প্রাপ্তির_হাসি 

পর্ব_০৪+০৫+০৬+০৭

DI YA 


বাসার কলিং বেল বেজে উঠার শব্দে গিয়ে দরজা খুলতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম।আমার সামনে রিশাদ দাঁড়িয়ে আছে।তার এখানে আসার কারণ আমি বুঝতে পারছি না। হঠাৎ তার এভাবে আমার বাসায় আসার ব্যাপারটা আমাকে প্রচুর ভাবাচ্ছে। আমি রিশাদকে উদ্দেশ্য করে বললাম,,


আপনি এখানে কি করছেন ? কি চাই আপনার আমার কাছে? - আমি


মিস প্রাপ্তি আগে আমাকে বাসায় তো ঢুকতে দেন।তারপর নাহয় বাকি কথা হবে।- রিশাদ


আসেন ভিতরে এসে বসেন। - আমি


রিশাদকে ড্রইংরুমে নিয়ে এসে বসিয়ে দিলাম।একজনকে মেইডকে উদ্দেশ্য করে বললাম উনার জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে আসো। আমার কথা শুনে রিশাদ বললো,


বা আমার পছন্দ দেখি পাঁচ বছর পর এখনো মনে আছে - রিশাদের কথায় আমি তাচ্ছিল্যতার আভাস পাচ্ছিলাম


কি আর করবো মিস্টার রিশাদ। মানুষের মত বদলে যেতে আমি পারিনা।আমি যে শুধু এগিয়ে যেতে পারি - আমি


অপমান করছো ? - রিশাদ


যদি আপনি মনে করেন অপমান করছি। তাহলে তাই- আমি


আমার কথা শুনে রিশাদ হা হা করে পাগলের মত হাসতে লাগলো। যেনো আমি কোনো মজার কৌতুক বলেছি। 


হাসির কারণ টা কি জানতে পারি মিস্টার রিশাদ ? - আমি


তুমি কি ভেবেছো আমি জানিনা আমাকে আর লিজাকে এক সাথে দেখে তোমার হিংসা হয়।তোমার ভিতরে জ্বলে। তুমি আমাদের দেখতে পারোনা। তাই তো এই ভুল তথ্য দিয়েছিলে ওইদিন রির্পোটের ব্যাপারে - রিশাদ


রিশাদের কথা শুনে আমি ও হা হা করে হাসতে লাগলাম। তারপর অনেক কষ্টে হাসি থামিয়ে বললাম,


মিস্টার রিশাদ আপনি হচ্ছেন একটা থার্ড ক্লাস জিনিস।আর ওইসব থার্ড ক্লাস ফালতু জিনিসে আমি কখনো নজর দেইনা। বুঝলেন। আর হিংসা করতে তো কারণ লাগে।আমি কি দেখে আপনাদের হিংসা করব।আপনার থেকে কম কিছু তো আমার নেই বরং অনেক বেশিই আছে।তাহলে হিংসার কারণ কি ? - আমি


রিশাদ নিশ্চুপ।


জানেন তো আমার লিজা মেয়েটির জন্য প্রচুর কষ্ট হচ্ছে। আপনার জন্য সে সারাজীবন মা ডাক টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। লিজার উচিত আপনাকে ডিভোর্স দিয়ে নতুন ভাবে সবকিছু শুরু করা।ঠিক আপনি যেমন সবকিছু করেছিলেন আমার সাথে - আমি


এসব মিথ্যা। তুমি আমাদের সংসারের অশান্তির জন্য এসব মিথ্যা বলছো।তুমি আমাদের আলাদা করতে চাও তাই তো এসব ভুলভাল মিথ্যা কথা বলছো।আমার আর লিজার পাসপোর্ট তো আগেই ছিল।ভিসার জন্য এপ্লাই করেছি। আমরা বিদেশে গিয়ে সব নামি-দামি ডাক্তার দেখাবো।তারপর এসে সেসব রিপোর্ট তোমার মুখে ছুড়ে মারবো আমি -রিশাদ


অতি দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে মিস্টার রিশাদ। আপনি এই কাজ কখনোই করতে পারবেন না।কারণ আসল সত্যি এটাই যে আপনি কখনো বাবা হতে পারবেন না - আমি


চ্যালেন্জ্ঞ দিচ্ছো তুমি আমাকে ? - রিশাদ


ধরে নাও তাই - আমি


ওকে চ্যালেন্জ্ঞ একসেপ্ট মিসেস প্রাপ্তি। ওহ সরি সরি মিস প্রাপ্তি। আপনি তো আবার একজন ডিভোর্সি - বলে হাসতে হাসতে রিশাদ বাসা থেকে বেরিয়ে চলে গেলো। 


বারান্দায় বসে এক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি।আজকে অনেক দিন পর আবার পুরনো ক্ষত গুলো তাজা হয়ে গিয়েছে। বার বার শুধু রিশাদের বলা ডিভোর্সি কথাটা আমার কানে বাজছে।হ্যা সত্যিই তো আমি একজন ডিভোর্সি। আচ্ছা ডিভোর্স হয়েছে তখন নাহয় সবাই আমাকে দোষারোপ করেছিল যে আমি মা হতে পারবো না।কিন্তু এখন। সেদিন রিপোর্টে স্পষ্ট লেখা ছিল সেই সত্যি। যে কমতি রিশাদের রয়েছে আমার বা লিজার কোনো কমতিই নেই।আজ ও আমার মনে পরে যেদিন আমার উপর শশুড়বাড়ির প্রত্যেকটি মানুষ অপবাদ দিয়েছিল যে আমি কখনো মা হতে পারবোনা। তাই রিশাদ আমাকে ডিভোর্স দিবে।একবার যাচাই করে দেখতে চাইনি দোষ কি সত্যি এই পরের বাড়ির মেয়েটার নাকি নিজেদের ছেলে।না নিজেদের ছেলের তো কখনোই দোষ হতে পারেনা।আসলে অন্যের বাড়ির মেয়েগুলোই হচ্ছে অপূর্ণ। এসব ভাবতে ভাবতে নিজের ভিতরটা অনেকটা তিক্ত মনে হচ্ছিল। 


