#কেমনে_তাহারে_কব_প্রণয়ের_কথা
#পর্ব_২
#ইলোরা_ফারদিন
আমি নবনীতা নাওফা নোভা
আমার বাসা বগুরা। আমরা এক ভাই এক বোন। আমি এবার অনার্স ফাইনাল দিলাম আর ভাইয়া মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে। ছোট বেলা থেকেই আমি আর আমার ভাই নাভেদ আমাদের বাবা মায়ের চোখের বালি। এক কথায় তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলাম। আমাদের বাবা মা তো প্রায়ই বলে যে আমাদের মতো সন্তান হওয়ার চেয়ে ভালো হতো তারা সারা জীবন যদি নিঃসন্তান থাকতো। আমরা তাদের লজ্জার কারণ। আমার ফুফু চাচারাও আমাদের দেখতে পারে না। উঠতে বসতে অপমাম-তাচ্ছিল্যের শিকার হতে হতে হয়। বাড়ির বাজার করার দায়িত্ব আমার ভাইয়ের আর সবার ফাই ফরমান খাটার দায়িত্ব আমার। কারণ আমরা দুই ভাই বোন পড়াশুনায় খুব একটা ভালো না। যেখানে আমাদের অন্যান্য চাচাতো ফুপাতো ভাই বোনেরা, এমনকি আমার বাপ চাচারাও বুয়েট, ঢাবি, জাবি, রাবি, মেডিক্যালের স্টুডেন্ট ছিল। কিন্তু তাদের বংশে কলঙ্ক লেপে দিয়ে আমি আর আমার ভাই ভর্তি হয়েছি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাই তো আমাদের কাজিনরাও আমাদের পাত্তা দেয় না।
যাই হোক, অবশেষে কালকে আমি মুক্তি পেতে যাচ্ছি পরিবার নামক এই জাহান্নাম থেকে। অবশেষে!
নোভা
তারিখ: ১২/৪/২০২৫
লিখেই নোভা নিজের ডায়েরিটা বন্ধ করলো। আনন্দে তার চোখে আজ ঘুম নেই। ইশ! কাল থেকে আর কেউ তাকে বলবে না," এই নোভা, যা তো এক কাপ চা বানিয়ে আন; এই নোভা, যা তো আমার জুতাটা কি মুছে দে; এই নোভা, যা তো মাছ গুলো ধুয়ে দে; এই নোভা যা তো কাপড় গুলো ধুয়ে দে।
এসব ভেবেই নোভার চোখে আবার পানি জমলো। এই কাজগুলো শুধু নোভার জন্যই বরাদ্দ। তার অন্যন্য কাজিনদের কখনো কেউ কাজ করতে বলতো না।
এমনো দিন গেছে, শান্তার পরীক্ষা, তাই শান্তার কাপড় নোভা ধুয়েছে, যেখানে শান্তা তার চেয়ে বয়সে ছোট।
নোভার বড় চাচার নাতির গুয়ের কাপড় পর্যন্ত নোভা ধুয়েছে। কারণ সেদিন কাজের মেয়ে আসে নি। অবশ্য কাজের মেয়ে থাকা সত্ত্বেও বাসার সবাই ইচ্ছা করেই তাকে আর তার ভাইকে অপমান করতে কাজ করায়।
এসব কথা ভাবতে ভাবতেই চোখে পানি আর ঠোটে হালকা হাসি নিয়ে নোভা নিজের ব্যাগ গুছিয়ে নিল।
।।।।।।।।।
সকাল বেলা নাভেদ আর নোভা হাত ব্যাগ নিয়ে ঘর থেকে বের হলো। ওদের হাতে ব্যাগ দেখে সবাই জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে সেদিকে তাকালো। নোভা বাবা নেহাল হোসেন অফিসের জন্য তাড়াহুড়োতে নাস্তা করতে করতে তাদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, " কি ব্যাপার, সকাল সকাল তোমরা দুই ভাই বোন ব্যাগ নিয়ে কোথায় যাচ্ছ? আজ শান্তার বউভাত, মনে নেই? অনেক কাজ বাকি। আমি অফিস থেকে হাফ ডে ছুটি নিচ্ছি। নোভা তুমি তোমার চাচিকে কাজে হেল্প করো যাও, বাসায় অনেক গেস্ট। আর নাভেদ তুমিও যাও সবার হাতে হাতে কাজ করো।'
আব্বা এখন থেকে আমি আর আমার বোন আপনাদের ব্যক্তিগত চাকর না। আপনারা নতুন চাকর খোজেন। আমরা আজকেই এই বাড়ি ছাড়ছি।
ছাড়ছি মানে? অবাক হয়ে জানতে চাইলেন নোভার মা তাহেরা।
নোভা মিষ্টি হেসে বললো, "তোমাদের কলঙ্ক মুক্ত করছি মা। আর বাবা তূমি তোমার ভাই বোনদের সন্তান নিয়ে ভালো থেকো। "
নেহাল হোসেন বাকা হেসে বললো," যাচ্ছ যাও, দেখবো কতদিন একা থাকতে পারো।"
নোভা -নাভেদ আর কিছু না বলে চুপচাপ বেরিয়ে আসলো সেখান থেকে। গন্তব্য তাদের নতুন। অপেক্ষা নতুন এক জীবনের।
চলবে.....
