এই_মন_তোমাকে_দিলাম♥️
পর্বঃ০৫+৬+৭
Arshi_Ayat
অরুণী রুহিদের বাসার সামনে এসে মাত্রই পৌঁছালো।সি এন জি ওয়ালাকে ভাড়া দিয়ে ওপরে আসতেই দেখলো একটা ছেলে রুহিদের দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে।মুখ দেখা যাচ্ছে না বলে অরুণী ছেলেটাকে চিনতে পারছে না।অরুণী আস্তে আস্তে ওপরে এসে ছেলেটার পাশে দাড়িয়ে দরজা নক করে ওর দিকে খেয়াল করলে।নাহ!ছেলেটাকে অরুণী চিনে না।অরুণী পরিচয় জানার জন্য বলল"হাই,আমি অরুণী।আপনি?"
"আমি প্রিয়ম চৌধুরী।" ছেলেটা মৃদু হেসে বলল।
"ওহ!আচ্ছা।"
এরমাঝেই রুনা বেগম দরজা খুলে দেওয়ায় অরুণী আর কিছু বলতে পারলো না।অরুণীকে দেখে রুনা বেগম বললেন"মা ভেতরে আসো।"
অরুণী ঘরে ঢুকে বলল"আন্টি রুহি কোথায়?"
"ঘুমাচ্ছে।সারারাত ধরে কান্না করেছে।সেইজন্য এখন ঘুমাচ্ছে।"
অরুণী রুহির ঘরের দিকে চলে গেলো।অরুণী চলে যাওয়ার পর রুনা প্রিয়মের দিকে তাকিয়ে বলল"কে তুমি?"
"স্যার আছে?"
রুনা বেগম বুঝলেন ছেলেটাকে আনোয়ার সাহেবের কথা বলছে।কারণ আনোয়ার সাহেব প্রাইমারী স্কুলের হেড টিচার ছিলেন।এখন অবশ্য রিটায়ার্ড।এমন অনেকেই আসে তার সাথে দেখা করতে।রুনা বেগম দরজা থেকে সরে দাড়িয়ে বলল"আসো বসো।তোমার স্যার বাজারে গেছে।"
ছেলেটা এসে সোফায় বসলো।রুনা বেগম কিচেনে গেলেন চা বানাতে।রুনা বেগম যাওয়ার পর প্রিয়ম সামনের খবরের কাগজটা নিয়ে চোখ বুলাতে আছে আরম্ভ করলো।
------------------
অরুণী রুহির পাশে বসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।রুহি এখনো ঘুমাচ্ছে! ঘুমালে রুহিকে নিষ্পাপ শিশুদের মতো মনে হয়।যেনো তার কোনো দুঃখ কষ্ট নেই।কিন্তু জেগে উঠলেই এই নিষ্পাপ মুখে হাজারো বিষন্নতা,আর কষ্টের চিহ্ন ফুটে ওঠে।
আরো কিছুক্ষণ রুহির মাথায় হাত বুলাতেই রুহি আস্তে চোখ খুললো।রুহিকে চোখ খুলতে দেখে বলল"যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়।"
রুহি হালকা একটা হাসি দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।ফ্রেশ হয়ে আসতেই অরুণী বলল"রুহু আজকে আমরা ঘুরতে যাবো।ওকে।"
"না রে আমার কোথায় যেতে ভাল্লাগে না।" রুহি মলিন মুখে বলল।
"তোমার তো কোথাও যেতে ভাল্লাগে না।কিছু করতে ভাল্লাগে না।খালি কাঁদতে ভাল্লাগে।আমি তোর থেকে পারমিশন চাইছি নাকি?আমি বলছি আমরা যাবো তুই বিকেলে রেডি হয়ে থাকিস।"
রুহি অরুণীর হাত ধরে বলল"এতো ভালোবাসিস কেনো আমাকে?"
অরুণী ওকে জড়িয়ে ধরে বলল"জানি না।তবে সবসময় ভালোবাসবো।তাহলে এখন আসি।ভার্সিটির সময় হয়ে গেছে।"
"এখনি চলে যাবি?" রুহি মন খারাপ করে বলল।
"আরে জানু, আবার আসবো তো।তুই কিন্তু রেডি হয়ে থাকবি।"
"আচ্ছা।"
অরুণী রুহির থেকে বিদায় নিয়ে কিচেনে গিয়ে রুনা বেগমকে বলল"আন্টি আমি আসি।"
"সে,কি বসো আরেকটু নাস্তা বানিয়েছি নাস্তা করে যাও।" রানু বেগম শরবত ঢালতে ঢালতে বললেন।
"আরে না আন্টি।সত্যি বলছি আম্মু আসার সময় খাইয়ে দিয়েছে পেটে জায়গা নেই।এখন আসি।"
"আচ্ছা যাও।"
রুনা বেগম হাসি মুখে বলল।অরুণী ড্রয়িংরুমে এসে দেখলো ছেলেটা এখনো বসে আছে।অরুণী একনজর তাকিয়ে চলে গেলো।কিন্তু প্রিয়ম একবারো তাকালো না কারণ সে একটা খবর পড়ছে খুব মনোযোগ দিয়ে।
কিছুক্ষণ পর আনোয়ার সাহেব বাজার করে ফিরে রুনা বেগমকে ডাক দিলেন।রুনা বেগম মাত্রই প্রিয়মের সামনে নাস্তা রাখতে না রাখতেই দরজার দিকে ছুট দিলেন।দরজা খুলতেই দেখলেন আনোয়ার সাহেবের দুইহাত ভর্তি বাজার।রুনা বেগম বাজারগুলো হাত নিয়ে কিচেনের দিকে চললেন।আর আনোয়ার সাহেব ভেতরে এসে সোফায় বসতেই দেখলেন বরাবরই সোফায় একটা সুদর্শন যুবক বসে আছে।আনোয়ার সাহেবের ছেলেটাকে চেনাচেনা লাগলেও ঠিকভাবে চিনতে পারলেন না।প্রিয়ম আনোয়ার সাহেবকে সালাম দিয়ে বলল"স্যার কেমন আছেন?"
