প্রহসনের_অভিনয়
পর্ব_৮+৯
আফরিন_সুলতানা_আজু

-প্লিজ ডার্লিং দরজা টা খোলো ...

জিভান বড় বড় শ্বাস নিয়ে দরজায় কয়েকবার টোকা দিলো । একবার না দুবার না পাঁচ ছয় বার । পরে দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে আবার মৃদু স্বরে বলল,

-আম সরি ডার্লিং,,এবার অন্তত একবার দরজাটা খোলো ..

কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো উত্তর এলো না । জিভান হতাশ হলো তবে হাল ছাড়লো না । ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ঝুলে পকেট থেকে ডুপ্লিকেট চাবি বের করলো । এই চাবি সবসময় তার কাছে থাকে রোজার কাছেও আছে । চাবি ঘুরাতেই দরজা খুলে গেলো । জিভান তৃপ্তি হাসলো ,

দরজা টা একটু খুলে উকি দিতেই তার মুখ বরাবর একটা বালিশ ছিড়কে এসে পড়লো ।

সে চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো  । বালিশ এর কোণাটা চোখে লেগেছে বেশ ,
হাত কচলাতে লাগলো বাম চোখটাতে। ঠিক তখনই রোজা আরেকটা বালিশ ছুড়ে মারলো জিভানের দিকে , কিন্তু এবারের টা সে ধরতে সক্ষম হলো ।

-কেন এসেছো এখানে..? যাও না তোমার অফিসে..! তোমার কর্ম-ই তো সবার আগে তাই না? তো যাও ওই অফিসের সাথে নাচো কাজের সাথে নাচো এখানে কেন এসেছো কে আছে তোমার  ? আমি তো কিছুই না তোমার তাই না  কোনো দায়িত্বেই পড়ি না .! তো যাও তোমার আসল দায়িত্বে আসল কাজে ..

গর্জে উঠলো রোজা চোখ দুটো শিকারির নেয়  চেয়ে আছে জিভানের দিকে।  জিভান চোখ তুলে তাকালো রোজার দিকে । এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেন এই চোখ দিয়েই বস্ম করে দেবে  ভয়ে একটা ঢোক গিলল সে ।
রোজা আবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে আগের নেয় গর্জে বলল,

- দাঁড়িয়ে কেন আছো বের হও রুম থেকে ...

জিভান অসহায় ভঙ্গিতে শান্ত গলায় বলে ,

-শান্ত হও রোজা আমি আসলে ভুলতে চাইনি ..তুমিতো জানোই গত পাঁচ বছর কোমায় থাকায় অনেক পেশার পড়ছে এখন আমার উপর অনেক কেচ নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে হচ্ছে,, নয়তো আমি এই স্পেশাল দিনটাকে কিভাবে ভুলতে পারি বলো ..?

রোজা অন্যদিকে মুখ  ফিরিয়ে বুকে হাত ভাজ করে কড়া গলায়  নাক টেনে টেনে বলে,
-আর ভুলতেও হবে না । এখন আর দরকার নেই এখানে থাকার ,তুমি এখন যেতে পারো.......... নিজের কাজে .!!

শেষ কথাটা একটু টেনে বলে চোখের কোণে থাকা জলটুকু হাতের আঙ্গুল দিয়ে মুছে নিলো ।

জিভান তখন ও রোজার দিকে তাকিয়ে থাকে তবে অন্যরকম ভাবে ,কিছু তো একটা মাথায় ঘুরছে তার  । মাথা নত করে রোজাকে কিছু না বলেই হুট করে বেরিয়ে গেল ।

হঠাৎ রুমে অদ্ভুত এক নিরবতা হওয়ায় রোজা পিছন পেরে দেখে জিভান নেই । তার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে যায় । মনের ভিতর কেমন শূন্যতা লাগছে ।  জিভান তাকে কিছু না বলেই চলে গেল ! সে বলল আর চলে গেল ? তাকে মানানোর চেষ্টাও পর্যন্ত করলো না ? রোজা অবাক হলো । সে কি বেশি বলে ফেলেছে জিভানকে? কয় তেমনতো কিছু বলে নি .! তাহলে চলে কেন গেলো সে ? তার রোজার অভিমান কেন ভাঙলো না ..?

অস্থিরতার সাথে কিছুটা হতাশ হচ্ছে সে ,,অনিমেষ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।

অন্যদিকে...

