প্রাপ্তির_হাসি
পর্ব_০২ ও ০৩
DI YA
আমার মেয়েকে আপনি কোন সাহসে এখানে নিয়ে এসেছেন।বাচ্চাদের চুরি করার ধান্দা করেন নাকি।রিয়ান আহমেদের মেয়েকে আটকে রাখার জন্য আপনাকে কঠিনতম শাস্তি ভোগ করতে হবে। - রিয়ান
হঠাৎ এরকম কথা শুনে পিছনে তাকাতেই আমি দেখতে পাই অফিসিয়াল ড্রেস পরিধান করা একটা ছেলে আমার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি কিছু বলবো তার আগেই রিয়ানা বলে উঠে,
পাপা তুমি কেনো ভাল আন্টিকে বকা দিচ্ছো।আন্টি কিছু করেনি। আমিই ভুল করে আন্টির গাড়ির সামনে এসে পরে যাই।পরে আন্টি তো শুধু আমার হেল্প করে।জানো আমার হাতে কেটে গিয়েছিল।আন্টি বলছে আন্টি বলছে আন্টি ম্যাজিক পারে। তারপর কখন যে ব্যান্ডেজ করে দিলো আমি বুঝিইনি। তাই না আমি আন্টির নাম ভালো আন্টি দিয়েছি - রিয়ানা মিষ্টি করে হেসে কথাটা বললো।
রিয়ানার কথা শুনে উনি কপাল কুচকে বলে উঠলেন,
তুমি কেনো এখানে চলে আসলে একা একা রিয়ানা।মেইন রোডে এত গাড়ি। হঠাৎ যদি কোনো এক্সিডেন্ট হয়ে যেত তখন কি হতো শুনি - রিয়ান
আমার তোমার উপর প্রচুর রাগ হয়েছিল।এমনিই তো তুমি আমাকে টাইম দাও না।যাও আজকে জোরাজোরি করতে ঘুরতে বের হলাম তাও তুমি ফোনে অফিসের কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলে।বলো এটা কি ঠিক ? আমার কি রাগ হয়না ? - দুই হাত ভাজ করে রাগি সাজার ভঙ্গিতে বললো রিয়ানা
রিয়ানার কথাগুলো বলার ধরণ দেখে আমি আর হাসি দমিয়ে রাখতে পারলাম না।হাহা করে হেসে দিলাম আমি।রিয়ানা ও হেসে দিল আমার সাথে। তারপর আমাকে ওর কাছে ডেকে আমার গালে একটা কিসি দিয়ে বললো,
তোমার হাসিটা অনেক সুন্দর ভালো আন্টি - রিয়ানা
কিন্তু পাখি আমার হাসির থেকে ও অনেক বেশি সুন্দর হচ্ছে তোমার হাসি - আমি
সত্যি - রিয়ানা
হুম - আমি
রিয়ানা অনেক হয়েছে এখন বাসায় চলো।কিছুক্ষণ পর আমার জরুরি একটা মিটিং আছে। তোমাকে বাসায় পৌছিয়ে দিয়ে আমাকে আবার অফিসে যেতে হবে - রিয়ান
ঠিক আছে যাও তুমি গিয়ে এখানে গাড়ি নিয়ে আসে।আমি বরং ভালো আন্টির সাথে একটু কথা বলে আসি।- রিয়ানা
তারপর রিয়ান রিয়ানার দিকে বিরক্তিকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে চলে গেলো গাড়ি নিয়ে আসতে।আর রিয়ানা বললো,
ভাল আন্টি - রিয়ানা
হুম আম্মু বলো - আমি
তোমার কাছে কাগজ আর কলম আছে ? - রিয়ানা
হুম কেনো ? - আমি
উফফ তুমি ও দেখি পাপার মত শুধু প্রশ্নই কর এত এত। আগে নিয়ে এসো ওইগুলো তারপর বলছি - রিয়ানা
