#ম্যারেজ_প্রোপজাল. 

#অরিত্রা_অর্নি

#২

://www.effectivegatecpm.com/gd514ta2in?key=57d72ee2b3caa5d8407343113f2e0b3c


"সায়রা কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রুহানির কাছে। রুহানির কেবিনে আসতেই দেখলো সে লিপস্টিক পড়ছল। নাফিস কেশে উঠে। সঙ্গে সঙ্গে রুহানি লিপস্টিক রেখে সোজা হয়ে বসে "


_আরেহ, নাফিস। তূর্য কি ডেকেছে আমায় ? 


_নাহ, এই যে ওনাকে পাঠিয়েছেন ইন্টারভিউ নিতে। 


_আমি নিবো? 


_জি। 


_কিন্তু আমার তো তূর্যর সাথে আউট সাইড মিটিং এ যাওয়ার কথা ছিলো। 


_যাচ্ছেন না। আপাতত যে কাজ দিয়েছে সেটা করুন। আসছি৷ 


"নাফিস রুহানির হাতে সায়রার ফাইলটা ধরিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেলো। সায়রা পুরো বিষয়টা ই খেয়াল করলো

রুহানি বেশ বিরক্ত বোধ করলো। এমনিতেই সুযোগ হয় না তার তূর্যর সাথে থাকার কোথাও যাওয়ার। রুহানি কোনো রকমে সায়রার ইন্টারভিউ নিলো৷ সায়রা বুঝলো এখানে ও তার চাকরি হচ্ছে না। সে মন খারাপ নিয়ে ই বের হলো অফিস থেকে। সকাল থেকে পানি ছাড়া এখনো কিছু পেটে পড়েনি। অফিস গেটের সামনে দাড়ালো সায়রা রিকশার জন্য। এমন সময় ওর পেছন থেকে গাড়ির হর্ন এর শব্দ এলো। সায়রা পিছন ঘুরে চাইতে ই দেখলো একটা কালো রং এর বিএমডব্লিউ যার ভেতরে সেই সাদমান শাহারিয়ার তূর্য আর নাফিস বসে। সায়রা সাইড হয়ে দাড়ালো। গাড়িটা চলে গেলো ওকে পাশ কাটিয়ে। পরপর ই রিকশা পেলো সে উঠে গেলো। 

বাড়িতে যেতে না যেতে ই বাইরে থেকে শব্দ পেলো। নিশ্চয়ই কোকিলা কারো সাথে ঝগরা করছে। বাড়ির ভেতরে গিয়ে দেখলো তাই। পাশের বাড়ির মহিলা এসেছে তার সাথেই কথা কাটাকাটি হচ্ছে। সায়রা বিষয়টা এড়িয়ে যেতে পারলো না। সে মহিলার দিকে এগিয়ে গেলো"


_কি হয়েছে চাচি। এমন করছেন কেনো ? 


_কেমন করলাম। তোমার মা দেড় হাজার টাকা ধার নিলো সেই কবে। আর দিলো না। আমাট এখব দরকার। চাইতে এসেছি উল্টো আমার সাথে ঝগরা করছে। 


"সায়রা চায়লো কোকিলা বেগমের দিকে। রাগে ফুসছে তিনি। সায়রা মহিলাটাকে উদ্দেশ্য করে বললো "


_চাচি এখন একটু টানাটানির মধ্যে আছি আমরা। আর ক'টাদিন সময় দিন। দিয়ে দিবো আপনার টাকা। 


_আর কতো দিম শুনি। বারবার আসবো নাকি আমি। 


_এইতো আর এক সপ্তাহ। উনি নিজে গিয়ে আপনার টাকা দিয়ে আসবে । 


"মহিলাট চলে গেলেন। কোকিলা এবার এগিয়ে এলো সায়রার দিকে "


_ওই মুখপুরি। এক সপ্তাহ পরে টাকা পাবো কই। তোর বাপ তো বিছানায় শুইয়া থাকে। টাকা কে দিবো শুনি। 


"সায়রার ইচ্ছে করলো মুখের উপর কিছু বলতে৷ কিন্তু বললে ই সমস্যা সৃষ্টি করবে এই মহিলা৷ সায়রার শাস্তি তার বাবা পাবে। এমনতে ই জব্বার সাহেবের জীবন কাটে অবহেলায়। কোন কপালের দোষে যে জব্বার সাহেব এই মহিলাকে বিয়ে করেছিলো কে যানে। নিজের জীবন ও শেষ করেছে সাথে সায়রার ও "


_টিউশনির বেতন পেলে আমিই দিয়ে দিবো। আর আমাকে মুখপুরি বলবেন না। নিজের কাজ করুন গিয়ে। 


