মুনিয়ার বড়লোক ঘরে বিবাহ হয়েছে। মুনিয়ার চাচার এক টাকাও খরচ হয়নি মুনিয়াকে বিয়ে দিতে। বিয়ের সম্পূর্ণ খরচ মুনিয়ার স্বামী সাব্বির খরচ করেছে। মুনিয়া একেবারে গরিব ঘরের মেয়ে। যা গত পর্বে বলা হয়েছে।
গতো পর্বের শেষ থেকে শুরু,,,,,,, পড়তে থাকুন।
মুনিয়া যখন রুমের ভিতরে বসে আছে একা একা তখন বাথরুম থেকে কেউ একজন বেরিয়ে আসলো।
বাথরুম থেকে আর কেউ না সাব্বির টাওয়েল পরে বের হলো ওয়াশরুম/বাথরুম থেকে| সাব্বির শুধু তাওয়ালে পরে ওয়াশরুম থেকে বের হয়েছে। মুনিয়া চোখ নামিয়ে নিলো, এভাবে কোনো অপরিচিত ছেলেকে দেখে নি কখনো|
- সাব্বির ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখে মুনিয়া খাটের উপর বসে আছে। সাব্বির বলল মুনিয়াকে ঘুম ভাঙল তোমার? রাতে দেখলাম গভীর ঘুমে| তাই আর ডাকিনি!
মুনিয়া ঘাড় নাড়ল|
সাব্বির বললো
-ওয়াশরুমে গরম পানি রাখা আছে, গোসল করে নিতে পারো|
আমি এখন বের হয়ে যাব| ফিরতে ফিরতে রাত হবে|
মুনিয়া আবারো ঘাড় নেড়ে সায় দিলো|
মুনিয়া ভাবলো কি বিয়ে করলাম এখন পর্যন্ত বাসর হয়নি। আমি ঘুমিয়ে গেছি সে এসে ঘুমিয়ে গেছে এই হলো বাসর। আহ কপাল।
কতো স্বপ্ন দেখেছি সুন্দর একটা বাসর হবে আমাদের। আমার অনেক বান্ধবীদের বাসর রাতের গল্প শুনেছি।
যাইহোক সবার কপাল এক না। এখন পর্যন্ত আমার নব্য স্বামীর সাথে ভালো করে কথা হলো না।
পরিচয় টুকু ভালো করে হলো না।
জানিনা সামনে কি হয়।,,,,,,
এভাবেই মুনিয়ার সংসার শুরু হলো| খুবই অদ্ভুত বিষয়, এখন পর্যন্ত সাব্বির মুনিয়া সাথে ভালো করে কথা বলেনি। এখন পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্ক হয়নি। সাব্বির খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে আর অন্যদিকে মুনিয়া ঘুম থেকে উঠতে উঠতে সাব্বির চলে যায়| আর ফেরে মাঝ রাতে|
ছন্নছাড়া এক সংসার। একদিন মুনিয়া বসে থাকতে থাকতে ডাইনিংয়েই ঝিমিয়ে যায়| সাব্বিরের কলিংবেলে সে ধরফর করে উঠে বসে|
কয়েকদিন এভাবে যাওয়ার পরে সাব্বির একদিন বলল, শোনো, তোমার এত রাত অবধি বসে থাকার দরকার নেই| আমি আগেও এমন রাত করেই ফিরেছি| কেউ অপেক্ষা করে থাকে নি| নিজেই নিয়ে খেয়ে নিতাম!
মুনিয়া নিচু স্বরে বলল, এখন তো আমি আছি!
সাব্বির হো হো করে হেসে উঠল| এই কথায় হাসির কি হলো! মুনিয়া বুঝতে পারল না|
ঐদিন গভীর রাত্রে,,,
সাব্বিরের সাথে মুনিয়ার শারিরীক ঘনিষ্ঠতা হয়েছে| সাব্বির তাকে উথালপাথাল ভালোবাসায় ভাসিয়েছে, এই সম্পৰ্ক, পুরুষালী গন্ধ, সিগারেট পোড়া ঠোঁটের টক টক চুমুর ছোঁয়া মুনিয়াকে মাতাল করেছে, খারাপ লাগে নি মুনিয়ার,, কেননা পুরুষের ছোঁয়া এই প্রথম মুনিয়ার শরীরে| তবে সাব্বিরের বোধ হয় মানসিক টান কম| বিশেষ মুহুর্তের পরে সাব্বির ঘুমিয়ে যায়| এতে মুনিয়ার মন ভরেনি। মুনিয়ার তখনো আরো কিছু ইচ্ছে করে| তখন ইচ্ছে করে ভালোবেসে কোমল স্পর্শ কেউ তাকে জড়িয়ে থাকুক! তীব্ৰ কামনা নিয়ে উত্তাল চুমুর পরে কেই কপাল ছুঁয়ে উষ্ণ চুমু খেয়ে নিক| আলাদা বালিশে একহাত নয় যেন, এক পৃথিবী দূরত্ব সাব্বির ঘুমিয়ে থাকে| মুনিয়া প্রতিবারই দীর্ঘশ্বাস ফেলে|
সাব্বিরের জামাকাপড়, জিনিসপত্ৰ মুনিয়ার নাড়াচাড়া করতে ভালো লাগে|
এ বাড়িতে মানুষের অভাব নেই, মুনিয়ার তাই কাজ কর্ম থাকেনা বললেই চলে| দ্বিতীয় বর্ষের অনার্স পরীক্ষা সামনে, কিছু পড়াশোনাও করে তবে পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা এখনো নিশ্চিত না|
কারণ বইপত্ৰ দেখে সাব্বিরের ভাবী নাকসিটকিয়ে বলেছে, সাব্বিরের খালি বিদ্বান বউ জোটে, আগের বউ তো চাকরি পেয়েই ডানা গজিয়েছিল| এবারে আবার নতুন করে শুরু হলো!