"কে তুমি?ঠিক চিনতে পারলাম না।চেহারাটা হালকা চেনাচেনা লাগছে।"
প্রিয়ম মুচকি হেসে বলল"স্যার আমি প্রিয়ম।"
প্রিয়ম ওর নাম বলতেই আনোয়ার সাহেব চিনে ফেললেন।অনেক ভালো স্টুডেন্ট ছিলো প্রিয়ম।কখনো প্রথম থেকে দ্বিতীয় হয় নি।যেবার এস এস সি দিয়েছিলো সে বছর এই জেলা থেকে যাদের বোর্ডে নাম ছিলো তার মধ্যে প্রিয়মও একজন।আনোয়ার সাহেব হেসে বললেন"কেমন আছো প্রিয়ম?"
"আলহামদুলিল্লাহ স্যার।তবে আমার জবাবটা কিন্তু পেলাম না।"
"কি?" আনোয়ার সাহেব ভ্রু কুঁচকে জিগ্যেস করলেন।
"আপনি কেমন আছেন?এটা জিগ্যেস করেছিলাম।"
আনোয়ার সাহেব একটু জোরে হেসে উঠলেন তার সাথে প্রিয়মও হাসলো।আনোয়ার সাহেব হাসি থামিয়ে বলল"আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ ভালো রেখেছেন।তুমি এখন কি করো?"
"স্যার......."
প্রিয়ম কিছু বলার আগেই দরজায় নক করলো কে যেনো।আনোয়ার সাহেব দরজা খুলতেই দেখলেন দরজার বাইরে আকাশ দাড়িয়ে আছে!আকাশকে দেখে আনোয়ার সাহেবের চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো।চোখে কাঠিন্যতা ফুটে উঠলো।রাগী গলায় বলল"কি চাই এখানে?"
আকাশ জানে প্রথমেই রাগারাগি করা যাবে না।একটু ছলচাতুরী করতে হবে।তাই চোখমুখে কৃত্রিম অপরাধ বোধ ফুটিয়ে তুলে বলল"বাবা রুহি আছে ঘরে?"
আনোয়ার সাহেব ধমকে বললেন"আমাকে বাবা বললে কোন সাহসে?তোমার মতো কুলাঙ্গারের বাবা না হওয়াই ভালো।"
"বাবা আমাকে ক্ষমা করুন।আমি শুধু একটু রুহির সাথে কথা বলবো।"
আনোয়ার সাহেব আকাশের কোনোকথাই শুনছে না চিল্লাতে চিল্লাতে চলে যেতে বলছে।
.
.
বাইরে চেচামেচি শুনে রুহি বেরিয়ে এসে ড্রয়িং রুমে আসতেই দেখলো আকাশ দরজার বাইরে দাড়িয়ে অনুরোধ করছে ভেতরে ঢোকার জন্য।রুহি গিয়ে বলল"কি সমস্যা?এখানে কেনো তুমি?"
"ক্ষমা করো রুহি।ফিরে চলো।আমি তোমাকে ভালোবাসি।আমি আর কখনো এমন করবো না।আমাদের বাচ্চার যত্ন নেবো।"
রুহি আকাশের এমন মিথ্যাগুলো সহ্য করতে না পেরে ঠাস করে বাম গালে একটা চড় বসিয়ে দিয়ে বলল"তুই চুপ কর।তোর নোংরা মুখ দিয়ে একটা কথাও বলবি না।চলে যা এখান থেকে।"
এতক্ষণে আকাশের রাগ মাথায় উঠে গেলো।ও ওর আসল রুপে এসে রুহির হাত খপ করে ধরে বলল"তুই আমার সাথে যাবি।চল।"
রুহি হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।আনোয়ার সাহেব আর রুনা বেগমও রুহির হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু আকাশ কিছুতেই ছাড়ছে না।
.
.
প্রিয়ম এতক্ষণ বসে বসে সব দেখলেও।এখন উঠে গিয়ে আকাশের সামনে দাড়িয়ে বলল"কে আপনি?এমন সিনক্রিয়েট করছেন কেনো?"
"আমি কে তোকে বলা লাগবে না।সামনে থেকে সর।"
প্রিয়ম আর কিছু বলল না আচমকা ঠাশ করে একটা চড়ে মেরে দিলো।চড় খেয়ে আকাশ বলদ হয়ে গেলো।রুহির হাতটা ছেড়ে দিলো।প্রিয়ম বলল"ব্যাবহার ঠিক করুন।তা নাহলে এর চেয়েও বেশি পড়তে পারে।"
আকাশ প্রিয়মের কলার টেনে ধরে বলল"কে রে তুই?"
