এই_মন_তোমাকে_দিলাম♥️
পর্বঃ০২+৩+৪
Arshi_Ayat
রুহি নার্স রিতার পায়ের সামনে বসে কাঁদছে।ওর চোখের পানিতে নার্সের পা ভিজে যাচ্ছে।নার্স ওর সামনে বসে বলল"আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারবো না তুমি বুঝতে চাইছো না কেনো?আমি তোমাকে সাহায্য করলে তোমার চাকরী চলে যাবে।"
রুহি কাঁদতে কাঁদতেই বলল"আপু প্লিজ একটু সাহায্য করুন।আমি আমার বাচ্চাটাকে চাই।আপু আপনিও তো কারো মা।আপনি তো জানেন একটা বাচ্চা জন্ম দিতে কষ্ট হয় মায়ের তবুও সে মা একটিবার বাচ্চার মুখ দেখলে সব ব্যাথা ভুলে যায়।আপু আমারও মাতৃত্বের স্বাদ অনুভব করতে ইচ্ছে করে।আমার মন চায় মা ডাক শুনতে।আমারোও আমার বাচ্চাটাকে কোলে নিতে ইচ্ছে করে।আপু আমি পারবো না আমার বাচ্চাকে মেরে ফেলতে।একটু দয়া করুন আপু।"
রুহির এমন করুণ আর্তনাদে রিতার মন নরম হলো।আসলেই তো একটা নারী মা হওয়ার মাধ্যমেই পূর্ণ হয়।আজ যদি রুহির জায়গায় সে থাকতো তখন কি পারতো নিজের বাচ্চাকে এভাবে বলি দিতে?রিতার শরীর শিউরে উঠলো!তারও একটা মেয়ে আছে।সারাদিন ডিউটি করে যখন বাসায় ফেরে তখন মেয়েটা দৌড়ে এসে আম্মু আম্মু বলে জড়িয়ে ধরে।তখন যেনো রিতার ক্লান্তিগুলো উধাও হয়ে যায়।একটা মায়ের কাছে তার বাচ্চার মুখ থেকে আম্মু ডাক শোনাটা যে কতোটা মধুর তা শুধু মায়েরাই জানে।
আর সে কি না একজন মা কে মাতৃত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাচ্ছে।সেসময় রিতার বিবেক প্রবলভাবে নাড়া দিয়ে উঠলো।এটা অপরাধ!এই অপরাধের ক্ষমা নেই।
রিতা রুহির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল"আমি তোমাকে সাহায্য করবো বোন।যদি আজ আমার চাকরী চলেও যায় তবুও আমি এই পাপ করতে পারবো না।আমারও একটা মেয়ে আছে।"
রুহি কৃতজ্ঞতায় রিতাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো।রিতা ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল"পালিয়ে যাও।আকাশ তোমার বাচ্চাকে বাঁচতে দিবে না।নাতাশা ম্যামের সাথে তার সম্পর্ক আছে।এখন সে তোমাকে চায় না।এইজন্যই বাচ্চা এবরশোন করতে এনেছে।এই বাচ্চা এবরশোন করলে আকাশ তোমাকে ডিবোর্স দিয়ে দিবে।"
নার্স রিতার কথা শুনে রুহির ভেতরটা তছনছ হয়ে গেছে।কি নিদারুণ কষ্ট হচ্ছে এটা একমাত্র রুহিই জানে।
যে ভালোবাসার জন্য একদিন বাবা মা কে ছেড়ে এসেছিলো আজ সেই ভালোবাসার প্রতিদান যে এমন হবে রুহি ভাবতে পারে নি।তবে কি এটা বাবা মাকে কষ্ট দেওয়ার ফল!রুহির দুচোখ বেয়ে ঝর্ণা ধারা নামছে।অন্তত ভালোবাসার মানুষের কাছে এমন প্রতারণা মানতে পারছে না রুহি।এমুহূর্তে রুহির মনে হচ্ছে পৃথিবীতে ভালোবাসা নেই।সবাই স্বার্থপর!
