প্রহসনের_অভিনয় ..
পর্ব_৫+৬+৭
আফরিন_সুলতানা_আজু

এ'ভাবে কেটে যায় কয়ে'কদিন......

কোথায় যাচ্ছো?
রোজার হালকা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

জিভান পিছন ফিরে তাকাল। শার্টের বোতাম একে একে লাগাতে লাগাতে শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিল,
অফিসে... স্যারের সাথে কথা হয়েছে। উনিও খুশি হয়েছেন এতে । বলেছেন, পারলে ফরান চলে আসতে।

রোজা মৃদু হেসে বলল,
ভালোই তো...

জিভান ভ্রু কুঁচকে রোজার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
তুমি খুশি?

রোজা মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। কিছুক্ষণ নীরব থেকে হালকা হাসল, তারপর একেবারে জিভানের গলা জড়িয়ে ধরল শক্ত করে। তার কণ্ঠ কেঁপে উঠল অনুভূতির ভারে,
তোমার খুশিতেই আমার খুশি, জিভান। আমি শুধু এটুকুই চাই, তুমি আর যেন কখনো হারিয়ে না যাও...

জিভানের হৃদয় কেঁপে উঠল। সে আলতো করে রোজার পিঠে হাত রাখল, তারপর তার কপালে এক উষ্ণ চুমু এঁকে দিয়ে বলল,
প্রমিস করেছিলাম তো, আর ভয় কিসের? সবাই দেখছি আমাকে হারাতেই চায় না... এত ভালোবাসো কেন তোমরা?

রোজা চোখে জল নিয়ে মৃদু হেসে ফিসফিস করে বলল,
অন্যদের কথা জানি না, তবে আমি ভালোবাসি তোমাকে, জিভান। আই লাভ ইউ... আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি তোমাকে।

জিভানের ঠোঁটে এক মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল। সে রোজাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, যেন তাকে পৃথিবীর সব কষ্ট থেকে আড়াল করে রাখতে চায়।
আই লাভ ইউ টু, মাই হার্ট...

রোজা চোখ বন্ধ করে জিভানের বুকে মাথা রেখে তার হৃদয়ের গভীর প্রতিধ্বনি শুনতে লাগল ....একটি প্রতিশ্রুতির, একটি অটুট ভালোবাসার প্রতিধ্বনি।

রোজা জিভানের বুক থেকে মাথা তুলে তার চোখে চোখ রেখে মৃদু স্বরে বলল,
আমাকে নিয়ে যাবে?

জিভান ভ্রু কুঁচকে কৌতূহল ভরে জিজ্ঞেস করল,
অফিসে?

রোজা হালকা অস্বস্তি নিয়ে এদিক-সেদিক তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল,
না... অন্য একটা জায়গায়। শুধু পৌঁছে দেবে।

জিভান রোজার কাঁধে হাত রেখে মৃদু হেসে বলল,
কোথায়?

রোজা হালকা রহস্যময় হাসি দিয়ে উত্তর দিল,
গেলেই দেখতে পাবে। জায়গাটা তোমার খুব পরিচিত।

জিভান কয়েক সেকেন্ড ভেবে নিয়ে মাথা নাড়ল,
ঠিক আছে। তুমি রেডি হয়ে নাও, আমি নিচে অপেক্ষা করছি।

রোজা মিষ্টি হেসে সায় দেয়। জিভান রেডি হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর রোজাও তৈরি হয়ে নেয়।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রোজা একবার নিজেকে দেখে নীল । ঠোঁটের কোণে হালকা এক গোপন হাসি ফুটে উঠে।

হ্যান্ডব্যাগটি হাতে তুলে নিয়ে গভীর শ্বাস ফেলল সে, তারপর ধীরে ধীরে রুম থেকে বেরিয়ে গেল, যেখানে জিভান নিচে তার অপেক্ষায়।



।রোজা ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে। তার   নিচে দাঁড়িয়ে থাকা জিভান  সিঁড়ির কাছে হেলান দিয়ে ফোন স্ক্রল করছিল। হঠাৎ কারোর হাটার শব্দ কানে আসতেই মাথা তুলে তাকাল সে ।

মুহূর্তেই সে থমকে গেল।

প্রায় পাঁচ বছর পর সে রোজাকে এমন এক লুকে দেখছে ।তার পরনে ছিল ব্ল্যাক সিল্ক শর্ট ড্রেস, যা নিখুঁতভাবে তার গড়নকে ফুটিয়ে তুলছে। কোমরের কাছে হালকা সিলভার ডিজাইন ড্রেসটিকে আরও আকর্ষণ করছে । তার উপর  ব্ল্যাক লং কোট, যা হাঁটুর নিচ পর্যন্ত নেমে এসেছে। কোটের কলারে হালকা ফার, যা তাকে আরও এলিগ্যান্ট দেখাচ্ছিল।
পায়ে  ব্ল্যাক অ্যান্ড রেড স্টিলেটো হাই হিল।  চুল খোলা, হালকা ওয়েভি করে সাজানো। চোখে স্মোকি মেকআপ, ঠোঁটে ডিপ রেড লিপস্টিক ,,,সব মিলিয়ে তার লুক ছিল গর্জিয়াস এবং একই সাথে রহস্যময়।

রোজাকে এভাবে দেখে জিভানের মনে হলো সময় যেন পাঁচ বছর পিছিয়ে গেছে।
তার হৃদয় দ্রুত স্পন্দিত হতে লাগল, বুকের ভেতর এক অদ্ভুত শূন্যতা ভরিয়ে দিলো পুরনো স্মৃতির ঢেউ।

জিভান ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এল। চোখে এক গভীর আবেগ আর কণ্ঠে কাঁপুনি নিয়ে বলল,
রোজা... তোমাকে এই লুকে দেখে আমার পাঁচ বছর আগের কথা মনে পড়ে গেলো।যেদিন তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম, ঠিক এমনভাবেই আমার হৃদয় থমকে গিয়েছিলো।

রোজা মৃদু হাসল, ঠোঁটের কোণে রহস্যময় দুষ্টুমি খেলে গেলো।
পাঁচ বছর... অনেক বড় সময়, জিভান। কিন্তু দেখো, কিছু জিনিস কখনো বদলায় না।"

জিভানের চোখে এক ঝলক উজ্জ্বলতা ফুটে উঠল।
সে আলতো করে রোজার হাত ধরল, গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

হ্যাঁ, যেমন তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা। তুমি যতই বদলে যাও না কেন, আমি প্রতিবারই আবার নতুন করে তোমার প্রেমে পড়ি আর ভবিষ্যতেও পড়বো ।।

রোজা হালকা লজ্জা পেলো পরক্ষনেই তার ভাবভঙ্গি পাল্টে গেল । সে জিভানের হাতটা আস্তে ছাড়িয়ে নিয়ে কোটের কলার ঠিক করে বলল,
চলো, সময় নষ্ট করো না। আমাকে আমার গন্তব্যে পৌঁছে দাও।

জিভান কৌতূহলী গলায় জিজ্ঞেস করল,
কিন্তু তুমি এখনো বললে না কোথায় যাবে ?