প্রিয়ম বাঁকা হেসে পকেট থেকে আইডি কার্ডটা বের করে বলল"এসিপি প্রিয়ম চৌধুরী।"
আকাশ সাথে সাথে প্রিয়মের কলারটা ছেড়ে দিলো।
-------------------
অরুণী ভার্সিটিতে এসেই লাইব্রেরিতে চলে গেলো।ওর দুটো বই প্রয়োজন।এখন বই দুটো খুঁজে নিবে।লাইব্রেরিতে এসে বইগুলো খুঁজতে লাগলো।একটা বই পেয়েও গেলো।অরুণী বইটা হাতে নিয়ে একটু দেখাট জন্য প্রথম পাতা উল্টাতেই দেখলো একটা খাম!অরুণী ভাবলো হয়তো এটা কেউ এমনিতেই রেখেছে কিন্তু অরুণী খামটা উল্টাতেই দেখতে পেলো কালো কালি দিয়ে গোটাগোটা অক্ষরে লিখা"অরুণী এটা তোমার জন্য।"
কি আছে চিঠিতে!অরুণী চিঠিটা হ্যান্ডব্যাগে রেখে।আরেকটা বই খুঁজতে লাগলো।সেই বইটাও পেলো কিন্তু এটাতেই একটা চিঠি।অরুণী এটাও রেখে দিলো।অরুণী ভেবেছে হয়তো কেউ ফাইজলামি করে রেখেছে।বই দুটো নিয়ে ক্লাস রুমে এসে বসলো।তারপর একটা বইখুলে পড়তে লাগলো।হঠাৎ একটা ছেলে এসে অরুণীকে ডাক দিলো।অরুণী বই থেকে মুখ তুলে বলল"জ্বী!"
"আপনাকে প্রণয় ভাই ডেকেছে ক্যাম্পাসে।"
অরুণী মনে মনে এটাই ভেবেছিলো।কারণ এই প্রণয় প্রতিদিন ওকে বিরক্ত করে।এতোবার মানা করার পরেও!এখন আবার কি জন্য ডেকেছে কে জানে।না গেলে ক্লাসে চলে আসবে।তাই অগত্যা অরুণীর যেতে হলো।
#এই_মন_তোমাকে_দিলাম
#পর্বঃ০৬
#Arshi_Ayat
প্রিয়মের পরিচয় পেয়ে আকাশ মনে মনে ভয় পাচ্ছে।প্রিয়ম যদি সব জেনে যায় তবে এতোদিন যেটার ভয় পাচ্ছিলো সেটাই হবে।
আকাশের বিচলিত মুখ দেখে প্রিয়ম আকাশের মুখের সামনে চুটকি বাজিয়ে বলল"আমার পরিচয় তো জানলেন।এবার আপনার পরিচয় বলুন।আর এভাবে সিনক্রিয়েট করার কারণটাও বলুন।"
আকাশ পরিস্থিতি সামলানোর জন্য বলল"আমি রুহির হাজবেন্ড।আর ওর সাথে আমার একটু মনোমালিন্য হয়েছে।আমি ওকে নিয়ে যেতে এসেছি।আপনি দয়া করে আমাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে আসবেন না।"
এটা বলেই আকাশ রুহির হাত ধরে আবার টানতে লাগলে।টানতে টানতে রুহিকে জোর করে নিচতলায় নিয়ে আসলো।রুহি ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।প্রিয়মের মনে হচ্ছে এখানে বিষয়টা অন্যকিছু।আকাশকে কিছুতেই সুবিধার ঠেকছে না প্রিয়মের।প্রিয়মকে চুপ করে দাড়িয়ে থাকতে দেখে আনোয়ার সাহেব বললেন"প্রিয়ম,আমার মেয়েটাকে বাচাও।এই ছেলেটা আমার মেয়েটাকে শেষ করে দিচ্ছে।"অনেকটা অসহায় দৃষ্টিতে বললেন।প্রিয়ম নিচতলায় গিয়ে আকাশের সামনে গিয়ে ওকে থামিয়ে দিলো।প্রিয়মকে দেখে আকাশ রেগে বলল"আপনাকে না বললাম আমাদের মধ্যে আসবেন না।সরুন সামনে থেকে।"
"আমি কি করবো না করবো সেটা আপনাকে জিগ্যেস করবো না ওকে?আর আপনি ওনার হাত ছাড়ুন।উনি যদি স্বেচ্ছায় যেতে চান তবে আমি আপনাদের আটকাবো না।কিন্তু এর আগে আপনি ওনাকে কোনো রকমের জবরদস্তি করতে পারবেন না।"
প্রিয়মের কথায় আকাশ রুহির হাত ছেড়ে দিয়ে ওর দিকে চোখ রাঙিয়ে ইশারা দিলো যেনো কোনোরকম ভেজাল না করে।রুহি আকাশের চোখ রাঙানিতে ভয় পেয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো।প্রিয়ম এবার রুহিকে উদ্দেশ্য করে বলল"আপনি ভয় পাবেন না।আপনি নিঃসঙ্কোচে বলুন আপনি কি আপনার স্বামীর সাথে যেতে চান?"
