#আলো_আঁধারে 

#জান্নাত

৪. ( শেষ পর্ব )


সায়ন্তন ফিরলো রাত করে। অবনী তখন ঘরেই ছিলো। অবনী দেখেও না দেখার ভান ধরে ওয়াশ রুমে ঢুকে গেলো সে। অবনী সুযোগ বুঝে অন্তুর দেওয়া ছোট্ট ক্যামেরা টা ফুলদানির পিছনে লুকিয়ে রাখলো। আর অপেক্ষা করতে থাকলো সায়ন্তনের বের হ‌ওয়ার। 


ঘন্টা দুয়েক পর সায়ন্তন গোসল সেরে বেরিয়ে এলো ওয়াশ রুম থেকে। টাওয়াল টা খাটের উপর ছুড়ে ফেলে সোফায় গিয়ে বসলো ফোন নিয়ে। অবনী মনে মনে প্রস্তুতি নিলো। আজ সে সায়ন্তনের মুখোশ খুলেই ছাড়বে। 


কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে র‌ইলো অবনী। হঠাৎ সায়ন্তনের দিকে চেয়ে ধরা গলায় বলে উঠলো,

_ আমার সাথে এমনটা কেন করলেন সায়ন্তন?' 


সায়ন্তন আচমকা অবনীর এ প্রশ্নে ঘাবড়ে গেলো। থতমত খেয়ে চেয়ে র‌ইলো তার দিকে। 


অবনী ফের প্রশ্ন করলো,

_ কি হলো? কোনো জবাব কেন দিচ্ছো না? কেন করলে আমার সাথে এমন? কেন ঠকালে আমায়? কি ক্ষতি করেছিলাম আমি তোমার?' 


সায়ন্তন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। অবনী হঠাৎ করে এসব কি বলছে? আর কেনোই বা বলছে?' 


_ কি বলছো এসব? কি হয়েছে তোমার?' 

ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো সায়ন্তন। অবনীর মুখভঙ্গি বদলালো না। সে আবার বললো,

_ আমি কি বলছি তুমি বুঝতে পারছো না সায়ন্তন? নাকি না বোঝার ভান ধরে আছো?' 


_ অবনী, যা বলার পরিষ্কার করে বলো।' 


অবনী থেমে দম নিলো। যেভাবেই হোক, আজ তার মুখ থেকে সব সত্যি স্বীকার করাতেই হবে। চোখেমুখে তীব্র ঘৃণা নিয়ে সে সায়ন্তনকে বলল,

_ তুমি বুঝবে পারছো না? আমাকে এতো বাজেভাবে ঠকিয়ে, সমাজে আমার মান সম্মান নষ্ট করে এখন বলছো তুমি কিছু বুঝতে পারছো না? আমার গর্ভের সন্তান টা তো তোমার ই। তুমিই এ সন্তানের বাবা। তাও কী সুন্দর করে অস্বীকার করলে সব! ডাক্তার কে দিয়ে সব রি*পোর্ট ও বদলে দিলে। এটা প্রমাণ করালে যে এই সন্তানের বাবা তুমি ন‌ও। এটা অন্য কারো সন্তান! ছিঃ সায়ন্তন ছিঃ! এতটুকু মনুষ্যত্ব তোমার মাঝে অবশিষ্ট নেই? যে বাচ্চা টা এখন ও দুনিয়ার আলো দেখেনি তাকে নিয়ে তুমি এই নোংরা খেলা টা খেলছো?' 