বললাম তো গেলেই দেখতে পাবে । নাও লেটস গো ...

এই বলে সে জিভানের আগে আগে হাঁটতে লাগলো । জিভান ও দেরি না করে তার পিছন পিছন হাঁটতে লাগে।

...

গাড়ি ধীরে ধীরে শহরের ব্যস্ত রাস্তা ছেড়ে এক শান্ত এলাকায় প্রবেশ করল। চারপাশে উঁচু উঁচু গাছ, বাতাসে হালকা শীতলতা। দূরে হালকা কুয়াশার আস্তরণ যেন পুরো জায়গাটাকে রহস্যময় করে তুলেছে।

হঠাৎ রোজা বলল,
স্টপ! এখানেই থামাও।

জিভান গাড়ি থামাল এবং ভ্রু কুঁচকে চারপাশে তাকাল। চারদিকে ঘন অন্ধকার, শুধু রাস্তার একপাশে পুরনো ধাঁচের একটি বিল্ডিং।

  বিল্ডিংটা বেশ বড়, তবে চারপাশে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। সাইনবোর্ডে বড় বড় অক্ষরে লেখা ,,
"Detective M.R Luchian blackwood Investigation Office"

জিভান অবাক হয়ে সাইনবোর্ডের দিকে তাকাল।
রোজা... এটা তো তোমার ডেড এর অফিস!

রোজা ধীরে মাথা নাড়ল, তার চোখে হালকা জল চিকচিক করল।
হ্যাঁ, জিভান। এটা আমার ডেড এর অফিস। ডেড মারা যাওয়ার পর এটা প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল । দু বছর বন্ধ থাকার পর আমি নিজ হাতে এটাকে খুলেছি । আর এখন  তিন বছর ধরে আমি ডেড এর এই জায়গায় নিজের যোগ্যতা নিয়ে কাজ করছি ।

জিভান কিছুটা অবাক চোখে রোজার দিকে তাকিয়ে বলল,
এর মানে... তিন বছর ধরে তুমি এখানে কাজ করছো?

রোজা ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটিয়ে মাথা নাড়ল,
হুম...

জিভান ভ্রু কুঁচকে হালকা রাগ মেশানো কণ্ঠে বলল,
মানে আমার ওয়াইফ এখন তার হাসবেন্ডের মতোই একজন ডিটেকটিভ অফিসার...!

কথাটা বলেই সে গভীর দৃষ্টিতে রোজার দিকে তাকাল।

রোজা মুচকি হেসে ধীরে ধীরে সিটবেল্ট খুলে গাড়ি থেকে নামল। গাড়ির দরজার পাশে দাঁড়িয়ে খেলার ছলে কপাল কুঁচকে বলল,
ইয়েস, মাই ডিটেকটিভ হাসবেন্ড!

জিভান ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে গম্ভীর অথচ মিষ্টি ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল,
আমি কি তোমার সাথে অফিসে যেতে পারি, ডিটেকটিভ ওয়াইফি?

রোজা গাড়ির দিকে হেলে এসে তার চোখের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,
আপাতত তুমি তোমার অফিসে যাও। সবাই হয়তো তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। অন্য একদিন এসো এখানে... ডিটেকটিভ হাবি।

তার কথায় জিভানের ঠোঁটে তৃপ্তির হাসি ফুটল। রোজা হাসিমুখে পেছনে সরে গাড়ি থেকে বিদায় নিল ।
কিন্তু রোজা সরে যেতেই জিভানের মুখের ভাব বদলে গেল। এক মুহূর্তেই তার হাসি মিলিয়ে গেল, মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে উঠল। বুকের ভেতর হঠাৎ কেমন অস্বস্তি আর ভারি শীতলতা জমতে শুরু করছে।

ভাবনা আর অস্বস্তি নিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো সে ।

অন্যদিকে জিভান চলে যেতেই রোজার ঠোঁটের মিষ্টি হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। চোখের কোমলতা হারিয়ে গিয়ে সেখানে ফুটে উঠল কঠোরতায়। তার মুখের প্রতিটি রেখা কেমন কঠিন হয়ে গেল , যেন এক অন্য রূপ ফুটে উঠল তার ভেতর থেকে।

সে ধীরে ধীরে কাঁধ সোজা করল এবং চোয়াল শক্ত করে ফেলল, যেন নিজের ভেতরের সব নরম অনুভূতিগুলো গিলে ফেলল এক মুহূর্তে।  কয়েক মুহূর্ত আগেও সে ছিল ভালোবাসায় ভরা একজন স্ত্রী, কিন্তু এখন যেন ভিন্ন এক রহস্যময় ব্যক্তি।
কোনো দ্বিধা ছাড়াই গম্ভীর মুখে অফিসের ভেতরে পা বাড়াল রোজা, ,

নিজের কেবিনের দিকে এগোতে গিয়ে রোজার সামনে হঠাৎ তার অ্যাসিস্ট্যান্ট এসে দাঁড়াল।

ম্যাম, আপনার সাথে কেউ দেখা করতে এসেছে…!

রোজা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
কে?

আই ডোন্ট নো, ম্যাম…! অ্যাসিস্ট্যান্ট কিছুটা দ্বিধার সঙ্গে বলল, তবে তিনি বললেন, আপনি তাকে নাকি খুব ভালো করেই চিনেন।

কোথায় সে ..?

আপনার কেবিনেই আছে ম্যাম...

রোজা এক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করে ভাবল, তারপর ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল,
ঠিক আছে। তুমি যাও। কালকের কেসের সব ফাইল রেডি করে রেখো।

মেয়েটি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। তারপর চুপচাপ রোজার পাশ দিয়ে সরে দাঁড়াল।

রোজা কেবিনের দরজা ধীরে ধীরে খুলতেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির উপর চোখ পড়লো । সঙ্গে সঙ্গে তার ঠোঁটের কোণে হাঁসি ফুটে উঠলো ।

রোজা ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে ব্যাগটা পাশে রেখে ছেলেটাকে পিছন থেকে আলতো করে জড়িয়ে ধরল। এরপর নেশালো কন্ঠে বলল,

ওহহ…“ এরিশ…”

  সবুজ সবুজ গাছের পাতা হালকা বাতাসে দুল'ছিলো । তাদের সাথে তাল মিলিয়ে ছোট ছোট পাখি গুলোও কিচিরমিচির করে গান গাইছে । মুগ্ধ নয়নে সেই  প্রাকৃতিক দৃশ্য   দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জানালার ফাঁকে  উপভোগ করছিলো এরিশ ।  হঠাৎ কেউ জড়িয়ে ধরাই একটুও অবাক হয়নি সে । সে জানে এটা আর কেউ নয় তার রোজ ।  ধীরে ধীরে পিছন ঘুরে তার হাত রোজার কোমরের চারপাশে ছড়িয়ে দিলো ।

রোজা মাথা ঘুরিয়ে তার কানের কাছে নরম কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
আই মিস উই সো মাচ এরিশ ।

এরিশের চোখে এক অদ্ভুত আলো ফুটল। সে হালকা হেসে বলল,
মি টু সুইটহার্ট.. আমিও তোমাকে অনেক মিস করেছি । খুব মিস করেছি।

রোজা তার ঠোঁটের কোণে আরও গভীর হাসি নিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো এরিশ কে । এরিশ ও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তার রোজকে ।

কিছু সময় পর এরিশ রোজার পিঠে হাত বুলিয়ে মজার ছলে বলল,

শুনলাম তোমার হাসবেন্ড নাকি কোমা থেকে ফিরে এসেছে .....

