#প্রথম_দেখায়_প্রেমে
#লেখিকা_ফাতেমা_নূর
#পর্ব_৫+৬+৭
''আদিত্যর'' মুখে চকলেট লাগিয়ে বাচ্চাদের মতো খিলখিল করে হেসে উঠে ''মায়া''!! মায়ার এমন কাজে আদিত্য অবাক না হয়ে পারলো না,,, কেমন দুষ্টু হলে একটা কলেজে পড়ুয়া সতেরো বছরের মেয়ে এমন কাজ করতে পারে। আদিত্যকে কিছু না বলে থ মেরে বসে থাকতে দেখে মায়ার যেন একটু ও ভালো লাগলো না,,, তাই সে নিজে নিজেই বললো!!....
_কেমন লাগলো আমার মুখে চকলেট লাগছে দেখে হাসছিলেন না,,,এখন দেখেন আপনাকে ও লাগিয়ে ,,দিয়েছি
__''মায়ার" কথা শুনে আদিত্য কিছু না বলে উঠেই যাচ্ছিলো তখন মায়া আবার ও বাধা দেয়__ আরে দাড়ান দাড়ান একটা পিক তুলে রাখি ভবিষ্যৎ এ আপনার বাচ্চাদের কে দেখাবো,, বলবো দেখ তুদের গুনধর বাপ বুইড়া বয়সে চকলেট খেতে গিয়ে মুখের কি অবস্থা করেছে,,এটা বলেই আবার হেসে দিলো,,বালিশের কাছ থেকে নিজের মোবাইল নিয়ে পিক ও তুলে নিলো,, আহ এখন একটু ভালো লাগতেছে....
__কিন্তু সে ভালো লাগা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না,,, মায়ার এসব কান্ড দেখে আদিত্যর মাথায় রাগ উঠে যায়,,আদিত্য মায়ার থেকে মোবাইলটা কেড়ে নেয়,,তারপর মায়ার দিকে একটু একটু করে এগিয়ে আসতে থাকে __আদিত্য কে এভাবে এগিয়ে আসতে দেখে মায়া একটু ভড়কে গেলো,, আদিত্য মায়ার একদম কাছে চলে আসে,, যার কারণে আদিত্যর নিশ্বাস গিয়ে মায়ার মুখে পড়ছে,,আদিত্য এত কাছে আসায় মায়ার নিশ্বাস থমকে গেলো,,হৃদস্পদন বেড়ে গেলো,,, এতক্ষণের দুষ্টুমি গুলো যেন মূহুর্তে ভয়ে রুপ নিলো,, মায়া কে ভয় পেতে দেখে আদিত্যর ভালোই মজা লাগছে,, তাই আরো ভয় দেখানোর জন্য মায়ার মুখের দিকে নিজের মুখ নিয়ে যেতে থাকে এটা দেখে মায়া ভয়ে নিজের চোখ বন্ধ করে নেই,,যাহ এসব কেন করতে গেলাম মনে মনে নিজেকেই নিজে বকতে থাকে__মায়াকে চোখ বন্ধ করতে দেখে আদিত্যর ঠোঁঠের কোণে মুচকি হাসি ফুটে উঠলো....
__কিন্তু আদিত্য মায়াকে কিছুই করলো না , মায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো ,, এত খুশি হইয়ো না আর কয়দিন পরই তো আমারই খাঁচায় বন্ধী হতে হবে তখন তোমাকে এর শাস্তি পেতেই হবে.... এটা বলে মায়ার থেকে দূরে সরে দাড়ালো__
__আদিত্য কিছু করে নাই দেখে যেন নিজের দেহে প্রাণ ফিরে পেলো মায়া,,আর একটু অবাক ও হলো__ আস্তে আস্তে আদিত্যর দিকে চোরা দৃষ্টি নিয়ে তাকাতেই দেখলো আদিত্য অন্যদিকে তাকিয়ে নিজের মুখ টিস্যু দিয়ে মুছতে ব্যস্ত,,
_মায়া যে তার দিকে তাকিয়েছে সেটা আদিত্য ভালোই দেখতে পেয়েছে,, মনে মনে ভাবে,,,এ কেমন মেয়ে ,,,নিজের মুখে চকলেট লাগছে দেখে আমি একটু হাসছিলাম,, তাই বলে আমাকে ও লাগিয়ে দিবে,,ভবিষ্যৎ এ আমাকে এমন একটা আধপাগলের সাথে সংসার করতে হবে,, আমি ও কম না তাকে কিভাবে সোজা করতে হবে সেটাও আমার জানা আছে এটা ভেবেই মুচকি হাসে (আদিত্য)
__মায়া এখনো সেই আগের জায়গায় বসে আছে.... মায়াকে এখনো একই ভাবে বসে থাকতে দেখে আদিত্য মায়ার দিকে এগিয়ে গেলো,,, এই যে মিথ্যাবাদী নাও মুখটা মুছে নাও... কেমন ভূতের মতো লাগতেছে,, কেউ এসে দেখলে নিশ্চিত ভূত ভেবে জ্ঞান হারাবে, নিজেকে ভূত বলায় মায়া একটু ক্ষেপে যায় __কিন্তু কিছুক্ষণ আগের ঘটনার ভয়ে সে কিছুই বললো না,, মনে মনে ঠোঁঠ উল্টিয়ে আদিত্যকে যা তা বলে গালি দিতে থাকে,,, তারপর ও মুখ না মুছে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে__ তাই আদিত্য নিজেই মায়ার পাশে বসে মুখটা টিস্যু দিয়ে মুছতে শুরু করে,,,আদিত্যর এমন কাজে মায়ার ভালো লাগে কিন্তু প্রকাশ করে না,, মুখ মুছা শেষ হঠাৎ আদিত্য মায়াকে কোলে তুলে নেয়....
