#বেপরোয়া_ভালোবাসা
#মায়াবিনী_মাহরীন
#পর্ব_৯= ১০-১১
একটা বাঁকা হাসি দিয়ে রায়হান মেয়েটার দিকে তাকালো।
— কয়টা মালা আছে?
মেয়েটার চোখ ঝিলমিল করে উঠলো।
— পাঁচটা।
— কত পাঁচটা?
— পাঁচশো টাকা। একশো কইরা। কয়টা দিবো ভাইয়া?
এক মুহূর্তের জন্য রায়হান কিছু বললো না। তার চোখ পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা অরিত্রির দিকে চলে গেল। অরিত্রি বুঝতে পারলো না কেন, কিন্তু হঠাৎ বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত চাপ অনুভব করলো। এরপরেই রায়হান—
— পাঁচটাই দাও।
অরিত্রি অবাক হয়ে তাকাল।
মেয়েটা যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না। তাড়াতাড়ি পাঁচটা মালা পলিথিনে মুড়ে দিলো।
রায়হান পকেট থেকে হাজার টাকার নোট বের করে দিলো।
— ভাংতি নাই ভাইয়া…
— লাগবে না। পুরোটাই রাখো।
মেয়েটার চোখ ভিজে উঠলো।
— আপনে অনেক ভালো ভাইয়া।
রায়হান হালকা হাসলো, কিন্তু সেই হাসিতে আনন্দ ছিল না।
সে এগিয়ে গেল। অরিত্রি নিঃশব্দে তার পেছনে হাঁটতে লাগলো। কিছুদূর গিয়ে রায়হান হঠাৎ থামলো। পলিথিনটা অরিত্রির দিকে বাড়িয়ে দিলো।
— এটা নিন।
— আমি মালা....
রায়হানের চোখে তাকিয়ে বাকিটা আর বের হলো না।
অরিত্রি চুপচাপ মালাগুলো নিয়ে নিলো। কেন জানি তার হাত কেঁপে উঠছিল।
এরপর তারা ডিনারের জন্য চলে যায়। ডিনারে বসে কেউই তেমন কথা বলছিল না। চামচের শব্দ, প্লেটের ঘর্ষণ— এইটুকুই শুধু শোনা যাচ্ছিল।
হঠাৎ অরিত্রির ফোন বেজে উঠলো। সে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কল কেটে দিলো
আবার ফোন এলো। আবার কেটে দিলো।
তৃতীয়বার ফোন বেজে উঠতেই রায়হান চোখ তুলে তাকালো।
— Pick up the phone.
— সমস্যা নেই স্যার।
অরিত্রি ফোনটা সাইলেন্ট করে রাখলো। এক সেকেন্ডের জন্য রায়হানের দৃষ্টি তার মুখে স্থির হয়ে রইলো। তারপর আবার খাবারের দিকে ফিরে গেল।
খাওয়া শেষ হতেই রায়হান কিছু পেপার বের করলো। কাজের কথা শুরু হলো। কিন্তু অরিত্রির মন বারবার ফোনের দিকে চলে যাচ্ছে—এই জিনিসটা রায়হানের চোখ এড়ালো না।
— কথা বলে আসুন।
আর দেরি করলো না অরিত্রি। ফোন হাতে একটু দূরে সরে গেল।
— নোমান… আমি বিজি। ফ্রী হয়ে কল দিচ্ছি।
— এত রাত হয়ে গেছে। এখনো কাজ?
— কাল ভিজিট। ডিটেইলস দেখছি।
— নিশ্চয়ই সেই শকুন স্যারের সাথে?
অরিত্রি অনিচ্ছায় মাথা ঘুরিয়ে রায়হানের দিকে তাকালো।
— হুম। রাখছি।
অরিত্রি ফিরে এসে বসতেই রায়হান শান্ত কণ্ঠে বললো—
— Go to sleep.
— কিন্তু স্যার...
