#উপসংহারে_তুমি
#রুহানিয়া_ইমরোজ
#পর্বঃ০২
দীর্ঘ ছয় ঘন্টার জার্নি শেষে চিত্রা পা রাখে তার তথা কথিত স্বামীর ভিটায়। অন্যদের বেলায় কী হয় জানা নেই তবে ছয়তলা বিশিষ্ট ছিমছাম বাড়িটা দেখে হুঁ হুঁ করে ওঠে চিত্রার মন। বাপের ঘরে তো ঠাঁই মিলল না। এই নাম মাত্র সম্পর্কের জোরে ক'দিন টিকতে পারবে এখানে?
নাওয়াফ যদি বের করে দেয় তখন কী হবে? কোথায় যাবে চিত্রা? তবে কী শেষ অব্দি পাগল বেশে ঘুরতে হবে তাকে? রাস্তার পশুগুলোর হাতে বিসর্জন দিতে হবে ইজ্জত?
ভাবনা গুলো মাথায় আসতেই চিত্রার শ্যামবর্ণের শীর্ণ দেহখানা ভেঙে আসতে চায়। ছোট্ট জীবনটায় বিশাল আঘাত পেয়ে বসেছে। এজন্যই বোধহয় ধৈর্যে কুলচ্ছে না তার।
আশরাফ শিকদার গাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখেন চিত্রা টলছে। তিনি জলদিই এগিয়ে গিয়ে বাহু টেনে ধরেন তার। থরথরিয়ে কাঁপছে মেয়েটা। তিনি হতভম্ব সুরে বলেন,
--" কী হলো আম্মা?
আশরাফ শিকদারের হাত জড়িয়ে ধরে চিত্রা কাঁপা কন্ঠে শুধায়,
--" যদি উনি বের করে দেয় বাসা থেকে?
আশরাফ শিকদার কিঞ্চিৎ থমকান। পরক্ষণে লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,
--" বাড়িটা আমার আম্মা। ও কর্তৃত্ব খাটাতে পারবে না। যদি তেড়িবেড়ি করে তাহলে ভিন্ন ব্যবস্থা নিব আমি। চিন্তা করিস না ..
চিত্রা ভরসা করতে চায়, একটু আশ্বস্ত হতে চায় কিন্তু মনের ভেতর কেউ একজন চিল্লিয়ে বলে, অভাগা যেদিকে যায় সেদিকেই সাগর শুকায়। কাউকে বিশ্বাস করিস না চিত্রা। এই টিকে থাকার লড়াইটা তোর একার। মানুষ করুণা করবে কিন্তু কর্ম তোর একারই করতে হবে।
নিশ্চিন্ত হতে না পারলেও কিঞ্চিৎ শান্ত হয় চিত্রা। মনে ভয়, মস্তিষ্কে দ্বন্দ্ব, আর বুকে একরাশ অনিশ্চয়তা নিয়ে পা রাখে বাড়ির চৌকাঠে। ভেতরের ইন্টেরিয়রটা সুন্দর কিন্তু কোনোকিছুই আকর্ষিত করতে পারছে না তাকে৷ মেয়েটা রোবোটের মতো আশরাফ সাহেবের পিছু হাঁটছে কেবল। লিফটের দিকে যাওয়ার পথে হুট করে একজন মুরুব্বির সাথে দেখা হয় তাদের।
ভদ্রলোক সানন্দে এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরেন আশরাফ সাহেবকে। কুশলাদি বিনিময় করে টুকটাক কথা বলতেই তার দৃষ্টি পড়ে চিত্রার দিকে। বড্ড কৌতূহলী হয়ে জানতে চান,
--" মেয়েটা কে ভাইসাব?
