#অপূণীয় 

#শেষ_পর্ব

#লেখিকা_Sathi


"“ বেশ কিছুক্ষণ রেস্ট করে রিক প্রিয়ার রুমে যায়। গিয়ে দেখে সে বাচ্চাকে নিয়ে শুয়ে আছে। তাকে দেখে তাড়াতাড়ি উঠে যায়। কেমন গম্ভীর স্বরে অদৃশ্য এক দূরত্ব নিয়ে বলে।


__ কারো রুমে আসলে আগে নক করতে হয়, ভুলে গেছো?


__ সরি, ভুলে গিয়েছিলাম।


"রিক নিচু স্বরে বলে। চোখে অপরাধবোধের ছায়া।


__ হুম। কিছু বলবে? বসো এখানে।


“ প্রিয়ার কথায় ওর পাশে বসে। কী দিয়ে শুরু করবে ভেবে পায়না নিক। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল।


__ সংসার কেমন চলছে?


__ ভালো।


__ ভালো থাকার জন্য তো ছেড়ে গেছো।


__ প্লিজ, আগের সব কথা বাদ দাও। এগুলো ছাড়া অন্য কিছু বলো।


প্রিয়া চোখ নামিয়ে বলে সংক্ষিপ্ত উত্তরে সব জবাব দেই। বিপরীত নিক আজব এক প্রশ্ন করে।


__ এই বাচ্চাটা কার?


__ কেন? সন্দেহ হয় এই বাচ্চা তোমার? বলে দিয়েছে আস্তে আস্তে সব, তাই না? কান খুলে শুনে রাখো, এই বাচ্চা আমার আর মিরের। যদি সন্দেহ হয়, DNA পরীক্ষা করে দেখতে পারো।


চাপা স্বরে কথাগুলো বলে প্রিয়া। তার চোখে ভয়ের ছিটেফোঁটাও নেই। দৃঢ়, স্থির। নিক তাকিয়ে থাকে। প্রিয়ার মুখে কোনো দ্বিধা নেই,সে সত্যি বলছে। তার মানে তার ধারণা ভুল ছিল।


__ শুনো নিক, নতুন করে জীবন শুরু করো। তোমার সাথে আমার কখনো কিছু ছিল না। আমি শুরু থেকেই মিরকে ভালোবাসতাম, সেটা আজ না, ১০ বছর আগে থেকে। হঠাৎ আব্বু জোর করে তোমার সাথে কসম দিয়ে বিয়ে করিয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর তুমি আমাকে ফেলে গেলে, যেখানে সব সময় আমার পাশে থাকার কথা ছিল। তাই আমি নিজের ভালোবাসা আবার খুঁজে নিয়েছি।


"প্রিয়ার গলায় অভিমান নেই, আছে শুধু বাস্তবের স্বীকারোক্তি। কিন্তু নিক বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকে।তার মানে নিচে যা দেখেছে সব ভুল? তাকে ঠকানো হয়েছে? কিন্তু তারও তো নিজের দোষ আছে। যেই সময় পাশে থাকার কথা ছিল, সেই সময় সে ছেড়ে গেছে। অবাক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে।


__ ১০ বছর আগে থেকে ভালোবাসতে?


__ হ্যাঁ। দেখো নিক, সব ভুলে যাও। এবার নিজের একটা সংসার গুছাও। আমাদের আশা ছেড়ে দাও।


__ সেই অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি।


“ বলেই নিক রুম থেকে বেরোনোর আগে ঘুমন্ত বাচ্চাটাকে আলতো করে চুমু খায়। শিশুটার গাল নরম, উষ্ণ।পিছন থেকে প্রিয়া নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকে। তার চোখে অদ্ভুত এক শূন্যতা। মনে মনে ভাবে, বিয়ে শেষ হলেই চলে যাবে। এখানে তার থাকা যাবে না।


“ ১ দিন পর ”

আজ পুতুলের বিয়ে। ভাই হিসেবে নিকের ভীষণ দায়িত্ব। কখনো এইদিকে দেখা যাচ্ছে, কখনো ওইদিকে। চারপাশে সাজসজ্জা, আলো, মানুষের কোলাহল। রিক মেহমানদের খাবারের দিকটা সামলাচ্ছে। হঠাৎ পিছন থেকে মায়ের ডাকে সাড়া দেয়।