— কাল কথা হবে। সকাল ন’টার মধ্যে রেডি থাকবেন।
— ওকে স্যার। গুড নাইট।
ফাইলগুলো নিয়ে উঠে গেল অরিত্রি।
রায়হান তাকিয়ে রইলো। যতক্ষণ তাকে দেখা যাচ্ছিল—ততক্ষণই।
অরিত্রি রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে বাসায় ফোন দিলো। সব খোঁজ খবর নিলো। এরপর ফোন দিলো নোমানকে। সারাদিনের সব ঘটনা নোমানের সাথে শেয়ার করলো এরপর সে ঘুমিয়ে গেলো।
--------
রাত প্রায় তিনটা।
হোটেলের কোরিডোরে নরম আলো। রায়হান ইজি চেয়ারে বসে আছে আর একটার পর একটা সিগারেট টানছে। হাত কাঁপছে না—কিন্তু মনটা অস্থির।
কিছুক্ষন পর সে ফোন বের করলো।
একটা নাম— “My Heart”
কল বাটনে আঙুল গিয়েও থেমে গেল রায়হান। কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলো সে। তারপর ফোনটা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলো।
----------
সকাল সাড়ে সাতটায় অ্যালার্মে ঘুম ভাঙলো অরিত্রির। ফ্রেস হয়ে সে চলে গেলো বেলকনিতে। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের দিকে তাকালো। এখান থেকে বীচের ফুল ভিউটা পাওয়া যায়।
ঢেউয়ের শব্দে যেন সব ক্লান্তি ধুয়ে যাচ্ছে অরিত্রির। কিছুক্ষন এভাবেই দাঁড়িয়ে থেকে এরপর চলে গেলো রেডি হতে।
আজ সে নীল সালোয়ার কামিজ পরেছে। প্রতিদিনের মতো আজকেও চুল খোলা।
নিজেকে অদ্ভুতভাবে শান্ত লাগছে।
রেডি হতেই তার ফোন বেজে উঠলো। মায়ের ফোন। অরিত্রি বেশ কিছুক্ষন কথা বললো। এরপর সে রায়হানকে কল দিলো। দুই রিং হতেই রায়হান কলটা রিসিভ করে—
— রেডি?
— হ্যাঁ স্যার।
— বের হন।
অরিত্রি বের হয়ে কোরিডোরে হাটতে থাকে। কিছুক্ষন পর রায়হানও আসে। ১ সেকেন্ড অরিত্রির দিকে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নেয় সে। এরপর
— চলুন।
অরিত্রি খেয়াল করলো রায়হানের চোখ লাল হয়ে আছে। কিন্তু তা নিয়ে সে মাথা ঘামালো না। রায়হানের পিছন পিছন চলতে লাগলো।
দুজনে ব্রেকফাস্ট করে গাড়িতে উঠে বসে পড়ে। ১০ মিনিটের মধ্যেই তারা পৌছেও যায়। সেখানে ম্যানেজারসহ আরও স্টাফরা ওয়েট করছিলো। রায়হান বেইজ, ম্যানেজমেন্ট সবকিছু চেক করলো। অরিত্রি পেপার দেখে এমাউন্ট বলছে আর রায়হান সব মিলাচ্ছে। প্রায় ২ ঘন্টা তারা সেখানে কাজ করলো। সেখানে সব ডাটা কালেক্ট করে হেড অফিসে পাঠালো। সেখানে হিমেল সব চেক করে আজ রাতে আবার কনফার্ম করলে কালকে এগ্রিমেন্ট পেপারে সাইন করলেই এখানের কাজ শেষ।
এরপর সেখান থেকে বের হয়ে তারা রেস্টুরেন্টে গিয়ে কফি অর্ডার করলো। সামনা সামনি বসে দুজন কফি খাচ্ছে। রায়হানের এক হাতে কফির মগ আরেক হাতে ফোন।
অরিত্রি কফি খাচ্ছে, মাঝে মাঝে রায়হানের দিকে তাকাচ্ছে আবার বাইরের ভিউ দেখছে। কারও মুখে কোনো কথা নেই। যেন দুটো বোবা প্রানি এখানে বসে আছে।
বেশ কিছুক্ষন পর নিরবতা ভেঙে রায়হান
— আজকের মতো আর কাজ নেই। আপনি চান তো মেরিনড্রাইভে যাওয়া যায়।
অরিত্রি ভাবলো এভাবে রুমে বসে না থেকে ঘুরে আসলেই ভালো লাগবে।
— হুম যাওয়া যায়।
রায়হান— ওকে। আমি ড্রাইভারকে কল করছি।
কিছুক্ষন পর তারা বের হয়ে পরে মেরিনড্রাইভের উদ্দেশ্য। জানালার গ্লাস নামানো থাকায় বাতাস লাগছে খুব। বাতাসে অরিত্রির চুলগুলো মুখের উপর এসে পরছে। অরিত্রির সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। সে সিটে মাথা এলিয়ে দিয়ে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে বাহিরের দিকে। এক পাশে সমুদ্র আরেক পাশে পাহাড়, এক অপূর্ব সৌন্দর্য। কিন্তু দুজন মানুষ দুটো দুনিয়ার হওয়ায় কেউই এটার ফিল নিতে পারছে না।
এক মুহুর্তের জন্য রায়হানের চোখ যায় অরিত্রির দিকে। এরপর সে আবার মনোযোগ দেয় নিজের ফোনে।
এভাবেই সারাদিন ঘুরাঘুরি, খাওয়া দাওয়া করে তারা সন্ধ্যার দিকে হোটেলের সামনে নামলো। কিন্তু হোটেলে না গিয়ে তারা বীচে গিয়ে বসলো। তখন সন্ধ্যা নেমে গেছে। বীচে মানুষের হৈ-হুল্লোড় ও কমে গিয়েছে। কিন্তু সাগরের গর্জন একই রকমই রয়ে গেছে।
বেশকিছুক্ষন সেখানে বসে থাকার পর তারা হোটেলে ব্যাক করে। ফ্রেস হয়ে দুজনে ডিনারের জন্য আসে। কিন্তু আজও একই ঘটনা ঘটলো খাবার টেবিলে।
হঠাৎ অরিত্রির ফোন বেজে উঠলো। ফোন বেজে উঠলে রায়হান অরিত্রির ফোনের দিকে তাকায়। স্ক্রিনে উঠে থাকে — নোমান নামটি।
রায়হান চোখ সরিয়ে আবার খাবারের দিকে মনোযোগ দেয়। অরিত্রি আস্তে ফোনটা কেটে দিয়ে উল্টে রাখে। ডিনার শেষে রায়হান অরিত্রির হাত চেপে ধরে। এরপর টানতে টানতে নিজের রুমে চলে যায়।
অরিত্রি— সমস্যা কি আপনার? এসবের মানে কি? আপনার চাকরি করি বলে কি মাথা কিনে নিয়েছেন, যে যখন যা মন চাইবে তাই করবেন???