ফোনে কল আসায় চেক করে দেখি বাবাই কল দিয়েছে। হ্যা এই একটি মানুষই তো যে আমাকে ভালোবাসে।আগলে রাখে।আমার বেঁচে থাকার যদি কোনো কারণ থেকে থাকে তা হচ্ছে আমার বাবাই।আজকে এই মানুষ টা না থাকলে হয়তো আমিই থাকতাম না এই দুনিয়ায়।এই মানুষটিই তো ওইদিন আমায় বাঁচিয়েছিল।এসব ভাবনার মাঝেই কলটা কেটে যায়।তাই আমি আবার কল ব্যাক করি।সাথে সাথে বাবাই কল রিসিভ করে, 


কি ব্যাপার মামনি তুমি কই আর এখন কি ব্যস্ত আছো নাকি ? - বাবাই।


না বাবাই আমি ব্যস্ত নেই।তুমি বলো কেমন আছো তুমি ? শরীর আবার খারাপ হয়নি তো তোমার? দেশে কবে আসছো৷? ওখানের অফিসের কাজ কবে শেষ হবে ? - আমি


থামো মামনি।এত প্রশ্ন একসাথে করলে আমি কোনটা রেখে কোনটার উত্তর দিব বলো দেখি ? - বাবাই


একটা একটা করে সবগুলোর উত্তর দাও - আমি


আমি ভাল আছি। তুমি কেমন আছো ? আর আজকে সব কাজই প্রায় শেষ করে এসেছি। কালকে সকালে জাস্ট অল্প একটু কাজ বাকি আছে।আর আমি কালকেই বিডিতে ব্যাক করছি - বাবাই


আমিও ভালই আছি। সত্যি বাবাই তুমি কালকে আসবা? - আমি


হুম মামনি - বাবাই


আচ্ছা ঠিক আছে।তুমি তাহলে আমাকে কালকে ফ্লাইট ল্যান্ডের টাইম বলে দিও। আমি তোমাকে রিসিভ করতে এয়ারপোর্টে আসবো - আমি


