#আঁধারি_অমানিশা

#পর্ব ১০ তথা শেষ

#নুসরাত_জাহান_মিষ্টি


বেশ কিছুদিন ধরে আদালতে হাজিরা দিতে দিতে শেষ হয়ে গেলো রুমঝুম। তবে হতাশ হতে হয়নি তাকে। জামাল সাহেবের সাক্ষী, মুন, মেঘের সহায়তা সবকিছু মিলিয়ে কেসটা তাদের পক্ষে রায় দিলো। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, দোষীদের যাবজ্জীবনের শাস্তি দেওয়া হলো। সেই সাথে অর্থদণ্ড করা হলো। রুমঝুম শাস্তিটা শুনে খুশি হয়নি, তার ইচ্ছে করছিলো তাদের তৎক্ষনাৎ মে/রে ফেলতে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া তো সম্ভব নয়। তাই শাস্তি মনমতো নাহলেও মেনে নিতে হয়েছে। অন্তত তার দেখাদেখি অন্য মেয়েরা তাদের সাথে এরূপ অন্যায় হলে এগিয়ে আসবে, দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করবে। এই আশায় রুমঝুম এতটা পথ এসেছে। রুমঝুম জানে না, তার এই কাজে সত্যি অপরাধ কমবে কিনা। এভাবে অপরাধ কমানো সম্ভব? তা জানা নেই।


এতদিন যে প্রতিবেশীরা রুমঝুমকে কথা শুনিয়েছিলো তারাই আজ বাহবা দিচ্ছে। তার সাহসীকতার জন্য দোষীরা শাস্তি পেয়েছে। পাড়া-প্রতিবেশীদের দু’মুখো আচরণ সহ্য করতে না পেরে রুমঝুম বেশ কথা শুনিয়ে দিলো।

রুমঝুম বললো,“আজ আপনারা বাহবা দিচ্ছেন, সেদিন তো বলছিলেন শুধু শুধু পুলিশি ঝামেলায় যাচ্ছি। এতে বদনামি আমার হবে। তো আজ বাহবা দিচ্ছেন কিসের আশায়? খাতির জমাতে এসেছেন। আজ খাতির জমাবেন কাল আবার যখন আমার বিয়ের সম্মন্ধো আসবে তখন মুনের মতো ঠিক ভাঙচিটা আগে দিয়ে আসবেন। আপনাদের আমি চিনি না বুঝেছেন, আমি ভালোর সাথে ভালো, খারাপের জম। তাই আমার সাথে মিথ্যা ভাব জমাতে আসবেন না।

আমি আপনাদের সহ্য করতে পারি না। তাই আপনারা আমার বাড়িতে না আসলে খুশি হবো। 

আপনারা আমার বাড়িতে সেদিন আসবেন যেদিন আপনাদের মনে হবে আপনাদেরও সন্তান আছে, অন্যের সন্তানকে আজ কটাক্ষ করলে কাল সেটা আপনার সন্তানকে কেউ করবে। আজ আপনি কারো সন্তানের বিয়েতে বাঁধা দিলে, কাল অন্যকেউ আপনার সন্তানের বিয়েতে ভাঙচি দিবে। এসব বুঝেশুনে যেদিন নিজেদের মানসিকতা বদলাতে পারবেন সেদিন আসবেন। তার আগে ভুলেও আসবেন না।”


সবাই অপমানিত হয়ে চলে গেলো। রুমঝুম জানে এদের যতই বলা হোক তাও বদলাবে না। সমাজ বদলানো এত সহজ নয়।

*

নীলাশা চুপিচুপি রুমঝুমদের ঘরে উঁকি দিচ্ছিলো, রুমঝুম দেখতে পেয়ে ভিতরে ডাকলো। রুমঝুম বললো,“বাহিরে বসে উঁকি না দিয়ে ভিতরে আয়।”


নীলাশা ভয়ে ভয়ে ভিতরে ঢুকলো। রুমঝুম নীলাশাকে ঝড়সর হয়ে থাকতে দেখে বললো,“ভয় পাচ্ছিস কেন? আর এতদিন আমার সাথে দেখা করিসনি কেন? সবসময় লুকিয়ে দেখে চলে গিয়েছিস কেন? কি সমস্যা তোর?”


