আঁধারি_অমানিশা
পর্ব ৬+৭
নুসরাত_জাহান_মিষ্টি
মেঘ তার মায়ের ঘরে আসে। কিছুক্ষণ পূর্বে মেঘের মা তাকে ডেকেছে। তাই মেঘ আসলো।
“হ্যাঁ মা বলো কেন ডেকেছো?”
মেঘের মা বললো,“তোকে ডাকতে কারণ লাগবে?”
“না মানে...।”
“থাক তোকে আমতা আমতা করতে হবে না। বস বলছি।”
“হ্যাঁ বলো।”
মেঘ মায়ের পাশে বসলো। মেঘের মা বললো,“তুই কি বিয়ে করবি না বলে ঠিক করেছিস?”
“ইচ্ছে নেই।”
“মানে? লোকে কি বলবে? বিয়ের বয়স তোর পার হয়ে যাচ্ছে, আর তুই বিয়ে করতে চাইছিস না। কেন? আমাকে পরিস্কার করে কারণটা বল।”
“তুমি কি আমার বিয়ে নিয়ে কথা বলতেই আমাকে ডেকেছো? তাহলে আমি যাচ্ছি, এসব নিয়ে কথা বলার ইচ্ছে নেই আমার।”
“তোর কোন পছন্দ আছে? থাকলে বল আমাকে? বিদেশে গিয়ে কাউকে ভালো লেগেছে, বলতে পারছিস না। কোন চাপ নেই, নিরদ্বিধায় বলতে পারিস। আমরা মেনে নিবো।”
“তাই? আমি যাকে চাইবো তাকে আমার করে দিবে মা?”
“হ্যাঁ নিশ্চয় দিবো। তুই আমার একমাত্র ছেলে, তাছাড়া বর্তমানে অধিকাংশই সম্পর্ক করে বিয়ে করছে। সেখানে আমরা মানবো না কেন?”
“তাহলে তোমার ননদের মেয়েকে আমার করে দাও।”
মেঘের মা চমকে উঠলো। বিষ্ময় নিয়ে বললো,“মানে?”
“আমি মুনকে বিয়ে করতে চাই। পারলে তার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করো।”
মেঘের মা কঠিন গলায় বললেন,“অসম্ভব।”
“কেন অসম্ভব?”
“ও তোর বোন। সেটা ভেবেই আমি এসব মানতাম না, আর আজ তো কলঙ্কিত। এখন মানার কোন প্রশ্নই আসে না।”
মেঘ চমকে বললো,“কলঙ্কিত মানে? তুমি কি বলছো এসব?”
“তুই বিদেশ ছিলি তাই জানিস না। তোর কি মনে হয় বড় মেয়ের খুঁত না থাকলে কেউ ছোট মেয়ের বিয়ে দেয়?”
“মুনের কি খুঁত আছে? ওকে তুমি কলঙ্কিত কেন বললে মা?”
“কারণ ও কলঙ্কিত তাই। আমি কখনোই ওর সাথে তোর বিয়ের কথা কল্পনাও করতে পারি না।”
মেঘ থমকে গেলো। মেঘের মা এক নাগাড়ে বলে চলেছেন।
“আমি তোর জন্য যে মেয়ে ঠিক করেছি তার সাথেই তোর বিয়ে হবে। তোর বাবা আসুক কাজ সেরে তারপরই সব ঠিক করবো আমি।”
মেঘের মা মেঘকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চলে গেলো।
____
নীলাশা মন খারাপ করে বাসার বাহিরে বসে ছিলো। রুমঝুম তাদের ফ্লাটে যাওয়ার সময় নীলাশাকে বাহিরে দেখে কাছে আসলো।
“কি রে বাসার বাহিরে বসে আছিস কেন?”
“আমি আর বাসায় যাবো না। তুমি আমাকে তোমার সাথে নিয়ে চলো। আজকে রাতটা থাকতে দাও, কাল চলে যাবো।”
“তাই? তা কোথায় যাবি? আর কেন যাবি?”
“কেউ আমাকে ভালোবাসে না। আমি থাকবো না এই বাসায়। চলে যাবো। যেদিকে দু’চোখ যায় সেদিকে।”
“তা কি হয়েছে সেটা বলবি তো?”
“জানো কি হয়েছে? সামান্য একটা গ্লাস হাত দিয়ে পড়ে ভেঙে যাওয়ায় মা আমাকে বকলো। খুব বকেছে। আমার থেকে তার ঐ গ্লাসটার মূল্য তার কাছে বেশি হয়ে গেলো।”
“এজন্য মন খারাপ? তাই রাগ করে বাহিরে দাঁড়িয়ে আছিস? আচ্ছা চল।”
“কোথায়?”