ঠিক আছে মামনি।ঘুমাও এখন গুড নাইট - বাবাই


গুড নাইট বাবাই - আমি


তারপর বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলাম।শুয়ে থাকতে থাকতে কখন জানি ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেলাম। পরদিন সকালে ঘুম ভাঙার পর ফোন হাতে নিয়ে দেখি বাবাইয়ের মেসেজ।বাবাইয়ের প্ল্যান সন্ধ্যা ছয়টায় ল্যান্ড করবে।আমি রূমা আপুকে ফোন করে সেই অনুযায়ী সব রোগীর লিস্ট করতে বললাম।উঠে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে নিলাম।তারপর তৈরি হয়ে হসপিটালের উদ্দেশ্য বেরিয়ে পরলাম।আমার মতে ঢাকার শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যাই হচ্ছে এই ট্রাফিক জ্যাম।একবার লেগে গেলে আর ছুটতেই চায়না।গাড়ি জানালাটা খুলে পাশে তাকালাম।পাশের দৃশ্য দেখে আমি পুরো চমকে উঠলাম। একটা রিকশায় লিজা আর একটা ছেলে বসে আছে।লিজা সেই ছেলের হাতের উপর মাথা রেখে হেসে খেলে নানারকম মজা করছে।আমি বুঝতে পারছি এদের মধ্যকার সম্পর্ক টা।আমি আবার গাড়ির জানালাটা বন্ধ করে দিলাম।কি লাভ আবার অতীত ঘেঁটে। ওদের জীবনে যা ইচ্ছে ওরা করুক।আমি আর দ্বিতীয় বার জড়াতে চাইনা ওদের সাথে। এরমধ্যে সামনের গাড়ি গুলো চলতে শুরু করলো।আমি ও এসে পরলাম হসপিটালে।


~~~~


হসপিটালের কাজ শেষ করে এয়ারপোর্টে এসে পৌঁছালাম।আসার ১৫ মিনিটের মাথায় বাবাই বেরিয়ে আসলো।তারপর আমি আর বাবা একসাথে একটু ঘুরে বাইরে ডিনার করে একেবারে নয়টার দিকে বাসায় আসলাম।তারপর ফ্রেশ হয়ে আমি শুয়ে শুয়ে মোবাইল নিয়ে ফেসবুকে একটু ঘুরাঘুরি করতে লাগলাম।তখনি আমার ফোনে একটা কল আসে। কিছুক্ষণ কথা বলে আমি বলে উঠি,


আপনি আমাকে এড্রেস টা মেসেজ করে পাঠিয়ে দেন।আমি এখনি আসছি - বলে কোনো রকম ড্রেসটা পাল্টে গাড়ির চাবি নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম।


গাড়িতে বসার পর দেখি এড্রেসটা পাঠিয়ে দিয়েছে আন্টি। আমি জলদি গাড়ি ড্রাইভ করতে লাগলাম।কিছুক্ষণের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে গেলাম।গার্ডদের পরিচয় দিতেই তারা ভিতরে ঢোকার পারমিশন দেয়।বাসার ভিতরে যেতেই দেখি আন্টি বসে আছে ড্রইং রুমে। আমি আন্টিকে বলি,


আন্টি রিয়ু পাখি কই ? - আমি


তুমি এসেছো মা।চলো আমার সাথে - বলে আন্টি আমাকে রিয়ানার রুমে নিয়ে যায়


আমাকে দেখেই রিয়ানা বলতে থাকে,


ভাল আন্টি তুমি এসেছো - বলতে বলতে রিয়ানা জ্ঞান হারায়

প্রাপ্তির_হাসি 

পর্ব_০৫

DI YA 


গাড়িতে বসার পর দেখি এড্রেসটা পাঠিয়ে দিয়েছে আন্টি। আমি জলদি গাড়ি ড্রাইভ করতে লাগলাম।কিছুক্ষণের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে গেলাম।গার্ডদের পরিচয় দিতেই তারা ভিতরে ঢোকার পারমিশন দেয়।বাসার ভিতরে যেতেই দেখি আন্টি বসে আছে ড্রইং রুমে। আমি আন্টিকে বলি,


আন্টি রিয়ু পাখি কই ? - আমি


তুমি এসেছো মা।চলো আমার সাথে - বলে আন্টি আমাকে রিয়ানার রুমে নিয়ে যায়


আমাকে দেখেই রিয়ানা বলতে থাকে,


ভাল আন্টি তুমি এসেছো - বলতে বলতে রিয়ানা জ্ঞান হারায়


আমি রিয়য়ানার কাছে গিয়ে কপালে হাত রাখতেই দেখি ওর পুরো শরীর জ্বরে পুরে যাচ্ছে। তাই আন্টিকে বলি


আন্টি আমার মনে হয় ওর মাথাটা একটু ধুইয়ে দিলে হয়তো জ্বরটা নামতো - আমি


ঠিক আছে মা। ওয়াশরুমে এদিকে চলো - লিমা আহমেদ


তারপর আমি আর আন্টি মিলে রিয়ানার মাথায় কিছু সময় পানি ঢাললাম। তারপর শরীরটা হালকা ঠান্ডা হতেই ভালো করে তোয়াল দিয়ে ওর মাথাটা মুছিয়ে দিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে দিলাম। তারপর আন্টিকে বললাম একটা ছোট কাপড় আর এক বোল পানি নিয়ে আসতে।ওকে জল পট্টি দেওয়া লাগবে।সাথে ঔষধ টা ও নিয়ে আসতে।আন্টি আসার পর ওকে ঔষধটা খাইয়ে দিয়ে। আমি ওর মাথায় জলপট্টি দিতে লাগলাম।বারোটার দিকে আন্টিকে ঘুমাতে পাঠিয়ে দিলাম।কারণ বয়স্ক মানুষ। উনার এভাবে রাত জাগা ঠিক হবে না।তারপর বাবার ফোনে একটা মেসেজ দিলাম যে আমি জরুরি কাজে বাসার বাইরে আছি।আর রূমা আপুকে কল করে বললাম আমি কিছুদিন হসপিটালে আসতে পারবো না।এমন করতে করতে রাত তিনটার দিকে রিয়ানার জ্বর পুরোপুরি ভাবে চলে যায়।আর ওকে জড়িয়ে ধরে ওর পাচে আমিও শুয়ে পরি।