রায়হান অরিত্রির কথায় মাথা গরম করে না। আস্তে জিজ্ঞেস করে
— কে ফোন দিয়েছিলো? প্রেমিক?
অরিত্রি রায়হানের এমন প্রশ্নে আরও রেগে যায়
— আমার প্রেমিক হোক কিংবা আমার স্বামী হোক তাতে আপনার কি সমস্যা? আপনি আমার বস আমি আপনার কর্মচারি ব্যাস। এর বেশি কিছু জানার অধিকার আপনার নেই।
কথাগুলো এক দমে বলে অরিত্রি একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে। এরপর আমি আসছি বলেই সে চলে যেতে চায় সে।
তখনই রায়হান অরিত্রির হাত ধরে ফেলে আর এক ঝটকায় তাকে দেয়ালের সাথে মিশিয়ে নেয়। এরপর নরম সুরে রায়হান
— তুমি যদি ভালোবাসার মানচিত্র হও, তবে তোমার হৃদয়ের মানচিত্রের একমাত্র সীমান্ত আমি হতে চাই।
অরিত্রি— মানে??
রায়হান আর কোনো কিছু বলার সুযোগ দেয়না অরিত্রিকে।
#বেপরোয়া_ভালোবাসা
#মায়াবিনী_মাহরীন
#পর্ব_১০
মুহুর্তেই অরিত্রিকে নিজের সাথে মিলিয়ে নেয় রায়হান। অরিত্রি নিজেকে ছাড়ানোর অনেক চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। অরিত্রির ঠোঁট, গলায়, বুকে গভীর ভাবে কিস করতে থাকে। এক পর্যায় পুরোপুরি বেশামাল হয়ে যায় রায়হান। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুরোপুরি ডুবে যায় অরিত্রির মাঝে। অরিত্রির কান্না তার কান পর্যন্ত পৌছায় না। অনেক চেষ্টার পরও যখন রায়হানকে ছাড়াতে পারেনা তখন অরিত্রি থেমে যায়। শুধু কানতে থাকে আর বিছানার চাদর খামছে ধরে রাখে। এভাবেই নিরব যন্ত্রনার মধ্যে দিয়েই রাত পার হয়।
--------
চারপাশে তখনো ভোরের আলো পুরোপুরি ফোটেনি। ঘরের বাতাস ভারী, নিঃশ্বাস নিলেই বুকটায় চাপা লাগে। অরিত্রি কোনো রকমে নিজের ওড়নাটা পেঁচিয়ে নেয়। হাত কাঁপছে, আঙুলগুলো অবশ হয়ে আসছে। ধীরে ধীরে ওয়াশরুমে চলে যায় অরিত্রি।
দরজা বন্ধ হতেই সে ট্যাপ ছেড়ে দেয়। পানির শব্দে নিজের কান্নার আওয়াজ চাপা দিতে চায়। কিন্তু পারে না। দেয়ালে হাত রেখে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সময়ের হিসেব তার কাছে অর্থহীন হয়ে যায়। শরীর ক্লান্ত হয়ে গেছে, চোখ জ্বালা করছে, মাথা ঝিমঝিম করছে অরিত্রির।
প্রায় এক ঘণ্টা পর সে বাইরে আসে।
রায়হান তখন ঘরের এক কোণে বসে মোবাইল স্ক্রিনে চোখ রেখে কিছু একটা পড়ছে। মুখে এমন এক ভাব, যেন কিছুই ঘটেনি। যেন এই ঘরটা এখনো আগের মতোই স্বাভাবিক।
এই নির্লিপ্ততাই অরিত্রির ভেতরে জমে থাকা আগুনটা জ্বালিয়ে দেয়।
সে হঠাৎ এগিয়ে গিয়ে রায়হানের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নেয় এবং মেঝেতে আছাড় মারে।
— “কি ভাবেন আপনি নিজেকে? আপনি একটা মানুষরূপি জানোয়ার। আপনাকে আমি কোনোদিনও ক্ষমা করবো না। অভিশাপ দিবো সারা জীবন।”
কথাগুলো বেরিয়ে আসে কাঁপা গলায়, কিন্তু চোখে আজ ভয় নেই আছে শুধু ঘৃণা।
তারপরই আবার গলা ভেঙে যায়।
— “আপনার কোম্পানির সাথে আমি চুক্তিবদ্ধ না দুই বছরের জন্য??? যাবোনা আমি আর আপনার অফিসে। কি করতে পারেন আপনি করুন। যা ইচ্ছা করুন। আমাকে জাস্ট মুক্তি দিন প্লিজ।”
এই কথাগুলো বলেই অরিত্রির পা দুটো আর তাকে ধরে রাখতে পারে না। সে মেঝেতে বসে পড়ে। কান্নায় শরীর কাঁপছে। মাথা নিচু, চোখে পানি, মনে হাজারটা প্রশ্ন—এখান থেকে বেরোনোর কোনো পথ আছে কি?
