#অহংকারী_পুলিশ_অফিসার 


#শেখ_লাদেন_ইসলাম_তানজিম 


#পর্ব_2


👇👇


মেয়েটা আমাকে মারার জন্য পিস্তলটা হাতে নিয়ে আমার দিকে তাক করল তখন আবার বাহিরে থেকে টক টক আওয়াজ ভেসে আসল।


মেয়েটা আমার দিকে পিস্তল ইশারা করে বলল দেখ কে এসেছে। আর যদি বেশি চালাকি করিস তাহলে এখানেই তরে ভরে দিব কিন্তু বলে দিলাম।


আমি ছোট থেকেই পিস্তল দেখে খুব ভয় পেতাম। আর আজকে সেই পিস্তল আমার সামনে তাক করে ধরে আছে। ভরে আমার কলিজায় পানি নাই।


মেয়েটার কথা মতো আমি বললাম দরজার কাছে কে!


আমার কথা শুনে বাহির থেকে আওয়াজ এল বাবা দরজাটা খুল। আমি তর আম্মু।


আমি এবার মেয়েটার পার'মিশন না নিয়েই দরজা খুলে দিলাম। আম্মু আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল বাবা তুই কেমন আছত। আর আজকে এই খুশির দিনে তুই আমাকে খবর দিবি না।


- খুশির দিন মানে আম্মু।


- পরে বলব এই মেয়েটা কে। আর ওর হাতে পিস্তল কেন বাবা। ও তো আবার তরে মারতে এখানে আসে নাই।


" আরে আম্মু তুমিও কি যে বল। আমাকে মারবে কে বল। আমি তো ঠিকমতো হাঁটতেই পারি না। আর তোমার ছেলের তেমন কারো সাথে শুত্রুতাও নাই। এটা তো খেলনার পিস্তল আম্মু।


আমার কথা শুনে আম্মু মেয়েটার সামনে গিয়ে বলল সত্যি তো‌ মা তুমি ওকে মারতে আস নাই। আমার ছেলের জীবন থেকে সুখ দুঃখ সবকিছু হারিয়ে গেছে যদি মারতে হয় তাহলে আমাকে মার।


- আরে আম্মু কি শুরু করলে তুমি। ওর সাথে আমি একটু কথা বলি তুমি ভিতরে যাও।


আম্মু আর কিছু না বলে ভিতরে চলে গেল। মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে বলল হয়তো এখন আপনি আপনার আম্মুর জন্য বেঁচে গেলেন। যান ছেড়ে দিলাম। কিন্তু পরের বার যদি আমি আসি তাহলে আমার পিস্তল থেকে গুলি মিস হবে না কিন্তু।


- মাইশা যে আমাকে মারবে আমার এটা বিশ্বাস হচ্ছে না। 


- বিশ্বাস হচ্ছে না তাই তো। ঠিক আছে আমি লাউ'স্পিকারে দিয়ে কথা বলছি।


এই কথা বলে মেয়েটা মাইশা কে কল দিল। মাইশা কল ধরতেই মেয়েটা বলল সরি আজকে আমি ওকে মারতে পারি নাই।‌ তোমার শাশুড়ি চলে আসছে।


মাইশা- থাক আপু ওকে মারার দরকার নাই। এখন আমার প্ল্যান চেঞ্জ হয়ে গেছে। আর আমি আমার শাশুড়িকে কল করে নিয়ে আসছি। কেউ কিছু বুজার আগে তুমি চলে যাও আপু।


কল কেটে দিতেই আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম। কাছের মানুষ গুলো যদি এভাবে ধোঁকা দেয় তাহলে এর থেকে বড় কষ্ট কি আর হতে পারে। মাঝে মাঝে মাইশা রেগে গিয়ে আমার সাথে উল্টা পাল্টা কিছু করে ফেলে এতে আমি কিছু মনে করি না। পরবর্তি সময়ে ঠিকেই ও আমাকে বুকে টেনে নেয়। কিছুক্ষণ আগে মাহির কথা আর এখন এই মেয়ের কথা শুনে আমার এখন কেমন কেমন লাগতে লাগল। আমার বউ কি না আমাকে মারতে চাই এটা যেন আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। মাইশা আমাকে মারবে কেন। আমি ওর কী এমন ক্ষতি করেছি যে ও আমাকে মারবে। আমি তো ওকে সবসময় বলি যে মাইশা তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাও। যদি আমাকে তোমার ভালোই না লাগে তাহলে আমাকে ছেড়ে চলে যাও। আমি তোমাকে মুক্ত করে দিলাম।‌ কিন্তু ও আমাকে ছেড়ে যাই না। যদি এমন কিছু করবে তাহলে আমাকে ও বার বার মায়ায় ফেলবে কেন।


