#বেপরোয়া_ভালোবাসা
#মায়াবিনী_মাহরীন
#পর্ব_১২-১৩
কান্নার শব্দ কোথার থেকে আসছে সেটা বুঝার চেষ্টা করে অরিত্রি। মুহুর্তে বুঝেও ফেলে। আপু.......
বলেই অরিত্রি দৌড়ে অনিমার রুমের দিকে যায়। তার মা ও ছুটে আসে। অনিমার ব্লিডিং হতে থাকে। অরিত্রি দ্রুত হসপিটালে ফোন দেয়, এম্বুলেন্স আসতে বলে। কোনো রকম মা আর বোন দুপাশে ধরে নিচে নামিয়ে নিয়ে আসে। এরপর এম্বুলেন্সে উঠেয়েই হসপিটালের দিকে চলে যায়।
হসপিটালে যেতেই ফজরের আজান কানে ভেসে আসে।
ইমারজেন্সি তে যারা ছিলো তারাই প্রাথমিক ভাবে অনিমার ট্রিটমেন্ট দেয়। তবে তারা জানায় কালকেই হয়তো সিজার করে ফেলতে হবে। ৭ টা পর্যন্ত অব্জার্ভ করে এরপর অনিমাকে কেবিনে দিয়েছে। সকালে কিছু টেস্ট করতে হবে। এরপর সেগুলোর উপর নির্ভর করে সিজারের সিদ্ধান্ত নেবে ডাক্তার।
অনিমার সেলাইন চলছে। আর দুই প্রান্তে বসে আছে অরিত্রি আর তার মা। এভাবেই সকাল হয়ে যায়। অরিত্রি ব্যস্ত হয়ে পরে অনিমাকে নিয়ে টেস্ট করাতে যাবার জন্য। তখনই অরিত্রির ফোন বেজে উঠলো।
সুমন ভাই ফোন করছেন। উনি হলো রায়হানের ড্রাইভার। অর্থাৎ ইনিই প্রতিদিন অরিত্রিকে বাসা থেকে অফিসে নিয়ে যায় আবার অফিস থেকে বাসায়।
অরিত্রি ফোন রিসিভ করেই
— সুমন ভাই। আমি আসলে সরি। আমি আজ যেতে পারবো না অফিসে। এরপর অরিত্রি সব খুলে বলে তাকে।
সুমন ভাই
— আচ্ছা ম্যাম।
বলেই ফোন কেটে দেয়।
এরপর অরিত্রি অনিমাকে নিয়ে টেস্ট করতে চলে যায়। অরিত্রির মা তখন বাসায় গিয়েছিলো রান্না করতে। যদি আজ সিজার করে ফেলে তাহলে তো অনেক কাজ। সেগুলোই এই ফাকে গোছগাছ করতে সে বাসায় চলে যায়।
অরিত্রির ফোন ব্যাগে ছিলো। অনেক মানুষের ভীড়ে সে নিজের ফোনের শব্দ শুনতে পায় না।
টেস্ট শেষ করে অনিমাকে নিয়ে কেবিনে ফিরে যায় অরিত্রি। ততক্ষনে তাদের মা ও খাবার নিয়ে ফিরে আসে। তিনি দুই মেয়েকে এক সাথে খাইয়ে দিলেন। ১ ঘন্টা পরেই অনিমার রিপোর্ট আনতে কাউন্টারে যায় অরিত্রি। সেখানে জিগ্যেস করলো পেমেন্ট কি ক্যাশ করবে নাকি কার্ড। অরিত্রি ২ সেকেন্ড ভেবে বললো
— ক্যাশ
ঠিক তখনই পেছন থেকে কেউ বলে উঠলো
— কার্ড
অরিত্রি পিছনে ফিরে তাকিয়ে চমকে গেলো
— আপনি?
রায়হান একটু এগিয়ে এসে
— এলাম
অরিত্রি রেগে গিয়ে
— আপনাকে কে জানালো???
রায়হান কাউন্টারের দিকে ইশারা করে
— আগে রিপোর্ট টা নিয়ে নাও?
অরিত্রি ব্যাগ থেকে টাকা বের করতেই রায়হান
— আমি দিয়ে দিচ্ছি
অরিত্রি এইবার দাঁত কিটমিট করতে করতে
— আপনার কাছে কেউ চেয়েছে???