আশরাফ সাহেব দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে যান। জোরপূর্বক হেসে বলেন,
--" আমার ছোটো ভাইয়ের মেয়ে চিত্রলেখা।
ভদ্রলোক আপাদমস্তক পরখ করেন চিত্রলেখাকে। মেয়েটার পরনে আছে সাধারণ ঘরনার একটা কামিজ। চোখমুখের অবস্থা কাহিল। যেন বিশাল ঝড় বয়ে গেছে তার উপর দিয়ে৷ আলুথালু চুলের অবস্থা উপরন্তু অস্বস্তিতে ইতিউতি চাইছে তখন থেকে। তিনি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারলেন না, এই মেয়ে আশরাফ শিকদারের ভাইঝি৷
সব কথা তো আর মুখ ফুটে বলা যায় না। তিনিও কোনোমতে টেনেটুনে বললেন,
--" ও আচ্ছা। বেড়াতে এসেছে নিশ্চয়ই? ক..
বাকি কথা বলার পূর্বেই তাকে থামিয়ে দিয়ে আশরাফ শিকদার বলে উঠেন,
--" এই বছর এইচএসসি দিয়েছে চিত্রা। বাকি পড়া লেখা এখানে থেকেই কন্টিনিউ করবে। যেখানে ওর নিজের চাচার বাড়ি আছে ঢাকায়... সেখানে অন্য কোথাও কেনো থাকবে বলুন?
ভদ্রলোক কেনো যেন খুব বেশি একটা খুশি হতে পারলেন না আশরাফ শিকদারের কথায়। আমতা আমতা করে এই সেই বলে প্রসঙ্গ পাল্টাতে চাইলেন কিন্তু চিত্রার কানে বাজতে থাকলো ওই কথাটা। সে শুধুমাত্র ভাতিজি হয়? আর কোনো সম্পর্ক নেই? জোর করে বিয়ে দিতে তো সমস্যা হয়নি তাহলে সমাজের সামনে পরিচয় দিতে বাঁধছে কেনো?
ভেতরকার কথাগুলো ভেতরেই রয়ে গেল। মুখ ফুটে আর বলা হলো না কিছু। একমুঠ ভাত আর একটা নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় জলাঞ্জলি দিল সমস্তটা। বড়সড় ঢোক গিলে চেষ্টা করল কান্না আটকানোর। নিজেই নিজেকে ধমকে বলল,
--" লোভী হোস না চিত্রা। যেখানে প্রাপ্যটুকু মেলে না সেখানে পর্যাপ্ত কিছু কীভাবে আশা করিস তুই?
বেহায়া অশ্রুরা বাঁধ মানল না। অপমানের তীরটা বড্ড তীক্ষ্ণ ছিল বোধহয়। আশরাফ শিকদার আরও কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে চিত্রাকে নিয়ে উঠে আসেন তৃতীয় তলায়। এই বাসার প্রত্যেকটা ফ্লোরে দুটো করে ইউনিট আছে।
অন্যগুলোতে ভাড়াটিয়া থাকলেও এই ফ্লোর সম্পূর্ণ উনাদের। বাঁ পাশের ফ্ল্যাটে নিজের স্ত্রী এবং ছোটো কন্যা নিয়ে থাকেন আশরাফ সাহেব আর অন্যটায় থাকে নাওয়াফ আর তার ছেলে নাফিম৷
এই দূরত্বটা অবশ্য নাওয়াফের বিয়ের পরই তৈরী হয়েছিল। নিত্যদিন ঝামেলা লেগে থাকতো বাসায়। উনার সহধর্মিণী নাজিফা নাজনীন কিছুটা রাগী ধাঁচের মানুষ। তার কথা মতো কিছু না চললে লঙ্কা কাণ্ড বাঁধিয়ে ফেলেন রীতিমতো।
একমাত্র ছেলের জন্য কোনো সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে আনতে চেয়েছিলেন তিনি কিন্তু সবার কথা অমান্য করে আশরাফ সাহেব ভাতিজিকেই পুত্রবধূ করে নিয়ে আসেন। ব্যস.. বেঁধে যায় ঝামেলা। মুখে কিছু না বললেও কাজকর্মে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতে থাকেন নজিফা বেগম।