চলবে ...#প্রহসনের_অভিনয়
#পর্ব_৬
#আফরিন_সুলতানা_আজু

শুনলাম, তোমার হাসবেন্ড নাকি কোমা থেকে ফিরে এসেছে।
এরিশের কথায় রোজা অল্প হেসে মুখ তুলে নিল, কণ্ঠে যেন হালকা সুর,
হুম…

এরিশ ধীরে ধীরে রোজার ঠোঁটের কাছে হাত বেয়ে নিয়ে বলল,

তাহলে নিশ্চয়ই, এই ঠোঁটকে সে  স্পর্শ করেছে।

রোজা চুপচাপ রইল। এরিশের দিকে এমন ভাবে চেয়ে আছে যেন চোখের কোণে  লুকিয়ে রাখা আবেগ।
এরিশও কিছুক্ষণ চোখে চোখ রেখে তাকাল। তার অন্তরে আগুন জ্বলে উঠলো জিভান যে রোজার ঠোঁটের উপর অধিকার খাটিয়েছে,সে বেশ ভালো করেই উপলব্ধি করতে পারলো । কিন্তু তাতে তার কোনো হানিকর প্রভাব নেই।হাসবেন্ড হিসেবে তার অধিকার আছে ।

এরিশের চোখে নেশার আলো ফুটে উঠল। ইচ্ছে হচ্ছিল, এক মুহূর্তের জন্যই হলেও রোজার ঠোঁটের কাছে তার ঠোঁট ছুঁয়ে দিতে।
হঠাৎ, অবচেতনভাবে রোজার থুতনি উঁচু করে তুলল সে , আর ধীরে ধীরে খুব কাছে এগোলো।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে, রোজা  নিজের শক্তি জোগাড় করে হাত দিয়ে এরিশকে হালকা ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিল।

এরিশ সামান্য চমকে গেল, কিন্তু অবাক হলো না । সে জানে, এটাই হবে।
রোজার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সে কখনো কিছু করতে পারবে না।
চার বছর ধরে চলা তাদের সম্পর্ক এক রাতও তারা একসাথে কাটায়নি, কারণ রোজা তা কখনো অনুমতি দেয়নি।

তবুও, এরিশের ভালোবাসা অপরিসীম। এই যুগে সাধারণত বয়'ফ্রে'ন্ডরা অসংখ্য কিস দিয়ে তাদের গার্লফ্রেন্ডকে ভো'গ করতে চায়,
কিন্তু এরিশ ভিন্ন।
চার বছরে হয়তো চারবার ও কিস হয়েছে কিনা সন্দেহ  ।

এরিশ তার দৃষ্টি সরিয়ে রাখলো না, রোজার দিকে অবিরাম তাকিয়ে রইল।
রোজার চেহারা কঠোর হয়ে উঠলো। চোখে তীক্ষ্ণ আলো জ্বলে উঠল, স্বরে কড়া আওয়াজ,

নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারো না তোমাকে তো নিষেধ করেছিলাম। এমনটা না করতে? ভুলে গিয়েছো?

এরিশ গা ছাড়ানো হাসি দিল। ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে রোজার হাত ধরে টেনে আনলো নিজের দিকে।
অসহায় চোখে, নরম কণ্ঠে বলল,
কেন নিষেধ করো, রোজ? আমার কি এইটুকু অধিকার নেই, তোমাকে স্পর্শ করার?
রোজা নিজেকে ছাড়িয়ে বলল ,
না নেয় যখন অধিকার হবে তখন যা ইচ্ছা করো তবে এখন নয় ।

এরিশ রাগে পাশে থাকা টেবিল থাপড়ে চেঁচিয়ে বললো,

এই একটাই কথা চার বছর ধরে শুনছি । ওকে মেরে কেন ফেলেছো না ,,এতদিন কোমায় ছিলো বলে কিছুই করলে না আর এখন তো ফিরেও এসেছে । নিজের অধিকার ও খাটাচ্ছে । আর আমি ,,আমি হাতে চুরি দিয়ে বসে আছি । না পারছি ওকে মারতে  আর না পারছি তোমাকে নিজের করতে । অন্তত একটার অনুমতি দাও ..!

এরিশ এর পুরো শরীর প্রচন্ড রাগে কাঁপছে। কপালের রগ গুলো ভেসে উঠছে ।

এরিশ এর এহেন অবস্থা দেখে রোজা গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো । ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে তার হাতের স্পর্শ দিয়ে এরিশের গাল ছুঁয়ে দিল।মুহূর্তের মধ্যেই এরিশ চোখ বন্ধ করে রোজার স্পর্শ অনুভব করতে লাগলো ।শুধু এই একটাই স্পর্শ এরিশের মতো একজন সাইকো মাফিয়াকে হ্যান্ডেল করতে পারে ।

কোমল কন্ঠে এরিশ কে নিজের দিকে ফিরিয়ে বলল,

ক্যাম ডাউন এরিশ ..ডোন্ট বি অ্যাংরি লাইক দিস… ইউ ওনলি লাভ মি, রাইট? ক্যান্ট ইউ ইভেন হ্যাভ এ লিটল পেশিয়েন্স ফর মি?

এরিশ প্রথমে কিছু সময় চুপ থেকে রোজার দিকে তাকিয়ে থাকে । মাথা নেড়ে রোজার হাত শক্ত করে ধরে । তারপর কাঁপা ঠোঁটে সেই হাতে কিস করে । রোজা কিছু বলল না । স্বাভাবিক থাকলো । এরিশ কে সাবধানে সোফায় নিয়ে গিয়ে বসালো । তারপর পানি খা'ওয়া'লো  এরিশকে ।

মৃদু স্বরে বলল,
নাও লুকিং লাইক এ গুড বয় । একটু থেমে আবার একি স্বরে বলল," তুমি জিভানকে নিয়ে চিন্তা করো না এরিশ ‌ । ওকে তো আমিই নিজ হাতে শাস্তি দিবো .. আমার মম ডেড কে খুন করার শাস্তি। ওর জন্যই আমি আমার বাবা মাকে হারিয়েছি। আমার সব সুখ কে হারিয়েছি শুধু ওর জন্যই। তুমিও তো হারিয়েছো নিজের বাবাকে তাই না ! ,,আমি বুঝতে পারছি তোমার কষ্টটা এরিশ...

