#ভালোবাসারা_ভালো_নেই
#অজান্তা_অহি
#পর্ব - ০৩
অন্ধকারে দেখলাম আপা পায়ের কাছের জানালায় দাঁড়িয়ে। জড়োসড়ো হয়ে! ফিসফিস করে রাফি ভাইয়ের সাথে কথা বলছে। বুকের ভেতর জ্বলুনি শুরু হলো আমার। এই অন্ধকার রাতে ভয়ঙ্কর এক সত্য আবিষ্কার করলাম। রাফি ভাই আর সেজো আপা একে অপরকে ভালোবাসে। এতদিন কেন বুঝতে পারিনি আমি? নিজেকে বড্ড বোকা মনে হলো। চোখের সামনে ভেসে উঠল পুরোনো দিনগুলো। সত্যি তো! রাফি ভাইয়ের দৃষ্টি সবসময় সেজো আপার দিকে ছিল। অথচ তার প্রেমে আমি এতটা অন্ধ ছিলাম যে কিচ্ছুটি বুঝতে পারিনি।
সেজো আপা আর রাফি ভাই সমবয়সী। ছোটবেলায় একসাথে পড়াশুনা করেছে। তাদের সাথে আরো একজন ছিল। আমার মেজো আপা। আমার আরেকজন ভালোবাসার মানুষ। আপার কথা মনে পড়তে কষ্ট আরো বেড়ে গেল। মেজো আপা আর সেজো আপা জমজ ছিল। মেজো আপার জন্মের মিনিট বিশেক পর নাকি সেজো আপার জন্ম। আব্বার মুখে এসব কথা শোনা। মেজো আপা আর সেজো আপা সমানে সমানে বড়ো হচ্ছিল। বাড়িতে তখন হৈ হুল্লোর লেগে থাকতো। তারা প্রাইমারি স্কুল পাশ করেছে তখন। মায়ের কথামত আব্বা দুই বোনকে হাই স্কুলে পাঠাল। তখন আমার বয়স নয় কি দশ। এক বৃষ্টির দিনে মেজো আপা একা স্কুল থেকে ফিরছিল। পথে কি হলো জানি না। পরদিন আপাকে দূরের এক ধানক্ষেতে মৃত পাওয়া গেলো। তখন ছোট ছিলাম বলে বুঝতে পারিনি। কিন্তু এখন বুঝি আপার সাথে কি হয়েছিল। আপা আমার এক বুক দুঃখ নিয়ে দুনিয়া ছেড়েছিল। তার সেই দুঃখের কিছু অংশ আমাদের পরিবারে অভিশাপ হয়ে নামে। আমরা আর ভালো থাকতে পারিনি। দুই দন্ড সুখে থাকতে পারিনি।
মেজো আপার ঘটনার পর আব্বা সেজো আপাকে আর স্কুলে পাঠায়নি। কিন্তু আপা রাফি ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ রেখে গেছে। ভীষণ কষ্ট হতে লাগলো আমার। দেহের ভেতর ক্রমাগত সূচ ফুটছে। বুক ফুঁড়ে কান্না বের হতে চাইলো। আমার পনেরো-ষোলো বছরের জীবনে এত দুঃখ পাইনি যেন। কি যে কষ্ট হতে লাগলো! কিন্তু এখন তো কান্না করা যাবে না। আপাকে কিছু বুঝতে দেওয়া যাবে না। হাতের আঙ্গুল কামড়ে মরার মতো পরে রইলাম আমি।
জানালা বন্ধ হওয়ার আগ মুহূর্তে রাফি ভাই কি যেন বললো। সেজো আপা চাপা সুরে হেসে উঠলো। আহা! বাচ্চাদের মতো কি প্রাণবন্ত হাসি। এতো এতো দুঃখ, মলিনতার ছাপ পড়েনি সে হাসিতে। কান পেতে শুনলাম সে হাসি। শেষ কবে আপাকে হাসতে দেখেছিলাম ভুলে গেছি। আপার হাসি কি সুন্দর! আচ্ছা, রাফি ভাই কি আপার হাসির প্রেমে পড়েছিল?
সেজো আপা এসে পাশে শুয়ে পড়েছে। আমি ঘুমের ভান ধরে পরে আছি। কিছুক্ষণ পর আপা ডান হাতটা আমার পেটের উপর রাখলো। আপা এখনো চাপা সুরে হাসছে। তার সেই হাসিতে ক্ষণে ক্ষণে শরীর দুলে উঠছে। খুব দ্রুত আপা ঘুমিয়ে পড়ল। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে। তার এপাশে আমার সদ্য ভাঙ্গা হৃদয়ের দেহটা পড়ে রইলো!