__ 'আদিত্যর' হঠাৎ এমন কোলে নেওয়াতে মায়া চমকে উঠে,,, নামার জন্য ছটপট করতে থাকে,,
প্লিজ নামিয়ে দেন, আমায় আমি হাটতে পারি আমার পা আছে বাহিরে সবাই দেখবে,, এসব বলে বলে আদিত্যর গলায় চিমটি মারে নিজের বড় বড় রাখা নখ দিয়ে...সেখানটায় মূহুর্তে লাল বর্ণ ধারণ করে সামান্য র*ক্ত বের হয়, __কিন্তু মায়া তো (মায়াই) তার এসবের কেনো খেয়ালই নেই, সে নিজেকে আদিত্যর কোল থেকে ছাড়ানোর জন্য যা না তা করতে থাকে,, শেষ পর্যন্ত আদিত্য মায়াকে কোল থেকে নামিয়ে দেয়,, আদিত্য মায়ার হাত ধরে দুজনে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসে,,,
-----------------------------------------------------------------------
__সকাল ১২টা,, হাসপাতালের বাহিরে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছেন মাহফুজ শিকদার,,___ আজকে মায়াকে বাড়িতে নিয়ে যাবেন,,মায়া এখন অনেক টা সুস্থ পায়ের ব্যাথা ও কমে গিয়েছে,__আদিত্য আর মায়া কে আসতে দেখে মাহফুজ শিকদার গাড়ি থেকে বের হলেন__ মাহফুজ শিকদার মায়াকে গাড়িতে বসতে বলে আদিত্যকে নিয়ে দোকানে গেলেন এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে,, সেখানে চা খেতে বসে তাদের জীবনের গল্প আসর বসিয়ে দিলেন। শেষে তিনি আদিত্যকে বলেছেন মায়াকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে __ আদিত্য ঠিক আছে বলে,, গাড়ির কাছে,, এসে যা দেখলো তাতে চোখ-জোড়া লাল হয়ে উঠলো আদিত্যর.....
যারা যারা পড়বেন অবশ্যই রেসপন্স করবেন, পড়ে চলে যাবেন না, রিয়েক্ট কমেন্ট করে যাবেন
চলবে,?#প্রথম_দেখায়_প্রেমে
#লেখিকা_ফাতেমা_নূর
#পর্ব_৬
কেউ একজন পিছন থেকে মায়াকে জড়িয়ে দরে রেখেছে__মায়া ও তাকে জড়িয়ে দরে তার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে __আর সেটা দেখে চোখ মুখ লাল হয়ে উঠে (আদিত্যর)
__আদিত্য যেন নিজের চোখ'কে বিশ্বাস করতে পারছেনা....
নিজেকে সামলাতে না পেরে মায়া'দের কাছে এগিয়ে যেতে থাকে (আদিত্য) __
মায়া এদিকে ফিরে থাকায় আদিত্যকে দেখে ফেলে...
আদিত্যর মুখের দিকে তাকাতেই এমন হিংস্র লাল হয়ে থাকা চোখ জোড়া দেখে মায়া ভয় পেয়ে যায়...
