#প্রথম_দেখায়_প্রেমে
#লেখিকা_ফাতেমা_নূর
#পর্ব_২+৩+৪
নিজের রুমে গিয়েই উরাধুরা ডিজে গান চালিয়ে দিলো,,মায়া!!এতক্ষণ মন খারাপ করে রাখলে ও এখন মূহুর্তে তা আনন্দে রুপ নিলো...খুশিতে নাচতে নাচতে প্রথমে 'মিরাব' কে কল দিলো দুইবার রিং হয়েই কল ধরলো...ওপাশ থেকে কিছু বলার আগেই মায়া বকবক করে বলা শুরু করলো__ আজকে কি হলো জানিস অনেক বড় একটা ঘটনা ঘটে গেছে ভাই আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে এখন তো আমি খুশিতে নাচি...আর তার থেকে ও বড় কথা কি করছি জানস __ যখন আমাদের কে আলাদা কথা বলতে দেওয়া হলো তখন আমি তাকে ইয়া বড় মিথ্যা একটা বানিয়ে বলেছি ওই বুইড়া লুচু লোক টাকে.....
কি তোর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে আয় হায় এখন আমার কি হবে আমার কলিজার বাবু টা'লে তুমি এই বিয়ে করো না যদি এই বিয়ে করো তাহলে আমি তোমার নামে থানায় মামলা করবো__এটা শুনে মায়া বললো কিহ,, কি বললি তুই তুই মনে হয় আমার বিয়ে হবে ভেবে খুশি হসনি ___কোথায় আলহামদুলিল্লাহ বলবি, তা না তুই আমার বিয়ে না হবার দোয়া করছ... শুন শকুনের দোয়ায় মানুষের বিয়ে ভাঙ্গে না বুঝলি... তুই কখনো বউ পাবিনা বলে দিলাম আর পাইলে ও মুটু বউ পাবি___ আরে মজা করছি... ঠিক আছে মানলাম মজা করছচ,, আমার বিয়ে ঠিক হয়ছে যে কি করা যায় বলতো কলেজে সবাইকে মিষ্টি খাওয়ালে কেমন হয়!!
তুর বোধহয় মাথার তার ছিরে গেছে বিয়ের খুশিতে,,, কখনো শুনচচ বিয়ে ঠিক হলে কলেজে মিষ্টি খাওয়াতে,,, মিষ্টি খাওয়াতে চাইলে আমাকে খাওয়া মিথ্যাবাদী... আমার সাথে কম মিথ্যা বলছ না.. তাহলে তুর হবু জামাইর সাথে বললেও সেটাও স্বাভাবিক না...আল্লাহ জানে তুর হবু জামাইর না জানি ভবিষ্যৎ এ কি হয়... এটা বলেই ফোনের ওপাশ থেকে জোরে হেসে দিলো মিরাব.... এটা শুনে কল কেটে দিলো মায়া, আর বিরবির করে একশ একটা একটা গালি দিলো,, হনুমান খবিশ তুর কখনো বিয়ে হবে না বদদোয়া দিলাম আর কথায় বলবো না তুর সাথে.. তুই ওই বুইরা লুচু বেডা থেকে ও তিনগুন বারা...
