এই_মন_তোমাকে_দিলাম
পর্বঃ০৮+৯+১০
Arshi_Ayat
একটু আগে উকিল নিয়ে এসে আকাশকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেলো নাতাশা।ওরা যাওয়ার পর প্রিয়ম রুহিকে কল দিলো।রুহি বিছানায় শুয়ে ছিলো।প্রিয়মের কল পেয়ে রিসিভ করতেই প্রিয়ম বলল"হ্যালো,রুহি?"
"জ্বি বলুন।"
"কেমন আছেন?"
"ভালো আপনি?"
"ভালো,আপনাকে একটা কথা জানানোর জন্য ফোন দিয়েছি।"
"জ্বি বলুন।"
"একটু আগে নাতাশা নামের একটা মেয়ে আকাশকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে।তাই আপনাকে বলছি সাবধানে থাকবেন আর চিন্তার কারণ নেই আপনার বেবির কোনো ক্ষতি হবে না আকাশের নামে জিডি করা আছে তাই ও আর কোনো ক্ষতি আপাতত করবে না।তবুও সাবধানে থাকবেন।আর কোনো সমস্যা হলে আমাকে জানাবেন।"
"আচ্ছা।ধন্যবাদ।" রুহি মলিন কন্ঠে জবাব দিলো।
তারপর প্রিয়ম সালাম দিয়ে ফোন রেখে দিলো।আর রুহি ফোনটা বেডসাইডের ওপর রেখে আবার চোখ বুজলো।
--------------------
এখন রাত আট'টা।মাত্রই অরুণী রাতের খাবার খেয়ে নিজের রুমে আসলো।অরুণী ছোট বেলা থেকেই রাতের খাবার আট টায় খায়।সেইজন্য সবার সাথে খেতে পারে না।অরুণী রুমে এসে রুহিকে কল দিলো।রুহি ফোন রিসিভ করতেই অরুণী বলল"কি করিস এখন?"
"কিছু না শুয়ে আছি।ভালো লাগছে না।"
"কেনো?শরীর খারাপ লাগছে?"
"না তেমন কিছু না।" এটা বলে রুহী একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।
রুহি কিছু না বললেও অরুণী বুঝতে পারলো কিছু একটা হয়েছে যাতে রুহি আপসেট হয়ে আছে তা নাহলে তো সন্ধ্যার সময়ও তো মন ভালো ছিলো ঘরে গিয়ে এমন কি হলো যে মন খারাপ হয়ে গেলো।অরুণী কড়া গলায় বলল"কিচ্ছু লুকাবি না আমার থেকে বল কি হয়েছে।"
রুহি এবার সন্ধ্যায় বাসায় আসার পর কি হয়েছে তা অরুণীকে বলল।সব শুনে অরুণী বলল"এতে মন খারাপ করার কি আছে।তুই যা বলেছিস বেশ করেছিস।শক্ত হতে শিখ।কেউ কিছু বললে ছেড়ে দিয়ে আসবি না উচিত মতো জবাব দিবি।আর এখন থেকে বাসায় কোনো পাশের বাসার আন্টি,বুড়ি মহিলা,কোনো ন্যারো মাইন্ডের মহিলা এলাউ করবি না।তাতে যদি তুই বেয়াদব হস তাহলে বেয়াদব হওয়াই ভালো।সবসময় লাইফটাকে ইনজয় করতে শিখ।কে কি বলল না বলল তাতে কারো কিছু আসে যায় না।তাই এগুলো ভাবা অফ কর।আর রাতে খেয়েছিস?"
"মাত্রতো আট টা বাজে।এখনি খাবো?"
"মানে কি রুহি?না খেলে বাচ্চা ভালো থাকবে কি করে।এখন খাবি রাতে শোয়ার সময় আবার খাবি।"
"আমি তো এতো খেতে পারি না।" রুহি অসহায় কন্ঠে বলল।
"আরে এখন খাবি তোর বাবুর জন্য আর ঘুমানোর সময় খাবি তোর জন্য।বুঝলি।কোনো বাহানা চলবে না।"
রুহি কাঁদো কাঁদো গলায় বলল"আমি মনে রাখব।যখন তুই প্রেগন্যান্ট হবি তখন আমিও এমন করবো।"
অরুণী জোরেশোরেই হেসে দিলো।হাসতে হাসতেই বলল"আচ্ছা করিস।এখন আমার টাইম।"
অরুণীর কথা শুনে রুহিও হেসে দিলো।তারপর আরো কিছুক্ষণ কথা বলে ফোন রেখে দিলো।
ফোন রেখে অরুণী পড়তে বসতেই চিঠির কথা মনে পড়ে গেলো আজকে ভার্সিটিতে বই নেওয়ার সময় চিঠিগুলো বইয়ের ভেতর পেয়েছিলো।অরুণী চিঠি দুটো খুলতেই দেখলো প্রণয়ের হাতের লেখা।অরুণী রাগে চিঠি দুটো কুচিকুচি করে জানালা দিয়ে ফেলে পড়তে বসলো।প্রণয় যে ছেলে হিসেবে খারাপ তেমনও না।কিন্তু অরুণীর কেনো যেনো এগুলো তে ইন্টারেস্ট নেই।একা একাই থাকতে পছন্দ করে সে।কি দরকার কাউকে ভালোবাসার?সেই ভালো নিজেকে বাসলেও আরো ভালো থাকা যায়।মানুষ একজনকে ভালোবাসে ভালো থাকার জন্য কিন্তু দিনশেষে সেই মানুষটাই ছেড়ে যায় নিজের ভালো থাকার খোঁজে।এর চেয়ে কাউকে না ভালোবাসলে দিনশেষে অনেক বেশি ভালো না থাকলেও খারাপও থাকে না।অন্তত এটা ভেবে সান্ত্বনা পাওয়া যায় যে যে আমি তো কাউকে ভালোই বাসি নি তাহলে কষ্ট পাবারও কোনো কথা উঠছে না।
-----------------
পায়েল চৌধুরী টেবিলে নাস্তা দিয়ে প্রিয়মকে ডাকতে গেলেন।প্রিয়মের ঘরে গিয়ে দেখলো ছেলে ইউনির্ফম পড়ছে।মাকে দেখে প্রিয়ম বলল"আম্মু একটু শার্টের বোতামগুলো লাগিয়ে দাও তো।"
পায়েল চৌধুরী হেসে প্রিয়মের সামনে দাড়িয়ে বলল"এবার একটা বিয়ে করে নিলেই তো পারিস বাবু।"
"ধূর,মা তুমি যে কি বলো!আমার এখনো বিয়ের বয়স হয় নি।"
পায়েল চৌধুরী কপট রাগ দেখিয়ে বলল"আটাশ বছরের দামড়া ছেলের নাকি বিয়ের বয়স হয় নি।তো কবে করবি বিয়ে আটত্রিশে?"