ভাল আন্টি ও ভাল আন্টি।সকাল হয়ে গেছে জলদি উঠো - রিয়ানা


রিয়ানার ডাকে সকাল সকাল আমার ঘুম ভেঙে যায়।মেয়েটা কত হাসিখুশি দেখাচ্ছে। এখন ওকে দেখলে কেউ বলতেই পারবেনা ওর নাকি কালকে সারারাত এত জ্বরে বেহাল অবস্থা হয়েছিল।


এখন কেমন লাগছে পাখি ? - আমি


ভাল লাগছে।- রিয়ানা


তুমি তো আমাকে বলেছিলে এরকম খাবার নিয়ে অবহেলা করবে না।ঠিক মত ঔষধ কাবে। আর একেবারে গুড গার্ল হয়ে যাবে তাহলে - আমি


আসলে আমার না তোমার কথা প্রচুর মনে পরছিল।ওইদিন চলে গেলা। তারপর তো তুমি আমার সাথে আর দেখাও করলে না - রিয়ানা


সরি গো পাখি।আসলে তোমার ভাল আন্টি একটু ব্যস্ত ছিল তো তাই আসতে পারেনি।তুমি কি রাগ করেছো ভাল আন্টির উপর? - আমি


না। কিন্তু তুমি আমাকে একটা কথা দাও - রিয়ানা


কি কথা পাখি ? - আমি


যে এখন থেকে তুমি রোজ আমার সাথে দেখা করবা ? - রিয়ানা


ওকে পাখি।ঠিক আছে - আমি


থ্যাংক ইউ ভাল আন্টি - রিয়ান


ওয়েলকাম বাবু। এখন চলো উঠে ফ্রেশ হয়ে তোমার নাস্তা করতে হবে।তারপর আবার ঔষধ ও খেতে হবে - আমি


তুমি কি আজকেও আমাকে খাইয়ে দিবা ভাল আন্টি ? - রিয়ানা


ঠিক আছে মা - আমি


তারপর রিয়ানাকে ফ্রেশ করিয়ে নিচে পাঠিয়ে দিলাম।তার একটু পর আমিও ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলাম।গিয়ে দেখছি টেবিলের চারপাশে ছয়জন মেইড দাড়িয়ে সাথে আন্টি রিয়ানাকে খাওয়ানোর চেনা করছে।কিন্তু ও কিছুতেই খাচ্ছে না। 


কি হয়েছে পাখি ? - আমি


আমি এসব খাবনা ভাল আন্টি।রোজ রোজ আমার এসব শাক সবজি দিয়ে ভরা স্যান্ডইজ আর দুধ খেতে ভাল লাগেনা - রিয়ানা


কিন্তু রিয়ানা আম্মু স্যারের আদেশ তোমাকে রোজ এরকম হেলদি ব্রেকফাস্ট করতে হবে।স্যার যদি জানে তুমি এসব খাওনি তাহলে স্যার প্রচুর রাগ করবে - একজন মেইড বললো


আন্টি আমি কি রিয়ানার জন্য কিছু বানাতে পারি ? যদি আপনি পারমিশন দেন তো - আমি


এটা আবার জিজ্ঞেস করতে হয় মা? - তারপর আন্টি একজন মেইডকে বললো আমাকে রান্না ঘর দেখিয়ে দিতে।


তখন রিয়ানা বায়না ধরলো সে ও যাবে আমার সাথে। রান্না করা দেখতে।তাই ওকে ও সাথে নিয়ে রান্না করতে গেলাম। কিছু সময়ের মধ্যেই দুটো পরোটা আর একটা ডিম ভেজে ফেললাম।সাথে একটু কমলা লেবুর জুস বানিয়ে নিয়ে আসলাম টেবিলে। তারপর একটু একটু করে পরোটার সাথে ডিম দিয়ে ওকে খাওয়াতে লাগলাম। ওর খাওয়া শেষ হতেই ওকে রুমে পাঠিয়ে দিলাম।বললাম যেয়ে একটু কার্টুন দেখো।আমি খেয়ে এসে ঔষধ খাইয়ে দিচ্ছি।আমার কথা শুনে ও বাধ্য মেয়ের মত রুমে চলে গেল।তারপর আমিও খেতে লাগলাম।আন্টি আমার পাশের চেয়ারে বসে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলতে লাগলো,


তোমাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দিব আমি বুঝতে পারছিনা মা।আসলে বাসায় আমি একা। রিয়ান ও নেই।আর রিয়ানা বারবার তোমার কথা আর রিয়ানের কথা বলছিলো।তাই হসপিটালে কল দিয়ে সেখান থেকে তোমার নাম্বার নিয়ে তোমাকে কল দেই।জানো এমনি দেন মেয়েটাকে খাওয়াতে গেলে খেতে চায়না।আর যদিও খায় একটু খেয়েই উঠে যায়।আর আজকে নাকি এত জলদি এতকিছু খেয়ে ফেললো। সত্যি তুমি অসাধারণ মা।দোয়া করি সবসময় সুখি থাকো - আন্টি


আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমি একটা কথা বলি আন্টি ? - আমি


হুম মা বলো - আন্টি 


আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমি চার পাঁচ দিন এখানে থাকতে চাই রিয়ুর জন্য। মেয়েটার মায়ায় আমি পুরো জড়িয়ে গিয়েছি আন্টি।এখন ওকে রেখে কোথাও গেলে ও আমার মন এখানেই পরে থাকবে।তাই আপনি যদি পারমিশন দিতেন - আমি


আমি ও তোমাকে এটা বলতে চেয়েছিলাম মা।কিন্তু কিভাবে বলবো বুঝতে পারছিলাম না।আজকে রিয়ান ও আসবে। তুমি তাহলে বাসায় গিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে আসো।কারণ তোমারো তো গোছগাছের ব্যাপার আছে।আবার তোমার বাসার সবাই ও তো টেনশন করবে - লিমা আহমেদ


জি আন্টি। আমার খাওয়া শেষ। আমি উঠি এখন।আবার ওর ঔষধের টাইম হয়ে যাবে।আচ্ছা আন্টি আরেকটা পারমিশন লাগবে - আমি


কি মা বলো ? - লিমা আহমেদ হেসে বললো


এই কয়েকদিন আমি ওকে আমার রুটিনমাফিক খাবার দেই।মানে মিস্টার রিয়ানের আদেশের বাইরে? - আমি


হুম।তুমি যা ভাল বুঝো তাই কর - আন্টি 