__এসব বলেই ফোনটা বিছানায় ছুড়ে মারে তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে আয়নার সামনে দাড়িয়ে মুখ থেকে হালকা মেকআপ গুলো তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো... পাত্রপক্ষ আসার আগেই মা বলে দিয়েছিলো কে যেন আসবে একটু সাজগোজ করে থাকতে আর আপনাদের মায়া তো এমনিতে ও সাজতে পছন্দ করে তাই কে আসবে এসব কিছুই জিজ্ঞেস না করে সেজে ফেলে__আর এখন সেই মেকআপ গুলো তুলে মুখটা ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে রুমে আসে মায়া __রুমে এসে হাত মুখ মুছে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফেসবুকে ডুকলো আর তার ফ্রেন্ড লিস্টে... একটা ফেসবুক আইডি দেখলো নাম 'M.A Aditto Chowdury'...প্রেফাইল পিকটা ভালো করে দেখে চিনতে একটুও অসুবিধা হয় নাই মায়ার,,, এটা মায়ার ফেক আইডি তাই আর একটু ও দেরি না করে কিছু একটা ভেবে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়লো আর মেসেজ দিলো হাই,, কেমন আছেন.. তার কিছুক্ষণ পর টিং করে মেসেজ আসলো!! মায়া সাথে সাথে মোবাইল টা হাতে নিলো আর দেখলো কে মেসেজ দিয়েছে তারই হবু জামাই থুক্কু অসভ্য বুইরা লোকটা মেসেজ দিয়েছে... আমাকে আর মেসেজ দিবেন না আমার সুন্দুরী একটা বউ আছে ব্লক করে দিতেছি!! এটা লিখেই আদিত্য মুচকি হাসলো সে জানে এটা কে হতে পারে... তারই যে মিথ্যাবাদী এটা তার বুঝতে বাকি নাই ফেক আইডি খুলছে অন্যের নাম দিয়ে কিন্তু কভার ফটো তে নিজের পিক দিয়ে রাখছে কি মেয়েরে বাবা...এটা বলেই একটু হাসলো তারপর আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখতে লাগলো তাকে কোনদিক দিয়ে বুড়ো লাগে,, নাহ তার তো এমন কিছুই মনে হলো না নিজের সৌন্দর্য আদিত্য চৌধুরী নিজেই মাঝে মাঝে মুগ্ধ.... যেখানে সব মেয়ে আমার পিছনে পড়ে থাকে সেখানে মিথ্যাবাদীটা এসেছে আমাকে বুইরা বানানোর জন্য
এসব বলে মুচকি হাসলো...
অন্যদিকে মায়া ভাবছে অন্যকিছু... যাহ ব্লক ও করে দিলো কত কথা জিজ্ঞেস করার বাকি কিছু একটা ভেবে মন খারাপ করে ফেললো মায়া কিহ সুন্দুরী বউ ওনি কি আগে থেকে কাকে বিয়ে করছেন যে আমার থেকে ও সুন্দর থাক পরে দেখে নিবো ওই খাটাস টাকে,শুধু একবার বিয়ে করে নিই __তারপর মোবাইলটা রেখে দিয়ে নিজের পড়ার টেবিলে বসে ডায়েরী টা নিয়ে হাবিজাবি লিখতে শুরু করলো আদিত্য বুইরা অসভ্য আসছে নামের সাথে চৌধুরি লাগাতে __ আর তখনই রুমে ডুকলো সেলিনা বেগম মাকে দেখে মায়া নিজের ডায়েরি টা বন্ধ করে ফেললো..আর মনে মনে বলে ইশশ যদি আম্মু দেখে যেতো আমি এসব অকাম কুকাম লেখতেছি আল্লাহ বাঁচায়ছে..মায়ের কথায় ধ্যান ভাঙলো মায়ার,,আরে কি ভাবছিস ,,, আরে না আম্মু কিছু না এমনিই.. ঠিক আছে সামনে যে পরিক্ষা মনে আছে ভালো করে পড়াশুনা কর প্রাইভেট পড়বি ঠিক মতো,, ঠিক আছে আম্মু অনেক মনে থাকবে,, রাতের খাবার খেতে আয় _ তুর আব্বু অফিস থেকে এসেছে__ তুর জন্য ফুসকা এনেছে... কি ফুসকা এটা শুনেই মায়ের আগে দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো... মায়া আস্তে যা পড়ে যাবি তো বলতে বলতেই... সিড়ি দিয়ে দুই'সিড়ি নামতে গিয়ে উপর থেকে পড়ে গেলো মায়া __আর সাথে সাথে একটা জোড়ে আওয়াজ হলো....