মুনিয়ার প্রচন্ড কষ্ট লাগলেও ও কোনো উত্তর দেয় নি| সাব্বিরকে বলার মত সম্পর্ক তৈরি হয় নি এখনো| তবে মুনিয়া অনেক কষ্ট করে এতদূর পড়াশোনা চালিয়েছে| এসএসসি পরীক্ষার পর থেকেই বিয়ের জন্য পাত্র খোঁজা চলছিল| তবে খালি মেয়েকে নিয়ে আজকাল কোনো পাত্র ঠকতে চায় না| তাই এতদিন দেরী হলো|
মুনিয়া একটু একটু করে পড়া চালিয়ে এতদুর এগিয়েছে| কে জানে, সাব্বির পড়তে দেয় কি না| না দিলে মুনিয়া জোরও করতে পারবে না| এ কারণ চাচার সামর্থ নেই ওকে আবার টানার| আহা, মুনিয়া ছেলে হলে, কিছু একটা নিশ্চয়ই করে ফেলত আর বিয়ের কথাও উঠত না!
সাব্বিরের জীবন যাপনে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে| আগের বউ ইউনিভার্সিটির হলে থাকত, তার সাথে সংসার করা হয় নি| ফোনে আলাপে প্রেম, সেখান থেকে বিয়ে অবধি গড়িয়েছিল| কিন্তু শেষ পৰ্যন্ত বিয়েটা টিকল না|
তাই এখন এবারে ওর টান তৈরি হয় না| শারি'রীক টান তো প্রাকৃতিক চাহিদা! তবে নিয়মিত সব জামা কাপড় গোছানো পায়, বাসায় ফিরে খাবার গরম করতে হয়
না|
প্লেটে ভাত বেড়ে দেওয়ার লোক আছে এখন| এসব ছোটো ছোটো বিষয়গুলোতেও সাব্বিরের ঘরে ফিরতে ইচ্ছে করে|
মুনিয়াকে আদর করতে ভালো লাগে| মেয়েটা নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের এতিম মেয়ে| তাই হয়তো সাব্বিরের সাথে কখনো তর্ক করতে যায় না| বেশি কথাও বলে না| কোন অধিকার ফলাতে যায় না।সাব্বির প্রয়োজনীয় কিছু বললে, ঘাড় নেড়ে সায় দেয়|
এতটুকু।।।।
একদিন সাব্বিরের ফিরতে বেশ রাত হয়ে গিয়েছিল|
মুনিয়াকে না বলা সত্ত্বেও মুনিয়া প্রতিদিনের মতো খাবার টেবিলে খাবার নিয়ে বসে থাকে।
মুনিয়া এখন এটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে সাব্বির না করা সত্ত্বেও মুনিয়া বসে থাকায় এখন আর কিছু বলে না উল্টো সাব্বিরের এই ব্যাপারটা এখন ভালো লাগতে শুরু করে।
আজকে মুনিয়া সাহস করে ভাবলো আজ আমার স্বামী সাব্বিরের সাথে কথা বলবো।তাই ঐ দিন খেতে বসার পরে মুনিয়া আস্তে বলল, আমার অনার্স পরীক্ষার ডেট দিয়েছে, এই মাসের চৌদ্দ তারিখ শুরু হবে|
সাব্বির বলল, আচ্ছা|
আলিনগর কলেজে সিট পড়েছে, চাচার বাসা থেকে কাছে হবে|
হুম|
আমি কী পরীক্ষা দিব?
কেন দেবে না? পড়াশোনা করেছ তো দেখলাম|
তাহলে দুয়েক দিনের ভেতর যেতে হবে, এডমিট তুলতে হবে|
আচ্ছা যাও| কবে যাবে বলো,
মুনিয়া বললো আগামী সপ্তাহে,,,,,
সাব্বির বলল আমার ড্রাইভার সৌরভ কে পাঠিয়ে দিব তোমাকে দিয়ে আসবে।
মুনিয়া মনে মনে ভাবলো সাব্বিরকে কি সাদবো। যে আমার সাথে যাবে,,, আবার মনে মনে ভাবল সাব্বিরকে কি মেহমানদারি করতে পারবে আমার চাচা কারণ তারা অনেক দামি খাবার খায়।,,,,,,
এই কথাগুলো মুনিয়া বসে বসে ভাবতে লাগার অবস্থায় সাব্বির বলল কী ভাবছো,,,,,, মুনিয়া বললো কিছু না,,,,,,
অন্যদিকে ঐ দিন রাতে মুনিয়া শুয়ে আছে তার স্বামী সাব্বিরের সাথে। সাব্বির মনে হয় ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু উনি আর ঘুম আসতেছে না। মুনিয়ার শরীরে এক ধরনের জ্বালা শুরু হয়। আজ খুব ইচ্ছে হয়, তার স্বামীর সাথে আজকে শারী*রিক সম্পর্কে ঝরাতে। কিন্তু সাব্বির অনেক রাত করে বাসায় ফেরার কারণে সে খাবার খেয়ে এক ধরনের ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরেছে। অন্যদিকে মুনিয়ার উত্তেজনা কমছে না ,,,, তাই ভাবলো সাহস করে সাব্বির কে ডেকে তুলবে
#চলবে......
লেখক মোঃ সোরমান হোসেন রবিন।
২ পর্ব শেষ খুব শীঘ্রই তৃতীয় পর্ব দেওয়া হবে।
বাস্তব ঘটনা: সব মেয়েদের পছন্দ এক না, সব মেয়েদের ভাগ্য এক না।