~~~~~~~


 অফিসে থেকে আসার সময় নিজের স্ত্রীকে অন্য একটা ছেলের হাত ধরে রিক্সায় বসে থাকতে দেখে রিশাদ তাদের পিছু নেয়।এক পর্যায়ে তারা একটা আবাসিক হোটেলের ভিতরে চলে যায়।সেখানে একজন ওয়েটারকে রিশাদ কিছু টাকা দিয়ে বলে ওরা রুমে কি করছে তার কিছু ছবি যেন সে তুলে এনে রিশাদকে দেয়।টাকা পেয়ে ওয়েটার ও রিশাদের কথা মতই কাজ করে।তারপর ওয়েটার লিজা আর সেই ছেলের গোপন মূহুর্তের কিছু ছবি তুলে এনে রিশাদকে দেয়।সেসব দেখে রিশাদের পুরো পৃথিবীই থমকে যায়।যার জন্য সে প্রাপ্তিকে ছেড়ে দিলো। সে লিজাই তাকে ঠকালো। রিশাদ বুঝতে পারছে প্রাপ্তির থেকে জিতে গিয়েও আজ সে নিয়তির কাছে খুব বাজে ভাবে হেরে গিয়েছে। না তাকে এর একটা ব্যবস্থা করতেই হবে।এভাবে এসব চলতে দেওয়া যাবেনা। জলদিই কিছু একটা করতে হবে। 


______


অন্য দিকে, 


কলিংবেল বাজিয়ে বিরক্তিকর দৃষ্টিতে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে রিয়ান।এ নিয়ে দুইবার সে বেল বাজালো কিন্তু কেউ দরজা খুলেনি।আবারো বিরক্তি নিয়ে বেল বাজাতে যাবে তখনি দরজা খোলার শব্দে রিয়ান সামনে তাকালো।নিজের সামনে প্রাপ্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রিয়ান একা একাই বলতে লাগলো,


উফ মিস ধানি লংকা আপনি দেখি আমার স্বপ্নর পাশাপাশি কল্পনায় ও আসতে শুরু করেছেন। এখন কল্পনায় আপনি আমার বাসার দরজা খুলে দিলেন।ইশশ এটা যদি সত্যি হতো যে এই মূহুর্তে সত্যিই আপনি আমার সামনে থাকতেন - রিয়ান

প্রাপ্তির_হাসি

পর্ব_০৬

DI YA 


কলিংবেল বাজিয়ে বিরক্তিকর দৃষ্টিতে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে রিয়ান।এ নিয়ে দুইবার সে বেল বাজালো কিন্তু কেউ দরজা খুলেনি।আবারো বিরক্তি নিয়ে বেল বাজাতে যাবে তখনি দরজা খোলার শব্দে রিয়ান সামনে তাকালো।নিজের সামনে প্রাপ্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রিয়ান একা একাই বলতে লাগলো,