চলবে,#প্রথম_দেখায়_প্রেমে
#লেখিকা_ফাতেমা_নূর
#পর্ব_৩
সিড়ি দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে পাঁচ সিড়ি নিচে পড়ে গেলো মায়া!! মূহুর্তে চিৎকার দিয়ে উঠলেন মাহফুজ শিকদার!! আর সেলিনা বেগম,, মায়া পরার সাথে সাথেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে যার কারণে তার এসব চিৎকারের শব্দ ও কানে যায় নি__ মায়ার মা বাবা মেয়েকে জড়িয়ে দরে,, আমার মেয়ে এই কি হয়ে গেলো আমার মেয়ে কথা বলতেছে না কেন এই তোমরা __ গাড়ি আনো আমার মেয়ের কিছু হবে না এসব বলে বলে কান্না করে দিলেন মাহফুজ শিকদার আর,, সেলিনা বেগম,,
__মায়ার ফুপাতো ভাই নিহাল ও ছিলো সেখানে ,, নিহালের কোনো বোন নেই মায়াকে সে নিজের বোনের মতোই ভালোবাসে ___ নিহাল আর দেরি না করে তারাতারি গিয়ে কিছুক্ষণের ভিতরে গেরেজ থেকে গাড়ি বের করে নিয়ে আসে , মাহফুজ শিকদার তার আদরের মেয়েকে কোলে নিয়ে গাড়িতে উঠালেন সাথে সেলিনা বেগম বসলেন ভিতরে,, ডাইভিং সিটে বসে নিহাল জোরে,স্পিট দিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্য বের হয়ে গেলো,,,হাসপাতালে ডুকে ডাক্তার মায়া কে কেবিনে নিয়ে গিয়ে স্যালাইন দিলেন আর পায়ের হাটুতে ছিলে গেছে অনেকটা ব্যাথা ও পেয়েছে সেটা ব্যান্ডেজ করে দিলেন,,,
মাহফুজ শিকদার আদিত্য কে কল দিয়েছিলেন আসার সময় মায়ার কথা বলে হাসপাতালের কথা ও বলে দিয়েছেন, আদিত্য আমি আসছি বলে কল কেটে দিয়েছে,,,,,
কেবিনের বাহিরে দাড়িয়ে আছেন মাহফুজ শিকদার আর সেলিনা বেগম চোখে মুখে চিন্তার চাপ,, দুইজনের মুখ একেবারে শুকিয়ে গেছে ভয়ে একমাত্র মেয়ে খুব আদরের খুব ভালোবাসেন মেয়েকে তারা__ মেয়ে তাদের সুখের ঠিকানা,,,,অনেক আদর করতেন তাই আদরে আদরে বাদর হয়ে গেছে যার কারণে আজ এই ঘটনা হলো__
কিছুক্ষণের ভিতরে আদিত্য ও নিজের কার দিয়ে হাসপাতালে চলে আসলো এসেই সালাম দিলো মাহফুজ শিকদার আর সেলিনা বেগমকে,,তারপর মায়ার কথা জিজ্ঞেস করে,, আদিত্যর মুখে ও চিন্তার চাপ 'প্রথম দেখায় প্রেমে পড়েছে' এই পিচ্চি মেয়েটার__!!
কেবিন থেকে ডাক্তার রুহি কে বের হতে দেখে সেখানে ছুটে গেলেন মাহফুজ শিকদার,, সেলিনা বেগম,, আদিত্য সাথে নিহাল ও ___ডাক্তার আমার মেয়ের কিছু হয়নি তো ভালো আছে তো , আদিত্য ও বললো মায়া ঠিক আছে কিনা জ্ঞান ফিরেছে কিনা কোথায় ও কোনো সমস্যা হয়নি তো এসব জিজ্ঞেস করেই যাচ্ছে__সবার কথা শুনে ডাক্তার রুহি একটু হাসলেন আর মনে মনে ভাবলো মেয়েকে মনে হয় বেশিই ভালোবাসেন আর আদিত্য কে তো সে চিনে তারই ক্লাসমিট বিয়ে হবার আগেই এত বউ পাগল হবে সে জানতো না যে কোনোদিন কোনো মেয়ের দিকেই ফিরে তাকায় নি.....
