#তোমার_দখিনা_দুয়ারে
#ইলোরা_ফারদিন
#পর্ব_২
[ গল্প সময় মতো পেতে ইলোরা ফারদিন - Elora Fardin পেজ ফলো দিয়ে রাখুন ❤️]
রিমঝিম?
বলো মামনী।
তুই কি সত্যি যাবি ওই শহরে?
না যেয়ে কি উপায় আছে?? আর তুমি চিন্তা করো না মামনি, মাত্র সাতটা দিনের ই তো ব্যাপার! I'll manage. আর আমার মুখও ঢেকে রাখবো। তাই আর পেইন নিও না।
ফারিহা চৌধুরী কিঞ্চিৎ হেসে রিমের মাথায় হাত নেড়ে দিল। এই মেয়েটাই তার বেচে থাকার একমাত্র সম্বল। তার রিম, তার কলিজার টুকরা।
মামনি ফারাহ ঘুমিয়ে গেছে?
হ্যা, কিন্তু মেয়েটার আজকে সারাদিন অনেক কষ্ট হয়েছে রে মা।
রিমঝিমের চোখ ভিজে উঠলো, মনে পরলো জীবনের তিক্ত স্মৃতি। কিছু জানোয়ারের জন্য আজ তার বাচ্চাটা মৃত্যুসম যন্ত্রণা ভোগ করছে..
ভাবনার মাঝেই ফারিহা চৌধুরী বলে উঠলেন, " ডাক্তার কি বললো রিম?"
মামমী এখন নাকি অপারেশন সম্ভব না। ওর বয়স কম। আমার বাচ্চাটার কপালে যে কি লিখা আছে মামনি! বলেই কেদে দিল রিম।
ফারিহা চৌধুরী সাথে সাথে বুকে টেনে নিলেন রিমকে।
সৃষ্টিকর্তা তুমি আর কত কষ্ট লিখে রেখেছো এই বাচ্চা মেয়েটার কপালে! এখন তো একটু শান্তি দাও.....
।।।।।।।।।।।।।।
নওরোজ ভাই
নওরোজ গোডাউনে ম*দের বোতল নিয়ে বসেছিল। হুট করে ডাক শুনে বিরক্ত হয়ে তাকালো,
বল জাহিদ।
সাজিদ আর ফামিমকে পাইছি। শালারা বর্ডারের কাছে ধরা পরছে। কি করব এই দুইটার?
নিয়ে আয়। শাহেদ চাকুটা আগুনে গরম কর তো।
এরপরের বীভৎস দৃশ্য বর্ণনাতীত। পুরো ফ্লোর র*ক্তে ভেসে আছে। মাংস ছাড়া হা*ড্ডি গুলো পরে আছে। দলে নতুন আসা ছেলেগুলো ভয়ে কাপছে। কেউ কেউ তো বমি করে দিয়েছে....
নওরোজ চলে গেছে ঘন্টা তিন আগে। গোডাউনে হিসেবের গরমিল খুজছে জাহিদ। জাহিদ নওরোজের ডান হাত। শুরু থেকেই নওরোজের খাস সে।
বুঝলি রে সামি, ভাই প্রতারণা একদমি সহ্য করতে পারে না। দলের নিয়ম, যে ই ধোকাবাজি করবে দলের সাথে, ভাইয়ের হাতে তার নির্মম মৃত্যু হবে। নতুন আসছিস দলে, তাই আগেই সাবধান করে দিলাম। লোভ করিস না, মৃত্যু নিশ্চিত!
ভাই, আমি তো বাহিরের দুনিয়ার নওরোজ ভাইয়ের সাথে এই নওরোজ ভাইয়ের কোনো মিলই খুজে পাইতেছি না! ভাই রে ভাই!!! এতোদিন ভাবতাম নওরোজ ভাই জীবনো একটা পিপড়াও মারে নাই, পিপড়াডা কষ্ট পাবে বলে,,,কিন্তু আজকে জানলাম ভাইয়ের নেশাই রক্ত!!!
সাদা পাঞ্জাবির এই সুপুরুষ যে রাতের অন্ধকারে যে রক্তপিপাসু দানব হয়ে যায়, কেউ কল্পনাও করবে না।
জাহিদ অট্টহাসি দেয়।
সামি দুষ্টুমির ছলে বলে, "এইজন্যই মনে হয় ভাবি ভাইরে ছাড়ে পালাইছে..""
কিছু বুঝার আগে গালে থাপ্পড় পরলো সানির। জাহিদ রাগে সামির মুখ চেপে খিচিয়ে বলে উঠলো, " জানো*য়ারের বাচ্চা, নিজেও মরবি, আমারেও মারবি। শেষ বারের মতো বলে দিচ্ছি, ভাবির কথা ভুলেও মুখ দিয়েও বের করবি না।"
সরি ভাই।
বাদ দে। আমারও জানের ভয় আছে ভাই। বুঝিস ই তো..
বুঝছি ভাই। কিন্তু ভাই নওরোজ ভাই আর ভাবির কাহিনী কি কন তো?
জাহিদ এখন শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামির দিকে। তারপর তলিয়ে গেল অতীতের মাঝে....
।।।।।।।।।।
গোডাউন থেকে ফিরে নওরোজ বাসায় চলে এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে গোসল করছে। গোসল সেরে বের হতেই দেখে রুমি তার বাছানায় শুয়ে আছে। শরীরের ফিনফিনে পাতলা শিপনের শাড়ি। কিন্তু পুরো শাড়ি এলোমেলো হয়ে আছে। শাড়ির আচল বুক থেকে সরে গেছে, বড় গলার ব্লাউজ নিচে নেমে বুকের ভাজ দেখা যাচ্ছে, কাপড় হাটুর উপরে,এদিকে শাড়ি এতো নিচে পরা হয়েছে যেন...
নওরোজ নিজের দৃষ্টি সরিয়ে বলে, " যদি সেদিন ফুপি আমার জীবন বাচাতে নিজের জীবন না দিত, আর তোর দায়িত্ব আমার কাধে না চাপাতো.....তাহলে তোর এসব কাজের শাস্তি হিসেবে অনেক আগেই হয় তোকে মেরে ফেলতাম আর নাহয় তোকে পতি*তালয়ে রেখে আসতাম। আর নওরোজ শাহ এর ব্যক্তিত্ব এতোটাও দুর্বল না যে তোর মতো পতি*তা এসে কাপড় খুলে সামনে দাড়ালেই ঝাপিয়ে পরবো! অবশ্য এর আগেও তো তুই কাপড় খুলে দাড়িয়েছিস, কিন্তু আফসোস তোর ওই শরীরের প্রতি আমার কোনো নেশা কাজ করে না। " বলেই হন হন করে রূম থেকে বের হয়ে গেল নওরোজ...
এদিকে নওরোজ বের হওয়ার সাথে সাথেই উঠে বসলো রুমি। শাড়ি ঠিক করে নিঃশব্দে বেরিয়ে আসলো অরোরা প্যালেস থেকে ------
চলবে.......
পরের পর্ব গুলা এই ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে কাল দিবো সব গুলা তাই এই ওয়েবসাইটেই চোখ রাখুন ধন্যবাদ।
