রুমির_প্রতিশোধ
লামিয়া_ইসলাম
#পর্ব_২
আমি আর কোনো কিছু না বলে আবার চুপিচুপি ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে আসলাম। ওদের কোনো ভাবেই জানতে দেয়া যাবে না যে আমি ওদের পরিকল্পনা জেনে ফেলেছি। তাই আমি সোজা ব্যাগ নিয়ে দোতলায় আমার শাশুড়ির ফ্ল্যাটে চলে গেলাম। ব্যাগ সাথে নিয়ে গেলাম যেনো আমার শাশুড়ি আমাকে দেখে মনে করে আমি বাস স্ট্যান্ড থেকে সরাসরি তার ফ্ল্যাটেই এসেছি। দরজা নক করতেই শাশুড়ি এসে দরজা খুললো। সে আমাকে দেখে অনেকটা হকচকিয়ে গেলো। সে আমাকে বলতে লাগলো,
-বৌমা, তুমি এখানে? তোমার না কাল আসার কথা ছিলো?
-মা আগেই এসে পড়লাম। নিজের সংসার রেখে দূরে থাকতে ইচ্ছা করছিলো না।
আমি তার মুখ দেখেই বুঝতে পারছিলাম যে সে ভয়ে আছে। হয়তো ইতি যে আমাদের ফ্ল্যাটে এসেছে সেটা সে জানে। যদিও তাকে ভয় পেতে দেখে আমার ভালোই লাগছিলো। তাই আমি বলে উঠলাম,
-তাহলে মা আমি যাই। আপনাকে দেখতে এসেছিলাম।
-আরেহ না না বৌমা। কোথায় যাবে? ভিতরে আসো। এতো দূর থেকে জার্নি করে এসেছো। খাবার খেয়ে যাও।
সে এক প্রকার জোর করেই আমাকে ডাইনিং রুমে নিয়ে গেলো। টেবিলে বসিয়ে আমাকে গরম ভাতের সাথে বেশ বড় এক পিস ইলিশ মাছ খেতে দিলো। তার এভাবে আমাকে যত্নের সাথে খাওয়াতে দেখে আমি মনে মনে হাসলাম। যে ছেলের বউকে সবসময় কথার আগায় রাখে সেখানে সে আজ আমাকে এভাবে যত্ন করে খাওয়াচ্ছে। মানুষ মাইনকার চিপায় পড়লে কত কিছুই না করে। আমি খাওয়া শুরু করলে সে তার বেডরুমের দিকে গেলো। আমি জানি এখন সে আরিফ আর ইতিকে আমার আসার খবর টা দিবে। আমিও নিশ্চিন্তে বসে খেতে থাকলাম। প্রায় আধা ঘন্টা বসে খাওয়া শেষ করলাম। খাওয়া শেষ হতে ধীরে সুস্থে নিজের ফ্ল্যাটে গেলাম। এতক্ষনে ইতি হয়তো চলে গিয়েছে। কলিং বেল বাজাতেই আরিফ এসে দরজা খুলে এমন ভান করলো সে যেন আমাকে দেখে অবাক হয়েছে। সে ঘুম ঘুম স্বরে বললো,
-আরেহ রুমি তুমি এখানে? তুমি আজকে আসবে আমাকে আগে বলবে না? আমি তোমাকে বাস স্ট্যান্ডে আনতে যেতাম।
আমিও তাকে অনেকদিন পর দেখে অনেক খুশি হয়েছি এমন ভাব করলাম। কিছুক্ষন পরে আরিফ তার শোরুমে উদ্দেশ্যে বেরোলো। ওহ আরেকটা কথা বলতে তো ভুলেই গেছি আমাদের বিয়ের পর আমার বাবা আরিফকে ব্যবসা করার করার জন্য ২০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলো। আর সেখান থেকেই তার আজকে ঢাকায় তিনটা বড় শোরুম। যদিও তার ব্যবসা বাড়ি সব আমার নামেই রয়েছে। কেননা আরিফ মনে করেছিলো আমাকে তো মেরেই ফেলবে তাই আমার নামে থাকলে সমস্যা কি? উল্টো আমার মৃত্যুর পর পুলিশ তদন্ত করতে আসলে তখন পুলিশ ভাববে সে কত ভালো মানুষ যে বউয়ের নামে সবকিছু লিখে দিয়েছিলো। এমন মানুষ কি আর বউয়ের কোনো ক্ষতি করতে পারে। আরিফ বের হয়ে যেতেই আমি আমার আলমারি ড্রয়ার থেকে আমার বিয়ের গহনাগুলো বের করে আনলাম। প্রায় ৮ ভরি গহনা এখানে রয়েছে। আমার শাশুড়ি যদিও অনেক বার নিজের কাছে এগুলো নেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমার জন্য নিতে পারিনি। এবার এই গহনা দিয়েই আমি তাঁদের জন্য গর্ত খুরবো।
