#নিরবতা। ( ২)+৩

1 Minute With Mitu  

চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে আমি বুঝতে পারছিলাম—আজকের সকালটা আলাদা।কড়া লিকারের চা সাধারণত তেতো লাগে। আজ লাগছিল না... হয়তো মনটাই হালকা ছিল সেজন্য 

মাহিনের ফোনটা ঠিক দশটা সাতাশে বাজল।

আমি ঘড়ি দেখিনি, তবু সময়টা জানতাম।ও সবসময় এই সময়েই ফোন করে


আমি রিসিভ করিনি।চায়ের শেষ চুমুকটা নিয়ে কাপ নামালাম।ফোনটা আবার বাজল ধরিনি, তৃতীয়বারে ধরলাম।

তুমি কোথায়?

কণ্ঠটা স্বাভাবিক। এই স্বাভাবিকতাই ওর সবচেয়ে ভয়ংকর দিক।সূচের মতো ধারালো কথা গুলো ও খুভ স্বাভাবিক ভাবেই বলে ফেলে... অপরপক্ষের হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে কি না সে দিকে তার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। 


আমি বললাম,যেখানে আমার থাকার কথা —বেলকুনিতে বসে আছি।।

—মানে?

কথার মাঝে হঠাৎ করে চুপ হ'য়ে যাওয়া ওর অভ্যেস, ওর মাথা তখন হিসাব করছে—এই উত্তরটা কোন ক্যাটাগরিতে পড়ে। তারপর খুব খুব ভেবেচিন্তে সেই কথার উত্তর দিবে।

—মানে আমি এখন যেখানে আছি, সেটার একটা বেলকুনি আছে,আর আমি সেখানেই বসে আছি,আমি হালকা হেসে বললাম।


ও চুপ করে গেল।

আমি জানি, মাহিন আমার কথায় রেগে যাচ্ছে, তাই চুপ

ও তখন নিজের কন্ট্রোল ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে।


—তুমি কাল বাসা ছেড়েছ কেন?

প্রশ্নটা এমনভাবে করল, যেন আমি হঠাৎ কোনো নিয়ম ভেঙে ফেলেছি।আর সে কিচ্ছু জানে না এই ব্যাপারে! 


—কারণ কাগজে কলমে তো সব শেষ হয়ে গেছে,আমাদের আর কি সম্পর্ক বাকি আছে শুনি?


—আমি তো বলেছিলাম, এক–দুই দিন পর—

—তুমি বলেছিলে, বাসাটা তোমার। গাড়িটা তোমার। অ্যাকাউন্টের টাকাও তোমার।আমি শুধু আমার জিনিস নিতে পারি।আমি সেটাই নিয়েছি,আমার জিনিস আর তুমি আমার জিনিসের মধ্যে পড়ো না। 


ওর নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এল।এই শব্দটা আমি চিনি।

এটা রাগ না,এটা অপমান,আর সে খোচা মারা কথা একদম অপছন্দ করে সেটা আমি ভালো করেই জানি কিন্তু তার সাথে মিতালি করার মতো সম্পর্ক আর আমার নেই। 

—তুমি নাটক করছ।

আমি হেসে ফেললাম,একটু জোড়েই হাসলাম... ভিলেন টাইপ হাসি (মানে আমি অপর পাশে থাকলে অন্তত তাই ভাবতাম, কিন্তু আমার মাহিনের অসহায় আর রাগে-ক্রোধে লাল হ'য়ে যাওয়া ফেস টার কথা ভেবেই আরও হাসি পাচ্ছে) মাহিন, আমি আর নাটক,আরে ধুর নাটক হলে দর্শক লাগত। আর এখানে কেউ নেই।আমার আরেক কাপ চা চায়ের তেষ্টা পেয়েছে, তুমি আশেপাশে থাকলে চা খাওয়ার অফার দিতাম,তুমি তো নেই অগ্যতা আমার একা একাই খেতে হবে। 


ফোনটা কেটে গেল,কেটে যায়নি ও কেটে দিল। ইশ আফসোস হচ্ছে এই মুহুর্তে মাহিনের চেহারা টা দেখতে পেলে একদম জব্বর লাগতো। 