একটা বারে বসে একেরপর এক ড্রিংক করে যাচ্ছে এরিশ। চোখ দুটো অসম্ভব লাল । কিন্তু ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা ডেভিল স্মাইল। 

সামনে কেভিন বসে আছে না কোনো ড্রিংকস আর না কোনো স্মোক। শুধু চোখ বুলিয়ে বারে থাকা ছেলে মেয়েদের ডান্স দেখছে । ইচ্ছে করছে তাদের সাথে নাচতে । কিন্তু এরিশ এক পাও এগোতে দিচ্ছে না কেভিন কে । সেই জন্যই তো মুখে হাত রেখে গোমড়া মুখো হয়ে বসে আছে ।

কেভিন : আপনার কাজ তো করেদিলাম তাহলে বসাই রাখলেন কেন হে ??আমার কি খায় দায় কোনো  কাম নেই নাই কি ..?

একটু বিরক্তি নিয়ে বলল সে । এরিশ আরেক গ্লাস খেয়ে চোখ সরু করে বলে ,

এরিশ : না নেই তোর ..এখানে বসে আমাকে পাহারা দে

কেভিন অনুনয় করে বলল,

কেভিন : অন্তত ডান্স করতে দেন দেখেন সবাই কত সুন্দর ডান্স করছে আর আমি বসে আছি ,,আমার আবার বসে থাকতে ভাল্লাগে না ।

এরিশ সাইট থেকে অরেকটা ওয়াইনের বোতল টা নিয়ে খুলতে খুলতে বলল,

এরিশ: এত কির্মি কিসের তোর এক যায়গায় বসে থাকতে পারোস না ..! দেখছিস না কোনো গার্ড এনেছি আমি? তুই তো আসলি শুধু আমার সাথে , এখন যদি কেউ আমার কিছু করে তো ,,,? তুই জানিস না ড্রিংকস করলে আমি ঠিক থাকি না ..এখন তুই আমাকে সামলাবি বুঝলি...

কেভিন ভ্রু জোড়া কুঁচকে বাঁকা হেসে বলল,

কেভিন: আমার মতো হারামখোরের উপর আস্থা রাখছেন ..? আমি কিন্তু ওমন না ব্রো..তবে আমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারেন যতদিন আপনার সাথে আছি ততদিন কোনো ক্ষতি হতে দিবো না ...

এরিশ ড্রিংকস করতে করতে স্মির্ক করে। অন্যদিকে কেভিন চোখ উল্টিয়ে তাদের নাচ দেখতে থাকে আপাতত নাচ দেখা ছাড়া তার কোনো কাম ধাম নেই ।

________________

প্রায় ১০-১২ মিনিট পর জিভান আসে রোজাকে নিতে । রোজা তখনও বিস্ময় ভরা চেহারা নিয়ে বেডে বসে ছিলো । জিভান রুমে ঢুকতেই রোজা সটান দাড়িয়ে যায় । ও আবার ফিরে কেন আসলো ? চলেই তো গিয়েছিলো তাকে ছেড়ে .!!

রোজা কিছু বলতে যাবে ঠিক এমন সময় জিভান রোজাকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে পাজা কোলে তুলে নেয় । রোজা অবাক হয়ে যায় জিভানের কান্ডে । রোজা কিছু বলতে যাবে তার আগে জিভান তার মুখ বরাবর ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বলে ,

জিভান: হুসস.. কোনো কথা শুনতে চাই না একদম চুপ ...

জিভানের নের ফিসফিসানি যেন রোজার পুরো শরীরটাকে কাঁপিয়ে দিলো । এই প্রথম সে এমন কিছু অনুভব করলো । চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। পরক্ষনে ছটফট করে জিভানের কোল থেকে নামার জন্য কিন্তু জিভান এক চুলও ছাড়ে না তাকে উল্টো শক্ত করে চেপে ধরে হাঁটা শুরু করে ।

রোজা: কোথায় নিয়ে যাচ্ছো আমাকে ছাড়ো ...

জিভান : এখন ছাড়তে পারবো না ,,পড়ে যাবে ..

রোজা জিভানের বুকে ঘুষি দিতে দিতে বলে ,

রোজা: পড়লে পড়বো তোমার কি ? আমি তো কিছুই হয় না তোমার তাই না ..খালি নামের ওয়াইফ আমি ..এত কেয়ার কিসের? ছাড়ো বলছি ...

এবার জিভান দুষ্টু হেসে ভ্রু কুঁচকে বলে ,

জিভান: ছেড়ে দিবো !!  যদি পড়ে যাও আমাকে দোষারোপ করতে পারবে না বলে দিলাম ।

রোজা: পড়লে পড়বো তোমার কি ..

জিভান: তুমি আমার বউ না ..?

রোজা : হুহ  বউ না ছাই  ..