রুহি পিছনে তাকিয়ে দেখলো ওর বাবা মা ওর দিকে তাকিয়ে আছে।রুহি বাবা মায়ের দিকে একবার তাকিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে প্রিয়মকে বলল"আমি যেতে চাই না ওর সাথে।ও আমার বাচ্চাকে মেরে ফেলতে চায়।ও বাচ্চাটা রাখতে চায় না।কিন্তু এই বাচ্চাটা আমি চাই।আপনি কিছু করুন।আপনি চলে গেলে ও আমার বাচ্চাকে মেরে ফেলবে।"বলতে বলতেই রুহি কেঁদে দিলো।রুহির এভাবে সবকিছু ফাঁস করে দেওয়াতে আকাশের চেহারায় কাঠিন্য নেমে এলো।রাগে সব ভুলে গেলো।দাঁত কিড়মিড় করতে করতে রুহির হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগলো।বেশিদূর যেতে পারে দুইপা এগোনোর সাথে সাথেই ওর মুখে একটা ঘুষি পড়লো আচমকাই।আকাশ টাল সামলাতে না পেরে রুহির হাত ছেড়ে দিয়ে মুখ চেপে ধরে বসে পড়লো।প্রিয়ন শক্ত হাতের ঘুষিটা বেশ জোরেশোরেই লেগেছে আকাশের মুখে।আকাশের এমন অবস্থা দেখে রুহির খারাপই লাগছে কিন্তু সে কিছুই বলছে না।বলারই বা কি আছে!অন্যসময় হলে ঠিকই প্রতিবাদ করতো।কিন্তু আজ পরিস্থিতিটা অন্য।পেছন থেকে আনোয়ার সাহেব আর রুনা বেগম রুহির সাথে এসে দাড়ালেন।রুহি মায়ের কাঁধে মাথা রেখে কান্না করে দিলো।আর রুনা বেগম মেয়ের মাথায় হাত দিয়ে রাখলেন।
আকাশ ঘুষি খেয়ে দুইমিনিটের মাথায় উঠে দাড়িয়ে যে-ই প্রিয়মকে আক্রমণ করতে যাবে প্রিয়ম আকাশের পেট বরাবর হাটু দিয়ে আঘাত করলো।আকাশ পেট ধরে দূরে সরে গেলো।প্রিয়ম আকাশের কাছে এসে ওর কলার ধরে বলল"পুলিশ এমনি এমনি হয় নি।সো যা করবি সাবধানে করবি।"
বলে প্রিয়ম আশেপাশে তাকিয়ে একটা দড়ি পেলো দাড়িটা দিয়ে শক্ত করে আকাশের হাত পা বেধে থানায় ফোন দিলো।
------------------------
অরুণী ক্যাম্পাসে এসে দেখলো প্রণয় বন্ধুদের সাথে দাত কেলাচ্ছে।অরুণী ওর কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল"কি বলবেন বলেন।"
প্রণয় অরুণীর দিকে তাকিয়ে বন্ধুদের ইশারা দিলো চলে যাওয়ার জন্য।বন্ধুরা চলে যাওয়ার পর প্রণয় বলল"কেমন আছো অরুণী?"
"ভালো।"
"জিগ্যেস করলে না আমি কেমন আছি?"
"প্রয়োজন মনে করি না।" অরুণী কাটখোট্টা ভাবে জবাব দিলো।
"তুমি এতো কঠিন কেনো অরুণী?"
"আমি এমনই।"
"একটু নরম স্বরে কথা বললে কি হয়?
" আমি বলতে পারি না।"
এতটুকু বলে অরুণী ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আবার বলল"কিছু বললে তাড়াতাড়ি বলুন।আমার ক্লাস আছে।"
অরুণীর এমন ব্যাবহার প্রণয়কে কষ্ট দেয় কিন্তু তবুও প্রণয় হাসিমুখে মেনে নেয়।ওই যে কথায় বলে না ভালোবাসা মানুষকে সব কিছু শেখায়।তেমনই প্রণয়ের ক্ষেত্রেও হয়েছে।প্রণয় কষ্ট পেলেও মুখে হাসি বজায় রেখে বলল"আজ আমার জন্মদিন অরুণী।"
অরুণী ভেবে পাচ্ছে না তো জন্মদিন হলে ওকে বলার কি আছে?অরুণী তবুও ভদ্রতার খাতিরে বলল"শুভ জন্মদিন।"
বলেই প্রণয়কে কিছু বলতে না দিয়ে হাঁটা ধরলো ক্লাসরুমের দিকে।প্রণয় মন খারাপ করে অরুণীর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।
অরুণী যাওয়ার পরই প্রণয়ের বন্ধুরা চলে আসলো।বন্ধুরা সবাই জানে প্রণয় অরুণীকে ভালোবাসে।এটা নিয়ে প্রণয়কে প্রচুর খোঁচা মারে।এবারও ব্যাতিক্রম হয় নি।বন্ধুমহলের মধ্যে মিনহা প্রণয়কে খোঁচা মেরে বলল"দোস্ত তোর কি এমন বললো যে তোর মুখ এমন চুপসানো।"
প্রণয় মাথা নেড়ে বলল"বেশি বকবক করবি না।চল তোদের ট্রিট দেই।"
ট্রিটের কথা শুনে ফারদিন বলল"চল মামা চল।আজকে পুরা একবছরের খাবার একসাথে খাবো।"
ফারদিনের কথায় বাকি বন্ধুরাও হেসে দিলো।
------------------