নীলাশা চুপ করে রইলো। রুমঝুম বললো,“কি হলো পিচ্চি চুপ কেন?”


নীলাশা রুমঝুমকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো। নীলাশা কাঁদতে কাঁদতে বললো,“আমাকে ক্ষমা করে দাও রুমঝুম আপু। আমার জন্যই তোমার এতবড় ক্ষতি হলো।”


“এসব ভেবে তুই এতদিন দূর থেকে আমাকে দেখতি?”


“হ্যাঁ। আমি যদি সেদিন মায়ের সাথে রাগ করে বাসা থেকে বের না হতাম। তাহলে কিছু হতো না।”


“নিয়তির লেখা বদলানো যায় না। কথাটা শুনিসনি তুই? ভাগ্যে যা ছিলো তাই হয়েছে। এসব কথা বাদ দে। তোর জন্য কিছু হয়নি। তাছাড়া আমার একলা জীবনে তুই আমার প্রথম সঙ্গী ছিলি, যার সাথে আমি অনেকটা সময় কাটিয়েছি। তুই পিচ্চি হয়েও আমার কথা বুঝতি, শুনতি। তাই আমি জানি তুই জেনেশুনে কখনো আমার কোন ক্ষতি করবি না। সেজন্য এসব কথা বাদ দে। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে।”


নীলাশা মাথা নাড়ালো। রুমঝুম নীলাশাকে নিয়ে ভিতরের ঘরে চলে গেলো।

___

মেঘ মুনকে জরুরি ভাবে ডেকে পাঠালো। মুন আসার পর মেঘ বললো,“সেদিন আমাকে ওভাবে দূরে ঠেলে দিয়েছিলি কেন?”


মুন চমকায়। আস্তে করে বলে,“হঠাৎ এ কথা কেন?”


“কারণ সত্যিটা আমি জেনে গিয়েছি। আমাকে কষ্ট দিয়ে তুই কার মন রাখলি? আমার মায়ের নাকি নিজের মায়ের?”


মুন চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো। মেঘ পুনরায় বললো,“কি হলো কথা বলছিস না কেন?”


মুন বললো,“এসব কথা বাদ দাও। মামীর পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করে নাও।”


“তাই? এভাবে সুখী থাকা যায়? একজনকে মনে রেখে অন্যজনকে নিয়ে সারাজীবন কাটানো যায়?”


“যায়। সময়ের সাথে ভালোবাসা হয়ে যাবে।”


“হ্যাঁ যায়। তবে সময়ের সাথে ভালোবাসা হয় না। বরং সারাজীবন ভালোবাসার অভিনয় করে, সংসারের দ্বায়-বদ্ধতায় কাটাতে হয়।”


“আমি এসব শুনতে চাই না। তোমার অন্যকোন কথা থাকলে বলো?”


“অন্য কথা নেই। আমি তোকে আজ একটা প্রস্তাব দিতে এসেছি।”


“প্রস্তাব? কিসের প্রস্তাব?”


“আমাকে বিয়ে করবি? আমি তোকে বিয়ে করতে চাই, তুই কি রাজি?”


“এটা সম্ভব নয়। তোমার মা কখনো মানবে না। তাছাড়া কোন বাবা-মায়ই ছেলের পাশে ধ*র্ষি*তা মেয়েকে চায় না।”


“মানে কি? তুই কি নিজ থেকে কলঙ্কিত হয়েছিস? না তো। তোর সাথে অন্যায় হয়েছে, আর অন্যায়কারী পার পেয়ে গেছে সেটাও তোদের বোকামির জন্য। এখানে তোর কি দোষ? তোর সাথে অন্যায় হয়েছে বলে কি তুই কখনো সুখী হতে পারবি না। তোর সুখী হওয়ার অধিকার নেই?”


মুন বললো,“এসব বাদ দাও। যে সম্পর্ক মামী মানবে না আমি সে সম্পর্কে যেতে চাই না।”


“ভালোবাসা তোর কাছে এত ঠুনকো?”


“মানে?”