আমি জানতাম—এই ফোনটা কাটা মানেই খেলা শুরু।


দুপুরের দিকে বাকের ভাই এলেন।হাতে ফাইল, মুখে চিন্তার রেখা।

—আপনি ঠিক আছেন?এই প্রশ্নটা উনি খুব কম মানুষকে করেন।আজ আমাকে করলেন।


—আমি অনেক দিন পর ঠিক আছি ঠিক আছি বাকের ভাই। যাইহোক দুপুরে খাবারের সময় হ'য়ে গেছে আমিও খাইনি। করলা ভর্তা করেছি সাথে কড়া ঝালে শুটকি ভর্তা দিয়ে গরম গরম ভাত। 

বাকের ভাই না করলেও জোড় করেই খাওয়ালাম, করলা খেতে পারলেন না, সবাই পারে না করলা খাইতে। বাকের ভাই বললো করলা কেনো যে মানুষ খায় আমার একদম ভালো লাগে না। 

করলা তো হেলদি একটা সবজি, মাহিনের মতো অখাদ্য তো এতোদিন...... যাইহোক আপনি বরং শুটকি ভর্তা দিয়ে খান একটু ঝাল লাগবে আমি নিজেও এতো ঝাল খাই না এক্সট্রা ৩ টো মরিচ বেশি দিয়েছি। বাকের ভাইয়ের চেহারা ঝালে লাল হ'য়ে গেছে আমি হেসে ফেললাম হা হা হা থাক আপনার খাওয়া লাগবে না। আপনি ১ মিনিট ওয়েট করেন আমি ডিম ভাজি করে দিচ্ছি। বাকের ভাই ভয়ে বললেন থাক আমি লবণ দিয়েই বাকিটা খাবো। 

আমি হেসে বললাম আরেহ এবার ঠিকঠাক দেবো চিন্তা কইরেন না। আর করলা আর শুটকি ভর্তা তো আমার জন্য ছিলো আমার জীবনে এক্সট্রা স্পাইসি দরকার। অতিরিক্ত ঝাল, চিনি ছাড়া চা এইসব আমাকে একটিভ থাকতে সাহায্য করে মিইয়ে যাইতে দেয় না। 

বাকের ভাই বাকি ভাত ডিম ভাজি দিয়ে খেয়ে একটু থিতু হয়েই ফাইল খুললেন।

—একটা ব্যাপার বলি?আপনি যেভাবে সব ছেড়ে দিয়েছেন, মাহিন সাহেব এটা আশা করেননি।

ওনার টাইপের মানুষ সাধারণত দুই রকম প্রতিক্রিয়া দেয়—এক, ক্ষমতা দেখায়।দুই, প্রতিশোধ।

আমি দু কাপ চা বানিয়ে চেয়ারে বসলাম,চায়ের কাপে তাকিয়ে ছিলাম।—ও কোনটা করবে?

যতটুকু সম্ভব —দুটোই করবেন। 

সেদিন রাতেই আমি বুঝলাম—মাহিন আমাকে ছাড়েনি।

শুধু আড়াল হয়ে গেছে।

নতুন বাসাটা ছোট,দুইটা মাত্র রুম।একটা ছোট রান্নাঘর।বেলকুনি আছে—এইটাই সবচেয়ে বড় বিলাসিতা যেখানে কড়া লিকারের চায়ের সাথে আমার পছন্দের বই গুলো পড়তে পাড়ি। 

রাতে লাইট বন্ধ করে শুয়ে আছি।

হঠাৎ দরজার বাইরে কেউ দাঁড়িয়ে থাকার শব্দ পেলাম।

খুব হালকা।যেন কেউ নিশ্বাস ধরে আছে।

আমি উঠে দরজার কাছে গেলাম।পিপহোল দিয়ে তাকালাম।কেউ নেই,ফিরে এসে শুয়ে পড়লাম।

নিজেকে বোঝালাম—ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

সব কিছু মাথার ভেতর।ঠিক তখনই ফোনে একটা মেসেজ এল।

Unknown Number:

তুমি বইগুলো নিলে কেন?