নাওয়াফের বড় বউ চৈত্রিকা ভীষণ চালাকচতুর ছিল। কোনোকিছু নিয়ে শাশুড়ির সাথে ঝামেলায় জড়াতো না। জায়গামতো নালিশ জানাতো কেবল।নাওয়াফ বুদ্ধিমান পুরুষ বিধায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিজেই আলাদা থাকার সিধান্ত নেয়। নাজিফা বেগম ছেলের উপর কথা বলতে পারেননি। আক্রোশ চেপে রেখে মেনে নিয়েছিলেন সেই সিধান্ত। সেই যে ছেলেটা আলাদা হলো, আর ফিরল না ঘরে৷
অতীত ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন আশরাফ শিকদার। আবার যে কোন ঝড় আসবে কে জানে? বুক ভরে শ্বাস টেনে কলিংবেল চাপলেন তিনি। সময় গড়ালো কয়েক মিনিট এরপর খট করে খুলে গেল বাড়ির দরজা। নাজিফা বেগম অসময়ে স্বামীকে ফিরতে দেখে প্রশ্নাত্মক কন্ঠে বললেন,
--" খানিক্ষণ আগে ছেলে আসলো এখন আবার তুমি...
কথা বলার ফাঁকে উনার চোখ আঁটকায় চিত্রার দিকে। বহু বছর পর দেখায় চিনতে পারেন না তাকে কিন্তু স্বামীর পাশে অসমবয়সী এক মেয়েকে দেখে ভ্রু কুঁচকে যায় উনার৷ তীক্ষ্ণ কন্ঠে শুধান,
--" আবার কাকে নিয়ে এসেছ তুমি? কে এই মেয়ে?
আশরাফ শিকদার ঠান্ডা মাথায় সামলাতে চাইলেন পরিস্থিতি। বউকে ঠেলে সরিয়ে ঠান্ডা মাথায় বললেন,
--" সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। ভেতরে আসতে দাও আগে। কতদূর থেকে এসেছি..
নাজিফা বেগম সরলেন না। উল্টো গলার স্বর বাড়িয়ে বললেন,
--" উত্তর দাও সমুদ্রের বাবা.. মেয়েটা কে?
আশরাফ শিকদার হাল ছেড়ে ধীর গলায় বললেন,
--" আমাদের নাওয়াফের বউ।
তিন শব্দের উত্তর অথচ নাজিফা বেগমের মনে হলো কেউ উনাকে তিন’শ ফুট উঁচু থেকে ধরণীতে আছড়ে ফেলেছে। মিনিট কয়েক অপলক চোখেই চেয়ে থেকে হুংকার দিয়ে উঠেন তিনি। এক থাবার স্বামীর বুকের পাঞ্জাবি খামচে ধরে রাগান্বিত গলায় বলেন,
--" কী ছেলেখেলা শুরু করেছ তুমি? আবার কোন ধ্বংসবতীকে আনলা আমার ছেলের জীবনে? ওর সুখ সহ্য হয় না তোমার?
আশরাফ শিকদার বউকে সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পারেন আর কই? নাজিফা বেগম সমানতালে চিৎকার করতে থাকেন। চিত্রা আতঙ্কিত দৃষ্টিতে দেখে পুরো দৃশ্যটুকু। মিনিট খানেক পেরোতেই খট করে খুলে যায় ডান দিকের ফ্ল্যাটের দরজা।
ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে অর্ধনগ্ন নাওয়াফ। যার পরনে রয়েছে কেবল একটা লুঙ্গি। ওকে বেরোতে দেখে থেমে যান নাজিফা বেগম। নাওয়াফ কারও তোয়াক্কা করে না। সোজা এসে শক্ত করে চেপে ধরে চিত্রার হাত। তাকে টানতে টানতে আশরাফ সাহেবের ফ্ল্যাটে নিয়ে যেতে যেতে চাপা স্বরে গর্জে উঠে বলে,
--" ভেতরে এসো মামুনি..