কিন্তু রায়হান কোনো উত্তর দেয় না। এক মুহূর্ত তাকিয়েও থাকে না তার দিকে। সে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে যায়।
কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে বের হয়। তার মুখে তখনো সেই একই স্বাভাবিক ভাব। অরিত্রি তখনো মেঝেতেই বসে আছে, কান্না থামেনি।
রায়হান শান্ত গলায় বলে
— “রুমে গিয়ে রেডি হয়ে নিন।”
অরিত্রি মাথা তুলে তাকায়
— “কোথায় যাবো?”
রায়হানের চোখে বিরক্তি
— “এতো প্রশ্ন ভালো লাগে না।”
অরিত্রির ভেতরের জমে থাকা ক্ষোভ এবার মুখে চলে আসে
— “কেন ভালো লাগবে না? আগে মনে ছিল না আপ...”
শেষ করতে পারে না অরিত্রি। রায়হান হঠাৎ রেগে যায়।
— “বেশি বলছেন কিন্তু। কথা বন্ধ করতে হয় কিভাবে সেটা কিন্তু আমার ভালোমতো জানা আছে। সো কথা না বাড়িয়ে যেটা বলছি চুপ চাপ সেটা করেন।”
অরিত্রি আর কিছু বলে না। চোখ মুছে নেয়। নিজের রুমে ফিরে যায়। জামা কাপড় বদলায়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখের দিকে তাকায়—চেনা লাগে না। চোখ ফুলে গেছে, ঠোঁট শুকনো, মুখ ফ্যাকাশে।
একটু পরেই দরজায় নক
— “হয়নি?”
অরিত্রি দরজা খুলতেই রায়হান
— “চলুন।”
রায়হান সামনে হাঁটে, অরিত্রি পেছনে। তার পা চলছে, কিন্তু মনটা এখানে নেই। হোটেলের গেইটে গাড়ি দাঁড়িয়ে ড্রাইভার আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলো। রায়হান সামনে গিয়ে বলে
— “তুমি এখানে থাকো আমি নিজেই ড্রাইভ করছি।”
ড্রাইভার কোনো প্রশ্ন করে না। চাবি দিয়ে চলে যায়। রায়হান অরিত্রির জন্য দরজা খুলে দেয়। সে উঠে বসে। এরপর গাড়ি স্টার্ট দেয়।
কিছুক্ষণ পর রায়হান কাউকে কল দেয়
— “কোন দিক দিয়ে যেতে হবে?”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে
— “ওকে।”
কিছুক্ষন পর রায়হানের ফোন বেজে ওঠে। ফোনটা রিসিভ করে
— “হুম…....
এতো সকালে আসে না আসবে। ২০ হাজার টাকা দিয়ে দাও। আর যেখান থেকে পারো উঠিয়ে আনো। আমি সকাল ৭ টার মধ্যে সব কমপ্লিট দেখতে চাই।”
বলেই রায়হান ফোন কেটে দেয়।
অরিত্রি সব শুনছে। কিন্তু মুখে কোনো কথা নেই। জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকে। চোখ দিয়ে নিঃশব্দে পানি পড়ছে।
কিছুক্ষন পর গাড়ি থামে একটা বিল্ডিংয়ের সামনে। রায়হান নেমে এসে দরজা খুলে দেয়।
— “এখানে কি? এখানে নিয়ে আসলেন কেন?”
রায়হান কোনো উত্তর দেয় না। অরিত্রির হাত ধরে ভেতরে নিয়ে যায়।
ভেতরে ঢুকে অরিত্রি দেখে—একটা অফিসের মতো জায়গা। কয়েকজন লোক বসে আছে। রায়হান ঢুকতেই সবাই উঠে দাঁড়ায়। সে কারও সাথে কথা না বলে চেয়ারে বসে। অরিত্রিকেও বসতে ইশারা করে। ভয়ে ভয়ে অরিত্রি বসে পড়ে।
ঠিক তখনই একজন বলে ওঠে
— “কাজী সাহেব, তাহলে বিয়ে পড়ানো শুরু করে দেন।”
অরিত্রির মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে!!