__ কী হয়েছে মা? কিছু লাগবে?


__ এইদিকে আয়।


“ বলেই নিককে টেনে বাড়ির ভেতর নিয়ে যায় ওর মা। রিকের মাথায় আসে না মা কী করতে চাচ্ছে।


"ভিতরে ঢুকে দেখে বেশ কয়েকজন বসে আছে। বেশিরভাগ মানুষ বাগানের স্টেজের কাছে। তাকিয়ে দেখে প্রিয়াও আছে, কিন্তু তার মন যেন কোথাও নেই।


__ এখানে কেন মা? ওইদিকে অনেক কাজ।


__ কাজ পড়ে দেখবি। আগে সামনে ওই নীল কালার জামা পরা মেয়েটাকে দেখ তো।


__ ভালো দেখতে। কেন, কী হয়েছে?


রিক মেয়েটার দিকে তাকিয়ে কোনো ভাবনা চিন্তা ছাড়াই কথাটা বলে ফেলে।রিকের কথা শুনে তার মা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।


__ ওয়েট তুমি কি,এখানে মেয়ে দেখতে নিয়ে এসেছো?


রিক বিরক্ত হয়ে বলে।


__ হ্যাঁ। আমারও মেয়েটাকে ভীষণ ভালো লেগেছে। এখন তোরও ভালো লেগেছে, তাহলে ফাঁকা কথা হোক। মেয়েটাকে নিয়ে কোনো টেনশন নেই,সে তোকে পছন্দ করে।


এক নিশ্বাসে কথা বলে নিকের মা আবার থামে, তারপর বলে।


__ এবার তুই যা, কাজ কর। তোকে মেয়ে দেখানো বাকি ছিল। বাকি তোর বাপ আর আমি ক্লিয়ার করছি।


__ কী বলছো মা? মাথা খারাপ তোমার? আমি কোনো বিয়ে-টিয়ে করবো না।


__ কেন করবি না? কার আশায় বসে থাকবি? প্রিয়ার আশা ছেড়ে দে। ও নিজের জীবনে এগিয়ে গেছে। তোকে ওর প্রয়োজন নেই। এবার নিজের জীবনটা গুছা। দেখ রিক, আমি তোকে স্পষ্ট বলে দিচ্ছি, এই ঘরে আমার একটা বউ চাই। আজকের পর পুতুল চলে যাবে। তাই আমি তৃপ্তিকে খুব তাড়াতাড়ি বউ করে নিয়ে আসবো। আমার কসম,তুই কোনো অবাধ্যতা করবি না। এমনিতেই তো তোর নিজেরও মেয়েটাকে ভালো লেগেছে।


"কথা বলতে বলতে নিকের মা নিজের মাথার উপর রিকের হাতটা রাখে।নিরক কী করবে ভেবে পায় না। সামনে তাকিয়ে দেখে মেয়েটা তৃপ্তি লজ্জা মাখা চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। একবার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে।


__ ঠিক আছে, যা ইচ্ছা করো।


“ বলেই নিক বাইরে চলে আসে। রিকের মা গিয়ে ওদের পাশে বসে। রিকের মায়ের মেয়েটাকে ভীষণ পছন্দ, সেটা আজ থেকে না, প্রায় এক বছর থেকে, যখন থেকে পুতুলের সাথে দেখেছে। মনে মনে ঠিক করে রেখেছিল, এই মেয়েকেই ছেলের বউ করবে, যখন নিক আসবে। আজ তাই হলো।


"তিনি একবার সামনে তাকিয়ে দেখে প্রিয়ার এইদিকে কোনো মন নেই। সে তার বাচ্চাকে নিয়ে দিব্যি ব্যস্ত। যেন এই বাড়ির কোনো কিছুর সাথেই তার আর সম্পর্ক নেই। নিজের মনে বলে..

এইবার ছেলেটার জীবন গুছানোর সময়।


"বাইরে এসে নিকের আর কোথাও মন বসে না। চারিপাশ এত মানুষ, তবুও তার ভেতরে অদ্ভুত শূন্যতা। কি করবে সে? কিন্তু এইভাবে কতদিন? মা-ও ঠিক বলেছে। ছয় মাস পর সে চলে যাবে বিদেশে। তাদের জন্য হলেও একটা বিয়ে করতে হবেই।ভাবতে ভাবতেই নিজের মনে সিদ্ধান্ত নেয়। সে বিয়ে করবে।


