গল্প : #মায়ের_সংসার
পর্ব : ২
লেখক : #সাদনান_আল_আরাফ
এই কথাটা শুনেই রিয়াজ আমার শাশুড়িকে ডাক দেয় আম্মা, ও আম্মা
রিয়াজ বলতেছে আম্মা তোমাদের বউমা এসব কি বলতেছে। ঘরে খাবার নাই ?
শাশুড়ি বলে উঠে হ্যাঁ, খাবার নেই। সবাই খাওয়া দাওয়া করে শেষ হয়ে গেছে। যতটুকু আছে সেটা তোর বড় বোন নূরনেহার আর তার ছেলে মেয়ের জন্য রাখছি।
রিয়াজ বলে উঠলো বাহ খুব সুন্দর কথা বলছো আম্মা। আমি আজকে তিনটা দিন পরে বাড়িতে আসছি। এতটা পথ যে আমি সফর করে আসলাম। সেটা তোমার চোখে পড়লো না। অথচ তোমার মেয়ে এই একটু পথ আসবে। সেটা তোমার চোখে পড়লো। আসতেই তাকে খেতে দিতে হবে।
আমার শাশুড়ি রেগে বলে উঠলো তুই কোনো রাজ্য জয় করে আসিস নাই। আর তোর আর তোর বউয়ের তো আমার মেয়েকে সহ্যই হয় না। সে আসবে শুনেই তো তোদের মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়। তুই তো এখন বউয়ের গোলাম হয়ে গেছিস?
রিয়াজ বলে উঠলো আম্মা ও আমার বড়বোন আমি যেমন করে আমার বউকে ভালবাসি। ঠিক তোমাদের সবাইকেও ভালোবাসি। সেখানে তফাৎ করার মতো তো কিছু দেখি না। তোমার মেয়ে আসতে আসতে বিকাল হয়ে যাবে। আর এইদিকে সবে মাত্র দুপুর। কেউ যদি তার বাড়ি থেকে বের হয়। তাহলে সে নির্দিষ্ট সময়ের খাবার খেয়ে তারপরই বাড়ি থেকে বের হয়। আর আমি সারাটা রাত জার্নি করে তারপর বাড়িতে আসছি। অল্প খাবার খেতে চায়ছি। তুমি তোমার মেয়ে আসবে বলে খাবার রেখে দিছো। কিন্তু ছেলের জন্য খাবার নেই। কারন সে তো তোমার ছেলেই না।
আমি তাদের মাঝে দর্শক হিসেবে কথা শুনতেছি আর দেখতেছি। আমি আমার স্বামীর চোখে টলমল পানি দেখতে পারতেছি। আজকে ছয়টা মাস হলো মানুষটার সাথে আছি। এত শান্ত শিষ্ট - আর নিরব মানুষ। আমি আমার জীবনে দেখি নাই। মানুষটা ক্ষুধা একদম সহ্য করতে পারে না।
এই কথা গুলো শুনে আমার শাশুড়ি রেগে একদম ফায়ার হয়ে গেছে। ওনি ওনার ছেলের সাথে না পরে আমাকে বলা শুরু করে
এই সবকিছু এই বান্দীর বাচ্চার কাজ। আমার ছেলেরে কালো জাদু করছে। নাহলে আমার ছেলে এমন ছিল না। সব দোষ তোর।
মুখে যা আসতেছে সেটাই বলতেছে। আমার শাশুড়ি আমাকে। তখনি
রিয়াজ আম্মা তুমি তাঁকে কেনো বলতেছো। তোমার মেয়ের কথা যদি তোমার মেয়ের জামাই শুনে। তাহলে এর চাইতে ভালো ছেলে আর এই পৃথিবীতে নেই। ঠিক সেই কাজটাই যদি নিজের ছেলের সাথে হয়। তাহলেই ছেলে বউয়ের গোলাম হয়ে যায়। ভালো একটা সংজ্ঞা দিলা। তুমি এখন যাও। আমার খাবার খাইতে হবে না।
এই গুলো বলে রিয়াজ বিছানায় শুইয়ে পড়ে। আমি প্রথমে যেভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ঠিক সেইভাবেই দাঁড়িয়ে আছি। কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমার শাশুড়ি এই কথা গুলো বলতে পারলো।