তাহলে কেন শেষ করে দিচ্ছো না..? ' সরাসরি রোজার চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করলো এরিশ..

রোজা পাশে হেলান দিয়ে এরিশের কাঁধে হাত রেখে বলে ,,
কারণ ওকে আমি তিলে তিলে শেষ করতে চাই । যেভাবে সে গত পাঁচ টা বছর আমাকে কষ্ট দিয়েছে ঠিক সেভাবেই। আমার প্রতিটা অশ্রু,প্রতিটা আর্তনাদ প্রতিটা আঘাতের কষ্টের হিসাব দিতে হবে জিভান এ্যাশবার্নকে ।

সে শুধু মরবে না ,, প্রতিটি মূহুর্তে মরতে শিখবে....

এরিশের চোখে পাগলামী আর অদ্ভুত উন্মাদনা স্পষ্ট হয়ে উঠলো। তার ঠোঁটের কোণে শয়তানি হাসি ফুটে উঠলো। ধীরে ধীরে রোজার চিবুকে আঙুল ছুঁয়ে বলল,
হুম… এটাই তো আমার রোজা। এটাই সেই রোজা, যার প্রতিশোধের আগুনে আমি নিজের জীবন পুড়িয়ে ফেলতেও রাজি।

রোজার ঠোঁটের কোণে হালকা বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। তার চোখে একরাশ অন্ধকার নেমে এলো, যেখানে ভালোবাসা আর ঘৃণা একসাথে জ্বলে উঠছে।
সে এরিশের দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল,
এই আগুনে তো একজনের জীবনই পুড়বে ।

এরপর মনে মনে আওড়ালো " সেটা জিভানই হোক বা অন্য কেউ " এই বলে আড় চোখে তাকালো এরিশ এর দিকে এরিশ তৃপ্তির হাসি হেসে গ্লাসে পানি ঢেলে খেতে লাগলো । এর বদলে ওয়াইন

_______রাত ৮ টা ৪০ মিনিট ..

বেলকনির রেলিং ধরে আকাশের চাঁদ দেখছে লারা ।  শরীরের অসুস্থতার জন্য একটুও বের হতে হতে পারে না সে । আগে কত ঘুরাঘুরি করতো কত লাফালাফি করতো । আর এখন টু শব্দ করলেই দোষ । এই ভেবে উঁচু হয়ে থাকা পেটে হালকা চাপড় মারলো সে ।
নালিশ এর মতো আঙ্গুল তুলে বলতে লাগলো ,
সব তোর দোষ ,,তোর জন্য তোর পাপ্পা আমাকে বকা দেয় । তোর জন্য একটুও এদিক সেদিক করতে পারি না । করলেই দোষ । তারপর এক গাদা বকাঝকা।

— কাকে বকছেন বাটারফ্লাই?? হুমম...

পরিচিত পুরুষালী কন্ঠ স্বর ভেসে আসতেই চমকে উঠে লারা । পিছন তাকাতেই দেখতে পাই রিদান সুট বুট  পড়ে দাঁড়িয়ে আছে । অফিস থেকে মাত্র ফিরেছে ।  লারা জিহ্বা কামড়ালো । এই রে সব শুনে ফেলেনি তো !!

-আরে না আমি আবার কেমনে শুনবো ?

লারা অবাক হয়ে রিদানের দিকে তাকালো । রিদান হোহো করে হেসে উঠলো।

রিদান তার দিকে এগিয়ে এসে নেশালো কন্ঠে বলল,

হাসবেন্ড আমি তোমার .. শুধু মনের কথায় নয় তোমার মস্তিষ্কে চলতে থাকা প্রতিটি চিন্তা ভাবনা আমি জানি ,,,

লারা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে নিলো । বেশ লাজুক সে অল্প কথাতেই গলে যায় ।

রিদান ধীরে ধীরে লারার সামনে এসে থামলো। এক হাতে তার কোমর জড়িয়ে নিলো আরেক হাতে লারার চিবুক আলতো করে তুলে ধরলো। লারার শ্বাস যেন কেঁপে উঠলো। তার চোখে চোখ রেখে গভীর কণ্ঠে বলল,

বাটারফ্লাই... তুমি কি আমাকে বলবে না আজ সারা দিন কী করেছো?

লারা ভ্রু কুঁচকে মৃদু অভিমানে বললো,
কি আর করবো... এই চার দেয়ালের ভেতরে হাঁটাহাঁটি, খাওয়া-দাওয়া আর তোমার জন্য অপেক্ষা... তুমি আসলে কথা বলবো ভেবে।

রিদানের ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটলো। সে নিচু হয়ে লারার কপালে একটা কোমল চুমু দিলো।
আমি না থাকলেও আমার ছোট্ট রানীকে একা রাখার কথা ভাবতে পারি না। কিন্তু কাজের কারণে তো যেতেই হয়।

লারা ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,
হুমম, তুমি শুধু কাজ আর কাজ বোঝো... আমাকে তো  বোঝোই না।

রিদান হেসে তার গাল দুটো আলতো করে চেপে ধরলো।
আমি তোমাকে না বুঝলে কাকে বুঝবো, হ্যাঁ? তুমি আমার জীবনে  অংশ আমার সব ।

তারপর হঠাৎ করেই সে লারাকে কোলে তুলে নিলো।
লারা চমকে উঠলো,
আআরে! রিদান! নামাও আমাকে, আমি তো আর আগের মতো হালকা নেই...!

রিদান তার চোখে চোখ রেখে গভীর কণ্ঠে বলল,
তুমি যতই ভারি হও না কেন, তুমি আমার কাছে সবসময় সেই প্রথম দিনের মতো হালকা... আর দামি।

লারার গাল লাল হয়ে উঠলো। সে লাজুক স্বরে ফিসফিস করে বললো,
তুমি না... একদমই ভালো না।

রিদান হালকা হাসি দিয়ে তাকে বিছানায় শুইয়ে দিলো। তারপর তার উঁচু হয়ে থাকা পেটের দিকে তাকিয়ে কোমলভাবে হাত রাখলো।
আমার ছোট্ট বাটারফ্লাই আর আমার ছোট্ট সোনা... দুজনেই আমার হৃদয়ের রাজ্য দখল করে নিয়েছো।

লারা কেঁপে উঠে চোখ বন্ধ করলো। তার চোখের কোণে জমে থাকা পানির ফোঁটা গড়িয়ে পড়তেই রিদান আলতো করে মুছে দিলো।
কাঁদছো কেন?

তোমার কথা শুনলেই মন কেমন করে... মনে হয়, আমি আর তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না।

রিদান গভীর ভালোবাসায় তার দিকে তাকালো,
তোমাকে ছাড়া আমিও পারবো না, বাটারফ্লাই।
তারপর ধীরে ধীরে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলো।

#পর্ব_৭ এর প্রথম অংশ 

হঠাৎ রেডি হওয়ার কারণ জানতে পারি কি বস..?