প্রিয়ম আকাশের হাত বেঁধে থানায় কল করে রিসাদকে আসতে বলল।রিসাদ হলো প্রিয়মের সহকারী।রিসাদ আসতেই প্রিয়ম ওকে থানায় নিয়ে লকাপে ঢুকাতে বলেছে আর ওর নামে একটা জিডি করতে বলেছে।রিসাদ আকাশকে আর দু চার ঘা লাগিয়ে নিয়ে গেলো।আকাশকে নিয়ে যেতেই প্রিয়ম আবার রুহিদের ড্রয়িং রুমে এসে বসলো।সামনে রুহি আর রুহির বাবা মা বসা।প্রিয়ম ই প্রথম শুরু করলো"আঙ্কেল ঘটনাটা যদি একটু খুলে বলতেন তবে ওকে শায়েস্তা করতে সুবিধা হতো।"
রুহি মলিন কন্ঠে বলল"আকাশ আর আমার বিয়ে তিনবছর আগে হয়।পরিবার থেকে সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় আমরা পালিয়ে বিয়ে করি।তারপর আর বাবা মার সাথে যোগাযোগ হয় নি।আকাশের বাসায়ই থাকতে শুরু করলাম।বিয়ের পরের দিনগুলো খুব একটা ভালো না গেলেও একবারে খারাপ যাচ্ছিলো না।তারপর আমাদের প্রথম বাচ্চা যখন আসে আমার গর্ভে তখন আকাশ বলল ও বাচ্চা রাখবে না।এখনো নাকি বাচ্চা নেওয়ার সময় হয় নি।আমার কাছে অনেক রিকুয়েষ্ট করে বাচ্চাটা এবোরশন করালো।সে বার আমি কিছু বলি নি।খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।একরকম ডিপ্রেশনেই পড়ে গেছিলাম।ওই ঘটনার প্রায় একবছর পর তিন চার দিন আগে জানলাম আমি আবার কন্সিভ করেছি।খবরটা আকাশকে জানানোর পর আকাশ আবার আগের মতো শুরু করলো সে এই বাচ্চাটা রাখবে না।আমার সাথে খারাপ ব্যাবহার শুরু করলো।তারপর আমি যখন আমার জায়গায় অনড় ছিলাম তখন ও ছলনার আশ্রয় নিয়ে আমাকে হসপিটালে নিয়ে যায় এবোরশন করানোর জন্য।সেটা আমি কোনোভাবে জানতে পেরে এক নার্সের সহযোগীতায় পালিয়ে আসি।আর এখন বর্তমানে এখানেই অবস্থান করছি।"
সবকিছু বলতে বলতেই ওর কপল বেয়ে পানি পড়তে লাগলো।রুহি নিজেকে সামলে নিলো।প্রিয়ম আশ্বাস দিয়ে বলল"আপনি চিন্ত করবেন না।আপনার বাচ্চা ক্ষতি হবে না।আমরা আকাশের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করে রেখেছি।ও এখন আর আপনার বাচ্চার ক্ষতি করতে পারবে না।"
তারপর বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে আনোয়ার সাহেবকে সালাম করে বলল"স্যার আসি।"
আনোয়ার সাহেব বলল"না বাবা একটু বসো।নাস্তা করে যাও।তোমার সাথে তো তেমন কথাই হলো না।"
প্রিয়ম হালকা হেসে বলল"স্যার আমি বাসা থেকেই নাস্তা করে এসেছি।আরেকদিন আসবো।এখন থানায় যেতে হবে।"
তারপর প্রিয়ম চলে যেতেই রুহি নিজের ঘরে ফিরে গিয়ে বালিশ ধরে কাঁদতে লাগলো।আর আনোয়ার সাহেব হতাশ ভঙ্গিতে নিজের ঘরে চলে গেলেন।রুনা বেগমও কিচেনে চলে গেলেন।
---------------------
অরুণী ভার্সিটির সামনে থেকে রিকশা নিলো রুহিদের বাড়ি যাওয়ার জন্য।এখন বিকেল চারটা।সন্ধ্যা পর্যন্ত সে আর রুহি একসাথে ঘুরবে।
এদিকে প্রণয় অরুণীকে পুরো ভার্সিটি এরিয়া খুঁজেও পেলো না।ওর বন্ধুরা বলল অরুণী চলে গেছে।প্রণয়ের মন খারাপ হলো।প্রতিটাদিন অরুণী এমন করে।প্রণয়কে ফাঁকি দিয়ে চলে যায়।প্রতিদিনের মতো আজও প্রণয় মন খারাপ করে বাড়ির দিকে রওনা হলো।
অরুণী রুহিদের বাসার সামনে এসে দরজা নক করতেই রুনা বেগম খুলে দিলেন।অরুণী মিষ্টি হেসে বলল"আন্টি রুহি কি করে?"
"শুয়ে আছে।সকাল থেকে কিছুই খায় নি।"
অরুণী রুহির ঘরের দিকে যেতে যেতে রুনা বেগমকে বলল"আন্টি দুই প্লেট ভাত দেন।আমিও খাই নি।আমি আর রুহী একসাথে খাবো।"
রুনা বগেম মুচকি হেসে কিচেনে চলে গেলেন।আর অরুণী রুহির ঘরে এসে দেখে রুহি চোখের ওপর হাত দিয়ে শরীর টান করে শুয়ে আছে।অরুণী রুহির মাথায় হাত দিতেই রুহি চোখ থেকে হাত সরিয়ে মলিন হেসে বলল"কখন আসলি?"
"মাত্রই।তুই নাকি সারাদিনে কিছু খাস নি?"