"সায়রা চলে গেলো নিজের ঘরে। পেটে ইদুর দৌড়াদৌড়ি করছে। নিশ্চয়ই এখনো সকালের নাস্তা তার জন্য রেখে দেওয়া হয়নি। ঘরে গিয়ে জামা কাপর পাল্টে সায়রা চুলে খোপা করতে করতে বের হয়ে রান্না ঘরো গেলো। কোকিলা বেগম ডাল রান্না করছেন। সায়রার খিদে পেয়েছে খুব। ভাতের হারি থেকে নিজেই ভাত তুলতে তুলতে বললো "


_আব্বুকে সকালের ঔষধ দিয়েছেন ? 


_হু। 


"সায়রা আর কিছু বললো না। ভাত প্লেটে নিয়ে তরকারির বাটির ঢাকনা খুলতেই দেখলো চার টুকরো মাছ রান্না হয়েছে। ডাল এখনো চুলায়। সায়রা বুঝলো ইচ্ছে করেই কোকিলা বেগম এমন করছে। সায়রা ভাতের প্লেট রেখে বললো"


_ডাল হয়ে গেলে ডাকবেন। আমি ঘর গোছাচ্ছি। 


"খিদে পেট নিয়ে ই সায়রা ঘর গোছালো। ছোট বোন দিশা আর ছোট ভাই দিশান। এরা কোকিলার সন্তান। দিশাকে কোকিলা ঘরের কোনো কাজ করতে দেয় না। যতো দেরি ই হোক বাড়ির রান্নার কাজটা ছাড়া সব কাজই সায়রা করে। আগে কষ্ট হতো তবে এখন আর হয় না। এসব এখন সয়ে গেছে। সব গুছিয়ে সায়রা রান্না ঘর থেকে খাবার নিয়ে আগে জব্বার সাহেবকে খাইয়ে দিলেন। তিনি নিজের হাতে এখন আর খেতে পারেন না। এরপর সায়রা গেলো গোসলে। তাকে আবার টিউশনিতে যেতে হবে বিকেলে। যাওয়ার আগেই কোকিলার রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলো দিশা কলেজ থেকে ফিরেই খেতে বসেছে। সায়রা আর দাড়ালো না। পরের থেকে আর কিসের আসা করবে সে। তার কপাল তো পুড়েছে বহু আগে "


"নাফিস গাড়ি চালাচ্ছে। পাশেই তূর্য বসে ল্যাবটপে কাজ করছে। কাজের বেলায় এক বিন্দু ছাড় নেই তার। 

নাফিস একটু পরপর তূর্যর দিকে তাকাচ্ছে। ঘোমরামুখো একটা লোক। এই জীবনে এই লোককে হাসতে দেখেনি নাফিস৷ এর সাথে থাকতে থাকতে নাফিস নিজে ও এমন হয়ে যাচ্ছে। 

নাফিস অনেকটা সময় চুপ ছিলো এবার বললো "


_আজকের মিটিং এ নাকি রুহানি ম্যাডামকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো স্যার ? 


_কে বললো এই কথা ? 


_রুহানি ম্যাম নিজেই বললেন।


_তুমি আজকাল রুহানির কথা কানে নিচ্ছো নাফিস। তোমার অধপতন দেখে খারাপ লাগলো। 


 _ওই সায়রা মেয়েটাকে নিয়ে গেলাম না তখন ই তো বললো। আপনার সাথে যাওয়ার কথা। 


_সায়রা। সায়রা কে? 


_ওই যে ওই মেয়েটা। ওর নাম ই তো সায়রা বললো। 


_ওহ, ওই ননসেন্স মেয়েটা। রুহানিকে বলেছিলে সব। ওকে যেনো ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখে। 


"নাফিস এবার হাসলো "


_ঘন্টার পর ঘন্টা। রুহানি ম্যাম তো তখনই ওই মেয়েকে ছেড়ে দিয়েছে। আসার সময় তো গেটের সামনে ই দেখলাম। 


_এই রুহানিকে আমি আগে অফিস থেকে বের করবো। শুধু রিলেটিভ বলে চুপ থাকছি। চিপকালি একটা মেয়ে। ( বিরক্ত হয়ে বললো তূর্য) 


"গন্তব্যে পৌঁছে তূর্য আর নাফিস গেলো মিটিং এ। নতুন কিছু আইডিয়া দরকার। সেসব নিয়ে ই কাজ করতে হবে। সেখানে বসেই দুপুরের খাবার খেয়ে নিলো ওরা। 

বেশ লম্বা একটা সময় মিটিং করে শেষে বিকেল চারটার সময় বের হলো তূর্যরা। হাতের ফাইলগুলো নাফিসের দিকে এগিয়ে দিয়ে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসলো। নাফিস পাশে বসলো। গরম বাইরে খুব"


_বাসায় যাবেন তো এখন? 