সাথে সাথে রুহান কে ছেড়ে দাড়ায়,, আর ততক্ষণে আদিত্য তাদের সামনে গিয়ে দাড়ায়__
আদিত্যর এমন হিংস্র রুপ দেখে মায়া কথা বলতেই ভুলে যায় ,, তারপর ও মায়া বললো!আ... আপনি এসেছেন!আব্বু কোথায়...?
আদিত্যর কানে যেন এসব কোনো কথায় যাচ্ছে না, সে তো (রুহানের) দিকে ক্রোধ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে!!
আদিত্যকে এভাবে কিছু না বলে রুহানের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মায়া ও রুহানের দিকে তাকায়!! যে এখন মায়ার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে...
__"এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মায়া আদিত্য কে একটু ধাক্কা দিয়ে বলে উঠে__এই যে শুনছেন, চোখ মুখ এমন প্যাঁচার মতো করে রেখেছেন কেন?একটু স্বাভাবিক হন....
ওর সাথে পরিচয় করিয়ে দিই,, তাহলে __ও হচ্ছে (রুহান) আমার ফ্রেন্ড+কাজিন!! এ কথা শুনে আদিত্য একটু শান্ত হলো,, কিন্তু পুরাপুরি না,, তার মনের ভিতর অনেক কথা এই ছেলে যেই হোক তাকে কেন জড়িয়ে ধরতে হবে...
''আর তা ছাড়া ছেলেটাকে তার একটু্ও স্বাভাবিক লাগছে না,,, কেমন করে মায়ার দিকে তাকিয়ে আছে....
__''আদিত্যর ভাবনার মাঝেই রুহান বললো....
কিরে মায়া ছেলেটা কেরে....??
যে আমার পরিচয় দিতে হলো....??
কখন ও তো দেখিনি...?
__রুহানের কথা শুনে মায়া মুখটাকে লজ্জা পাওয়ার ভান করে তারপর বললো,, আমার হবু জামাই__ তুর দুলাভাই রে,, সালাম দে বাটপার...
__কিহ তু্র হবু জামাই !! আমার দুলাভাই মানে এসবের মানে কি মায়া...
__আঙ্কেল তো আমাকে এসব কিছুই বলেনি? __বলেনি হয়তো সময় পায় নাই,,
আমি এক্সিডেন্ট হলাম হাসপাতালে ব্যস্ত ছিলো তাই হয়তো,,, এখন তো শুনলি,, তারাতারি সালাম দে,, এ কথা শুনে রুহানের চেহেরা হঠাৎ বদলে গেলো....
সে আদিত্যর দিকে একবার তাকিয়ে হনহন করে সেখান থেকে চলে যায়.....
--''রুহান কে চলে যেতে দেখে মায়া হা করে তাকিয়ে আছে,,, এভাবে চলে গেলো কেন?? ভালো কথায় তো বললাম ,,
মনে হয় কোনো কাজে চলে গিয়েছে,, সে আর ভাবলো না এসব নিয়ে....
__''আদিত্য এতক্ষণ দাড়িয়ে দাড়িয়ে এসব দেখছিলো,, সে যা ভাবছে তাই..এই ছেলেকে তার সুবিধার লাগছে না.....
আদিত্য আর কোনো কিছু না বলে মায়াকে বললো,, গাড়িতে উঠো?
_ আব্বু কোথায়? আব্বু যাবে না? না আব্বু যাচ্ছেন না আমাদের সাথে,,,
_গাড়িতে উঠতে বলছি তোমায়?
মায়া গাড়িতে উঠে পিছনের সিটে বসে....
এটা দেখে আদিত্য বললো__ পিছনের সিটে কেন বসছো?
আমি কি তোমার ডাইভার লাগে? সামনে এসে বসো... আদিত্যর কথা শুনে মায়া মুখ বেকায়,,,ওহু আসছে আমার ডাইভার___শুনুন আমাকে বিয়ে করলে আমার সব হতে হবে ডাইভারের কথা বাদই দিলাম!!
__ এত পাকনা পাকনা কথা না বলে সামনে এসে বসো,,,, মায়া সামনে এসে বসেতেই আদিত্য গাড়ি স্টার্ট দেয়.....
---------------------------------------------------------------------
__রুহান ওখান থেকে চলে এসেই দূরের একটা দোকানে বসে বসে এসব দেখছিল...
এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না,, তার এতদিনের সাধনা অন্য কারো হয়ে যাচ্ছে,,
মনে মনে বলে উঠে,, এটা আমি কখনোই হতে দিবো না,, মায়া শুধু আমার, যেভাবে হোক আমার মায়াকে আমার চাইই ..