বলতে বলতে কেঁদে ফেললো অবনী। সায়ন্তন কয়েক মুহূর্ত হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে র‌ইলো। তারপর সন্দিহান গলায় বলল,

_ আজ হঠাৎ এসব কথা কেন বলছো অবনী? এটা নিয়ে তো আমাদের মাঝে আগেই কথা হয়ে গেছে।' 


_ কেন বলছি বুঝতে পারছো না সায়ন্তন? তুমি কেন এমন করেছো সেটা আমার জানার প্রয়োজন নেই? আমি জানতে চাই। এটা তুমি আমার সাথে কেন করেছো? এই প্রশ্নের উত্তর তুমি আমায় দাওনি সায়ন্তন।' 


_ কিসের উত্তর দিবো? ( গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল সায়ন্তন )'


_ কিসের উত্তর দেবে? এখন‌ও বলছো কীসের উত্তর দেবে? আমার সব প্রশ্নের উত্তর আজ দেবে তুমি। না হলে আমি বাবাকে বলে দেবো তোমার কুকর্মের কথা। কি যেন নাম তার! ডাঃ এলা তাই না? যে ডিএন‌এ টেস্ট করেছিলো?' 


সায়ন্তনের বেশ বড়সড় একটা ঝটকা লাগলো। চমকে দু কদম পিছিয়ে গেলো সে। অবনী কীভাবে জানলো এসব? সে তো ভেবেছিলো অবনী মেয়েটাকে চেনে না। শুধু জানে তার কারো সাথে সম্পর্ক আছে। কিন্তু অবনী এতো কিছু জানে? সে যেন সে ভাবতেই পারেনি। 


_ ক... কি বলছো এসব? কে ডাঃ এলা?' 


অবনী তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো। 

_ সায়ন্তন! তুমি কি ভাবো বলোতো। দুনিয়ায় একমাত্র তুমিই চালাক ব্যাক্তি? আর সবাই বোকা?' 


হাত দিয়ে কপালের ঘাম মুছলো সায়ন্তন। 

_ বলো কি জানতে চাও তুমি!' 


ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে উঠলো অবনীর। যদিও সেটা সায়ন্তনের নজরে এলো না।


_ কতদিনের সম্পর্ক?' 


_ সাড়ে তিন বছর।' 


_ তাহলে আমার সাথে বিয়েতে রাজি হলে কেন?' 


_ বাবার ভয়ে।' 


_ বিয়ের আগে আমাকে তো তোমার সম্পর্কের কথা জানাতে পারতে। কিংবা তোমার মা কে বলতে পারতে। উনি তো তোমার কথা শোনে বলে জানি।' 


_ মায়ের ওমন মেয়ে পছন্দ নয়। আর তোমাকেও বলেও বিশেষ লাভ হতো না। বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে বাবা আমায় সম্পত্তিচ্যুত করতো। কোনো ভাগ পেতাম না আমি।' 


_ মেয়েটা তোমার বিয়ের কথা শুনে কিছু বলেনি? রাজি হয়ে গেছিলো? তোমাকে অন্য কারো সাথে বিয়ে করতে দিতে?'


_ আমি বুঝিয়েছিলাম ওকে। ও বুঝেছিলো। প্রথম প্রথম একটু কান্নাকাটি করতো। তারপর সামলে নিয়েছিলো।' 


_ কিন্তু আমার সাথে ইন্টিমেট হলে কেন? অন্য কোনো অযুহাতে ডিভোর্স দিতে পারতে। বাবাকে এটা বলতে পারতে তোমার সাথে আমার মতের মিল নেই। কিংবা আমি তোমার মনের মতো ন‌ই। এই নোংরা খেলা টা খেললে কেন?' 


_ তোমার মনে হয় এই সাধারণ কারণ দেখালে বাবা ডিভোর্সের জন্য রাজি হতো? তোমার সাথে ইন্টিমেট হ‌ওয়ার এই আইডিয়া ও এলা ই আমাকে দিয়েছিলো। যাতে খুব সহজেই সব হয়ে যায়। বাবা ও নিজে থেকে আমাদের ডিভোর্স করিয়ে দেন।' 


অবনী বসলো খাটে। সায়ন্তন এতোটা নোংরা মস্তিষ্কের! এই মানুষটার সাথেই এতো দিন সে সংসার করে এসেছে? ভালোবেসেছে? তার নিজের উপর ই ঘৃণা লাগছে এখন। অবনী কোনোমতে নিজেকে সামলে নিলো। 


_ তার মানে তুমি বলছো সেদিন তুমি নেশার ঘোরে নয়, জেনে বুঝেই আমার সাথে ইন্টিমেট হয়েছিলে?' 


