অন্ধ ও ভিক্ষুকের গল্প (শেষ)

সে একটা গভীর শ্বাস নিয়ে বলল, "আমি কোনো ভিক্ষুক নই, জয়নব। আমি আসলে একজন ধনী বণিকের ছেলে। আমি মসজিদে এসেছিলাম এক ভিন্ন ধরনের সম্পদ খুঁজতে — এমন এক সম্পদ যা টাকা দিয়ে কেনা যায় না। আমি এমন একজন স্ত্রী চেয়েছিলাম যে বাহ্যিক রূপের বাইরেও দেখতে পারে, যে সৌন্দর্যের চেয়ে দয়ালুতাকে বেশি মূল্য দেয়। সেই কারণেই আমি তোমাকে বেছে নিয়েছিলাম।"


জয়নবের মাথা ঘুরে উঠল। মিথ্যা। সবই মিথ্যা। কিন্তু কেন? সে অনুভব করল এক মিশ্র অনুভূতি—রাগ, বিভ্রান্তি, স্বস্তি।


ইউশা বলল, "আমি তোমাকে আমার আসল পরিচয় দেখাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমি চাইনি তুমি আমার ধনের জন্য আমার সাথে থাকো। আমি চেয়েছিলাম তুমি আমাকে আমার জন্য ভালোবাসো।"


জয়নব হাত সরিয়ে নিল, তার গাল বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। "তুমি কেন মিথ্যে বললে?" সে ফিসফিস করে বলল।


যুশা আবার তার হাত ধরল। "আমি ভয় পেয়েছিলাম, সত্যিটা জানলে তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করো। আমি তোমাকে ভালোবাসি, জয়নব। তোমার বাহ্যিক রূপের জন্য নয়, বরং তোমার মনের জন্য।"


জয়নবের অন্তরে কিছু একটা বদলে গেল। সে তার কথাগুলো, তার ভালোবাসার গভীরতা অনুভব করল। সে ফিসফিস করে বলল, "আমিও তোমাকে ভালোবাসি।"


তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরল, আর সেই মুহূর্তে জয়নব বুঝতে পারল যে সে পৃথিবীর দয়াশীলতা দেখার ক্ষেত্রে অন্ধ ছিল না। সে বাহ্যিক সৌন্দর্যের ক্ষেত্রেই অন্ধ ছিল, কিন্তু তার হৃদয় স্পষ্টভাবে দেখতে পেত।


ইউশা তাকে তার আসল বাড়িতে নিয়ে গেল — একটি সুন্দর প্রাসাদে — এবং তার পরিবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। তারা ভালোবাসা, হাসি আর উদ্দেশ্যপূর্ণ জীবনযাপন করত। জয়নাব একজন খ্যাতনামা সমাজসেবী হয়ে উঠল, অন্য অন্ধ শিশুদের সাহায্য করত।


আর তার বাবা? তিনি অনেক দেরিতে বুঝতে পারলেন তিনি কী হারিয়েছেন। তিনি একাই মা* রা গেলেন, তার সিদ্ধান্তগুলোর জন্য অনুশোচনা করে।


সমাপ্তি 💔।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url