প্রিয়ম মায়ের কথা শুনে হেসে বলল"বিয়েই করবো না।"
"আমিও দেখবো তুমি কিভাবে বিয়ে না করো।আচ্ছা তোর কি কোনো পছন্দ আছে?"
"মা ক্রিমিনাল ধরেই তো কুল পাই না আবার মেয়ে পছন্দ করবো।কিন্তু একবার একটা লেডি কিলারের ওপর ক্রাশ খাইছিলাম।কিন্তু কি আর করার মেয়েটার ফাসি হয়ে গেছিলো।"
পায়ের চৌধুরী প্রিয়মে পিঠে একটা থাপ্পড় মেরে বলল"তোর চাপা বন্ধ করে খেতে আয়।পাঁজি ছেলে।"এটা বলে চলে গেলেন নিচে।মা যাওয়ার পর প্রিয়ম পারফিউম দিতে দিতে বলল"মা কাকে ভালোবাসবো বলো এই জগতে তুমি ছাড়া কেউই নির্স্বাথ ভাবে ভালোবাসে না।"
তারপর মাথার টুপিটা নিয়ে নিচে নেমে এলো।টেবিলে আগে থেকেই প্রিয়মের বাবা রাহাত চৌধুরী আর মা পায়েল চৌধুরী বসে আছে।প্রিয়ম বাবা মায়ের দিকে একবার তাকিয়ে কিউট একটা স্মাইল দিয়ে চেয়ারে বসে পড়লো।
প্রতিদিন ওরা তিনজন সকালে নাস্তা একসাথেই করে কিন্তু দুপুরেরটা আর রাতেরটা প্রিয়ম বাইরে করে।কাজের চাপ থাকায় বাসায় ফিরতে লেট হয়।সেইজন্য বাইরে থেকেই খেয়ে আসে।আর ওর বাবা মা বাসায় খেয়ে নেয়।
মায়ের ডাকে অরুণী ঘুম ভাঙলো।কাল রাতে বইয়ের ওপরেই ঘুমিয়ে গেছিলো সে।অরুণী বইটাকে ঘুছিয়ে রেখে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে ঘরে এসে ফোনটা হাতে নিয়ে রুহি টেক্সট করলো ওর ভার্সিটির সামনে আসতে জরুরী কথা আছে তাই।
রুহি টেক্সট করে ফোনটা রেখে রেডি হতে লাগলো।কাল রাতে অরুনী পড়তে পড়তে ভাবলো যদি রুহি আবার পড়াশোনা করে তাহলে কেমন হবে?নিজের একটা পরিচয় থাকবে।মোটকথা নিজের স্টাডি কমপ্লিট করলে একটা জবও করতে পারবে।এই ভাবনা থেকেই অরুণী আজ রুহিকে ডেকেছে।
------------------------
আকাশের মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে অনেক।কাল থেকে নাতাশা ফোন ধরছে না।কল দিলে বারবার কেটে দিচ্ছে।তাই আকাশ ভাবছে আজ যাবে নাতাশার চেম্বারে।যে ভাবনা সে কাজ।আকাশ অফিসের ফাইলটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লো।নাতাশার সাথে দেখা করে অফিসে যাবে।
------------
বাসে একফোঁটাও জায়গা নেই।তবুও বাসেই উঠতে হবে অরুণীর।প্রতিদিন সকলের এই সময়টা প্রচুর ভীড় হয় যাত্রীদের।দাড়িয়ে যাওয়াতো দূরের কথা।দাড়ানোর জায়গাই পাওয়া যায় না।তবুও কিচ্ছু করার নেই কষ্ট করতেই হবে।অরুণী বাসে উঠে পড়লো।প্রচুর ধাক্কা ধাক্কি হচ্ছে।যেনো একজনের গায়ের ওপর আরেকজন উঠে যাবে।হঠাৎ সামনে থেকে একটা ধাক্কা আসায় অরুণী টাল সামলাতে না পেরে কারো বুকের ওপর পড়লো।চোখ মেলে তাকাতেই দেখলো প্রণয়ের চেহারা।অরুণী তাড়াতাড়ি উঠে দাড়িয়ে নিজেকে সামলে বলল"সরি।"
"ইট’স ওকে।" প্রণয় মৃদু হেসে জবাব দিলো।
