#অপূরণীয় 

#পর্ব_২

#লেখিকা_Sathi


__ প্রিয়, ওর খিদে পেয়েছে। একটা কিছু খাওয়াও।


" মীরের কথায় প্রিয়া বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে একবার মিরের দিকে তাকিয়ে। পিছন ফিরে আমাকে দেখে চলে যায়। আমি নিচু চোখে তাকিয়ে থাকলাম।

 দেখলাম মীর এইদিকে আসছে। এসে একদম আমার পাশে বসে পড়লো। বসার ভঙ্গিতে একধরনের আত্মবিশ্বাস, যেন সে জায়গাটা তারই প্রাপ্য।


__ কেমন আছো, রিক?


__ ভালো। তুমি?


" জবাব দেওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও ঠান্ডা গলায় উত্তরটা দিলাম।কেবল ভদ্রতার প্রলেপ। তাকিয়ে দেখি, কেমন যেন গভীর করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে যেন অদ্ভুত এক অনুসন্ধান কি দেখছে এইভাবে?

__ আফসোস হচ্ছে?


__ কেন?


__ এই যে নিজের বউকে আমার পাশে দেখে।


" মীরের এমন কথায় না চাইতেও রাগটা বু*কের ভেতর ধক করে জ্ব*লে উঠলো। তবুও দাঁত চেপে, ঠোঁ*ট শক্ত করে জবাব দিলাম।


__ আফসোস কেন হবে? আমার ভাগ্য ছিল না। তুমি বরং যত্ন করে রেখো। আচ্ছা, তোমাদের বিয়ে কখন হয়েছে?


__ এই তো দুই বছর সাত মাস। কেন?


__ বাচ্চাটাও তোমাদের?


__ অবশ্যই। বিয়ে যখন হয়েছে বাচ্চা ও হবে। কেন কী হয়েছে?


__ কিছু না। এমনিই জিজ্ঞেস করলাম।


" বলেই পুতুলের দিকে তাকালাম। সে এতক্ষণ নিশ্চুপে আমাদের কথা শুনছিল। এতক্ষণ হাসিখুশি থাকলেও এখন মন খারাপ করে তাকিয়ে আছে। আমার নিজেরও বু*কটা পু*ড়ে যাচ্ছে। মনে হিসাব কষে ফেললাম।ওদের বিয়ে যদি দুই বছর সাত মাস হয়, তাহলে ডিভোর্সের পর পরই বিয়েটা করেছে প্রিয়া। কী করে এত তাড়াতাড়ি মুভ অন করে ফেললো? ভাবতেই বু*কের ভেতর কেমন মো*চড় দিয়ে উঠলো।


__ আরিয়ান, নে ঠাণ্ডা শরবত। ভালো লাগবে।


" সামনে তাকিয়ে দেখি মা হাতে শরবত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুখে মায়াভরা হাসি। আমিও ভাবনা-চিন্তা সরিয়ে শরবতটা হাতে নিলাম।


__ আব্বু কোথায়, আম্মু?


__ বাজারে। কল দিয়ে বলেছি, না জানি কিভাবে আসছে।


" বলেই মা মুচকি হাসে। আমিও হালকা হেসে দরজার দিকে তাকাতে দেখি চাচা-চাচি আসছে,(প্রিয়ার মা-বাবা)। ওদের দেখে বুকটা কেমন ধ*ড়ফ*ড় করে উঠলো। কম চেষ্টা করিনি আমার আর প্রিয়ার সংসারটা টিকিয়ে রাখতে, কিন্তু প্রিয়া কারো কথা শুনেনি।


" উনারা কাছে আসতেই দাঁড়িয়ে সালাম দিলাম।


__ কেমন আছো, রিক বাবা?


__ আলহামদুলিল্লাহ, ভালো। তোমরা কেমন আছো?


__ আমরাও ভালো।


" বলেই চাচি হালকা হাতে জড়িয়ে ধরে মাথায় চুমু খেলেন। সেই স্প*র্শে বু*কের ভেতর জমে থাকা কষ্টটা যেন নরম হয়ে এলো। কত বছর পর এমন আপন ছোঁয়া। আমি গুটিয়ে রইলাম, যেন ভেঙে পড়বো না।


" পাশে তাকিয়ে দেখি মীর হিং*সা*ত্মক চোখে তাকিয়ে আছে। তার চোয়াল শক্ত, চোখে বিরক্তির ছাপ। সেইদিকে পাত্তা দিলাম না।


