#প্রেম_ছায়া
পর্ব-২+৩
#নুসরাত_পুতুল
ভিতরে ডুকতেই দেখলাম ছোট বোন সেজে গুঁজে বসে আছে,,
মা আমাকে দেখে এক প্রকার চমকে উঠলো, আমার প্রতি রাগ তাদের আকাশ ছোয়া, তবুও জিজ্ঞেস করলো,
" তুই হঠাৎ ? আর তোর ফোন বন্ধ কেন,,,,
মনে পড়লো সপ্তাহ খানেক আগে অরূপ ফোনটা ভেঙে ফেলেছে আমার,, সে কথা না বলে বললাম
" অদিতি হাত থেকে ফেলে ভেঙে ফেলেছে তাই যোগাযোগ করতে পারিনি,,
আর কিছু বললো না মা, বাবা মেহমান দের সাথে অন্য ঘরে আলাপ করছে,
বড়দি ও এসেছে ঘরে এবার,, অদিতিকে কোলে নিতে নিতে বললো,
" হাজার খানেক কল করেছি এ কয়দিনে তোরা কিরে মোবাইল রেখে কি বিন্দাবন চলে গিয়েছিলি নাকি, বার বার বন্ধ বলে,,
নরম সূরে বললাম,
মোবাইলটা ভেঙে গেছে,,, বড়দি আর কথা বাড়ালো না এ বেপারে, পসঙ্গ পাল্টে বললো
" ছুটকিকে দেখতে এসেছে আজ, তাইতো তোকে এতো কল করা, ছেলে আমেরিকা থাকে, আজ দেখে পছন্দ হলে আন্টি পড়িয়ে ফেলবে একদম। বিয়েটা তোর জামাই বাবু এনেছে,,,,
হেমা ছোট করে উত্তর দিলো অহ,,
ছুটকির মুখের দিকে তাকালো একবার, মুখে তার লজ্জা ভাব, মনে মনে হয়তো নতুন জীবন নিয়ে শতো শতো ভাবনা চিন্তা করছে,,,,
হেমা কাপড়টা পাল্টে নে, মেহমান দের সাথে দেখা করে আয়,,
" ভালো লাগছে না বড়দি,, আত্মীয় হলে পরে কতো দেখা হবে, আজ না হয় দেখাটা না করি,,
কিছু হয়তো বুঝলো বড়দি, হাসি মুখটা মিনিয়ে গেল এক মুহুর্তের জন্য। জের করলো না আর হেমাকে,,
মেহমানটা ছুটকিকে আন্টি পড়িয়ে গেছে,,,,,,,
সবাই অনেক খুশি আজ, তাই তাদের খুশিটা নষ্ট করতে হেমা আর নিজের ব্যাপারে কথা তোলেনি,,,
রাতে খাওয়া দাওয়া করে তিন বোন ঘুমাতে গেল,
জামাই বাবু চলে গেছে মেহমানদের সাথে,সে সুবাদে আজ তিন বোনই এক সাথে ঘুমাবে বলে ঠিক করেছে,,,
অদিতি ও তার নানুর সাথে ঘুমিয়ে পড়েছে,,,
হেমা,,,
পিনপিনে নিরবতায় বড়দি হঠাৎ করে রয়েসয়ে হেমা নামটা উচ্চারণ করায় কেঁপে উঠলো হেমা,,
এই বুঝি পুলিশের মতো জেরা করা শুরু করবে, সবটা বলতে হবে এখন বড়দিকে,
" হুম,,,
" কেমন আছিস,,,
চমকালো হেমা, তার ধারনা মতে কেন একা এসেছে, বা মোবাইল কি করে ভেঙেছে, সংসার বিষয়ে প্রশ্ন করার কথা তবে তার চিন্তা কে পিছনে ফলে বড়দি এমন প্রশ্ন করবে তা ভাবতে পারেনি,,
" ভালো আছি,
" মিথ্যে কেন বলছিস,, তুই ভালো নেই তোর মুখ দেখে বুঝা যয়,,,
ঐ দিন বাবা মা চলে আসার পর আবার কিছু হয়েছে নতুন করে?
" বড়দি ঘুম পেয়েছে আমার কাল কথা বলি?