দুইমিনিট পর আবার এক ধাক্কায় অরুণী আবারোও প্রণয়ের বুকের ওপর পড়লো।তড়িৎ গতিতে সরে গিয়ে আবারো সরি বলল অরুণী।তার উত্তরে প্রণয়ও ইটস ওকে বলল।একটু পর আবার ও একই কাজ হলো।এবার অরুণী প্রণয়ের বুকের ওপর থেকে উঠতে নিলেই প্রণয় বলল"এভাবে কতোবার সরি বলবে?আর আমি কতোবার ইট’স ওকে বলবো বলো?তার চেয়ে বরং সারাজীবন এখানেই থেকে যাও আমি বাধা দেবো না।"
অরুণী লজ্জা পেয়ে উঠে দাড়িয়ে অন্যদিকে তাকালো।তারপর আবারো ধাক্কা লেগে প্রণয়ের বুকের ওপর পড়লো অরুণী।বহুত হয়েছে আর না!এবার প্রণয় একহাত দিয়ে শক্ত করে অরুণীকে নিজের সাথে চেপে ধরলো।অরুণী উঠতে গিয়ে পারলো না।রেগে বলল"কি ধরনের অসভ্যতামি এগুলো?ছাড়ুন।উঠতে দিন।"
"না ছাড়বো না।বারবার তুমি আমার বুকের ওপর পড়বে আর বারবার আমার হার্টবিট বেড়ে যাবে ফলে আমার হার্ট অ্যাটাক চলে আসবে।তখন আমি কি করবো?তার চেয়ে ভালো আমার বুকের ওপর কান দিয়ে শোনো আমার হৃদয়ের ধ্বনি।বোঝার চেষ্টা করো সে কি বলছে?আর এদিকে আমার হার্ট টাও ভালো থাকলো।
অনেক মোড়ামুড়ি করেও অরুণী উঠতে পারলো না।শেষমেষ হাল ছেড়ে দিয়ে প্রণয়ের সাথেই লেপ্টে রইলো।শান্ত হয়ে ওর বুকের ওপর মাথা রাখতেই শুনতে পেলো প্রণয়ের বুকের ধুকপুকানি।কিছুক্ষণ শুনতেই অরুণী খেয়াল করলো ওর বুকের ধুকপুকানিটাও বেড়ে গেছে।এমন হচ্ছে কেনো?অরুণী আরো গভীর ভাবে শুনতে লাগলো।হঠাৎ প্রণয় অরুণীকে নাড়া দিয়ে বলল" এখানেই থাকবে নাকি ভার্সিটিতে যাবে?"
#এই_মন_তোমাকে_দিলাম
#পর্বঃ০৯
#Arshi_Ayat
রুহি নাস্তা করে বের হলো অরুণীদের ভার্সিটি যাওয়ার জন্য।বাসার নিচে নেমে কোনো রিকশা অটো না পেয়ে এক সাইডে দাঁড়িয়ে রইলো।অনেক্ক্ষণ দাড়ানোর পর রুহির সামনে একটা গাড়ি থামলো।পুলিশের গাড়ি।গাড়ি থেকে প্রিয়ম রুহির সামনে নেমে বলল"আরে আপনি!কোথাও যাচ্ছেন নাকি?"
"হ্যা,বান্ধবীর সাথে দেখা করতে যাবো।কিন্তু অটো বা রিকশা পাচ্ছি না।"
"ও,আচ্ছা।কিছু মনে না করলে আমি আপনাকে নামিয়ে দিতে পারি।"
"কিন্তু আপনি তো থানায় যাবেন।"
"হ্যাঁ তাও ঠিক।আচ্ছা আপনি যাবেন কোথায়?"
"কাজী নজরুল কলেজের সামনে।ওখানেই আমার বান্ধবী পড়ে।"
"ওও।তাহলে তো হলোই।আমি ওই রোড দিয়েই যাবো।তাহলে চলুন আপনাকে নামিয়ে দেই।"
অটো বা রিকশা না পাওয়ায় রুহি আর আপত্তি না করে গাড়িতে উঠে বসলো।প্রিয়মও ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দিলো।
---------------------
আকাশ নাতাশার কেবিনে এসে দেখলো নাতাশা একটা পেশেন্টের সাথে কথা বলছে।আকাশকে দেখে ইশারায় অপেক্ষা করতে বলল।আকাশ কেবিনের বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলো।পাঁচ মিনিট পরে পেশেন্ট বের হতেই আকাশ ভেতরে গিয়ে রেগে বলল"হোয়াট হ্যাপেন্ড নাতাশা?ফোন ধরছো না কেন?কাল থেকে কতোবার কল করেছি হিসেব আছে?"
"হ্যাঁ তো আমি কি করবো?আমার ইচ্ছে হয় নি তাই আমি রিসিভ করি নি।" নাতাশা কফি খেতে খেতে জবাব দিলো।
নাতাশার উত্তরে আকাশ আরো রেগে গেলো।নাতাশার টেবিলের ওপর বাড়ি দিয়ে বলল"মানে কি নাতাশা?এমন করছো কেন?"