মেয়েটা- আমি তাহলে গেলাম। আপনি থাকেন।


" আমি যদি মিথ্যা না হই তাহলে আপনি মাইশার কাছের কেউ হন।


- ভাবছিলাম আমার বোনের জামাই হয়তো বোকা তবে এখন দেখছি সে খুব চালাক। আমি মাইশার আপন চাচাতো বোন। 


- ও আচ্ছা আপনি ওর চাচাতো বোন।‌ কোন ভাবে দুই বোন মিলে আমাকে মারতে প্ল্যান করেন নাই তো।


- তর মতো ছেলেকে মারলে কি আমাদের দুই বোন লাগবে আমি একাই তো যথেষ্ট। ফালতু এখানে এসে সময় নষ্ট করলাম।


" এখানে আসছেন যেহেতু শুনেন একটা কথা যদি আমার ধারণা সত্যি হয় ঘরে স্বামী রেখে ও উল্টা পাল্টা কিছু করে তাহলে আমি ওকে কেটে কেটে দুই টুকরো করব। জানেন তো পরকিয়া কতটা ভয়ংকর।


- তরে বিয়ে করে আমার বোন কী পেয়েছে রে।‌ না পারিস ওকে একটু সুখে রাখতে।‌ সারাদিন আমার বোন বাহিরে কাজ করে। আর তুই বসে বসে খাস। বউয়ের কাজ করা টাকা না খেয়ে এর থেকে ভালো আত্মহত্যা করে ফেল অন্ততঃ সবাই তরে সম্মান দিয়ে কথা বলবে।


- প্লিজ এখন এখান থেকে যান। তবে আমার বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। এখন যা যা বললেন আমাকে সবকিছু রেকর্ড করা আছে। আবার আপনিও নাকি পুলিশের কাজ করেন। আমার সাথে লাগতে আসলে এই ফুটেজ গুলো থানায় চলে যাবে।


মেয়েটার কপালে এবার একটা ভয়ের ছাপ দেখতে পেলাম। যাই হোক মেয়েটা আর কোন কথা না বলে চুপচাপ বাসা থেকে বের হয়ে গেল। হুইলচেয়ারটা ঠেলে ঠেলে কিচেন রুমে চলে গেলাম। গিয়ে দেখি আম্মু কিচেনে রান্না করছে। আমি পিছন থেকে বললাম কি রান্না কর আম্মা জান।


- আজকে এই খুশির দিনে তদের জন্য স্পেশাল কিছু রান্না করছি। এত বড় একটা সারপ্রাইজ দিবি আমাকে আমি ভাবতেও পারি নাই। তর ছোট বোন আসতে চেয়েছিল কিন্তু বাসা খালি রেখে তো আর আসা যাবে না।


- কি আম্মু তখন থেকে এসে শুধু বলছ খুশির খবর বিষয়টা কি এটাই তো বুজতে পারছি না। আমাকে একটু ভাল করে বুঝিয়ে বল আম্মু।


- আমি এখন কিছু বলব না। যা বলার তর বউ এসে বলবে।


- তোমাদের জন্য হয়তো খুশির খবর হতে পারে তবে আমার জন্য না আম্মু। জান আম্মু বাঁচতে আর ইচ্ছে করে না। সবাই বলে আমি নাকি বউয়ের টাকায় বসে বসে খাই। মন চাই আত্মহত্যা করে ফেলি। তবে এটা তো চাইলেও আমি করতে পারব না। আত্মহত্যা যে মহাপাপ।


আম্মু রান্না ছেড়ে আমার পাশে দাড়িয়ে বলল আমি তো আগেই বলছিলাম বাবা আমাদের ছেড়ে একা একা থাকিস না। তর এক ভাই বিদেশে থাকে আমাদের কি কম টাকা পয়সা আছে বাবা। কিন্তু তুই আমার কথা শুনলি না। তবে আজকে এই খুশির দিনে এসব কথা বলে মন খারাপ করবি না। এখন তর বেঁচে থাকা খুব জরুরী। দরজা খুলে দেখ এতক্ষনে হয়তো বউমা চলে আসছে।


- তুমি কিভাবে জান মাইশা চলে আসছে। তোমরা তো আবার বউ শাশুড়ি কোন যুক্তি কর নাই তো আমাকে নিয়ে।