“যাকে তুই ভালোবাসিস, সেও তোকে ভালোবাসে। অথচ তুই তাকে বিয়ে করবিনা, কারণ তার মা চায় না বলে। বাহ কি যুক্তি?”


“বিয়ের সম্পর্ক শুধু দু’জন মানুষের মধ্যে হয় না৷ দুটো পরিবার এক হয় এর মাধ্যমে। আমাদের সম্পর্ক পরিবারকে এক করবে না বরং ভাঙবে।”


“আমি কিছু জানি না। তুই কাল সকালের মধ্যে আমাকে জানাবি, আমাকে বিয়ে করবি নাকি করবি না।

উত্তরটা হ্যাঁ হলে ঠিক আছে। আর না হলে....।”


“না হলে কি?”


“আমার মৃ/ত্যুর জন্য তুই দ্বায়ী থাকবি।”


মুন কে কিছু না বলার সুযোগ দিয়ে মেঘ চলে গেলো। মুন সেখানে দাঁড়িয়ে রইলো।

___

মুন ছাদে বসে ছিলো। এমন সময় রুমঝুম সেখানে এলো। মুন রুমঝুমকে দেখে জিজ্ঞেস করলো,“কেমন আছো?”


রুমঝুম বললো,“ভালো। তুমি?”


“ভালো। আচ্ছা তোমাকে কিছু প্রশ্ন করবো?”


“হ্যাঁ বলো?”


“আচ্ছা ধরো তুমি একজনকে ভালোবাসো, সেও তোমাকে ভালোবাসে। কিন্তু তার পরিবার তোমাকে চায় না। তখন তোমার করনীয় কি? তার জীবন থেকে চলে আসা নয় কি?”


রুমঝুম কিছু সময় চুপ রইলো। তারপর বললো,“স্বার্থপরতা নিজেরই একটা সত্তা। সবসময় যেমন স্বার্থপর হলে চলে না তেমন সবসময় স্বার্থত্যাগ করাও ঠিক নয়। 

যেখানে আমি তাকে ভালোবাসি, সে আমাকে ভালোবাসে সেখানে আজ নয়তো কাল পরিবার মেনে নিবেই। পরিবার আজ মানছে না বলে আজ তাকে ছেড়ে দিবো তেমন কথায় আমি বিশ্বাসী না।

আমি যখন তার সাথে ভালো আছি, সে যখন আমার সাথে ভালো আছে। তখন তাকে আকড়ে ধরতে হবে খুব গভীরভাবে। আমাদের ভালোবাসা সত্যি হলে, তার মাঝে কোন খুঁত না থাকলে অবশ্যই পরিবার একদিন মেনে নিবে।

আমি এটাই বিশ্বাস করি। তবে প্রত্যেক মানুষের একটা নিজস্ব ভাবনা আছে, সবাই নিজ নিজ স্থানে থেকে ভাবতে ভালোবাসে। এক্ষেত্রে কিছু বলার নেই আমার।”


মুন বললো,“তুমি জানো তুমি শুধু সাহসী নও, তোমার চিন্তা-ধারাও খুব সুন্দর।”


“এর কারণটা কি জানো?”


“কি?”


“তোমরা প্রথমে ভাবো সমাজ কি বলবে, আমি এই কাজটা করবো? এটা করলে কেমন হবে? কে কি ভাববে? কি হবে? ঠিক এসব ভাবনার জন্য তোমরা পিছিয়ে যাও। কিন্তু আমি এসব ভাবি না৷ কারণ আমি বিশ্বাস করি আমার জন্য আমি আছি। আমার জন্য আমাকেই ভাবতে হবে। যাদের জন্য আমি আমার মনের ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ করবো না। তারা কেউ আমার জন্য লড়াই করবে না। আমাকে আমার জন্য লড়াই করতে হবে।”


মুন চুপ করে রইলো। সে খুব মনোযোগ দিয়ে রুমঝুমের কথা শুনলো। রুমঝুম পুনরায় বললো,“বিয়ে করো নাও মেঘরাজকে।”


মুন চমকালো। রুমঝুম হেসে বললো,“আমি তোমাদের সম্পর্কে জানি। স্যরি কিছুক্ষণ আগে তোমরা যে কথা বলেছো তাও শুনেছি। 