"করবো না কেন সেটাও বলো।তোমাকে বলেছিলাম যে ওই রুহি মেয়েটার বাচ্চাটা যেনো না বাঁচে কিন্তু তুমি কিচ্ছু করতে পারো নি।উল্টো জিডি খেয়ে এসেছো।এখন বাচ্চাটার কিছু হলেই তোমাকে আগে জেলে পুরবে।আর এইদিকে তুমি এখোনো মেয়েটাকে ডিভোর্স দিচ্ছো না।কেনো?
শেষ কথাটা নাতাশা চিল্লিয়ে বলল।আকাশ নাতাশার কাছে এসে ওর হাত ধরে বলল" আজই আমি উকিলের সাথে কথা বলবো।খুব শীঘ্রই ডিভোর্স হয়ে যাবে।তারপর আমরা বিয়ে করে নিলেই ও আর বাচ্চা দিয়ে কিছু করতে পারবে না।"
আকাশের কথা শুনে নাতাশা মৃদু হেসে ওকে জড়িয়ে ধরলো।আকাশও নাতাশাকে বাহুতে আবদ্ধ করলো।কিছুক্ষণ পর নাতাশার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লো অফিসের উদ্দেশ্যে।আজকে অফিস থেকে ফেরার সময় উকিলের সাথে দেখা করে কথা বলে যাবে।
---------------------
অরুণী বাস থেকে নেমে সোজা হাটতে লাগলো।পিছনে একবারের জন্যও তাকাচ্ছে না।কেমন যেনো লজ্জায় ঘিরে ধরেছে তাকে।একটু আগের বাসের মধ্যে ঘটা ঘটনাগুলো বারবার চোখের সামবে ভাসছে।
আর দিকে অরুণী পিছন পিছন প্রণয়ও আসছে।আজকে প্রণয়ের অনেক খুশী লাগছে।ভাবতেই পারে নি এমন একটা মুহুর্ত কখনো আসবে।প্রণয় বাবার একমাত্র ছেলে।বাবা অনেক বড়ো শিল্পপতি।প্রণয়ের নিজেরই গাড়ি আছে সে প্রতিদিন নিজের গাড়ি করেই ভার্সিটিতে আসে কিন্তু আজ রাস্তায় গাড়ি খারাপ হওয়ায় অগত্যা বাসেই উঠতে হলো।বাসে উঠে দমবন্ধ অবস্থা ছিলো।কিন্তু হঠাৎ অরুণীর আগমনে দমবন্ধ ভাবটা কেটে খুশীর দোলা দিতে লাগলো মনে।অরুণী যতবার ওর বুকের ওপর পড়ছিলো ততবারই যেনো হার্টবিট মিস হয়েছিলো।আর যখন একবারে বুকের মধ্যে চুপটি করে ছিলো তখন প্রণয় মনে মনে বলছিলো"এই পথ যদি না শেষ তবে, কেমন হবে তুমি বলোতো।"
প্রণয় মনেপ্রাণে চাইছিলো যেনো অরুণী সারাজীবনের জন্য ওর বুকের মধ্যেই থেকে যায়।
হাটতে অরুণী ক্লাস ঢুকতে যাবে এই সময়ে পিছন থেকে প্রণয় বলল"ক্লাস শেষেও কি বাস দিয়ে যাও?"
"না বয়ফ্রেন্ডের হেলিকপ্টারে চড়ে যাই।" এটা বলেই ক্লাসে ঢুকে গেলো।
অরুণীর জবাব শুনে প্রণয়ের আবার মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো।সবটা সময় অরুণী এমনই করে।একটা কথা জিগ্যেস করলে সোজা ভাবে উত্তর না দিয়ে ত্যাড়ামি করে উত্তর দিবে।এমন করে কি মজা যে পায়!আকাশ বিড়বিড় করতে করতে নিজের ক্লাসের দিকে চললো।ক্লাস গিয়ে বসতেই ফারদিন বলল"কি রে মামা আজকে এতো লেট কেন?"
"আরে আর বলিস না।গাড়ি খারাপ হয়ে গেছিলো তাই বাসে করে আসতে হলো।"
প্রণয়ের কথা শুনে ফারদিন চমকে বলল"কিহ!তুই বাসে আসছিস।বিশ্বাস হচ্ছে না।"
প্রণয় বিরক্তির স্বরে বলল"বিশ্বাস না হওয়ার কি আছে?আসতেই পারি।আচ্ছা শোন তুর্য,মিনহা,সাথী ওরা কই?"
"তুর্য চারুকলা ভবনে গেছে ওর গফের সাথে দেখা করতে।আর মিনহা এখনো আসে নাই।সাথী আজকে আসবে না।"
"ও!আচ্ছা।"
প্রণয়ের কথা শেষ হতে না হতেই ফারদিন বলল"দোস্ত তোর শার্টের বোতামে এতোবড় চুল কেনো?"
ফারদিনের কথায় প্রণয় ভ্রু কুচকে বলল"কই?"