পরের দিন আমি মার্কেটের কথা বলে ফ্ল্যাট থেকে বের হলাম। আমার শশুরবাড়ি সাভার। কিন্তু আমি সেখান থেকে সোজা পুরান ঢাকায় গেলাম। গিয়ে আমার বিয়ের ৮ ভরি গহনা ১০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করলাম। আজ আমার স্বামী আরিফ ও দুপুরে বাসায় আসবে না। তাই দেরি করে বাসায় ফিরলেও কেউ কিছু জানতে পারবে না।
তারপর ২৮দিন আমি সবসময়ের মতো নরমাল ব্যবহার করলাম। ৩০ তম দিনে বিকাল বেলায় আমি আমার শাশুড়ির রুমে গেলাম। শাশুড়ির অগোচরে তার ফোনের যে সিমটা সে বেশি ব্যবহার করে না সেই সিমটা খুলে আনলাম। ছোটবেলা থেকে আমার একটা বিশেষ গুন রয়েছে আমি মানুষের কথা নকল করতে পারি। আমি শাশুড়ির নাম্বার দিয়ে ইতিকে ফোন দিলাম তার কণ্ঠ নকল করে ইতিকে বললাম,
-হ্যা ইতি। কাল একটু আমার সাথে বের হোস তো?
-কেনো খালা কোথাও যাবে?
-হ্যা। ঐযে যে সেট টা বানাতে দিয়েছিলাম সেটা হয়ে গেছে। চিন্তা করলাম তোকে নিয়েই আনতে যাবো।
-ঠিক আছে খালা।আমি সকাল সকাল তৈরি হয়ে তোমাদের বাসায় আসবো আনে।
পরের দিন সকালে আমি আমার শাশুড়ির ফ্ল্যাটে গেলাম। আমি জানি আমার শাশুড়ি প্রতিদিন সকাল ৯ টায় নিজের জন্য চা বানায়। আর এই সুযোগটাই আমি কাজে লাগালাম। সে আমাকে রান্নাঘরে ছোট মাছ কাটতে দিয়েছিলো। আর আমি সেই ফাঁকেই তার চায়ে চেতনানাশক ওষুধ মিশাই। আমার কাজ শেষে দেখি যে সে চা নিয়ে বসেছে। আমি আমার কাজ শেষে উপরের ফ্ল্যাটে চলে যাই।তার ঠিক আধা ঘন্টা পর এসে আমি আমার কাছে থাকা এক্সট্রা চাবি দিয়ে শাশুড়ির ফ্ল্যাটের দরজা খুলে দেখি সে বিছানায় ঘুমাচ্ছে। তাকে আমি যেই ওষুধ দিয়েছি তাতে তার ঘুম ৪-৫ ঘন্টার আগে ভাঙবে বলে মনে হয় না। এর মধ্যেই আমি টের পাই ইতি এসে আমার শাশুড়ির ফ্ল্যাটের দরজায় নক করেছে। আমি চুপচাপ গিয়ে দরজা খুলে দেয়। আমি তাকে হাসিমুখে বলি,
-মা ঘুমাচ্ছে। আমি তোমার জন্য নাস্তা নিয়ে আসি।
ইতির নাস্তায় ও আমি শাশুড়ি মায়ের মতো চেতনানাশক ঔষুধ মিশিয়ে দেই। আর তাই ইতি কিছুক্ষন পরেই ঘুমিয়ে পরে। তারপর আমি ইতির শরীর তাকে টেনে বাথরুমে নিয়ে যাই।
চলবে......
(কাহিনী বড় হওয়ার কারণে এই পড়বে শেষ করা সম্ভব হয়নি, পরের পর্ব এই ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে তাই ওয়েবসাইট টা ফলো করে রাখুন ধন্যবাদ।