নাজিফা বেগমের কলিজা হাতে চলে আসে একদম।আশরাফ সাহেবও থমকে যান ছেলের কাজে। আর চিত্রা? সে তো ভ্রমের মধ্যে চলে যায়। যে ব্যক্তি ঠিক ঠাক মতো কথা বলেনি কোনোদিন সে কি-না সোজা হাত চেপে ধরেছে তার। এ-ও কী হজম হওয়ার মতো বিষয়?
চিত্রার ভ্রম কাটে শীঘ্রই। সকলে ড্রয়িংরুমে উপস্থিত হতেই নাওয়াফ জলদগম্ভীর স্বরে বলে,
--" আমার বিয়ে করা স্ত্রী চিত্রা। যেভাবেই হোক, সে জড়িয়ে গেছে আমার জীবনের সাথে। অস্বীকার করার উপায় নেই, আমি তার অভিভাবক আর সে আমার পরিচয় বহনকারী শিষ্য।
কথাটুকু বলে দম ফেলে নাওয়াফ৷ বাকিরা থম মেরে চেয়ে আছে তার দিকে। চিত্রা নীরবে সয়ে যায় সমস্ত তাচ্ছিল্য। কী অদ্ভুত.. এই সমাজে মানুষের চাইতেও নাম-ধামের কদর বেশি? পরিচয় বিহীন মানুষ বুঝি মূল্যহীন? যার আপন কেউ নেই.. তার দাম নেই এই সমাজে? তারা কী অবাঞ্ছিত নাকি অপ্রয়োজনীয়?
চিত্রার পাংশুটে চেহারার পানে চেয়ে ভীষণ শক্ত গলায় বলে নাওয়াফ,
--" চিত্রলেখার সাথে সংসার করতে ইচ্ছুক নই আমি। খুব দ্রুত এই সম্পর্কের ইতি টানতে চাই। সে যত দিন আমার পরিচয় বহন করবে ততদিন তার সমস্ত দায়িত্ব পালন করব । এরপর সে তার রাস্তায় আর আমি আমার।
কথাটা বজ্রাঘাতের ন্যায় আঘাত হানে চিত্রার বুকে। মেয়েটা চমকে ওঠে তাকায় নাওয়াফের চোখের পানে। ভুলটা বোধহয় সেখানেই হয়। অসম্ভব সুন্দর চোখদুটোতে লেপ্টে থাকা বিতৃষ্ণা দেখে মনটা বিষিয়ে যায় তার। ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যায় একদম। সৃষ্টিকর্তা, কেনো এত যন্ত্রণা লিখল তার কপালে? সইতে পারছে না তো আর..
ভেবেছিল আশ্রয়ের বিনিময়ে অপমান সয়ে নেওয়া কঠিন কিছু নয় অথচ এখন মনে হচ্ছে অনাদার সইবার চেয়ে আত্মহত্যা করাই শ্রেয়। কোমল চিত্রা কী ভয়ংকর বাস্তবতা উপলব্ধি করছে তা কেবল সেই জানে।
মেয়েটার ছলছল আঁখি জোড়া বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করতে পারল না সেই কঠিন পুরুষকে। সে বলে চলল,
--" ডিভোর্স পেপার রেডি হতে মাস ছয়েক সময় লাগবে। ততদিন তোমাদের দায়িত্বে থাকবে ও। যা প্রয়োজন তা আমি দেব। আশাকরি কোনো সমস্যা হবে না এতে..