ফারদিন প্রণয়ের শার্টের বোতাম থেকে চুলটা নিয়ে ওর হাতে দিয়ে বলল"এই যে দেখ।"
চুলটা দেখে প্রণয়ের মনে পড়লো বাসের ঘটনা।তখন মনে হয় চুলটা রয়ে গেছে।কিন্তু এখন ফারদিনকে কি বলবে?ওরে বললেই সাথী,মিনহা,তুর্য ওরাও জেনে যাবে তারপর ইচ্ছামতো মজা নিবে।তাই প্রণয় আমতা আমতা করতে করতে বলল"আরে ওইটা কিছু না।বাতাসে হয়তো উড়ে চলে আসছে।"
ফারদিন প্রণয়ের দিকে চোখ ছোটছোট করে তাকিয়ে বলল"সত্যি বল শালা।"
প্রণয় কিছু বলার আগেই মিনহা এসে ওদের পাশে বসে বলল"কি নিয়ে কথা বলছিস রে?"
প্রণয় কিছু বলার আগেই ফারদিন বলল"দোস্ত শোন প্রণয়ের শার্টে মেয়েদের চুল পাইছি।কিন্তু শালায় মিথ্যা বলে।বলে কি না বাতাসে উড়ে আসছে।"
ফারদিনের কথা শুনে মিনহা বলল"কি রে প্রণয় বল এই কেমনে আসলো তোর শার্টে?"
"আরে আমি সত্যি...." প্রণয় এতটুকু বলতেই ফারদিন বলল"অরুণীর কসম করে বল এটা কিভাবে আসছে তুই জানিস না।"
ফারদিনের কথা শুনে প্রণয় রেগে গেলো।এতটুকু একটা কথার জন্য অরুণীর কসম কাটতে হবে কেন?প্রণয় ওদের কিছু না বলে হনহন করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলো।প্রণয় বেরিয়ে যেতেই মিনহা বলল"এইটা কি ঠিক হলো বল? প্রণয় কতোটা পসেসিভ অরুণীর জন্য এটা আমরা জানি।তোর এইভাবে বলাটা উচিত হয় নি।ওর কথাটা খারাপ লেগেছে।"
"আসলেই,বুঝতে পারি নি।এমন হবে।"
"প্রণয় সব সময়ই এমন করে।ওর সাথে কোনো কিছু হলেই ও আমাদের আগে নাচাবে তারপর বলবে।সহজে কোনো কথা বলতে দেখছিস ওরে?"
"হুম।আচ্ছা চল ওর কাছে যাই।শালার রাগ ভাঙাই।"
-------------------------
প্রিয়ম রুহিকে ভার্সিটির সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে গেলো।রুহি পার্স থেকে ফোন বের করে অরুণীকে কল করলো।রুহির কল পেয়ে অরুণী ম্যাসেজে লিখলো"ক্যান্টিনে একটু বস।ক্লাসে আছি।"
রুহি 'আচ্ছা' লিখে ভেতরে গিয়ে ক্যান্টিনে বসলো।
প্রায় দশমিনিট পর অরুণী ক্লাস শেষ করে ব্যাগ নিয়ে ক্যান্টিনে চলে আসলো।আজকে আর ক্লাস করার নিয়ত নেই অরুণীর।ক্যান্টিনে এসে রুহির সামনে বসে বলল"কফি খাবি?"
"হুম খাওয়া যায়।"
অরুণী দুইকাপ কফি অর্ডার দিয়ে রুহিকে বলল"আসতে সমস্যা হয় নাই তো?"
"না,এসিপি প্রিয়মের গাড়িতে এসেছি।"
অরুণী ভ্রু কুঁচকে জিগ্যেস করলো"কেনো?"
"আরে,রিকশা বা অটো কিচ্ছু পাচ্ছিলাম না আর উনিও এখান দিয়েই যাচ্ছিলেন।তো আমাকে বললেন পৌঁছে দিবেন।রিকশা,অটো না পাওয়ায় আমিও মানা করি নি।ওনার সাথেই আসলাম।উনি আমাকে ভার্সিটির সামনে নামিয়ে দিয়েছিলেন।আচ্ছা তুই আমাকে ডাকলি কেনো?"
"একটা বিষয়ে কথা বলবো সেইজন্য।"
"আচ্ছা বল।"
রুহি কথা শেষ করতেই কফি চলে এলো।অরুণী কফিতে চুমুক দিয়ে বলল"আমি ভাবছি তুই আবার স্টাডি টা শুরু করলে কেমন হয়?নিজের স্টাডি কমপ্লিট করে নে।"
রুহি মলিন গলায় বলল"না রে।আমাকে দিয়া আর হবে না।তিনবছর আগেই তো পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলাম।"
"তোকে দিয়েই হবে।তিনবছর আগে ছেড়েছিস তো কি হয়েছে।আবার ধরবি।নিজের ইচ্ছেগুলো পূরণ করবি।স্বাধীনভাবে চলবি।নিজের বাচ্চাকে নিজের মতো মানুষ করবি।ধর,আঙ্কেল আন্টি একসময় থাকলো না তখন তুই কি করবি?কার কাছে হাত পাতবি?তাই এখনি বলছি নিজের লাইফটা গুছিয়ে নে।"
বাস্তবিকই অরুণীর কথায় যুক্তি আছে।রুহিও বুঝতে পেরেছে।রুহি বলল"কিন্তু এখন কি অনার্স শেষ করা যাবে?তিনবছর ধরে তো লেখাপড়ার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।"
"সম্পর্ক গড়ে নিবি।আর আজকে গিয়ে তোর কলেজে গিয়ে ইন্টারের সার্টিফিকেট তুলবি।মেট্রিকের সার্টিফিকেট আর প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রগুলো গুছিয়ে নিবি।কাল ভার্সিটিতে এসে এপ্লাই করে যাবি।তোর রেজাল্ট ভালো তাই চান্স পেয়ে যাবি।"
"আচ্ছা।ঠিকাছে।"
তারপর ওরা আরো কিছুক্ষণ প্রয়োজনীয় কথা বার্তা বলে ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে পড়লো সার্টিফিকেট তুলতে।
-----------------------------
প্রণয় আর ওর বন্ধুরা ক্যাম্পাসে দাড়িয়ে আছে।একটু আগেই প্রণয় আজকে বাসের ঘটনা ওর বন্ধুদের বলে দিয়েছে।আজও অরুণী প্রণয়কে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে।মেয়েটা সবসময় এমনই করে।তুর্য প্রণয়ের কাধে হাত দিয়ে বলল"দোস্ত একটা কাজ করতে পারিস।"
প্রণয় তুর্যের দিকে তাকিয়ে বলল"কি?"