________
পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি একমাত্র আমার আব্বা ছিল। আব্বার একার আয়ে কোনো রকমে দিন চলতো। আব্বা চলে যাওয়ার পর সংসারে ধ্বস নেমে এলো অল্প দিনেই। পুতুলের দুধ কেনার টাকা নেই। ঘরে চাল কেনার টাকা নেই। দু চারজনের কাছে ধার চাইতে গিয়ে শূন্য হাতে ফিরতে হলো মাকে। উল্টো যারা টাকা পেতো তারা রোজ আসা শুরু করলো। একটুখানি বাড়ি! সেটাও ছাড়ার হুমকি ধামকি দেওয়া শুরু করলো। মা অসহায় ভাবে তার বাবার বাড়িতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু ব্যর্থ হলেন। মায়ের দিকের, না বাবার দিকের! এই দুর্দিনে কোনো দিকের আত্মীয় স্বজন পেলাম না। আগে থেকেই কোনো আত্মীয়ের সাথে যোগাযোগ ছিল না। আব্বার ঘটনার পর সবাই আরো মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। এমনি এক দুঃখের দিনে একটা কাগজ এলো। দেখলাম ডিভোর্স পেপার। বড় আপার স্বামী ডিভোর্স পেপার পাঠিয়েছে। সাথে আরো জানতে পারলাম, ইতোমধ্যে সে আরেকটা বিয়েও করে ফেলেছে।
সেজো আপার বিয়ে ভেঙ্গে গেছে দিন দুই হলো। সে খবর মা হজম করে নিয়েছিল। কিন্তু বড় আপার এত বড় দুঃসংবাদ মা মানতে পারলেন না। উঠোনে গড়াগড়ি করে কাঁদলেন। তাকে সঙ্গ দিলো বড়ো আপা। আপার পেট উচুঁ হয়ে গেছে। গর্ভের সন্তান দিন কে দিন বেড়ে উঠছে। বড় হচ্ছে। এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে আসার জন্য তার সে কি তোড়জোড়!
মায়ের কান্না দেখলে সবাই কাঁদে। বড় আপা কাঁদে, আমি কাঁদি, পুতুল কাঁদে। এমনকি আকাশ-বাতাস, প্রকৃতি কাঁদে। শুধু কাঁদে না সেজো আপা। আমার সেজো আপা খুবই কঠিন। দুঃখ পায় না, কষ্ট পায় না, ব্যথা পায় না যেন! অনুভূতিহীন পাথরের মতো আচরণ করে সবসময়। এই পাথরসম মন নিয়ে আপা রাফি ভাইকে ভালোবাসলো কি করে? নাকি সব অনুভূতি রাফি ভাইকে দিয়ে আপা এমন নিষ্প্রাণ হয়ে গেছে!
ঘরের এক কোণে বসে অশ্রু নির্গত করছিলাম আমি। সেজো আপা পুতুলের হাত ধরে ঘরে এলো। বাহিরের উঠোনে মা আর বড়ো আপার কান্না তখনও থামেনি। সেজ আপা কাছে এসে পুতুলকে এগিয়ে দিল। বলল,
'পুতুলের কান্না থামা তো।'
দ্রুত চোখ মুছে ফেললাম আমি। কাছে টেনে নিলাম পুতুলকে। আপার বের হওয়ার অপেক্ষায় রইলাম। কিন্তু আপা বের হলো না। আমাকে অবাক করে দিয়ে পাশে বসে পড়লো। গা ঘেঁষা স্বভাব নেই আপার। একা থাকতে পছন্দ করে সবসময়। সেজন্য বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
'কিছু বলবে আপা?'
'জুঁই, তোকে যদি দুটো অপশন বলা হয়। সবচেয়ে সহজ মৃত্যু অথবা এই কঠিনতর জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা। কোনটা পছন্দ করবি?'
'বেচেঁ থাকা আপা। বেচেঁ থাকা কঠিন নয়। বেচেঁ থাকা সবচেয়ে সুন্দর আর সহজ পথ।'
আপা হাসলো। কেমন অদ্ভুত সে হাসি। ক্ষনিকের জন্য গা শিউরে উঠলো আমার। আপা বললো,
'বেচেঁ থাকা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ। তুই বেচেঁ আছিস মানে তোকে অবশ্যই দুঃখ সইতে হবে। জ্বালা যন্ত্রণা অনুভব করতে হবে। তবে পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ এবং সুন্দর মুহূর্ত হচ্ছে প্রেমে পড়া। তুই যখন কাউকে ভালোবাসবি বা প্রেমে পড়বি, তখন বেঁচে থাকার মতো কঠিন কাজ সহজসাধ্য হয়ে পড়বে। জীবনে যত কষ্ট থাকুক না কেনো উপলব্ধি করতে পারবি না!'