জিভান: ওসব  কথা বলতে নেই সুইটহার্ট..!

রোজা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছুড়লো জিভানের পানে । জিভান এই দেখে ভয়ে ঢোক গিলার  ভান করলো । তারপর বাড়ি থেকে বের হয়ে রোজাকে গাড়িতে বসিয়ে দেয় ।

জিভান জানে এখন দু'জন একসাথে গাড়িতে বসলে রোজা নিশ্চয়ই কোনো কান্ড ঘটিয়ে বসবে তাই রোজা বুঝে উঠার আগেই সে তার মুখে কিছু একটা স্প্রে করে আর সাথে সাথে রোজা জ্ঞান হারায় । জিভান দুষ্টু হেসে গাড়ি ড্রাইভ করতে থাকে ফাঁকে ফাঁকে রোজার দিকে চোখ বুলায় ।

#পর্ব_৯
#আফরিন_সুলতানা_আজু

জিভানের গাড়িটা নিউইয়র্ক এর বোর্ডওয়ে, এন ওয়াই টেন থাউজেন্ড সেভেন রোডে এ থাকা বিখ্যাত রেস্টুরেন্টে নবু ডাউনটাউন এর সামনে এসে থামে ।  যায়গাটা এক কথায় অসাধারণ, রাত প্রায় আটটা বাজে । গাড়ির হর্ন আর মানুষের চেঁচামেচিতে পুরো রাস্তা ভরপুর তার সাথে বিশাল যানজট তো লেগেই আছে ,জিভান কোনো ভাবে গাড়িকে সাইডে এনে রেস্টুরেন্টের সামনে এনে থামায় । গাড়ি ব্রেক কষতেই রোজার জ্ঞান ফিরে  চোখ বুলিয়ে গাড়ির জানালার দিকে তাকাতেই হতবাক হয়ে যায়।  তার সামনে কিছুটা দূরে একটা বোর্ডে বড় বড় অক্ষরে লিখা ~" Nobu downtown " ~ রেস্টুরেন্ট।  রোজা বুঝে উঠতে পারছিলো না কি করবে । ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। এক মুহুর্ত অপেক্ষা না করে তাড়াহুড়ো করে গাড়ি থেকে নামে । জিভান এতক্ষন যাবৎ রিয়ার ভিউ মিরর দিয়ে রোজাকে দেখছিলো রোজা বের হতেই সেও বের হয়ে যায় ।

জিভান রেস্টুরেন্ট এর দিকে তাকিয়ে বলল,

- কেমন লাগলো আমার সারপ্রাইজ ....

-এক মূহুর্তের জন্য রোজা ভুলেই গিয়েছিল যে জিভান তার সাথে কি করেছিলো।

–অ্যামেজিং.... আই ক্যান্ড বিলিভ ইট আমি আবার নবুতে এসেছি ।
'রোজা অবাক হয়ে চারিদিকে চোখ বুলাতে লাগলো হুট করেই তার চোখে জল ভেসে উঠলো । এই রেস্টুরেন্ট জুড়ে তার প্রেমময় স্মৃতি ,ঠিক এই জায়গায় জিভান আর তার দেখা হয়েছিলো। সেদিন ছিলো রোজার জিবনের সবচেয়ে সুন্দর মূহুর্ত । এক অদ্ভুত অনুভূতির ,এক আশ্চর্যজনক ঘটনার .....

-রোজা ভিতরে যাওয়া যাক ।
জিভান রোজার হাত ধরে হাঁটা শুরু করলো । রোজা অপলক দৃষ্টিতে জিভানের পানে চেয়ে রইল। এই লোকটা যে তাকে বড্ড ভালোবাসে রোজার আর বোঝার উপায় নেই, এই একটাই ব্যাক্তি যাকে কিনা রোজা ভীষণ রকম ভালোবাসে। আর আজ সেই ব্যক্তিকে ঠকাচ্ছে ,তার জাত শত্রুর সাথে প্রেমের নাটক করতে হচ্ছে তাকে শুধু একটা কারণে ... লুসিয়ান তার বাবার মৃত্যুর তার মায়ের মৃত্যুর কারণে .....

জিভান রোজা দু'জনে রেস্টুরেন্ট এর ভিতর প্রবেশ করলো । রোজা চোখ বুলাতে লাগলো সেই আগের মতো ব্যস্ততা , হৈচৈ আর হাসিঠাট্টায় মেতে উঠা পরিবেশ। তবে আগের চেয়ে বেশ বড় লাগছে রেস্টুরেন্ট টাকে । জিভান ধীরে ধীরে স্পেশাল টেবিলে গিয়ে বসলো সাথে রোজাও। কয়েক সেকেন্ড পরপরই ওয়েটার রা বিভিন্ন রকম খাবার নিয়ে হাজির ...

