#হৃদয়ের_আশ্রয় #পর্ব-৩+৪

#নুসরাত_পুতুল 


বিকেলে বড় মামা এসে হাজির হলেন আমাদের বাড়িতে,কাল রাতের পর থেকে মায়ের মুখে এখন অব্দি দানা পানি পড়েনি এক ফোঁটা ও। সকালের পর বড় ফুফু রান্না করেছে৷ সকলে মিলে খেয়েছে ও সেখাবার,

এমনকি আমার বাবা ও,। বাবাকে আমাকে ও ডেকে খাবার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মা কে কেউ খাবার খাওয়ার কথা বলেনি, এমন কি বাবা ও না। সকলের ভাবমূর্তি এমন যে তারা জানেই না,বাড়িতে একজন গর্ভবতী মানআছে,

 অভিমানে হয়তো মা ও আর আগ বারিয়ে খায়নি খাবার নিয়ে। 


বিকেলে মামা আসলে দাদির ঘরে নালিশের বৈঠক বসে। বৈঠকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় মা কে। তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ার লোকের অভাব নেই। আমার ফুফু দাদি ফুফা সকলে তার বিরুদ্ধে একে একে নালিশের আসর জমিয়ে বসেছে যেন। 

বাবা তেমন কোনো কথা বলছে না। খুবই আনমনা লাগছে তাকে। মনে হয় কিছু নিয়ে খুবই আপসেট।  


অনেকটা সময় ধরে মায়ের নামে বদনাম করে শেষ করে থামলেন তারা। মামা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বাবার দিকে তাকিয়ে বললেন। 

" তোমার কিছু অভিযোগ আছে? 

বাবা ফেলফেল করে একবার তাকাতে চাইলো মায়ের মুখের দিকে। পরক্ষণেই কি মনে করে মাটির দিকে তাকিয়ে বললো,


" না, 

ওরে নিয়া যান। আমার মা বোনরে দেখতে না পারলে তাদের সাথে মিশতে না পারলে আমি তাকে রাখতে পারব না। আমার কাছে আমার মা আগে। আমি তো আমার মা বোন ফেলে দিয়ে পারব না। 


কথাটা বলার পর মা চোখ তুলে তাকায় বাবার দিলে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কিছু সময়। হয়তো এতো বছরের সংসার শেষে নিজ স্বামীর মুখে এমন কথা আশা করেনি তিনি।  

মামা দাদির উদ্দেশ্যে বলে,

" আপনাদের সবার কি এটাই কথা? এজন্য ডেকেছেন আমায়?


দাদি কিছু বলার আগপই ফুফু বলে উঠলো। 

" যার বউ সে সিদ্ধান্ত জানাইছে। এখানে আমাদের কি বলার আছে। 

আর ভাই তো না বুঝে এমন সিদ্ধান্ত নেয় নাই। যে মেয়ে আমাদের সবার সামনে এমন করতে পারে সে তো আমরা চলে গেলে একা বাড়িতে আমার আম্মা কে বালিশ চাপা দিয়ে মে'রে বলবে ঘুমের মাঝে ম'রে গেছে। এমন যে করবে না তার কি গ্রেরান্টি।


" এসব কি বলতাছেন আপনি? আমার বোন সম্পর্কে যা খুশি বলে যাচ্ছেন। বিয়ের এতো বছর হলো এতোদিন তো কোনো বদনাম শুনি নাই। তাহলে এখন হঠাৎ বলছেন আপনার মাকে খু*ন করবে। মাথা ঠিক আছে আপনাদের? 