ডাক্তার রুহির ধ্যান ভাঙে মাহফুজ শিকদারের কথায় কি হলো ডাক্তার কোনো ক্ষতি হয় নাই তো আমার মেয়ের ___না তেমন বড় কিছুই হয় নাই পড়ে যাওয়ার ফলে ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে আর হাটুতে একটু বেথা পেয়েছে আমি ব্যান্ডেজ করে দিয়েছি,, স্যালাইন দিয়েছি কিছুক্ষণের মধ্যে জ্ঞান ফিরবে,,, এটা শুনেই যেন একটু!!শান্ত হলেন সবাই,, আমি কি আমার মেয়ের সাথে দেখা করতে পারি__অবশ্যই,,, ঠিক আছে বলেই মাহফুজ শিকদার সেলিনা বেগম!! কেবিনে গিয়ে মেয়ের পাশে বসে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন মাহুফুজ শিকদার পাশে সেলিনা বেগম ও বসা,, তারা চলে যাওয়ার পর আদিত্য আসলো মায়ার পাশে বসেই কপালে একটা চুমু দিয়েই হালকা বিরবির করে উচ্চারণ করলো মিথ্যাবাদী,, মায়াবতী,,আর তখনই জ্ঞান ফিরলো ,, মায়ার জ্ঞান ফিরতে দেখে হাসি ফুটে উঠলো আদিত্যর ঠোঁঠের কোনায়,,,মায়া আস্তে আস্তে চোখ খুলে উঠে বসলো কোথায় আছে সেটা বুঝার চেষ্টা করতে লাগলো কোনোদিকে না তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে তারপর পরে যাওয়ার কথা মনে পরে আবার চোখ খুলতেই চারদিকে তাকিয়ে দেখে সে হাসপাতালে আছে আর তারপাশেই আদিত্য,,, আদিত্য কে দেখেই চোখ বড় বড় করে পেললো মায়া,,, আপনি এখানে কেন,, কে আসতে বলেছে আপনাকে এখানে যান না আপনার সুন্দুরী বউয়ের কাছে আমার কাছে কি....
আদিত্য বুঝতে পারলো মিথ্যাবাদী মায়া কেন এসব কথা বলতেছে ,,, আদিত্য না বুঝার ভান করে বললো আরে কে কার কথা বলতেছো তুমি,,,পড়ে গিয়ে বোধহয় তোমার মাথা গিছে মিথ্যাবাদি মায়া,, তা দেখি তোমার পেটের বাচ্চার কোনো সমস্যা হয় নাই তো গোপনে বিয়ে করা সেই মহান ব্যাক্তিটা তোমাকে দেখতে আসেনি,,, ওই আমার কথা এখন আমাকে শুনাচ্ছেন দাড়ান সে লোকটা কে আপনাকে এখন দেখাবো, এই বলেই উঠে দাড়াতে গিয়ে,, হাটুর ব্যাথায় আবার পরে যেতে নিলো মায়া,, ওমনি ধরে ফেললো নিজের শক্তপক্ত হাত দিয়ে আদিত্য,, আদিত্য দরায় মায়া গিয়ে পড়ে আদিত্যর গায়ের উপর,, আর ওমনি ভুলবশত আদিত্যর ঠোঁঠ গিয়ে লাগলো মায়ার গলায় ,, মায়ার শরীরে যেন অদ্ভুত শিহরণ ছুয়ে গেলো,, এই প্রথম কোনো পুরুষের স্পর্শ পেয়ে তার হার্টবিট বেড়ে গেলো যেন সবাই শুনতে পাচ্ছে __মায়া ছটফট করতে থাকে আদিত্যর হাত থেকে ছোটার জন্য কিন্তু আদিত্যর হাতের বাঁধন থেকে কি এই পিচ্চি শরীরের মেয়েটা এত সহজে ছুটতে পারবে.....