এতক্ষণ নিশ্চুপে ছেলের কথা শুনছিলেন আশরাফ শিকদার কিন্তু এবার আর চুপ থাকতে পারলেন না। সব সময় তো আর অন্যায় আবদার মেনে নেওয়া যায় না। কিছু সময় সন্তানের ভালোর জন্য তাদের মতের বিপরীতে যেতে হয়৷ ছেলের কথায় দ্বিমত পোষণ করে বলে উঠেন,
--" এই বাসায় রাখলে আমার ভাতিজিকে রাখব। অন্যের বউকে রাখার কোনো ইচ্ছে নেই আমার। যার বউ তার মাথা ব্যথা। আমরা কেন সেল্টার দিব তাকে? কী দায় পড়েছে আমার?
নাওয়াফ ভ্রু কুঁচকে তাকায় বাবার পানে। এমনেই মেজাজ তার গগনে তার উপর বাবার আজাইরা কথা। জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার বিষয়টা নিয়ে এখনও সিন ক্রিয়েট করেনি কিন্তু এবার কিছু একটা হয়ে যাবে বোধহয়।
ক্ষ্যাপাটে বাঘের ন্যায় ফুঁসতে ফুঁসতে নাওয়াফ শুধায়,
--" কী বলতে চাইছ তুমি?
আশরাফ শিকদার সাবলীল গলায় বলেন,
--" যদি চিত্রা এই বাসায় থাকে তবে তাকে ডিভোর্স দিতে পারবে না তুমি। যদি সংসার করার পর ওকে ছেড়ে দিতে চাও তাহলে আপত্তি নেই আমার। কিন্তু তোমার নামমাত্র বউকে আশ্রয় দিতে পারব না আমি।
রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে আসে নাওয়াফের। বৃদ্ধ বাবার সাথে বেয়াদবি করতে চায় না বিধায় হাত মুঠো করে রাগটা দমানোর চেষ্টা করে। দাঁতে দাঁত চেপে শুধায়,
--" কেনো পারবে না আশ্রয় দিতে?
আশরাফ শিকদার বড্ড সাবলীল গলায় বলেন,
--" তোমার কাঁধের বোঝা আমি কেন টানব? বড় হয়েছ, বিজনেস করছ, বউ পালার সামর্থ্য আছে, নিজের একটা ফ্ল্যাট ও পেয়েছ। তাহলে কোন দুঃখে তোমার বউ রাখতে চাইছ আমাদের কাছে? কোনো ধরনের উটকো ঝামেলা পালতে ইচ্ছুক নই আমি।
নাওয়াফ পাল্টা কোনো উত্তর দেয় না। পুরুষত্বে আঘাত লেগেছে তার। তার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারই পিতা। রগচটা নাওয়াফ কী আর মানতে পারে সেটা? সে রাগের চোটে চিত্রার হাত ধরে হনহনিয়ে বেরিয়ে যায় আশরাফ শিকদারের ফ্ল্যাট থেকে। ভেতরে ঢুকে শব্দ করে আঁটকে দেয় দরজা। নাজিফা বেগম আঁতকে উঠে বলেন,
--" এ কী করলা তুমি...
আশরাফ সাহেব ধপ করে সোফায় বসে বললেন,
--" তোমার ছেলেকে একটা বউ উপহার দিলাম।
অসময়ে স্বামীর এমন নাটকীয়তা মানতে পারলেন না নাজিফা বেগম। বকতে লাগলেন তাকে। এত কিছুর মাঝে কেউ দেখল না, এই তর্ক বির্তক ঠিক কতখানি ক্ষত-বিক্ষত করল ওই সাদাসিধে মেয়েটাকে।
কেউ জানল না, একেকটা তুচ্ছতাচ্ছিল্য কী পরিমাণ কষ্ট দিল তাকে। কেউ টের পেল না, কথার আঘাত কতটা নির্মম ভাবে হত্যা করল চিত্রার সহজ সরল সত্তাকে। বন্দী দরজার ওপারে কী ঘটলো কে জানে তবে সময়ের ব্যবধানে এতটুকু স্পষ্ট হলো। চিত্রা আর নেই..
চলবে?