আমার বুকের ভেতরটা ঠান্ডা হয়ে গেল।এই নম্বরটা আমি চিনি না।কিন্তু প্রশ্নটা আমি চিনি।

মাহিন জানত—ওই বইগুলো আমার একমাত্র আসল সম্পদ।ওগুলো ছাড়া আমি অন্য মানুষ।

আমি রিপ্লাই করলাম না।আরেকটা মেসেজ এল।

তুমি কি ভাবছ, তুমি জিতে গেছ?

আমি এবার রিপ্লে দিলাম—আমি তো খেলতেই নামিনি।

পাঁচ মিনিট পর উত্তর এল।ঠিক আছে। তাহলে খেলাটা আমি শুরু করি।

পরদিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের মেয়েটার সঙ্গে কথা হলো।ওর নাম রাইসা।চোখে অদ্ভুত ভয়। হাসিটা যেন কারো থেকে ধার করা।

—আপনি এই বাসায় নতুন?ও জিজ্ঞেস করল।

আমি মাথা নেড়ে বললাম,—হ্যাঁ।

ও ফিসফিস করে বলল,—এই বিল্ডিংয়ে রাতে লাইট বন্ধ রাখতে ভুল করবেন না।

আমি তাকিয়ে থাকলাম।

—কেন?


-চলবে.... 🥀#নিরবতা। (০৩) পর্ব 

1 Minute With Mitu  

রাইসা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। মনে হলো কথা বলবে কি বলবে না সেটা ভেবে নিচ্ছে। তারপর খুব আস্তে বলল—কারণ… এখানে অনেক সময় লাইট জ্বালিয়ে রাখলে মনে হয় কেউ তাকিয়ে থাকে।

আমি ভ্রু কুঁচকালাম।

—মানে?

ও দ্রুত মাথা নাড়ল।

—কিছু না। আমি এমনিই বললাম।

এই “এমনিই” শব্দটার ভেতর সবসময় কিছু না কিছু থাকে। আমি বহুদিন ধরে মানুষের গলার ভাঁজে লুকানো শব্দ বুঝতে শিখেছি। মাহিনের সাথে থাকতে থাকতে এই দক্ষতা আমার নিজের অজান্তেই তৈরি হয়েছে।

আমি হালকা হেসে বললাম—

আপনি ভয় পাচ্ছেন?

রাইসা একটু থমকাল। তারপর বলল—আমি না… তবে এই বিল্ডিংয়ে আগে একটা ঘটনা হয়েছিল।

—কী ঘটনা?

ও চারপাশে তাকাল। করিডোরটা ফাঁকা। তারপর নিচু গলায় বলল—চার তলায় একটা পরিবার থাকত। স্বামী–স্ত্রী দুজন মাত্র, লোকটা খুব অত্যা*চার করতো মেয়েটাকে। একদিন মেয়েটা হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। সবাই বলে সে নাকি পালিয়েছে। কিন্তু কেউ তাকে পালিয়ে যেতে দেখেনি বা পরেও কখনও দেখেনি। 

আমি কিছু বললাম না। শুধু তাকিয়ে থাকলাম।

রাইসা আবার বলল—ওই ফ্ল্যাটটা এখনো খালি পড়ে আছে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম—চার তলা মানে… আমাদের নিচে?

—হ্যাঁ।

ও দ্রুত চলে গেল। যেন বেশি কথা বললেই বিপদ হবে।

আমি দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা ঠান্ডা অনুভূতি জমতে লাগল।

সেদিন বিকেলে আমি বাসার দরজা–জানালা ভালো করে চেক করলাম। সব ঠিক আছে। তবুও অস্বস্তিটা কাটছিল না।

আমি বইয়ের তাক সাজাতে বসেছিলাম। হঠাৎ খেয়াল করলাম একটা বই নেই।


“একাকী মানুষের নোটবুক।”

এই বইটা আমি সবসময় আলাদা করে রাখি। কারণ বইটার ভেতরে একটা পাতায় আমি একটা চিঠি রেখে দিয়েছিলাম—নিজের কাছে লেখা চিঠি।


আমি সব গুলো বই তন্নতন্ন করে খুঁজলাম,নাহ কোথাও নেই। 

হঠাৎ ফোনে মেসেজ এল।

Unknown Number:বই খুঁজছ?