__ তুই হঠাৎ আসবি, আমাদের তো বললি না।


__ সারপ্রাইজ ছিল। কেন, ভালো লাগছে না?


__ ভালো লাগবে না কেন? কতদিন পর তোকে দেখলাম!


" বলেই চাচিকে সরিয়ে চাচা জড়িয়ে ধরলেন। আমিও মুচকি হেসে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করলাম। 

__ বস, রিক। অনেক কথা জমে আছে।


__ না চাচ্চু, আমি একটু ফ্রেশ হয়ে আসবো।


" বলেই পুতুলের দিকে তাকিয়ে ইশারা করলাম,আমার সাথে চলতে। আমার ইশারা বুঝে ও চুপচাপ উঠে এলো।


" উপরে রুমে আসতেই একটা আপন গন্ধ পেলাম। কত বছর পর এই গন্ধ। দরজা বন্ধ করতেই নীরবতা যেন আমাকে জড়িয়ে ধরলো।...

 চারপাশ তাকাতেই বুকটা কেমন ভার হয়ে এলো। এই রুমের চারিপাশে ঘুরে বেড়াতো প্রিয়া, তার হাসি, অভিমান, ঝগড়া, ভালোবাসা, সবকিছু যেন দেয়ালে দেয়ালে আটকে আছে।


" গভীর এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুতুলকে জিজ্ঞেস করলাম।...

___ প্রিয়ার বাবুটার বয়স কত, পুতুল?


" আমার মুখে হঠাৎ প্রিয়ার কথা শুনে পুতুল কেমন করে যেন তাকায়। চোখে স্পষ্ট কৌতূহল আর সংশয়। তবে কিছু না বলে পরিষ্কারভাবে বলে।


__ হবে হয়তো এক বছর নয়-দশ মাস। জানিস, পুচকোকে নিয়ে একটা ঘটনা হয়েছে। ও না সাত মাসে জন্ম নিয়েছে। মানে অপূর্ণ ছিল, কিন্তু সব ঠিকঠাক ছিল। ওকে হাসপাতালে রাখতে হয়নি। কী এক অলীক ঘটনা। তোকে বলতে চাইছিলাম, কিন্তু তুই রাগ করবি বলে বলিনি।


" হাসিমুখে কথাগুলো বলতে বলতে পুতুল আমার পাশে এসে বসে। কিন্তু আমার মাথায় অন্য হিসাব ঘুরছে। মনে সন্দেহের বীজ অঙ্কুরিত হচ্ছে।


"প্রিয়া কি মীরকে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছে, নাকি কোনো চাপে পড়ে? আমি স্পষ্ট নিচে দেখেছি, প্রিয়ার দৃষ্টি এখনো আমাকে খোঁজে। মীরের দিকে সে কেমন যেন তাকাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল তাদের মাঝে কোনো না বলা বোঝাপড়া চলছে।সব ভাবতেই গলাটা শুকিয়ে এলো। ধীরে, নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করলাম।


__ আমার ডিভোর্সের কয় মাস পর প্রিয়া বিয়ে করে?


__ কী কয় মাস ভাই। পুরো এক মাসের ভিতর মীরকে বিয়ে করে। সে জন্য কত ঝামেলা করেছে চাচ্চুর সাথে। বিষ পর্যন্ত খেতে চাইছিল!


" পুতুলের এমন কথায় কষ্ট হওয়ার বদলে সন্দেহটা আরও ঘনীভূত হলো। আমি চিনি প্রিয়াকে।....

 ও এমন মেয়ে না। কিছু একটা হয়েছে, যার জন্য এইসব। কিন্তু কী?

" বারবার মনের মাঝে এক উদ্ভুত সন্দেহ চাপতে থাকে। মাথায় একটা পরিকল্পনা সাজিয়ে পুতুলকে বললাম।


__ মীরা কোন রুমে থাকে?..

__ উপরেই, তোর রুমের পাশটাই।


__ ওকে, যা। আমি একটু রেস্ট নেবো।


" আমার কথায় পুতুল চলে যায়। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা কানে বাজে। আমি ধীরে ধীরে বিছানায় বসে পড়ি। দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলি। চোখ বন্ধ করতেই স্মৃতিগুলো হানা দেয়। কত হ্যাপি ছিলাম বিয়ের এই কয়মাস। হঠাৎ করে সব পাল্টে গেলে। কিন্তু কি করে? সত্যিটা কি?


   ❌কপি করা নিষেধ❌


চলবে...


নোট: এটা একটা অনুগল্প কয় এক পার্টে শেষ হয়ে যাবে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url