উফ মিস ধানি লংকা আপনি দেখি আমার স্বপ্নর পাশাপাশি কল্পনায় ও আসতে শুরু করেছেন। এখন কল্পনায় আপনি আমার বাসার দরজা খুলে দিলেন।ইশশ এটা যদি সত্যি হতো যে এই মূহুর্তে সত্যিই আপনি আমার সামনে থাকতেন।- একা একাই বিরবির করে বলতে লাগলো রিয়ান


আপনি কি কিছু বললেন না মিস্টার রিয়ান ? - আমি


হ্যা মানে না। - এতক্ষণে রিয়ান বুঝলো প্রাপ্তি সত্যিই তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। 


এই এক মিনিট এক মিনিট আপনি আমার বাসায় কি করছেন? কোনো খারাপ মতলব নেই তো আপনার? - রিয়ান


আপনার মাথার চিকিৎসা দরকার মিস্টার রিয়ান। আমি সিউর আপনার মাথা গেছে - আমি


আচ্ছা সরো আমি মার থেকেই সব জেনে নিব।এখন আমি আগে ভিতরে ঢুকে নেই - বলতে বলতে রিয়ান বাসার ভিতরে ঢুকে আসলো।


বাসার ভিতরে ঢুকে রিয়ান আরেক দফা চমকে গেলো।এ কি এসব হচ্ছে টা কি? রিয়ান চিৎকার করে বলে উঠে, 


স্টপ এভরি ওয়ান । করছো টা কি তোমরা। এত বড় বড় মেইডরা নাকি একটা পিচ্চি বাচ্চার সাথে লুকোচুরি খেলছো।তোমাদের মাথা কি ঠিক আছে - রিয়ান


আর অন্য দিকে সবাই রিয়ানের ভয়ে কাপছে।রিয়ানার ও ভয় করছে পাপা যদি তাকে বকে।অবস্থা খারাপ হতে দেখে আমি বলে উঠলাম, 


আপু ভাইয়ারা তোমরা যে যার কাজে চলে যাও - আমি


আমার কথা এখনো শেষ হয়নি - রিয়ান


অফিসের কাজে তো গিয়েছিলেন বাসার খবর কি আপনি রাখেন? আর কারোর কথা বাদ দিন কিন্তু নিজের মেয়েটার কথা তো মাথায় রাখবেন নাকি ? আন্টি আপনাকে কতবার কল করেছিল জানেন।কিন্তু আপনার কোনো খবর নেই - আমি


মানে কি হয়েছে রিয়ুর আর আপনি যে আমাকে এতকিছু বললেন আমি কোথায় মনের আনন্দে ঘুরতে যাইনি মিস প্রাপ্তি। আমি অফিসের কাজেই গিয়েছিলাম।আর যেখানে ছিলাম সেখানে প্রচুর নেটওয়ার্কের সমস্যা ছিল।এখন বলেন দেখি আমার দোষ কোথায় ? -রিয়ান


এর মধ্যে রিয়ানা এসে রিয়ানের কোলে উঠে পরে। তারপর বলতে লাগে, 


পাপা পাপা - রিয়ানা


হ্যা পাপা বলো - রিয়ান।


তুমি কি আমার জন্য চকলেট নিয়ে আসছো ? - রিয়ানা


এই রে পাপা আমি তো চকলেটের কথা ভুলে গিয়েছিলাম।কালকে এনে দিলে কি হবে ? - রিয়ান


না হবে না। কিন্তু আরেকটা উপায় আছে যদি তুমি চাও তো আমি বলতে পারি।আমার এই উপায়টা যদদি তুমি মেনে চলো তাহলে আর আমি তোমার উপর কোনো রাগ করবনা - রিয়ানা।


আচ্ছা পাপা তাহলে বলো তুমি সেই উপায়টা কি - রিয়ান।


কালকে আমাদের স্কুলে বাচ্চাদের একটা পার্টি হবে।মিস বলেছে সেখানে যেন সবাই নিজের মা বাবাকে নিয়ে যায় - রিয়ানা।


ও এই উপায়। তাহলে তো আমি আর আমার রিয়ু মা অবশ্যই কালকের সেই পার্টিতে জয়েন করব- রিয়ান


শুধু তাই না পাপা - রিয়ানা


তাহলে আর কি মাম্মা তুমি বলো ? - রিয়ান


আমাদের সাথে আরো একজন যাবে - রিয়ানা 


আমাদের সাথে আবার সে যাবে মাম্মা ? - রিয়ান


আমাদের সাথে আমার ভাল আন্টি ও যাবে - রিয়ানা


ও আচ্ছা ভাল কথা। তোমার ভাল আন্টি যদি তোমার সাথে যেতে রাজি থাকে।তাহলে আমার কোনো সমস্যা নেই মাম্মা।এখন আমি রুমে যাই। ফ্রেশ হয়ে এসে কথা বলবো - রিয়ান


ফ্রেশ হয়ে আমার রুমে এসো রিয়ান।কিছু জরুরি কথা আছে আমার তোমার সাথে। - লিজা আহমেদ 


আচ্ছা আম্মু - বলে রিয়ান নিজের ঘরে চলে গেল


আর রিয়ানা গিয়ে প্রাপ্তি পাশের একটা সিটে বসলো।তারপর আকুপাকু করে বলতে লাগলো,


ও ভাল আন্টি - রিয়ানা


হ্যা পাখি বলো - আমি


শুনোনা ভাল আন্টি - রিয়ানা


বলো না পাখি - আমি


কালকে কি আমার সাথে স্কুলে যাবা।জানো আমার সব ফ্রেন্ড রা তাদের মাকে নিয়ে যাবে।ওদের সাথে ওদের মাকে দেখলে আমার অনেক খারাপ লাগে।সবাই সবার মা বাবার সাথে কত মজা করে খেলা খেলে। সবার মা সবাইকে নিজের হাত দিয়ে খাইয়ে দেয় আর কত কি। তুমি ও চলো না ভাল আন্টি। কালকে তুমি আমার মা হয়ে যাবে কেমন।প্লিজ ভাল আন্টি একটা দিন শুধু - রিয়ানা