— “কার বিয়ে?”
রায়হান ঠাণ্ডা গলায়
— “আমাদের।”
— “হোয়াট???? আমি আপনাকে মরে গেলেও বিয়ে করবো না।”
রায়হান অরিত্রির কানে কানে
— “রাতে যেটা হলো, এরপরেও না???”
— “না। দরকার হলে আমি নিজেকে শেষ করে দেব। তবুও না।”
রায়হান এবার হালকা হাসে।
— “মিস অরিত্রি। আপনার বাবা নেই রাইট?? মা আর বোন। মা অসুস্থ, বোন প্রেগন্যান্ট। সব কিছুর ভার আপনার কাধেই তো তাইনা??”
এই কথাগুলো শুনে অরিত্রির শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। সে তাকিয়ে থাকে রায়হানের দিকে কিন্তু মুখে তার কথা বেরোয় না।
তখন আবার রায়হান
— “এরপরেও কি বিয়ে করবেন না?”
চোখের পানি মুছে অরিত্রি খুব নিচু স্বরে বলে
—“হুম।”
রায়হান এবার কাজী সাহেবকে বলে
— “শুরু করুন।”
বিয়ের কাজ শেষ হলে রায়হান অরিত্রির হাত ধরে গাড়িতে তোলে।
রায়হান আপন মনে গাড়ি চালাচ্ছে। তাকে দেখলে কেউ বলবে না এতকিছু হয়ে গেছে। হঠাৎ অরিত্রি বলে উঠলো
— “আপনি খারাপ সেটা জানতাম কিন্তু আপনি যে এতটা খারাপ সেটা আমি কল্পনা করিনি।”
রায়হান হালকা হেসে
— “আমি এর থেকেও অনেক খারাপ, যেটা তোমার ধারনারও বাহিরে।”
অরিত্রি আর কিছু বলে না। তার মনে তখন ঘৃণার আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে।
কিছুক্ষন পর হোটেলের সামনে গাড়ি থামলে অরিত্রি নেমে হনহন করে রুমে চলে যায়। এরপর বিছানায় মুখ চেপে কাঁদতে থাকে। কাঁদতে কাঁদতে সে ঘুমিয়ে পড়ে।
চোখ খুলে অরিত্রি ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে বেলা পোনে একটা বাজে। সে চমকে উঠে। কিন্তু তার থেকেও বেশি চমকে উঠে যখন দেখে বেলকনিতে রায়হান বসে আছে।
অরিত্রিকে উঠতে দেখে রায়হান
— “ঘুম হলো?”
— “ফাইজলামি করেন আমার সাথে? এখানে আসলেন কিভাবে আপনি? আমি তো দরজা লক করেই ঢুকেছিলাম।”
— “এটা তোমার বাসা না যে এখানে দরজার সব চাবি তোমার আঁচলে ঝুলানো থাকবে।”
— “তুমি করে কেন বলছেন আমাকে?”
— “কারন এখন তুমি আমার বিয়ে করা বউ।”
— “আমি জীবনেও আপনাকে স্বামী বলে মেনে নেবো না। আমি মামলা করবো আপনার নামে।”
— “বেশি কথা বলছো না সকাল থেকে? বেশি বাড়লে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না। মাইন্ড ইট।”
তখনই অরিত্রির ফোন বেজে ওঠে।
নোমান কল করেছে।
রায়হান ফোনটা অরিত্রির হাত থেকে কেড়ে নেয়। এরপর কল কেটে ব্লক করে দেয় নোমানের নাম্বার। এরপর বলে
— “যদি নিজের, নিজের ফ্যামিলির আর এই ছেলের ভালো চাও তাহলে যেভাবে বলবো সেভাবে চলবে।”
একটু থেকে
— “সকাল থেকে খাইনি খিদে পেয়েছে। ১০ মিনিটের ভেতর রেডি হয়ে বের হউ।”
এই বলেই রায়হান বেরিয়ে যায়।
অরিত্রি বিছানায় বসে পড়ে। চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ছে কিন্তু মুখে কোনো শব্দ নেই
— “আল্লাহ আমাকে কোন পরীক্ষায় ফেললে!!!”