আমি কাগজ কলম নিয়ে ওর সামনে যেতেই ও আমাকে বলে,
এখন জলদি এখানে তোমার নাম্বার লিখে আমাকে দাও। জলদি কর পাপা এখনি এসে পরবে পরে লেট হলে আমাদের দুজনকেই বকা দিবে।তুমি জানো আমার পাপা পুরো একটা এংরি বার্ড।হঠাৎ হঠাৎই রেগে বোম হয়ে ফেটে যায়।কিন্তু আমাকে অনেক ভালোবাসে - রিয়ানা
ওর কথা শুনে আমি খানিকটা হেসে ওকে আমার নাম্বার টা লিখে একটা কাগজে দিয়ে দিলাম।তারপর ও ওর পাপার সাথে চলে গেল। আমিও আবার হসপিটালের উদ্দেশ্য রওয়ানা দিলাম।
অন্য দিকে,
রিয়ানা পুরো রাস্তা ভরে শুধু তার ভালো আন্টির কথাই বলতে বলতে এসেছে।রিয়ান ওর কথা খুব একটা পাত্তা দেইনি।ওকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে সে অফিসে চলে যায়।আর রিয়ানা বাসায় এসে দৌড়ে ওর দাদুমনির রুমে চলে যায়।গিয়ে দেখে দাদুমনি বসে বসে গল্পের বই পরছে। ওকে দেখেিি ওর দাদুমনি ওকে কাছে ডাকে। ও যেতেই বলে,
কেমন কাটলো দিনটা আমার দাদুমনির ? - রিয়ানার দাদুমনি লিমা আহমেদ
উফফ কি আর বলবো তোমাকে ৫০% ভালো কেটেছে ৫০ % খারাপ কেটেছে - রিয়ানা
তা ভাল আর খারাপের কারণগুলো বলো তো আমাকে দেখি আমিও শুনি - লিমা আহমেদ
তুমি তো জানোই তোমার ছেলে সবসময় কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে।আমরা পার্কে যেতেই তার অফিস থেকে একটা কল আসে।কথা বলতেই সে ব্যস্ত হয়ে যাই।তাই আমি রাগ করে পার্কে থেকে বেরিয়ে রাস্তায় চলে যাই। তারপর রিয়ানা একে একে সব ঘটনা খুলে বলে ওর দাদুমনিকে। সব শুনে তিনি বলেন,
আমারো তো এখন দেখতে ইচ্ছে করছে সেই ভাল আন্টিকে। যাকে আমার মনির এত ভাল লেগেছে - লিমা আহমেদ
আরে টেনশন নিও না আমি ভালো আন্টির নাম্বার নিয়ে এসেছি - রিয়ানা
কই নাম্বার? - লিমা আহমেদ
রিয়ানা হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে হাত খালি।ও বুঝতে পারে ও হয়তো হারিয়ে ফেলেছে ওর ভালো আন্টির নাম্বার। তাই কান্না করতে শুরু করে। রিয়ানাকে হঠাৎ কান্না করতে দেখে লিমা আহমেদ বলে উঠেছে,
কি হয়েছে আমার দাদুমনিটার এভাবে কান্না করছে কেন সে ?- লিমা আহমেদ
আমি না ভালো আন্টির নাম্বার হারিয়ে ফেলেছি? এখন আমি তাকে কই পাব? - বলে আবার কান্না করতে লাগে রিয়ানা
দেখো দাদু কান্না কর না আল্লাহ যদি চায় তো তোমার সাথে তোমার ভাল আন্টির আবার দেখা হবে।এখন আল্লাহর কাছে চাও সে যেন তোমার সাথে তোমার ভাল আন্টির দেখা করিয়ে দেয় আবার - লিমা আহমেদ
আচ্ছা - রিয়ানা
~~~
