিছু না।”

তৃষা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো।

তারপর বললো,

— “ঠিক আছে। আমি ঘুমাতে যাচ্ছি।”

কথাটা বলে সে ঘর থেকে বের হয়ে গেল।

কিন্তু তার চলে যাওয়ার পরেও আমার বুকের ধড়ফড় কমছিল না।

আমি দরজাটা বন্ধ করে আবার শ্বাশুড়ির দিকে তাকালাম।

— “মা… ও কি কিছু বুঝে গেছে?”

শ্বাশুড়ি গভীর শ্বাস ফেললেন।

— “তৃষা খুব বুদ্ধিমান মেয়ে। কে জানে কি বুঝেছে।”

আমি আবার সেই ছবিটার দিকে তাকালাম।

— “মা… আপনি একটু আগে বলছিলেন যে আপনার প্রথম স্বামীকে মে* রে ফেলা হয়েছিল। আর সেই মানুষটা এই বাড়িতেই আছে। আপনি তো নামটা বলতে যাচ্ছিলেন…”

তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।

তারপর নিচু গলায় বললেন,

— “আজকে আর না অনন্যা। সময় হলে সব বলবো।”

আমি একটু হতাশ হলাম।

কিন্তু তার চোখের ভয়টা দেখে আর জোর করলাম না।

আমি ট্রাঙ্কটা বন্ধ করে আবার বিছানার নিচে রেখে দিলাম।

তারপর বললাম,

— “ঠিক আছে মা, আপনি ঘুমান।”

আমি ঘর থেকে বের হয়ে নিজের ঘরে এলাম।

সোহেল তখনও জেগে ছিল।

সে আমাকে দেখে বললো,

— “এত দেরি করলে কেন?”

আমি একটু থেমে বললাম,

— “মা’কে একটু দেখে আসছিলাম।”

সোহেল মাথা নেড়ে বললো,

— “ওনার শরীরটা দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে।”

আমি বিছানায় শুয়ে পড়লাম।

কিন্তু ঘুম আসছিল না।

শ্বাশুড়ির কথাগুলো বারবার মাথায় ঘুরছিল।

“এই বাড়িরই একজন…”

“ওকে মে*রে ফেলা হয়েছিল…”

“আমাকেও মে**রে ফেলতে চেয়েছিল…”

কিন্তু কে?

হঠাৎ আমার মনে একটা ভয়ংকর চিন্তা এলো।

যদি সেই মানুষটা…

এই বাড়ির খুব কাছের কেউ হয়?

এইসব ভাবতে ভাবতেই কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

হঠাৎ গভীর রাতে একটা শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেল।

মনে হলো বাইরে কেউ হাঁটছে।

আমি চোখ খুলে দেখি সোহেল গভীর ঘুমে।

ঘরের ঘড়িতে তখন রাত প্রায় আড়াইটা।

শব্দটা আবার হলো।

করিডোর থেকে।

আমার বুক ধড়ফড় করতে লাগলো।

আমি ধীরে ধীরে উঠে দরজার কাছে গেলাম।

দরজাটা একটু ফাঁক করে বাইরে তাকালাম।

করিডোরে হালকা অন্ধকার।

কিন্তু দূরে একটা ছায়া নড়লো।

মনে হলো কেউ রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছে।

আমার কৌতূহল হলো।

আমি আস্তে আস্তে দরজা খুলে বাইরে বের হলাম।

পা টিপে টিপে সামনে এগোলাম।

ঠিক তখনই দেখলাম রান্নাঘরের দরজা খুলে একজন বের হলো।

আর তাকে দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম।

সে ছিল…

তৃষা।

তার হাতে একটা ছোট ব্যাগ।

সে চারপাশে তাকিয়ে দ্রুত উঠানের দিকে চলে গেল।

আমার মনে সন্দেহ জাগলো।

এই রাত আড়াইটায় তৃষা বাইরে যাচ্ছে কেন?

আমি চুপচাপ তার পেছনে গেলাম।

উঠান পেরিয়ে সে পুকুরের দিকে গেল।

পুকুরের পাশে গিয়ে সে হঠাৎ থামলো।

আমি একটা আমগাছের আড়ালে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

তৃষা ব্যাগ থেকে কিছু একটা বের করলো।

তারপর সেটা পুকুরে ছুঁড়ে ফেললো।

পানির শব্দ হলো — ছপাৎ!

আমার বুক কেঁপে উঠলো।

সে কি ফেললো?

তৃষা দ্রুত আবার ঘরের দিকে ফিরে গেল।

আমি কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইলাম।

তারপর ধীরে ধীরে পুকুরের ধারে গেলাম।

চাঁদের আলোয় পানিটা হালকা ঝিলমিল করছিল।

হঠাৎ পানির ধারে একটা কাপড় চোখে পড়লো।

আমি সেটা তুলে নিলাম।

কাপড়টা ভেজা।

আর তাতে লালচে দাগ।

আমি ভয় পেয়ে গেলাম।

কারণ সেটা দেখতে…

র**ক্তের মতো।

ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা কাঁপা গলা শোনা গেল—

— “অনন্যা… তুই এখানে কি করছিস?”

আমি ঘুরে দাঁড়ালাম।

আর দেখলাম…

আমার শ্বাশুড়ি দাঁড়িয়ে আছেন।

কিন্তু তাকে দেখে আমার বুক হিম হয়ে গেল।

কারণ তার মুখে ভয়।

আর তার কাঁধে…

তাজা র**ক্তের দাগ।


চলবে..?


পরবর্তী পর্ব খুব শীঘ্রই দেওয়া হবে। সবাই একটু কমেন্ট করবেন প্লিজ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url