পরবর্তী শেষ অংশ
রিচার্ড মনে মনে হাসছিল। সে নিশ্চিত ছিল, এলসা এলে সবাই তাকে দেখে ফিসফিস করবে। পুরোনো, সাধারণ, লজ্জিত এক নারী। ঠিক যেমনটা সে মনে রেখেছে।
ঠিক তখনই—
রিসোর্টের গেটের সামনে এক অচেনা নীরবতা নেমে এলো।
একটি কালো, বিলাসবহুল গাড়ি ধীরে এসে থামল। এমন গাড়ি অতিথিদের অনেকেই দেখেছে, কিন্তু এই গাড়ির উপস্থিতি যেন আলাদা কিছু বলছিল। ড্রাইভার নেমে দরজা খুলে দিল।
প্রথমে নামল দু’টি ছোট শিশু। যমজ। একই রকম চোখ, একই রকম মুখ। পরিপাটি পোশাক, চোখে একধরনের আত্মবিশ্বাস, যা বয়সের সাথে মানানসই নয়।
তারপর নামলেন এলসা।
কিন্তু এই এলসা আর পাঁচ বছর আগের এলসা নন।
তিনি সাদামাটা নন, আবার অতিরিক্ত ঝলমলে ও নন। তাঁর পোশাকটি ছিল রুচিশীল, মার্জিত। মুখে শান্ত হাসি, চোখে দৃঢ়তা। হাঁটার ভঙ্গিতে ছিল এমন এক আত্মসম্মান, যা কোনো গয়না ছাড়াই মানুষকে আলাদা করে তোলে।
গোটা অনুষ্ঠানস্থলে ফিসফিস শুরু হয়ে গেল।
“উনি কে?”
“এই বাচ্চা দুটো কার?”
“এত আত্মবিশ্বাস কোথা থেকে আসে?”
রিচার্ডের বুকটা ধক করে উঠল।
সে এলসার দিকে তাকিয়ে রইল… তারপর তার চোখ পড়ল বাচ্চা দুটির দিকে।
গণনা করতে তার বেশি সময় লাগল না।
ভেরোনিকা পাশে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল,
“ওরা কার বাচ্চা, রিচার্ড?”
রিচার্ড কোনো উত্তর দিতে পারল না।
এলসা ধীরে ধীরে এগিয়ে এল। মঞ্চের খুব কাছেই থেমে সে মাথা তুলে রিচার্ডের চোখের দিকে তাকাল। চোখে কোনো রাগ নেই, কোনো প্রতিশোধের আগুন নেই—শুধু পরিষ্কার সত্য।
তিনি শান্ত গলায় বললেন,
“আমি শুধু অতিথি হয়ে আসিনি। তুমি আমন্ত্রণ করেছিলে, তাই এসেছি।”
চারপাশ নিস্তব্ধ।
এলসা পাশে দাঁড়ানো যমজদের হাত ধরে বললেন,
“আর ওরা… ওরা তোমার সন্তান, রিচার্ড।”
এক মুহূর্তে যেন সময় থেমে গেল।
কেউ নড়ছে না।
কেউ কথা বলছে না।
রিচার্ডের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
“এটা… এটা অসম্ভব,” সে ফিসফিস করল।
এলসা হালকা হাসলেন।
“অসম্ভব না। শুধু তুমি জানতে চাওনি।”
তিনি একটু থেমে যোগ করলেন,
“যেদিন তুমি আমাকে বের করে দিয়েছিলে, সেদিনই আমি বুঝেছিলাম—আমি একাই সব সামলাতে পারব। আর আজ আমি শুধু এটা বলতে এসেছি—তুমি আমাকে ছোট ভেবেছিলে, কিন্তু আমার জীবন নষ্ট হয়নি।”
তিনি চারপাশের অতিথিদের দিকে একবার তাকালেন।
“আমি গর্ব করতে আসিনি। অপমান করতেও আসিনি। আমি এসেছি শুধু সত্যটা জানাতে। কারণ সত্য লুকিয়ে রাখলে ওদের প্রাপ্য পরিচয় নষ্ট হয়।”
যমজদের একজন এগিয়ে এসে প্রশ্ন করল,
“মা, উনি কি আমাদের বাবা?”
এলসা নরম গলায় বললেন,
“জন্মের সূত্রে হ্যাঁ। কিন্তু মানুষ হওয়ার শিক্ষা উনি দেননি।”
এই কথাটাই অনুষ্ঠান থামিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।
ভেরোনিকা ধীরে ধীরে রিচার্ডের হাত ছেড়ে দিল। তার চোখে তখন শুধু অবিশ্বাস নয়, গভীর হতাশা।
এলসা আর কিছু বললেন না।
তিনি যমজদের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ালেন।
যাওয়ার আগে শুধু একটাই কথা বললেন,
“তুমি আমাকে দেখতে ডেকেছিলে—আমি দেখিয়ে দিলাম, আমি কে হয়ে উঠেছি।”
কালো গাড়িটা আবার ধীরে গেট পেরিয়ে বেরিয়ে গেল।
আর রিচার্ড?
সে দাঁড়িয়ে রইল তার স্বপ্নের বিয়ের মঞ্চে—
হঠাৎ বুঝে গেল, সবচেয়ে বড় হারটা আজ তারই হলো।
সম্পূর্ন লেখাটি একটা গ্রুপ থেকে সংগ্রহ করা।
