#সেদিন_ছিল_পূর্ণিমা.
|পর্ব:-০৪|+০৫
" আমার বাসার ঠিকানা তুমি কোথায় পেলে? "
" মন দিয়ে খুঁজলে সবকিছু পাওয়া যায়, তুমি কি একটু নিচে আসবে? তোমার সঙ্গে দশ মিনিট কথা বলতে চাই। "
" আজ আমার শরীরটা ভালো না। তাছাড়া তুমি কেন আমার সঙ্গে কথা বলতে এসেছ? তোমার সঙ্গে তো আমার বলার মতো কিছু নেই। "
" কিন্তু আমার আছে। আমার অনেক কিছু বলার আছে, একটু নিচে আসবে প্লিজ? "
" তুমি কি তোমার আমার ছবি কাউকে দিয়েছ? "
" মানে? কাকে ছবি দেবো? "
" সত্যি করে বলো, তোমার আর আমার একসঙ্গে তোলা ছবি কাউকে দিয়েছ কি-না। "
" না তো। "
" ঠিক আছে, ফোন রাখছি। "
" নিচে কখন আসবে? "
" যাবো না। "
" আমি তো অপেক্ষা করছি। "
" আমি কি অপেক্ষা করতে বলছি? "
" এতো রেগে আছো কেন? তুমি তো এরকম ছিলে না অবন্তী। "
আমি কল কেটে দিলাম। ভয়ে জড়সড় হয়ে গেল সমস্ত শরীর। দরজা বন্ধ করে বসে রইলাম। পেটে ব্যথা বাড়তে লাগলো। ব্লিডিং হচ্ছে এখনো, মাথা যে পরিমাণ ব্যথা করে মনে হয় সবকিছু ঘুরছে। মনে মনে প্রাণপনে তামান্না আপুর অপেক্ষা করতে লাগলাম।
রাবুর কাছে আবারও কল দিলাম। এবার রিসিভ করলো, আমি বললাম,
" কল ধরিস না কেন? "
" কি বলবি একটু তাড়াতাড়ি বল। শাশুড়ী আছে, তিনি আমাকে তোর সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছে। বাসায় গতকাল থেকে অনেক ঝামেলা হয়েছে রে। "
" কিসের ঝামেলা? "
" তেমন কিছু না। তুই চিন্তা করিস না, টগর ভাই সব ঠিক করে দেবে। আপাতত নিশ্চিন্তে থাক। "
" আমার প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে রাবু, পেটের যন্ত্রণায় মনে হচ্ছে মরে যাবো। টগর ভাইয়ের নাম্বার তো বন্ধ তাহলে কীভাবে যোগাযোগ করবো? "
" আচ্ছা আমাকে ডাকছে, তোকে আমি কিছুক্ষণ পর ছাঁদে গিয়ে কল দেবো। "
আমাকে কিছু বলার সুযোগ দিল না।
সাড়ে পাঁচটার দিকে তামান্না আপু এলো। ফ্রেশ হয়ে রুমে এসেই বললো,
" ওই লোকটা এখনো আছে। গলির মধ্যে হাঁটছে আর কেমন ডেন করছে। ঘটনা কি অবন্তী? "
আমি তামান্না আপুর কাছে সবকিছু বললাম। সব শুনে তিনি স্তব্ধ হয়ে বসে রইলেন।
" তুমি তো ভালোই বিপদে পড়েছ। "
" জানি না এরকম কেন হচ্ছে আমার সঙ্গে। আমি কি এমন করেছি যার কারণে দোষ না করেও মরতে যাচ্ছি। "
" মরবে কেন, ছি ছি। তবে আমার মনে হয় এই মুহূর্তে আমাদের পুলিশের সাহায্য নেওয়া দরকার অথবা কোনো গোয়েন্দা। "
" কিন্তু কীভাবে? আর পুলিশের কাছে কীভাবে কি বলবো? এখানে তো কোনো প্রমাণ নেই যেগুলো দিয়ে কারো বিরুদ্ধে মামলা করবো। এখানে সবাই অপরিচিত, কাকে দোষ দেবো? "
" তাহলে গোয়েন্দাদের সাহায্য নিতে হবে। "
" কোথায় পাবো? "
" আচ্ছা তুমি চিন্তা করো না, আমি আমার এক বন্ধুকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করি। "