প্রবল দুঃখ বোধে মন ছেয়ে গেলো আমার। আমি জানি প্রেমে পড়ার মতো সুন্দর মুহূর্ত পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। সারাদিন যত কষ্ট পেতাম, গালিগালাজ শুনতাম। দিনশেষে রাফি ভাইয়ের মুখটা এক নজর দেখলে মন ফুরফুরে হয়ে যেত। এ ধরায় শ্বাস নেওয়া সার্থক মনে হতো।
'তবে জানিস জুঁই?'
আপার দিকে তাকালাম আমি। আপার মুখটা অন্ধকার মনে হচ্ছে। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আপা বললো,
'আমি আগে এমনটা ভাবতাম বুঝলি! কিন্তু আরো বড়ো হওয়ার পর বুঝলাম, প্রেম, ভালোবাসা সব আপেক্ষিক। শুধুমাত্র দুঃখটা চিরস্থায়ী। কষ্টটা চিরস্থায়ী। তুই যতদিন বেঁচে থাকবি, এগুলো তোর পিছু ছাড়বে না। বেচেঁ থাকা সত্যি কঠিন। তোর মনে আছে? ছোটবেলায় আমি কতবার পুকুর পাড়ের নারকেল গাছে উঠার চেষ্টা করেছি! কখনো পারিনি। অসাধ্য মনে হতো। এখন বেচেঁ থাকা আমার কাছে নারকেল গাছে উঠার মতো কঠিন মনে হচ্ছে!'
'তবুও বেঁচে থাকা সুন্দর।'
বিড়বিড় করে বললাম আমি। আপা শুনতে পেলো না হয়তো। এলোমেলো ভাবে পা ফেলে বের হয়ে গেলো।
__________
মা আজ মাংস রান্না করেছে। পাতিল ভর্তি করে ভাত রান্না করেছে। আমার সবগুলো বোনকে পাশে বসিয়ে পেট পুড়ে খাইয়েছে। একবার নিচু স্বরে টাকার কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম মাকে। ঠিকমতো উত্তর দিতে পারেনি মা। শুধু বলেছে, জমানো ছিল!
খাওয়া শেষ করে ঘরে বসেছিলাম। মা গ্লাস ভর্তি দুধ নিয়ে এলো। ছোটবেলায় পর্যাপ্ত দুধ খেতে পারিনি। সেজন্য দুধের প্রতি আমার আলাদা আকর্ষণ। উৎফুল্ল হয়ে গ্লাস ছিনিয়ে নিলাম। চুমুক দেওয়ার আগ মুহূর্তে সংবিৎ ফিরলো। গ্লাস হাতে রেখে বললাম,
'এতো দুধ আমি খাবো মা?'
'হ। তুই খাবি! একসের দুধ জ্বাল দিছি। খাইয়া ফেল সব।'
'পুতুলের হবে তো?'
'হইবো। তুই খা!'
'আমি উঠোনে বসে খাই।'
মা প্রথম দিকে বাঁধা দিলো। পরমুহুর্তে কি মনে হতে বললো,
'যাহ! উঠানে বইসা খা।'
আমি ঘর থেকে বের হয়ে এলাম। মা হয়তো ভয় পাচ্ছে আমি দুধ ফেলে দিবো কিনা! পাগল নাকি! দুধ ফেলার জিনিস? দুধ আমার কতটা প্রিয়। প্রিয় জিনিস ফেলতে আছে? না, নেই!
আকাশে আজ মস্ত বড় চাঁদ উঠেছে। তার রূপালী আলোয় ভেসে যাচ্ছে সমস্ত গ্রাম। গাছের পাতা ঝকঝক করছে। বাইরে হিমশীতল বাতাস। বুকের ভেতর কেমন যেন করে উঠল। আমি চাঁদের আলোয় পা রেখে পুকুর পাড়ের দিকে এগিয়ে গেলাম। পুকুর পাড় পরিষ্কার। চাঁদের আলোয় চারিদিক দিনের মত আলোকিত। হালকা ঘাসের উপর বসে পড়লাম আমি। প্রায় রাতে এখানে বসে থাকা হয়। রাফি ভাইয়ের সত্য উদঘাটনের পর আসা হয়নি। আজ আসতে প্রচন্ড মন খারাপ হয়ে গেল। পুরনো দিনগুলোর কথা মনে পড়লো।
তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। স্কুল থেকে ফেরার পথে এক দুপুর বেলা ঝড় উঠে এলো। ঝড় এসে দিনকে রাত বানিয়ে দিল মুহূর্তে! প্রকৃতিতে বেপরোয়া ভাব। বৃষ্টি পড়ছিল তুমুল বেগে। সেই ভয়াবহ ঝড়ের দুপুর বেলা দেখা হলো রাফি ভাইয়ের সাথে। সে-ও স্কুল থেকে ফিরছিল। আমাকে দেখে দ্রুত এগিয়ে এলো। আধভেজা বইগুলো নিজের কাঁধব্যাগে নিয়ে নিল। তারপর আমার হাত ধরে দিলো ছুট! সেই ঝড়ের দিনে আবারো তাকে মন দিয়ে ফেললাম।
জ্ঞান হওয়ার পর থেকে এই একটা মানুষকে আমি চিনি। আমার সমস্ত চিন্তা জুড়ে শুধু একজন ছিল! যার আমার হওয়ার কথা নয়। এর চেয়ে কষ্টের কিছু আছে?