মামার প্রশ্নে থতমত খেয়ে যায় ফুফু। পরক্ষণেই জবাব দেয়,

" মানুষ বদলায়। দেখেন গিয়ে আপনার বোন কার সাথে বা কার সাথে মিলে এমন করতেছে। 


" যথেষ্ট বলে ফেলছেন আপনারা। আপনাদের সাহস কি করে হয় আমার বোনের চরিত্র নিয়া কথা বলার। 

 আমার মা বাপ ম'রা বোন, তাই বলে কি যা খুশি বলে যাবেন আমরা কিছু বলমু না। আমার বোনরে নিয়া এতো সমস্যা তো। নিয়া যাইতাছি আমি তারে। আপনাদের হাতে পায়ে ধরে বোনরে এ বাড়ির ভাত খাওয়ামু সে কথা ভাইবেন না। খাওয়াতে না পারলে বি'ষ খাওয়াই মা*ইরা ফেলমু তবুও এমন জায়গায় বোনরে খাইখা জামু না। টাকা পয়সায় আপনাদের থেকে কম থাকতে পারে আমাদের। তবে সম্মান আছে, চরিত্র আছে।  


রুমি যা রেডি হয়ে নে।


আর একটা কথা, 

" আমি না হয় আমার বোন নিয়া যাব। কিন্তু ছামির, আপনাদের বাড়ির ছেলে তাকে কিন্তু নিব না আমি। 


দাদি মুখ ভেংচি কেটে বললো,

" আমগো আাড়ির পোলা আমগো আাড়িত থাকবো। তারে কোনহানে নিতে দিমু না। এখন তারে নিয়া দুই দিন পর অন্য মানুষ কামাই খাইব তার। সে কাজ হইতে দিমু না। 


" আমি তো বললাম আমি শুধু আমার বোন নিব,


মা রেডি হওয়ার জন্য কয়েক কদম পা এগিয়েছিল। 

মামা আর দাদির কথা শুনে ছুটে আসলো মামার কাছে।


" ভাইজান আমি ছামির রে রেখে যাব না। তাকে আমার সাথে নিয়ে নেন।


" সা*পের বাচ্চা সা*পই হয়, । দুধ কলা দিলেই সে আপন হবে না। সময় বুঝে ঠিক ছোবল মা*রবে। সে সুযোগ তো আর দিতে পারি না আমি। 


তৈরি হয়ে নিতে বলছি তারাতাড়ি কর। 

আমি নিতে পারব না এ বাচ্চা।  


মা আরও কিছু বলতে গেলে মামা থামিয়ে দিয়ে বলে,

" কি বলল শুনিস নাই? এখনই বলল। আমরা তাদের ছেলের কামাই খাওয়ার লো*ভ করি, সাথে করে নিয়ে গেলে দু দিন পর তো মামলা করবে কথা না বাড়িয়ে কাজ কর। 


মায়ের মুখটা চুপসে গেল। সারা দিন না খেয়ে মুখটা শুখিয়ে আছে এমনিতেই।, চোখ থেকে টপটপ করে পানি পরছে। মা আমার দিকে কেমন করে যেন তাকালো। যেন বহু বছর দেখে না আমাকে।


তার পর চলে গেলো নিজের ঘরে। 

আমিও মায়ের পিছন পিছন গিয়ে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছি,


মা তার কয়েকটা কাপড় চোপড় ব্যাগে ঢুকিয়ে নিলো। ব্যাগের চেইন টা লাগিয়েও আবার কি মনে করে আমার একটা নতুন শার্ট আর প্যান্ট মায়ের ব্যাগে নিয়েছে।


আমি দাড়িয়ে থেকে দেখছি সবটা,  


সব গুছিয়ে মা বের হওয়ার আগে ডাকলেন


" ছামির,


মায়ের মুখের ডাক, মুহুর্তে মনে হলো সব ঠিক হয়ে গেছে। মনের সকল ব্যাথা নিরাময় হলল যেন। 

আমি ধীর পায়ে মায়ের কাছে এগিয়ে যেতেই মা খব করে আমার হাত ধরে কাছে টেনে নিলেন আমায়, জড়িয়ে ধরে বুকের সাথে মিশিয়ে নিলেন একেবারে।

যেন ছেড়ে দিলেই হাড়িয়ে ফেলবে বুকের ধন


মা কাঁ*দছে আমায় জড়িয়ে ধরে। 

আমার বুকের ভিতর লাফাচ্ছে, কিন্তু আোখে পানি আসেনি। ছোট থেকেই শোনে আসছি, ছেলেদের নাকি জোড়ে কাঁদতে নেই। এই সমাজ হয়তো কান্নাটাকে শুধু মেয়েদের ব্যক্তিগত সৃষ্টি বলে মনে করেন। যে সৃষ্টি ছেলেদের জন্য না,  