রায়হান শান্ত গলায়
— একবারে দিচ্ছি না। স্যালারি পেলে দিয়ে দিও। ওটি হলে কখন কোথায় খরচ হয় বলা তো যায় না। তখন তো প্রয়োজন হবে।
অরিত্রি এবার চোখ সরিয়ে নিয়ে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালো
রায়হান কাউন্টারে গিয়ে কার্ডটা বের করে দিলো। লোকটি রিপোর্ট টা রায়হানের হাতেই দিলো। তাদের রিপোর্টবুকে সাইন দিতে বললে রায়হান সাইন করে দেয়। এরপর লোকটি পেসেন্ট এর সাথে রায়হানের সম্পর্ক জিগ্যেস করলে রায়হান এক পলক অরিত্রির দিকে তাকায়। এরপর বলে—
— Patient is my sister. Cousin sister
লোকটি একটু হেসে
— Oh.. Ok sir, Thank you.
অরিত্রি একটু দূরে থাকায় এসব কিছুই তার কান পর্যন্ত পৌছায় না।
রায়হান অরিত্রির হাতে রিপোর্ট টা দেয়। অরিত্রির চোখ মুখে এখনো রাগ,
— ভেতরে মা আছে, আপু আছে। তাদের সামনে যদি কিছু বলেছেন.....
শেষ করার আগেই রায়হান
— আমি তোমার মতো গাধা না।
অরিত্রি রেগে
— কি...হ.?
রায়হান
— ওহ, নো। তুমি তো গাধী হবে।
অরত্রি দাঁত কিটমিট করে
— ফালতু একটা লোক আপনি
বলেই কেবিনের দিকে হাটতে থাকে। আর তার পেছনে রায়হানও এগিয়ে যায়।
কেবিনে ঢুকে অরিত্রি তার মা কে দরজার দিকে ইশারা করে। দরজার দিকে তাকাতেই দেখে রায়হানকে।
রায়হান দরজার সামনে থেকেই
— আসসালামু আলাইকুম
অরিত্রির মা
— ওয়ালাইকুম আসসালাম বাবা। এসো এসো। বসো।
বলেই চেয়ার টেনে দিতে যায় অরিত্রির মা। তখনই রায়হান চেয়ার নিজে টেনে — আমি নিচ্ছি। আপনি বসুন।
অরিত্রি এসব দেখে মনে মনে ভাবে
— আদব কায়দা তো ভালোই জানে। এমন একটা ভাব দেখাচ্ছে মনে হচ্ছে ফেরেশতা নেমে এসেছে। কোনো ভাবেই এর পেছনে তার আসল রূপ টা বোঝার উপায়ই নেই। পাক্কা মাপের খেলোয়াড়। বেয়াদব একটা।
অনিমার ধাক্কায় হুশ ফেরে অরিত্রির।
অনিমা ফিসফিস করে জিগ্যেস করলো
— উনি তোর অফিসের সেই বস না? যে সেদিন তোকে বাসায় পৌছে দিলো?
অরিত্রি শুধু মাথা নাড়লো।
অনিমা আর তাদের মা রায়হানের সাথে কথা বলছে। রায়হানও খোঁজ খবর নিচ্ছে।
রায়হান— আমাকে কিছুক্ষন আগে আমার ড্রাইভার জানালো। এরপর ভাবলাম আসা উচিত। তাই....
অরিত্রির মা— অনেক ভালো করেছো বাবা। তুমি যে মনে করে এসেছো অনেক খুশি হয়েছি বাবা। এই সময়ে এই রকম মানুষ পাওয়া যায় না। তোমার মনটা অনেক বড়।
দূরে বসে অরিত্রি এসব শুনছে আর বিরক্ত হচ্ছে।
এক পর্যায় অরিত্রির মা জিগ্যেস করে রায়হানকে
— দেখো বাবা, তোমার নাম টাই জিগ্যেস করা হয় নাই।
কথাটা শুনে রায়হানের মুখ একদম শক্ত হয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলে
— রায়হান চৌধুরী
অরিত্রি সাথে সাথে রায়হানের দিকে তাকায় আর মনে মনে ভাবে
— উনার নাম তো রায়হান মির্জা। চৌধুরী হলো কবে থেকে। আগে জানতাম গিরিগিটি রূপ বদলায় আর এখন দেখছি রায়হান রূপ বদলায়। অবশ্য উনি গিরগিটির থেকে কোনো অংশে কম যায় না।
তখনই ডাক্তার কেবিনে আসে। রায়হান, অরিত্রি আর তার মা উঠে দাঁড়ায়। ডাক্তার রিপোর্ট গুলো হাতে নিয়ে দেখে আর নার্সকে বলে পেসেন্ট এর বিপি চেক করতে।
রিপোর্ট দেখে ডাক্তার অরিত্রির দিকে তাকিয়ে
— এখন নরমাল ডেলিভারি সম্ভব হবে না। রিস্ক হয়ে যাবে। আমি নার্সকে বলে যাচ্ছি আজকে অব্জার্ভেশনে রাখবে। সব ঠিক থাকলে আগামীকাল দুপুরে আমরা সিজার করে ফেলবো।
এই বলে কিছু ওষুধ লিখে দিয়ে ডাক্তার চলে গেলো।
অনিমার মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো। যেন ভেতরে কোনো একটা ভয় গিয়ে বাসা বেধেছে।
#চলবে.......