আমার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।

আমি কয়েক সেকেন্ড স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। তারপর লিখলাম—তুমি আমার বাসায় ঢুকেছিলে?নাকি কোথাও ক্যামেরা সেট করে রাখছো?

উত্তর এল না। প্রায় এক মিনিট পর আরেকটা মেসেজ এল।

Unknown Number:তোমার বাসা… নাকি আমার তৈরি করা মঞ্চ?

আমার বুকের ভেতর হালকা ধাক্কা লাগল।

আমি ফোন বন্ধ করে রাখলাম। নিজের শ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। এই অনুভূতিটা আমি চিনি। মাহিন যখন আমাকে মানসিকভাবে কোণঠাসা করত, তখন ঠিক এমনই লাগত।

আমি রান্নাঘরে গিয়ে চা বসালাম। কড়া লিকার। চিনি ছাড়া,মাথার মধ্যে জট লেগে আছে, এক কাপ চা ছাড়া কাজ হবে না। 

চায়ের ধোঁয়া উঠতে উঠতে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম—ভয় পেলে চলবে না। মাহিনের সাথে থাকাকালীন আমি একটা জিনিস শিখেছি—ওর খেলার নিয়ম বুঝে ফেললে ওর অর্ধেক শক্তি শেষ হয়ে যায়।

রাতে আবার সেই শব্দটা শুনলাম।দরজার বাইরে কেউ যেন দাঁড়িয়ে আছে।

এইবার আমি ধীরে ধীরে হাঁটলাম। পায়ের শব্দ না করার চেষ্টা করলাম। পিপহোল দিয়ে তাকালাম।

করিডোর ফাঁকা!আমি দরজা খুললাম।হালকা বাতাস ঢুকলো রুমে। করিডোরে আলো ঝিমঝিম করছে।

ঠিক তখনই পাশের সিঁড়ির দিকে একটা ছায়া নড়ল। খুব দ্রুত।আমি দৌড়ে গেলাম। নিচে তাকালাম। কেউ নেই।

ফিরে এসে দরজা বন্ধ করলাম। দরজার নিচে একটা কাগজ গুঁজে রাখা।আমি কাগজটা তুললাম।

একটা মাত্র লাইন লেখা—


“তুমি একা থাকতে পছন্দ করো না। তুমি শুধু ভাবছো তুমি ভালোবাসো।”

এই হাতের লেখা আমি চিনি।মাহিন!

পরদিন সকালে আমি বাকের ভাইকে ফোন করলাম।

উনি শুনে বেশ কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। তারপর বললেন

—আপনি কি নিশ্চিত এটা মাহিন সাহেব করছেন?

—আমি তার হাতের লেখা চিনি।

উনি বললেন—

—আমি একটা জিনিস জানতে চাই। আপনি নতুন বাসার ঠিকানা তাকে দিয়েছিলেন?

—না।

—তাহলে সে জানল কীভাবে?

এই প্রশ্নটা আমার মাথায় আগে আসেনি।

আমার বুকের ভেতর আবার ঠান্ডা ঢুকে গেল।

বিকেলে বাকের ভাই বাসায় এলেন। দরজা–জানালা পরীক্ষা করলেন। তারপর বললেন—

—আপনার দরজার লক নতুন লাগানো দরকার। আর একটা সিসিটিভি লাগান।

আমি মাথা নাড়লাম।

উনি কিছুক্ষণ পরে বললেন—

—আরেকটা কথা… মাহিন সাহেব আপনার ওপর খুব বেশি সময় ধরে নিয়ন্ত্রণ চালিয়েছেন। এই ধরনের মানুষ যখন হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়, তখন তারা বাস্তব আর খেলার সীমা গুলিয়ে ফেলে।

আমি হালকা হাসলাম।—মানে সে এখন খেলছে?