এই প্রশ্নটাই তার মাথার ভেতর ঘুরতে থাকে।
এরপর ফ্রেস হয়ে বের হয় খাওয়া দাওয়া করবার জন্য। খাওয়ার মাঝে কেউ কোনো কথা বললো না। খাবার শেষে রায়হান
— “সকালের ফ্লাইট টা মিস হয়েছে। বিকেল ৫ টায় ফ্লাইট। এটা যেন মিস না হয়।”
এই বলেই সে নিজের রুমের দিকে হাটা দিলো। অরিত্রি কিছুক্ষন এভাবেই বসে রইলো। এরপর সে ও উঠে নিজের রুমে গেলো।
সব গোছগাছ করে রেডি হয়ে বসে রইলো অরিত্রি। বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে তারা হোটেল থেকে বের হয়ে গেলো। ঢাকায় পৌছাতে তাদের প্রায় ৮ টার মতো বেজে গেলো।
এয়ারপোর্টে রায়হানের ড্রাইভার আগে থেকেই গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিলো। রায়হান অরিত্রিকে তার বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে গেলো। যাওয়ার আগে শুধু একটা কথাই বললো
— “I hope to see you at the office tomorrow at the right time.”
অরিত্রি কোনো উত্তর দেয়না। রায়হানের গাড়ি চলে যায়। অরিত্রি চোখ মুখ মুছে নিজেকে সামলে লাগেজ নিয়ে বাসায় যায়। কলিং বেল বাজাতেই বড় বোন এসে দরজা খুলে দেয়।
অনিমা— “কিরে তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন?”
অরিত্রি— “জার্নি করে এসেছি আর ঘুম হয়নি তো তাই।”
অরিত্রির মা এগিয়ে এসে— “ফ্রেস হয়ে আয় খাবার দিচ্ছি। খেয়ে একটা ঘুম দে।”
অরিত্রি— “খাবো না মা। খেয়েছি। খিদে নেই এখন। আমি একটু ঘুমাই হ্যা।”
অরিত্রি নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।
নিরবে চোখের পানি মুছতে থাকে আর ভাবে এসব এখনি বাসায় বলা যাবে না। এমনিতেই মায়ের শরীর ভালো না। আর আপুর এই অবস্থায়। না না। কিচ্ছু বলা যাবে না৷ কিন্তু আমি কি করবো৷ এর থেকে কিভাবে মুক্তি পাবো আমি। উনি তো আমাকে এমনি এমনি ছেড়ে দেবেন না। কিন্তু তিনি আমাকে বিয়ে কেন করলেন? আমাকে কি দয়া করলেন? কিন্তু সে তো চাইলে আমার মতো হাজারটা মেয়েকে পেতে পারে। তাহলে কেন করলো এমনটা।
কোনো হিসেব মিলছে না। মাথা ভার হয়ে যাচ্ছে। এসব আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে অরিত্রি এভাবেই ঘুমিয়ে যায়।
#চলবে.......
গল্পটি ভালো না লাগলে ইগনোর করবেন 😊 ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট করে পাশে থাকবেন 🥰 দয়া করে কেউ কপি করবেন না। ধন্যবাদ 💕#বেপরোয়া_ভালোবাসা
#মায়াবিনী_মাহরীন
#পর্ব_১১
সকালে অরিত্রির ঘুম ভেঙে গেলো কলিং বেলের শব্দে।
এতো সকালে কে এলো বলতে বলতেই অরিত্রির মা গিয়ে দরজা খুলে দিলো। পিছন পিছন অরিত্রি আর অনিমাও ড্রয়িং রুমে এলো। অরিত্রির মা দরজা খুলতেই দেখে দরজার সামনে কয়েকটা ব্যাগ রাখা। সাথে একটা ফুলের তোরা। এসব দেখে তিন জনেই হকচকিয়ে গেলো।
অরিত্রি এগিয়ে গিয়ে উঁকি দিলো কিন্তু কারও দেখা পেলো না।
অরিত্রির মা— সকাল সকাল কে রেখে গেলো এসব। কিছুই তো বুঝলাম না।
তখনই অরিত্রির ফোন বেজে উঠলো। অরিত্রি রুমে গিয়ে ফোন হাতে নিতেই দেখে রায়হানের ফোন। কয়েক সেকেন্ড ভেবে ফোনটা রিসিভ করলো। সাথে সাথে ওপাশ থেকে—
— জিনিসগুলো পেয়েছো?
অরিত্রি রেগে গেলো
— তার মানে এসব আপনি করেছেন?
— হ্যা
— এসবের মানে কি?
— শ্বশুড়বাড়ির জন্য এতটুকু তো করতেই পারিনা তাইনা?
— কিসের শ্বশুড়বাড়ি??? আমি কোনোদিন আপনাকে স্বামী বলে মানবো না।
— তুমি কি চাইছো আমি এখন তোমার বাসায় এসে সবটা বলি?
অরিত্রি নিশ্চুপ...
— ভালো চাইলে চুপচাপ জিনিসগুলো রেখে দাও। আর হ্যা ঠিক টাইমে যেন অফিসে দেখি।
বলেই ফোন কেটে দিলো।
অরিত্রি মাথায় হাত দিয়ে বিছানায় বসে পরলো। সমস্যা টা কি উনার। আমার জীবনটা পুরো জাহান্নাম বানিয়ে দিচ্ছে। এর শেষ কোথায় কে জানে!