রিয়ানা গাড়ি থেকে নামতেই রিয়ান দেখতে পাই একটা কাগজ পরে আছে রিয়ানার সিটে।সে এটা খুলে বুঝতে পারে এটা সেই মেয়েটির নাম্বার।কারণ নাম্বারের উপর লিখা ছিল ভাল আন্টি । তারপর সে কিছু একটা ভেবে গাড়ির জানালাটা খুলে কাগজটা বাইরে ফেলে দেয়।
______
নিজের কেভিনে বসে প্রাপ্তি রিয়ানার কথা চিন্তা করছে।মেয়েটা নাম্বার তো ঠিকই নিলো কিন্তু কল তো আর করলো না। আবার মন ভাবছে ওর কি আর আমার কথা আছে। কিন্তু প্রাপ্তি ভুলতে পারছে না রিয়ানাকে।এত কিউট একটা বাচ্চা। যে কাউকে হুটহাট নিজের মায়ায় জড়িতে ফেলতে পারবে, আর কথাগুলো ও বলে পুরো নিজের মত মিষ্টি মিষ্টি। রিয়ানার কথা ভাবছে আর আনমনেই সেদিনের ঘটনা মনে করে হাসছে প্রাপ্তি।
আজকে ওর তেমন কোনো রোগী নেই।তাই ঠিক করলো ঘুরে ঘুরে অন্য অন্য রুমের রোগীদের একটু দেখবে।কিন্তু তার আগে রিসেপশনে তার কিছু কাজ আছে। সেই জন্য সে রিসিপশনে চলে যায়।
কিন্তু সেখানে আসতেই সে দেখতে পায় বেডে শুইয়ে রিয়ানাকে একটা কেভিনে ঢুকানো হচ্ছে। রিয়ানে এখানে আবার এই অবস্থায়। তাই সে সেইদিকে এগিয়ে গেলো। নার্স সবাইকে কেভিনে ঢুকতে নিষেধ করেছে ভিতরে ডাক্তার রিয়ানাকে দেখছে।
মিস্টার রিয়ান কি হয়েছে রিয়ানার? - আমি
সেটা আমি আপনাকে কেনো বলবো ? আর আপনি কে? আমার মেয়ের কথাই বা জিজ্ঞেস করছেন কেন? - রিয়ান
আরে কিছুদিন আগে না আপনার আর রিয়ানার সাথে আমার দেখা হলো।আমি প্রাপ্তি ওর ভাল আন্টি - আমি
ও মা তুমিই সে। মামনির ভাল আন্টি। আমি হচ্ছি ওর দাদুমনি।জানো মেয়েটা রোজই তোমার কথা বলে।- লিমা
সব ঠিক আছে আন্টি কিন্তু ওর কি হয়েছে? - আমি
আসলে দুইদিন ধরে প্রচুর জ্বর ওর।ডাক্তার মেডিসিন দিয়ে গেছে। তাও ঠিক মত খাচ্ছে না।আজকে অতিরিক্ত জ্বরে অজ্ঞান হয়ে গেছে । তাই তো চটজলদি এখানে নিয়ে আসলাম।কি যে হলো মেয়েটার - বলতে বলতে কান্না করে দিল লিমা আহমেদ
নার্সের থেকে জানতে পারলাম ডাক্তার আকাশ রিয়ানার চেকআপ করছে।বাইরে বসে ওয়েট করতে লাগলাম।কিছুক্ষণ পরই ডাক্তার আকাশ বেরিয়ে আসলো।আমরা তিনজন তার দিকে এগিয়ে গেলাম।মিস্টার রিয়ান বললেন,
আমার মেয়ে কেমন আছে ডাক্তার? - রিয়ান
আসলে - ডাক্তার আকাশ
আসলে কি ডাক্তার আকাশ ? - আমি।
মনে মনে ভয়ের আবির্ভাব হতে শুরু করলো আমার। মাথায় আসতে শুরু করে দিল নানারকম দুশ্চিন্তা।
আসলে পেশেন্টের অবস্থা এখন ভাল নেই - ডাক্তার আকাশ
চলবে🥰
( গত পর্বে ভুলে রিশাদের জায়গায় রিফাত লিখে ফেলেছিলাম সরি)
প্রাপ্তির_হাসি
পর্ব_০৩
DI YA
আমার মেয়ে কেমন আছে ডাক্তার? - রিয়ান
আসলে - ডাক্তার আকাশ