বড়দি বুঝলো বোনের মনের অবস্থা তাই বললো ঘুমা,
তবে সে জানে হেমা ঘুমাবে না। মাথায় বিলি কেটে দিচ্ছে বড়দি, হেমা নিরবে চোখের জল ফেলতে ফেলতে ডুবে গেল পুরোনো অতীতে,,
___________________
মন্দির থেকে বিয়ে করে হেমাকে নিয়ে বাড়ি যায় অরূপ, মা বাবার এক মাত্র ছেলে,। ছেলের পছন্দ কে সম্মান করে তারা। কোনো আপত্তি জানায়নি, আগেই ফোন করে বলে দেওয়া হয় মাকে বিয়ের কথা,,
বরন ডালা সাজায় অমলা দেবি, এক মাত্র ছেলে বলে কথা, কোনো কমতি রাখে না সে।
হেমা শশুর বাড়িতে পা রেখে রীতিমতো চমকে উঠেল, এতো অল্প সময়ে এতো আয়োজন করেছে দেখে খুশিতে চোখে জল এসেযায় সে দিন,,
অমলা দেবি নিজের হাতে বরণ করে হেমাকে নিজের হাতের বালা পড়িয়ে দেয়,,,
বিয়েটা মন্দিরে হলেও পরের নিয়ম গুলোতো কমতি রাখেনা অমলা দেবী, বিয়ের প্রথমদিন কাল রাত বলে জানে তারা। তাই বউমাকে নিজের সাথে নিয়ে ঘুমায়,,
ঘুমায় বললে ভুল হবে, বউ শাশুড়ী যেন কথার জুড়ি খুলে বসে সে দিন রাতে
" কি গো মেয়ে আমাকে কি বলে ডাকবে?
শাশুড়ির কথায় এক রকম ধাক্কা খায়, কি বলবে বুঝে উঠতে পারেনা,
অমলা দেবী হেমাকে হাতে টেনে কাছে নেয়,
" মেয়ে নেই আমার, আর না কোনো ছেলে আছে, একটাই ছেলে৷ বিয়ের পর কতো চেষ্টা করেও এক খানা সন্তান পাইনি। সব শেষে অরূপ এলো,, মনের কথা কবার মতো একটা মানুষ নাই, একা একলা থাকি এতো বড় বাড়িতে, এখনতো রাত তাই বুঝো নাই, কাল দেখবে কতো বড় আমাদের বাড়িটা, একটা মানুষই নাই,,
তোমাকে আমি ছেলের বউ করে রাখতে পারবো না।
আমার মেয়ে হবে তুমি, দুই জন মিলে কাজ করবো আর গল্প করবো।
মা মেয়ে ডিব্বি কাটিয়ে দিব। মা ডাকবে আমায় কোমন?
হেমা দ্বিতীয় বারের মতো অবাক হয় শাশুড়ীর কথা শোনে, একটা মানুষ এতো ভালো হতো পারে,,
তখনি বাহির থেকে দরজায় টোকা পরে,,
অমলা দেবি খাট থেকে নামতে নামতে বলে এতো রাতে আবার কে এলে,,
#প্রেম_ছায়া
পর্ব-৩
#নুসরাত_পুতুল
দরজা খুলতেই শশুর মশাই কে দেখে হাসে বললো শাশুড়ী,, দেখো বুড়োর কান্ড একটা রাতেরই তো বেপার, আমাকে ছাড়া অন্য ঘরে থাকলে কি এমন হতো। বুড়ো হয়েছে এখনো এতো ভালেবাসা কোথায় যে পায় লোকটা,,
" আহ কলমা থামোতো, নতুন বউমার সামনে এ ভাবে লজ্জা কেন দিচ্ছো,,,
শশুর শাশুড়ীর কথা শোনে মুখ টিপে হাসলো হেমা,
নেহার বাবু খাটের কোণে আসতে আসতে বললো, মা মেয়ের সাথে কি বাবাকে ও জায়গা,দেওয়া,যায়? আমি ঘুমালে আপত্তি নেই তো কোনো?