আমি আম্মুর কথা মতো দরজা খুলে দিলাম। কিন্তু কই বাহিরে তো কেউ নেই। হঠাৎ আমার নজর গেল আমাদের বাসা থেকে রাস্তার কিছুটা দূরে একটা মেয়ে বাইক থেকে নেমে ছেলেটাকে জড়িয়ে ধরল। কিন্তু এটা তো মাইশা। নিজ চোখে এসব কিছু দেখে যেন আমি নিজেকে নিজে বিশ্বাস করতে পারছি না। বুকের মাঝে যেন চিন চিন করে একটা ব্যাথা অনুভব হতে লাগল। তার মানে মাহি যা বলল সবকিছু সত্যি কথা। নিজের চোখে যেন এসব দেখে বিশ্বাস করতে পারছি না। যেই মেয়েটা সবসময় বলত আমি শুধু আপনার আর আজকে সেই মেয়েটা বাহিরে কারো সাথে নোংরামি করে বেড়াই। কোন ভাবে যেন আমি এসব মানতে পারছি না। যখন দেখলাম মাইশা এইদিকে আসছে তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করে দিলাম। চোখের পানি ভাল করে মুছে নিলাম। যাতে মাইশা বুজতে না পারে আমি কান্না করেছি। বলতে না বলতেই দরজায় টোকা পড়ল। 


আমি দরজা খুলে দিতেই মাইশা নিচে বসে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল বাবু জান আজকে আমি কত কত খুশি হয়েছি। এই খবরটা যদি তোমাকেও বলি তাহলে তুমিও অনেক অনেক খুশি হবে। এমনকি আমাকে জড়িয়ে ধরে তুমিও নাচবে। আমার তো মনেই নেই তুমি তো আবার হাঁটতে পার না।


মাইশাকে ছাড়িয়ে বললাম আজকাল যখন তুমি বাহিরে থেকে বাসায় আস তখন তোমার শরীরে কেমন যেন পরপুরুষের মতো একটা গন্ধ বের হয়। একটা কথা কি জান মাইশা যারা দৈনিক একটু আনন্দের জন্য বাহিরে ন'ষ্টা'মি করে বেড়াই অতি শীঘ্রই তাদের কপালে দুঃখ আছে। কাউকে কাঁদিয়ে কেউ সুখে থাকতে পারে না এটা জান তো।


- আপনি কি এই কথাটা আমাকে বললেন নাকি।


" আরে না তোমাকে বলব কেন। কনার তো মনে মনেই জানা। তবে আমি কসম করে বলছি যদি আমার সাথে কেউ বেইমানি করে তাহলে তাঁকে আমি জেন্ত খাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলব। এই পায়ের কারনে তো আমি হাঁটতে পারছি না, এই পা একেবারে সম্পূর্ন কেটে লোহার পা বসিয়ে দিব। জেন্ত বাঘ ঘুমিয়ে আছে ঘুমিয়ে থাকতে দাও।‌ যদি জাগিয়ে দাও তো কি হবে জানেন তো।


মাইশা চিৎকার দিয়ে বলছে আমি ভাল কিছু বলতে গেলেই আপনি আমাকে উল্টা পাল্টা কথা বলতে শুরু করেন। আমি কি এমন করেছি যে আমাকে এই কথা বলছেন। ভাবছিলাম অন্তত আজকে এই খুশির দিনে একটু ভাল থাকতে পারব কিন্তু আপনি আমার সুখ দেখতে পারেন না। সারাদিন ভূতের মতো কাজ করি। বাসায় এসে আপনার এসব অত্যাচার সহ্য করি। এসব কার ভাল লাগে। আমি কি রোবট হয়েছি। কেন আপনি আমার কষ্ট বুঝেন না। আমিও তো একটা মেয়ে।‌ আমার কি ইচ্ছে হয় না একটু হাসি খুশি থাকি। আমার খুশি আপনি দেখতে পারেন না কেন। আমি মরে গেলে আপনি খুশি থাকবেন তো।


এসব বলছে আর জোরে জোরে মাইশা কান্না করছে। আম্মু কিচেন থেকে এসে মাইশা কে টেনে নিয়ে বলল কান্না কর না বউমা। আর তুই কি শুরু করলি বল তো।‌ সারাদিন এই মেয়েটা বাহিরে কত কষ্ট করে। আর তুই ওকে যা ইচ্ছা তাই বলিস কেন।‌ এই মেয়ের তো একটা জীবন আছে। ভাবছিলাম আজকে বাসায় সবাই মিলে একটু আনন্দ করব সেটা ও আর হতে দিবি না তুই।‌ এখন সরি বল বউমাকে।


আমি মাথা নিচু করে বললাম আচ্ছা ঠিক আছে ম্যাডাম আমি সরি। আমার ভুল হয়ে থাকলে আমাকে মাফ করে দিবেন।