আমার শাশুড়ি রেগে ঘর থেকে যখনি বের হয়ে যায়। তখনি অনবরত চোখ দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়ে যায়। এইটা দেখার পরই রিয়াজ আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে
কি হয়েছে , আমার জামিলিয়ার। কান্না করা কি হয়ছে বোকা। আমি আছি না। তোমার কিছুই হবে না।
আমি বলে উঠি আম্মা এই কথা গুলো বলতে পারলো। আপনাকে আমার গোলাম বলতেছে। আমি নাকি আপনার উপরে কালো জাদু করছি। ( এই গুলো বলতেছি আর কান্না করতে করতে হেস্কি তুলে ফেলছি )
রিয়াজ বলে আরে এইগুলো টুকটাক সব সংসারেই হয়। এত কান্নাকাটি করতে হবে না। তোমার পেটে যে আমার ছোট্ট সোনামনি তার কষ্ট হবে না।
এই কথা শুনেই আমার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। আমি বললাম
" যেদিন বিয়ে হলো "
সেদিন দুইটা মানুষ ! একটা মানুষে পরিণত হয়েছি ।
" কখনো ছেড়ে যায়েন না "
আপনার সাথেই দুনিয়া খুঁজে পায়। নাহলে শূন্য শূন্য লাগে ।
এই কথা বলে আমি তার বুকে মুখ লুকিয়ে ফেলি। সেই মানুষটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার বুকে। তারপর বলে
আমি কখনো ছেড়ে যাবো না তোমাকে। তুমি একমাত্র মানুষ যে আমার সকল কিছু বুঝতে পারো। আমি তো তোমার মাঝেই দুনিয়া খুঁজে পায়। সেই দুনিয়ারই রাজপুত্র নাহয় রাজকন্যা আসতেছে। আরে আমার মতো এত খুশি এই দুনিয়াতে আর কেউ নেই। তুমি আর আমার পরিবার ছাড়া আমার বলতে আর কেউ নেই তো। তুমি আমার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখো। আমি এই হাতটা ধরে দুনিয়ার সকল দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে পারবো।
আমি বলে উঠি আমি সবসময়ের জন্য আপনার এই হাত শক্ত করে ধরেছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছাড়বো না।
ওনি শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে। আমি তো ওনার বুক পর্যন্ত মাথা ঠেকাতেই পারি না। ওনার বুকের নিচে পড়ে থাকি। মানুষটা এতটাই উঁচা।
আমি উনাকে বলে উঠি আপনি একটু অপেক্ষা করুন। আমি দেখি খাবারের জন্য কিছু ব্যবস্থা করতে পারি নাকি।
রিয়াজ বলে তুমি কি ব্যবস্থা করবা। ঘরে তো কিছুই নেই। আমরা তো এখন আব্বা আম্মা সাথেই খাই। তারা তো এখন আমাদের পৃথক করে দিয়েছে।
আমি বলে উঠি সমস্যা নাই। দাদুর কাছে যায়। তাঁকে যদি একটু সুপারিশ করি। তাহলে একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
আমি আর একটা মূহূর্ত দেরি না করে। দাদুর রুমে চলে যায়। গিয়ে বলি
দাদু , তোমার শরীরটা এখন কেমন আছে।
দাদু বলে উঠে কি মতলবে এসেছিস। সেটা আগে বল। নাহলে তুই তো এইভাবে কখনো বলিস না।