সায়ন্তন মাথা নেড়ে জবাব দেয় — হ্যাঁ।' 


_ ডিএনএ টেস্টের রি*পোর্ট তোমার গার্লফ্রেন্ড চেন্জ করেছিলো তাই না? কিন্তু ও নিজেই তো রি*পোর্ট নিয়ে এসেছিলো সবার সামনে। কেউ চিনতে পারেনি কেন? তোমার বাবা মা কি ওকে চেনে না? ওর কথা কি তুমি বলো নি কাউকে? রাজি হতো কি না সেটা তো পরের ব্যাপার।' 


_ তোমাকে বললাম না, মা বাবার এমন মেয়ে পছন্দ নয়। ওদের পছন্দ তোমার মতো মেয়ে। এলা একটু অন্যরকম। ও সংসারী নয়। আর বাবা মায়ের সংসারী মেয়ে পছন্দ, তোমার মতো।' 


_ তোমার কেন আমায় পছন্দ হলো না সায়ন্তন? ভুল তো তুমিই করেছো। অন্যায় তো তুমি করেছো! তার জন্য আমি কেন ভুগবো? কেন আমি শাস্তি পাবো? তোমার মা আমাকে অতগুলো বাজে কথা বলেছে। ইনফ্যাক্ট এখন‌ও বলছে। চোখের সামনে দেখলেই। কেন সায়ন্তন? আমি তো তোমার কোনো ক্ষতি করিনি। তবে কেন আমাকে এতো বড় শাস্তি দিলে সায়ন্তন? তোমার লজ্জা করেনা? নিজের স্বার্থের জন্য আমার জীবন টা নিয়ে খেললে?' 


_ অবনী আমি....!' 


_ চুপ! তোমার ঐ মুখে আমি আমার নাম টাও শুনতে চাই না আর। মানলাম বিয়েটা তুমি অনিচ্ছা সত্ত্বেও করেছো। তারপর তো আমাকে জানাতে পারতে? বলতে পারতে তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসো। আমার সাথে সংসার করতে পারবে না। কেন করলে আমার জীবনটা নষ্ট? জবাব দাও সায়ন্তন।' 


সায়ন্তন কথা বলে না। মাথা নিচু করেই দাঁড়িয়ে র‌ইলো। কিই বা বলবে সে। তার কাছে তো অবনীর কোনো প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। এতো দিন তার অবনীর সাথে করা অন্যায়ের কথা ভেবে খারাপ লাগেনি। গিল্টি ফিল হয়নি। কিন্তু আজ হচ্ছে। আজ তার মনে হচ্ছে সে অন্যায় করেছে। 


অবনী হঠাৎ করেই চিৎকার করে সায়ন্তনের বাবা মা কে ডাকতে লাগলো। সায়ন্তন ঘাবড়ে গেলো। কয়েক মিনিট পর রহমান সাহেব আর মনোয়ারা খানম ঘরে ঢুকলো। মনোয়ারা খানমের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ। কিন্তু সায়ন্তন ভয় পেলো। অবনী সবকিছু বলে দেবে না তো? সায়ন্তনের ভয়টাই সত্যি হলো শেষমেশ। 


অবনী তাদের সবটা বললো। সায়ন্তনের বলা কথা একে একে সব খুলে বললো। রহমান সাহেব হতভম্ব হয়ে গেলেন। মনোয়ারা খানম মুখ বাঁকিয়ে অবিশ্বাসের সুরে বললেন,

_ তোর তো সাহস কম না মাইয়া। তুই নিজে আকাম ক‌ইরা আমার ভোলাভালা পোলাডারে ফাসাইতে চাইতেছোস? লজ্জা করে না তোর?' 