ওকে পাখি কালকে আমি তোমার মা হয়েই যাব এবার খুশি - আমি


হুম প্রচুর খুশি - রিয়ানা 


এখন তুমি রূমে যাও আমি এজটু তোমার দাদুমনির সাথে দেখা করে আসছি - আমি


আন্টির রুমের সামনে আসতেই বুঝতে পারলাম ভিতরে মিস্টার রিয়ান আর আন্টি কথা বলছে।কারোর পার্সোনাল কথা শোনা ঠিক না ভেবে আমি চলে আসতে নিব।তখনি আন্টির একটা কথা শুনে আমি দাঁড়িয়ে যাই।কি বলছে আন্টি এসব উনি বেঁচে আছে, তাহলে উনি এখন কই ? আর থাকেন কই ? এখানে কেনো উনি থাকেনা ? আর উনাদের আলাদা থাকার কারণ কি ?  


~~~~~


 অন্য দিকে,, 


লিজা - রিশাদ


হ্যা বাবু বলো৷ - লিজা


সমস্যা টা আমার। যে আমি কখনো বাবা হতে পারবনা - রিশাদ


তাতে কি আমরা একটা বাবু দত্তক নিবো। এতে তো আর কোনো সমস্যা নেই ? - লিজা


একটা কথা বলবা আমাকে সত্যি করে ? - রিশাদ


হুম বলো কি কথা ? - লিজা


কেনো আমাকে ধোকা দিলে ? - রিশাদ


কি বলছো তুমি এসব রিশাদ। তোমার মাথা ঠিক আছে ? - লিজা


লিজার দিকে সেই ছবিগুলো ছুড়ে দিয়ে রিশাদ বলতে লাগলো,


এগুলোর কথা বলছি আমি। তোমার সাথে রিলেশনে জড়ানোর সময় তুমি জানতে আমার বাসায় স্ত্রী আছে। তাকে ধোকা দিয়ে আমি তোমার সাথে রিলেশনে গিয়েছিলাম।প্রতারণা করেছিলাম আমি তার সাথে। জানো একটা কথা সত্যি। আমি আজ বুঝতে পারছি। আমরা ভালো থাকার জন্য যার সাথে প্রতারণা করি। দিনশেষে সেই মানুষ টাই ভালো থাকে।আল্লাহ প্রতারককে হয়তো প্রতারণার মাধ্যমেই শাস্তি দেয়।যা আজকে আমার সাথে হচ্ছে ।ভেবো না আমাকে ঠকিয়ে সুখে থাকবে।একসময় তোমার মতো আমিও ভেবেছিলাম। আজকে আমি নিঃস্ব। তোমারো একদিন এমন অবস্থাই হবে।ভেবো না বদদোয়া দিচ্ছি।এটাই বাস্তবতা - রিশাদ


দেখো রিশাদ আমি আর তোমার সাথে থাকতে চাই না। আমার ডিভোর্স চাই - লিজা


হুম। তুমি বলার আগেই আমি এ ব্যবস্থা করে ফেলেছি।১ সাপ্তাহ সময় লাগবে উকিল সাহেব বলেছে - রিশাদ


আমি আজকেই আমার বাসায় চলে যাবো।আমি আর এখানে থাকতে চাইনা।ডিভোর্স পেপার রেডি হলে আমার বাসায় পাঠিয়ে দিও - বলে লিজা নিজের কাপড়চোপড় গুছিয়ে সবকিছু নিয়ে চলে গেলো।


রিশাদ বিছানায় বসে ভাবতো লাগলো অতীত,


বিয়ের পর সবই খুব সুন্দর ভাবে চলছিল।রিশাদ আর প্রাপ্তির জীবনে কোনো কিছুর অভাব ছিলনা। কিন্তু সমস্যাটা হয় বিয়ের তিন বছরের মাথায়।হঠাৎই রিশাদ বদলে যেতে শুরু করে।খুব বাজে ব্যবহার শুরু করে প্রাপ্তির সাথে। মেয়েটা খুব মনমরা হয়ে পরে।বুঝেনি তখন রিশাদ মেয়েটাকে।প্রিয়জনের অবহেলা যে কতটা পুড়ায় এটা সে আজকে বুঝতে পারছে। মিথ্যা অপবাদে মেয়েটাকে ডিভোর্স দিয়েছিল রিশাদ যে সে কখনো মা হতে পারবেনা। কতটা অন্যায় করেছিল মেয়েটার সাথে এটা সে আজকে বুঝতে পারছে।কিন্তু তারপরের কোনো ঘটনাই রিশাদ জানেনা। 


_____


  একটা থ্রিপিস পরে মোটামুটি তৈরি হয়ে আন্টির রুমের সামনে আসি।কিছুক্ষণ আগে একজন মেইড আমাকে বলে গিয়েছে আন্টি নাকি আমাকে ডাকছে।তাই আমি বললাম,


আন্টি আসবো কি ? - আমি


হুম আসো মা - লিমা আহমেদ 


কিছু বলবে আন্টি? - আমি


তুমি তৈরি মা ? - লিমা আহমেদ


একি এটা কি পরেছো তুমি? - লিমা আহমেদ 


কেনো থ্রিপিস। আমাকে কি বাজে লাগছে আন্টি। চেঞ্জ করে আসবো ড্রেস ? - আমি


মা আজকে আমি তোমাকে শাড়ি পরিয়ে দেই।দেখবে তোমাকে শাড়ি পরে সাথে যেতে দেখে রিয়ু অনেক খুশি হবে - লিমা আহমেদ 


ওকে আন্টি - আমি


তারপর আন্টি কোথা থেকে যেন আমার সাইজের একটা ব্লাউজ, পেটিকোট নিয়ে আসলো।আমি কৌতুহল দমিয়ে রাখলাম।কিছুই আর জিজ্ঞেস করলাম না।তারপর আন্টি আমাকে হালকা পিংক কালারের একটা শাড়ি পরিয়ে দিলো। সাথে আমি একটু সেজে নিলাম। আমি নিচে নামতেই দেখি রিয়ু আর মিস্টার রিয়ান আমার দিকে হতভম্ব ভাবে তাকিয়ে আছে।


কি হয়েছে আপনাদের? - আমি

প্রাপ্তির_হাসি

পর্ব_০৭

DI YA 


অসম্ভব সুন্দর লাগছে আপনাকে মিস ধানিলংকা - রিয়ান


এই আপনি কি বললেন আমাকে। আমি ধানিলংকা।তাহলে আপনি কি ? আপনি তো হচ্ছেন একটা আস্ত একটা খাটাশ - আমি


এই বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু - রিয়ান


কিছুর বেশি হয়নি। আপনি তো শুধু খাটাশ না সাথে হলেন পাবনা পালিয়ে আসা পাগল ও। হুহ আমাকে বলে আমি নাকি ধানিলংকা। তাহলে তো আপনি হলেন আদা রসুন পেস্ট - আমি


নিজে যা আমাকে ও কি তাই মনে কর ? - মিটমিটিয়ে হাসতে হাসতে বললো রিয়ান


ভাল হচ্ছে না কিন্তু - আমি


তুমি ভাল করলে তো হবে ভাল - রিয়ান


উফ পাপা আর ভাল আন্টি তোমরা কি থামবা। বাচ্চা আমি নাকি তোমরা ? এত বাচ্চাদের মত ঝগড়া যে কিভাবে কর তোমরা? আচ্ছা সব বাদ এখন চলো নাহলে লেট হয়ে যাবে - রিয়ানা


হম চলো - আমি


তারপর আমরা গিয়ে গাড়িতে বসলাম। রিয়ান আর রিয়ানা সামনে বসেছে আর আমি পিছনের সিটে। রিয়ানার স্কুলে পৌঁছাতেই দেকি চারিদিকে অনেক সুন্দর ভাবে সাজানো।তার মধ্যে ছোট ছোট বাচ্চারা দৌড়াদৌড়ি করছে।হাসিমজা করছে।কেউ কেউ আবার নিজের বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করছে।কেউ আবার চুপটি করে বসে আছে মা বাবার সাথে। এতগুলো বাচ্চাকে একসাথে দেখে আমার বেশ ভালই লাগছিল।এভাবেই অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেলো।সবকিছু ঠিক ভাবে কেটে যায়।অনুষ্ঠান শেষ হয় বিকেল ৪ টার দিকে।তারপর রিয়ানা বায়না ধরে আমাদের নিয়ে পাশের পার্কে যাবে।আমরা ও ওর কথা মেনে নেই।পার্কে গিয়ে আমি আর রিয়ানা দুজনে পুরো বাচ্চাদের মত দৌড়াদৌড়ি করে কেলতে শুরু করি।তারপর দুজনে কটন ক্যান্ডি নিয়ে প্রতিযোগিতা করতে থাকি। সেখানে রিয়ানা জিতে যায়।তারপর সে আমাকে বলে আমার নাকি তার সাথে লুকোচুরি খেলতে হবে।হেরে যখন গিয়েছি তখন তো আমাকে রাজি হতেই হবে তার শর্তে।রিয়ানা আমার চোখ বেঁধে দেয়।আর চারপাশে ঘুরে ঘুরে বলতে লাগে, 