পরের মুহুর্তেই সে আবার ড্রয়িং রুমে গেলো এরপর
— মা, এগুলো আমার এক ফ্রেন্ড পাঠিয়েছে
অরিত্রির মা আর অনিমা দুজনেই অরিত্রির দিকে তাকালো
— কোন ফ্রেন্ড? আর কেন পাঠিয়েছে? বাসায় কেন আসলো না?
অরিত্রি বিরক্ত হচ্ছে
— আহ এত্ত কথা বলছো কেন? ওর ন..নতুন চ..চাকরি হয়েছে..ত..তাই। দেশের বাহিরে থাকে.. তাই..
তোতলাতে তোতলাতে কথা গুলো বলে ব্যাগ গুলো ভিতরে এনে রাখলো অরিত্রি। সোফার এক কোনায় ব্যাগ গুলো রাখা আরেক কোনায় বসে ব্যাগ গুলোর দিকে তাকিয়ে আছে অরিত্রি। আকাশ পাতাল চিন্তা করে আস্তে আস্তে ব্যাগ গুলো খুললো অরিত্রি।
একটা ব্যাগে মিষ্টির প্যাকেট। আরেক ব্যাগে অরিত্রির মায়ের জন্য শাড়ি। অরিত্রির বোনের জন্য শাড়ি। আরেক ব্যাগে একটা কালো রঙের জরজেট শাড়ি। ওই ব্যাগে একটা চিরকুট — For Mrs. Mirza.
লেখাটা পড়ে অরিত্রির চোখ বড়সড় হয়ে যায়। কেউ দেখার আগে কাগজটা সরিয়ে ফেলে অরিত্রি। এরপর নিজের রুমে চলে যায়।
অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও রেডি হয়ে অফিসের জন্য বের হয়। অফিসে গিয়ে নিজের ডেস্কে বসতেই রায়হান নিজের কেবিনে ডাকলো অরিত্রিকে। অরিত্রিকে কেবিনে গিয়ে
— Yes..
রায়হান শান্ত গলায়
— কফি!!!
অরিত্রি একটা নিঃশ্বাস ফেলে কফি বানাতে চলে গেলো এরপর কফির মগটা রায়হানের টেবিলে রেখে
— কেন করছেন এমন?
— কেমন করছি?
— বুঝতে পারছেন না কেমন করছেন?
রায়হান চেয়ারে সোজা হয়ে বসতে বসতে
— বোঝাও...
অরিত্রি চোখটা বন্ধ করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে
— প্লিজ মুক্তি দিন না আমাকে। আমার আর ভালো লাগছে না। আমি ক্লান্ত। প্লিজ।
রায়হান এবার চেয়ার ছেড়ে উঠে অরিত্রির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে অরিত্রির চোখের দিকে তাকালো। এই দৃষ্টিটা অন্য দিনের মতো না। এই চোখ আজ অন্য রকম, এখানে কি আছে অরিত্রি জানে না আর জানার চেষ্টাও করলো না। হঠাৎই রায়হান বললো
— আমার থেকে মুক্তি তুমি কখনোই পাবে না, মিসেস মির্জা।
অরিত্রি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে
— কেন করছেন আমার সাথে এমন?
রায়হান একটা বাকা হাসি দিয়ে
— রায়হান মির্জা কখনো কাউকে কৈফিয়ত দেয়না।
একটু থেমে আবার
— ডেস্কে যাও। নিজেও কাজে মন দাও আর আমাকেও দিতে দাও।
বলেই রায়হান আবার নিজের চেয়ারে গিয়ে বসলো।
অরিত্রি বুঝতে পারছে উনার সাথে কথা বলে লাভ নাই। তাই আর কথা না বাড়িয়ে নিজের ডেস্কে চলে গেলো।
সারাদিন আর রায়হান কোনো রকম ঝামেলা করলো না অরিত্রির সাথে। কিন্তু লাস্ট আওয়ারে হঠাৎ রায়হানের ডাক পরলো।
অরিত্রি কেবিনের সামনে গিয়ে নক করার আগেই রায়হান
— ভেতরে আসো
অরিত্রি ভেতরে গেলে রায়হান
— আমার কেবিনে আসতে তোমার কোনো পারমিশনের প্রয়োজন নেই।
অরিত্রি মনে মনে হাজারটা গালি দিলেও মুখে কিছু বললো না। কিন্তু রায়হান বলতেই লাগলো
— আমি ড্রাইভারকে বলে দিয়েছি, প্রতিদিন তোমাকে সকালে বাসা থেকে নিয়ে আসবে আবার অফিস শেষে বাসায় দিয়ে আসবে। আজকে অফিস শেষে গাড়ি করে চলে যেও।
অরিত্রি অবাক হয়ে
— কেন??
— রায়হান মির্জার ওয়াইফ বাসে চলাফেরা করবে, এটা ভালো দেখাবে না।
অরিত্রি এবার রেগে গেলো
— ভালো তো অনেক কিছুই দেখায় না তাহলে....