“চল বাহিরে গিয়ে আইসক্রিম খেয়ে আসি। আর তোর সাথে গল্পও করি।”
“আইসক্রিম খাওয়াবে? তাহলে চলো, আমারো খুব খেতে ইচ্ছে করছে।”
“আচ্ছা চল।”
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত ১০টার ঘরে ঘড়ির কাটা।নীলাশা বলে,“এতরাতে বের হবো আপু?”
“সমস্যা কি? আমি আছি না। আমি পাশে থাকতে তোর এত ভয়?”
“না আপু। তোমার সাথে যেতে ভয় কিসের।”
“হ্যাঁ সেটাই। চল তুই আমি তোকে আমার ভরসায় নিয়ে যাচ্ছি। তোর কিছু হবে না।”
“জানি তো রুমঝুম আপু আমার কিছু হতেই দেবে না।”
রুমঝুম হাসলো। তারপর রুমঝুম নীলাশাকে নিয়ে বের হলো। যেতে পথে রুমঝুম বললো,“সংসার জীবন এত সহজ নয়। তুই পিচ্চি তাই বুঝবি না। তাও তোকে বলছি, সংসার জীবনে একজন বউয়ের কাছে তার ছেলে, মেয়ে, স্বামী তারাই শুধু তার সংসারের অংশ নয়। থালা-বাসন থেকে শুরু করে ঘর দেওয়ার ঝাড়ুটা অব্দি খুব প্রিয় হয়ে উঠে, সেগুলোও তার সংসারের একটা অংশ। তার কাছে ঐ সবকিছু নিয়েই তার গোছানো সংসার। সেজন্য সেগুলো নষ্ট হলে তার খুব কষ্ট হয়। আর মানুষ কষ্ট পেলে কি করে?”
“যে তার কষ্টের কারণ হয় তাকে খুব বকাবকি করে।”
“তো তুই তোর মায়ের কষ্টের কারণ হয়েছিস না? গ্লাস ভাঙায় মা কষ্ট পেয়েছে না?”
“হ্যাঁ পেয়েছে।”
“তো সে তোকে বকে কি খুব ভুল করেছে?”
“না। আমি মাকে কষ্ট দিয়েছি, তাই মা রাগে বকেছে। এখানে ভুল তো আমারই।”
“ভুল করলে কি করতে হয়?”
“ভুল সুধরে নিতে হয়।”
“তো তোর এখন করনীয় কি?”
“মায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া।”
“আচ্ছা, আইসক্রিম খেয়ে মায়ের কাছে ঝটপট চলে যাবি। ঠিক আছে?”
“হ্যাঁ।”
রুমঝুম নীলাশাকে নিয়ে অনেকটা দূরে চলে আসলো। তাদের বাসা থেকে দোকানটা মোটামুটি পর্যায়ে দূরে রয়েছে। দোকানের একটু আগে একটা রুমের মতো ঘর রয়েছে। যেখানে কিছু ছেলে আড্ডা দিচ্ছিলো। যাওয়ার পথে রুমঝুম এবং নীলাশার দিকে ছেলেগুলো তাকিয়ে ছিলো। রুমঝুম সেসব পাত্তা না দিয়ে চলে গেলো।
*
নীলাশার মা নীলাশাকে খুঁজে না পেয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লো। আশেপাশের সবাইকে জিজ্ঞেস করছে তাদের কারো বাসায় নীলাশা গিয়েছে কিনা। নীলাশার মা ভেবেছিলো, রাগ করে বাহিরে কিছুক্ষণ বসে তারপর ঘরে চলে আসবে। কিন্তু অনেকক্ষণ কেটে যাওয়ার পরও নীলাশা না ফেরায় সে বাহিরে আসলো। নীলাশাকে পেলো না। মুন বাসায় এসেছে বেশ কিছুক্ষণ হয়েছে। ক্লান্ত থাকায় ঘুমিয়ে পড়েছিলো। মায়ের কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে ঘুম ভেঙে গেলো।
সে উঠে তার মায়ের কাছে আসলো। যখন শুনলো নীলাশা রাগ করে চলে গেছে, কোথায় গিয়েছে কেউ জানে না। তখন মুনও বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লো।
***
নীলাশা এবং রুমঝুম আইসক্রিম খেয়ে বাসায় ফিরছিলো। ফেরার পথে ছেলেগুলো রুমঝুম এবং নীলাশাকে আটকালো।
রুমঝুম বললো,“কি ব্যপার আপনারা পথ আটকালেন কেন?”