দ্বিধা নিয়ে বলল স্যাম, তার সামনের ব্যাক্তিটি হালকা হাসলো । পাশ থেকে ব্ল্যাক কোট টা নিয়ে গায়ে জড়ালো। পিছন ফিরে মিররের সামনে দাঁড়াতেই নিজের প্রতিচ্ছবি এর দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিল । গায়ে সদ্য পরা ব্ল্যাক কোট কাঁধে নিখুঁতভাবে বসানো। ভেতরে হোয়াইট শার্ট, যার কলার হালকা খোলা, আর গলায় ঝুলছে পাতলা সিলভার চেইন। গাঢ় ব্ল্যাক প্যান্ট এর সাথে চকচকে পলিশড শুজ, যা মৃদু লাইটে ঝলমল করছে।

চুলগুলো একটু মেসি হলেও অদ্ভুতভাবে সাজানো, যেন কেরলেস কিন্তু একদম ক্ল্যাসি। হাতের আঙুলে থাকা সিলভার রিং মিররের লাইটে ঝিকমিক করতেই, ঠোঁটের কোণে একপাশে কুটিল স্মাইল ফুটে উঠলো। তার চোখের শার্প গেজ যেন নিজেকেই নিঃশব্দে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে ।

স্যাম এর চোখে কৌতুহল ভরে উঠলো। সে নিজের ভিতর সাহস জুগিয়ে আবার জিজ্ঞেস করল ,

এত সুন্দর করে রেডি হয়ে কোথায় যাচ্ছেন বস ! কোনো ক্লায়েন্ট এর সাথে দেখা করতে ?

নো , লিডার এর সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। সরাসরি স্যাম এর দিকে তাকিয়ে বলল সে ।  লিডার শব্দটা শুনতেই স্যাম এর বুকটা ধক করে উঠলো। চোখ বড় বড় করে লোকটির উদ্যেশ্যে আমতা আমতা বলল,

ল...লিডার?  আ..আপনি লিডারের সাথে দেখা করতে যাবেন বস ? আপনার ধারণা আছে ? যদি তিনি আপনার কোনো ক্ষতি করেন তো ?
উনি ঠিকই ফিরে এসেছে । কিন্তু আপনি ওনার সাথে যা যা করেছেন তা তিনি ভুলেননি বস ..!

আহ শাট আপ স্টুপিড ...!

স্যাম কে থামিয়ে দিয়ে আড় চোখে তাকালো সে । আত্মবিশ্বাস নিয়ে গম্ভীর হয়ে বলে ," আম মাফিয়া কেভিন" আর কেভিন শেষ করা ওতটাও সহজ নয় ? সে যেই মাফিয়া লিডারি কেউ হোক না কেন ..।

স্যাম চুপ রইল । কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। বসকে সাবধান করা মানেই , কুকুর কে বলা একি ।

এরপর কেভিন স্যামকে ক্রস করে রুম থেকে বেরিয়ে গেল । পিছন পিছন স্যাম ও বেরোলো।

__________________

গাড়ি থামলো এক বিশাল বাড়ির সামনে।  ভিতরে কেভিন বসে আছে গাড়ির দরজা খোলার অপেক্ষায় । কয়েক মিনিট পার হয়ে গেল বাট কেউ গাড়ি খুললো না । বাধ্য হয়ে নিজ থেকে গাড়ি থেকে নামলো কেভিন ।

চারদিকে তাকিয়ে দেখলো কালো সুট পড়া বিশালদেহী বডিগার্ড। মাফিয়া লিডারের এগুলো । তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে লাথি মারলো নিজের গাড়িতে ।
নিউ ইয়র্কের সবাই তাকে সম্মান করলেও  মাফিয়া লিডারের লোক এই জন্মে থাকে করবে না । দীর্ঘ শ্বাস ফেলে পা বাড়ালো । বাড়ির ভিতর আটকালো না কেউ। কোনো দিক না তাকিয়ে সোজা উপর তোলায় চলে গেল ।  ওপরের তলায় পৌঁছে সে একটি বিশাল দরজা দেখতে পেলো তার সামনে দু'টো বডিগার্ড বন্দুক নিয়ে দাড়িয়ে।  কোনো দ্বিধা ছাড়ায় এগোলো।
গলা পরিষ্কার করে ঠান্ডা স্বরে বলল,

"আমি লিডারের সাথে দেখা করতে এসেছি ...

তার বলতে দেরি হলো সঙ্গে সঙ্গে বিশাল দরজা টা খুলে গেল । কেভিন একটু চমকে অবাক হয় । তারপর মুখে ডেভিল স্মাইল নিয়ে প্রবেশ করে ।

উঁকি ঝুঁকি দিয়ে চারদিক পর্যবেক্ষন করছে । আগের মতই আছে সব । কালো আর সাদা রং মিলে পুরো রুম । ঠিক ডান সাইডে বিশাল রাজকীয় বেড। তার পাশে সাজানো সোফা । আর বিভিন্ন আধুনিকের ছোঁয়া।

কেভিন অত সব না দেখে একজন কে খুঁজতে লাগলো । লিডার কে । কিন্তু লিডার কোথায় । পুরো রুমের কোণাকুণি দেখলো না নেই লিডার।

"এই মাদা*রবো*র্ড গেলো কয় ..!?"।..বিরবির করে বলতেই পাশ থেকে ভেসে আসলো " কাকে খোঁজা হচ্ছ বা*স্টা'র্ড কেভিন !!"

কেভিন সঙ্গে সঙ্গে পিছন ফিরে তাকালো ।  দরজায় হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে  সে ,মাফিয়া লিডার

"লিডার ...!!

-ইয়েস মাই বয় ?..

লিডার ধীরে ধীরে এক পা দু পা করে এগোলো । শান্ত গলায় হেসে বলল,
"কি ব্যাপার কেভিন আমার সাথে দেখা করতে এলে যে ...?

কেভিন একটু হেসে মাথা নাড়িয়ে বলল,
"যখন জানতে পারলাম আপনি  ফিরে এসেছেন তখন আপনাকে দেখার খুব ইচ্ছে ছিল । তাই তর সইতে না পেরে চলে আসলাম ।

লিডার ভ্রু কুঁচকে বলল,
আমাকে দেখতে চলে এলে বাহ এত দরদ আমার উপর ..! আগে জানতাম না  ! কোত্থেকে উতরে পড়লো এত দরদ..?

কেভিন আরেকটু এগিয়ে সামনাসামনি দাঁড়িয়ে বলল ,
দরদ  কার কখন কোথা থেকে উতরে পড়ে সেটা জানি না লিডার সাহেব। কিন্তু আমি হান্ড্রেড পার্সেন্ট শিওয় হয়ে বলতে পারবো আমার এই দরদ ডাইরেক্ট হার্ট থেকে উতরে পড়ছে ।

বলে ৩২ পাটি দাঁত বের করে হাসলো । তবে লিডার হাসলো না । ভাবলেশহীন হয়ে প্রশ্ন ছুড়ে মারলো ..

"কেন এসেছো এখানে ?