তামান্না আপু কাকে যেন কল দিলেন। তারপর একটা ইমেইল ঠিকানা লিখে নিলেন। আমার কাছে ঠিকানাটা দিয়ে বললেন,
" এই ঘটনার সঙ্গে যা কিছু আছে সবটা লিখে এই ঠিকানায় ইমেইল করে পাঠিয়ে দাও। গোয়েন্দা সাজু ভাইয়ের ইমেইল এটা। তিনি যদি ঢাকায় থাকেন তাহলে অবশ্যই তোমার সাহায্য করবেন।"
" যদি ঢাকার বাইরে হয়? "
" তাহলে তিনি চলে আসবে, আমার বন্ধু তো বললো যে সাজু ভাই সবসময় চেষ্টা করে বিপদে পড়া নিরপরাধ মানুষকে রক্ষা করতে। "
তারপর থেকে আমি পেটে ব্যথা নিয়েই লিখতে শুরু করি। যেহেতু আমার সাবেক হাসবেন্ড এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে মনে হচ্ছে তাই আমার ডিভোর্সের শুরু থেকে আপনাকে লিখে দিলাম। আপনার কাছে আমার অনুরোধ, আমাকে সাহায্য করুন। আর কিছু জানতে হলে আমার নাম্বারে কল দিতে পারেন। আমি আপনার সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছি।
বিনীত অনুরোধে,
নুসাইবা জান্নাত অবন্তী।
★★★
তারাবিহ নামাজ পড়ে বের হয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে ডাটা চালু করে ইমেইল নোটিফিকেশন পায় সাজু ভাই। উত্তরার সাত নাম্বার সেক্টর পার্কের পাশের মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হয়েছে। সাজুর সঙ্গে রয়েছে কিবরিয়া। সাজু ভাই যখন খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করত তখন কিবরিয়া ছিল তাদের সঙ্গে। খুব ভালো বন্ধু না হলেও বন্ধু হিসেবে পরিচিত।
এতক্ষণ ধরে কিবরিয়া ইমেইল পড়ছিল আর সাজু তার পাশে বসে বসে শুনছিল। তারা এখন আছে সাত নাম্বার সেক্টরের ১৯ নাম্বার রোডে।
কিবরিয়া বললো,
" বেশ জটিল মনে হচ্ছে সাজু। "
" তোমার কাছে জটিল মনে হয়? কিন্তু আমার কাছে তো শুধু একটা বিষয় খটকা আছে তাছাড়া আর কোনো সমস্যা নেই। "
" কিরকম? "
" অবন্তীর বর্ননা অনুযায়ী টগর সম্ভবত সেই চক্রর হাতে বন্দী আছে। কিন্তু টগরকে বন্দী করে রেখে তারা কি করবে সেটা একটু খটকা। "
" এছাড়া আর সব পরিষ্কার? "
" হ্যাঁ, বিশ্বাস হচ্ছে না তাই না? "
" না। কারণ অবন্তীর সাবেক স্বামী কীভাবে তার বর্তমান ঠিকানা পেয়ে গেল? "
" জানতে হলে রাস্তার ছয় নাম্বার ওপারে সেক্টরের মধ্যে যেতে হবে। অবন্তীর বান্ধবীর বাসায়। "
" রাত দশটা বেজে গেছে। "
" সমস্যা নেই চলো গিয়ে দেখি কি অবস্থা। "
" আরেকটা প্রশ্ন আছে। "
" কি? "
" তামান্না নামের মেয়েটার কাছে যে লোকটা ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করেছে তিনিই মনে হয় অবন্তীর স্বামী ছিলেন তাই না? "
" হাহাহা মাথা মোটা নাকি তুমি? "
" কেন? "
" তামান্নাকে যে ছবি দেখানো হয়েছে সেখানে তার স্বামীর ছবি ছিল। তাহলে সেই লোকটা যদি তার স্বামী হয়ে থাকে তবে ছবির লোকটা আর জিজ্ঞেস করার লোকটা একই ব্যক্তি তাই না? "
" হ্যাঁ। "