—হ্যাঁ। আর আপনি তার সবচেয়ে প্রিয় খেলনা ছিলেন।

এই কথাটা শুনে অদ্ভুতভাবে আমার ভেতর শান্তি নামল। হয়তো কারণ—আমি এখন খেলনা না।

সেদিন রাতে আমি ইচ্ছা করে লাইট জ্বালিয়ে রাখলাম।

রাইসার কথা মনে পড়ছিল।

রাত প্রায় দুইটা। আমি বই পড়ছিলাম। হঠাৎ ফোনে একটা ভিডিও এল।

Unknown Number.

আমি কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকলাম। তারপর ভিডিওটা চালালাম।

ভিডিওতে — একটু ঝাপসা ভাব তবে এটা আমি। আমার বাসার বেলকুনিতে আমি বসে চা খাচ্ছি।ভিডিওটা নিচের দিক থেকে করা। সম্ভবত রাস্তা থেকে।

আমার হাত কাঁপতে শুরু করল। কিন্তু চোখ সরালাম না।ভিডিওর শেষে লেখা উঠল—“তুমি ভাবছ তুমি মুক্ত?”

আমি ফোন শক্ত করে ধরলাম।এই প্রথমবারের মতো ভয় লাগলো না… বরঞ্চ রাগ হলো।

পরদিন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম—আমি বসে থাকব না।

আমি বিল্ডিংয়ের দারোয়ানের সাথে কথা বলতে গেলাম।লোকটার নাম রহিম।


আমি জিজ্ঞেস করলাম—এই বিল্ডিংয়ে নতুন কেউ আসে যায় কি?

রহিম কিছুক্ষণ ভেবে বলল—না ম্যাডাম… তবে কয়েকদিন আগে একটা লোক এসেছিল।

আমার বুক ধক করে উঠল।

—কেমন লোক?

—লম্বা… ফর্সা… খুব ভালো জামাকাপড় পড়া।

আমি চোখ বন্ধ করলাম এক সেকেন্ড।

—সে কি কিছু বলেছিল?

—বলেছিল সে নাকি এই বিল্ডিংয়ের পুরনো বাসিন্দা।

সেদিন সন্ধ্যায় আমি চার তলায় গেলাম।

খালি ফ্ল্যাটের সামনে দাঁড়ালাম। দরজায় ধুলো জমে আছে। কিন্তু ধুলোর ওপর একটা জায়গা পরিষ্কার। যেন কেউ হাত রেখেছে।

আমি হাত বাড়িয়ে দরজাটা ঠেললাম।


দরজা বন্ধ না! শুধু ভিড়িয়ে রাখা। ধীরে ধীরে খুলে গেল।ভেতরে গন্ধ—বন্ধ ঘরের গন্ধ। পুরনো দেয়াল। খালি মেঝে।

ভেতরে ঢুকলাম।হঠাৎ খেয়াল করলাম—দেয়ালে একটা আয়না ঝুলছে,কাছে গেলাম,আয়নাটা ভাঙা। মাঝখানে চির ধরা।

আমি নিজের প্রতিবিম্ব দেখলাম। ভাঙা, দুই টুকরো।

ঠিক তখনই পেছনে দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ হলো।

আমি আৎকে উঠে ধীরে ধীরে ঘুরলাম।কেউ নেই!

কিন্তু মেঝেতে একটা খাম পড়ে আছে, তুলে খুললাম।

ভেতরে একটা ছবি,আমাদের বিয়ের ছবি।

ছবিটার ওপর লাল কালিতে লেখা—“পারফেক্ট ছবি কখনও বাস্তব না।”

আমি হালকা কাঁপছিলাম। কিন্তু এবার ভয় আমাকে থামাতে পারল না।


আমি বুঝতে পারছিলাম—মাহিন শুধু আমাকে ভয় দেখাচ্ছে না। সে আমাকে ভেঙেচুরমার করতে চাইছে। ঠিক আগের মতো।

বাসায় ফিরে আমি প্রথমবারের মতো নিজে থেকে তাকে মেসেজ দিলাম।

তুমি কি চাও?দুই মিনিটের মধ্যে রিপ্লাই এল।

আমি চাই তুমি স্বীকার করো—তুমি আমাকে ছাড়া কিছুই না।

আমি লিখলাম—ভুল।

উত্তর এল—তাহলে প্রমাণ করো।

আমি লিখলাম—কীভাবে?

