#তুমি_আমার_মনের_মানুষ 

#লেখা_Bobita_Ray 

পর্ব- ০৩


রাতুল প্রিয়ন্তির হাতখানা ছেড়ে দিয়ে বিছানা থেকে উঠে গেল। প্যান্টের পকেটে ফোন ঢুকিয়ে নিয়ে আবারও প্রিয়ন্তির হাতখানা শক্ত করে ধরলো। প্রিয়ন্তির চোখের কোণে বিন্দু বিন্দু জল জমলো। ভেজা কণ্ঠে বলল,

“আমি কোথাও যাব না।”

রাতুলের রাগ চড়ে গেল। প্রিয়ন্তিকে ছেড়ে দিয়ে ফোনটা বিছানায় আছড়ে ফেলল। নিজের মাথার চুলগুলো টেনে ধরে বড়ো বড়ো শ্বাস ফেলে প্রাণপনে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলো। বলল,

“কোথাও যাবে না মানে কী? এই প্রিয়ন্তি তোমার প্রেমিকও কী বেকার? তারমানে তুমিও তোমার দিদির মতো আমার সাথে অভিনয় করবে? যেদিন তোমার বেকার প্রেমিক চাকরি পাবে সেদিনই আমাকে ফেলে চলে যাবে। তাই তো? এক ভুল তো আমি বার বার করব না প্রিয়ন্তি। তোমাকে এখুনি যেতে হবে!”

“তাহলে আমাকে বিয়ে করেছেন কেন?”

রাতুল বলল,

“বিয়ে করেছি সংসার করতে। তোমাদের মতো মেয়েরা তো আবার পরকীয়ায় আসক্ত। স্বামীর সংসার ভালো লাগে না।”

“আমি কী একবারও বলেছি সংসার করব না।”

“লোক দেখানো সংসার তো করবেই। তোমার দিদিও করেছিল। নাগিনীটা আমাকে বুঝতেই দেয়নি তার মনে কী চলছে। এতো নিখুঁত অভিনেত্রী!”

“আপনি এতো উত্তেজিত হচ্ছেন কেন?”

“উত্তেজিত হবো না বলছো? তোমরা দুইবোন বার বার আমাকে ঠকানোর ছক কষবে আর আমি রিলাক্স থাকবো। তুমি পারতে রিলাক্স থাকতে?”

“আমাদের ব্রেকাপ হয়ে গেছে।”

“সে বেকার বলে ব্রেকাপ করেছো নিশ্চয়ই? কতোদিনের সম্পর্ক ছিল?”

“ছয় মাসের।”

“তার সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলে?”

“ছিঃ..এসব কী বলছেন?”

“ছয়মাসে সে তোমাকে কিছুই করেনি বলতে চাচ্ছো।”

প্রিয়ন্তি অকপটে বলল, 

“শুধু হাত ধরেছে।”

“এটাও আমাকে বিশ্বাস করতে হবে প্রিয়ন্তি? আরে আজকালকার মেয়েরা এতই সস্তা হয়ে গেছে। মেয়েগুলো একমাসেই ছেলেদের বেডে চলে যায়। সেখানে তো ছয়মাস।”

“এসবে খুব অভিজ্ঞতা দেখছি। তা কয়টা মেয়েকে চিনেন আপনি?”

“তোমার বোনের চরিত্রই তো ঠিক ছিল না। তোমাকে কীভাবে বিশ্বাস করি।”

“হাতের পাঁচ আঙুল কী কখনো সমান হয়?”

“তোমরা দুইবোন সমানই।”

“এতই যখন অপছন্দ। তাহলে বিয়ে করেছেন কেন?”

“তখন তো আর জানতাম না। তুমিও প্রেম করো। তোমাকে অন্তত ভালো ভেবেছিলাম।”

“খারাপের কী দেখলেন?”

“যারা প্রেম করে। তাদের ভালো হওয়ার চান্স নেই। এরা নিজেও সুখে থাকে না। অন্যদেরও সুখে থাকতে দেয় না। মাঝখান থেকে আমাদের মতো ছেলেদের জীবন নষ্ট হয়।”

“আমাকে একদম দিদির সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না।”

“তোমার দিদির থেকেও বেশি খারাপ তুমি।”

প্রিয়ন্তি আচমকা রাতুলের শার্টের কলার টেনে ধরলো। টলমল চোখে রাতুলের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,

“কী করেছি আমি?”