বিড়ালের ডাকে ঘোর কাটলো আমার। সাদা রঙের বিড়ালটা গা ঘেঁষছে। গলার স্বর রিনরিনে। ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছে ওকে। কয়েক বার চিন্তা করে দুধের গ্লাসটা ওর মুখের কাছে দিলাম। পেট কানায় কানায় পরিপূর্ণ আমার। ওর হয়তো সারাদিন খাওয়া হয়নি। খুদার জ্বালা জানা আছে আমার। বিড়ালটা চুকচুক করে খাওয়া শুরু করেছে। এক ফাঁকে মুখ উচুঁ করে আমার দিকে তাকালো। চাঁদের আলোতে ওর কৃতজ্ঞতা ভরা দৃষ্টি দেখতে পেলাম।
এরপর কতক্ষণ কেটে গেছে ধারণা নেই। রাফি ভাইদের রান্নাঘরের আলো বন্ধ হতে দাঁড়িয়ে পড়লাম। বিড়ালের খাওয়া শেষ। মুখ ভার করে বসে রয়েছে। আমি খালি গ্লাস হাতে নিয়ে ঘরে আসলাম। ঘর থেকে মায়ের গোঙানির আওয়াজ আসছে। বুকের ভেতর ধ্বক করে উঠলো আমার। হাতের গ্লাস ছুঁড়ে ফেলে মায়ের কাছে গেলাম। মায়ের মুখ দিয়ে ফ্যানা বের হচ্ছে। মা কেমন মোচড়ামুচড়ি করছে। মুখ দিয়ে গোঙানির আওয়াজ বের হচ্ছে। চোখ বড় বড় হয়ে গেছে। দেখে বুঝতে পারছি মায়ের ভীষন কষ্ট হচ্ছে। মাকে জড়িয়ে আমি চিৎকার করে উঠলাম।
'মা কি হয়েছে তোমার? এমন করছো কেন? মা কথা বলো! মা?'
মা কথা বললো না। কয়েক মিনিটের মধ্যে মা নিস্তেজ হয়ে এলো। শরীর টান টান হয়ে গেলো। মায়ের শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে না। হাত পা কাঁপছে আমার। থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে বড় আপাকে ডাকলাম। সেজো আপাকে ডাকলাম। কেউ এলো না। এতক্ষণে খেয়ালে এলো আমার। ঘরের এদিক ওদিক আপারা অগোছালো ভাবে শুয়ে আছে। বড় আপার বুকের ওড়না ঠিক নেই। অথচ আপা কখনো মাথার কাপড় ফেলতো না। দৌঁড়ে আপার কাছে গেলাম। মাথায় ওড়না পেঁচিয়ে ডাকলাম। আপা শুনলো না। সেজো আপাকে ডাকলাম। আপা প্রতিত্তর করলো না। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে দেখলাম, পুতুল বিছানায় শুয়ে আছে। পাশে দুধের বাটি পড়ে আছে। চামচটা পুতুলের হাতে আঁকড়ে ধরা এখনো। ঠোঁটের কোণে ফ্যানার স্তূপ নিয়ে ও চিরনিদ্রায় চোখ বন্ধ করেছে।
এক চিৎকার দিয়ে আমি উঠোনে পড়লাম। দিন দুনিয়া ঘুরছে। মস্তিষ্ক নিশ্চল হয়ে গেছে। হৃদপিন্ডে কি যেনো খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে। তার প্রতি ঠোঁকরে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। শ্বাস আটকে আসতে চাইছে বার বার। চোখ বন্ধ করার আগ মুহূর্তে দেখলাম, আশপাশের সবাই বাড়িতে ঢুকছে। তাদের সবার সামনে রাফি ভাইয়ের চিন্তিত মুখ দেখা গেল। চোখ আপনা-আপনি স্মিত হয়ে এলো! আমি অস্পষ্ট সুরে বিড়বিড় করলাম,
'আমার ভালবাসার মানুষগুলো তীব্র অভিমান নিয়ে দুনিয়া ছেড়ে গেলো। তোমরা কেউ দেখলে না। কেউ নাহ!'
(চলবে)
আসসালামু আলাইকুম। এটা একটু অন্য ধাচের লেখা। কিছুটা বাস্তবভিত্তিক! অনেকের কাছে হয়তো ভালো লাগবে না। যারা পড়ছেন পড়তে থাকুন। ভালোবাসা!