আমি বলে উঠি দাদু তুমি এই কথাটা বলতে পারলে। আমি কি খালি সবসময় মতলব নিয়ে তোমার কাছে আসি। আসলে হয়েছে কি
দাদু বলে এত না পেঁচিয়ে বলে ফেলতো কি হয়েছে । না মানে না মানে রেখে
আমি এইবার সরাসরি বলেই ফেলি যে দাদু তোমার নাতি আজকে তিনদিন পর আসছে কাঁচা মালের চালান থেকে। এখন তার খুব খুদা লাগছে কিন্তু ঘরে খাবার রেখেও না করতেছে
দাদু রেগে বলে কার এত বড় সাহস। আমার নাতি এত কষ্ট করে। ঢাকা থেকে আসছে আর বলে কি না খাবার নেই। বৌমা ও বৌমা
আমার শাশুড়িকে হঠাৎ করে ডাক দিতেছে দেখে আমি তারাতাড়ি দাদুর রুমের দরজা আড়ালে লুকিয়ে পড়ি। কারন আম্মা যে পরিমাণ রেগে আছে। আমাকে এইখানে দেখলে। আমার খবর করে ছাড়বে। তখনি
আম্মা বলেন কি হয়েছে। হঠাৎ করে এত রেগে গেলেন কেনো।
দাদু বলে রিয়াজ উদ্দিন আসছে কি বাড়িতে।
শাশুড়ি বলে হ্যাঁ আম্মা কিছুক্ষণ আগে আসছে।
দাদু বলে রিয়াজ কি খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ছে নাকি এখনো খাবার খাই নাই।
এই কথা শুনে আমার শাশুড়ির মুখটা অমাবস্যার চাঁদের মতো কালো হয়ে গেছে। তখনি
আসলে হয়েছে কি আম্মা। এখনো খাবার খাই নাই। ঘরে খাবার শেষ হয়ে গেছে। তার উপর আপনার বড় নাতনি আসবে আজকে।
এইটা শুনে বলে উঠে ছেলেটা এত কষ্ট করে এতদূর থেকে আসছে আর বলতেছো ঘরে খাবার নাই। সকালে না আমি দেখলাম। এতকিছু রান্না করছো শেষ কিভাবে হয়ে যায়। এক্ষুনি খাবার নিয়ে আসো আমার ঘরে। তিনজনের খাবার নিয়ে আসবে। আমি আর আমার নাতি একসাথে বসে খাবো।
শাশুড়ি বলে আসলে হয়েছে কি আম্মা
দাদু ধমক দিয়ে বলে আমি কি এত কথা বলতে বলছি তোমাকে। যাও খাবার নিয়ে আসো।
এইটা শুনে আর একটা কথা বলার সাহস পায় না আমার শাশুড়ি। কারন এই বাড়িতে একজনের কথা চলে সেটা হলো আমার দাদি শাশুড়ি ফুলেবানুর।
আমি চুপচাপ হাসতেছি। কিছুক্ষণ আগে আমার শাশুড়ি কি কথা গুলো বলছে আমাদের দুইজনকে আর তার শাশুড়ি সামনে এসে একবারে ভিজা বিড়াল হয়ে গেছে।
দাদু ডাক দিয়ে বলে হুসনে আরা সই যা তোর নাগরের ডাক দে গিয়ে। তার আরেক বউ ডাকে । তার সাথে খাবার খাওয়া জন্য ।
আমি বলে যাও দাদু কি বলো । আমার লজ্জা লাগে না।
দাদু বলে আমার লজ্জাবতীরে । যা আগে ডাক দিয়ে আয়।
আমি আর দেরি না করে তাকে ডাকার জন্য ঘরে সে দেখি বই পড়তেছে।
আমি গিয়েই বলি তোমার প্রথম বউ তোমাকে ডাকে খাওয়ার জন্য। ( একটু রাগ দেখিয়ে বলি )
তখনি রিয়াজ বলে কি বলো আমার প্রথম বউ ডাকে। কি ......
চলবে......
নোট : এই গল্পটার নায়িকার নাম কি । সবাই বলবেন কিন্তু ।
তৃতীয় পর্ব থেকে এই গল্পের টুয়িস্ট বাড়বে। নতুন আরো কিছু করেক্টার যোগ হবে । পরের পর্ব এখানেই দেওয়া হবে ধন্যবাদ তাই এই ওয়েবসাইটেই চোখ রাখুন।
হ্যাপি রিডিং ☺️💝