_হুম। 


_দাদি আজকে মানে৷ আপনার সাথে দেখা করে যাওয়ার সময় পায়ে একটু ব্যাথা পেয়েছে। 


"তূর্য তরিৎ গতিতে তাকালো। যেনো কি অন্যায় হয়ে গেছে "


_আর ইউ ম্যাড নাফিস। এই কথা তুমি এখন আমাকে বলছো। সারাদিন চলে গেছে। 


_স্যার, দাদি ই আমাকে বলতে নিষেধ করেছিলো। 


_বাহ, তুমি দেখছি এখন সবার কথা শুনছো। শুধু আমার কথা বাদে। 


_সরি স্যার। আমি কি করবো বলুন। 


_কি করবে। আমার মাথায় একটা বারি দাও। মরে যাই আমি। 


"নাফিস চুপ করে বসে রইলো। তূর্য গাড়ি চালাচ্ছে নাকি উড়ে উড়ে যাচ্ছে বোঝা মুশকিল। এই জীবনে তার একটা ই দূর্বলতা আর সেটা সামর্থ্য বেগম৷ তূর্যর দাদি। দাদি ছাড়া তার আর কেউ নেই। আধা ঘন্টার রাস্তা মনে হয় দশ মিনিটে পৌছালো তূর্য। বাসার সামনে এসে গাড়ি থামিয়ে ই দৌড়ে গেলো সে বাড়ির ভেতরে। সামর্থ্য বেগমের ঘরে গেলেন। সামর্থ্য বেগম তখন মাথা মালিশ করাচ্ছিলেন। তূর্য পাশে এসে দাড়ালো "


_তুমি ঠিক আছে বুড়ি। পা দেখি তোমার। 


"কথাটা বলে তূর্য দাদির পায়ের কাছে বসলো। পা এখন ঠিক আছে। তবুও সে ভালো করে দেখলো। এরপর উঠে দাড়ালো "


_দেখা হয়েছে তোর। ঠিক আছে আমি। তবে বেশিদিন আর থাকতে পারবো না বলে দিলাম। খেয়াল রাখার কোনো মানুষ নেই আমার। 


_ওষুধ খেয়েছিলে। হাসিনা খালা একটু ভালো করে খেয়াল রাখুন দাদির দিকে। 


_আমি তো খেয়াল রাখি তূর্য বাবা। আমার মনে হয় তোমার দাদি অন্য কারো কথা বলতে চায়ছে। 


"তূর্য ভ্রু কুচকে চায়লো "


_কি লাগবে তোমার বুড়ি। বলো আমায়। কি চাই? 


_যা বলবো তাই এনে দিবি৷? 


_দেবো।


_নাতবউ চাই আমার। একা আর ভালোলাগে না। নাতির বউ দেখবো নাতির ঘরে পুতি,,,,। 


_হাসিনা খালা। দাদিকে ভালো করে মাথা মালিশ করে দিন। এই বুড়ি যা বলবে তাই করুন। দরকার হলে বাড়ির সকল সার্ভেন্ট কে ওনার সেবায় লাগিয়ে দিন। 


_লাগবে না আমার কিছু। নাতবউ ই লাগবে। এই আমি বলে দিলাম। 


"বলে মুখ গুমরা করে বসে রইলেন সামর্থ্য বেগম। তূর্য 

শার্ট এর উপর থেকে ব্লেজারটা খুলে হাতে নিলো। সারাদিন দৌড়াদৌড়ি করে এসেছে। বিয়ের কথা শুনে মেজাজ খারাপ করতে চায় না। তাই চলে যেতে নিলেও 

সামর্থ্য বেগম একই কথা বলেন। তূর্য তা কানে ও তুলে না। সামর্থ্য বেগমের ঘর থেকে বেট হতেই দেখে নাফিস বসার ঘরের সোফায় বসে আছে। তূর্যকে দেখে ওঠে আসে। গাড়ির চাবিটা এগিয়ে দিয়ে বলে "


_নিন স্যার। 


"তূর্য নেয় না চাবিটা। জানে নাফিস নিজের বাইকটা অফিস গ্যারেজে রেখে এসেছে। এখন বাড়ি যেতে হলে রিকশায় যেতে হবে। তূর্য বলে "