_ না মা! করে না। আমি লজ্জা পাওয়ার মতো এমন কিছু করিনি যাতে লজ্জা পেতে হবে। লজ্জা পাওয়া উচিত আপনার ছেলের। অন্যায় সে করেছে।' 


চিৎকার করে বললো অবনী। রহমান সাহেব ঠাস করে একটা চ'ড় ব'সিয়ে দিলেন সায়ন্তনের গালে। মনোয়ারা খানম রেগেমেগে আগুন হয়ে উঠলেন! 

_ এইডা তুমি কি করলা সায়ন্তনের বাপ? আমার পোলার গায়ে হাত তুললা? ঐ নষ্টা মাইয়াডার কথা শুইনা? কি প্রমাণ আছে যে আমার পোলায় এসব করছে? ক‌ও? কিছু না জাইনা, যাচাই না ক‌ইরা তুমি মাইনা নিলা?' 


সায়ন্তনের মুখভঙ্গি ও পাল্টে গেলো। অনুতাপ বোধের ছিটেফোঁটাও দেখা গেলো না তার মুখে। 

_ ও কে বাবা? আমি তোমার নিজের ছেলে। তুমি আমার থেকে ওকে বেশি বিশ্বাস করো? কি প্রমাণ আছে আমি এসব বলেছি? ও আমাকে ফাঁসাতে চাইছে বাবা। নিজের দোষ ঢাকতে এসব করছে।' 


অবনী ওর দিকে চেয়ে হেসে বলে উঠলো, 

_ সায়ন্তন! গিরগিটি ও তো তোমাকে দেখে লজ্জা পেয়ে যাবে। আরে একটু তো লজ্জা শরম রাখো। এতো তাড়াতাড়ি তো মনে হয় সেও নিজের রং পাল্টায় না। যত দ্রুত তুমি রং পাল্টাচ্ছো।' 


_ চুপ! একদম চুপ! একদম বাজে কথা বলবে না তুমি। তুমি নিজে পাপ করে আমার ঘাড়ে চাপাতে চাইছো?' 


_ আচ্ছা? তাই বুঝি?' 


অবনী ফুলদানিটার পিছন থেকে ক্যামেরা টা বার করলো। সেটা হাতে নিয়ে সায়ন্তনের দিকে চেয়ে বলল,

_ কি বলছিলে? প্রমাণ? এই যে আমার হাতে দেখছো? এটা প্রমাণ। তোমার নিজের মুখে স্বীকার করা, সব পাপের প্রমাণ এতে আছে।' 


সায়ন্তন র*ক্তশূন্য মুখে চেয়ে র‌ইলো অবনীর দিকে। বিড়বিড় করে বললো,

_ আমার প্রথমেই সন্দেহ হয়েছিলো। কেন তুমি এসব কথা আজ বলছো। কিন্তু বুঝতে পারিনি তুমি এটা করতে পারো।' 


_ এটাই তোমার ভুল জানো তো! নিজেকে বড্ড বেশি চালাক আর অন্যদের বোকা ভাবা। এটা তোমার চরম বোকামি। আর মা, কি যেন বলছিলেন, আপনার ভোলাভালা ছেলেকে আমি ফাসাচ্ছি? দেখবেন নাকি, আপনার ভোলাভালা ছেলের করা কুকর্মের প্রমাণ?' 


মনোয়ারা খানম কথা হারিয়ে ফেলেছেন। কিই বা বলবেন তিনি আর। এতোক্ষণে বুঝে গেছেন তিনি, অবনী যা বলছিলো সব সত্যি। তিনি কোনো জবাব দিলেন না। রহমান সাহেব এবার সায়ন্তনের দিকে চাইলেন,

_ তুমিই এসব করেছো? মিথ্যা বলার চেষ্টা ও কোরো না। প্রমাণ সামনেই রাখা আছে। তাই এটাই ভালো হবে সব সত্যি সত্যি বলো।' 


সায়ন্তন মাথা নিচু করে বলল,

_ হ্যাঁ।' 


_ কেন করেছো?' 