আসলে কি ডাক্তার আকাশ ? - আমি।
মনে মনে ভয়ের আবির্ভাব হতে শুরু করলো আমার। মাথায় আসতে শুরু করে দিল নানারকম দুশ্চিন্তা।
আসলে পেশেন্টের অবস্থা এখন ভাল নেই। ওর শরীর প্রচুর দূর্বল।আর আমি চেক করে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে যতটুকু বুঝেছি ওর জন্ম নিদিষ্ট সময় আগে হয়েছে তাই ও একটু বেশিই দূর্বল।ওকে প্রচুর কেয়ার করতে হবে।ওর খাওয়াদাওয়া প্রতি ও প্রচুর যত্ন দিতে হবে।সাথে ওর বাবা মাকে ও ওকে যথেষ্ট সময় দিতে হবে।বুঝেনই তো বাচ্চা মানুষ। একাকিত্ব জিনিসটা ওদের সাথে মানায় না।ওকে বেশি বেশি টাইম দেন।আর ওর প্রতি একটু বেশিই যত্নবান হন।খাওয়া দাওয়া ও হয়তো ঠিক মত করে না ও- ডাক্তার আকাশ
জি ডাক্তার। আসলে ওর মা নেই।আমিও সারাদিনের বেশির ভাগ সময় অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকি। ওকে ঠিক মতো সময় দেওয়া হয়ে উঠেনা - রিয়ান
ওহ সরি। আচ্ছা আপনারা একজন আমার কেভিনে আসুন আমি প্রেসক্রিপশন টা লিখে দেই আর নিয়মগুলো ও তো বুঝিয়ে দিতে হবে।আপনারা আসুন আমি ওয়েট করছি - বলে ডাক্তার আকাশ নিজের কেভিনে চলে যায়
মিস্টার রিয়ান আমি কি আপনার সাথে একটু ডাক্তারের চেম্বারে আসতে পারি - আমি
ইয়াহ সিউর আসুন - রিয়ান
তারপর আমরা ডাক্তার আকাশের চেম্বারে গেলাম। আমাদের দেখেই ডাক্তার আকাশ বসতে ইশারা করে বলতে শুরু করলেন,
আরে ডাক্তার প্রাপ্তি তখন ও আপনাকে দেখলাম এখন ও আপনি এখানে।পেশেন্ট কি আপনার রিলেটিভ লাগে নাকি ? - ডাক্তার আকাশ
জি ডাক্তার মিস প্রাপ্তি আমার মেয়ের আন্টি লাগে - রিয়ান
ও আচ্ছা - ডাক্তার আকাশ
তারপর ডাক্তারের সাথে কিছু সময় কথা বলে আর কিছু সাজেশন নিয়ে আমরা বেরিয়ে গেলাম।রিয়ান গেলে ফার্মেসিতে ঔষধ নিয়ে আসতে।আর আমি গেলাম রিয়ানার কেভিনের দিকে।ওখানে গিয়ে জানতে পারলাম রিয়ানার জ্ঞান ফিরেছে। তাই আমি জলদি করে কেবিনের ভিতরে গেলাম।গিয়ে দেখি ওর দাদুমনি ওর পাশে একটা সিটে বসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। মেয়েটাকে দেখে আমার ভিতরে থেকে দীর্ঘ নিশ্বাস বেরিয়ে আসলো।মেয়েটার চেহারা কেমন নেতিয়ে পরেছে। শরীরটা ও কাহিল কাহিল লাগছে।কেন জানি রিয়ানার জন্যে আমার বুকের ভিতর কোনো এক জায়গায় খুব কষ্ট হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল ও আমার খুব আপন কেউ। আচ্ছা আজকে যদি আমার একটা বাবু থাকতো তাহলে হয়তো ওর সমানই হতো।আমাকে দেখতেই রিয়ানা বলে উঠলো,