এটা বলেই পৈশাচিক হাসি দিলো.. (রুহান)
-----------------------------------------------------------------------
__আদিত্যর গাড়ি শিকদার বাড়ির গেট পর্যন্ত গিয়ে থামে,, আদিত্য এখনো মায়াকে নামতে ও বলছে না কোনো কিছুই বলছে না,, মায়া তো আর এতক্ষণ চুপ থাকার মেয়ে না,,, সে বলেই ফেললো....
__কি হলো তখন থেকেই দেখছি মুখ টা কেমন করে রাখছেন,,,কোনো কথা বলছেন না কেন..?
__মায়ার কথা শুনে আদিত্য মায়ার দিকে তাকালো...
তারপর বললো....ওই রুহান ছেলেটার থেকে দূরে থাকবে..?
""মায়া একটু অবাক হলো... হঠাৎ এই কথা! আর আমি রুহানের থেকে দূরে কেন থাকবো ও তো আমার কাজিন...
__মায়ার কথা শুনে আদিত্য চোখ পাকালো ---খুব কথা বলো দেখছি...!
আমি বলছি মানে তুমি আমার কথা শুনতে বাধ্য বুঝলে __আদিত্যর এমন কথা শুনে মায়া বললো ঠিক আছে....
__এবার নামো,,, আদিত্যর থেকে নামার পারমিশন পেয়ে....মায়া ও গাড়ি থেকে নেমে এক দৌড়ে বাড়ির ভিতরে চলে যায়...
__কেমন হলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন! আমার পরিক্ষা চলছে,, তারপর ও আমার কিছু পাঠক/ পাঠিকাদের জন্য লিখলাম...যারা গল্পটা পড়েন একটু রেসপন্স করবেন, পেজ ফলো করে দিবেন?
চলবে,?#প্রথম_দেখায়_প্রেমে
#লেখিকা_ফাতেমা_নূর
#পর্ব_৭
-মায়াকে বাড়ির ভেতরে ডুকে যেতে দেখে,,আদিত্য নিজেও গাড়ি ঘুরিয়ে বাড়ির দিকে চলে যায়,,
_ড্রইংরুমে পা দিতেই মাকে দেখতো পেলো আদিত্য,, পিছন থেকে মাকে হালকা জড়িয়ে ধরে বললো....
আম্মু আমার জন্য এক কাপ কফি পাঠিয়ে দিও উপরে,,
"ছেলের কথা শুনে (রাহেলা বেগম) বললেন...
'সেই রাতেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলি, কিছু বলে ও যাস নি,, তুর বাবা বললো মায়াকে দেখতে গিয়েছিস,,
-কেমন আছে ও এখন ..? ''ভালো আছ মা।
-ঠিক আছে,, যা ফ্রেস হয়ে আয়!
'' মা আমি নিচে আসবো না ,, অনেক ক্লান্ত লাগতেছে, ফ্রেস হয়ে একটু ঘুমাবো তুমি কফি বানিয়ে (আরিশার) দিকে পাঠিয়ে দিও,,এটা বলেই সিড়ি দিয়ে নিজের রুমের দিকে চলে গেল,,,
-রুমে এসে, নিজের রুমের এমন বেহাল অবস্থা দেখে তার আর বুঝতে বাকি রইলো না কে এমন করেছে...
--আদিত্যর রুম অনেক সাজানো গুছানো থাকে,, এই বাড়ির সব রুম থেকে আদিত্যর রুম টাই সবচেয়ে বড় ও সুন্দর,, কিন্তু এখন যেন মনে হচ্ছে এটা কোনো রুম না, খাটের বালিশ একদিকে আর বিছানা আরেকদিকে,,,,
--আদিত্য এসব দেখে মায়ার কথা মনে পড়ে গেলো,, মায়া ও যে তারই বোনের মতো, এটা অস্বীকার করা যাবে না ,,,একমাত্র বোন আরিশা' কে অনেক ভালোবাসে,, তাই হয়তো তার বউ ও তার বোনের মতো,,,
-আদিত্য বিছানা এমন আগোছোলা হয়ে থাকা একদম পছন্দ করে না,,, নিজেই নিজের বিছানা পোশাক-আশাক সব পরিষ্কার রাখে,,
-তাই আর দেরি না করে আলমারি খোলে নতুন একটা বিছানা নিয়ে সুন্দর ভাবে গুছিয়ে পেলে...