কেভিনের মুখটা পেঁচার মতো হয়ে গেলো । মুখ গোমড়া করে ইনিয়ে বিনিয়ে বলল,

তেমন কিছু না,,এত বছর পর কোমা থেকে বেরিয়ে আসলেন তাই একটু দেখতে এলাম । এর বেশি কিছু না ...লিডার জিভান।

জিভান এ্যাশবার্ন-ই হলো মাফিয়া লিডার । গত ১০ বছর মাফিয়া লিডার হয়ে  আন্ডারওয়ার্ল্ডে শাসন চালাচ্ছে সে । মাঝ পথে ৫ বছর কেটে যাওয়ায়,তার লোকে রা তার হয়ে পুরো মাফিয়া ওয়ার্ল্ডকে সামলিয়েছে ।

জিভান ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো,

কারণ ছাড়া কেভিন তুমি এক পাও বাড়াও না ? নিশ্চয় এখানে কোনো কারণ ছাড়া আসো নি ..?

কেভিন এবার সিরিয়াস হয়ে হেসে বলল,
ঠিক বলেছেন। কারণ ছাড়া আমি এক পা ও এগোই না ....

একটু থেমে.."শুনলাম আপনার ওয়াইফ ও নাকি একজন ডিটেকটিভ অফিসার! যদি আপনার ফাদার ইন লো এর মতো সেও যদি আপনার পর্দা ফাঁস করতে   চাই তো !!

চলবে....#প্রহসনের_অভিনয় ..
#আফরিন_সুলতানা_আজু
#পর্ব_৭ এর দ্বিতীয় অংশ।

শুনলাম... আপনার ওয়াইফও নাকি একজন ডিটেকটিভ অফিসার।
কেভিনের কণ্ঠে কৌতুক মিশ্রিত হালকা ব্যঙ্গ। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি খেলছে।
হাহ! যদি আপনার ফাদার ইন লো এর মতো সেও যদি আপনার গোপন পর্দা ফাঁস করতে চায় তো ... তখন কী হবে, ভেবে দেখেছেন?

জিভানের চোখে মুহূর্তের জন্য অন্ধকারের ছায়া নেমে এলো। স্বর গভীর, গম্ভীর,
কি বলতে চাইছো ?

কেভিন ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এলো। বুক ফুলিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াল, যেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে।
আমি শুধু সাবধান করছি, বস।এটাও শুনেছি আপনার ওয়াইফ একজন দক্ষ ডিটেকটিভ। যদি সে আপনার ব্যাপারে একটুখানি প্রমাণও হাতে পায়... সে আপনাকে কখনো ছেড়ে দেবে না।

কেভিনের কথায় জিভানের ঠোঁটে একরাশ তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল। সে স্থির চোখে কেভিনের দিকে তাকিয়ে রইল, যেন তার চোখের গভীরতা কেভিনকে কেটে ফেলতে চায়।

বাজে কবক করার জন্য জন্য এখানে এসেছো ?

নো লিডার ,আমিতো সত্যি কথাটাই বললাম .. বিশ্বাস হয় না

জিভান ডান বাম মাথা নাড়লো । কেভিন নাটকীয় ভঙ্গিতে চোখ উল্টিয়ে বিরবির করে বলল,
সত্যিই তো বললাম, বিশ্বাস-ই করে না ..

অসম্ভব। যতদিন আমি না চাই ... ততদিন সে জানতেই পারবে না আমি  কে।

কেভিন ভ্রু নাচিয়ে হালকা বাঁকা হাসল।
"আর যদি জেনে যায়...?"

সে ধীরে ধীরে জিভানের চারপাশে হেঁটে হেঁটে কথা বলতে শুরু করল। তার কণ্ঠে এখন কটাক্ষ, সাথে কৌশলী হুমকি।
ভাবুন তো, যদি সে হঠাৎ জেনে যায় যে তার স্বামী-ই সেই কুখ্যাত মাফিয়া লিডার... যাকে বড় বড় পুলিশ অফিসাররা তন্ন তন্ন করে খুঁজে বেরাচ্ছে! তখন তার কি অবস্থা হবে , লিডার সাহেব?

কেভিন হঠাৎ থেমে গেল, জিভানের মুখের সামনে ঝুঁকে ফিসফিসিয়ে বলল,
তার রিয়েকশন কেমন হবে, ভেবে দেখেছেন কখনো? যদি সে ভুল মনে করে যে তার বাবার খুনের পেছনে আপনারই হাত ছিল... তো

এক মুহূর্তের জন্য নীরবতা নেমে এলো। জিভানের চোখে লাল রক্তিম শিরা ফুটে উঠল। কণ্ঠস্বরে কাঁপন ধরলো দাঁত কটমট করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল,
কেভিন... তুমি কিন্তু সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছো।

কেভিন পিছিয়ে এল না। বরং ঠোঁটের কোণে আরও শয়তানি হাসি ফুটিয়ে বলল,
না, বস। আমি শুধু আপনাকে রিমাইন্ড করাচ্ছি... যে এই খেলা যতটা আপনি ভাবছেন তার চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক।

জিভান হঠাৎ করেই কেভিনের কলার চেপে ধরল। এত জোরে যে কেভিনের শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
আমার ওয়াইফ... আমার ব্যাপার। তার কাছে আমার সত্য জানার চান্স-ই  নেই।" জিভানের চোখ জ্বলজ্বল করছে রাগ আর পাগলামির মিশ্রণে।
আর যদি সে কখনো জেনে যায়... তবে আমি তার সেই সত্য জানার ক্ষমতাটাই কেড়ে নেব।

কেভিন কাশতে কাশতে কোনো রকমে বলল,
এটাই তো... তোমার সবচেয়ে বড় ভুল হবে, বস।

জিভান ধীরে ধীরে কেভিনকে ছেড়ে দিল। গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
ভুল? লিসেন বাস্টার্ড কেভিন  ,আম মাফিয়া লিডার জিভান এ্যাশবার্ন। সে কখনো কোনো ভুল করে না আর যদি ভুল করেও ফেলে তা সংশোধন করার ক্ষমতা তার আছে ।

এই বলে ধাক্কা মরলো কেভিন কে । কেভিন বড় বড় করে শ্বাস নিতে লাগলো ।  কলার চেপে ধরেছে নাকি গলা! 

সে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,
সেটা আমরা সবাই ভালো করে জানি লিডার। তবে সাবধান থাকবেন ,,
জেনেও যেতে পারে ।

জিভান এবার কড়া গলায় হুমকি দিয়ে বলল,
এখান থেকে আউট হবি নাকি লাথি মারলো ..