ভাল আন্টি তুমি এসেছো ? - রিয়ানা
আমি ওর কাছে এগিয়ে গিয়ে ওর পাশে এক জায়গায় বসলাম তারপর বললাম,
হ্যা পাখি আমি এসেছি - আমি
কেমন আছো তুমি ভালো আন্টি।জানো আমি তোমাকে অনেক অনেক মিস করেছি। রোজ আল্লাহকে বলেছিলাম আমাকে যেন আবার আমার ভাল আন্টির সাথে দেখা করিয়ে দেয় - রিয়ানা
আমি তো ভাল আছি পাখি।কিন্তু আমি তোমার উপর প্রচুর রাগ করেছি - আমি
কেনো ? - কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললো রিয়ানা
এই যে তুমি ঠিক মত খাওয়াদাওয়া কর না।নিজের যত্ন নাও না।তোমার দাদুমনির কথা শুনো না বলো এগুলো কি ঠিক - আমি
সরি। আর কখনো করব না - রিয়ানা
এই না হলে আমার গুড গার্ল - আমি
মামনি একটু উঠে বসো আমি তোমাকে এই স্যুপটা খাইয়ে দেই।কারণ একটু পর নার্স এসে তোমাকে স্যালাইন দিবে তখন ৩ ঘন্টা কিছু খেতে পারবেনা - লিমা আহমেদ
না দাদুমনি আমি খাবনা । আমার না একটু ও খেতে ইচ্ছে করছে না। - রিয়ানা
এমন বলে না পাখি।আমি খাইয়ে দিলে তো তুমি না করবে না তাই না ? - আমি
সত্যি ভাল আন্টি তুমি আমাকে খাইয়ে দিবে - রিয়ানা
হুম পাখি - আমি
ঠিক আছে আমি খাব - রিয়ানা
আচ্ছা এখন আমার হাত ধরে একটু উঠে বসো পাখি। কারণ শুয়ে শুয়ে তো তুমি খেতে পারবেনা - আমি
তারপর রিয়ানা আমার হাত ধরে উঠে বসলো। আমি লিমা আহমেদকে উদ্দেশ্য করে বললাম,
দাও আন্টি আমার হাতে স্যুপের বাটিটা। আমি ওকে খাইয়ে দিচ্ছি - আমি
নাও মা - লিমা আহৃেদ আমার হাতে বাটিটা দিয়ে বললেন।
তারপর আমি রিয়ানাকে নানা গল্প বলে বলে স্যুপ খাওয়াতে লাগলাম।এর মাঝে সেখানে উপস্থিত হয় মিস্টার রিয়ান। রিয়ানাকে দেখে তিনি বললেন,
এখন কেমন আছো আম্মু।শরীর কি খুব বেশি খারাপ লাগছে ? আমি কি ডাক্তারকে ডেকে নিয়ে আসব ? - রায়ান
না পাপা আমি ঠিক আছি। জানো ভাল আন্টি আমাকে নিজে খাইয়ে দিচ্ছে - রিয়ানা
মিস্টার রিয়ানের দিকে না তাকিয়ে ও আমি বুঝতে পারছি উনি আমার দিকে একটু অন্য রকম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি সেদিকে না তাকিয়ে আবার রিয়ানাকে খাইয়ে দিতে মন দিলাম।খাওয়া শেষ হতেই আমি ঘড়িতে সময় লক্ষ করতে বুঝলাম আর কিছু সময় পর আমার একটা অপারেশন আছে।তাই রিয়ানাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,
পাখি আমি যাই।ডাক্তার এসে তোমাকে একটা স্যালাইন দিয়ে দিবে।সেটা শেষ হবার পর তোমাকে রিলিজ দিয়ে দিবে - আমি
তুমি এত জলদি চলে যাবা ভাল আন্টি - মন খারাপ করে বললো রিয়ানা
আমি কিছু বলবো তার আগেই সেখানে রূমা আপু চলে আসে।এসে বলে,