__ ভাইয়া, এইদিকে এসো, ছবি তুলবো।


"পুতুলের ডাকে নিক স্টেজের দিকে চলে যায়। গিয়ে বোনের কপালে এক দীর্ঘ চুজমু দেয়। বোনের বউ সাজার রূপ দেখে বুকটা কেমন কেঁপে ওঠে। ছোট্ট সেই পুতুল আজ অন্যের ঘরে যাবে।


__ কী দেখছ ভাইয়া? পোজ দাও, ছবি তুলবো।


"বোনের কথায় নিক জোর করে হাসে। পোজ দিয়ে বোনকে নিয়ে একের পর এক ছবি তোলে। ক্যামেরার ফ্ল্যাশের আলোয় তার চোখের গভীর ক্লান্তি কেউ দেখে না।


_______________________


সন্ধ্যাবেলা বোনকে বিদায় দিয়ে মাত্র ঢুকছিল রিক।তাকিয়ে দেখে, মা কান্না করতে করতে চোখ-মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে। নিজের মনেও অবস্থাটা ভালো নেই।পাশে তৃপ্তি নামের মেয়েটা মাকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে। মায়ের চোখ মুছে দিচ্ছে যত্ন করে। আরেক পাশে তাকিয়ে দেখে প্রিয়াও আছে। সে নিজেও কেঁদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে।


"তৃপ্তি মেয়েটাকে দেখে রিক একটু অবাক হলো। কী সুন্দর করে মায়ের খেয়াল রাখছে,এতটা আন্তরিকতা কি অভিনয় হতে পারে?ভেবে নিল,মায়ের সিদ্ধান্ত হয়তো ঠিকই আছে।সব দেখে চুপচাপ উপরে নিজের রুমে চলে আসে।


“ রাত ৮টা ”


প্রিয়া চলে যাচ্ছে। নিক নিচে এসে একবার শেষবারের মতো তাকায়। মনে মনে ভাবে। আজকেই এই অতীতকে কবর দিয়ে ফেলবে।প্রিয়ার মনে তার প্রতি করুণা পর্যন্ত নেই। সেখানে সে তার আশায় থাকা মানে নিছক বোকামি।


"তৃপ্তি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। মনে মনে ভাবনা আসে, বিদেশ চলে গেলে ও কি ছেড়ে যাবে না? গ্যারান্টি কী?


__ বড় মা, যাচ্ছি। ভালো থেকো।


"বলেই প্রিয়া একবার আমার দিকে তাকায়। সেই দৃষ্টিতে নেই কোনো অনুতাপ, নেই কোনো টান, শুধু শান্ত বিদায়।পর মুহূর্তে মিরের দিকে তাকিয়ে নিকের কাছে আসে।


__ তৃপ্তি মেয়েটা খুব মিষ্টি, ভীষণ ভালো। শুনেছি তোমাকে প্রচুর ভালোবাসে। তোমার অতীত নিয়ে তার কোনো সমস্যা নেই। ভালো থেকো। সুন্দর করে নতুন করে সব শুরু করো।


এইটুকু বলে প্রিয়া চলে যায়। নিককে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে। নিক পিছন থেকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। দরজার বাইরে গাড়ির শব্দ মিলিয়ে যায়। নিজের মনে আওড়ায়, কিছু জিনিস #অপূরণীয় ভালো।


"তৃপ্তি প্রিয়ার দিকে নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকে। মনে মনে ধন্যবাদ দেয়, আজ তার জন্যই নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে পেয়েছে।নিকেরমায়ের দিকে তাকিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে। উনার জন্য সব সম্ভব হয়েছে। উনি যদি জোর না করতেন, হয়তো নিক রাজি হতো না। পড়ে থাকতো এক কালো অতীত নিয়ে।নিজের মনে শপথ করে।....

নিকের অতীত সম্পূর্ণ ভুলিয়ে দেবে নিজের ভালোবাসা দিয়ে। সারাজীবন পাশে থাকবে।


নোট: এই গল্পটা একজন ভাইয়া ইনবক্সে দিয়েছে। সমাপ্তিটা আমার কেমন যেন মনে মতো লাগেনা। আবার নিজ থেকে কিছু যুক্তও করতে পারিনা। উনাকে বলতেই বলে কিছু জিনিস অর্ধসমাপ্ত থাকা ভালো। তাই আমিও আর কিছু না বলে সেই জায়গাটাতেই শেষ করলাম।


সমাপ্ত......

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url