হেমা মাথা ঝাকিয়ে না বুঝালো,,
তিন জন মিলে গল্প করতে করতে রাত পার করে দিল,, হেমা এমন শশুর শাশুড়ী পেয়ে নিজেকে ভাগ্য ভান মনে করলো। মানুষ হাজার চেয়ে এমন মানুষ পায় না আর সে না চাইতে পেয়ে গেল। বুঝতে বাকি রইলো না শশুর শাশুড়ী নেহাৎ ভালোর উপরে ভালো মানুষ।
বিয়ের প্রথম প্রথম ভালোই কাটছিল,,,
মা বাবাকেও কি করে যেন পটিয়ে নিলো শাশুড়ী, তারা হেমার বিয়ে মেনে নিয়ে হেমাকে বাড়িতে নিতে আসলো,
সব ঠিকই চলছিল,, বিয়ের তিম মাস হতে না হতে হেমা প্রেগনেন্ট, খবর পেয়ে শাশুড়ির আদর সোহাগ যেন আরও বেড়ে গেলো, সকলে খুব খুশি,
পাঁচ মাস পর্যন্ত সব ভালোই ছিল, আস্তে আস্তে হেমার শরীর খারাপ হতে থাকে,আর অরূপের দিক থেকে বাড়তে থাকে অযত্ন অবহেলা।
প্রথম প্রথম কষ্ট হতো হেমার,,, অমলা দেবী সহ সকলে বুঝাতো সন্তান জন্ম হলে সব ঠিক হয়ে যাবে,, হেমাও মানিয়ে নিতে থাকলো,
যে দিন হেমার মেয়ে হলো সকলে খুশি হয়েছে, তাদের বাড়িতে এই প্রথম মেয়ে সন্তান,, নেহার বাবু আর অমলা দেবী সারা মহল্লার লোকদের মিষ্টি বিলি করেছে ঐ দিন,, তবে অরূপের মুখে বাবা হওয়ার তেমন কোনো তৃপ্তি লক্ষ করতে পেলো না হেমা,,
এতো দিনে অরূপের সাথে দূরত্ব টা ও বেড়ে গেছে বেশ,,
অদিতি হওয়ার পর মাস খানেকের জন্য এ বাড়িতেথাকতে এসেছিল ছুটকি,,
কোনো এক কারনে এক সপ্তাহ পর ছুটকি চলে যায়,, হেমা কারন জিগ্যেস করলেও জানতে পারে না,
শুধু বলে
" মেজদি জামাই বাবুকে আমার সুবিধার লাগে না রে,চোখে চোখে রাখিস একটু,
হেমা বোনকে কড়া কথা শোনাতে চেয়েও পারেনি ঐ দিন,,চুপ ছিল শুধু
অরূপ যে অদিতির বাবা তা শুধু নামেই, ভালো করে মেয়েকে একদন্ড কোলে নেয়নি কখনো।
অদিতির যখন ৯ মাস বয়স তখন চাকরির বাহানা দিয়ে অরূপ ঢাকা চলে যায়,,
অথচ তার বাবার বিশাল বড় দোকান, সে খানে ৪*৫ জন ছেলে কাজ করে। অমলা দেবী বার বার বলেছিল
" তোর বাবার বয়স হয়েছে দোকানে বসতে পারে না ঠিক মতো, মেনেজারের কাছে সব দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে, যদিও ছপলেটা ভালো, হিসাবে গন্ডগোল করবে না, তবুও নিজেদের জিনিস নিজেরা বুঝে নেওয়া ভালো না?
অরূপ বাবা মাট কোনো কথাই শোনেনি, চলে যায় ঢাকা, বছরে ২*১ বার বাড়ি যেত। থাকতো ১০*১২ দিন,,,
ঠিক মতো যোগাযোগ করেনি হেমার সাথে,, প্রথম প্রথম হেমা কল করত অনেক, শেষে যখন দেখলো অরূপ বিরক্ত হয় ঠিক মতো কথা বলেনা তংন নিয়তির উপর সবটা ছেড়ে দিলো হেমা। এ ভাবে দেড় বছর কেটে যায়,,,
সংসার ছেড়ে কবেই চলে যেত হেমা, তবে পারে না কোনো এক অদৃশ্য মায়ার টানে এখানেই পড়ে থাকে,, খাওয়া পড়া আর শশুর শাশুড়ীর ভালোবাসার কোনো কমতি নেই তার। কমতি শুধু যার পরিচয়ে এ বাড়িতে থাকছে তার,,
শেষে ৩ মাস হেমার সাথে এক বারের জন্য ও যোগাযোগ করেণি, যা ২*১ বার কল করেছে অমলা দেবীর কাছে। হেমার কাছে ফোন দিতে চাইলে কল কেটে দিয়েছে।
শেষে সয্যের শেষ সিমানায় গিয়ে খুলনা থেকে এক রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় হেমা। সাথে সিকান্দার আর অমলা দেবী, কোলে আড়াই বছরের মেয়ে অদিতি।
৮ ঘন্টার যাত্রা শেষে তারা এসে পৌছয় অরাপের বাসায়। ছোট খাটো প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে সে, একা বেচালার বাসায় বা থেকে বরং দুই রুমের ফ্লাট বাসা নিয়ে থাকে অরূপ,,
রান্না বারা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় যাবতীয় জিনিস পত্র রসেছে তার রুমে,,
দেখে মনে হচ্ছে সাজানো গুছানো একটা সংসার।
কিন্তু সে তো বলেছে একা থাকে, নাকি সাথে অন্য কেউ আছে?
মাথায় নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে হেমার,
#চলবে
বাকি পর্বগুলা এই ওয়েবসাইটেই দেওয়া হবে বিকাল ৪ টাই।