"আমার আবার খাওয়া!" রুহি তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল।
"থাপ্পড়িয়ে তোর চাপার দাঁত ফেলে দেবো।না খেয়ে থেকে কি বোঝাতে চাস যে তোর মতো দুখী আর কেউ নেই?আরে খোঁজ নিয়ে দেখ তোর চেয়েও শত কষ্টে মানুষ হাসিমুখে বেঁচে আছে।তাহলে তুই কেনো পারবি না?তুই মানুষ না?আর না খেয়ে থাকলে কি সব ঠিক হয়ে যাবে?কেনো নিজের শরীর কে কষ্ট দিচ্ছিস আর এখন তো তুই একা নেই সাথে তোর বাচ্চাটাও আছে।নিজেও কষ্ট পাচ্ছিস ওকেও দিচ্ছিস।এমন হলে এবোরশন ই করে ফেল।কি দরকার তোদের রেশা রেশির স্বীকার এই মাসুমকে করার।ওর তো কোনো দোষ নেই তবে ওকে কেনো কষ্ট দিবি?তোর ওকে কষ্ট দেওয়ার কোনে হক নেই।" অরুণী প্রচন্ড রেগে কথাগুলো বলল।তারপর ব্যাগ নেই রুহির ঘর থেকে চলে যেতে নিলেই রুহি দ্রুত উঠে অরুণীকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল"সরি,আর এমন হবে না।আমি আর না খেয়ে থাকবো না।প্লিজ রাগ করিস না।কথা বল।"
অরুণী রুহির দিকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে বলল"ওয়াদা?"
"ওয়াদা।"
তারপর দুইবান্ধুবী কান্না করে দিলো।এর মধ্যেই রুনা বেগম খাবার নিয়ে চলে এলো।ওরা দুইজনই ফ্রেশ হয়ে খেতে বসে পড়লো।খাওয়ার মাঝখানেই রুনা বেগম অরুণীকে সকালের ঘটনাটা বলল।অরুণী সব শুনে দাত কিড়মিড় করে বলল"আমও থাকলে ওর যে কি করতাম আমি নিজেও জানি না।বেয়াদব, অসভ্য।"
আরো কিছুক্ষণ গালাগালি করে অরুণী খাওয়া শেষ করলো।তারপর দুইবান্ধবী বেরিয়ে পড়লো।
-------------------
সারাদিনে আকাশের খবর না পেয়ে নাতাশা কিছুটা চিন্তিত!আকাশ কি কিছু করতে পারলো কি না কে জানে!
#এই_মন_তোমাকে_দিলাম
#পর্বঃ০৭
#Arshi_Ayat
সারাদিন আকাশ লকাপে ছিলো।নাতাশা বা অন্যকেউ আসে নি তাকে ছাড়াতে।আকাশের রাগ লাগছে প্রচন্ড।এই রুহির জন্য সব হয়েছে।রাগে মাথার ভেতরের রগ গুলো দপদপ করছে।আকাশ সামনে তাকিয়ে দেখলো প্রিয়ম চা খাচ্ছে আর কি একটা ফাইল ঘাঁটছে।আকাশে প্রিয়মের দিকে চেয়ে দাত কিড়মিড়িয়ে বলল"এই শালা যদি আজ ওইখানে না থাকতো তাহলে ওই মা** বাচ্চা যে কই যাইতো।"
আকাশের প্রচুর আফসোস হচ্ছে।আর এখনতো কাউকে খবরও দিতে পারছে না।কতক্ষণ আর এখানে থাকবে!এখন প্রায় বিকেল।আজকে সারাদিনে কিছু খাওয়াও হয় নি।ইশ!যদি একবার নাতাশাকে ফোন করা যেত!এগুলোই মনে মনে ভাবছে আকাশ।
------------------
রুহি আর অরুণী রিকশা করে ঘুরছে।দুজনেরই রিকশায় ঘুরতে ভালো লাগে।শেষ বিকেলের উচ্ছল বাতাসে অরুণীর চুলগুলো উড়ছে।পাশে রুহির চুলগুলো খোপায় থাকার কারণে তার চুলগুলো উড়ছে না।অরুণী এটা দেখে চুপিচুপি রুহির খোপাটা খুলে দিলো।রুহি ভ্রু কুচকে বলল"খোঁপা খুললি কেনো?"
"আমার চুল একা উড়বে কেনো?তোর গুলিও আমার গুলোর সাথে উড়বে।"
রুহি বিরক্ত কন্ঠে বলল"অরু খোপাটা দে চুল বাঁধবো।"
অরুণী অনুরোধের সুরে বলল"প্লিজ"
অরুণীর অনুরোধে রুহি আর চুল বাধলো না।এবার দুজনের চুলই লাগামহীন ভাবে উড়ছে।রাস্তার পাশে ফুচকার দোকান দেখে অরুণী রিকশা থামিয়ে রিকশা থেকে নেমে বলল"ফুচকা খাবি?"