নার্স রিতা রুহিকে একটা সাদা এপ্রোন পরিয়ে মুখের ওপর মাক্স পরিয়ে দিলেন।তারপর লিফটে চড়ে একবারে নিচতলায় এসে রুহিকে একবার জড়িয়ে ধরে বলল"যাও!কখনো ভেঙে পড়ো না।সবসময় মনে সাহস রেখে এগিয়ে চলো।"
রুহিও কৃতজ্ঞতা ভরা কন্ঠে বলল"আপু আপনার এই উপকার আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মনে রাখবো কথা দিলাম।"
তারপর রুহি হাসপাতাল থেকে জলদি বের হয়ে একটা অটোতে উঠে পড়ে।গন্তব্য অরুণীর বাড়ি!অরুণী ছোটবেলার বান্ধবী।আগে ওর বাড়ি গিয়ে ওর সাথে আলোচনা করবে বলে ঠিক করলো রুহি।
--------------------
লিফট দিয়ে আবার চতুর্থ ফ্লোরে আসলো নার্স রিতা।তার এখন মনে মনে ভয় লাগছে।নাতাশা অনেক বদ মেজাজী।একবার জানতে পারলে রক্ষা নেই।চাকরীটাই চলে যাবে।এই চাকরী হারালে চলবে না।পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম সে ই।পরিবার বলতে পাঁচ বছরের একটা মেয়ে আর সে।তিনবছর আগে একটা দুর্ঘটনায় তার স্বামী মারা যায়।এরপর আর বিয়ে করে নি রিতা।একমাত্র মেয়েটাকে নিয়েই বেচে আছে।
রিতা নাতাশার কেবিনের সামনে এসে দরজা ধাক্কা দিয়ে দিতেই দেখতে পেলো নাতাশা আকাশের কোলের ওপর বসে আছে।আর হেঁসে হেঁসে কথা বলছে।এভাবে প্রায় প্রায়ই দেখা যায় তাদেরকে।আর নাতাশার কেবিনে নক করে ঢুকতে হয়।তা নাহলে নাতাশা প্রচুর রেগে যায়।তাই রিতা সন্তপর্ণে দরজাটা চাপিয়ে দিলো।তারপর দুমিনিট অপেক্ষা করে দরজায় নক করলো।নাতাশা ভেতর থেকে বলল"ইয়েস কাম ইন।"
রিতা দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে দেখলো নাতাশা তার চেয়ারে বসে আছে আর আকাশ তার মুখোমুখি!বলা বাহুল্য রিতার জন্যই তারা দুজনে আলাদ হয়েছে।রিতা ভেতরে ঢুকে একবার আকাশ আর নাতাশার দিকে চেয়ে বলল"ম্যাম,মেয়েটা পালিয়েছে।"
নাতাশা চেয়ার ছেড়ে দাড়িয়ে হাত দিয়ে টেবিলে বাড়ি দিয়ে বলল"হোয়াট!পালালো কিভাবে?"
নাতাশার সাথে আকাশও আতঙ্কিত হয়ে গেলো।
"ম্যাম,আমি ওকে বসিয়ে বাইরে গিয়েছিলাম এনেস্থিসিয়া(অজ্ঞান করা হয় এটা দিয়ে।মেডিকেলের ভাষায় একে এনেস্থিসিয়া বলে।)আনার জন্য।কিন্তু এসে দেখি ও রুমে নেই।পুরো হসপিটাল খুঁজেছি কিন্তু নেই কোথায়।তারপর না পেয়ে আপনার কাছে এলাম।"
নাতাশা সবটা শুনে চেয়ারে ধপ করে বসে পড়লো।আকাশ রাগের চোটে বলল"কাদের রাখো কাজে?একটা কাজও ঠিক করে করতে পারে না।এখন যদি কেস করে তাহলে তুমি আমি দুজনই জেলে যাবো।"
নাতাশা দাঁতে দাঁত চেপে রিতাকে বলল"আউট।"
রিতা কাচুমাচু করে বেরিয়ে পড়লো।রিতা যাওয়ার পর নাতাশা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলল"এখন কি হবে আকাশ?"
"ওয়েট,আমি ওকে খুঁজে দেখছি।পেলে নিয়ে আসবো।"
"আচ্ছা যাও।"
আকাশ নাতাশার থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লো।যে করেই হোক রুহিকে খুঁজে পেতে হবে।আকাশ রুহির ফোনে কয়েকবার ফোন করলো কিন্তু রিসিভ হচ্ছে না।আকাশ ওর এক বন্ধুকে কল করে রুহির নাম্বারটা দিয়ে বলল লোকেশন ট্রেস করতে।
-------------------
রুহি অরুণীর বাড়ির সামনে এসে ভাড়া দিয়ে দরজার সামনে এসে কড়া নাড়লো।দুই তিনবার নাড়ার পর অরুণী এসে দরজা খুলতেই দেখলো রুহি দাড়িয়ে আছে।অনেকদিন পর রুহিকে দেখেও একটু চিনতে ভুল করে নি অরুণী।প্রথমেই দুজনের মধ্যে কোনো কথা হয় নি দুজনেই দুজনকে জড়িয়ে ধরে।তারপর অরুণী রুহিকে ভেতরে এনে নিজের ঘরে নিয়ে গেলো।রুহির পাশে বসে বলল"কেমন আছিস?আমাকে ভুলেই তো গেছিস।"
"না রে তোকে কখনো ভুলি নি।তুই ভোলার মতো না।"
"সেইজন্যই তো এতো বছরেও একবার খোঁজ নিলি না।"
রুহি ভেজা কন্ঠে বলল"মাফ করে দে।"
অরুণী ওকে জড়িয়ে ধরে বলল"থাপ্পড় খেতে না চাইলে এসব ফর্মালিটি অফ কর।আকাশ ভাইয়া আসে নি?"
আকাশের কথা শুনে রুহি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না।ঝরঝর করে কেঁদে দিলো।প্রিয় বান্ধবীর কান্না দেখে অরুণী বিচলিত কন্ঠে বলল"কি হয়েছে? কাদছিস কেনো?"