নীলাশা এবং রুমঝুম কিছু বোঝার আগে ছেলেগুলো তাদের টেনে রুমটার ভিতরে নিলো। নীলাশা ভয়ে কান্না করে দিলো। রুমঝুমও বেশ ভয় পেলো। তারা দু’জন মেয়ে আর এখানে চারজন ছেলে রয়েছে তাদের সাথে কিভাবে পেরে উঠবে।
ভয় পেয়ে নীলাশা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলো।।একটা ছেলে গিয়ে নীলাশার মুখ চেপে ধরলো।
দু’জন আগে থেকেই রুমঝুমকে ঘিরে রাখছিলো।।ছেলেদের মধ্যে থেকে একজন বললো,“দেখ চেঁচাবি না, আমরা জাস্ট কিছু সময় তোদের সাথে কাটাবো তারপর ছেড়ে দিবো। তবে চেঁচালে মে/রে ফেলবো।”
রুমঝুম ভয় পেয়ে দিকশূন্য হয়ে গেলো। নীলাশার দিকে তাকিয়ে মনেমনে বললো,“পিচ্চিটাকে আমি এখানে নিয়ে এসেছি, ওর কিছু হলে তার দ্বায়ভার আমার। ওর সুন্দর জীবনটা নষ্ট করার দ্বায়ভার নিয়ে আমাকে সারাজীবন কাটাতে হবে, শেষে ওর পরিনতিও হবে মুনের মতো। আর তার জন্য দ্বায়ী থাকবো আমি।”
পরক্ষণেই বলে উঠলো,“না আমাকে কিছু একটা করতে হবে। নীলাশা আমার ভরসায় আমার সাথে এসেছে, ওর ভরসার মান রাখতে হবে।”
রুমঝুম আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো সামনে একটা ইটের অর্ধেক অংশ পড়ে আছে। সামনের ছেলেটাকে কোনমতে ধাক্কা দিয়ে ইটের অংশটা তুলে নিয়ে নীলাশাকে ধরে রাখা ছেলেটার মাথায় মা/র/লো। নীলাশা ছাড়া পেয়ে গেলো।
রুমঝুম বললো,“পিচ্চি দৌঁড় দে। পালা।”
নীলাশা কিছু না বুঝে দৌঁড়ে পালিয়ে গেলো।নীলাশাকে ধরতে অন্য একটা ছেলে যেতে নিলো রুমঝুম তাকেও ইট দিয়ে আঘাত করে।
পিছন থেকে অন্য এক ছেলে রুমঝুমকে ধরে নেয়। তবে নীলাশা তার আগে বের হয়ে গেছে।
রুমঝুম ভয়ে জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থায় পড়ে গেলো। সে জানে তার জীবনে দূর্যোগ নেমে আসতে চলেছে।
*
উপরে তখন অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশ, চাঁদের দেখা নেই। এ তো অমাবস্যার ডাক। হ্যাঁ অমাবস্যা আজ। এই অন্ধকার রাতের ছাঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে রুমঝুম। থেমে গেলো তার জীবন।
*
নীলাশা অনেকটা পথ যেতেই মুন এবং তার মায়ের সাথে দেখা হলো। মুন এবং তার মা কয়েকজনকে সাথে নিয়ে তাকে খুঁজতে আসছিলো। নীলাশা গিয়ে মুনকে জড়িয়ে ধরলো। ভাঙা গলায় বললো,“রুমঝুম আপুকে বাঁচাও।”
'#আঁধারি_অমানিশা
#পর্ব ৭
#নুসরাত_জাহান_মিষ্টি
ছেলে চারজনের মধ্য থেকে একজন বললো,“তাড়াতাড়ি কর। ঐ মেয়েটা কাউকে নিয়ে এখানে আসলে বিপদে পড়বো।”
দ্বিতীয়জন বললো,“হ্যাঁ করছি। আচ্ছা একে কি মে/রে ফেলবো?”