প্রিয়ন্তির পদ্ম পুকুরের মতো স্বচ্ছ টলমলে চোখের দিকে তাকিয়ে রাতুলের খুব মায়া হলো। প্রিয়ন্তির মায়া মায়া চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পরার আগেই রাতুল সযত্নে মুছে দিল। প্রিয়ন্তি রাতুলের হাতখানা তীব্র অভিমানে সরিয়ে দিল। রাতুল দ্রুত নিজেকে খোলসে মুড়িয়ে নিয়ে বলল,

“চলো প্রিয়ন্তি।”

প্রিয়ন্তি ক্লান্ত কণ্ঠে বলল,

“এখন আমি কোথাও যাব না। আমার খুব ঘুম পাচ্ছে।”

রাতুল বিরস মুখে বলল,

“আমি তোমাকে বউ বলে মানি না প্রিয়ন্তি। দ্বিতীয়বার আমার ঠকে যাওয়ার আর কোনো ইচ্ছে নেই।”

কথাগুলো বলেই রাতুল ব্যালকনিতে চলে গেল। সম্পর্ক বদলে গেলে অনুভূতিও বোধহয় বদলে যায়। নাহলে রাতুল ঘরে নেই দেখে, প্রিয়ন্তি শুতে পারছে না কেন! প্রিয়ন্তি অনেকটা সময় চুপটি করে খাটে বসে রইল। এতক্ষণ ঘুমে দুচোখ বুঁজে এলেও এখন চোখে ঘুমের লেশমাত্র নেই। প্রিয়ন্তি উঠে দাঁড়াল। গুটিগুটি পায়ে হেঁটে গিয়ে ব্যালকনির দরজায় দাঁড়ালো। রাতুল একমনে সিগারেট টানছে। সিগারেটের বিকট গন্ধে প্রিয়ন্তির মাথা ধরে গেল। প্রিয়ন্তি আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না। ঘরে গিয়ে শুয়ে পরলো। বাকি রাতটুকু এপাশ-ওপাশ করে ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পরলো প্রিয়ন্তি।


ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গেল প্রিয়ন্তির। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হওয়ার কারণে মাথা ভার ভার লাগছে। চোখদুটো জ্বলছে। বাসি কাপড় পাল্টাবে কী! স্নান সেরে, বসার ঘরে গিয়ে দেখল, সবাই থমথমে মুখে বসে আছে। রিতু প্রিয়ন্তিকে দেখে একটু হাসার চেষ্টা করলো। রিক্তাদেবী বলল,

“ঘুম হলো তোমার?”

বেলা করে ঘুম থেকে ওঠার জন্য প্রিয়ন্তির খুব লজ্জা লাগছে। মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল। রিতু বলল,

“বউদি আসো জলখাবার খেয়ে নাও?”

রিক্তাদেবী চোখ গরম করে মেয়ের দিকে তাকাল। রিতু দমে গেল। রিক্তাদেবী বলল,

“এখানে আসো প্রিয়ন্তি?”

গতকাল রাতেও তো বউমা বলে ডাকছিল৷ আজ আবার কী হলো! নাম ধরে ডাকছে কেন! সর্বনাশ রাতুল কী প্রিয়ন্তির বয়ফ্রেন্ডের কথা সবাইকে জানিয়ে দিয়েছে। প্রিয়ন্তি শুকনো ঢোক গিলে ভয়ে ভয়ে রিক্তাদেবীর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। রিক্তাদেবী বলল,

“পাশে বসো।”

প্রিয়ন্তি বসতেই রাতুলের বাবা উঠে ঘরে চলে গেল। এখন হয়তো মেয়েলি ব্যাপার নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে৷ এখানে তার থাকা আর উচিত হবে না। রিক্তাদেবী বলল,

“রাতুলের সাথে কী গতকাল রাতে তোমার ঝগড়া হয়েছিল?”

প্রিয়ন্তি ভয়ে ভয়ে বলল,

“কেন?”

“এতো কেন কেন করছো কেন? যা বলছি তার উত্তর দাও!”

“না তো।”

“তাহলে দুদিন ছুটি থাকা সত্বেও রাতুল আজ কর্মক্ষেত্রে চলে গেল কেন?”

প্রিয়ন্তি চমকে উঠল। রাতুল চলে গেছে! কখন?


চলবে


(প্রমোশন পোস্ট)


পরের পর্ব গুলা এখানেই দিবো?

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url