গল্পটি ভালো না লাগলে ইগনোর করবেন 😊 ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট করে পাশে থাকবেন 🥰 দয়া করে কেউ কপি করবেন না। ধন্যবাদ 💕#বেপরোয়া_ভালোবাসা
#মায়াবিনী_মাহরীন
#পর্ব_১৩
অরিত্রি বোনের পাশে গিয়ে বসলো। এরপর তাকে নরমাল করার চেষ্টা করছে। অরিত্রির মা ও এগিয়ে এলো। কিন্তু কারও কোনো কথা অনিমার কানে পৌছাচ্ছে না। সে শুধু নীরবে এক দিকে তাকিয়েই আছে।
কিন্তু কিছুক্ষন পর সে সবাইকে অবাক কয়ে দিয়ে কান্না জুড়ে দিলো। অরিত্রি আর তার মা শান্ত করার চেষ্টা করছে অনিমাকে। কিন্তু অনিমার কান্না কিছুতেই থামছে না। দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখছে রায়হান।
হঠাৎই অনিমা অরিত্রিকে বলে উঠলো
— তোর দুলাভাইকে একটা ফোন দিবি? একটু আসতে বল না প্লিজ!
অরিত্রি বুঝতে পারলো আপুর কান্নার কারন। সে এক পলক মায়ের দিকে আর রায়হানের দিকে তাকালো এরপর
— আচ্ছা বলবো। আগে তুমি কান্না থামাও তো
— না, এখনই দে। প্লিজ বল না। বল আপু অনেক দেখতে চাইছে। একটু আসতে বল প্লিজ।
— বাধ্য হয়ে অরিত্রি এখনই ফোন দিলো। কিন্তু ফোনটা ধরলো অনিমার শ্বাশুড়ি।
অরিত্রি সালাম দিয়ে কথা বললো। বেশ কিছুক্ষন বুঝিয়েও সে তার দুলাভাইয়ের সাথে কথা বলতে পারলো না। ফোন রেখে দিতেই অনিমা
— কি বললো? আসবে? ও আসবে তাইনা? আমি জানতাম।
অরিত্রি কয়েক সেকেন্ড ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে থেকে তারপর
— আসবে না আপু। তোমার এই খবর তো ভাইয়ার কান পর্যন্তই পৌছায়নি। তার মা কল রিসিভ করেছেন। এই নাম্বার নাকি এখন তার কাছে থাকে।
অনিমার মুখটা মলিন হয়ে গেলো।
কিছুক্ষন থেমে অরিত্রি আবারও
— তুমি কাকে আসতে বলতে বলছো??? তোমার এই দিনে যে তোমাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে? মানলাম তার কোনো দোষ নেই। তোমার শ্বাশুড়ির সব দোষ। কিন্তু উনি চাইলে তো খোঁজ নিতে পারতেন তোমার। এসেছে কোনো দিন তোমার খোঁজ নিতে? বাচ্চা টা তো তার, সে নিয়েছে তার বাচ্চার খবর? তুমি কেন এখনো তাকে নিয়েই ভাবো আপু। ভুলে যাও না। প্লিজ ভুলে যাও। প্লিজ...
শেষ কথা গুলো বলতে গিয়ে অরিত্রির কথা আটকে আসছিলো। কিছুক্ষন চুপ থেকে অনিমা
— একটা মানুষকে খুব সহজেই ভুলে থাকা যায়। কিন্তু ভুলে থাকা যায় না সেই স্মৃতিগুলোকে। যেই স্মৃতি গুলো সেই মানুষটার সাথে তৈরি হয়েছিলো। আর এই স্মৃতি গুলোই মানুষকে কষ্ট দেয়। তিলে তিলে শেষ করে দেয়।
রায়হান এতক্ষন ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে ছিলো কিন্তু লাস্ট এই কথাগুলো শুনে সে অরিত্রির দিকে তাকালো।
অনিমা কাদছে আর তার মা তাকে বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তখন অরিত্রি কেবিন থেকে বের হয়ে গেলো।
কিছুক্ষন পর রায়হান অরিত্রির কাছে যায়। পেছন থেকে ডাক দেয়
— অরিত্রি....
অরিত্রি পেছনে ঘুরেই
— সমস্যা কি আপনার? আপনি কেন এসেছেন এখানে? কি বুঝাতে চাচ্ছেন সবাইকে, আপনি অনেক ভালো মানুষ এটাই?