"তুই তোর আব্বু আম্মুকে সবটা বলে দে।আর আঙ্কেল আন্টিকে বল অরুণীদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে।তাহলেই তো হয়।ওর বাবা মা মেনে নিলেই তো ও আর কিছু করতে পারবে না।আর একবার বিয়ে হয়ে গেলেই ও তোকে ভালোবাসতে বাধ্য।"
তুর্যের কথায় সবাই সায় দিলেও প্রণয় মুচকি হেসে বলল"না রে ভালোবাসাটা জোর করে হয় না।আব্বু আম্মু প্রস্তাব নিয়ে গেলে ওর বাবা মা যদি মেনে যায় তাহলে বাবা মায়ের মুখের দিকে চেয়ে হয়তো অরুণী বিয়ে করে নিবে।কিন্তু আমাকে ভালোবাসবে না।নিয়ম করে আমার খেয়াল করবে,আমার চাহিদা মেটাবে কিন্তু ভালোবাসবে না।আর একটা সময় এসব কিছুতে অভস্ত্যতা চলে আসবে কিন্তু ভালোবাসবে না।ভালোবাসাটা বাধ্যবাধকতায় নেই।এটা মন থেকেই হয়।আমি ওর অভস্ত্যতা হতে চাই না আমি ওর ভালোবাসা হতে চাই।আমি চাই ও যেনো আমার জন্য যা কিছুই করুক না কেনো মন থেকে ভালোবেসে করে।আমি সেদিন বাবা মা কে জানাবো যেদিন ও নিজে আমাকে বলবে 'প্রণয় আমি তোমার প্রণয়িনী হতে চাই।'
#এই_মন_তোমাকে_দিলাম
#পর্বঃ১০
#Arshi_Ayat
বিকেল পাঁচটা বাজে ঘড়িতে।সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে।আকাশ ফাইল ঘুছিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়লো।এখন ল'য়ার এর সাথে দেখা করতে হবে।অতি শীঘ্রই ডিভোর্স কার্যকর করতে হবে।আকাশ অফিসের সামনে এসে রিকশা নিলো।কিছুদূর যেতেই হঠাৎ দেখলো একটা হুডতোলা রিকশায় নাতাশার মতো একটা মেয়ে আর পাশে একটা ছেলেও আছে।রিকশাটা দ্রুত ক্রস করে যাওয়ায় আকাশ ভালো করে বুঝতে পারলো না আসলেই কি নাতাশা নাকি অন্য কেউ।আকাশ শিউর হওয়ার জন্য নাতাশাকে কল দিলো।নাতাশা রিসিভ করতেই আকাশ বলল"কি করো জান?"
"হসপিটালে আছি।কেন?"
"না এমনিতেই।আচ্ছা কতক্ষণ থাকবে?"
"এইতো আরো একঘন্টা।"
"ও,আচ্ছা আমি ল'য়ার সাথে কথা বলে হসপিটালে আসছি।একসাথে বাসায় যাবো ওকে?"
"না জান।আজকে পারবো না।আম্মুর সাথে শপিংয়ে যেতে হবে।"
"আচ্ছা ঠিকাছে।তাহলে রাতে ফোন করবো।"
"আচ্ছা জান।"
বলে নাতাশা ফোন রেখে দিলো।আকাশ ফোনটা পকেটে রেখে একটা মুচকি হাসি দিলো।এখন ও নিশ্চিত নাতাশা হসপিটালেই আছে।কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশ ল'য়ারের অফিসে পৌঁছে গেলো।
---------------
অরুণী আর রুহি বাসায় ফিরছে।প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র গুলো গুছিয়ে নিয়ে একসাথে বাইরে দুপুরের খাবার খেয়ে কতক্ষণ ঘুরাঘুরি করে এখন বাসায় ফিরছে।হঠাৎ অরুণীর ফোনে ওর মায়ের কল আসলো।অরুণী রিসিভ করে কথা বলা শুরু করলো।অরুণীর কথায় যতোটুকু বোঝা গেলো তাতে মনে হচ্ছে ওর বাসায় কিছু একটা হয়েছে।অরুণী ফোন রাখতেই রুহি বলল"কি হইছে অরু?"