বাইরে থেকে মামার ডাক পরে,

" রুমি তারাতাড়ি কর,


মা কোনো মতে চোখের পানি মুছে বেরিয়ে যায়।


আমি সেখানেই দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। 


সব শেষে মাকে নিয়ে গেলেন মামা,

রাতের সেই খাওয়াই ছিল আমার মায়ের এ বাড়িতে করা শেষ আহার। 


মা চলে গেলে সমস্ত বাড়ি যেন মুহুর্তে জনমানবহীন মনে হতে লাগলো।

আশ্চর্য সকলেই আছে, শুধু একজন নেই, তবুও এতো খালি খালি কেন লাগছে?

তবে কি এটাই মায়ের জন্য সন্তানের টান?


আমার চোখের কোণে জল চিকচিক করছিল।

কোথা থেকে যেন ঝুমুর এসে একটা ২ টাকা দামের চকলেট এগিয়ে দিয়ে বললে,

 " কেঁ*দো না, বড় হয়ে তোমায় আমি বিয়ে করব। 


বলেই চলে গেলো চকলেট টা হাতে ধরিয়ে দিয়ে।


ঝুমুরের কথাটা বার বার কানে বাজছে আমার, খানিকক্ষণ পর ঘোর কাটলো ছোট ফুফুট অট্টহাসির শব্দে। যে হাসি বি'ষের মতো লাগছিল আমার কাছে।


ছোট ছয় বছরের আমিটার ভিতর জন্ম নিতে শুরু করে অ*গ্নি শিখায় তৈরি এক দা*নব। যা পারলে এই মুহুর্তে তছনছ করে দিতো সব। কিন্তু সে দা*নব টা এতোটাই ক্ষুদ্র যে সে ক্ষমতা তার নেই।  

তার জন্য তালে বড় হতে হবে, অনেক বড়। 


কা*ন্না ভুলে হেসে ফেললাম হঠাৎ। ঝুমুরের কথা মনে করে আরও একবার হাসলাম।

মনে মনে বললাম,

" করব তোকে বিয়ে আমি,


__________


পড়ার টেবিলে মুখ গুজে আছি, কেন জানি বারংবার মনে হচ্ছে বাবা তো এমন না। বাবার এমন রূপ তো আগে দেখিনি। বাবাকে নিশ্চিত এমন করতে বাধ্য করছে কেউ। নয়তো আমার বাবা এমন করতে পারে না মায়ের সাথে।

না আর বসে থাকব না। এক্ষুনি বাবাকে জিগ্যেস করব। কেন করছে এমন।


যে ভাবনা সেই কাজ, উঠে বাবার কাছে যেতেই ঘরের বাইরে থেকে এমন কিছু শুনলাম যার পর পুরো শরীর হিমশীতল হয়ে যাচ্ছে আমার। নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিনা যেন


চলবে ইনশাআল্লাহ।#হৃদয়ের_আশ্রয় #পর্ব-৪

#নুসরাত_পুতুল


" তোমার রাস্তার কাটা সরিয়ে দিয়েছি ভাই,। যা চেয়েছিলে তা হাসিল হয়েছে তো এবার? ভাবি কে তো বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম প্ল্যান করে । 

হয়েছে এবার আমার কাজ শেষ, 


" আমি চিন্তায় ছিলাম, কি ভাবে কি করব। যাক তোরা এদিকটা সামলে নিলি। কিন্তু রুমি তো প্রেগন্যান্ট। এখন তো ডিভোর্স হবে না। ৭ মাস চলছে তার। আরও কম করে তিন চার মাস অপেক্ষা করতে হবে।