দেখো আমি জানি তুমি আমার মতো নও। আমার মতো হলে তোমার অপরাধী এখনো বেঁচে থাকতে পারতো না। তবে আমি বলবো, আমার মতো না হও, নিজেদের কথা ভেবে সম্পর্কটা মেনে নাও। আর রইলো তোমার কলঙ্কের কথা, তোমাকে যে ভালোবাসে সে তোমার কলঙ্ককে ভালো না বাসতে পারলে সেটাকে ভালোবাসা বলে নাকি? আর মেঘরাজ যেহেতু তোমার কলঙ্কসহ তোমাকে ভালোবাসতে চায় সেহেতু তোমার দ্বিমত পোষণ করার কোন কারণ দেখছি না।”


রুমঝুম চলে গেলো। মুন বসে রইলো।

___

মেঘরাজ তার মায়ের সাথে ঝগড়া করে বাসা থেকে বের হয়ে এসেছে। মেঘের মায়ের এক কথা, “সে কিছুতেই নিজের ছেলের পাশে একজন কলঙ্কিত মেয়েকে মেনে নিবে না।”


মেঘও বলে দিয়েছে সে মুনকে বিয়ে করবে। মুনকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবে না।


মেঘ মুনের বাড়ির সামনে এসে মুনকে ফোন দিয়ে নিচে আসতে বলে। মুন নিচে আসে।


“কি হয়েছে এই রাতের বেলা ডাকলে কেন?”


“চল।”


“মানে? কোথায় যাবো?”


“আমরা বিয়ে করবো। আজ এবং এক্ষুনি। ভাবার জন্য দুই মিনিট দিলাম। ভেবে নে, আমার সাথে যাবি নাকি যাবি না?”


মুন বললো,“আমি রাজি।”


মেঘ মুচকি হাসলো। মেঘ মুনকে নিয়ে সে রাতেই বের হয়ে গেলো।

*

মুন এবং মেঘ বিয়ে করে নিলো। মেঘ বিয়ে করে তার বাবা-মাকে জানিয়ে দিলো। তার বাবা তাদের বাড়ি আসতে বললেও মা বলেনি। মা তাকে জীবনে তার মুখ দেখাতে বারণ করে দিয়েছে। 


মেঘ বলে দিয়েছে,“যেদিন মায়ের অনুমতি পাবো সেদিন বাসায় যাবো।”


অন্যদিকে মুনের বাবা-মা তেমন প্রতিক্রিয়া দেখালো না।  


মেঘরাজ এবং মুন আলাদা বাসায় তাদের সংসার শুরু করে দিয়েছে। তাদের বিশ্বাস একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে, পরিবার মেনে নিবে।

----

রুমঝুম এবং নীলাশা আজও রাতে বাহিরে বের হলো। নীলাশা বারণ করতে গিয়ে থেমে গেলো। তার বিশ্বাস আছে রুমঝুম তার সাথে কিছু খারাপ ঘটতে দিবে না।


রুমঝুম এবং নীলাশা কিছুটা পথ যাওয়ার পর কেমন শব্দ পেলো। নীলাশা বললো,“ওদিক দিয়ে এমন শব্দ আসছে কেন?”


“জানি না রে পিচ্ছি, চল গিয়ে দেখি।”


রুমঝুম এবং নীলাশা এগিয়ে গেলো। সামনে গিয়ে যা দেখলো তা দেখে অবাক হয়ে গেলো।


সামনে একটা মেয়ের সাথে একটা ছেলে জোর/জবরদস্তি করছে। রুমঝুমের মাথায় আ/গু/ন ধরে গেলো। রুমঝুমের ব্যাগের ভিতর ছু/রি ছিলো, সেটা সে রাতে বের হওয়ার সময় নিয়ে বের হয়েছিলো। সেটা বের করে ছেলেটার গ/লায় লাগিয়ে দিলো।


মূহুর্তেই ছেলেটার গ/লা দিয়ে র/ক্ত বের হয়ে গেলো। প্রচুর র/ক্ত। রুমঝুম ছু/রি দিয়ে পুনরায় কয়েকবার আঘাত করলো। তাও রুমঝুমের শান্তি হচ্ছিলো। ইচ্ছে করছিলো আরো বড় কিছু ঘটাতে। যা সম্ভব হয়নি।


ছেলেটা ছটফট করতে করতে সেখানে মা/রা গেলো। মেয়েটা ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। রুমঝুম তার দিকে ফিরে বললো,“এখানে কিছু ঘটেনি, এই ছেলেটাকেও তুমি চিনো না। ঠিক আছে?”