পাঁচ মিনিট কোনো উত্তর নেই।তারপর একটা লোকেশন এল।ধানমন্ডির একটা পুরনো ক্যাফে।

আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল যেখানে।

আমি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলাম।হৃদস্পন্দন ধীরে ধীরে বাড়ছিল।

আমি জানতাম—এই দেখা মানে শুধু দেখা না। এটা একটা ফাঁদ হতে পারে। আবার এটাও হতে পারে—এই খেলা শেষ করার সুযোগ।

আমি আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। নিজের দিকে তাকালাম।

এই মেয়েটা আর আগের সেই ভীতু মেয়ে না। মাহিনের পারফেক্ট লাইফস্টাইলের অংশ না।

আমি খুব শান্ত গলায় নিজেকেই বললাম—“খেলতে যদি হয়… এবার নিয়ম আমি বানাবো।”

সেদিন রাতটা আমি ঘুমাইনি।বেলকুনিতে বসে কড়া লিকারের চা খাচ্ছিলাম। আকাশটা ধূসর,ধীরেধীরে অন্ধকার কি সুন্দর করে কেটে যাচ্ছে এই সৌন্দর্য উপভোগ করার মতো, একদিন আমার জীবনের অন্ধকার ও এভাবেই কেটে যাবে। ভোর নামছে

দরজার হাতল ধরে কেউ শব্দ করছে, কিন্তু এতো ভোরে কে এলো এখনো আকাশ পরিষ্কার তেমন হয়নি, 

দরজার পীপহোল দিয়ে দেখলাম রাইসা!কিন্তু এতো ভোরে! । আজ তার মুখে অন্যরকম আতঙ্ক।

দরজা খুলেই নিচু গলায় জিজ্ঞেস করলাম—কি হয়েছে?এতো ভোরে তুমি?

সে কিছুক্ষণ দ্বিধা করে বলল—গত রাতে কেউ আমার দরজায় নক করেছিল।

আমার বুক ধক করে উঠল।তারপর?

—আমি খুলিনি। কিন্তু সকালে দেখি দরজার সামনে একটা ছবি রাখা।

—কী ছবি?

রাইসা কাঁপা হাতে ফোন বের করল। ছবি দেখাল।আমি জমে গেলাম।ছবিটা আমার।আমি বেলকুনিতে দাঁড়িয়ে আছি।

ছবির নিচে লেখা—“সে একা না।”

আমার ভেতর দিয়ে ঠান্ডার মতো কিছু বয়ে গেল, আমি বুঝলাম—এই খেলা শুধু আমাকে নিয়ে না।

মাহিন এখন তার খেলার দর্শক বানাচ্ছে অন্যদেরও।

রাইসা চলে গেলে চা বানিয়ে নিলাম এক কাপ, আজকাল চা ছাড়া মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ কাজ করছে না,চায়ের ক্যাফেইনে এক ধরনের আসক্তি আছে আমি আপাতত সেই নেশায় মগ্ন।

মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিলাম, যা কিছুই হোক আমি পালাব না।আমি এবার খুঁজে বের করব—মাহিন কতদূর যেতে পারে।

আর দরকার হলে…


(চলবে…)


লেখিকা: Ummey Salma Khan Mitu 


পরের পর্বগুলা এখানেই দেওয়া হবে ধন্যবাদ। 


#গল্প #folklore #Holidays #1minutewithmitu #পোস্ট #ভাইরাল #story #post #viralpost #foryou #tradition

 লেখিকা : Ummey Salma Khan Mitu 


#গল্প#blackculture #viralpost #foryou #post #mitu #competition #ভাইরাল #পোস্ট 

#postoftheday #birthday #story #viral

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url