"হুম,চল।"এই বলে রুহিও রিকশা থেকে নামলো।ওরা রিকশা ওয়ালার ভাড়া মিটিয়ে দিলো।এখন দুজনে ফুচকে খেয়ে আশেপাশে একটু ঘুরবে।
অরুণী ফুচকার দোকানে গিয়ে বলল" মামা দুইপ্লেট ফুচকা দেন।একটায় ঝাল বেশি আরেকটায় কম দিবেন।"
অরুণীর অর্ডার দেওয়া শেষ হতেই কে যেনো বলল"মামা আমাদের পাঁচ প্লেট ফুচকা দেন।ঝাল ইচ্ছামতো দিবেন।"
অরুণী ঘুরে যেই বলবে তাড়াতাড়ি দিতে তখনই দেখলে প্রণয় দাড়িয়ে আছে।প্রণয়ও অরুণীকে দেখে কিছুটা অবাক হলো।যে মেয়ে এতো গম্ভীর হয়ে থাকে সে যে ফুচকাও খেতে পারে তা প্রণয়ের জানা ছিলো না।কিন্তু ও দুইপ্লেট কার জন্য নিচ্ছে?প্রণয় পাশে খেয়াল করতেই দেখলো একটা ছেলে পকেটে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে।প্রণয়ের জায়গা থেকে দেখলে মনে হয় ওরা দুজন একসাথে কিন্তু না ছেলেটা ফুচকার জন্য দাড়িয়েছে আর অরুণী ছেলেটার পিছনে দাড়ানো রুহির জন্য আরেক প্লেট নিচ্ছিলো যা প্রণয় বুঝতে পারে নি।প্রণয়ের এই প্রথম রাগ হলো অরুণীর ওপর।এর আগে অরুণীর ব্যাবহারে কষ্ট হতো,অভিমান হতো কিন্তু কখনো রাগ হয় নি এই প্রথমবার প্রণয়ের রাগ হলো।প্রণয় কিছু না বলে একটু দূরে দাড়ানোর ওর বন্ধুদের কাছে গিয়ে দাড়ালো।বন্ধুরা দেখেই বুঝতে পারলে ওর কিছু হয়েছে।তা নাহলে ও এমন গাল ফুলিয়ে রাখারা মানুষ না।সাথী জিজ্ঞেস করলো"কি রে ভাই!এভাবে গাল ফুলিয়ে রেখেছিস কেনো?"
প্রণয় মন খারাপ করে বলল"জানিস আগে ভাবতাম অরুণী বোধহয় ভালোবাসা বিশ্বাস করে না।এইজন্যই এমন করে কিন্তু আজ পরিস্কার ওর বয়ফ্রেন্ড আছে বলেই ও এমন করে।"
প্রণয়ের কথা শুনে ফারদিন,সাথী,মিনহা,তুর্য সবার মুখ হা হয়ে গেছে।কেউই বিশ্বাস করতে পারছে না।মিনহা প্রণয়কে বলল"তুই কিভাবে জানলি যে ওর বয়ফ্রেন্ড আছে।"
"ওই যে ফুচকার দোকানে দাড়িয়ে দুজনে ফুচকা খাচ্ছে।"
"কিহ!"ফারদিন বিষ্ময়ে বলল।
প্রণয় বন্ধুদের এমন রিয়েকশন দেখে বলল" বিশ্বাস হচ্ছে না চল তোদের দেখাই।"
প্রণয় ওদের নিয়ে ফুচকার দোকানের সামনে যেতেই দেখলো অরুণী আর আরেকটা মেয়ে একসাথে দাড়িয়ে হাসাহাসি করতে করতে ফুচকা খাচ্ছে।আশেপাশে কোনো ছেলে নেই।এই দৃশ্য দেখে বন্ধুরা প্রণয়ের দিকে যেভাবে চাইলো তা দেখেই প্রণয় ঢোক গিলে বলল"বিশ্বাস কর আমি একটু আগেই দেখেছি।কিন্তু! "
ফারদিন হতাশ গলায় বলল"দোস্ত তোকে ডাক্তার দেখাতে হবে তুই মেয়েকে ছেলে দেখিস।"
সাথী ভয় পাওয়ার ভান করে বলল"এই প্রণয় তুই আমাদের কে কি ঠিক ঠাক দেখতে পাচ্ছিস?নাকি আমাদেরও উল্টা পাল্টা দেখছিস?"
"প্রণয় মনে হয় তুই ভুল দেখেছিস।হয়তো যে ছেলেটি অরুণীর সাথে দাড়িয়েছিলো ও ওর কেউ না।হয়তো ফুচকা কিনার জন্য দাড়িয়েছিলো।"
তুর্যের কথায় সবাই সমর্থন করলো আর প্রণয়ও নিজের বলদামি ধরতে পেরে আবুল মার্কা হাসি দিলো ওর হাসি দেখে ওর বন্ধুরাও হেসে দিলো।হাসতে হাসতে মিনহা বলল"যা কথা বলে আয়।"
"না রে।এমনিতেই আমাকে সহ্য করতে পারে না।তার ওপর এখন দেখেই বোঝা যাচ্ছে মুড ভালো।তাই এখন গিয়ে মুডটা খারাপ করার কোনো দরকার নেই।"
তারপর পাঁচজন মিলে ফুচকা খাওয়া শুরু করলো।এদিকে রুহি আর অরুণী ফুচকা খাওয়া শেষ করে ফুটপাত ধরে হাটতে লাগলো দুজনে দুজনের হাত ধরে।
কিছুদূর যেতেই ছোটখাটো একটা মেলা দেখতে পেলো।দুজনেই মেলায় গেলো।মেলায় কিছুক্ষণ ঘুরে বেরিয়ে এলো।এতক্ষণে সন্ধ্যা হয়ে গেছে।বাসায় ফেরা উচিত।অরুণী রুহিকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে নিজের বাসায় চলে গেলো।
----------------------
প্রিয়ম একটা ফাইল দেখছিলো খুব মনোযোগ দিয়ে।হঠাৎ নাতাশা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বলল"আকাশা কেথায়?"