অরুণী কাঁদতে কাঁদতে বলল"আব্বুর বুকে ব্যাথা উঠছে।ওনাকে মামা আর আম্মু মিলে হসপিটাল নিচ্ছে।"
রুহি রিকশাওয়ালাকে হসপিটালের দিকে রিকশা ঘোরাতে বলে। অরুণীর মাথাটা নিজের কাধে রেখে বলল"কাঁদিস না।আঙ্কেলের কিছু হবে না।আল্লাহকে ডাক।"
অরুণী কাদছে রুহির কাঁধে মাথা রেখে।আর রুহি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।রুহির নিজেও খুব টেনশন হচ্ছে।কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা হসপিটালে পৌঁছে গেলো।হসপিটালে পৌঁছেই অরুণী দৌড়ে ভেতরে গেলো।অরুণীর পেছনে রুহিও আসলো তবে দৌড়ে নয় একটু দ্রুত হেটে।
রিসেপশন থেকে জেনে দোতলায় চলে গেলো।দোতলার একবারে কর্নারের রুমের সামনে অরুণী নিজের মা আর মামাকে দেখে দৌড়ে গিয়ে মা'কে বলল"মা আব্বু কোথায়?কি হইছে আব্বুর?"
অর্না রহমান ভেজা গলায় বললেন"এখনো জানি না।ডাক্তার সাহেব ভেতরে আছেন।বের হলে জানতে পারবো।"
অরুণী মায়ের পাশে চুপচাপ বসলো।পাশে রুহিও বসলো।সবাই বেশ চিন্তিত।
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার বেরিয়ে আসতেই অরুণী এগিয়ে গিয়ে বলল"কি অবস্থা ডাক্তার সাহেব?"
"তেমন কিছু না।বুকে ব্যাথা হয়েছিলো। এখন ঠিকাছে।"
"আমরা দেখা করতে পারবো?"
"জ্বি আপনারা দেখা করে আসুন।চাইলে নিয়েও যেতে পারেন।"
"আচ্ছা।"
রুহি,অরুণী আর অর্না রহমান আর অরুণীর মামা ভেতরে গেলো।অরুণীর বাবা বেডে বসে রয়েছেন।অরুণীর মা কাছে গিয়ে বলল"এখন কেমন আছো?"
অরুণীর বাবা হেসে বলল"ভালোই।তেমন কিছু হয় নি।তোমরা মা মেয়ে শুধু শুধুই কান্না করো।"
অরুণীর মা কপট রাগ দেখিয়ে বলল"তুমি তো হাসবেই।আমাদের জায়গায় থাকলে বুঝতে।"
অরুণীর মায়ের কথায় সবাই হেসে দিলো।অরুণীর বাবা হাত বাড়িয়ে অরুণীকে ডাকতেই অরুণী গিয়ে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো।অরুণীর বাবাও মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন।তিনি জানেন মেয়েটা তাকে যে কি পরিমাণে ভালোবাসে!!অরুণীর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে রুহির দিকে তাকিয়ে বলল"কেমন আছো মা?অনেকদিন দেখি না তোমাকে?"
"আলহামদুলিল্লাহ আক্কেল ভালো আছি।আপনি কেমন আছেন?"
"দুই এদের দুই মা মেয়েকে নিয়ে ভালোই আছি।চলো আমাদের সাথে বাসায় চলো।"
"না আঙ্কেল আব্বু আম্মু চিন্তা করবে।আমাকে যেতেই হবে।"
"আচ্ছা মা বাসায় এসো।"
"আচ্ছা।"
রুহি অরুণীর থেকে বিদায় নিয়ে হসপিটাল থেকে বেরিয়ে পড়লো।মূলত রুহির বিয়ের বিষয়ে অরুণী ওর বাবা মাকে কিছুই বলে নি।এইজন্যই ওনারা এগুলো নিয়ে কিছু বলে নি।
অরুণী হসপিটাল থেকে বেরিয়ে হাঁটতে লাগলো।একটু হেটে সি এন জি নিয়ে বাসায় যাবে।হঠাৎ কেউ একজন এসে ওকে ধাক্কা দিতেই ও রাস্তার একপাশে পড়ে গেলো।ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতেই দেখলো প্রিয়ম ওর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।রুহি প্রিয়মের হাত ধরে উঠে দাড়াতেই প্রিয়ম বলল"যদি আপনাকে ধাক্কা না দিতাম আরেকটু হলেই আপনাকে পিষে দিয়ে যেতো।"
"ধন্যবাদ।"
"কোথায় যাচ্ছিলেন?"
"বাসায়।আপনি?"