অরিত্রি শেষ করার আগেই রায়হান
— তাহলে বলো তো তোমায় নিয়ে আসি আমার বাসায়!!
অরিত্রি কি উত্তর দিবে ভাবতে ভাবতে রায়হান আবার
— তুমি চাইলে চাকরি টা না করলেও পারো। আমিই তো যথেষ্ট তোমার জন্য।
অরিত্রির মুখ থেকে কোনো কথাই বের হচ্ছে না। বলবে টাই বা কি সে। কোনো কথাই খুঁজে পাচ্ছে না। কিছু সময় পরে রায়হান নিজেই বলে
— তাহলে এখন আসুন মিসেস মির্জা।
অরিত্রি কেবিন থেকে বের হয়ে গেলো।
অফিস শেষে অরিত্রি নিচে নামতেই দেখে অফিসের গেইটে নোমান দাঁড়িয়ে আছে। অরিত্রি দ্রুত এগিয়ে যায় নোমানের কাছে
— তুমি এখানে কেন এসেছো?? তারাতাড়ি যাও এখান থেকে।
নোমান— তুমি ফোনে আমাকে ব্লক করেছো। কোনো খোঁজ নেই হঠাৎ করে। চিন্তা হয় না?
অরিত্রি— আচ্ছা একটু দূরে গিয়ে কথা বলি... তুমি এখান থেকে সরো প্লিজ
বলতে বলতেই হাজির হয় সেখানে রায়হান মির্জা।
নোমানের দিকে ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে
— কি সমস্যা?
নোমান— কোথায় কি সমস্যা? আমি আমার ফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলতে এসেছি।
রায়হান— অরিত্রি নামের কোনো ফ্রেন্ড ছিলো, সেটা আজ থেকে ভুলে যাও।
নোমান— আপনার কি মাথায় সমস্যা? এভাবে কথা বলছেন কেন?
এবার রায়হান রেগে গিয়ে নোমানের কলার চেপে ধরলো। অরিত্রি ভয় পেয়ে এগিয়ে এলো আর আসপাশে তাকাতে লাগলো।
অরিত্রি— কি করছেন আপনি। ছেড়ে দিন। ছাড়ুন।
রায়হান এক পলক অরিত্রির দিকে তাকিয়ে আবার নোমানের দিকে তাকায়। এরপর বলে
— আর কখনো যদি অরিত্রির আস পাশে দেখি তাহলে চোখ উঠিয়ে ফেলবো। আজকে ছেড়ে দিচ্ছি। এক্ষুনি চলে যা এখান থেকে।
নোমান রাগে কটমট করতে করতে বাইক স্টার্ট দিয়ে চলে যায়।
অরিত্রি— কাজটা ভালো করলেন না আপনি একদমই।
রায়হান— খুব মায়া লাগে ওর জন্য?
অরিত্রি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে
— দেখুন, আপনি যেটা ভাবছেন সেটা না। ও আমার ফ্রেন্ড। এর বাহিরে ওর সাথে আমার কিছু নেই। কিন্তু আপনি যেটা করলেন আজ খুব খারাপ করেছেন।
রায়হান দাঁতে দাঁত চেপে
— এখনো কিছুই করিনি। যদি এরপর তোমার আসপাশে দেখি তাহলে ওর হাত পা ভেঙে নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে আসবো।
অরিত্রি— ও আমার ফ্রেন্ড। আমার সাথে ও দেখা করতেই পারে!!!
রায়হান— না, পারে না। আমি কোনো ছেলের ছায়াও allow করবো না তোমার পাশে।
অরিত্রি কিছু বলতে গেলে রায়হান
— আর কোনো কথা শুনতে চাচ্ছি না। যাও বাসায় যাও।
বলেই গাড়ির দিকে ইশারা করলো রায়হান।
অরিত্রি চুপচাপ গাড়িতে গিয়ে বসলো।
---------
রাতে খেতে বসে গলা দিয়ে খাবার নামছে না অরিত্রির। সব কাহিনি চোখের সামনে ভেসে আসছে। অনেক কষ্টে একটু মুখে দিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।
নিজের বলতে আছে শুধু এই ঘুমটা। যতক্ষন ঘুমায় ততক্ষনই মনের মধ্যে শান্তি থাকে, মাথায় কোনো বাজে চিন্তা থাকে না। এসব ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পরলো সে।
সকালে উঠে একই রুটিন। অফিস, রায়হানের অত্যাচার। অফিস শেষে বাসা। এভাবেই পেরিয়ে যাচ্ছে সময়।
কেটে গেলো ১ মাস
সেদিন রাতে হঠাৎ করে কান্নার শব্দে ঘুম ভেঙে যায় অরিত্রির........
#চলবে.......
গল্পটি ভালো না লাগলে ইগনোর করবেন 😊 ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট করে পাশে থাকবেন 🥰 দয়া করে কেউ কপি করবেন না। ধন্যবাদ 💕