মাইশা মুখ বাঁকিয়ে বলল আপনার সরি আপনার কাছে রাখেন। আমাকে আপনার সরি বলতে হবে না। আপনি তো শুধু টাকা চিনেন এছাড়া তো আপনার আর কিছুর দরকার নাই।


মাইশা আম্মুর হাত ছাড়িয়ে ভিতরে চলে গেল। এই অল্পতেই যদি মাইশা এত রেগে যাই তাহলে একটু আগে আমি যা দেখলাম এতে আমার ভিতরে কি চলছে। আমি শুধু আমার রাগকে মাটি চাপা দিয়ে দিচ্ছি। আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে ওকে সরাসরি খুন করে ফেলত।‌ আমি তো চোখ বন্ধ করে সহ্য করে নিচ্ছি। দেখি না মাইশা কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে।


- বাবা মেয়েটা রেগে গেছে যা গিয়ে দেখ কি করে।


" বাদ দাও আম্মু এতকিছু দেখার সময় নাই আমার। তুমি আমাদের বিষয়ে কিছু জান না তবে আমি খুব ভাল করেই।


- মেয়েটা প্রেগন্যান্ট এই খুশির খবর দিতে আমাকে এখানে নিয়ে আসছে। আর আমি যেন তরে এই কথা না বলি তাই বলল। তুই কেন মেয়েটার উপর এত রাগ দেখাস। এই খুশির দিনে এমন করতে নেই বাবা।‌ যা সবকিছু মিটমাট করে নে বাবা।


আম্মুর কথা শুনে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। আম্মু এটা কি বলল মাইশা নাকি প্রেগন্যান্ট। বাসার রাতে মাইশা বলছিল শুনেন আপনি যেহেতু অসুস্থ এজন্য আমরা বাচ্চা খাচ্ছা কিছু নিব না।‌ আপনি আগে সুস্থ হন পরে সবকিছু হবে আমাদের।‌ যেই মেয়ে এই কথা বলতে পারে সেই মেয়ে হঠাৎ করে কিভাবে বাচ্চা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ইদানিং মাইশা আমাকে ওর কাছে যেতে দেয় না। এতে আমারো ও কোন আফসোস নাই। যেহেতু আমি মাইশার ভাল মন্দ দেখতে পারি না সেহেতু আমি ওর উপর এত জোর দেই না। কিন্তু হঠাৎ করে ও প্রেগন্যান্ট হয়ে গেল কিভাবে। আমার তো মাথায় কাজ করছে।


আম্মু আমাকে দরজার কাছে নিয়ে গিয়ে বলল রাগ করিস না বাবা। যা গিয়ে সবকিছু সমাধান করে নে। আমি রান্না করে সবকিছু রেডি করছি।


দরজার সামনে দেখি মাইশা ভিতরে বিছানার উপর বসে ফোনে কি দেখছে আর একা একা হাসছে।


হঠাৎ করে আমাকে দেখে ফোন রেখে দিয়ে মুখটা গোমড়া করে দিল। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি যদি এই মিশুর সাথে তর কোন উল্টা পাল্টা সম্পর্ক থাকে না মাইশা তাহলে আমি তদের কাউকে ছাড়ব না।


আমি ধীরে ধীরে মাইশার সামনে গেলাম। মাইশা আমাকে দেখে ধীরে ধীরে কান্না করতে শুরু করল। এতক্ষন হয়তো আমি রেগে ছিলাম তবে মাইশার কান্না দেখলে আমি সহ্য করতে পারি না।


মাইশার মাথায় হাত দিয়ে বললাম সরি আমার ভুল হয়ে গেছে।


মাইশা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল আপনি কেন বুঝেন না আপনাকে আমি কতটা ভালবাসি।‌ বিয়ের পর মেয়েরা শুধু এক পুরুষে আসক্ত হয়। সেটা হল তার স্বামী। আপনি কিভাবে বলতে পারেন আমার শরীরে পর পুরুষের গন্ধ আসে। কিভাবে এই কথাটা আপনি বলতে পারলেন।


- আমার ভুল হয়েছে।‌ আমি অনেক অনেক সরি।


" আমি শুধু আপনাকে ভালবাসি। পুরো জীবনটা কাটিয়ে দিলাম এই স্বামীর‌ কষ্টের দিকে তাকিয়ে। এখন বলেন আমি কিভাবে।


" তোমার যত ইচ্ছে গালি দাও আমাকে আমি এখন কিছু বলব না। কিছু বললে তো এখন আবার আমার উপর তুমি রাগ দেখাবে।


মাইশা আমাকে ছেড়ে দিয়ে মুখে একটু লজ্জা এনে বলল আপনি তো জানেন আমি প্রেগন্যান্ট। আম্মা বলছে আপনাকে কিছু।


- তুমি না বাসর রাতে বলছিলে অন্য কথা। আর এখন বলছ যে তুমি প্রেগন্যান্ট। 


- আমাদের বাচ্চা হবে এতে কি তুমি খুশি না।


" কথা তো ছিল!