প্রথমেই রোজার  চোখে পড়লো বাফেলো উইংস এর উপর রোজার খুব প্রিয় ডিশ এরপর চোখে পড়লো নিউ–ইয়র্ক স্পেশাল স্টাইল পিৎজা , হট ডগ, চিজকেক , হ্যামবার্গার, বারবিকিউ, মিটলোফ আরো ভিন্ন রকমের মজাদার ডিশ দেখেই রোজার মুখে পানি চলে এলো এইসব রোজার ফেভারিট এর মধ্যে কিন্তু সে তো মেনুই চেক করে নাই আর না কোনো অর্ডার ? তার সন্দেহ হলো  তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছুড়ে মারলো জিভানের দিকে ,জিভান অবাক হয়ে ঢোক গিলে বলে,

- হোয়াট হেপেন্ড ডার্লিং,,এ.. এভাবে তাকিয়ে কেন আছো  ?

- এইসব আগে থেকে প্ল্যান করে রেখেছিলে তাই না ..?
জিভান বোকার মত হাসলো বাচ্চাদের মতো কাচুমাচু করে বলল,

- একচুয়ালি তোমাকে সারপ্রাইজ দিবো ভেবেছিলাম তাই কিছু বলেনি..

রোজা জোরপূর্বক হাসি টেনে ধমক দিয়ে বলল,

-অসভ্য একটা সারাদিন আমায় কাঁদিয়ে এখন সারপ্রাইজ দেওয়া হচ্ছে..?

জিভান ঠোঁট উল্টিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে বলে,

- যদি এত তাড়াতাড়ি সারপ্রাইজ টা দিতাম তাহলে তেমন মজা  আসতো না আর আমাদের তো ঠিক এই সময়  দেখা হয়েছিলো ,তাই না রোজ ...

রোজা মাথা নিচু করে মৃদু হাসলো । এরপর মাথা তুলে এদিক সেদিক তাকিয়ে বলল,
-হুম সেই সময় টা কতই না  সুন্দর ছিলো ,,আজ ও কেমন সেই ফিলিংসটা কাজ করছে ।

বলে জিভানের দিকে তাকালো ,জিভান ও গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রোজার দিকে । দু'জনের চোখে সিনেমার ক্যাসেটের মত আগের স্মৃতিগুলো এক এক করে ভেসে উঠছে ।

৫ বছর আগে ........

সকাল হতেই সূর্যের মৃদু আলো আছড়ে পড়লো রোজার মুখমণ্ডল ঘিরে। টিপটিপ করে চোখ খুলে বড় একটা হামি দিয়ে হাত পা ছাড়ালো । চোখ কচলাতে কচলাতে উঠে বসলো । পাশে থাকা সাইট টেবিলে থেকে চশমা আর সাথে ঘড়ি নিয়ে দেখলো  দশটা বাজতে আর মাত্র কুড়ি মিনিট ধরপড় করে বিছানা ছেড়ে উঠলো ।

রোজা ভার্সিটি যাওয়ার জন্য রেডি  হতে লাগলো । কিছুক্ষণ পর নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে মুচকি হেসে দৌড় দিলো নিচে । রোজা খুব মিষ্টি একটা মেয়ে । তার এই মায়াবি মুখে সবসময় একটা মায়া ভরা,আসি লেগে থাকে । যেমন নাম তেমনি তার স্বভাব । সবার সাথে খুব সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে সে । বাবা মা বন্ধু বান্ধব এক কথায় তার জন্য পাগল ।

ডাইনিং টেবিলে মিসেস ইরা রোজার জন্য ব্রেকফাস্ট তৈরি করছিলো । রোজা হুট করে চেয়ারে বসে পড়ায় কিছুটা চমকে উঠেন তিনি ।

ইরা: আজ এত দেরি কেন হলো ? ...

রোজা : কালকে রাত করে ঘুমিয়ে ছিলাম তাই ..' মুখে পাউরুটি চিবোতে চিবোতে বলতে লাগলো ।

কয়েক সেকেন্ড চিবিয়ে গিলে পানি খেয়ে বলল,
রোজা: ডেড কোথায় মম ...?

ইরা নিজে একটা পাউরুটি নিয়ে তাতে জেলি লাগিয়ে ভাবলেশহীন ভাবে বলতে লাগলো,

ইরা :সে তো নয় টাই চলে গিয়েছে  ...
রোজা খাওয়া বন্ধ করে মায়ের মুখের দিকে তাকায় .. অবাক হয়ে বলে,

রোজা: ডেড আমাকে না নিয়েই চলে গেলো ..?