" তো যদি অবন্তীর স্বামী হতেন তাহলে তামান্না তো বুঝতে পারতেন ছবির লোকটা আর জিজ্ঞেস করা লোকটা এক। আর সেটা অবন্তীকে বলতো। "
" হুম বুঝলাম। "
" অবন্তীর নাম্বারে কল দাও কিবরিয়া। "
কিবরিয়া কল দিল, অবন্তী রিসিভ করার সময় সাজুর কাছে মোবাইল দিয়ে দিল সে,
" হ্যালো, অবন্তী বলছেন? "
" জ্বি, আপনি কি সাজু ভাই? "
" কীভাবে বুঝলেন? "
" অনুমান করে, আমার মনে হচ্ছিল আপনি কল দিবেন। সত্যি বলতে আমি আপনার কলের জন্য অপেক্ষা করছি। "
" আপনার বান্ধবীর রাবুর বাসার ঠিকানাটা দিতে হবে, আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাই। "
" ভাইয়া ওর বাসায় একটু ঝামেলা হচ্ছে। তাই আমি আর ওকে এসবের মধ্যে জড়াতে চাই না। "
" কিন্তু আমার তো দরকার আছে। সোহেল সাহেব মানে আপনার সাবেক হাসবেন্ডের সন্ধান ওই অপরাধী চক্র কীভাবে পেয়েছে জানেন? "
" কীভাবে? "
" আপনার বান্ধবীর মাধ্যমে। "
" কিন্তু সোহাগের ঠিকানা এনে তাকে এসবের মধ্যে কেন জড়ানো হবে? "
" কারণ আপনার দুর্বলতা ছিল তার প্রতি, সেজন্য তাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি আপনাকে পরে সবকিছু বুঝিয়ে বলবো এখন ঠিকানা দেন। "
অবন্তী ঠিকানা দিয়ে দিল। সাজু ভাই বললেন,
" আপনার পেটে ব্যথা কমেছে? "
" একটু কমেছে। "
" বাসের ভিতরে বসে কথিত যে লোকটা আপনার ব্যাগ থেকে ড্রাগস নিয়ে গেছে। সেই লোকটার নাম্বারও আমাকে দিয়ে দেন। "
ফোন পকেটে রেখে বাইক নিয়ে রওনা দিল সাজু ভাই ও কিবরিয়া। রাতের স্নিগ্ধ বাতাস আর ব্যস্ত শহরের রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দুজন।
কিবরিয়া বললো,
" আমার কাছে বেড়াতে এসেও তুমি নতুন কাজে জড়িয়ে গেলে তাই না বন্ধু? "
" হ্যাঁ, কাকতালীয়। যদি গ্রামের বাড়িতে থাকতাম বা অন্য কোনো শহরে তাহলে একদিন লেগে যেত উত্তরা আসতে। "
★★★
অবন্তী ও তামান্না নিজেদের রুমে দরজা বন্ধ করে বসে আছে। বাহিরে মূল দরজায় কলিং বেলের শব্দ হচ্ছে। পাশের রুম থেকে ওরা কেউ একজন দরজা খুলে দিচ্ছে সেটা বোঝা যাচ্ছে। একটু পরে অবন্তীদের দরজা টোকা দিল। বাড়ির মালিকের স্ত্রীর কণ্ঠ শুনে তামান্না বললো,
" এতো রাতে আপা কেন এলো? "
দরজা খুলে দিতেই বাসায় প্রবেশ করলেন বাড়ির মালিকের স্ত্রী। তিনি অবন্তীকে বললেন,
" টগরের সঙ্গে তোমার শেষ কথা হয়েছিল কখন? "
" এ বাড়িতে দিয়ে যাবার পরে আর কথা হয়নি। "
" শুনলাম টগর নাকি মারা গেছে, তের মুখের ব্রিজের নিচে নাকি ওর লা-শ পাওয়া গেছে। "
[ জরুরি ভিত্তিতে একটা নাটক লিখতে হবে। তাই এতটুকু লিখে শেষ করতে হলো। সাহরির সময় ছোট করে হলেও আরেকটা পর্ব পোস্ট করা হবে। ঠিক ভোর ৪ঃ৩০ মিনিটে। ]
[ সাজু ভাইকে না আনলে সবাই আন্দোলন করবে। তাই নিয়ে এলাম সবার পছন্দের সাজু ভাই। ]
চলবে....