“সময় নেই, চল। পরেরটা পরে ভাবা যাবে।”
ছেলেগুলো চলে যায়। ছেলেগুলো বের হয় সেই মূহুর্তে নীলাশা সবাইকে নিয়ে আসে। জামাল সাহেবের হাতে টর্চ ছিলো সেই টর্চের আলোতে সে একটা ছেলের মুখ স্পষ্ট দেখলো। জামাল সাহেব বলে উঠলেন,“আরে এ তো রিফাত। সামনের গলিতে ওদের বাসা।”
ছেলেগুলো চলে গেলো। সবাই ভিতরে প্রবেশ করলো। রুমঝুম পড়ে আছে মেঝেতে র/ক্ত/ক্ত অবস্থায়।
সবাই রুমঝুমকে নিয়ে হাসপাতালে গেলো। পিছনে নীলাশাকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে মুন।
মুনের হঠাৎ খেয়াল হলো, আকাশে চাঁদ দেখা যাচ্ছে না। রাতটাও বেশ অন্ধকার। তবে কি আজও সেদিনের মতো অমাবস্যা চলছে। তার মতো রুমঝুমের জীবনটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
**
মুনের বাবা-মা, রুমঝুমের মা সবাই ভিতরে আছে। ইতিমধ্যে জামাল সাহেব রিফাতের নাম বলে দিয়েছে।
হাসপাতালের বারান্দায় মুন একা একা বসে ছিলো। মেঘরাজ এসে মুনকে একা বসে থাকতে দেখে তার পাশে বসলো।
মেঘরাজ মুনের ঘাড়ে হাত রাখতেই মুন মেঘরাজকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো।
মুন কান্না করতে করতে ভাঙা গলায় বললো,“আমার মতো রুমঝুমের জীবনটাও শেষ হয়ে গেলো।”
মেঘ বললো,“রুমঝুম বা তুই ইচ্ছে করে নিজেদের জীবনে কলঙ্ক ডেকে এনেছিস নাকি? যে জীবন শেষ হয়ে যাবে। কিচ্ছু শেষ হয়নি। আর হবেও না। আমি যখন সত্যিটা জেনে গেছি তখন আমি তোর জীবন নষ্ট হতে দিবো না। কিছুতেই না।”
“কি করবে তুমি? জীবন তো আমার সেই কিশোরী সময়ে শেষ হয়ে গেছে। যেমন আজ রুমঝুমের জীবন শেষ হয়ে গেলো।”
“জীবন রুমঝুমের নয়, জীবন শেষ হবে তাদের যারা ওর সাথে অন্যায় করেছে।”
“কিচ্ছু হবে না তাদের, তারা দিব্যি মুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়াবে।”
“তোর মতো রুমঝুম পিছিয়ে গেলে তাই হবে। তুই সেদিন পিছিয়ে গেছিলি না, জীবন সুন্দর করতে? কি হলো শেষে? সুন্দর হয়েছে তোর জীবন? হয়নি। বরং সে সুন্দরভাবে জীবন কাটাচ্ছে আর তুই?”
মুনের আরো জোরে কান্না করতে ইচ্ছে হলো।
অতীত,
মুনের বান্ধবী রিয়ার বোনের বিয়ে উপলক্ষে তার বাসায় এলো মুন। আজ গায়ে হলুদ, কাল বিয়ে। দুদিন সেখানে থাকবে মুন।
গায়ে হলুদে বেশ মজায় কাটালো মুন। বেশ দারুন সময় কেটেছে তার।
রাত তখন গভীর। সবাই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে চলে গেলো। মুন রিয়াকে খুঁজছিলো, ঠিক তখন রিয়ার মামা(সজল) মুনকে ডাক দিলো।
“হ্যাঁ মামা কিছু বলবেন?”
“তোমার বাবা ফোন করেছে, এসে কথা বলো।”
“বাবা আপনার কাছে ফোন করেছে?”
“হ্যাঁ। এখানে নেট পাওয়া যাচ্ছে না, তুমি বরং ঘরের পিছনে চলো। কথা বলে আসবে।”
“এতরাতে ঘরের পিছনে যাবো? আচ্ছা মামা আপনি দুই মিনিট পর বাবাকে ফোন দিতে বলেন, আমি রিয়াকে নিয়ে আসছি।”
“তোমার মা অসুস্থ, তোমার বাবা খুব জরুরি কথা বলবে। পরে ফোন দেওয়ার সময় নেই।”
“কি? মা অসুস্থ?”
“হ্যাঁ। তাড়াতাড়ি আসো কথা শুনে যাও।”
মুন কোনকিছু না ভেবে সজলের সাথে ঘরের পিছনে গেলো।
“কই ফোন দিন?”
মুন কথাটা বলার সাথে সাথে সজল তাকে নিয়ে ঘরের পিছনের বাগানের দিকটা টেনে নিলো।
“না? কি করছেন? বাঁচাও?”