ইরা: তো কি করবে ..? " তারপর রোজার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে .,
তোর বাবা একটা ইম্পর্ট্যান্ট কেস এর কারণে সকাল সকাল চলে গিয়েছে।

রোজা মুখটা সাথে সাথে  কালো হয়ে গেলো । ভেবেছিলো প্রতিদিনের মতো আজকেও তার বাবা তাকে ভার্সিটি নিয়ে যাবে ,, কিন্তু তা আর হলো কয় ..? বড় একটা শ্বাস ছাড়লো রোজা...

এরপর ধীরে ধীরে খাওয়া শেষ করে ইরাকে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে গেলো ..।

________________________________________________________

—কি হলো রোজ এমন পেচার মতো মুখ অন্ধকার করে রেখেছিস কেন ?

রোজা : মনটা ভালো নেই রে হানি...

হানি :  সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি ....

দু'জনে  ক্যান্টিনে বসে আছে । কিছুক্ষণ আগেই ক্লাস শেষ করে এসেছে। রোজার মনটা আজ বেশ খারাপ তার কারণ তার বাবা-ই । রোজা তার বাবাকে বেশ ভালোবাসে, একটা দিনো বাবাকে ছাড়া দিন চলে না তার । আর আজকে ঘুম থেকে উঠেই বাবাকে দেখেনি সে ,মনটা খারাপ হবে না তো কি এর উপর কলটাও ধরছেন না লুসিয়ান ।

রোজার মুডটা ঠিক করার জন্য হানি  উচ্ছাস নিয়ে বলে ,
হানি : রোজা চল কোথাও ঘুরতে যায় এতে তোর মুডটাও ভালো হয়ে যাবে ।

কিন্তু রোজা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নম্র কন্ঠে বলল,

রোজা : না রে আজ গোটা বিশ্ব ঘুরলেও মনটা ভালো হবে না আমার ..

হানি তার কথা শুনলো না রোজার হাত ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে তাকে রাজি করাতে লাগলো । কিন্তু রোজা কোনো মতেই রাজি হচ্ছিলো না ,,,

শেষমেশ কোনো ভাবে ইনিয়ে বিনিয়ে রাজি করা হলো রোজাকে। তারা সর্বমোট পাঁচ জন ঘুরতে যাবে  হানি, রোজা, রকি ,মিহা আর ফাইজ।

সবাই রেডি তারা যাবে এক রেস্টুরেন্টে যেখানে তারা আগে কখনো যায়নি । তবে প্রবলেম হচ্ছে তাদের ভার্সিটি থেকে এটা অনেকটা দূরে বলতে গেলে প্রায়  চার পাঁচ ঘণ্টা লাগবে । তাই তারা নিজস্ব বাবা মায়ের অনুমতি নিয়েই বের হলো ।  ..

মিহা: উপ আমার বেশি এক্সাইটেড লাগছে আমরা নবুতে যাবো ...

ফাইজ: ইয়েস ইয়ার সে কখন গিয়েছিলাম মনে নেই । আজ যাবো তাও আবার তোদের সাথে ..

রকি: বাট রোজা আর হানি কোথায় ....?

মিহা : আই ডোন্ট নো ..

হানি  : এইতো চলে এসেছি ..

হানি তার পোষা কুকুর কে কোলে করে নিয়ে এগিয়ে আসছে। রোজার কলেও একটা কুকুর ছানা । দুটোই হানির তবে রোজার খুব ভালো লাগে পোষা প্রাণীদের  ।

গাড়ির সামনে এসে দুজনে একসাথে বলল,

~~আমরা এসে গেছি ....

ফাইজ কানের হেট ফোন সরিয়ে বলে ,
সেটাই তো দেখছি ম্যাডাম..এবার আমাদের উপর দয়া করে উঠুন,,, দেরি হয়ে যাচ্ছে  ।

হানি বিরক্ত হয়ে গাড়িতে বসতে বসতে বলে ,

হে হে উঠছি বাবা..

মিহা ......রোজা আর হানির কোলে কুকুর ছানা দেখে ভয়ে লাফিয়ে উঠে  ...

~~এ্যা এ্যা কুকুরের বাচ্চাকে কেন এনেছিস ভাই ?? আমার ভয় করছে ..আহহহ রকি আমাকে বাঁচাও বেবি.........

চলবে....

বাকি পর্বগুলা এই ওয়েবসাইটেই পাবেন।অপেক্ষা করুন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url