লেখা:-
মোঃ সাইফুল ইসলাম।
| সেদিন ছিল পূর্ণিমা |
| পর্ব:- ০৫
অবন্তী কর দিয়ে বললো,
" সাজু ভাই, টগর ভাই নাকি মা-রা গেছে। একটু আগে বাড়ির মালিকের স্ত্রী এসে বলে গেল! "
সাজু স্বাভাবিক ভাবে বললো,
" টগর মারা যায়নি, বেঁচে আছে। আপনি টগরকে নিয়ে চিন্তা করবেন না। আপনার স্বামীর একটা ছবি পাঠান তো আমাকে। "
অবন্তী অবাক হয়ে গেল। তামান্না তার সামনে বসে অবন্তীর চেহারায় বিস্মিত ভাব দেখতে পেল। তবু চুপ করে রইল অবন্তী।
" সাজু ভাই আপনি কি নিশ্চিত? "
" হ্যাঁ নিশ্চিত, যা কিছু ঘটুক আপনি বাসা থেকে বের হবেন না। আমি আপনার বান্ধবীর বাসায় এসেছি। এখান থেকে বের হয়ে থানায় খবর দিয়ে দেবো। "
" সোহাগের ছবি পাঠাবো? "
" হ্যাঁ পাঠিয়ে দেন। "
মোবাইল রেখে সাজু আবারও রাবেয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। রাবেয়া মাথা নিচু করে আছে। তার শশুর বিরক্তি প্রকাশ করতে চাইছে। ভদ্রলোক নিজে হয়তো বেশি কিছু জানেন না, তার চেহারার মধ্যে একটা জিজ্ঞেসু দৃষ্টি আছে।
সাজু বললো,
" টগর নাকি খু-ন হয়ে গেছে। মিসেস রাবেয়া আপনি বুঝতে পারছেন ঝামেলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ আকার ধারণ করেছে? "
রাবেয়া জবাব দিল না। দরজার সামনে আবারও রাবেয়ার শাশুড়ীকে দেখা যাচ্ছে। সাজু সেদিকে তাকিয়ে আবারও রাবেয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
সাজু বললো,
" আপনি কিছু না বললে আমি পুলিশের কাছে আপনাদের পরিবারের নামগুলো উল্লেখ করবো। অপরাধীকে সাহায্য করার অপরাধে আপনারা খানিকটা দোষী হবেন। "
" বৌমা, সবকিছু বলে দাও। "
বিরক্তি নিয়ে বললেন রাবেয়ার শশুর।
রাবেয়া বললো,
" কি বলবো বলেন? "
" অবন্তীর বিষয় অপরিচিত কারা খোঁজখবর নিয়েছে এবং সেটা কবে নিয়েছে? "
" আমি যেদিন সন্ধ্যা বেলা অবন্তীকে নিয়ে টগর ভাইয়ের কাছে গেছি সেদিন সকালে দুজন লোক এর সঙ্গে রাস্তায় দেখা হয়। "
" অবন্তী তখন কোথায় ছিল? "
" বাসায় ছিল। আমি আর আম্মা দুজন মিলে একটু বাজারে গেছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে দুজন লোকের সঙ্গে দেখা হয়। "
" তারা কি বলে? "
" অবন্তীর পরিচয় জানতে চায়। আমি তখন ভয়ে সবকিছু বলে দেই। তারপর তারা অবন্তীর স্বামীর নাম্বার চায়। আমার কাছে নাম্বার ছিল না। কিন্তু বিকেলে বাসায় ফিরে অবন্তীর কাছ থেকে নাম্বার কৌশলে নিয়ে নি। "
" লোকগুলো কে আগে চিনতেন? "