রুহি চোখের পানি মুছে বলল"আমি শেষ হয়ে গেছি অরু।ও আমাকে ভালোবাসে নি।"
"কি হয়েছে সেটাতো বলবি।"
রুহি প্রথম থেকে সব বলল।সব শুনে অরুণী দাঁতে দাঁত চেপে বলল"ওই জানোয়ারটার জন্য চোখের পানি ফেলাও উচিত না।তুই একদম কাদবি না।ওকে উচিত শিক্ষা দিবি।"
"আমি পারবো না রে।আমি ওকে ভালোবাসি।"
অরুণী রেগে বলল"ওই জানোয়ারের জন্য এখনো ভালোবাসা আছে।আমি অবাক হচ্ছি।"
রুহি কাঁদছে খুব।এতো বড়ো প্রতারণাটা আকাশ না করলেও পারতো।আর অরুণী বান্ধবীর অসহায় মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।ছোটবেলা থেকেই রুহি ভিষণ আবেগ প্রবণ।অনেক ছোটছোট জিনিসেও তার মন খারাপ হয়ে যেতো।ছোটবেলার সারাক্ষণ অরুণীর সাথে থাকতো।দুজনে বোনের মতো।ইন্টার পর্যন্ত ছিলো কিন্তু আকাশের সাথে বিয়ের পর থেকে রুহি সবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যায়।এতে রুহির দোষ দেওয়া যায় না সে স্বামীর আদেশ পালন করেছে।আজ এতো বছর পর রুহিকে আবার এভাবে দেখবে এটা অরুণী ভাবে নি।
সকাল থেকেই অরুণী বাসায় একা।বাবা মা আন্টির বাসায় গেছে।হঠাৎই কলিং বেলের শব্দ পাওয়ায় দরজা খুলতেই রুহিকে দেখবে তা ভাবে নি।হঠাৎ অরুণী কিছু একটা ভেবে বলল"রুহি তোর ফোন কই?"
রুহি চোখ মুছে বলল"এইতো এই ব্যাগে।"
অরুণী ওর ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে দেখে আকাশের অনেকগুলো কল।সাথে সাথে অরুণী ফোন অফ করে দেয়।অরুণীর সন্দেহ হচ্ছে যদি আকাশ জানতে পারে রুহি এখানে আছে তবে বাচ্চার কোনো ক্ষতি করে দিতে পারে।
------------------
রুহির লোকেশন ট্রেস করে জানা যায় রুহি বাসাবো তে আছে।আকাশ সেদিকেই রওনা হয়।বাসাবো তে রুহির এক বান্ধবী আছে।আগে তার বাড়িতেই খোঁজ নিবে আকাশ!
#এই_মন_তোমাকে_দিলাম♥️
#পর্বঃ০৩
#Arshi_Ayat
রুহি সেই কখন থেকে কাঁদছে।মনে হচ্ছে আজকেই চোখ থেকে সব পানি ঝরিয়ে ফেলবে।কিন্তু ওকে এভাবে ভেঙে পড়লে তো হবে না।অরুণী রুহির মাথায় হাত বুলিয়ে বলল"এবার তো থাম।আর কতো কাঁদবি?কাঁদলে কি কিছু ঠিক হবে?অযথা চোখের পানি ঝরানোর কোনো মানেই হয় না রুহি।চোখের পানি মোছ।"
রুহি বাম হাতে চোখের পানি মুছতেই আবার পানিতে ভরে গেলো চোখের কার্নিশ।এবার আর রুহি মুছলো না অরুণী ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল"আর যেনো না কাঁদতে দেখি আমি।"
রুহি অরণীকে জড়িয়ে ধরে বলল"আমি কি করবো বল!আমার যে অনেক কষ্ট হচ্ছে।আমি যে ওর প্রতারণা সহ্য করতে পারছি না।আমার ভাগ্যটা এতো খারাপ কেনো রে?"
"তার ভাগ্য খারাপ না রুহি।ভাগ্যতো তার খারাপ যে তোর ভালোবাসাকে অসম্মান করেছে।হতেও পারে একদিন এই ভালোবাসার জন্য সে ভীষণভাবে কাতর থাকবে কিন্তু তখন আর কোনো কিছু করার থাকবে না।"
অরুণী রুহির চোখ আবার মুছে দিয়ে বলল"বাবা মা কাছে যাবি?"