_তোমার কাছেই রাখো। কাল এসে আমাকে নিয়ে অফিসে যাবে। 


_ওকে স্যার। এবার তাহলে আমি আসি। 


_হুম। 


"নাফিস চলে যায়। তূর্য নিজের ঘরে যায়। বিশাল এক রুম তার। দু,তলা এই বাড়িতে তারা মানুষ মাএ হাতে গোনা। তূর্য দু তলায় থাকে একা। আর সামর্থ্য বেগম নিচের তলায়। যদিও বাড়িতে অনেক লোক রাখা আছে। একেক কাজের জন্য একেক লোক। সবাই এ বাড়িতেই থাকে। নিচ তলায়। কেউ খুব বেশি একটা উপরে আসে না দরকার ছাড়া।তূর্য নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগ করে। নিজের রুমে এসেই তূর্য আগে হাতে থাকা ব্লেজার একটা ঝুড়িতে রাখে। পরপর গলার টাই আর শার্টটা ও খুলে ঝুড়িতে রাখে। এরপর ওয়াসরুমে চলে যায়। একেবারে সাওয়ার নিয়ে বের হয়। একটা হাফ হাতা টি শার্ট আর ট্রাউজার পড়ে। টাওয়েল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে ব্যালকনিতে গিয়ে দাড়ায়। তূর্যর রুম 

বিশাল বড়। রুমের মধ্যে বেশি আসবাবপত্র নেই। প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া অতিরিক্ত কিছুই নেই। একটা বড় বেড। বেডের সাইডে ই একটা ছোট টেবিল রাখা। যেখানে সে তার খুব দরকারের জিনিসপত্র রাখে। আরেক পাশে একটা মাঝারি আকারের সোফা রাখা তার সামনেই কফি টেবিল। এর ঘরের এক সাইডে বেশ বড় একটা বুকসেলফ। যাতে নানা ধরনের বই রাখা। আর পুরো রুম জুড়ে বিভিন্ন ফটোগ্রাফি। যেগুলো সে নিজে তুলেছে। রুমের ভেতরে বেশ কয়েকটা জানালা আছে। পুরো রুমটার,সব কিছু ই সাদা। তূর্য ব্যালকনিতে দাড়াতে ই দরজায়,আওয়াজ হলো। তীব্র আবার,এলো দরজা খুলতেই দেখলো রহিম মিয়া দাড়িয়ে আছে হাতে কফির মগ। তূর্য সেটা নিলো। মুচকি হেসে রহিম মিয়াকে জিজ্ঞেস করলো "


_সবকিছু ঠিকঠাক তো চাচা ? 


_হ বাবা সব কিছু ঠিকঠাক। তোমার আর কিছু লাগলে ডাক দিও। 


_নাহ, আর কিছু লাগবে না


_আইচ্ছা। 


"রহিম মিয়া চলে যাচ্ছিলেম। তূর্য পুনরায় ডাকলো "


_চাচা। 


_কও বাজান। 


_চাচীর শরীর এখন কেমন?ডাক্তার আর কিছু বলেছে ? 


_এহন আগের থিকা ভালো। ওষুধ খাইতাছে। 


_আচ্ছা। কোনো কিছু লাগলে নাফিসকে বলবেন।ও সব করে দেবে। 


_আইচ্ছা বাজান।


"রহিম মিয়া চলে গেলেন। তূর্য দরজা বন্ধ করে দিয়ে বুকসেলফ থেকে একটা বই নিয়ে সোজা ব্যালকনিতে গেলো। সেখানে একটা গোল টেবিল সাথে দুটো চেয়ার রাখা বেতের তৈরি। টেবিলে কফিটা রেখে আরাম করে আসলো। এবার তার একান্ত সময় কাটানোর পালা । নিজের মন মতো একটা বই হাতে তার। The power of now। এটি এমন একটি বই যা দুঃখ, উদ্বেগ, অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে অযথা চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। যা তূর্যর ভীষণ দরকার। বইটা পরতে পরতে তূর্য চোখ বন্ধ করলো এমন মুহুর্তে ওর চোখের সামনে ভেসে উঠলো কিছু আসহনিয় দৃশ্য। যা ভুলতে তূর্যর বছরের পর লেগে গেছে৷ কিন্তু আজো তা মনে পরে। যার জন্য আজ এই পৃথিবীতে সে একা। কেউ নেই তার। তূর্য সঙ্গে সঙ্গে চোখ খুলে ফেললো। শরীর ঘেমে উঠেছে। নাহ,এসব সে ভাবতে চায় না৷ এই ট্রমা সে নিতে পারে না৷ বইটা রেখে দিয়ে উঠে গেলো বিছানার দিকে। ঘুম দরকার। ভীষণ ঘুম দরকার তার"


চলবে,,


এই ওয়েবসাইটেই দেওয়া হবে কাল। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url