ভাল আন্টি আমাকে ধরো আমি এখানে - রিয়ানা


খুঁজতে খুজতে হঠাৎ মনে হলো আমি একটা খাম্বার সাথে ধাক্কা কাই। পরে ও মাগো বলে মাটিতে বসে পরি।চোখের কাপড়টা সরাতেই দেখতে পাই আমার সামনে মিস্টার রিয়ান দাঁড়িয়ে আছে।তাই আমি বলি,


আপনি এখানে কি করছেন খাটাশ সাহেব।এখানে তো মাত্র একটা খাম্বা ছিল।যার সাথে ধাক্কা খেয়ে আমি মাটিতে বসে পরি।উফ আল্লাহ গো এত শক্ত নাকি খাম্বা হয়।মনে হয় কেউ রড দিয়ে বানিয়েছে - আমি


আমার কথা শুনে হাসতে হাসতে রিয়ানা বলে,


ভাল আন্টি - রিয়ানা


হ্যা পাখি বলো - আমি


তোমার সেই রড দিয়ে বানানো খাম্বা কিন্তু হচ্ছে আমার পাপা - রিয়ানা


ও আচ্ছা। এ্যা খাটাশ সাহেব আপনি মানুষ নাকি এলিয়েন।বাবারে বাবা এত শক্ত নাকি মানুষ হয়।হু আপনি তো খাটাশ আপনি মানুষ কেন হতে যাবেন - একা একাই বিরবির করতে থাকি আমি।


মিস ধানিলংকা নিজের দোষ আগে দেখেন। তারপর আমাকে বলবেন - রিয়ান


পাপা এখন চলো বাসায় যাই।আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি। আমার রেস্ট দরকার - রিয়ানা।।


ওকে মাম্মা - রিয়ান।


তারপর আমরা বাসায় চলে আসি।পরদিন সকালে ও সব আগের মতোই হচ্ছিল। আজকে আমি চলে যাব এই বাসা থেকে। কারণ রিয়ু ও এখন যথেষ্ট সুস্থ হয়ে গেছে। আর আমারো হসপিটাল থেকে অনেক কল আসছিল।আবার বাবাই ও তো আছে বাসায়।ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে সবাই ব্রেকফাস্ট করছিলাম তখনি কলিংবেল বেজে উঠে।একজন মেইড গিয়ে দরজা খুলে দেয়।ভিতরে প্রবেশ করে আমার মতো বয়সী একজন মেয়ে।তাকে দেখে আন্টি আর মিস্টার রিয়ানকে কেমন জানি লাগছিল দেখতে।রিয়ান আন্টিকে ইশারা করতেই আন্টি গিয়ে রিয়ু পাখিকে ঘরে রেখে আসে।আমি তখনো কিছু বুঝছিলাম ন।তাই কৌতুহল নিয়ে সবকিছু দেখছিলাম।মিস্টার রিয়ান বলতে শুরু করে,


আপনি এখানে কি জন্য এসেছেন? কি চাই আপনার এখানে ? আমার জানামতে আপনি ছয়বছর আগেই এ বাসার সাথে আর এ বাসার মানুষের সাথে সব সম্পর্ক নষ্ট করে দিয়েছেন। তাহলে এখন আপনার এখানে কাজ কি ? - রিয়ান


সেটা তুমি ঠিকই জানো। তাই মনে হয় না আমার আর বলার প্রয়োজন রয়েছে - মেয়েটি


আপনি যা চাচ্ছেন তা কোনোদিন ও হবেনা।অত্যন্ত আমি রিয়ান আহমেদ বেঁচে থাকতে তো এটা অসম্ভব - রিয়ান


তাহলে তুমি মরে যাও।আমার মেয়েকে আমার চাই।যে কোনো মূল্যে। এখন তোমরা ভালোয় ভালোয় আমার মেয়েকে আমার কাছে দিয়ে দিলে তো ভালই।নয়তো আমার পুলিশের সাহায্য নিতে হবে - মেয়েটি


তা কি বলে পুলিশের কাছে আপনি সাহায্য চাবেন শুনি ? আমার স্বামির মৃত্যুর পর আমি আমার মেয়ে আর মৃত স্বামির পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন প্রেমিকের কাছে চলে যাই।কিন্তু এখন আমার মমতাবোধ জেগে উঠেছে। তাই আমার মেয়েকে আমার চাই। নাকি আমি আর কখনো মা হতে পারবনা তাই নিজের চিহ্ন হিসেবে আমার ওকে চাই। নিজের কমতি মুছাতে - রিয়ান


বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু রিয়ান। এত বাড় বেড়ো না। খুব শীঘ্রই হয়তো ঝড়ে পরে যাবে - মেয়েটি


রিয়ান আহমেদ তোমার মত থার্ড ক্লাস মানুষ না বুঝলে। রিয়ান আহমেদ কখনো ঝড়ে পরবেনা। - রিয়ান


তোমাকে কিন্তু আমি দেখে নিব।আমার স্বামি কিন্তু পুলিশ অফিসার। তো আইনের দিক দিয়ে আমার ক্ষমতা কিন্তু আছে নিজের মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার - মেয়েটি


চেষ্টা করে দেখতে পারেন কিন্তু ফলাফল শূন্য হবে- রিয়ান


কেন আবার সবকিছু শেষ করতে চাইছো।চলেই তো গিয়েছিলে ভাল থাকতে। তাহলে কেনো আবার ফিরে এসেছো আমাদের ভাল থাকা নষ্ট করতে। - লিমা আহমেদ 


আমি এত কিছু জানিনা। আমার শুধু আমার মেয়েকে চাই - মেয়েটি


এটা আপনার স্বপ্নে ও অসম্ভব। চাইলে চেষ্টা করতে পারেন - রিয়ান


আমি আজকে ঠিকই চলে যাচ্ছি। কিন্তু কালকে আবার আসবো আর আমার মেয়েকে আমি আমার কাছে নিয়েই ছাড়বো - বলে মেয়েটি বাসা থেকে বেরিয়ে যায়।


আমি এতক্ষণ নিরব দর্শকের মতো সবকিছু দেখছিলাম। মেয়েটা বেরিয়ে যাবার পর মিস্টার রিয়ান ও গাড়ির চাবি নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়।আন্টি হয়তো আমার অবস্থা টা বুঝেছেন তাই বলতে লাগলো,


ঘটনাটা আরো সাতবছর আগের। আমার বড় ছেলের বউ করে নিয়ে আসি আমি এই মেয়েটি মানে সিমাকে। প্রথম প্রথম সবকিছু ভালোই চলছিল।কিন্তু দিন যত যায় সিমা বিগড়ে যেতে শুরু করে।রাতভরে পার্টি। সারাদিন বন্ধুদের সাথে ঘুরাঘুরি আর নানাকিছু।তা ও আমার ছেলেটা তাকে কিছু বলেনা।তারপর হঠাৎই একদিন জানতে পারি সিমা প্রেগন্যান্ট। সেদিন খুশিতে কান্না করে দিয়েছিল আমার ছেলেটা। কিন্তু সুখ জিনিসটা আমার সেই ছেলের কপালে হয়তো ছিলই না।তাই তো সিমার প্রেগন্যান্সির সময় যখন ৮ মাস। তখন ছেলেটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। অনেক ভেঙে পরেছিলাম আমরা কিন্তু সিমার জন্য আমি আর রিয়ান নিজেকে সামলিয়ে গেছি।কখনো ওর কোনো কষ্ট হতে দেয়নি। কিন্তু যেদিন রিয়ানার জন্ম হয়।সেদিনই সে হসপিটালে একটা চিঠি লিখে সেখানে থেকে চলে যায়।সেই চিঠিতে লেখা ছিল। 


সিমা এখন কোনো বাচ্চা চায়না।বাচ্চার জন্য সে নিজের খুশির জীবন মাটি করতে পারবেনা।সে তার ভালোবাসার মানুষ টির কাছে চলে গিয়েছে 


আন্টি আর কিছু বলবে তার আগেই মিস্টার রিয়ানের ফোনে থেকে আন্টির ফোনে কল আসে।কল রিসিভ করার পরপরই আন্টি জোড়ে একটা চিৎকার দিয়ে বলে, 


আমার রিয়ান, কিছু হবেনা আমার ছেলের


চলবে, 


পরের পর্ব এই ওয়েবসাইটেই দিছি পড়ে নিন। 



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url