মন গহীনে তুমি 

নীলাদ্রি জান্নাত মায়া 

পর্ব :২


দেখো মেয়ে, তোমার প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই আমার৷ সো,প্লিজ ডিস্টে মেনটেন করে চলবা আর শোন আমি তোমার সাথে বিছানা শেয়ার করতে পারবো না।তুমি হয় অন্য কোথাও যাও নাহলে সোফায় শুতে পারো। তীব্র বিরক্ত আর তেজ নিয়ে কথা গুলো বললো নাহিয়ান।আমার খারাপ লাগছে, কিন্তু কিছু বলতেও পারবো না। একটু আগে যা তামশা করেছে এই লোক🥴বলা তো যায় না ম*রে টেরে দেয় আবার। 


কিছুক্ষণ আগে,


বাসর ঘরে বসে আছি। ভালো লাগছে না, বিয়ে নিয়ে আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই। কেননা আমি বিয়েকে বোরিং আর একঘেয়ে জীবন মনে করি।

একটা মেয়ে বিয়ের পর সকালে উঠে, স্বামী, শশুর-শাশূড়িকে খাবার দেয়। স্বামী অফিস যায় আর মেয়ে সারাদিন লাগিয়ে ঘরের কাজ করে। যাদের কপাল ভালো তারা হয়তো শশুর বাড়িতে আদর যত্ন পায় আর যাদের মন্দ তারা কেবল কেদে কেদেই জীবন পার করে। মাঝখানে মেয়েটা নিজের সব স্বপ্ন ত্যাগ করে বসে৷ খুব কম মেয়েই বিয়ের পরে নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারছে। বাকিরা, হুহ,এই সমাজ নারীদের তেমন মূল্য আর মর্যাদা দিতে জানেনা। যাইহোক, আমি আমার ভাবনার মাঝে দরজা খোলার শব্দ পাই। আমি আমার ভাবনার জগৎ থেকে বের হই,যতই হোক স্বামী উনি আমার অসম্মান তো করতে পারবো না, ভাগ্যে যা আছে মেনে নিব। ভেবেছিলাম আর পাঁচটা বিয়ের মতোই উনি বিয়ে টা মানবে কিন্তু তার ব্যবহার, আল্লাহ উনাকে হেদায়েত দিক। কেননা উনি রুমে ঢুকেই আমাকে বিছানা থেকে একটানে নিচে নামায়। আকস্মিক ঘটনায় আমি টাল সামলাতে না পেরে নিচে পড়ে যাই,কিছুটা ব্যথাও পাই উনি সেদিকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে, বলা শুরু করে,

লিসেন, তোমাকে জাস্ট আমার সহ্য হয় না, বিয়ে টা জোর করে হয়েছে তোমাকে তো, আমি খুন করতে পারলে বাঁচি। তোমার মতো ক্যারেকটারলেস মেয়েদের আমি ভালো করেই চিনি। বিকেলে এক ছেলের গা'য়ে পড়েছো এখন যেই না বড়লোক ছেলে পেলে ওমনি বিয়ের জন্য বাবা-মাকে জোর করলে। ভেবেছো কি তোমায় স্ত্রী মেনে নিব, অসম্ভব। আমি নাহিয়ান অন্য নারীতে আসক্ত। খবর দার যদি আমার আশেপাশেও তোমার ছায়া দেখি। আমি নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছি।তাকে তো কখনো দেখিও নি আমি সেখানে বড়লোক ছেলে মানে কি। নিজের চরিত্রে এমন বিশ্রী আরপ সহ্য হলো না চোখ দুটো পানিতে টলমল করছে। কিছু বলার মতো ভাষাও নেই। সে আমাকে ওভাবেই রেখে ওয়াশরুমে চলে যায়। আমি তখনো মেঝেতে বসে আছি।

এরপরের ঘটনা গুলা তো জানেনই। এই লোকটাকে এমনি এমনি আমি অভিশপ্ত বলি না।এই মানুষ যতবার জীবনে এসেছে আমার সুখে নজর লেগে যায়। ছোট বেলার সেই ভয়াবহ ঘটনা আজও আমার রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। আর এই মানুষটাই কি না আমার…. ভাগ্য এর কি খেলা। আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না কোনোরকমে নিজেকে সামলে রুমের বাহিরে যাই আর যেতেই সেখানে একটা মেয়ের সাথে দেখা হয় আমার সমবয়সী হবে হয়তো,

আরে ভাবি, এখানে কি করছো

রুমে ভালো লাগছে না তাই এখানে আসলাম তুমি কে গো?

আমি, আমাকে চিনো না । নাহ এটা হতে পারে না তোমার ওয়ান এন্ড অনলি ননদ আমি আমাকেই চিনো নাহ মানবো না আমি।

আমি কিছুক্ষণ তাকিয়ে বলে উঠলাম

সামিয়া? 

আরে বাহ চিনে ফেলেছো, তা ভাবী আমার ভাইকে একা রেখে এখানে কি করছো,মায়ার ভাইকে উপোস করিয়ে রাখবে নাকি,

মেয়েটার লাগামহীন কথায় আমার লজ্জা লাগলো তবে সেসবে পাত্তা না দিয়ে ওকে বললাম, আমাকে তোমার রুমে আজকে থাকতে দিবে?

এমন সময় এই কথা হয়তো সে আশা করেনি তাই অপলক চেয়ে রইলো কোনোরকমে বললো ভাইয়ার সাথে কিছু হয়েছে

আমি বললাম,তোমায় বলবো নে এখনপ্লিজ আমাকে নিয়ে যাও কেউ দেখলে সমস্যা হবে।

সামিয়া আমাকে তার সাথে নিয়ে যায়,রুমে গিয়ে কোনোরকমে নিজেকে সামলে নেই, সামিয়া আমাকে আবার একই কথা জিজ্ঞেস করলে আমি আংশিক কিছু বলে দেই।কিন্তু তার ভাইয়ের ব্যবহারটা বলি নাই, শুধু বলেছি দুজনের সময় প্রয়োজন। সামিয়া কিছুক্ষণ সন্দিহান তাকিয়ে আমাকে শুতে বলে আর সেও শুয়ে পড়ে। সকালে উঠে আমি একদফা চমকাই, কেননা দুপুরে যেই ছেলের সাথে আমার ধাক্কা লেগেছে,সে এখানে। লোকটা কিভাবে অপমান করছে আমি ভুলি নাই। একটা ফুলকে বাগানে যত যত্ন দিয়ে বড় করা হয় আমাকেও তেমনি বড় করা হয়েছে। সবার ছোট রাজকন্যা বলেই পরিচিত আমি। ফুলের টকাও পেতে দেয়নি আমার বাপ চাচারা।সেখানে এই লোক আমাকে অপমান করেছে। ভুলা কি যাবে? মটেও না। কিন্তু কথা এটা না উনি এখানে কি করছে আবার আমাকে ফলো করে আসেনি তো কিন্তু তাই বলে বাড়িতে 


কি করছে?


চলবে? পরের পর্বগুলা এখানেই পাবেন।
 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url