মেয়েটা মাথা নাড়ায়। নীলাশা পাশে ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। রুমঝুম তার দিকে ফিরে তাকায়।


“কি হলো পিচ্চি ভয় পাচ্ছিস বেশি?”


নীলাশা কিছু সময় নিয়ে বলে,“না ভয় পাইনি। প্রথমে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম তবে এখন না। ওর সাথে এটাই হওয়ার ছিলো।”


রুমঝুম মুচকি হেসে নীলাশাকে জড়িয়ে ধরে। আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে,“দেখ আজও আকাশে চাঁদের দেখা নেই। আজও অমাবস্যা চলছে। আর তাই আমি তোকে নিয়ে আজ বের হয়েছি।

এই রাতটা যে বড় খারাপ। এই রাতটা অনেকের জীবনকে কলঙ্কিত করে দেয়। আমি চাই না এই রাতটা কারো জীবনে কলঙ্কময় হোক। তাই তো বের হয়েছি আজ। 

সাথে তোকে এনেছি কেন জানিস?”


“কেন?”


“যাতে পিচ্চি থেকে একটু বড় হতে পারিস। তাছাড়া তুই আমার একাকিত্বের বন্ধু, তোকে আমি আমার এই বীরত্বের সাক্ষী রাখতে চাই।”


নীলাশা কিছু বললো না। রুমঝুম মেয়েটাকে তার বাড়ি অব্দি এগিয়ে দিলো।

____

পরেরদিন,

আজকের পত্রিকার বেশ তাজা খবর,“এক ছেলে নৃশংসভাবে খু/ন হয়েছে। তার মৃ/ত/দে/হের পাশে র/ক্ত দিয়ে লেখা ছিলো, ধ*র্ষ*নের শাস্তি।”


সবাই খবরটা শুনে বেশ অবাক হলো। কেউ কেউ বাহবা দিচ্ছে, কেউ কেউ সমালোচনা করছে।

***

মুনও খবরটা শুনলো। মুনের খবরটা দেখে বেশ আফসোস হচ্ছে, সে যদি এমন সাহস দেখাতে পারতো। তাহলে হয়তো তাকে কলঙ্কিত হতে হ’তো না।মেঘ মুনকে বিষন্ন অবস্থায় বসে থাকতে দেখে তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। 


মেঘ মুনের সংসার বেশ ভালোই কাটছে। তবে মাঝে মাঝে মুনের খুব অপরাধবোধ হয়, মনে হয় সে মেঘকে তার মায়ের থেকে আলাদা করেছে। মেঘ এ ব্যপারে তাকে বারবার বুঝিয়েছে তাও বুঝছে না।


মুন এবং মেঘ দু’জনই বিশ্বাস করে একদিন মেঘের মা তাদের মেনে নিবে। দু’জনে সেদিনের অপেক্ষায়।

***

নীলাশা পত্রিকায় খবরটা দেখে রুমঝুমকে দেখালো। রুমঝুম রহস্যময় হাসি দিয়ে বললো,“ নারীদের জীবনে #আঁধারি_অমানিশা আর আসবে না।”


নীলাশাও রহস্যময় হাসি দিলো।


 (সমাপ্ত)

(জানি না আপনাদের কেমন লেগেছে। শেষ অংশটা কাল্পনিক, তার সাথে বাস্তবের কোন মিল কেউ খুঁজবেন না দয়া করে। আমি ছোট মানুষ, যতটা পেরেছি ততটা সাজিয়েছি। ভুলক্রুটি ক্ষমা করবেন। ভালো লাগলে আলোচনা, সমালোচনা দুই কইরেন।)

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url