_ কেন করবো না বাবা? তুমি, মা সবসময় নিজদের পছন্দ কে আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছো। কখন‌ও জানতে চাওনি আমার কি পছন্দ। আমি কি চাই। তোমাদের যা মনে হয়েছে, যেভাবে মনে হয়েছে আমার জীবনকে কন্ট্রোল করেছো। এটা ভুলে গেছো আমি কোনো পুতুল ন‌ই। একজন মানুষ। আমার নিজের ও পছন্দ অপছন্দ থাকতে পারে। আমি ভালোবাসি অন্য কাউকে। কিন্তু তোমরা কি করলে, নিজেদের পছন্দের মেয়ের সাথে আমাকে বিয়ে দিয়ে দিলে। একবার ও জিজ্ঞেস করেছিলে তাকে আমার পছন্দ কিনা? জানতে চেয়েছিলে আমি এ বিয়ে করতে চাই কিনা? চাওনি বাবা। শুধু আজ নয়, ছোট থেকেই কোনোকিছুতে আমার কোনো মতামত নাওনি তুমি। তাই বাধ্য হয়ে আমায় এসব করতে হয়েছে।' 


_ তুমি আমাকে জানিয়েছিলে তোমার অবনীকে নয়, অন্য কাউকে পছন্দ?' 


_ কীভাবে জানাতাম? তোমার সাথে তো আমার সেই সম্পর্ক নয় বাবা। তোমাকে জানালে তুমি মানতে?' 


_ হ্যাঁ মানতাম। আমি আমার পছন্দকে তোমার উপর চাপিয়ে দিই কারণ আমি তোমার জন্য যেটা ভালো সেটাই পছন্দ করি। অবনী কে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে আমি তোমার উপর রাগ হয়তো করতাম, কিন্তু মেনে নিতাম। তুমি আমার সন্তান! তোমার খারাপ আমি কখন‌ও চাইনি। তোমার পছন্দ অপছন্দ কে আমি প্রাধান্য দিই নি কারণ তুমি কখনোই বলো নি তোমার কি পছন্দ। আমাকে কখন‌ও জানাওনি বাবা আমার এটা নয়, এটা পছন্দ। আমি কীভাবে বুঝবো? আমার পছন্দ করা জিনিস তোমার পছন্দ নয়? তোমার চুপ থাকা কে আমি সম্মতি ভেবে নিয়েছি সবসময়। তুমি নিজে থেকে কিছু বলেছিলে আমায় কখনোও? জানিয়েছিলে কিছু? আর আজ বলছো আমি জোর করে সব তোমার উপর চাপিয়ে দিয়েছি?' 


সায়ন্তন জবাব দিলো না। বাবার কথা তো সত্যিই। সে তো কখন‌ওই বলেনি, তার পছন্দ কোনটা, অপছন্দ কোনটা। এখন সে কিসের ভিত্তিতে ওদের উপর রাগ দেখাবে? ভুল তো তার ই। অন্যায় তো সে করেছে। বাবা মানুক বা না মানুক, একবার চেষ্টা তো করে দেখতে পারতো। সে তো তা করেনি। তাহলে সে কেন অন্যকে দোষ দিচ্ছে! 


অবনী ক্যামেরা টা রহমান সাহেবের হাতে ধরিয়ে দিলো!