" না, তাছাড়া মাস্ক পরে ছিল। "
" তারপর বলেন! "
" বাসায় ফেরার সময় আমার শাশুড়ী অনেক কথা বলে। আমি তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে অবন্তীকে টগর ভাইয়ের কাছে তুলে দিব। অবন্তী যে বিপদে পড়েছে বুঝতে পারি তাই সেখান থেকে বাঁচানোর জন্য টগর ভাইকে স্মরণ করি। তার সঙ্গে দেখা করে চাকরি কথা বলি। "
সাজু উঠে দাঁড়াল।
" আমরা যে খোঁজ খবর নিতে এসেছি এগুলো ওই লোকগুলোকে বলার দরকার নেই। তাহলে আপনারা বিপদে পড়বেন। "
" টগর ভাইর কি হয়েছে? "
" জানি না। আপনি আপনার বান্ধবীর সাথে কথা বলবেন সবসময়। তাকে সাপোর্ট দিবেন কারণ তিনি মানসিক চাপ আছেন। "
বাসা থেকে বের হয়ে গেল দুজনেই। রাস্তায় নেমে বাইক নিয়ে রওনা দিল অবন্তী যেখানে থেকে সেদিকে। বাইকে ওঠার আগেই সোহাগের ছবি দেখে নিল।
কিবরিয়া বললো,
" তুমি কীভাবে নিশ্চিত হলে টগর বেঁচে আছে। "
" সম্ভবত এটা ভুল খবর। টগরকে তারা কিছুই করবে না বন্ধু , কারণ টগরকে খু-ন করলে বিপদ আরো বাড়বে! "
" কিন্তু কেন? "
" এখানে খুব বেশি টাকার বিষয় নয় তাই এদের দলটা হবে ছোট। ছোট দল হলেও এরা খুবই সতর্ক এবং বুদ্ধিমান তো বটে। এখন যদি টগরকে খুন করে তাহলে পুলিশ সেটা তদন্ত করবে। আর তদন্ত শুরু হলে এদের বিপদ বাড়বে এবং অবন্তী চলে যাবে পুলিশ হেফাজতে। "
সাজুর মোবাইল আবারও রিং হচ্ছে। কিবরিয়া মোবাইল রিসিভ সাজুর কানের কাছে ধরলো। সাজু সেভাবেই কথা বলতে লাগলো।
" আসসালামু আলাইকুম। "
" ওয়া আলাইকুম আসসালাম, কেমন আছেন সাজু ভাই? শরীর সুস্থ তো? "
কন্ঠটা পরিচিত মনে হচ্ছে কিন্তু বাইক চলছে তাই ঠিক বুঝতে পারলো না সাজু। সে বললো,
" ভালো আছি, কিন্তু কে আপনি? "
" চিনতে পারছেন না আমাকে? ভালো করে স্মরণ করার চেষ্টা করেন ঠিকই চিনতে পারবেন। সাজু ভাই আমি জানি আপনি চিনতে পারবেন। কারণ আপনি বুদ্ধিমান, আমাকে না চেনার কোনো কারণ তো নেই সাজু ভাই। "
কলটা কেটে গেল। বাইক দাঁড় করালো সাজু।
কিবরিয়া বললো,
" কি হয়েছে? কে কল দিয়েছে? "
সাজু সেই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বিড়বিড় করে বললো,
" রবিউল ইসলাম...! "
★★★
সোহাগ যে লোকটার সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে তিনি সোহাগের উপর প্রচুর বিরক্ত। দুপুর থেকে আধা ঘণ্টা পরপর শুধু চা খাচ্ছে সোহাগ। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে আর কিছুক্ষণ পর পর শুধু বলে,