"কোন মুখে দাড়াবো তাদের সামনে বল?এতোটা কষ্ট যাদের দিয়েছি তারা কি আমাকে মাফ করবে?যাদের ভালোবাসাকে আমি অসম্মান করেছি তারা কি আমাকে মেনে নিবে?"রুহি ভেজা কন্ঠে বলল।
" বাবা মায়ের সামনে দাড়াতে কোনো মুখ লাগে না রুহি।ওনারা বাবা মা।বাবা মা এমন দুটো মানুষ যাদের হাজার শব্দেও ব্যাক্ত করা যায় না।হাজার অপরাধ করার পরও বাবা মা সন্তানকে মাফ করে দেয়।সেইজন্যই তারা বাবা মা।আর আমার বিশ্বাস এতোদিন পর আঙ্কেল আন্টি তোকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নিবে না।"
"আমি যাবো অরু।অন্তত মাফটাও যদি পাই!" রুহি এটা বলে একটা গোপন দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।
---------------------
বাসাবো তে এসে আকাশ একটা বাড়িতে গেলো কিন্তু সেখানে রুহিকে পেলো না।আকাশের যতোদূর মনে আছে রুহি এই বাড়ির কথাই বলেছিলো।ওর নাকি এখানে এক বান্ধবী আছে।নামটা মনে পড়ছে না আকাশের।এখন রুহিকে পাবে কোথায়?
আকাশ রাস্তা দিয়ে হাটতে হাটতে রুহিকে কল করলো কিন্তু এখন ফোন বন্ধ বলছে!কি মসিবত!বাসাবো তে কয়েকটা বাসা খুঁজেও যখন রুহিকে পাওয়া গেলো না তখন আকাশ হতাশ হয়ে ফিরে গেলো।এভাবে খোঁজা সম্ভব না। নির্দিষ্ট ঠিকানা ছাড়া এতো বড়ো এরিয়াতে কোথায় খুজবে রুহি কে।
আকাশ চলে যাওয়ার দুই মিনিট পর অরুণী আর রুহি বের হলো যে বাড়িটা থেকে সেখানে দু'মিনিট আগেও আকাশ দাড়িয়ে ছিলো।বলা বাহুল্য এ যাত্রায় রুহির কপাল ভালো ছিলো।রুহি আর অরুণী রাস্তায় এসে অটো নিলো।গন্তব্য রুহির বাড়ি!
---------------------
আকাশ হতাশ ভঙ্গিতে নাতাশার কেবিনে ঢুকে নাতাশার চেয়ার বরাবর একটা চেয়ারে বসে পড়লো।নাতাশা এখন কেবিনে নেই।হয়তো হাসপাতালের কোনো ওয়ার্ডে আছে।আকাশ নাতাশাকে ফোন করলো।নাতাশা কল কেটে দিয়ে দু'মিনিটের মধ্যে কেবিনে চলে এলো।কেবিনে এসেই জিগ্যেস করলো"পেয়েছো মেয়েটাকে?"
"না পাওয়া যায় নি।ওর ফোনের লোকেশন ট্রেস করে জানতে পেরেছি বাসাবো তে আছে।আর বাসাবো তে ওর এক বান্ধবীর বাড়ি আছে।ভেবেছিলাম সেখানে গেলেই পাবো কিন্তু পেলাম না।তবে ও বাসাবোতেই
আছে।কিন্তু নির্দিষ্ট ঠিকানাটা জানি না।আর একটু আগেই ফোন বন্ধ করে দিয়েছে।"
"ইশ!এখন কি হবে?বলো?আমি জাস্ট আর চিন্তা করতে পারছি না।"
"কুল বেবি।এতো হাইপার হইয়ো না।ওকে আমরা ঠিকই পেয়ে যাবো।কাল একবার ওর বাসায় যাবো।দেখি সেখানে আছে কি না।"
"হুম তাই করো।আর ওকে তাড়াতাড়ি ডিবোর্স দাও।ওকে ডিবোর্স দিলেই আমাকে বিয়ে করতে পারবে।"
"একটু সময় দাও।আমি ওকে ডিবোর্স দিয়ে দেবো।"
নাতাশা কিছু বলতে যাবে তার আগেই একজন নার্স এসে বলল রোগীর কাছে যেতে হবে।নাতাশা চলে গেলো।নাতাশা যেতেই আকাশও উঠে গেলো।আজ আর অফিসে যাবে না।
------------------
অনেক্ক্ষণ যাবত রুহি আর অরুণী রুহিদের বাসার দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে।দাড়িয়ে থাকার কারণ হলো রুহি ভয় পাচ্ছে।নিজেও নক করছে না অরুণীকেও করতে দিচ্ছে না।অরুণী এবার বিরক্ত হয়ে বলল"এবার কিন্তু মাইর খাবি রুহি।এতো ভয় পাচ্ছিস কেনো?"
"যদি বাবা মা মাফ না করে তাহলে?" রুহি মলিন গলায় বলল।
"আরে ওনারা মাফ করে দিবে।আর যদিও মাফ না করে তবে পা ধরে বসে পড়বি যতক্ষণ পর্যন্ত মাফ না করে।"
রুহি অরণীর কথায় সম্মতি দিলো।অরুণী একবার রুহির দিকে তাকিয়ে দরজায় নক করলো।দুইবার নক করার পর একটা মেয়ে দরজা খুললো।ওদের দেখে বলল"কে আপনারা?আর কি চাই?"
অরিণী সৌজন্যমূলক হাসি দিয়ে বলল"আমি অরুণী আর ও আমার বান্ধবী।বাসায় কি রুনা আন্টি আর আনোয়ার আঙ্কেল আছেন?"