সজল মুনের মুখ চেপে ধরলো। সজল বললো,“এখান থেকে তোর কন্ঠ ঘর অব্দি যাবে না। তাও তোর মুখটা বেঁধে নেই। সাবধানতা অবলম্বন।”
মুন ছটফট করছিলো। সজল মুনের ওড়না দিয়ে তার মুখ বেঁধে দিলো। মুন হাত-পা ছোটাছুটি করছিলো। কিন্তু সজলের শক্তির সাথে পেরে উঠছিলো না। সজল বলে,“রিয়ার সাথে তোকে দেখেই খুব ভালো লাগছিলো। তোকে ভো*গ করার ইচ্ছে আমার তখন থেকেই, সুযোগ খুঁজছিলাম৷ আর এখন পেয়ে গেলাম।”
মুনের চোখের পানি বাঁধ মানছিলো না। আকাশটা অন্ধকারে ঢাকা ছিলো৷ আকাশের দূর দরান্তেও চাঁদের দেখা মিলছিলো না। আকাশের চাঁদের মতোই জমিনের মুন(চাঁদ) বিলীন হয়ে যাচ্ছিলো কলঙ্কের গভীরে।
*
রিয়ার বাবা ঘরের পিছনে এসেছিলো একটা কাজে। বাগানের ভিতর থেকে গোঙানির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিলো। তার মনে সন্দেহ জাগলো। সে বাগনের ভিতরে প্রবেশ করলো। তিনি সজলকে দেখে চমকালেন। বেশ উঁচু কন্ঠেই বললেন,“সজল?”
সজল ঘাবড়ে গেলো। ছুটে চলে গেলো। রিয়ার বাবা উল্টো দিকে ঘুরে ছিলেন। তিনি ফোন দিয়ে রিয়ার মাকে আসতে বললেন। রিয়ার মা আসার পর মুনকে ঐ অবস্থায় দেখে চমকে গেলেন। মুন ততক্ষণে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। রিয়ার মা বললেন,“ওর এই অবস্থা কে করলো?”
রিয়ার বাবা ভারী কন্ঠে বললেন,“তোমার গুনধর ভাই, মেয়েটাকে ঠিকঠাক করে ঘরের মধ্যে নিয়ে যাও।”
রিয়ার মা সম্মতি জানিয়ে নিয়ে মুনকে গিয়ে ধরলো।
*
মুনের বাবা-মাকে খবর দেওয়া হলো। শেষ রাত সবাই ঘুমে ছিলো। দুই একজন জেগে থাকলেও রিয়ার বাবা-মা সবকিছু তাদের থেকে আড়াল করলো। মুনের বাবা-মা এসেই মেয়েকে বাসায় নিয়ে গেলো।
**
অনেক কষ্টে মেয়েটার জ্ঞান ফিরেছে। মুনের বাবা তার পরিচিত এক ডাক্তারকে খবর দিয়েছিলেন।
*
মুনের জ্ঞান ফিরতেই সে চিৎকার করে উঠলো,“না না৷ আমাকে ছেড়ে দাও।”
মুনের মা তাকে গিয়ে ধরার আগে মুনের বাবা মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন।
“কি হয়েছে মা? কিচ্ছু হয়নি। দেখো এখানে আমি বাবা আছি। ঐ যে মা।”
মুন চোখ মেলে বাবাকে দেখে তাকে জড়িয়ে ধরেই কান্না করলো। মুনের বাবা মাও তাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো। পাশের ঘরে নীলিমা নীলাশাকে নিয়ে খেলছিলো। বাবার কড়া নির্দেশ ছিলো নীলিমার উপরে ঘর থেকে নীলাশাকে নিয়ে বের না হওয়ার।
**
পরেরদিন কন্যা বিদায় দিয়ে রিয়ার বাবা-মা মুনদের বাসায় আসলো।
তারা এসে দেখলেন মুনের মা তাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে।
মুনের বাবা তাদের দেখে রেগে গেলেন।
“কেন এসেছেন এখানে? মেয়েকে নেওয়ার সময়ও তো বলছিলেন, মেয়ে দেখে রাখবেন। আমি আমার মেয়েকে যেতে দিবো না কিন্তু আপনারা জোর করে নিয়ে গেলেন। এখন আমার মেয়ের সর্বনাশের দ্বায়ভার কে নিবে?”
রিয়ার মা বললেন,“ভাই যা হয়েছে তার জন্য আমরা হাজারবার ক্ষমা চাইলেও কম হয়ে যাবে। তবুও পারলে আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আমরা বুঝিনি মুনের সাথে এরকম কিছু ঘটে যাবে। ”
“কেন বুঝেননি? আপনার ভাইয়ের চরিত্রে সমস্যা আছে তা আগে জানতেন না?”