কেভিন কলার ঠিক করতে করতে মজা করে বলে ,
আমি ফুটবল নাকি যে লাত্থি মারবেন ,? আমি তো মাফিয়া অন্তত সম্মানের সহকারে বাহির করবেন ।

জিভান কপালের শিরা ফুলিয়ে কেভিনের দিকে এমনভাবে তাকালো, যেন মুহূর্তেই তাকে গিলে খেয়ে ফেলবে।
সে গলার স্বর নিচু করে কড়া হয়ে বলল ,

কেভিন… আমি কিন্তু রসিকতার মানুষ না।
জিভান ধীরে ধীরে কেভিনের দিকে এগিয়ে এলো। প্রতিটা পদক্ষেপে মেঝের উপর কড়া আওয়াজ হচ্ছিল, আর কেভিনের বুকের ভেতর ভয়টা ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল।

জিভান আবার বলল,
তোর এই জিভানকে  ঢিল ছুঁড়ে মারা অভ্যাসটা বন্ধ কর। না হলে একদিন এই জিভান তোর জিভটাই কেটে নেবে।

কেভিন কৌতুকের ভঙ্গিতে চোখ বড় করল, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তার গলা শুকিয়ে আসছিল।
ওহো! লিডার, এত রেগে যাচ্ছেন কেন? আমি তো শুধু মজা করছিলাম।
তার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি, কিন্তু সেই হাসিতে এবার ভয়ের ছাপটাও স্পষ্ট।

জিভান তার দিকে আরও ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বলল,
মজা? কেভিন, তোর হয়তো ধারণা নেই আমি কি কি করতে পারি ..?

কেভিন গম্ভীর মুখে মাথা নাড়ল। তবে চুপ থাকেনি।
ওসব ধারণা নিয়েই তো চলাফেরা করি লিডার । তবে  আপনাকে আবার সাবধান করছি কারণ আমি জানি... সত্য কখনোই লুকিয়ে থাকে না।
সে সামান্য পিছিয়ে গিয়ে চোখের কোণে রহস্যময় দৃষ্টি ছুঁড়ল।
আপনি যতই ঢেকে রাখুন না কেন, একদিন আপনার ওয়াইফ রোজা নিজের মতো করেই সব খুঁজে বের করবে। তখন হয়তো আপনিই স্টক করবেন নয়তো হার্ট অ্যাটাক করে ডাইরেক্ট ফুসস  হয়ে যাবেন ।

জিভানের দৃষ্টি মুহূর্তের জন্য কাঁপল। কিন্তু সে নিজেকে সামলে নিল।
তার কণ্ঠে এখন ভয়ঙ্কর স্থিরতা,
সে যদি সত্য খুঁজতে শুরু করে… তবে আমি তাকে খুঁজে এনে চিরকালের জন্য থামিয়ে দেব।

কেভিনের কণ্ঠে ব্যঙ্গ মিশ্রিত কৌতুক ফিরে এল,
হাহা, তাই নাকি? লিডার, আপনি কি নিশ্চিত... যে আপনার ওয়াইফকে থামানো এত সহজ হবে?
তারপর কেভিন হঠাৎ চুপ হয়ে গেল, যেন কিছু বলতে চেয়েও বলল না।

জিভানের চোখ সরু হলো।
কি বলতে চাচ্ছিস? শেষ কর।

কেভিনের ঠোঁটে রহস্যময় হাসি ফুটল।
কিছু না, বস।" সে ঘুরে দরজার দিকে হাঁটল।হঠাৎ দরজার কাছে থেমে আবার  পিছন ফিরে তাকাল।
শুধু এটুকু মনে রাখবেন ,যে মানুষকে আপনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, সে-ই একদিন আপনার সবচেয়ে বড় শত্রুতে পরিণত হতে পারে।

এবার জিভানের রক্ত হিম হয়ে এলো। সে স্থির দৃষ্টিতে কেভিনের চলে যাওয়া পিঠের দিকে তাকিয়ে রইল।
তার হাত দুটো অজান্তেই মুঠো পাকিয়ে গেল।

দরজা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে অন্ধকার ঘরটিতে জিভানের গম্ভীর কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হলো,
আমার রোজা কখনো আমার শত্রু হতে পারবে না, কেভিন। কারণ ওর মা বাবার আসল খুনি আমি নয় , অন্য কেউ..!

তারপর জিভান ধীরে ধীরে ঘুরে সেই টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল, যেখানে একটি ছোট্ট ফ্রেমে তার রোজার হাসি'মুখি  ছবি রাখা।
সে ছবিটার দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে ফিসফিস করল,
তুমি আমার সবচেয়ে বড় শক্তি রোজা... তার চেয়ে বেশি আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
কিন্তু আমার সত্য জানার ক্ষমতা আমি কাউকেই দেব না... এমনকি তোমাকেও না।

ফ্রেমটা শক্ত করে ধরে জিভানের চোখে এক ফোঁটা অশ্রু ঝিলিক দিয়ে মিলিয়ে গেল অন্ধকারে।,,

পরের দিন ।

আজ শনিবার । কেউ আজকে আর কাজে গেলো না ...
মিস লিয়ানা আর রোজা । দুজনে মিলে আজকের ব্রেকফাস্ট তৈরি করেছে । রোজা এক এক করে টেবিলে নাস্তা সাজাচ্ছিল ।  তখন লারা ধীরে ধীরে টেবিলের দিকে আসে । রোজা তার বোনকে দেখে হাসি মুখে দৌড়ে তার কাছে চলে যায় । মৃদু স্বরে মুচকি হেসে বলে,

কেয়ারফুলি লারা পড়ে যাবি ...

লারা মাথা নেড়ে সায় দিল। তারপর রোজার দিকে তাকিয়ে  মিষ্টি হাসি দিলো ।

রোজা ধীরে ধীরে লারাকে চেয়ারে বসালো । রিদান তখন বাইরে থেকে হেঁটে  আসছে । রোজা ওকে দেখে একটু হালকা জোড়ে বলে ,
"রিদ .. জিভান আসেনি ?"

রিদ হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,
"ভাইয়া একটু পর চলে আসবে ভাবি ...

রোজা হতাশ হয়ে আচ্ছা বলল । এরপর সবাই এসে ব্রেকফাস্ট করে নিজ নিজ রুমে চলে গেলো । কিন্তু এখনো জিভান আসেনি । জিভান না আসায় রোজাও এখনো কিছু খেলো না । মুখ গোমড়া করে সেখান থেকে চলে গেল । মিস লিয়ানা জোর করেছিলেন। কিন্তু রোজা একদম না বলে উপরে নিজের রুমে চলে গেল । জিসাও কয়েকবার এসে তাকে ডেকে গেছে কিন্তু তার কোনো সাড়া নেই । রিদান ও ডাকলো । তবুও বের হলো না ।  রিদান বাধ্য হয়ে জিভানকে কয়েকবার কল করলো । কিন্তু প্রতিবারই ব্যস্ত বলছে ।

" ভাবি ভাইয়া এসে যাবে তো মনে হয় কোনো আর্জেন্ট কাজ পড়ে গেছে । তুমি কিছু খেয়ে নাও .."

ওপাশ থেকে কড়া গলায় ভেসে এলো ,

"বললাম তো খাবো না তোমার ভাইকে ঠুসে ঠুসে খাবাও। আমার খিদে মরে গেছে। "

"ভাবি .."