চলবে,#প্রথম_দেখায়_প্রেমে
#লেখিকা_ফাতেমা_নূরাইন
#পর্ব_৪
আদিত্য এখনো মায়া'কে একই ভাবে ধরে রেখেছে সেই কখন থেকে!!ছাড়ার কোনো নামই নেই __ অবশ্যই মায়া অনেক চেষ্টা করেছিল নিজেকে ছাড়ানোর জন্য ,, যখন দেখলো চেষ্টা করে ও লাভ হবে না,, তখন নিজে ও আদিত্যর কোলে চুপ মেরে বসে থাকে___ এটা দেখে আদিত্য মজা করে বলে উঠে,, কি ব্যাপার সরে যাবে না __আপনি সরতে দিলেন কই চম্বকের মতো দরে রেখেছেন__তাই তাহ...আর বলতে পারলো না আদিত্য!!
তাদের কথা বলার মাঝেই দরজার দিকে আওয়াজ হলো,, তারাতারি সরে বসে
আদিত্য ,__আর দুষ্টু মায়া জ্ঞান না ফেরার ভান ধরে শুয়ে পরে ততক্ষণে,, এটা দেখে আদিত্য হাসবে নাকি কানবে সেটা বুঝায় মুশকিল,, কোনো মতো নিজের হাসি চাপিয়ে রাখে...
বাহির থেকে মাহফুজ শিকদার ডাক দিলেন! ভিতরে আসতে পারি ?? __জ্বি বাবা আসুন,,মাহফুজ শিকদার কেবিনে ডুকতেই,,, আদিত্য বের হয়েই যাচ্ছিলো,,,আদিত্য কে বের হয়ে যেতে দেখে,,মাহফুজ শিকদার,বলে উঠলেন তুমি কোথায় যাচ্ছো বসো তোমার সাথে আমার জরুরী কথা আছে,,আদিত্য মনে মনে ভাবে,,কি এমন জরুরী কথা থাকতে পারে,, পরক্ষনেই বলে উঠে ঠিক আছে আমি কেবিনের বাহিরে আছি__ঠিক আছে যাও,,
আদিত্য চলে গেলে মাহফুজ শিকদার নিজের মেয়ের পাশে বসেন, মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বিরবির করে বলেন__তুই আমার সব রে মা তুকে আমি বিয়ে দিয়ে দিলে ও আমার বাড়িতেই রাখতে চাই __মায়া তো ঘুমের ভান দরেই শুয়ে ছিলো বাবার কথা গুলো খুব ভালো করে শুনেছে সে,, আস্তে আস্তে চোখ একটা খোলে বাবাকে দেখার চেষ্টা করতেছিলো__মাহফুজ শিকদার মেয়ের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন,,তার মেয়ে যে তাকে বোকা বানিয়ে জ্ঞান না ফেরার ভান করতেছে এটা এটা তিনি ভালোই বুঝতে পারছেন ,,সিড়ি থেকে পড়ে ও দুষ্ট ভাব গুলো একটু ও কমে নাই মায়ার,,,তাই মাহফুজ শিকদার বললেন__কেউ যে আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখার চেষ্টা করতেছে আমি কিন্তু দেখতে পাচ্ছি,,,তাই ভন্ডামি না করে চোখ খোলা হোক,,,দেখ তুর জন্য কি নিয়ে এসেছি __এটা শুনতেই মায়া ধরপরিয়ে উঠে বসলো,,,বাবাকে জড়িয়ে ধরেই একনাগাড়ে বলতে থাকে কি এনেছো বাবা কই দেখি দেখি আমাকে দাও __কিছুই আনি নাই __তুই যে আমাদের কে এত ভয় পাইয়ে দিছিলি তুর জন্য কিছুই আনবো না আর,, বাবার মুখে এমন কথা শুনে মন খারাপ করে পেলে মায়া,,, ন্যাকা কান্না শুরু করলো,, ঠিক আছে নিবো না তোমার থেকে কিছু ,,মেয়ের রাগ দেখে মাহফুজ শিকদার একটু মুচকি হাসলেন তারপর নিজের প্যাকেট থেকে অনেক গুলো চকলেটের বক্স বের করে দিলেন,,মায়া খুশিতে বাবাকে আবার জড়িয়ে দরে __মায়া তো এগুলো দেখে তারাতারি সব নিয়ে খেতে বসলো,, মেয়ের খুশি দেখে মাহফুজ শিকদার ও অনেক খুশি হলেন,,,আসলেই সব বাবারা মেয়েকে একটু বেশিই ভালো বাসেন,,,মাহফুজ শিকদারের বেলায় ও তার ব্যতিক্রম নয়...