রিয়ার বাবা বললো,“ভাই চিৎকার চেঁচামেচি করে লোক জানিয়ে কি লাভ? দয়া করে আমাদের কথাগুলো বসে ঠান্ডা মাথায় শুনুন।”
রিয়ার মা বললো,“পাশের ঘরে মুন আছে। ও এসব শুনলে বেশি কষ্ট পাবে। ঘটনাটা ওর মাথা থেকে ঝেরে ফেলতে হবে। প্লীজ আমরা আস্তে কথা বলি।”
মুনের বাবা কিছুটা শান্ত হলো। মুনের পাশে নীলিমাকে রেখে মুনের মা বসার ঘরে আসলেন।
মুনের বাবা বললেন,“আপনার কুল/ঙ্গা/র ভাই কোথায়? তাকে ধরে রাখুন, কিছুক্ষণের মধ্যে আমি পুলিশ নিয়ে যাচ্ছি। তাকে না পেলে আমি আপনাদের ধরিয়ে দিবো।”
রিয়ার বাবা বললো,“রাগের মাথায় ভুল সিদ্ধান্ত নিবেন না। পুলিশের কাছে গেলে লোক জানাজানি হবে। আপনার মেয়েরই সমস্যা হবে।”
মুনের বাবা রেগে রিয়ার বাবার কলার ধরে ফেললো,“এই রাগের মাথায় ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছি মানে? আর আমার মেয়ের সমস্যা হবে কেন? আমার মেয়ে কোন ভুল করেছে? না বরং ওর সাথে ভুল হয়েছে। আমার মেয়ের সাথে অন্যায় হয়েছে। আমি ঐ কু/ল/ঙ্গা/রকে ছেড়ে দিবো, সেটা ভাবলেন কিভাবে?”
রিয়ার মা বললো,“এখন অব্দি কেউ জানে না আপনার মেয়ের সাথে কি হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে গেলে ব্যপারটা খারাপ হবে। সবাই জেনে যাবে, এর ফলে সবাই আপনার মেয়েকে ধ*র্ষি*তা বলে কথা শোনাবে।
আপনি নিশ্চয় জানেন, আমাদের সমাজ ব্যবস্থা কেমন। এখানে দোষ যারই থাক কলঙ্কের দ্বায় একজন মেয়েকেই সারাজীবন বয়ে নিয়ে যেতে হয়। কারণ সমাজ মেয়েটাকেই কথা শোনায়।
আপনি কি চান সারাজীবন আপনার মেয়ে লোকের মুখে শুনুক সে....।”
মুনের বাবা বললেন,“লোকে কথা শোনাবে বলে আমি আমার মেয়ের সাথে হওয়া এতবড় অন্যায় মেনে নিবো?”
মুনের মা বললো,“তুমি বিষয়টা বুঝতে পারছো না। লোক জানাজানি হলে আমাদের মেয়েরই বদনাম। তারপর মুন যদি কিছু করে বসে, তখন আমরা কি করবো?”
মুনের বাবা বললেন,“তুমিও?”
মুনের মা বললেন,“হ্যাঁ আমিও। কারণ আমি জানি মেয়েদের গায়ে একবার কলঙ্কের দাগ লাগলে সেটা সহজে যায় না।”
রিয়ার মা বললেন,“আমার ভাইকে আমরা যথাযথ শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করবো। দেখুন আমরা মুনের কোন ক্ষতি হোক সেটা চাই না বলেই লোক জানাজানি হতে দেইনি। তাছাড়া পুলিশ যখন ঐ ঘটনার পুরোপুরি বর্ননা চাইবো তখন কি মুন ওসব বলতে পারবে? পারবে না। দেখা গেলো মুন ওসব সহ্য না করতে পেরে কিছু একটা করে বসলো। তখন কি হবে?”
মুনের বাবা মেঝেতে বসে পড়লো। অনেকক্ষণ যাবত রিয়ার বাবা-মা সাথে মুনের মাও তাকে বোঝালো।
নারী যতই স্বাধীন হোক না কেন, সমাজের বিচারে সে এখনো একটু হলেও পরাধীন। সমাজ হয়তো দু’দিন লোকটাকে গা/লা/গা/ল করবে, কিন্তু দিনশেষে কলঙ্কের দ্বায় মুনকেই দিবে। সবকিছু ভেবে মুনের বাবা পুলিশি ঝামেলায় যায়নি। এটাই কাল হলো। কলঙ্ক কি ঢেকে রাখা যায়? মুনের ক্ষেত্রেও যায়নি।
*
মুন নিজেকে পুরো ঘরবন্দী করে নিয়েছে। সে ঘর থেকে বের হয় না, অনেকদিন হলো। স্কুলে যায় না। সবাই জানতে চায় মুন স্কুলে যায় না কেন? বের হয় না কেন? মুনের বাবা-মা মেয়ে অসুস্থ বলে কাটিয়ে দেয়।
*
সন্ধ্যাবেলা অফিস থেকে ফিরে মুনের বাবা মুনের কাছে গেলো। হাতে খাবার।
মুন শুয়ে ছিলো। মুনের বাবা খুব আদুরে কন্ঠে দু’বা বললো,‘মুন মা’।
মুন উঠে বসলো। মুনের বাবা বললো,“খাওনি কেন?”