"হ্যাঁ আছে।কিন্তু তাদের দিয়ে আপনার কাজ কি?"
"কাজ আছে বলেই বলছি।তাদের একটু ডেকে দিন।"
মেয়েটা ওদের দাড়াতে বলে ভেতরে চলে গেলো।এতক্ষণ সবকথা অরুণী বললেও রুহির মুখ দিয়ে একটা কথাও ফোটে নি।মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছিলো।
দু'মিনিট পর মেয়েটা সাথে করে রুহির মা কে নিয়ে এলো।রুহির মা দরজার সামনে রুহিকে দেখেই ওকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো।আর রুহিকে পায় কে।এমনিতেই সে কাঁদতে কাঁদতে শেষ তার ওপর আবার নিজের মা কাঁদছে তাই সেও কান্না ধরে রাখতে পারলো না।দুই মা মেয়ে এবার কেঁদে কেটে ভাসিয়ে ফেলছে।তবে দৃশ্যটা দেখার মতো।অরুণী আর দরজায় দাড়ানো মেয়েটা মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখতে লাগলো মা মেয়ের কান্না।এই কান্নায় কতোটা আকুতি থাকতে পারে এটা কেবল তারাই জানে।
ঘর থেকে রুহির বাবা আনোয়ার সাহেব বলে উঠলো"কি গো কে এসেছে?
রুহির বাবার কথা শুনে রুহির মা রুহিকে নিয়ে ভেতরে গেলেন।সাথে অরুণী আর মেয়েটায় পেছনে এসে দাড়ালো।রুহিকে দেখে রুহির বাবা চোখ মুখ শক্ত জোরালো কন্ঠে বলল"ও এখানে কেনো?চলে যেতে বলো ওকে।"
বাবার কথা শুনে রুহি আরো কান্না পাচ্ছে।কান্না দলা পাকিয়ে আসছে ভেতর থেকে।রুহির মা আনোয়ার সাহবের পাশে বসে বলল"মেয়ের সাথে আর রাগ করে থাকবেন না।কথা বলুন ওর সাথে।"
"আমার ওর সাথে কোনো কথা নেই।" আনোয়ার সাহেব অন্যাদিকে মুখ ফিরিয়ে বলল।
রুহি কান্না করতে করতে আনোয়ার সাহেবের পায়ের কাছে বসে ওনারা পা ধরে কান্না করতে করতে বলল"বাবা মাফ করে দাও প্লিজ।আমার খুব কষ্ট লাগছে।এভাবে চুপ করে থেকো না।যা শাস্তি দিবে মেনে নেবো কিন্তু মাফ করে দাও বাবা।দেখো তোমাদের কষ্ট দিয়ে আমিও ভালো নেই।আকাশ আমার সাথে প্রতারণা করেছে।তোমাদের সাথে প্রতারণা করার ফল আমি পেয়েছি।এবার যদি আমাকে মাফ না করো তাহলে কখনো নিজেকে মাফ করতে পারবো না।মাফ করবে না আমাকে?"
মেয়ের আর্তনাদে আনোয়ার সাহেবের এতো বছরের রাগ পানি হয়ে গেলো।মেয়েটা তার এতো কষ্টে আছে।ভাবতেই আনোয়ার সাহেবের বুক ভারী হয়ে গেলো।আনোয়ার সাহেব রুহিকে উঠিয়ে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলেন।
আসলেই বাবা মা কখনো সন্তানের ওপর রেগে থাকতে পারে না।তারা সবসময় সন্তানের মঙ্গল চায়।সন্তানের কষ্ট অনুভব করতে পারে।পৃথিবীতে এই দুটো মানুষই সবসময় পাশে থাকে সন্তানের।আর এদের ভালোবাসা সবসময় স্বার্থবিহীন হয়।
.
.