নাতাশা আচমকা কথার আক্রমনে প্রিয়মের মনোযোগ নষ্ট হলো সে বিরক্তিতে মুখ কুচকে সামনের দিকে চাইতেই দেখলো একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে।প্রিয়ম চেয়ার দেখিয়ে বলল"বসুন।"
"বসতে আসি নি।আগে বলুন আকাশ কোথায়?"
"আপনার আর আমার মাথার ওপরে।" প্রিয়ম একটু মজা করে উত্তর দিলো।কেনো যেনো প্রিয়মের নাতাশাকে ক্ষেপাতে মন চাইছে।নাতাশার বিষয়ে সব তথ্যই নিয়েছে প্রিয়ম।
প্রিয়মের মন হেঁয়ালিপূর্ণ কথা শুনে রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে নাতাশার।নাতাশা বিরক্তি কন্ঠে বলল"আমি হেয়ালি একদম পছন্দ করি না।আপনি বলবেন আকাশ কোথায়?"
"বললামই তো।"
"আপনি আমাকে চেনেন না।আমি চাইলে এই মুহুর্তে আপনাকে চাকুরীচ্যুত করতে পারি।"
প্রিয়ম কিছুটা ভয় পাওয়ার ভান করে বলল"ওহ!আমি ভয় পেয়েছি।প্লিজ আমার চাকরী খাবেন না।"
এটা বলে একটা বিদঘুটে হাসি দিয়ে বলল"মিস নাতাশা হাসান।আপনাকে আমার চেনার প্রয়োজন নেই।আর আমার চাকরী আপনি পারলে খেয়ে দেখান।উপরন্তু আপনাকে এখন আমি জেলে পুরতে পারি।"
"কেনো?"
"এই যে জেলে বসে আমাকে থ্রেড দেওয়ার অপরাধে।"
"এসব বাদ দিন এখন বলুন আকাশকে কখন ছাড়বেন?"
"উকিল নিয়ে আসুন।"
"ওর ওপর কি অভিযোগ আনা হয়েছে?"
"নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ।"
"কোনো প্রমাণ ছাড়াই এরেস্ট করেছেন কেনো?'
"প্রমাণ যখন আমি নিজে তখন এক্সট্রা প্রমানের প্রয়োজন নেই।"
নাতাশা দাঁত কিড়মিড় করে উঠে বাইরে গিয়ে ওর উকিল বন্ধুকে কল করে আসতে বলল।
------------------------
রুহি বাসায় ঢুকেই দেখলো একটা মহিলা বসে আছে সোফায়।মুখোমুখি সোফায় ওর মা ও বসে আছে।মহিলাটা রুহিকে দেখে বলল"তুমিই রুহি?"
রুহি নিজের মায়ের দিকে এক পলক চেয়ে বলল"হ্যাঁ।"
"বসো।"
রুহি ওর মায়ের পাশেই বসে পড়লো।মহিলাটা রুহিকে বলল"মাথা গরম করলে হবে না।স্বামীকে বোঝাও।জানো তো মেয়েদের বিয়ের পর স্বামীই সব।স্বামী মারুক কাটুক স্বামীর বাড়িই আপন।আর স্বামী রাগ করলে রাগ ভাঙাতে হয়।"
রুহির প্রচন্ড রাগ হলো।তবুও সামলে নিয়ে বলল"কিন্তু পরকিয়া করলে কি করবো?"
"আরে ছেলে মানুষ একটু এমনই।আর তোমার সমস্যা কি? ছেলেরা দুই বিয়ে করতেই পারে।তোমারে ঠিকমতো ভরণপোষণ দিতে পারলেই তো চলে।"
"হ্যাঁ ছেলেরা পরকিয়া করতে পারবে,বউ পেটাতে পারবে,বাচ্চা নষ্ট করতে পারবে কিন্তু মেয়েদের প্রতিবাদ করা যাবে না।মুখবুজে সহ্য করতে হবে।তারপর এমন সহ্য করতে করতে একসময় কবরে চলে যাবে।এই হলো মেয়েদের জীবন।কেনো?সবসময় সেক্রিফাইস মেয়েরাই কেনো করবে?আর আপনাদের মতো মায়েদের জন্য আমাদের মতো মেয়েরা এসব অত্যাচার সহ্য করতে হয়।কারণ বিয়ের আগে বলে দেওয়া হয় জামাই যেভাবে বলবে সেভাবে চলবি।জামাইর সেবা করবি।কেনো?সবসময় আমরাই কেনো ওদের কথামতো চলবো?ওদের সেবা করবো?আমরাও তো মানুষ আমাদেরও তো আদর যত্ন পেতে ইচ্ছে করে।কিন্তু...
রুহি আর কিছু বলতে পারলো না কান্না করে দিলো।তারপর দ্রুত একহাত দিয়ে চোখের পানি মুছে বলল"আমাকে যা জ্ঞান গুলো দিলেন সেগুলো আপনার মেয়েকে দিয়েন।এই জ্ঞানের আমার প্রয়োজন নেই।" কথাগুলো বলে রুহি হনহন করে উঠে চলে গেলো।
রুহির কথাগুলো শুনে মহিলার অপমানে মুখ কালো হয়ে গেলো।তাই সেখানে আর বসে না থেকে চলে গেলেন।মহিলাটা যেতেই রুহির মা রুহির কাছে গিয়ে দেখেন রুহি বালিশে মুখ গুঁজে আছেন।
রুনা বেগম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়ের পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন।
চলবে....
বাকি পর্ব গুলা এই ওয়েবসাইটেই দেওয়া হয়েছে দেখেন?