_ আমার কাজ শেষ বাবা। আমি এখানে শুধুমাত্র নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য‌ই থেকে গেছিলাম। যে ঘৃণ্য কাজ আমি করিনি তার দায়ভার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে চাইনি। আর নয়। এবার আমার যাওয়ার সময় হয়েছে। ডিভোর্স পেপার টা পাঠিয়ে দিবেন। আমি সাইন করে দেবো।' 


অবনী যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই রহমান সাহেব পিছু ডাকলেন।

_ তোমার কাছে কি বলে ক্ষমা চাইবো তার ভাষা আমার জানা নেই। যদি পারো আমায় মাফ করে দিও। এক মুহুর্তের জন্য আমার ও মনে হয়েছিলো তুমি এমন কিছু করতে পারো। তোমাকে আমি থেকে যেতে বলবো না। সে মুখ আমার নেই। তবে এটা অবশ্যই বলবো তোমার সাথে হ‌ওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ তুমি করো। পুলিশের সহায় হ‌ও। শাস্তি দাও তাদের যারা এসব করেছে তোমার সাথে। তুমি আজ ওদের এভাবে ছেড়ে দিলে ওরা পরে এর চেয়েও বড় অন্যায় করবে। চুপ করে থেকো না মা।' 


_ না বাবা। ভালোবাসা টা কোনো অন্যায় না। ওরা যা করেছে ভালোবাসার জন্য করেছে। নিজেরা এক হতে করেছে। তবে ওরা নিজেদের স্বার্থের জন্য অন্যদের জীবন নিয়ে খেলেছে। এটা একটা পাপ। তার জন্য শাস্তি আমি ন‌ই। উপরে যে একজন বসে আছেন, তিনিই দেবেন। আমি সব তার উপর ছেড়ে দিলাম। আমার কাজ নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করা, সেটা আমি করেছি। এখন আমার আল্লাহ তার বান্দার সাথে হ‌ওয়া অন্যায়ের শাস্তি দিবেন। আমি ন‌ই। remember that, ওনার দেওয়া শাস্তি ঠিক কতটা ভয়ংকর হতে পারে।' 


অবনী কথাটুকু বলেই বেরিয়ে গেলো। সায়ন্তনের হৃদয় কেঁপে উঠলো। রহমান সাহেব এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন অবনীর যাওয়ার পানে। 


সায়ন্তনকে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি, তার শাস্তির জন্য। এলা যে তাকে ঠকাচ্ছিলো তা সে বুঝতে পারে কিছুদিন পর ই। এলা তার বিয়ের পরেই অন্য কাউকে বিয়ে করে নিয়েছিলো। কিন্তু সায়ন্তনকে কিছু জানায়নি। সে ভেবেছিলো সায়ন্তন তাকে ঠকিয়েছে। তাই তার সংসার সে ভেঙে দেবে। সেটাই করলো এলা। অবনী চলে যাওয়ার পর‌ই সে নিজের আসল রুপ দেখিয়ে দিলো সায়ন্তনকে। সায়ন্তন বুঝেছিলো অবনীর তার জীবনে গুরুত্ব। কিন্তু সময় যে কারো জন্য অপেক্ষা করে না। সে চলে তার আপন গতিতে। সায়ন্তন বড্ড বেশি দেরি করলো সব বুঝতে। 


অবনীর একটা মেয়ে হয়েছিলো। সায়ন্তন অনেক চেষ্টা করেও দেখতে পায়নি তার মুখ। অবনী আর কখনোও তার সামনে আসেনি। সে আর বিয়ে ও করেনি। তার মেয়েকে নিয়েই বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিয়েছিলো। সায়ন্তন হন্যে হয়ে খুঁজেছিলো তাকে। কিন্তু অবনীর দেখা আর সে কখন‌ও পায়নি। 


                                  ~ সমাপ্ত ~


আসসালামুয়ালাইকুম। আজ এই গল্পের পাঠকেরা সবাই মন্তব্য করবেন অবশ্যই। আর একটা কথা জানিয়ে দিই, গল্প টা একটা বাস্তব কাহিনীর উপর লেখা। যদিও বাস্তবে অবনী পারেনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে। তার পরিনতি বিশেষ সুখকর ছিলো না। যাই হোক, বলবেন সবাই, পুরো গল্প টা কেমন লাগলো। আল্লাহ হাফেজ। 


হ্যাপি রিডিং!
 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url