বাবার গলায় আফসোসের সুর। যেন এক্ষুণি মাকে ডিভোর্স দিতে পারলে বেচে যায়। 


" হ্যা তা তে করতেই হবে। কি আর করার।


ফুফুর চোখ এসে পরলো আমার দিকে,

" আরে ছামির। কি করছিস আয় এদিকে,


আমায় ডাকলেন তিনি। আমি কিছু না বলে চলে আসলাম।


কান্না পাচ্ছে এখন। বাবাকে ফেরেস্তার ন্যায় জানতাম। আর সে বাবা কিনা আজ মাকে বাড়ি থেকে বের করার জন্য এতো ফন্দি আটলো। তার মানে, এসব খাওয়ার জন্য ঝামেলা করেনি। সব কিছু সাজানো প্ল্যান, এটা একটা উসিলা ধরে বাড় থেকে বের করল মাত্র। বাড়ি থেলে বের করার পিছনে বড় কোনো কারণ লুকিয়ে আছে। আর সে কারন বাবা জানে

 আজ যেন এতে বছর পর নিজেই নিজের বাবাকে চিনতে পারছি না। কোনটা আমার বাবার আসল রুপ? এখন নাকি আগের টা?

প্রশ্ন টা গোলকধাঁধার মতো ঘুরছে নাথায় ভনভন করে


________________


স্বামীর সাথে ননদ রুমিকে দেখে হাসি মুখে এগিয়ে এলেন হাসনা বেগম। আরে রুমি কেমন আছো। ভালোই হয়েছে এসেছ। কয়দিন পর তো আসতেই হতো। ছামির বাবা কোথায় তাকে দেখছি না যে।


ভাবির মুখে ছামিরের কথা শোনে মুখটা মলিন হয়ে এলো রুমির, 

কি জবাব দিবে সেই ভাবনায় মশগুল সে, তখনই পাশ থেকে ভাই বলে,


" ছামিরকে আনি নাই  

" ওমা কেন?


লিহাব সাহেব বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,

"রুমি মাত্র এসেছে পরে কথা বলো। এখন রুমিকে বিশ্রাম নিতে দাও। চলো তুমি আমার সাথে।


বলে জোরপূর্বক স্ত্রী কে নিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলেন তিনি।


রুমি তখনও সেখানে দাঁড়িয়ে, তাকে আসতে দেখে কতো খুশি হয়েছে ভাবি,কিন্তু ভাবি যখন জানবে তাকে ঐ বাড়ি থেকে এক বারে নিয়ে আসা হয়েছে তখন কি এই খুশিটা থাকবে ভাবের মুখে ?

_______


 পরের দিন ফুফুরা চলে গেলে বাড়ি একদম নিরব হয়ে পরে। বাড়িতে আমরা তিনজন মানুষ আমি বাবা আর দাদি। বাবা সারা দিন অফিস থাকে,

দাদি গ্যাসের চুকায় রান্না করে শুয়ে বসে থাকে,

আমি একলা হয়ে পরি। আমার সময় কাটতে থাকে মহল্লার ছেলেদের সাথে খেলা করে। প্রতিবারই খেলা শেষে বাড়ি ঔিরে মনের ভুলে মাকে ডেকে উঠি। কোনো সারা না পেয়ে দ্বিতীয় বার ডাকতে গেলেই মনে পরে, মা আর নেই এ বাড়িতে। 

আগে বাড়িতে মা পড়াতো। এখন পড়ানোর জন্য মেডাম রেখে দিয়েছে বাবা। 


লিভা মেডাম,, খুবই সুন্দর করে কথা বলেন, মিষ্টি করে। প্রথম প্রথম পড়তে চাইতাম না আমি।

তার পর তিনি তো আমায় কাছে টেনে মায়ের মতো করে কি সুন্দর করে বুঝালেন আমায়,

যে বড় হতে হবে। ভালো করে লেখা পড়া না করলে বড় হয়ে ডাক্তার হওয়া যাবে না না।

আমি তো মেডামের মুখের উপর বলে দিলাম,

" আমি পুলিশ অফিসার হতে চাই ডাক্তার না, মেডাম মুচকি হেসে আমায় কোলে বসিয়ে বললো,


" পুলিশ হতে ও তো পড়ালেখা জানতে হবে। নয়তো দেশ রক্ষা করবে কি ভাবে।


আমিও ভাবলাম সত্যি তো। লেখাপড়া না করলে তো পুলিশ হতে পারব মা। অপরাধী দের শাস্তি দিতে পারব না। আমাকে তো শাস্তি দিতে হবে বড় হয়ে 