অরুণী আর রুহি মিলে সবটা রুহির বাবা মা কে বুঝিয়ে বলেছে।সব শুনে রুহির বাবা রেগে বলল"ওই কুত্তার বাচ্চার কাছে আমি আমার মেয়ে আর দিবো না।কিছুতেই না।"
শুধু রুহির বাবাই না রুহির মাও প্রচন্ড রেগে গিয়েছেন।যে মেয়েকে ছোট বেলা থেকে অনেক আহ্লাদে বড়ো করেছেন তার সাথেই এমনটা মানতে পারছেন না।
কিছুক্ষণ আগে অরুণী চলে গেছে।রুহির বাবা মা থেকে যেতে বলেছিলো কিন্তু সে থাকে নি।তার বাবা মাও তার জন্য অপেক্ষা করছে
-------------
অরুণী যাওয়ার পর রুহি নিজের ঘরে এলো।চারদিকে চোখ বুলাতেই দেখলো কিছুই পরিবর্তন হয় নি।সব আগের মতোই আছে।কোথাও একটু ময়লাও নেই।এতো দুঃখের মাঝেও অরুণী একটু হাসলো কারণ তার মা এখনো তার ঘরে এসে ঘরটা পরিস্কার করে যায়।যার জন্য মনেই হয় না এইঘরে অনেকদিন ধরে কেউ থাকে না।
রুহি জানালার সামনে গিয়ে জানালাটা খুলে দিলো।ঘরটা দিনের আলোয় আলোকিত হয়ে গেলো।রুহি বিছানায় বালিশ দিয়ে হেলান দিয়ে শুয়ে রইলো।অতিরিক্ত কান্নার ফলে চোখগুলো লাল হয়ে আছে আর মাথাব্যথায় ফেটে যাচ্ছে।শরীর দুর্বল হওয়ায় তাড়াতাড়িই ঘুম চলে এলো।
-----------------
একটু আগে রুহির বাসায় আকাশ এসেছে।এসেই ভাংচুর করছে।রুহির বাবা মা বাধা দিতে চাইলেও কাজ হয় নি।আকাশ রুহির চুলের মুঠি ধরে বলল"কি ভেবেছিস আমার থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারবি?কখনো না।তোর বাচ্চা নষ্ট করবোই আমি।"
আকাশ রুহির চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগলো।রুহি কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো"আকাশ!দয়া করো আমার বাচ্চাকে।ওকে মেরো না।আমি বা আমার বাচ্চা কখনো তোমার পথের কাটা হবো না।আমি সরে যাবো তোমার জীবন থেকে।তবুও তুমি আমার বাচ্চাকে বাঁচতে দাও।আমি ওকে ছাড়া মরে যাবো।"
আকাশের মনে দয়া হচ্ছে না।সে রুহিকে টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগলো।
রুহির আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে যাচ্ছে কিন্তু পাষাণের মন গলছে না।
#এই_মন_তোমাকে_দিলাম♥️
#পর্বঃ০৪
#Arshi_Ayat
রুহি ভয়ের চোটে থরথর করে কাঁপছে।রুহির মা রুনা বেগম মেয়েকে জড়িয়ে ধরে স্বান্তনা দিচ্ছে কিন্তু সেগুলো একদমই রুহির কানে যাচ্ছে না।চোখের সামনে বারবার ভয়ংকর দৃশ্যগুলো ভাসছে।যা একটু আগেই স্বপ্নে দেখলো সে।এমন ভয়ংকর স্বপ্ন রুহি কখনো দেখে নি।এই স্বপ্ন রুহির ভেতর ভয়ের সৃষ্টি করলো।যদি স্বপ্নটা সত্যি হয়!রুহির ভেতরটা ধ্বক করে উঠলো।রুহি মায়ের বুক থেকে মাথা উঠিয়ে আতঙ্কিত গলায় বলল"মা,আকাশা আমার বাচ্চাকে বাঁচতে দিবে না।মা ও আমার বাচ্চাকে মেরে ফেলবে।"
রুনা বেগম রুহির মাথাটা আবারও বুকের সাথে চেপে ধরে বলল"কিচ্ছু হবে না।তুই একদম চিন্তা করিস না।আমরা আছি তো।"
মায়ের কথায়ও তেমন একটা ভরসা পায় না রুহি।আসলে ভয়টা এমন ভাবে জেঁকে বসেছে যে কোনো আশ্বাসেও কাজ হচ্ছে না।মনটা অশান্তই হয়ে আছে।
-------------------
আকাশ সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হলো নাতাশার চেম্বারে যাওয়ার জন্য।রুহির বিষয়ে একটা জরুরী কথা আছে।হাসপাতালে পৌঁছে নাতাশার কেবিনে গিয়ে দেখলো নাতাশা কার সাথে যেনো কথা বলছে আকাশকে দেখে তাড়াতাড়ি ফোন কেটে দিয়ে বলল"খবর টবর কিছু পেলে?"
"না তেমন কোনো খবর পাই নি।কিন্তু একটা জরুরী আলাপ করতে এলাম।"
"বলো শুনি।"
নাতাশা আকাশকে বলতে বলে দুইকাপ কফি দিতে বলল।
"আচ্ছা নাতাশা বেবিটাকে মারার দরকার কি?ওকে ডিবোর্স দিয়ে দিলেই তো হয়।তারপর আমরা বিয়ে করে নেবো।"
নাতাশা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল"বেবিটাকে মারতেই হবে।কারণ ওই মেয়েটা বেবিটাকে দিয়েই তোমাকে ফাসাবে।"
"কিভাবে?" আকাশ ভ্রু কুঁচকে বলল।
"বাচ্চাটা বড়ো হওয়ার পর অবশ্যই ওর বাবার পরিচয় চাইবে তখন রুহি তোমার নাম বলবে।বায়োলজিক্যাল ভাবেতো তুমিই ওর বাবা।ব্যাস আর কি সম্পত্তির ভাগ দাও!আর তাছাড়াও বাচ্চাটা সব জায়গায় তোমার নাম ব্যাবহার করবে।যেটা আমি মানতে পারবো না।" শেষের কথাটা নাতাশা মুখে কাঠিন্য এনে বলল।
আকাশও নাতাশার কথাগুলো ভাবতে লাগলো।আকাশকে ভাবতে দেখে নাতাশা মনে মনে হাসলো আর বলল'''কোপটা একবারে জায়গা মতো পড়ছে।'
এরমধ্যেই কফি চলে এলো।আকাশ কফিতে চুমুক দিয়ে বলল"তুমি ঠিকই বলেছো নাতাশা।আসলেই বাচ্চাটা রাখা ঠিক হবে না।আমি কালই ওদের বাসায় যাবো।আমার বিশ্বাস রুহি ওই বাসায় আছে।"
নাতাশা আর আকাশ এভাবেই আরো কিছুক্ষণ কথা বলল সাথে কফি শেষ করে উঠে পড়লো।নাতাশা আর আকাশ নিজেদের বাসায় চলে গেলো।
আকাশা বাসায় ফিরতেই আকাশের মা বলল"ওই মুখপুড়ি কি একবারে গেছে গা?"