-তারপর ওয়াশরুমে চলে যায় ফ্রেস হতে,, ওয়াশরুমের আয়নায় দাড়াতে আদিত্যর চোখ গিয়ে পড়লো গলায়,,,যেখানটা রক্তবর্ণ হয়ে আছে নখের চিমটির কারণে ক্ষতটা দুইদিক থেকে হয়েছে,,, শরীরে পানি দিতেই হালকা জ্বলে উঠে,,,
-ফ্রেস হয়ে এসে খাটে বসবে...
-এমন সময় আরিশা ডুকলো রুমে,, হাতে কফি নিয়ে...
ভাইয়া তোমার কফি নাও...?
আদিত্য কফি নিয়ে আরিশার দিকে তাকালো,, নিষ্পাপ মুখখানা,,যেন এগুলো কিছুই সে করেনি....
--আদিত্য আরিশা কে বললো,,,
আমার রুমের এই অবস্থা করছিস কেন?
--তো করবো না তুমি আমার মোবাইল কেনো নিয়েছো,,,তাই খুজেছি,,
-বোনের কথা শুনে আদিত্য হেসে হেসে বললো,,
তোর মোবাইল কি আমি বালিশের তলে বা বিছনার ভিতরে রাখতে যাবো,, মাথা মোটা...
--আদিত্য নিজের প্যান্টের প্যাকেট থেকে মোবাইল বের করে আরিশা কে দেয়,,
-নিজের মোবাইল দেখে আরিশা ছো মেরে কেড়ে নেয়..আজকে দুইদিন নিজের মোবাইল হাতের কাছে পাচ্ছে না...
--শুন সামনে যে তুর ফাইনাল পরিক্ষা মনে আছে, মোবাইল বেশি দেখবি, পরিক্ষায় পেল করবি, তখন কোনো অটোচালক পেলে বিয়ে দিয়ে দিবো,,, আর যদি সেটা না চাস তাহলে ঠিক মতো পড়ালেখা করবি,,,যা এবার,,,
-ভাইয়া ভাবি মোবাইল আরো বেশি দেখে তাকে গিয়ে শাসন করো, আমাকে না! -এটা বলেই মোবাইল নিয়ে বের হয়ে যায়...
-এটা দেখে আদিত্য মনে মনে বলে পাগলী দুইটাই,,এক বাড়িতে থাকলে তখন বাড়িটাকে মাথায় তুলে পেলবে,,
-----------------------------------------------------------------------
-সন্ধ্যা ৭টা বেজে এসেছে প্রায়,,
মায়া ডয়িংরুমে বসে বসে ফুসকা খাচ্ছে,,,
-আম্মু আমাকে পানি দাও তো..?
মেয়ের ডাক পেয়ে দৌড়ে আসলেন সেলিনা বেগম,, -কতবার বলি এসব খাইস না কিন্তু কে শুনে কার কথা,,,,নে পানি... পানি পেয়ে ডক ডক করে খেয়ে পেললো সব,,,,তারপর বললো....
-আম্মু তুমি যা বলো তাই শুনি কিন্তু ফুসকা খাওয়া ছাড়তে পারবো না,,,এটা বলে নিজের রুমে চলে যায়...
--মোবাইল হাতে নিয়ে ফেসবুকে ডুকে একটা রোমান্টিক গল্প সামনে পরে,, সেটা পড়তে শুরু করে,,,আর সে মূহুর্তে কল এলো ,,,মায়া কল আসাতে বিরক্তই হলো,, কে কল দিয়েছে সেটা না দেখেই কল রিসিভ করে বলা শুরু করলো...
হ্যালো কে? কল দিতে আর সময় পান না,, রোমান্টিক মোডে আছি ভাই, কাল বাদে পরশু আমার এনগেজমেন্ট, কালকে শপিং এ যাবো,, অনেক শপিং করা বাকি,, বিয়ে আমার,, কখন যে জামাইর সাথে হানিমুনে গিয়ে সব জায়গায় ঘুরবো সেসব ভাবছিলাম,, তুই কল দিয়ে মোড খারাপ করে দিছোস,,,,কল রাখ ভাই...
-মায়ার কথা শুনে আদিত্য তো প্রায় বেহুশ,,, কল ধরেই প্রথমত কেউ কাউকে এমন তুই তাই কথা বলে,,,,তা ও নিজের বিয়ের কথা.....
যারা পড়বেন রেসপন্স করে যাবেন রিয়েক্ট/কমেন্ট করবেন,,, আপনারা রেসপন্স করলেই গল্প লেখার ইচ্ছে বেড়ে যায়,,, আর পেজ ফলো করে দিবেন...!
চলবে,?
পরের পর্ব গুলা এখানেই দেওয়া হবে ধন্যবাদ।