আমি পড়তে রাজি হয়ে গেলাম,

' পড়ব আমি, ঠিক মতো মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করব। 


শোনে লিভা মেডাম স্বস্তির নিশ্বাস নিলো । 


কাকে যেন কল করে সাথে সাথে জানালো,

" আমি সাকসেস, সে রাজি হয়েছে।

বলে আবার কলটা কেটেও দিয়েছে। 


আমার ছোট্ট মস্তিষ্ক তখন এতো কিছুর মারপ্যাচ বুঝেনি। যখন বড় হলাম তখন পরিষ্কার হতে লাগল সকলের বলা একেকটা শব্দ একেকটা ধ্বনির মানে।


 

_______


সপ্তাহ খানেকের ভিতর লিভা মেডামের সাথে আমার পরিবারে খুব ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে উঠলো,


আমায় এক ঘন্টা পড়ালেও, পড়ানোর আগে পরে মিলিয়ে প্রায় দুই আড়াই ঘন্টা আমাদের বাড়িতে থাকতেন তিনি। 


দাদি শুধু রান্না করে নিজের খাবার খেয়ে টেবিলে আমার জন্য খাবার দিয়ে বলতো খেয়ে নিতে। 

ছোট থেকেই খাবার খেতে সময় লাগে আমার, 

আর নিজ হাতে একা একা খেতে একদম ভালো লাগতো না।

যার ফলস্বরূপ দরুন মেডাম এসেই খায়িয়ে দিত আমায় প্রায় সময়।নিজ হাতে না খাওয়ালেও আমার পাশে বসে গল্প করতো আমি খেয়ে নিতাম।

মেডাম এতোটাই আদর করতো, যার ফলে মায়ের অভাব একটু হলেও মোচন হয়েছিল আমার। মায়ের জন্য খারাপ লাগা কমে যেতো যতোক্ষণ মেডাম কাছে থাকতো।


শুধু আমায় ভালোবাসতো, সব বুঝাতো এমন নয়, দাদির সাথেও খুব ভালো ব্যবহার করতো।


দাদির অসুখ হয়েছিল। চোখে কম দেখেন, কখন কোম ঔষধ গুলো খাবে বুঝতপন না। মেডাম একদিন আমায় পড়ানো শেষে দাদির ঔষধ গুলো আলাদা আলাদা করে ভাগ করে বুঝিয়ে দিলেন, কখন কোন ঔষধ খাবে। দাদি তো সে কি খুশি। আনন্দে মেডামের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দিল।


এ ভাবেই কাটতে লাগে আমার দিন, ছোট ফুফুর বাড়ি আমাথের এখান থেকে বেশি দূরে নয়। দুই গ্রাম৷ পরের। সে জন্য প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেল হলে এসে পরতেন তিনি।

দেখতে দেখতে তিন মাস কেটে গেলো ঠিক এ ভাবেই, 


এর মধ্যে আরও একটা ঘটনা ঘটে গেছে, নাদিম ভাইকে নাকি আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে একে বারে,

বেপার টা আমার জন্য খুশির নাকি বেদনার হবে তখনও বুঝতে পারছিলাম না আমি।

নাদিম ভাইয়া আমার থেকে কয়েক বছরের বড়। তার সাথে মিশতে পারব তো আমি? নয়ন হলে ভালো হতো। দু জন সমবয়সী ছিলাম, 

মনপর ভিতর সংকোচ হচ্ছে, ভয় জন্য নিচ্ছে রীতিমতো, কি হবে সেই ভেবে


#চলবে ইনশাআল্লাহ


( লেখিকা এখন ঘুমেষে যাবে😴 বিদায় পৃথিবী )

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url