"হুম।ওকে আমি ডিবোর্স দিবো।চরিত্র ভালো না ওর।কার না কার বাচ্চা আমার বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছে।"
আকাশের মা ছিঃছিঃ করতে করতে বলল"ঠিকই আছে।এসব নষ্টা মাইয়া লইয়া ঘর করা যায় না।তুই ভালো কাজ করছিস।"
আকাশ আর কথা না বাড়িয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।
----------------------------
মাত্রই এশার নামাজ আদায় করে রুহি বিছানায় এসে বসলো।তারপর ডান হাতটা পেটের ওপর রাখতেই পানিতে দুঃচোখ ভরে গেলো।কিন্তু এতটুকুও শব্দ হয় নি।রুহি ঠোঁট কামড়ে ধরে রেখেছে কিন্তু লাভ হচ্ছে না অশ্রুগুলো তার ফর্শা কপল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে।এতো কষ্ট সহ্য হচ্ছে না রুহির।
কিছুক্ষণ নিরবে অশ্রু ফেলে রুহি জানালার কাছে গিয়ে দাড়ালো।দুইতলার ওপর বাসা হওয়ায় জানালার কাছে দাড়ালে রাস্তার অনেকটাই দেখা যায়।ল্যাম্পপোস্টের নিচে চলতি গাড়িগুলোকে তাকিয়ে রুহি।তবে ভাবছে অন্যকিছু!হঠাৎ রুহির ভাবনার সুতা ছিড়লো তার মায়ের ডাকে।রুহি পিছনে ফিরতেই দেখলো রুনা বেগম চা হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে।রুহি একটা মলিন হাসি দিয়ে বলল"বাবাকে দিয়েছো?"
"হুম,দিয়ে আসলাম।এই নে তোরটা।"
রুহি মায়ের হাত থেকে হাত বাড়িয়ে কাপটা নিয়ে বলল"তুমি খাবে না?"
"খাবো তো।দাড়া নিয়ে আসি।"
রুনা বেগম কিচেন থেকে নিজের কাপটা নিয়ে এলেন।
রুহি ভাবছে কতোদিন পর মায়ের সাথে চা খাচ্ছে।প্রায় তিনবছর হয়ে গেছে।
আগে সন্ধ্যা হলেই রুনা বেগম চা বানাতেন তারপর আনোয়ার সাহেবকে তার চা টা দিয়ে মা মেয়ে একসাথে বসে চা খেতো।সেই চা খওয়ায় যে কতোটা তৃপ্তি ছিলো!তিনবছর পর আবার এই দিনটা এলো কিন্তু একটা জিনিস অবশ্য বদলেছে।তিনবছর আগে মা মেয়ে একসাথে চা খেতে বসলে অনেক গল্প হতো,হাসিঠাট্টা অনেককিছু কিন্তু আজ কিছুই হচ্ছে না সবকিছু যেনো নিরব হয়ে আছে।
চা খাওয়া শেষ হতেই রুনা বেগম উঠে দাড়িয়ে বললেন"চা টা শেষ কর।আমি আসছি তোর মাথায় তেল দিবো।চুলগুলো শুকনো হয়ে পাটকাঠি হয়ে আছে।কতোবছর ধরে তেল দিস না?"
রুহি মলিন হেসে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল"মনে নেই।"
রুনা বেগম দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল"আমি আসছি।"
তারপর চলে গেলেন।রুহি চা খেতে খেতে কিছু একটা ভাবছিলো হঠাৎ কারো কথায় ভাবনায় ছেদ পড়লো।কথার আওয়াজটা আসছে সামনের রুম থেকে।রুহির বিষয়েই কিছু বলছে তাই রুহি কান খাড়া করলো শোনার জন্য।
.
.
নিচতলার ভাবি এসেছে রুহিদের বাসায়।আজকে সকালেই তার মেয়ের থেকে সবকিছু শুনে দেখা করতে এলো।রুনা বেগম তাকে বসতে দিয়ে বললেন"কেমন আছেন?"
"আলহামদুলিল্লাহ ভাবি।আপনারা?"