" ভাইজান চলেন একটু চা খেয়ে আসি। "
আজকে দুপুর থেকে এই রাত পর্যন্ত যে পরিমাণ চা সোহাগ খেয়েছে। সেই পরিমাণ চা তার সঙ্গের লোকটা দুই বছরেও খায়নি। সে মনে মনে তাদের দলের বসকে গালি দিচ্ছে। এই ধরনের লোকজন সচারাচর সবসময় মুখে গালি ব্যবহার করে। তবে সামনাসামনি গালি দিতে পারে না কিন্তু মনে মনে ঠিকই দেয়।
টগরের মৃত্যুর সংবাদ ইতিমধ্যে ভালো কার্যক্রম শুরু করেছে। আশেপাশের মানুষের মুখে টুকটাক শুনতে পাওয়া যাচ্ছে টগরের কথা। একটু পর পর কল দিয়ে আপডেট জানাতে হচ্ছে তাকে।
সোহাগ বললো,
" ভাই আমি রাতে কোথায় ঘুমাবো? "
" কোনো ঘুম নাই। সারাদিন পেরিয়ে গেল নিজের বউকে বাসা থেকে বের করতে পারলেন না। ঘুমের কথা চিন্তা করেন কীভাবে? "
" ঠিকমতো না ঘুমালে আমার শরীর অসুস্থ হয়ে যায়, তখন তো হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। আর আপনি যাকে আমার স্ত্রী বলছেন সে আমার স্ত্রী আগে ছিল। এখন নাই, আমাদের তালাক হয়ে গেছে, ডিভোর্স। "
মহা ঝামেলা হয়ে গেল। সোহাগকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে গেল তার সঙ্গী। সঙ্গের লোকটার দিকে তাকিয়ে সে বললো,
" আপনার সঙ্গে বারো ঘন্টা ধরে আছি এখনো আপনার নাম জানি না। নাম কি ভাই? "
" জালাল। "
" জালাল ভাই আমার ভাত খেতে ইচ্ছে করছে। পেটে খুব ক্ষুধা লেগেছে, একটু ব্যবস্থা হবে? "
জালাল আবারও বিরক্ত হয়ে গেল। সে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিল্ডিংয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। সোহাগের কথা সে শুনতে পায়নি এরকম একটা অভিনয় করার প্রাণপণ চেষ্টা করলো।
|
|
সাজুর মোবাইলে অবন্তীর নাম্বার দিয়ে কল এসেছে। কল করেছে তামান্না। সাজু ভাই কথা বলার আগেই তামান্না বললো,
" সাজু ভাই আমি তামান্না, অবন্তীর রুমমেট। আপনি এখন কোথায় আছেন? "
" আমরা আপনাদের বাসার কাছাকাছি। "
ওপাশ থেকে আর কোনো কথা শোনা গেল না। মনে হচ্ছে কল না কেটেই মোবাইল রেখে ব্যস্ত হয়ে গেছে। সাজু মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য কান সজাগ করে নিল। অস্পষ্ট উচ্চারণে অবন্তীর গোঙানির শব্দ শোনা যাচ্ছে। অবন্তীর কান্না জড়িত কণ্ঠে বলছে,
" আপু আমি বাঁচতে চাই। আমার পরিবারে আমি না থাকলে সবার কি অবস্থা হবে? মা-বাবা সবাই না খেয়ে মারা যাবে আপু। "
[ দ্বিতীয় অংশ সাহরির পরে পোস্ট করা হবে। ]
.
.
.
চলবে....
~ মোঃ সাইফুল ইসলাম