মুন বললো,“ইচ্ছে করছে না।”
“সেটা বললে চলবে? খাবার না খেলে তো তুমি অসুস্থ হয়ে যাবে।”
“গেলে গেলাম। ম/রে যাই না কেন?”
মুনের বাবা চমকালো। মুনের মা পিছনে বসে কান্না করে দিলো। মুনের বাবা বললো,“তাহলে কিন্তু আমরাও ম/রে যাবো।”
“বাবা?”
“কি বাবা? মেয়ে বললে দোষ নেই, বাবা বললেই দোষ। তুমি জানো তুমি খাওনি বলে তোমার মা, নীলিমা নীলাশা কেউ খায়নি। তুমি এমন করলে চলবে? তুমি কি চাও তোমার জন্য সবাই কষ্ট পাক। তুমি স্কুলে যাচ্ছো না, ঘর থেকে বের হচ্ছো না। কেন হচ্ছো না? তুমি কি চাও? আমরা সবাই তোমার দুঃখে আ/ত্ম/হ/ত্যা করি?”
“বাবা তুমি এভাবে কেন বলছো? তোমরা আছো বলেই তো আমি আছি। ঐ অন্ধকার রাতটাকে ভুলে গিয়েছি।”
“কোথায় ভুলে গেছো? ভুলে গেলে তুমি আগের মতো হেসে খেলে দিন কাটাচ্ছো না কেন?”
মুন বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলো। মুন বললো,“আমার কিছু ভালো লাগছে না বাবা। আমি কিছুতেই ঐ রাতটা ভুলতে পারছি না।”
“কেন পারছো না?একটা মানুষের জন্য তুমি আমাদেরও কষ্ট দিচ্ছো? কেন? তোমার মনে হয় না তুমি ভুল করছো? অন্যায় তোমার সাথে হয়েছে, তুমি অন্যায় করোনি। কোথায় যে অন্যায় করেছে সে নিজেকে গুটিয়ে রাখবে, সেখানে তুমি নিজেকে গুটিয়ে রাখছো।”
মুন কান্নারত অবস্থায় বললো,“আমি আর নিজেকে গুটিয়ে রাখবো না। আমি তোমাদেরও কষ্ট দিবো না। দাও খাবার দাও।”
“এই তো আমার ভালো মেয়ে।”
মুনের বাবা নিজ হাতে তুলে মেয়েকে খাইয়ে দিলেন। পরেরদিন অফিস ছুটে নিয়ে পুরো পরিবারকে নিয়ে ঘুরে বেড়ালেন।
মুনের বাবা-মা মুনকে খুব সাপোর্ট দিয়েছে সেদিনের পর থেকে, বিশেষ করে মুনের বাবা। মুনের বাবা এতবেশি সাপোর্ট দিয়েছেন যে মাঝে মাঝে মুনের মায়ের মনে হয়েছে, সে ভুল করে মা হয়েছে। মা তো তার বাবার হওয়া উচিত ছিলো৷
তবে পুনরায় ভাবেন, না না বাবা হয়ে ঠিক করেছে৷ এমন দুই একজন ব্যতিক্রম বাবার প্রয়োজন আছে।
মুন কয়েকদিনে বেশ স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিলো।
কিছুদিন পর,
মুনের বাবা অফিস থেকে এসে দেখলেন মুনের মা কান্না করছে।
“কি হয়েছে কাঁদছো কেন?”
“সর্বনাশ হয়ে গেছে গো। সব শেষ।”
“মানে কি হয়েছে?”
“পাড়ার সবাই মুনের সাথে হওয়া ঘটনা জেনে গেছে। সবাই মুনকে কথা শুনিয়েছে, আমাদের নানাভাবে অপমান করে গেলো। বললো মেয়ের কলঙ্ক কিভাবে এতদিন গোপন রাখলাম আমরা।
মুন সেই থেকে ঘরের মধ্যে নিজেকে বন্দী করে রেখেছে। আমার মেয়েটা কিছু করে না বসে।”
মুনের বাবা হন্তদন্ত হয়ে মুনের ঘরের সামনে গেলো। শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করলো। এত জোরে দরজা ধাক্কানো সহ্য করতে না পেরে মুন দরজা খুলে দিলো। মুন তার বাবাকে দেখে জড়িয়ে ধরলো। কান্না করে দিলো। মুনের বাবা মেয়েকে পরম আদরে জড়িয়ে ধরলো।
মুন বললো,“বাবা আমার জীবনটা শেষ হয়ে গেলো। সবাই বলছে, আমার জন্য আমার বোনদের জীবনও নষ্ট হয়ে যাবে।”
“যে বলেছে তার মুখে সজোরে একটা থা/প্প/ড় মারতে পারোনি।”
মুনের বাবা নিজের সমস্ত রাগ নিয়ে বললো। মুনকে জড়িয়ে ধরেই তার মাকে বললো,“থা/প্প/ড় তো তোকে মা/রা উচিত। তোর সামনে তোর মেয়েকে সবাই এত কথা বলার সুযোগ কি-করে পেলো?”