ম্যাম জলদি আসেন।একটা ইমারজেন্সি পেশেন্ট এসেছে।অবস্থা খুব বেশি ভাল না।অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে চলছে। জলদি অপারেশন শুরু করতে হবে - রূমা আপু
পাখি আবার পরে দেখা হবে।আমি যাই। নিজের যত্ন নিও তুমি - বলে আমি কেভিনে থেকে চলে আসলাম
তারপর তৈরি হয়ে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকলাম। অনেক চেষ্টা করে ও বাচ্চাটাকে বাঁচাতে পারিনি।মা এখন মোটামুটি ঠিক আছে । বাচ্চা টার জন্য আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগছে তার মা বাবার জন্য সন্তান পেয়ে ও হারিয়ে ফেললো উনারা।না পাওয়ার থেকে পেয়ে হারানোর যন্ত্রণা হয়তো অনেকই বেশি।অপারেশন থিয়েটারে থেকে বেরিয়ে আসতেই পেশেন্টের পরিবারকে সব বললাম।পেশেন্টের হাসবেন্ড কান্না করে দিয়েছে। সত্যিই উনাদের কষ্টটা এখন মাত্রাতিরিক্ত। যা হয়তো আমরা ভাবতে ও পারবনা।এতকিছুর মাঝে রিয়ানার কথা ও আমার মাথা থেকে বেরিয়ে গেছে। আমি নিচে এসে নিজের গাড়ি নিয়ে হসপিটাল থেকে বেরিয়ে আসলাম।কেন জানো আজকে আমার কোনো কিছুই ভাল লাগছেনা। তাই চটজলদি বাসায় চলে এলাম।বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে ড্রইংরুমে বসে নিজের অতীতে ডুব দিলাম,
অতীত,,
১৮ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল আমার।জন্মের সময়ই মা মারা যায়।তারপর আমার অযুহাত দিয়ে বাবা আমার জন্য নতুন মা আনে।বুদ্ধি হওয়ার পর আমি কখনোই দেখিনি বাবাকে আমার হয়ে কথা বলতে। আমাদের সংসার চলতো সৎ মায়ের কথা।সকাল থেকে রাত পযন্ত সেই সংসারে কাজ করে অনেক কষ্টে পড়াশোনা টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম।পড়াশোনায় আমি বরাবরই বেশ ভাল ছিলাম।সৎ মা বা আমার নিজের বাবা কখনো মনে হয় না আমার পড়াশোনার পিছনে কখনো কোনো টাকা খরচ করেছিলেন।বিয়েটা একপ্রকার জোর করেই করতে হয়েছিল আমাকে।তারপরের জীবনটা আমার কাছে ছিল স্বপ্নের মতো। বিয়ের পর শশুড় শাশুড়ী, ননদের সাথে মিলে মিশে বেশ ভালোই ছিলাম।আর রিশাদ ও আমাকে প্রচুর ভালোবাসতো।সবসময় আগলে রাখতো।রিশাদ পাশে থাকায়ই নিজের পড়াশোনা টা চালিয়ে যেতে পারছিলাম।কিন্তু হঠাৎই সবকিছু বদলে গেল।
বাসার কলিং বেল বেজে উঠান গিয়ে দরজা খুলতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম।আমার সামনে রিশাদ দাঁড়িয়ে আছে।আমি বুঝতে পারছি না তার এখানে আসার কারণ কি ?
চলবে,,
পরের পর্ব এখানেই দিছি পড়ে নিন।