- কথা কি ছিল না ছিল এগুলো আমি জানতে চাই না। আমাদের বাচ্চা হবে এতে আপনি খুশি কি না বলেন।


- খুশি হব না কেন। তবে আমার ছোট বেলায় অনেক ইচ্ছে ছিল আমি আমার বাচ্চাকে ডিএনএ টেস্ট করাব। আমি পুরোপুরি ভাবে বিশ্বাস করে কাগজ নিয়ে সবাইকে বলব যে এটা আমার ছেলে।  


আমার কথা শুনে মাইশার চোখে মুখে একটা ভয়ের ছাপ কাজ করতে লাগল। আমার ভিতরে তো একটু সন্দেহ আগে থেকেই কাজ করছিল যেই মেয়ে আমার সাথে একটু ভালো করে কথা বলে না সেই মেয়ে কিভাবে হঠাৎ করে প্রেগন্যান্ট হয়ে গেল। মানলাম ও আমার বউ কিন্তু এখানে তো আমার একটা মত অমতের বিষয় আছে নাকি। আর কারো কথায় আমার সন্দেহ করা উচিত না। তবে এটা যদি আমার বাচ্চা হয় তাহলে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হব। বিছানার এক পাশে হাত রাখতেই নিচে একটা কিছু রাখা আছে মনে হচ্ছে।


আমি একটু সন্দেহ ভাবেই বিছানার চাদর সরিয়ে দেখি ইয়া বড় একটা দাঁড়ালো তলোয়ার। হাতটা একটু লাগাতেই হাত কেটে রক্ত বের হতে লাগল আমার। আমি চোখ তুলে তাকিয়ে মাইশা কে সুন্দর করলেই বললাম এসব কি। তুমি ভালো করেই জান।


মাইশা জোরে জোরে কান্না করে বলল আম্মা আপনি দেখে যান আপনার ছেলে আমার সাথে বাজে ব্যবহার করছে। আমাকে বকা দেয় আম্মা।


আম্মা দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে আমাকে বলল এই তুই আমার বউমার সাথে একদম বেয়াদবি করবি না বলে দিলাম। ওকে বকা দিবি না সাবধান। আর তর হাতে ছুড়ি কেন।


আমি কিছু বলার আগে মাইশা বলল আম্মা এটা আমি রাখছি। আপনি তো জানেন আপনার ছেলে উঠে দাঁড়াতে পারে না। হঠাৎ যদি আমাদের বাসায় চুর এসে যাই তখন আমি কি করব বলেন আম্মা। আপনার ছেলে তো তখন ইচ্ছা করলেও কিছু করতে পারবে না। এজন্য এটা বিছানার নিচে রাখছি আমাদের সেফটির জন্য। ভাল করছি না বলেন আম্মা।


আম্মা হাসি দিয়ে বলল হু মা খুব খুব ভালো করেছ। তোমার দেখি আমার ছেলের থেকেও বেশি বুদ্ধি। আমি তো বলদ একটা ছেলে জন্ম দিয়েছি দেখ কিভাবে বলদের মতো আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।


আম্মুর কথা শুনে একটা মুচকি হাসি দিলাম। সত্যি কি আমি এত বড়ই বলদ। নয়লে আমার সামনে এতকিছু হয়ে যাচ্ছে আমি কিছু বলছি না। শুধু একটু সুতো পরিমাণের প্রমাণ পাই না তাহলে আমি বাঁচি আর মরি এটা দেখব না। আমি দেখিয়ে দিব যে এই প্রতিবন্ধী ছেলে কি কি করতে পারে।


মাইশা- আচ্ছা আম্মা আমি ফ্রেশ হয়ে আসি। এসে আপনার রান্না করা খাবার খাব।


মাইশা ওয়াস রুমে চলে গেল। আম্মা বলল বাবা তর আজকে কী হয়েছে হঠাৎ করে বউমার সাথে এমন ব্যবহার করছিস কেন।


আমি বিছানার...


waiting for next এই ওয়েবসাইটেই দেওয়া হবে


,, নামাজ বাদ দিয় না বন্ধু এপারের চেয়ে ওপারের জীবন অনেক সুন্দর,,

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url