মুনের বাবা রাগ দেখে মুনের মা ভয় পেয়ে গেলো। মুনের বাবা পুনরায় বললো,“তুই না বলেছিলি পুলিশি ঝামেলা করলে সবাই জেনে যাবে। তো এখন তো পুলিশি ঝামেলা করিনি তাহলে লোকজন জানলো কিভাবে?”
মুনের মা ভয়ে ভয়ে বললো,“রিয়ার মা নিজের ভাইকে সাধু বানাতে সবাইকে বলেছে, কে না কে মুনকে... করেছে আর আমরা তার ভাইকে দোষারোপ দিয়েছি। এভাবে এক কান থেকে দশ কান হয়েছে।”
“সবকিছু তোর জন্য হয়েছে। আমার মেয়ে কোন ভুল করেনি তাও আমরা তার সাথে হওয়া অন্যায় মুখ বুঝে মেনে নিয়েছি। তুই সেদিন আমাকে ভুলবাল বুঝিয়েছিস। আমি এখনই যাচ্ছি পুলিশের কাছে।”
মুনের মা বললো,“লাভ নাই। রিয়ার মামা দেশে নাই।”
মুনের বাবা বললো,“ওরা সব প্লান করে করেছে। দেখলি তো নিজ বুদ্ধিতে কাজ না করলে কি হয়।”
মুনের মা কেঁদে দিলো। মুনের বাবা বললো,“ন্যাকা কান্না থামা। আর শোন এরপর থেকে তোর সামনে কোন প্রতিবেশি তোর মেয়েকে কিছু বলার সুযোগ পেলে, আমি তোকে ছাড়বো না।
মুখ নেই তোর? মুখ থাকলে মুখ দিয়ে বলে বুঝাবি ভুল কার। মুন কোন ভুল করেনি।”
মুনের মা সম্মতি জানালো। একে একে সবাই জেনে গেলো। রোজ দুই চারজন কথা শোনাতো। আকারে ইঙ্গিতে অনেক কিছু বলতো। মুনের বাবা-মা সবার সাথে প্রতিবাদ করতো। মুনের বাবা-মা সবার সামনে মুখে মুখে জবাব দিতো বলে ধীরে ধীরে সবাই সরাসরি কথা শোনানো বন্ধ করে দিয়েছে৷ তবে আড়ালে ঠিকই বলে।
*
এরপর মুনের বয়সটা অনেকটা বেড়ে যায়। একের পর এক বিয়ের সম্মন্ধো আসে। তবে বিয়ের কথা পাকাপোক্ত হওয়ার পূর্বেই কোন প্রতিবেশি নিজে দায়িত্ব নিয়ে পাত্রপক্ষদের মুনের কলঙ্কের কথা জানিয়ে দেয়।
মুনের সাথে নীলিমার বয়সটাও বেড়ে যায়। মুনের বাবাও সময়ের সাথে বদলে যায়।
একে তো তার তিন মেয়ে। যেখানে বড় মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না। সেখানে ছোট মেয়েদের হবে কিনা সেটা নিয়েও সন্দেহ। এরমধ্যে নীলিমাকেও কয়েকবার দেখানো হয়েছে, তাকেও পাত্রপক্ষ মুনের জন্য রিজেক্ট করেছে৷
মুনের বাবা খুব বিচক্ষণ ছিলো৷ মেয়েদের মনের কথা বুঝতো। কিন্তু সময়ের সাথে সব কেমন বিলীন হতে লাগলো।
লোকের যন্ত্রনা, মেয়েদের বড় হয়ে যাওয়া। সবকিছু তাকে মানসিকভাবে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। তাই সময়ের সাথে মুনের প্রতি তার ব্যবহারে এসেছে পরিবর্তন। মুনের কলঙ্কই তাদের জীবন দূর্বিষহ করে দিয়েছে কথাটা কেমন জানো মস্তিষ্কে আটকে গেলো।
বর্তমান,
মুন বললো,“সময়ের সাথে সব বদলে গেছে। আমার বাবাও বদলে গেছে।”
মেঘ মুনকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে। কিছুই বলছে না৷ চুপ করে এতক্ষণ মুনের কথা শুনলো।
'
'
চলবে,
(ভুলক্রটি ক্ষমা করবেন। অতীত শেষ। আর নেই, বাকিসব বর্তমান।)
'