আমি জানতাম আপনি একটা খারাপ মানুষ এখন দেখছি আপনি এক নাম্বারের একটা মিথ্যাবাদী। আপনি মা কে মিথ্যা কেন বললেন??
কয়েক সেকেন্ড থেমে আবারও
— আপনি মিথ্যা বলেন বা সত্যি এইসবে আমার কিচ্ছু আসে যায় না। আপনাকে আমি কোনো দিন মাফ করবো না। কোনো দিনও না। আমার বোনটাকে দেখলেন?
ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো সে। প্রতিদানে কি পেলো? এই অবহেলা। কোথায় গেলো এখন সেই ভালোবাসা? শেষ পর্যন্ত তাদের ডিভোর্সও হয়ে গেলো।
অরিত্রি এবার কেদে দিলো
— আমার বাবা মা ও ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো। একই বয়সের ছিলো তারা দুজন। তখন বাবার কোনো চাকরি ছিলো না বলে আমার নানা-নানী জোর করে মায়ের বিয়ে ঠিক করেছিলো অন্য একজনের সাথে। এই বিয়ের আসর থেকে মা পালিয়ে এসে বাবাকে বিয়ে করেছিলো। আমার নানা ছিলেন এক কথার মানুষ। তার সম্মান তার মেয়ের থেকেও বড়। এরপর আর কোনো দিন সে মায়ের মুখ অব্দি দেখেনি।
বিয়ের আসর থেকে উঠিয়ে এনে বিয়ে করেছিলো বলে আমার দাদাও কোনোদিন ছেলে- ছেলের বউকে ঘরে উঠায়নি।
তিলে তিলে শূন্য পকেটে থেকে তারা দুজন সংসার গুছিয়েছে। আপু হয়েছে এরপর আমি। আমি বুদ্ধি হবার পর থেকে কোনোদিন দেখিনি আমার মা বাবার মাঝে কখনো ঝগড়া হয়েছে। কোনো দিনও না। একজন রেগে গেলে আরেকজন বুঝাতো। এতো সুখের সংসার ছেড়ে....
অরিত্রি এবার অঝোরে কেদে দিলো।
আসলে সুখ তো মানুষের কপালে বেশিদিন থাকে না। বাবা চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। বোনের সংসারে ঝামেলা হলো। পাঠিয়ে দিলো এখানে। কিছুদিন পর ডিভোর্স হয়ে গেলো।
কিছুক্ষন থেমে আবার
— বুঝতে পারছেন আপুর মনের অবস্থা??? ওর সন্তান বড় হলে বাবার কথা কি বলবে সে? সেই সব বাদই দিলাম। এতোদিনে একটা খোঁজ অব্দি নেয়নি আপুর।
আপুর চিন্তা, আমার চিন্তা সব কিছু মিলিয়ে মায়ের শরীরটা ভালো যায়না। প্রেশার বেড়ে থাকে। আমি যতক্ষন বাহিরে থাকি আমার মাথায় শুধু এদের চিন্তাই ঘুরতে থাকে। না জানি কখন কি হয়ে যায়।
আর এই সব কিছুর মধ্যে এসে জুড়েছেন আপনি। আপনি যা করেছেন আর যা করছেন। ভাই আমিও তো একটা মানুষ। আমি আর নিতে পারছি না সব কিছু। আমার পাগল পাগল লাগে। আমি একটু শান্তি চাই। কিন্তু আমার জীবনটা জাহান্নাম বানিয়ে দিচ্ছেন আপনি।
বলেই অরিত্রি হুহু করে কেদে দিলো।
এতক্ষন অরিত্রির সব কথা শুনছিলো রায়হান। কিন্তু কোনো কথা বলেনি। এখন সে
— আমি তোমার জীবন জাহান্নাম বানিয়ে দিচ্ছি?
অরিত্রি চোখ মুছে রায়হানের দিকে তাকালো। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে মুখে একটা শয়তানি হাসি টেনে রায়হান
— ওকে, কিভাবে জীবন জাহান্নাম বানিয়ে দেয় তোমাকে এবার বোঝাবো।
অরিত্রি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো রায়হানের দিকে। এত্ত গুলো কথার কোনো কিছুই কি রায়হানের কান অব্দি পৌছায়নি শেষ কথাটা ছাড়া?
তখনই রায়হান
— See you soon.
বলেই চলে গেলো....
#চলবে.......
গল্পটি ভালো না লাগলে ইগনোর করবেন 😊 ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট করে পাশে থাকবেন 🥰 দয়া করে কেউ কপি করবেন না। ধন্যবাদ 💕