রিদান বলতে গিয়েও আর বললো না । এত রেগে যাওয়ার কো কারণ নেই ।  রোজা তো প্রায় সময় জিভানকে ছেড়ে খাবার খেয়ে চলে যায় । তাহলে আজ কেন ভিন্ন হলো । ব্যাপার টা মাথায় ঢুকলো না রিদানের।  নিজের চিন্তা ভাবনা নিয়ে রুমে গিয়ে পৌঁছালো সে ।

দেখতে পেলো লারা পায়ের উপর পা তুলে বেডে হেলান দিয়ে ফোন স্ক্রল করছে, আর মিটিমিটি লজ্জা পেয়ে হাসছে , রিদানের বুঝতে বাকি নেয় তার বউ রোমান্টিক ড্রামা দেখছে ।।  রিদান তার পায়ের পাশে গিয়ে বসলো । লারার খেয়ালি নেয় যে রিদান তার কাছে বসে আছে । সে তো ফোনে ড্রামা দেখতে ব্যাস্ত।

রিদান হতাশ হয়ে বিরবির করে বললো ,

এদিকে ভাই ফোনে ব্যস্ত আর এদিকে আমার বউটা ড্রামা দেখতে ব্যস্ত ।

হঠাৎ রিদানের কথায় চমকে উঠে লারা ।

আরে তুমি কখন এলে ?

যখন তাদের কিসিং সিনটা দেখছিলেন তখন ..!

লারা হকচকিয়ে যায় । রিদান কিভাবে বুঝলো যে সে রোমান্টিক ড্রামা দেখছে ?  ভাবতে ভাবতে মুখ ফুলিয়ে পাশে রেখে দিলো ফোনটা ।

রিদান ঠোঁটের কোণে হালকা এক চতুর হাসি নিয়ে লারার দিকে তাকালো।

কী হলো? এভাবে মুখ ফুলিয়ে রাখলে কেন , বাটারফ্লাই ?

লারার চোখে এক ঝলক বিরক্তি ফুটে উঠলো।
তুমি না সবসময় আমার জিনিসে উঁকিঝুঁকি মারো কেন?

রিদান ভুরু কুঁচকে বললো,
উঁকিঝুঁকি মারছি নাকি তুমি এত মিষ্টি করে হাসছিলে যে আমি না তাকিয়ে থাকতে পারলাম না। মনে হলো হুমম… তোমার হাসির পেছনের রহস্যটা জানতে হবে।

লারা চোখ ঘুরিয়ে ফিসফিস করে বললো,
রহস্য কিছুই না। ড্রামার হিরোটা সুপার কিউট, ওকেই দেখছিলাম।

রিদান সাথে সাথে লারার কথা শুনে চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকালো। মনে মনে জেলাস ফিল করতে লাগলো সে ।
কি?! সুপার কিউট?!

লারা এবার ইচ্ছা করেই তাকে উস্কে দিলো,
হ্যাঁ! খুবই কিউট। তোমার থেকেও কিউট আর অনেক হ্যান্ডসাম।

রিদান আর সহ্য করতে না পেরে এক ঝটকায় ফোনটা নিয়ে নিলো।
আমার থেকে কিউট , হ্যান্ডসাম তাই না ? দেখি তো ড্রামাটা আর এটাও দেখবো এই ছেলেটা কতটা হ্যান্ডসাম !

লারাও সাথে সাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফোনটা ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগলো।
এই! আমার ফোন দাও! তুমি কেন আমার ড্রামা দেখতে চাও?

রিদান ফোনটা উঁচু করে ধরলো যাতে লারা কোনোভাবেই সেটা ধরতে না পারে।
তারপর দুষ্টুমি ভরা চোখে বললো,
এখন থেকে তুমি শুধু আমার ড্রামাই দেখবে। আমি থাকলে অন্য কোনো হিরোকে  দেখার দরকার নেই।

লারার মুখ লাল হয়ে গেলো, আর গম্ভীরভাবে বললো,
রিদান! এসব ড্রামা নিয়ে এত পজেসিভ হওয়ার কী আছে?

রিদান ধীরে ধীরে তার দিকে ঝুঁকে নরম গলায় বললো,
তুমি আমার বউ, লারা। তোমার হাসির কারণ শুধু আমি হবো অন্য কেউ নয় ।

লারার বুকটা ধক করে উঠলো। সে আর কিছু বলতে পারলো না, শুধু চুপচাপ রিদানের দিকে তাকিয়ে রইলো।

____________

বিকেল পাঁচটার দিকে জিভান বাড়ি ফিরে । সকালেই মর্নিং ওয়াক থেকে মাফিয়া প্লেসে গিয়েছিলো। গত পাঁচ বছরে অনেক ঝামেলা তৈরি হয়েছে, আর সেই সমস্যাগুলো নিয়েই ইদানিং ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে তাকে।

ওদিকে রিদান তখন বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলো একটা কাজে। হঠাৎ জিভানকে দেখতে পেয়ে থেমে গেল সে।

ভাই..! কোথায় গিয়েছিলে তুমি? আমার সাথে মর্নিং ওয়াক করতে বেরিয়েছিলে নাকি কোনো টুরে গিয়েছিলে?

রিদানের প্রশ্নে পাত্তা না দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোফায় গিয়ে  বসে পড়ল। ক্লান্ত ভঙ্গিতে চোখ বন্ধ করে বলল,
দরকারি কাজে অফিসে গিয়েছিলাম। মিটিং ছিল।

রিদান তার ভাইয়ের দিকে চোখ সরু করে তাকিয়ে সিরিয়াস স্বরে বলল,
দরকারি কাজ করেছো ঠিক আছে, কিন্তু সবচেয়ে দরকারি কাজটাই তো মিস করে ফেলেছো তুমি, ভাই।

জিভান ভ্রু কুঁচকে মাথা তুলল,
কি দরকারি কাজ?

রিদান মুখে কিছু বলল না। উল্টো চোখ দিয়ে উপরের দিকে ইশারা করল। জিভান কিছুই বুঝতে পারল না। ভ্রু কুঁচকে মাথা নাড়িয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করল, ঠিক কি বলতে চাইছে সে। কিন্তু রিদান একগুঁয়ের মতো বারবার উপরের দিকেই ইশারা করতে থাকল।

প্রায় অনেকক্ষণ পর জিভানের মাথায় ঢুকল আসল ব্যাপারটা। রিদান যে আসলে রোজার কথা বলছে, সেটা বুঝতে পেরে জিভান নিজের জিহ্বা কামড়ে ধরল। কী বিশাল ভুলটাই না করেছে সে! এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে তড়িঘড়ি করে দৌড়ে উপরের তলায় উঠে গেল, যেখানে রোজা তার উপর অভিমান করে বসে আছে।

আর নিচে দাঁড়িয়ে থাকা রিদান হো হো করে হাসতে লাগলো ।

চলবে ...🥲

এই ওয়েবসাইটেই দেওয়া হয়েছে দেখেন,,

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url