"এইতো আল্লাহ ভালোই রাখছে।চা আনি আপনার জন্য?"
"না ভাবি আমি মাত্রই চা খেয়ে এলাম।"
মহিলাটা একটু থেমে আবার বলল"শুনলাম আপনার মেয়ে নাকি এসেছে।"
রুনা বেগম এমন কিছুই আন্দাজ করছিলো।তাই সাবলীল ভাবে বলল"হ্যাঁ ভাবি।"
"তা একবারের জন্যই এসেছে?নাকি আবার চলে যাবে।"
"একবারেরই জন্যই।ওর স্বামী ভালো না।"
"ওও,,আচ্ছা ওকে একটু ডাক দেন।দেখি।কখনো তো দেখি নাই।"
রুনা বেগম জানেন মহিলাটা কেমন।এখন গিয়ে আশেপাশের সবাইকে ছড়াবে।রুনা বেগমের মন সায় দিলো না রুহিকে ডাকতে।কে জানে ওর সামনে কোনো বেফাঁস কথা বলে দিলে!রুহির মন তো নরম সহ্য না করতে পেরে কান্না করবে।এমনিতেইতো সারাদিন কাঁদে।মেয়েটার মুখের দিকে তাকানো যায় না।কি অপরিসীম কষ্ট বুকে ধারণ করে আছে সেটা কেউ না বুঝলেও সে বোঝে।মা তো তাই!মায়েরা নাকি সন্তানের কষ্ট বোঝে।
রুনা বেগম মহিলাটাকে মিথ্যা বলে বিদায় করলেন।
রুহি ভেতরের ঘর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।এটাতো কিছুই না আর কয়দিন পর তো আরো অপমান সহ্য করতে হবে ভেবেই রুহির মন খারাপ হয়ে গেলো।
আমাদের সমাজে ডিভোর্সি মেয়েদের কে কোন চোখে দেখা হয় এটা আমরা সবাই জানি।একটা ছেলেকে কিন্তু এতো অপমান সহ্য করতে হয় না।ডিবোর্সের পর তারা অবিবাহিত মেয়ে বিয়ে করতে পারলেও কোনো ডিবোর্সী মেয়ের কপালে অবিবাহিত ছেলেতো দূরের কথা দুই তিনবার ডিবোর্সী ছেলেও নাক সিটকায়।
---------------------
আকাশ নাস্তা করে বের হলো রুহিদের বাড়ি যাওয়ার জন্য।দুইদিন অফিস থেকে ছুটি নিয়েছে এই বাচ্চার ঝামেলা সরানোর জন্য তার ওপর আবার নাতাশার প্যারা তো আছেই।
কিন্তু রুহিদের বাসায় যাওয়ার আগে একবার নাতাশার সাথে দেখা করতে হবে।আকাশ সোজা এসে নাতাশা কেবিনে ঢুকলো।দেখে নাতাশা কার সাথে যেনো কথা বলছে ওকে দেখা তড়িঘড়ি করে ফোনটা কেটে দিয়ে বলল"ব্রেকফাস্ট হইছে?
"হ্যাঁ,তোমার?"
"হ্যাঁ হইছে।এখন কি ওই মেয়েটার বাসায় যাচ্ছো?"
"হ্যাঁ দুইদিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।"
"শোনো প্রথম গিয়ে মাফ টাফ চাবা।একটু কনভেন্স করার ট্রাই করবা।এতে যদি হয় তাহলে তো হলোই।আর না হলে জোরাজোরি করবা।তবে ওর বাচ্চা যাতে না বাঁচে।"
আকাশা নাতাশার কথায় সম্মতি দিয়ে বেরিয়ে পড়লো রুহির বাসার উদ্দেশ্যে।কি জানি রুহির দুঃস্বপ্ন কি সত্যি হতে চললো আজ!
-------------------
চা টা খেয়ে মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লো অরুণী।এখন যাবে রুহিদের বাসায়।মেয়েটা একদম ভেঙে পড়েছে।কিছুক্ষণ ওর সাথে গল্প করে তারপর ভার্সিটিতে যাবে।অরুণীর একদম কষ্ট সহ্য হয় না।রুহির জায়গায় যদি অরুণী থাকতো তবে আকাশ আর নাতাশার উচিত শিক্ষা দিতো।কিন্তু রুহিতো এগুলোর কিছুই করবে না।এতো শান্ত একটা মেয়ের কপাল টা এমন হলো ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে অরুণীর।চারদিকে এতো মন ভাঙার গল্প হচ্ছে দেখে অরুণীর ভালোবাসার ওপর থেকে বিশ্বাসটাই উঠে গেছে।অরুণীর মনে এটা নিয়ে ফিলিংস জাগে না।আশেপাশের এমন মনভাঙার গল্প গুলোই ওকে এমন শক্ত করেছে।অরুণী মাঝেমধ্যেই ভয় পায় যদি কেউ ওর সাথেই এমন করে তখন!
চলবে.......
বাকি পর্বগুলা এই ওয়েবসাইটেই দেওয়া হয়েছে দেখেন?