"আমি থানায় যাচ্ছিলাম।একটু আগে এসেছিলাম একটা ইনভেস্টিগেশনের জন্য।"
"ওহ!আচ্ছা তাহলে আমি আসি।"
এটা বলে রুহি হাটা শুরু করলো।রুহি যেতেই প্রিয়ম ফোন বের করে কাকে যেনো কল দিয়ে বলল"৩০৯৮ এই টুলেট নাম্বারের গাড়ি কার।এটা বের করো।কুইকলি।"
বলেই ফোনটা রেখে গাড়িতে উঠে বসলো থানায় যাওয়ার জন্য।থানায় পৌঁছাতেই প্রিয়মের ফোনে কল এলো।প্রিয়ম রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বলল"স্যার ৩০৯৮ এটা ভাড়া গাড়ি।এটার মালিক গাড়িটা ভাড়ায় চালায়।"
"আচ্ছা।ঠিকাছে।"
বলে প্রিয়ম ফোন রেখে দিলো।ফোন রেখে ভাবতে শুরু করলো।মার্ডারটা নিয়ে।বিকেলে যে কেসটা হাতে পেলো এতে ভিকটিমের লাশের পাশে ৩০৯৮ লেখা ছিলো।৩০৯৮ দিয়ে কি বোঝাতে চাচ্ছে সেটাই বুঝতে পারছে না প্রিয়ম। মেয়েটাকে কে বা কারা মেরেছে সেটারও হদিস পাঁচ্ছে না।লাশটা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে আর রিসাদকে পাঠিয়েছে মেয়েটার বয়ফ্রেন্ডকে ধরে আনার জন্য এসব কেসে প্রথমেই বয়ফ্রেন্ড তা নাহলে স্বামীরাই ফাঁসে।কিন্তু কেনো জানি প্রিয়মের মনে হচ্ছে এটা অন্যকেউ করেছে।মেয়েটার খুন ওর নিজের বাসাতেই হয়।বাসায় কেউই ছিলো না।সবাই দাওয়াতে গিয়েছিলো কিন্তু মেয়েটা যায় নি।বাসায় একাছিলো।এরকম ঘটনা এর আগে আর ঘটে নি।
পুরো জিনিসটা প্রিয়মকে ভাবাচ্ছে।প্রিয়ম চোখ বন্ধ করে ভাবছে।হঠাৎ রিসাদের ডাকে চোখ খুলতেই দেখতে পেলো রিসাদের সাথে একটা ছেলে।প্রিয়ম বুঝতে পারল এই ছেলেটাই মেয়েটার বয়ফ্রেন্ড।প্রিয়ম ছেলেটাকে বসতে বলল।ছেলেটা বসতেই প্রিয়ম সোজা হয়ে বসে বলল"তুমিই অনিক?"
"জ্বি স্যার।"
"তুমি ইশার বয়ফ্রেন্ড?"
"না স্যার ওর সাথে আমার পনেরোদিন আগে ব্রেকাপ হয়েছে।"
"কেনো?"
"ও একাধিক রিলেশনে ছিলো।"
"কিন্তু ওর বান্ধবীরা যে তোমার কথা বলল। আর ওর ডায়েরিতেও কিন্তু তোমার নাম ছাড়া আর কোনো ছেলের নাম পাই নি আমরা।"
"স্যার আমি সত্যি বলছি।
এভাবেই প্রিয়ম অনিককে জেরা করা শুরু করলো।
-------------------
অরুণীরা বাসায় চলে আসলো।বাসায় এসে নিজের রুমে চলে অরুণী।ফ্রেশ হয়ে বের হতেই অরুণীর মা বলল" অরু তোর বাবা ডাকছে তোকে।"
অরুণী মুখ মুছে বাবার ঘরে গিয়ে বলল"আব্বু ডেকেছো?"
"হ্যাঁ বস।"
অরুণী ওর আব্বুর সামনে বসলো।ওর বাবার পাশে ওর মামাও বসেছে।অরুণীর পিছনে ওর মা দাঁড়িয়ে।অরুণীর বাবা একটু কেশে বলল"দেখলি তো আজকে কি হলো।হঠাৎ করেই বুকে ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে।আল্লাহই জানে কয়দিন বাঁচি।তাই যাওয়ার আগে আমার ফরজ কাজটা করে যেতে চাই।তোর মামা তোর জন্য একটা সম্বন্ধ এনেছে।তোর যদি কোনো পছন্দ থাকে তাহলে বল।"
ওর বাবার কথা শেষ হতেই অরুণী বলল"না বাবা আমার কোনো পছন্দ নেই।তুমি ছেলে দেখতে পারো।তোমার পছন্দই আমার পছন্দ।"
ওর বাবা মা আর মামা একসাথে আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠলেন।অরুণীও একটু হেসে নিজের ঘরে চলে গেলো।ঘরে এসেই দেখলো ফোনে প্রণয়ের কল এসেছে।অরুণী রিসিভ করতেই প্রণয় বলল"কোথায় ছিলে?এতক্ষণ ফোন ধরছিলে না কেনো?"
"আমার ইচ্ছা আমি ধরি নাই।আপনাকে কৈফিয়ত দিবো না।"
"আচ্ছা দিয়ো না।কিন্তু একটু ভালো করে তো কথা বলতে পারো।"
"আপনি না আমাকে আর ডিস্টার্ব করবেন না প্লিজ।আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।"
প্রণয় বুকটা ধড়াস করে উঠলো অরুণীর কথা শুনে।প্রণয় উত্তেজিত হয়ে বলল"সত্যি!ইয়ার্কি করো না প্লিজ।"
"আমি আপনার সাথে কখনো ইয়ার্কি করি না তাই না তাহলে আজ কেনো করবো।এটাই সত্যি।"
বলেই অরুণী ফোন রেখে দিলো।ফোন রেখে দিয়ে অরুণী মনে মনে বলল"আল্লাহ বাচাইছে।এখন আর ডিস্টার্ব করবে না।"
কিন্তু না অরুণীর কথাকে ভুল প্রমাণ করে প্রণয় আবার কল দিলো।অরুণী ফোনটা সাইলেন্ট করে পড়তে বসে গেলো।আর এদিকে প্রণয় এক হাত দিয়ে পুরো ঘরের জিনিসগুলো ভাঙছে আর আরেক হাত দিয়ে অরুণীকে ফোন করছে।
চলবে.....
বাকি পর্ব গুলা এই ওয়েবসাইটেই দেওয়া হয়েছে দেখেন?