__ কিছুক্ষণ পর মাহফুজ শিকদার বেরিয়ে এলেন,, বেরিয়ে এসেই কেবিনের বাহিরে আদিত্য কে দাড়িয়ে থাকতে দেখে,,, আদিত্য ও মাহফুজ শিকদারের দিকে এগিয়ে এলো,,, কি বলবেন বাবা বলেন??আসলে আমি তোমাকে বলতে তোমাদের এনগেজমেন্ট নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলাম,,,আমি চাই আগামী শুক্রবার এ এনগেজমেন্ট এর দিন দিতে,,, তোমার মা বা কে ও বলছি তারা বলছেন তুমি এতে মতামত দিলেই তারা ও একমত হবেন,, ঠিক আছে বাবা আপনি যেহেতু বলছেন তাহলে আগামী শুক্রবারে__মাহফুজ শিকদার একটু হাসলেন,,মনে মনে ভাবলেন মেয়ের জন্য তিনি এমন একটা ছেলেকেই তো চায়...ওনার ভাবনার মাঝেই আদিত্য বলে উঠে!!বাবা আমি একটু মায়ার কাছে যেতে পারি?? আজকে তো বাড়িতে নিয়ে যাবো দুইদিন তো হলো..তুমি অবশ্যই দেখে আসো আবার!! এই কথা শুনে...
__আদিত্য মায়ার কেবিনের উদ্দেশ্য চলে গেলো,,,কেবিনে ডুকেই মায়া কে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠে আদিত্য...যে এখন নিজের মতো চকলেট খেয়েই যাচ্ছে নাকে মুখের চারপাশের অবস্থা বেহাল ,, আদিত্য মায়াকে দেখে হাসতে হাসতে এগিয়ে এলো __আদিত্য কে হাসতে দেখে মায়া বললো__হাসতেছেন কেন বুইরা লোক ,,, দেখতেছেন না প্রিয় চকলেট খাচ্ছি,, আপনার ও কি খেতে ইচ্ছে করছে নাকি,,, নেন আমি আবার মিথ্যাবাদী হতে পারি কিন্তু কিপ্টা না,,,আদিত্য নেয় না সে তো তার পিচ্চি মায়া কে দেখতে ব্যস্ত ইশশ কি বাচ্চা বাচ্চা লাগতেছে,, ইচ্ছে করে টুপ করে খেয়ে পেলতে__শেষ পর্যন্ত কিনা এই বাচ্চা মেয়েটার প্রেমে পড়লাম,,সে নিজে নিজে নিজের মনকে এসব বলে হাসলো__ধীরে ধীরে মায়ার দিকে এগিয়ে আসে আদিত্য,,আর তখনই হঠাৎ মায়া পুরো একটা চকলেট আদিত্যর মুখে লাগিয়ে দেয়....
কেমন হয়ছে অবশ্যই জানাবেন, আর একটু রেসপন্স করতে ভুলবেন না!!
চলবে?
পরের পর্বগুলা এই ওয়েবসাইটেই দেওয়া হয়েছে দেখেন?
